× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Irregularities in healthcare in private hospitals in Mymensingh
google_news print-icon

ময়মনসিংহে বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহে-বেসরকারি-হাসপাতালে-স্বাস্থ্যসেবায়-অনিয়মের-অভিযোগ
ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার নামে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। ছবি: নিউজবাংলা
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর স্বাস্থ্য খাতের বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও নিয়মের ব্যত্বয় ঘটলে অভিযান চালিয়ে ওই সব প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি অনেকগুলো অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছি।’

ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে গড়ে ওঠা অনেক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবার নামে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

কিছু রোগী ও স্বজনরা দৃষ্টিনন্দন সাইনবোর্ড দেখে সেবা নিতে গেলেও, অনেকে যান দালালের হাত ধরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের রয়েছে আলাদা আলাদা দালাল চক্র। এরা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিয়োজিত থাকেন। দালালের মাধ্যমে চলে রোগী আনার প্রতিযোগিতা। এরপর অপারেশনের রোগীগুলোকে কম খরচের কথা বলে চিকিৎসক এনে ওটি করানো হয়।

আরও জানা যায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চিকিৎসক বা নার্স নেই। রোগী নিয়ে গেলে চিকিৎসক, নার্স ডাকা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলে চিকিৎসা, হচ্ছে অপারেশনও। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের অপারেশন থিয়েটারগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। অপারেশন করার কোনো পরিবেশ সেখানে থাকে না। অনেক হাসপাতালে থাকে মরিচা পড়া যন্ত্রপাতি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, একটি ১০ শয্যার ক্লিনিকে তিনজন ডিউটি চিকিৎসক ও ছয়জন নার্স সার্বক্ষণিক থাকতে হয়। এর চেয়ে বেশি বেডের প্রতিষ্ঠান হলে দ্বিগুণ ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স থাকতে হবে, কিন্তু এখানে অনেক প্রতিষ্ঠানে একজন ডিউটি চিকিৎসকও রাখা হয় না। তবুও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা চিকিৎসক এনে ওটি করান। অপারেশনের পর ওটির চিকিৎসকরা চলে যান।

শহরের বেসরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ

সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালিবাড়ী এলাকার সাজ্জাদ হোসেন রাসেল বলেন, ‘গত মাসে আমার গর্ভবতী শ্যালিকা সাজেদা আক্তারকে পূর্বপরিচিত ইমরান নামের হাসপাতালের ম্যানেজারের পরামর্শে শহরের বসুন্ধরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকে নিয়ে গিয়েছিলাম।

‘রাত দশটার দিকে হাসপাতালটিতে সিজারের পর চিকিৎসক চলে গেলে সাজেদার অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায়। ধীরে ধীরে পেট ফুলতে থাকে। ওই সময় হাসপাতালে ছিল না কোনো ডিউটি চিকিৎসক। এমতাবস্থায় তড়িঘড়ি করে ইমরান নিজেই রোগীকে ৪ থেকে ৫টা ইঞ্জেকশন পুশ করে। এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়।

তিনি বলেন, ‘চোখের সামনে রোগী মারা যাচ্ছে দেখে ইমরানের পরামর্শে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আমার শ্যালিকা মারা যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হলেও ময়নাতদন্তে মরদেহ কাটাছেঁড়াসহ পরিবারের অসম্মতি থাকায় পরে মামলা করা হয়নি।’

একই এলাকার নজরুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, ‘কয়েক মাস আগে আমার স্ত্রীকে দ্বিতীয়বার সিজারের জন্য পরিচিত লোকের মাধ্যমে শহরের এপেক্স হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। সিজারের পর স্ত্রীসহ আমার নবজাতক সন্তান সুস্থ ছিল, কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রীর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়।

‘হাসপাতালে যোগাযোগ করলে তারা জানায় হাসপাতাল থেকে সঠিকভাবেই সিজার করা হয়েছে। অন্য কোনো কারণে ব্যথা করছে। পরে মমেক হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনো করা হয়। তখন রিপোর্টে ধরা পরে পেটের ভেতর গজ রেখেই সেলাই করা হয়েছে।

‘পরে ওই হাসপাতালের মালিককে জানালেও ভুল চিকিৎসা হয়েছে স্বীকার করেনি।’

ত্রিশাল উপজেলার আউটিয়াল গ্রামের রিকশাচালক আনিসুর রহমানের স্ত্রী হাসিনার প্রসব ব্যথা উঠলে গত ১৭ জুন তাড়াহুড়ো করে নগরীর চরপাড়া ব্রাহ্মপল্লী ১৩/বি হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রুপা আক্তার সিজার করেন।

হাসিনার স্বামী আনিসুর রহমান জানান, সিজারের পর মা-সন্তান দুজনই সুস্থ ছিল। ২০ জুন ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়, তবে ক্ষত সারছিল না। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে ড্রেসিং করানো হয়। ড্রেসিং করার সময় ক্ষত জায়গায় একটি সুতা পাওয়া যায়।

গত ১৪ আগস্ট মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হাসিনাকে। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ধরা পড়ে জরায়ুতে গজের মতো কিছু একটা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভেতরে মপ (রক্ত পরিষ্কারের জন্য তুলা ও কাপড় দিয়ে তৈরি বস্তু) রেখেই সেলাই করে দিয়েছিল চিকিৎসক। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সব মিলিয়ে দুই লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। খুব কষ্ট করে এই টাকা জোগাড় করেছিলাম। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করলে কিছুই হয় না জানতে পেরে মামলা করিনি।’

এ ছাড়াও এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ভুল চিকিৎসায় নারী রেখা আক্তারসহ তার দুই জমজ সন্তান মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। ওই ঘটনায় রেখা আক্তারের স্বামী মাহবুব আলম বাদী হয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিক মিয়া, অমিত, ডা. মো. আশরাফুল হক মোল্লা, ডা. আরিফ রব্বানী, মেহেদী ও মো. তারেক মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, সার্জারি করার সময় রেখা আক্তারের মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয় ও একপর্যায়ে মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় জোর করেই রেখার নিথরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়া হয় অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ওই ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম পেশেন্ট হাসপাতালটিকে অবৈধ হাসপাতাল উল্লেখ করে সিলগালা করেন।

কথা হয় সালমা নামে একজন সিজারিয়ান রোগীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চা প্রসব হবে না চিকিৎসক জানালে পরিচিত একজনের মাধ্যমে চলে যাই শহরের ব্রাক্ষপল্লী এলাকায় আল আকসা হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে দেখি ভেতরের পরিবেশ দুর্গন্ধময়। দোতলার বাথরুম থেকে চারিদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। নার্স ও ডিউটি চিকিৎসক দেখা যায়নি। তখন এখানে সিজার করা ঠিক হবে না বুঝতে পেরে দ্রুত আরেকটি হাসপাতালে চলে যাই।’

শাহরিয়ার মেহেদী নামের একজন স্থানীয় বলেন, ‘ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যে দিকে চোখ যায় শুধু বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাইনবোর্ড। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার নামে ওখানে শুধু বাণিজ্য চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান চালানোর নিয়ম নেই। তবুও দিন-দুপুরে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ইচ্ছে করলে নিমিষেই অবৈধ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারে, কিন্তু তা করেনা।’

তিনি বলেন, ‘দালাল ছাড়া রোগী নিয়ে আসা খুবই কঠিন। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক দালাল নিয়োগ দেয়া হয়। তারা বিভিন্ন কায়দায় রোগী নিয়ে আসেন।’

হাসিনার সিজার হওয়া হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালের ম্যানেজার রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা ভর্তি করে বাইরের চিকিৎসক দিয়ে সিজার করে দিয়েছি। এখন চিকিৎসক জরায়ুর ভেতরে কী রেখে অপারেশন করেছে সেটা তো আমাদের দেখার বিষয় না। এ বিষয়ে ওই চিকিৎসক ভালো বলতে পারবেন।’

পরে চিকিৎসক রুপা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক ও বসুন্ধরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এইচ এ গোলন্দাজ বলেন, ‘আমরা চাই, রোগীদের সব প্রতিষ্ঠানে ভালো চিকিৎসাসেবা দেয়া হোক। অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযানকে স্বাগত জানাই। দালালদের মাধ্যমে অনেকের প্রতিষ্ঠানে রোগী আনা হলেও আমার প্রতিষ্ঠানে কখনোই দালালদের মাধ্যমে রোগী এনে ভর্তি করা হয় না। এ জন্য সবচেয়ে পুরাতন প্রতিষ্ঠান হয়েও রোগীর সংখ্যা কম। রোগী কম হলেও সঠিক সেবা দেয়া হচ্ছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় সাজেদা খাতুন নামের এক নারী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক চায় না রোগী মারা যাক। তবুও অনেক সময় মারা গেলে চিকিৎসকসহ ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে দোষারোপ করা হয়। সঠিকভাবে সিজার করার পরও ওই নারী মারা গিয়েছে। এখানে কারো গাফিলতি নেই।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর স্বাস্থ্য খাতের বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও নিয়মের ব্যত্বয় ঘটলে অভিযান চালিয়ে ওই সব প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি অনেকগুলো অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ থাকলে আমাদের জানানো প্রয়োজন। তাহলে যাচাই বাছাই করে প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায়। তবে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হওয়াসহ নানা সমস্যা অনেক সময় আড়ালে থেকে যাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ আয়ের অভিযোগ, দুদকের মামলা
মুন্সীগঞ্জে ‘চাঁদা না পেয়ে’ নারীকে গুলি
ভূমি অফিসের দুই কর্মকর্তায় জিম্মি সেবাগ্রহীতারা
গৃহবধূকে গ্যাসের ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার
নিয়োগ দুর্নীতির বলি সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ziaul Haque returned with one medal joy in the whole village

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হয় জিয়াউল হকের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হয় জিয়াউল হকের পাঠাগারের জন্য জিয়াউল হকের হাতে বই তুলে দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান ও পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হলো জিয়াউল হকের? তিনিই বা কী বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে- এ নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই স্থানীয়দের।

এবারের একুশে ফ্রেব্রুয়ারি, আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের দিনটি ভোলাহাট উপজেলার মানুষের জন্য অন্য মাত্রা নিয়ে এসেছে। কেননা তাদের উপজেলার জিয়াউল হক পেয়েছেন রাষ্ট্রের সম্মানজনক একুশে পদক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে সে প্রদক গ্রহণের পর গ্রামে ফিরেছেন জিয়াউল হক। এ নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে বইছে উৎসবের আবহ।

সকাল থেকেই জিয়াউল হকের বাড়িতে তার ছোট্ট পাঠাগারে মানুষের ভিড়। সকালের প্রভাত ফেরিও তার সঙ্গে করেন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে জিয়াউল হকের সঙ্গে বেশ কিছুসময় ধরে কথপোকথন হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাই বুধবার জিয়াউলের বাড়িতে অভিনন্দন জানাতে আসা অনেকেরই আগ্রহ ছিল- কী কথা হলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে, কী বলছিলেন সাধাসিধে জিয়াউল হক?

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি আমার পাঠাগারের স্থায়ী ভবন ও বই চেয়েছিলাম। সেই সঙ্গে আমার এলাকার স্কুলটি সরকারিকরণের বিষয়ে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী আমার কথা শুনেছেন ও দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন।’

অনেকে দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা ছিল সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হকের। অনেকের কাছেই বলেছেন সেই আকাঙ্ক্ষার কথা। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায়, খুশি ৯১ বছর বয়সী এ গুণী। বলেন, ‘এখন মরেও শান্তি পাবো।’

জিয়াউল হক পাঠাগারের বই পড়ে আজ অনেকেই শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। জিয়াউল হকের একুশের পদক প্রাপ্তির পর, তারও জানিয়েছেন জিয়াউল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও নিজেদের আনন্দের অনুভূতি।

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের জন্য কিছুই চাননি সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক হক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাধাসিধে মানুষটির আবদার ছিল- তার পাঠাগারের উন্নয়ন ও গ্রামে তারই সহযোগিতায় গড়ে ওঠা স্কুলটি সরকারি করা।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যেই জিয়াউল হকের সেই দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ায় স্থানীয়রাও খুশি।

এদিকে দুপুরে জিয়াউল হককে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান ও পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান।

এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিয়াউল হকের পাঠাগারের জন্য বই উপহার দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সকল বিষয় অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বেচি দই কিনি বই, অতঃপর একুশে পদক
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহসহ একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ জন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A day of respect and a year of contempt
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

এক দিন শ্রদ্ধা, বছরজুড়ে অবজ্ঞা

এক দিন শ্রদ্ধা, বছরজুড়ে অবজ্ঞা একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন স্থানীয় প্রশাসন ব্রাহ্মণাবড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিষ্কারের পাশাপাশি সজ্জার কাজ করে, তবে এ দিন বাদে বছর ধরে চলে শহীদ মিনারটির অবজ্ঞা। ছবি: নিউজবাংলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পড়ুয়া ওমর খান বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনারের বেদিতে বসে অনেক মানুষ আড্ডা দেন। এটি প্রতিদিনের চিত্র। তা ছাড়া সকালে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই জুতা পরে বেদিতে বসে থাকে। আমি নিজেও অনেকবার অনকেজনকে বলেছি জুতা খোলার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন স্থানীয় প্রশাসন শহীদ মিনার পরিষ্কারের পাশাপাশি সজ্জার কাজ করে, তবে এ দিন বাদে বছর ধরে চলে শহীদ মিনারের অবজ্ঞা।

জুতা পায়ে এ শহীদ মিনারের বেদিতে বসে আড্ডা যেন স্বাভাবিক ঘটনা। এমনকি রাতে শহীদ মিনারে মাদকসেবীদের আড্ডা নিত্যকার ঘটনা। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে জুতা পায়ে মিনারে বক্তব্য দেয়ার অনেক অভিযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগে গত শনিবার, রোববার ও সোমবার একই চিত্র দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা এ শহীদ মিনারে জুতা পায়ে বসেই শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিতে থাকেন। শুধু শিক্ষার্থী নন, শহীদ মিনারটি উন্মুক্ত স্থানে থাকায় বাইরের অনেকে বসে থাকেন এর ওপর।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পড়ুয়া ওমর খান বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনারের বেদিতে বসে অনেক মানুষ আড্ডা দেন। এটি প্রতিদিনের চিত্র। তা ছাড়া সকালে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই জুতা পরে বেদিতে বসে থাকে।

‘আমি নিজেও অনেকবার অনকেজনকে বলেছি জুতা খোলার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

শহীদ মিনার চত্বরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রায়ই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মারামারি হয়। সন্ধ্যা নামার পরপরই শহীদ মিনারে বসে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায় কিছু যুবককে। তা ছাড়া জুতা পায়ে দিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠা নিত্যকার ঘটনা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহীদ মিনারের অবজ্ঞার ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করতে যান না। কারণ যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা ছাত্র রাজনীতি করেন অথবা বড় কোনো রাজনীতিকের পৃষ্ঠপোষকতায় চলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এগুলো দেখার কেউই নেই। বছরের একটি দিন একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়, সম্মান জানানো হয়।

‘এই দিন পার হলেই ভুলে যায় এটি যে একটু মর্যাদাপূর্ণ স্থান। শহীদ মিনারের এমন অমর্যাদার বিষয়ে কেউ কোনো ব্যবস্থাই নেয় না।’

জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ওঠার বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক আবদুন নূর বলেন, ‘জুতা পায়ে দিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ওঠা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন না করা এবং শহীদদের মর্যাদার ব্যাপারে অজ্ঞতার পরিচয় দেয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হচ্ছে শহীদ মিনার। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য শহীদ মিনার নির্মিত, তবে বর্তমানে দেখা যায় শহীদ মিনারকে শুধু এক দিনের জন্য মর্যাদা দেয়া হয়। আর সেটি হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে।

‘তাহলে বিষয়টি এমন দাঁড়াচ্ছে, এক দিনে শ্রদ্ধা, অন্য দিনগুলোতে অবজ্ঞা। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষও জুতা পায়ে দিয়ে উঠে আড্ডা দিচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা রীতিমতো অপরাধ।’

‘ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি মো. আবু বক্কর বলেন, ‘শহীদ মিনার আমাদের একটা বেদনা ও আবেগের জায়গা। একাধিকবার সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম করেছি, তবে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

‘এর ওপরে বসেই সিগারেট খায় কতিপয় যুবক। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আমি দাবি জানাচ্ছি।’

ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে শহীদ দিবসের মর্যাদা সুরক্ষিত নয়। কারণ একুশে ফেব্রুয়ারিকে একটি মাত্র তারিখ হিসেবে বিবেচনা করে শহীদ দিবস পালন করছি। শহীদ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য অনেকের মাঝেই নেই।

‘এর বড় প্রমাণ শহীদ মিনার। দিবস আসলেই তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মগ্ন হন সংশ্লিষ্টরা। বাকি ৩৬৪ দিনই শহীদ মিনারে জুতা পায়ে সবাই আড্ডা দেয় এবং শহীদ মিনারটি নোংরা অবস্থায় পড়ে থাকে। শহীদদের আত্মত্যাগ মনে হয় আমরা ভুলতে বসেছি। শহীদদের চেতনাকে সকলের মাঝে লালন করতে হবে।’

সার্বিক বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ.জেড.এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার লোকজন প্রতিনিয়তই শহীদ মিনারটি ঝাড়ু দেয় এবং পরিষ্কার করে থাকে, তবে মিনারটির চারপাশে কোনো সুনির্দিষ্ট বেষ্টনী না থাকায় এটি উন্মুক্ত।

‘আর মিনারটি দেখভালের দায়িত্ব সম্পূর্ণ পৌরসভার কাছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মিনারের চারপাশে একটি বেষ্টনী তৈরি করে দিতে পারলে অমার্যাদার বিষয়টি আর উঠে আসবে না। এতে শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় থাকবে।’

শহীদ মিনার চত্বরে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, ‘এখানে আমাদের টহল টিম নিয়মিত কাজ করে। এর পরও শহীদ মিনারে কোনো বিশৃঙ্খলা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে শহীদ মিনারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করে। শহীদ মিনারের বেদিসহ চারপাশ রক্ষণাবেক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে না ওঠার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।’

আরও পড়ুন:
নামাজে দাঁড়ানো নিয়ে মারধর, যুবকের মৃত্যু
ঐতিহ্য হারাচ্ছে নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা
নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার মামলায় ১৩ জনের কারাদণ্ড
ইসলামি বক্তার জিহ্বা কাটার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
মানসিক চাপে আত্মগোপনে ছিলাম: আসিফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hospital ambulance wrapped in polythene for eight months

আট মাস ধরে পলিথিনবন্দি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স

আট মাস ধরে পলিথিনবন্দি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স অ্যাম্বুলেন্সটি টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে সেখান থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার কারণে পুরো অ্যাম্বুলেন্সটি একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো রয়েছে।

এতে উপজেলার মানুষের অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সোমবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, পুরাতন বিল্ডিংয়ের পাশে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে রয়েছে। চারটি চাকার ভেতরে দুইটি চাকা নেই। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশটি পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একেবারে চলাচলের জন্য অযোগ্য হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ এটি পলিথিন দিয়ে জড়িয়ে রেখেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে সেখান থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার কারণে পুরো অ্যাম্বুলেন্সটি একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

ওখান থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখে।

কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্স। তার মধ্যে নতুনটি বর্তমানে অ্যাকসিডেন্ট করে অকেজো হয়ে আছে। আর একটি পুরাতন, তা দিয়েই রোগী পরিবহন করা হচ্ছে, তবে সেটির সার্ভিস ভালো না হওয়ার কারণে জরুরি রোগী পরিবহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

তাই অনেক সময় বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। এতে খরচও বেশি হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একেএম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্য নতুনটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অকেজো হয়ে গেছে। আপাতত আমরা পুরাতনটা মেরামত করে রোগী পরিবহন করছি, কিন্তু সেটির সার্ভিসটা সন্তোষজনক নয়। আমরা একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এখন কতদিনে তা পাব এটি জানা নেই।’

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন রাম পদ রায় মুঠোফোনে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করতে অনেক টাকা লাগবে। আমি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়েছি, না হলে নতুন একটা অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও আবেদন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্যই একটা ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
জবিতে অ্যাম্বুলেন্স একটিই, ডাকলে না পাওয়ার অভিযোগ
বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স
অনুদানের অ্যাম্বুলেন্সে ফেনসিডিল চালান
‘দুর্গম এলাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The complaint against the chairman of locking the main gate of the house in Thakurgaon

ভাড়া বাসায় ‘চেয়ারম্যানের দেয়া’ তালা খোলার অপেক্ষায় দম্পতি

ভাড়া বাসায় ‘চেয়ারম্যানের দেয়া’ তালা খোলার অপেক্ষায় দম্পতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় তালা খোলার অপেক্ষায় থাকা বৃদ্ধ দম্পতি। ছবি: নিউজবাংলা
ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নির্মল রায় জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে সেখানে যান তিনি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শুক্রবার ভাড়াটিয়ার বাসার ফটকে তালা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওই ভাড়াটিয়া দম্পতির ভাষ্য, পরিবার নিয়ে ১০ দিন আগে তারা ভাড়া বাড়িতে ওঠেন। এরই মধ্যে গত শুক্রবার ভোররাতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে বের করে ফটকে তালা দেন। ঘরের ভেতরে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে। কিছুই বের করতে দেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত তারা তালা খোলার অপেক্ষায়।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোববার বিকেলে বাড়ির ফটকে টিনের বেড়ার সঙ্গে শিকল দিয়ে দুটি তালা ঝুলছে। আর বৃদ্ধ দম্পতি বাড়ির বাইরে বেঞ্চে বসে আছেন।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

ওই দম্পতি হলেন আবদুল হালিম ও তার স্ত্রী জোৎস্না বেগম। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে স্থানীয় লোকজন কোনো প্রতিবাদ করছে না।

আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছি। জায়গা-জমি নিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কার কী সমস্যা আছে, সেটা আমাদের বিষয় না, কিন্তু আমাদের সঙ্গে এমন অন্যায় কেন করা হলো? আমরা বিচারের দাবি জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি কোম্পানির ট্রাক চালাই। এভাবে এমন পরিস্থিতিতেও বাইরে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে কাজে যেতে হয়। আমাদের হাঁড়ি-পাতিল, আসবাপত্র কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই বাড়ির ভেতরে। বাড়ির ভেতরে এখন অন্য অচেনা লোকেরা অবস্থান করছে।’

বাড়ি ভাড়া দেয়া স্কুল শিক্ষিকা ফারহানা ইসলাম কলি বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। এটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এলাকা। এখানে স্থানীয় কাউন্সিলর রয়েছে। ঘটনার দিন আমার স্বামী কাউন্সিলরকে জানিয়েছে।

‘এখনও কোনো সমাধান আসেনি। একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কোন আইনে অন্যের বাড়িতে ঢুকে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে? পুলিশকে জানিয়েছি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তালাতে হাত দিলে হাত কেটে নেবে চেয়ারম্যান, এমন হুমকিও আমাদের দিয়েছে। আমরা এখন প্রত্যেকে আতঙ্কিত ও অনিরাপদ।

‘ভাড়াটিয়া দম্পতি আমার বাড়িতে যেতে চায় না। এখন তাদের মধ্যে অনেক রাগ-আক্ষেপ রয়েছে আমাদের সবার ওপর।’

স্থানীয় গৃহবধূ আমিনা বেগম বলেন, ‘তালা দেয়ার পর থেকে আমরা আর ঘরে ঢুকতে পারিনি। আমার স্বামী দিনমজুর। সে কলি আপার বাড়িতে বেড়া বানানোর কাজ করছিল। আমাদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে।’

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনা শুনে প্রথমে আমি জায়গা চিনতে পারিনি। এই প্রতিবেদক এই বিষয়ে আমাকে জানায়। এরপর স্কুলশিক্ষিকার স্বামী জুয়েল ইসলাম তাকে মোবাইলে কল দিয়ে যোগাযোগ করা হয়। এ ছাড়াও আমি ভাড়াটিয়া আবদুল হালিমের কাছেও ঘটনাটি শুনি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। আমি দুদিন সেখানে গিয়েছি। অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরাও গিয়েছিল।’

এ সময় তিনি তালা দেয়া ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর বলেন সরাসরি সাক্ষাৎকার নিতে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নির্মল রায় জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে সেখানে যান তিনি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Out of 51 brick kilns in Panchgarh 10 brick kilns have licenses and the rest are illegal

পঞ্চগড়ে ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ৪১ ইটভাটা

পঞ্চগড়ে ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ৪১ ইটভাটা পঞ্চগড়ে ইটভাটার জন্য প্রতিনিয়ত মাটি কাটার ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি। ছবি: নিউজবাংলা
দেবীগঞ্জের ইউএনও শরীফুল আলম বলেন, ‘জমির টপ সয়েল কাটা আইনত অপরাধ। ভূমির মালিকসহ যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সকল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ৫১টি ইটভাটা, যার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে ৪১টি।

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় সর্বোচ্চ ২২টি ইটভাটা আছে, যার মধ্যে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে ১০টি।

এসব ইটভাটার জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উপরিভাগ। এসব মাটি দুই শতাধিক ট্রাক্টর এবং ১০টির বেশি ড্রাম ট্রাকে করে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটায়। প্রতিনিয়ত মাটি কাটার ফলে নষ্ট হচ্ছে ওই এলাকার কৃষিজমি; ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৫টি ইটভাটা রয়েছে দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নে। বাকিগুলো সুন্দরদিঘী, পামুলী, শালডাঙ্গা ও চেংঠি হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নে।

এ বছর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে ৪টি ইটভাটাকে জরিমানা ও দুটির নামে মামলা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা আরও একটি ইটভাটার মালিককে দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় ২৪ বছর ধরে মাটি কাটা হচ্ছে, তবে আগে ইটভাটার সংখ্যা কম ছিল। এখন ইটভাটা বাড়ায় মাটির চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নগদ টাকার প্রয়োজনে জমির মালিকরা কৃষিজমির মাটি বিক্রি করছেন। তিন ফুট গভীরতার এক বিঘা জমির মাটি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

তারা জানান, এরই মধ্যে দন্ডপাল ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিচু জমিতে পরিণত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় এখানকার কয়েকটি গ্রাম অপরিকল্পিত খালে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তিন ফসলি জমি নষ্ট করে সেখান থেকে মাটি কেটে ইটভাটার জন্য ব্যবহার কোনোক্রমেই আইনসিদ্ধ নয়। ইটভাটা স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, এভাবে কৃষিজমির মাটি কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ হয় না।

‘সচেতন মহলের কেউ কেউ এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। এতে করে মাটি কাটায় জড়িতরা আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

শ্রমিক সংগঠনের নেতা রবিউল ইসলাম জানান, দন্ডপাল ইউনিয়নে প্রায় ২২টি ভেকু, ২০০টি ট্রাক্টর এবং ১৫টি ড্রাম ট্রাক প্রতিদিন মাটি সরবরাহ করে। ইটভাটাগুলোতে মালিকদের চাহিদামতো তিনি মাটি সরবরাহ করেন।

এই কাজে বৈধতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন আপনারা।’

উপজেলার ইটভাটা সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাটি কাটার কারণে জমির তেমন ক্ষতি হয় না। সরকার আমাদের ব্যবসার স্বার্থে মাটি কাটার বিকল্প ব্যবস্থা না করলে আমরা কী করব? আমরা তো গণমাধ্যমকর্মী, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা-জেলা প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করেই চলছি।’

উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের ধনমন্ডল গ্রামের ইউনুছ আলী জানান, তার জমির চারপাশের মাটি বিক্রি হয়ে গেছে। তার প্লটটি চাষের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এ কারণে বাধ্য হয়েই ভাটায় জমির মাটি বিক্রি করেছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফুল আলম বলেন, ‘জমির টপ সয়েল কাটা আইনত অপরাধ। ভূমির মালিকসহ যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সকল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী সংস্থাটিকে ম্যানেজ করে ইটভাটা চালানো ও উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘জেলায় ৫১টি ইটভাটার মধ্যে ১০টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে, বাকিগুলো অবৈধ। এ বছর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চারটি ইটভাটার মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুইটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনটি ভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।

‘এর মধ্যে নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করায় একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে।’

আরও পড়ুন:
নৌকার বিরোধীদের পা ভেঙে দেয়ার হুমকি ইউপি চেয়ারম্যানের 
পঞ্চগড়ে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত
অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ৩ ডিসিকে আইনি নোটিশ
নওগাঁয় পাশাপাশি ও গ্রামের মধ্যে ইটভাটা, মজুত আছে কাঠ
দুর্গাপূজা: বাংলাবান্ধায় ৮ দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abdallah a Kuwaiti is impressed by Chouddagram

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের প্রকৃতি বেশ টেনেছে কুয়েতি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দরকে। ছবি: নিউজবাংলা
কয়েক দিন আগে বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে আসেন কুয়েতি আবদুল্লাহ। বন্ধুর মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সবকিছুতেই মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। গ্রামের প্রাণ-প্রকৃতিও তাকে বেশ টেনেছে। 

‘আমি এখন বাংলাদেশে। আমার বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে এসেছি। এখানকার কৃষিজমিতে ফসল সুন্দর। মানুষজন আমাকে আপন করে নিয়েছে।

‘আমি খুব আনন্দে আছি। বিয়েতে দারুণ সব খাবারের আয়োজন করেছে। আমি মুগ্ধ। বন্ধুরা, ভিডিওতে তোমরা দেখো।’

আরবি ভাষায় এভাবে নিজের সুখানুভূতি প্রকাশ করছিলেন কুয়েতি নাগরিক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দর।

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ

কয়েক দিন আগে বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে আসেন এ কুয়েতি। বন্ধুর মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সবকিছুতেই মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। গ্রামের প্রাণ-প্রকৃতিও তাকে বেশ টেনেছে।

নিজের গ্রামে কুয়েতি বন্ধুকে পেয়ে আনন্দিত তার বন্ধু ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয়রা। শনিবার সকালে দেখা যায়, স্থানীয়দের নিয়ে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দর ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছেন। মোবাইল ফোনে লাইভে যাচ্ছেন। শিশুদের মতো উল্লাস প্রকাশ করছেন।

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ

বন্ধুত্ব যেভাবে

কুয়েতির সঙ্গে কীভাবে বন্ধুত্ব হলো সে বিষয়ে ইকবাল বলেন, ‘২০১৫ সালে আমি কুয়েতে যাই। সেখানে কাজের সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। এখন অবসরে আছেন।

‘কাজের সুবাদে আমাদের সম্পর্ক গাঢ় হয়। আমরা একে অপরের বন্ধু হই। বয়সের একটু ব্যবধান থাকলেও মনের কোনো ব্যবধান নেই আমাদের।’

তিনি বলেন, “গত বছরের শেষের দিকে আমি আমার বন্ধু আবদুল্লাকে বলি আমার মেয়ের বিয়ের বিষয়ে। সে আমাকে বলে, ‘তোমার মেয়ের বিয়ে দেখতে তোমার দেশে যাব।’ যেই কথা সেই কাজ।

“গত ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সে কুয়েত থেকে আমার বাড়িতে আসে। আমি খুব অবাক হয়েছি। সে এখানে খুব আনন্দ করছে। আমার মেয়ের বিয়েতে এসে ছবি ভিডিও তুলে রাখছে। কুয়েতে গিয়ে সবাইকে দেখাবে।”

ইকবালের ভাই এসএন ইউসুফ বলেন, ‘আমার ভাতিজির বিয়েতে একজন কুয়েতি নাগরিক এসেছেন। তিনি আমার ভাইয়ের বন্ধু। অন্য একটি দেশ থেকে এসে তিনি যে আনন্দ পাচ্ছেন, আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।

‘কুয়েতি নাগরিক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দর আমাদের গ্রামে এ বিয়েতে অংশগ্রহণ করাতে বিয়ের উৎসব আরও দ্বিগুণ হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ‘শুনেছি একজন কুয়েতি নাগরিক চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নে তার বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছেন। তিনি বেশ কিছুদিন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন।

‘কুয়েতি নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তার আগমনকে আমরা স্বাগত জানাই।’

আরও পড়ুন:
সাবেক এমপি আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন
কুমিল্লায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় ঢাকায় গ্রেপ্তার ৫
পরিবেশবান্ধব ভার্মি কমপোস্টে বাড়তি আয়
নির্বাচনে জিতেই সিএনজি স্ট্যান্ডের চাঁদা বন্ধ করলেন এমপি আজাদ
কুমিল্লায় এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার প্রত্যাহার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is increasing interest in building a residence in Rajshahi

রাজশাহীতে আবাস গড়ায় বাড়ছে আগ্রহ

রাজশাহীতে আবাস গড়ায় বাড়ছে আগ্রহ রাজশাহীতে নগরীর আধুনিকায়ন, প্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতির আলোকায়ন এ শহরের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি করছে। ছবি: নিউজবাংলা
নগরীর বাসিন্দাদের ভাষ্য, এখানে কিছু সুযোগ সুবিধার মধ্যে অন্যতম হলো, শহরে কোনো যানজট নেই। আছে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ও নাগরিক নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ।

বাড়ি তৈরি করতে পছন্দের জায়গায় খুঁজতে গিয়ে রাজশাহী শহর এখন বিভিন্ন জেলার মানুষের পছন্দের আবাসস্থল। নগরীর আধুনিকায়ন, প্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতির আলোকায়ন এ শহরের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি করছে।

জেলার আবাসন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকেও মানুষ জায়গা কিনছেন এ শহরে। বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন তারা। অনেকেই সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য এ শহরে গিয়ে পরবর্তী সময়ে বাড়ি বানাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৯৭ বর্গকিলোমিটারের এ জনপদে এখন বসবাস প্রায় ১২ লাখ মানুষের। ২০১০ সালেও রাজশাহী শহরে দশ তলা ভবনের সংখ্যা ছিল একেবারেই হাতে গোনা, কিন্তু এখন এ সংখ্যা অগণিত। আর দশ তলা থেকে একুশ তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যাই এখন শতাধিক।

বাইরের জেলাগুলো থেকে মানুষ রাজশাহী শহরমুখী হওয়ায় এখানকার জমির দাম বাড়ছে, তারপরও এ নগরীর কিছু সুবিধার কারণে এখানে ছুটে আসছেন মানুষ।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে যারা বসতি গড়ছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরের মানুষ বেশি। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে চাকরি জীবন শেষে করে একটু শান্তিতে বসবাসের জন্য অনেক অবসরপ্রাপ্তরাও এখন বেছে নিচ্ছেন এ শহর।

নগরীর বাসিন্দাদের ভাষ্য, এখানে কিছু সুযোগ সুবিধার মধ্যে অন্যতম হলো, শহরে কোনো যানজট নেই। আছে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ও নাগরিক নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ।

রাজশাহী নগরীর বহরমপুর এলাকায় একটি বাড়ি কিনেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা সুফিয়া খাতুন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেমন ভালো স্কুল নেই। এ ছাড়াও তেমন সুযোগ সুবিধাও নেই। ছেলে মেয়েদের মানুষ করতেই তাই আমরা রাজশাহীতে এসেছি। ভালো লাগা থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এখানে বাড়ি নিয়েছি।’

নওগাঁ থেকে এসে রাজশাহীর ভদ্রা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। কাজের সুবাদে এ জেলাতে এসেছেন তিনি।

নাসির বলেন, ‘আমার অবসরের টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনতে চাই। এখনও তেমন সুযোগ হয়ে উঠেনি। এখনও আমি ভাড়া বাড়িতে আছি, তবে এখানেই থেকে যাব। এখানে যানজট নেই। নাগরিক সুযোগ সুবিধা আছে, নিরাপদ। এ ছাড়াও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ থাকার কারণেই এ শহরটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।’

রাজশাহীর সাহেব বাজারে বসবাস করেন সিরাজগঞ্জের সুধির বাবু। তিনিও এখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন।

সুধির বলেন, ‘ব্যবসায়িক কাজে প্রায় রাজশাহী আসতে হত। সেই থেকেই এই শহরের প্রেমে পড়া। এরপর আর এই শহরের মায়া ত্যাগ করতে পারিনি। এখন একটি ছোট জমি নিয়ে এখানেই বসবাস করতে চাই।’

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘মেয়েকে রাজশাহীতে কলেজে ভর্তি করেছি। আগামী দিনে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানেই ভর্তি করাতে চাই। তার পড়াশোনার জন্য আমরাও রাজশাহী শহরে যেতে চাই। চিন্তা করছি শহরেই জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করব। এই শহরে বসবাস করে শান্তি। এ কারণেই আর গ্রামে ফিরতে চাই না।’

আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহীর স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিজের আবাসস্থল নির্মাণে জনগণের ক্রমেই আগ্রহ বাড়ছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি এ নগরীতে ফ্ল্যাট ক্রয় করতে চাচ্ছেন। ফলে আবাসন শিল্পে একটা অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের ফলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার পরিকল্পিত নগরায়নে আবাসন সমস্যার সমাধান ঘটছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের (রেডা) সাধারণ সম্পাদক ও আল-আকসা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান কাজী বলেন, ‘রাজশাহীতে মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের বসবাস। তারা তাদের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেই একটি ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখেন। আমরাও তাদের টার্গেট করেই আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করে থাকি।

‘মধ্যবিত্তরা যেন কিনতে পারেন, সে অনুযায়ী ফ্ল্যাট ও প্লটের দাম নির্ধারণ করা হয়। রাজশাহীতে ডাক্তার, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারাই সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট কিনছেন। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্রেতা বেশি। তারা এই শহরে বসবাসে বেশি আগ্রহী।’

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, সবুজ, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আলোকিত নগরী হিসেবে রাজশাহীর সুনাম সারা দেশে আছে। বাসযোগ্য ও শান্তির শহরে বসবাস ও উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পেতে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাজশাহীতে বাড়ি নির্মাণ, কেউ কেউ ফ্ল্যাট ক্রয় করছে।

তিনি বলেন, ‘তবে দ্রুত নগরায়নের ফলে যাতে রাজশাহী শহরের অবস্থা ঢাকার মতো না হয়, নগরীর যানজট পরিস্থিতি বৃদ্ধি না পায়, সেই বিষয়টি আমরা খেয়াল রেখেছি। নগরীর আয়তন বর্তমানের চেয়ে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধির কাজটি প্রক্রিয়াধীন।’

নগরীর বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়নে কাজ অব্যাহত আছে বলে জানান মেয়র।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা
কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়ানোর দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা ‘প্রাণহীন’, হতাশ দর্শনার্থী
শিক্ষাবিদ জার্জিস কাদিরের ‘ডিগবাজি’
রাজশাহীতে আষাঢ়-শ্রাবণের ধারা ঝরল আশ্বিনে

মন্তব্য

p
উপরে