× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Buyers have to pay higher prices for vegetables in advance of winter
google_news print-icon

শীতকালীন আগাম সবজিতে অধিক দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের

শীতকালীন-আগাম-সবজিতে-অধিক-দাম-গুনতে-হচ্ছে-ক্রেতাদের
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে গাছে সিম আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে দিন ছোট হয়ে আসায় শীত বাড়ছে। এতে করে সিমসহ অন্যান্য আগাম জাতের শাকসবজির আবাদ ভাল হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করছি।’

নওগাঁর বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন আগাম সবজি। সরবরাহের তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশ চড়া। বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষীরা। তবে দাম উর্ধ্বমুখী হওয়ায় অস্বস্থিতে ক্রেতা। সবজির বাজার স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক মাসের অধিক সময় লাগবে বলে জানাচ্ছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিভিন্ন জাতের প্রায় ৮ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০ টন শাকসবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে।

ভোরের কুয়াশা শাকসবজির ফুল ও লতায় পড়লেও সকালের সূর্যের আলোয় তা বিলিন হয়ে যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা।

অনাবৃষ্টিতে শাকসবজির আবাদে কৃষকদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আবার সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে অতিবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অনাবৃষ্টি এবং অতিবৃষ্টিতে শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে শাকসবজির উৎপাদন ব্যহৃত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কম হওয়ায় বেড়েছে সবজির দামও।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের সোমবাড়ি হাট। সোমবার সাপ্তাহিত হাটবার। এ হাটে ভোর থেকে দিনব্যাপী চাষীরা তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। করেন পাইকারি বেচাকেনা। হাট ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিম, ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বেগুন ও করলা ৯০ টাকা কেজি, মুলা ও বরবটি ৫০ টাকা কেজি, পটল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি, ওল ৩৫ থেক ৪০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৪০ টাকা পিস এবং লাউ ২০ থেকে ২৬ টাকা পিস।

ব্যবসায়িরা এ হাট থেকে সবজি কিনে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে থাকেন।

বর্ষাইল গ্রামের সবজি চাষি লতিফুর রহমান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে চার হাজার পিস ফুলকপির চারা লাগিয়েছিলাম। কিছুদিন আগের বৃষ্টিতে বেশকিছু চারা নষ্ট হয়ে যায়। হাটে ৭০ পিস ফুলিকপি নিয়ে এসেছি। প্রতি পিস ৪০ টাকা হিসেবে বিক্রি করলাম। গত হাটে ১৫ পিস বিক্রি হয়েছে। দিন যত যাবে ফুলকপি তত বড়ো হবে।’

কেশবপুর গ্রামের সিম চাষী সাগর হোসেন বলেন, ‘দুই কাঠা জমিতে সিমের আবাদ করেছি। গাছে ফুল আসলেও ফল আসতে দেরি হয়েছে। দুই বার সাত কেজি সিম বিক্রি করেছি। পাইকারিতে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সিমের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশি পেয়ে লাভবান হচ্ছি এখন পর্যন্ত। তবে উৎপাদনের পরিমাণ যখন বেশি হবে তখন দাম কমে আসবে।’

পাইকারি ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, ‘সবজির দাম অতিরিক্ত। কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। সবজির উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এতে দামও বেশি। সাপ্তাহিক এক দিনের এ হাটে প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। আগের বছর এ সময় প্রচুর পরিমাণ সবজি বাজারে উঠতো। তবে এ বছর তার ব্যতিক্রম।’

জাহিদুল হক নামের আরেক পাইকারী ব্যবসায়ী বলেন, ‘কৃষকরা সবজির দাম পাচ্ছেন বেশ ভালো। তবে এবার সবজি কিছুটা কম উঠেছে বাজারে। তবে আশা করছি কয়েকদিন পর আরও বেশি পরিমাণে সবজি উঠতে শুরু করবে বাজারে।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে গাছে সিম আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে দিন ছোট হয়ে আসায় শীত বাড়ছে। এতে করে সিমসহ অন্যান্য আগাম জাতের শাকসবজির আবাদ ভাল হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
‘সবজির দাম শুনলে চোখে পানি চলে আসে’
বৃষ্টিতে ‘ভাসল’ দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রীর জনসভা
‘হঠাৎ বৃষ্টি’ আরও ৩ দিন
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, স্থবির নগরজীবন
নির্বাচনের আগে জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Agriculture group admission test postponed

কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতক শ্রেণির আগামী ২০ জুলাই অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে।’

কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সময়ে তা জানিয়ে দেয়া হবে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে সোমবার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতক শ্রেণির আগামী ২০ জুলাই অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে।’

এর আগে বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম লুৎফুল আহসানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির জুম সভায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলমান থাকায় এ গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভর্তি সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম লুৎফুল আহসান বলেন, ‘প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে। এতে ক্লাস-পরীক্ষা, দাপ্তরিক এবং প্রশাসনিক সকল কাজই বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়।’

এর আগে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কৃষি গুচ্ছের নেতৃত্ব দিয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)। এবার ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্ব দিচ্ছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।

বিগত বছরগুলোতে আটটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার নতুন করে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পাওয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয় এ গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় যুক্ত হয়েছে।

কৃষি গুচ্ছে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেনারি ও এনিম্যাল সাইন্স ইউনিভার্সিটি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। এতে মোট আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৭১৮টি। গত বছর আসন সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৪৮টি।

গত বছরের তুলনায় এবার আসন বেড়েছে ১৭০টি।

এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১১৬টি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩৫টি, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৯৮টি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪৮টি, চট্টগ্রাম ভেটেনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটিতে ২৭০টি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১টি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০টি এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০টি আসন রয়েছে।

এর আগে ১৭ এপ্রিল কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভর্তি আবেদন শুরু হয়েছিল গত ২২ এপ্রিল। শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ মে।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সেটি আরও ৬ দিন বাড়ানো হয়, যা শেষ হয় ৫ জুন।

এবারের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। এবার কৃষি গুচ্ছে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালের এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী (ইংরেজি ১০, প্রাণিবিজ্ঞান ১৫, উদ্ভিদবিজ্ঞান ১৫, পদার্থবিজ্ঞান ২০, রসায়ন ২০ এবং গণিত ২০) ১০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সারা দেশের মোট আটটি কেন্দ্রে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী, ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ। কেন্দ্রগুলোতে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন:
১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ক্লাস শুরুর আশ্বাস জবি উপাচার্যের
গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে উপস্থিত ৮৭%
ফরিদপুরে পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে সাফল্য
বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতসহ উফশী চার ধানে নতুন সম্ভাবনা
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে উত্তীর্ণ ৩৬.৩৩ শতাংশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Will export rice in future Food Minister 

ভবিষ্যতে চাল রপ্তানি করব: খাদ্যমন্ত্রী 

ভবিষ্যতে চাল রপ্তানি করব: খাদ্যমন্ত্রী  নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রোববার রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৪’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত দুই বছর সরকার চাল আমদানি করেনি। এবারও চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না।’ 

বাংলাদেশ থেকে ভবিষ্যতে চাল রপ্তানি করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রোববার রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৪’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আশার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘চাল আমদানি নয়, ভবিষ্যতে আমরা চাল রপ্তানি করব।’

তিনি বলেন, ‘বিগত দুই বছর সরকার চাল আমদানি করেনি। এবারও চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না।’

কৃষি প্রণোদনা সরকারের পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি প্রণোদনা দিয়ে, ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের পাশে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কৃষিকে প্রযুক্তিবান্ধব করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

‘যে প্রণোদনা আজ বিতরণ করা হচ্ছে সেটা সঠিক ব্যবহার হলে বেশি জমিতে চাষাবাদ হবে আর উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।’

কৃষিপণ্যের মূল্য নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলা হচ্ছে, কিন্তু কৃষকের উৎপাদন খরচের খবর কেউ নিচ্ছে না।

‘দাম বাড়লে ভোক্তার সমস্যা আর পণ্যের দাম কমলে কৃষকের সমস্যা। উৎপাদন খরচ না উঠলে কৃষক উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন।’

এর আগে মন্ত্রী সাপাহার উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধনের পাশাপাশি স্টল পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের দাবি নওগাঁর তরুণদের
নওগাঁয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মূত্রথলিতে পাথর রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ
৮০ কিলোমিটার সড়কে ৩ লাখ তালগাছ রোপণের দাবি বেলালের
কাফনের কাপড়ের সঙ্গে হত্যার হুমকির চিরকুট, অভিযোগ যুবলীগ নেতার
রাণীনগরে নতুন মুখ রাহিদ, আত্রাইয়ে পুনর্নির্বাচিত এবাদুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
22 people are getting AIP award in agriculture

কৃষি ক্ষেত্রে এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন ২২ জন

কৃষি ক্ষেত্রে এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন ২২ জন এআইপি সম্মাননার পোস্টার। ছবি: বাসস
আগামী ৭ জুলাই, রোববার সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২১ সালের এআইপি পুরস্কার প্রদান করা হবে। এতে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুস শহীদ প্রধান অতিথি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালের এআইপি নির্বাচনের কাজ চলমান।

কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) সম্মাননা-২০২১ পাচ্ছেন ২২ জন।

বাসস জানায়, এআইপি নীতিমালা ২০১৯-এর আলোকে কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫ ক্যাটাগরিতে তারা নির্বাচিত হয়েছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালে কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তার আলোকে ২০২০ সাল থেকে দেয়া হচ্ছে এ সম্মাননা। ২০২০ সালে এআইপি পেয়েছিলেন ১৩ জন।

আগামী ৭ জুলাই, রোববার সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২১ সালের এআইপি পুরস্কার প্রদান করা হবে। এতে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুস শহীদ প্রধান অতিথি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালের এআইপি নির্বাচনের কাজ চলমান।

স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত কৃষি সংগঠন শ্রেণিতে তিনজনকে এআইপি নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাইখ সিরাজ, পরিবেশবিষয়ক সংগঠক চট্টগ্রামভিত্তিক সংগঠন তিলোত্তমার প্রতিষ্ঠাতা সাহেলা আবেদীন ও সমবায় উদ্যোক্তা সাতক্ষীরার ধানদিয়া সিআইজি মহিলা সমবায় সমিতির সভাপতি শিখা রানী চক্রবর্তী।

জাত বা প্রযুক্তি উদ্ভাবন শ্রেণিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা হলেন এসিআই অ্যাগ্রিবিজনেসের প্রেসিডেন্ট এ কে এম ফারায়েজুল হক আনসারী, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিষমুক্ত নিরাপদ সবজির কৃষি উদ্যোক্তা এম এ মতিন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য চুয়াডাঙ্গার জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ওলি উল্লাহ এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের জন্য বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশ।

কৃষি উৎপাদন, বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প শ্রেণিতে ১০ জন এআইপি হয়েছেন। তারা হলেন উন্নত জাতের ফল চাষের জন্য টাঙ্গাইলের মধুপুরের কৃষি উদ্যোক্তা ছানোয়ার হোসেন, পেঁয়াজবীজ চাষের জন্য ফরিদপুরের খান বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী শাহীদা বেগম, সাথী ফসল উৎপাদন করে জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য খুলনার ডুমুরিয়ার কৃষি উদ্যোক্তা সুরেশ্বর মল্লিক, ফল চাষের জন্য চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের গ্রিন প্ল্যানেট অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার অ্যাগ্রো বেইজড সোশিও ইকোনমিক্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন, দুগ্ধ উৎপাদনে পাবনার ঈশ্বরদীর তন্ময় ডেইরি খামারের স্বত্বাধিকারী মো. আমিরুল ইসলাম, মাছ চাষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আল বারাকা মৎস্য খামার অ্যান্ড হ্যাচারির স্বত্বাধিকারী মাছুদুল হক চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মৌচাষি কৃষি উদ্যোক্তা মো. রফিকুল ইসলাম, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ফলচাষি সিরাজ, বহুমুখী খামারের স্বত্বাধিকারী মো. সিরাজুল ইসলাম ও শেরপুর সদর উপজেলার ফলচাষি মা-বাবার দোয়া ফ্রুট গার্ডেন নার্সারি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. হযরত আলী।

রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন শ্রেণিতে দুজন এআইপির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বৃক্ষরোপণ ও বনসাই নার্সারির জন্য গাজীপুর সদর উপজেলার লিভিং আর্ট গার্ডেনের পরিচালক কে এম সবুজ ও বারোমাসি আমচাষি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের কৃষি উদ্যোক্তা মোহা. রফিকুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শ্রেণিতে তিনজনকে এআইপি নির্বাচন করা হয়েছে। তারা হলেন জৈবসার ও কেঁচোসার উৎপাদক নীলফামারীর ডোমার উপজেলার অন্নপূর্ণা অ্যাগ্রো সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী রাম নিবাস আগরওয়ালা, বাণিজ্যিক কৃষি খামারি হিসেবে ঢাকার নবাবগঞ্জের অমিত ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মায়া রানী বাউল ও সফল বীজ উৎপাদকারী পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা মো. আবদুল খালেক।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এআইপি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর পাঁচটি বিভাগে এআইপি সম্মাননা দেয়া হয়ে থাকে। এআইপি কার্ডের মেয়াদকাল হচ্ছে এক বছর।

এআইপিরা সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পান। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র, সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাস, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ এবং বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার পরিচালিত গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার।

এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার সুবিধা পান এআইপিরা।

আরও পড়ুন:
কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ১৩ জন পাচ্ছেন এআইপি সম্মাননা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A pineapple adorns the folds of the mountain

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা বান্দরবানে ফারুকপাড়া শৈলপ্রপাতসহ পাহাড়ের ঢালে ভাঁজে ভাঁজে আনারসের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা
বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি সদরের চিম্বুক, লাইমিপাড়া, ফারুক পাড়া, শৈলপ্রপাতসহ সব পাহাড়ে এখন একই চিত্র। প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল ঢেকে গেছে পাকা আনারসে। আকারে বড়, রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে এখানকার আনারস।

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সুভাষ ছড়াচ্ছে পাকা আনারস। বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি সদরসহ চিম্বুক এলাকার প্রতিটি পাহাড়ের ঢালে এখন শোভা পাচ্ছে পাকা আনারস।

আকারে বড়, রসালো ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে বান্দরবানে উৎপাদিত আনারস। ফলন ভাল ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি জুমিয়ারা।

জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি সদরের চিম্বুক, লাইমিপাড়া, ফারুক পাড়া, শৈলপ্রপাতসহ সব পাহাড়ে এখন একই চিত্র। প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল ঢেকে গেছে পাকা আনারসে।

প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পাহাড়ের জমি প্রস্তুত করে লাগানো হয় আনারসের চারা। মে-জুন মাসে বিক্রির উপযোগী হয় প্রতিটি আনারস। আর কাঁধে থুরুং নিয়ে বাগান থেকে বিক্রয় উপযোগী এসব আনারস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা। সেই আনারস বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাটবাজার ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা
বান্দরবানের পাহাড়ে আবাদ করা আনারস বাজারজাত করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন জুমিয়ারা। ছবি: নিউজবাংলা

এছাড়াও পাইকারি বিক্রেতারা বাগানে গিয়ে আনারস কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ে উৎপাদিত জায়ান্ট কিউ জাতের আনারস আকারে বড় ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। বড় সাইজের প্রতি জোড়া আনারস বাজারে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

শুধু তাই নয়, পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া জায়ান্ট কিউ আনারস চাষের উপযোগী হওয়ায় স্বল্প পরিশ্রম ও কম খরচে অধিক লাভবান হচ্ছেন জুমিয়া চাষীরা।

লাইমিপাড়া এলাকার চাষী পাকসিয়াম বম বলেন, ‘এ বছর আনারসের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। আমাদের পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস অন্যান্য জেলার আনারসের চেয়ে অনেক ভালো। খুবই মিষ্টি, রসালো ও আকারে বড় হওয়ায় পাইকাররা বাগানে এসে আনারস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

‘আমাদের বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে হয় না। পর্যটকরাও আসেন। অনেকে এখানে বসেই আনারসের স্বাদ নেন। আবার অনেকে বাড়ির জন্য নিয়ে যান। তবে পাইকারি বিক্রির চেয়ে খুচরা বিক্রি করতে পারলে আমাদের লাভ বেশি হয়।’

ফারুক পাড়া এলাকার আরেক কৃষক সানতোয়াল বম বলেন, ‘এ বছর ছয় একর জায়গায় আনারসের বাগান করেছি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলেও ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় দামও মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

‘অন্যান্য ফসল চাষের তুলনায় আনারস চাষে পরিচর্যা তেমন একটা না করলেও চলে। অনেক সময় একই জমিতে দুবার ফলন পাওয়া যায়।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এম এম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এ অঞ্চলে উৎপাদিত জায়ান্ট কিউ এবং হানি কুইন আনারস আকারে বড়, রসালো ও খেতে খুবই সুস্বাদু। এ কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ অঞ্চলে উৎপাদিত আনারসের চাহিদাও রয়েছে বেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফলন বাড়াতে আনারস চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানে আনারসসহ মৌসুমি ফল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল এসব পণ্য অনেক সময় কম মূল্যে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। তাই যাতে আনারস সংরক্ষণের মাধ্যমে আনারস থেকে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন বলে মনে করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিগত বছর জেলায় তিন হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ৯৭ হাজার টন আনারস। আর চলতি বছর তিন হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯ হাজার টন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farmers on the banks of Yamuna are worried about their crops due to floods

বন্যায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় যমুনা পাড়ের কৃষকরা

বন্যায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় যমুনা পাড়ের কৃষকরা বেশ কয়েকদিন পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় তিলগাছ পচে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
অপরিপক্ক তিলক্ষেত তলিয়ে গিয়ে এতদিনে গাছ পচে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। ফলে চরাঞ্চলে রোপন করা তিল উঠিয়ে ফেলছেন কৃষকরা। এছাড়াও ছোট ছোট পাট গাছও তলিয়ে গেছে অনেকের। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলের প্রমত্তা যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে জেলার ভূঞাপুর উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলের কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়ে চলছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুই পাড়ের অসংখ্য ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

অপরিপক্ক তিলক্ষেত তলিয়ে গিয়ে এতদিনে গাছ পচে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। ফলে চরাঞ্চলে রোপন করা তিল উঠিয়ে ফেলছেন কৃষকরা। এছাড়াও ছোট ছোট পাট গাছও তলিয়ে গেছে অনেকের। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।

অপরদিকে, বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র পানির স্রোতে চরাঞ্চলের ফসলি জমিগুলো ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি কমা শুরু করলে এ ভাঙন আরও তীব্র হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গাবসারার কালিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, ‘নদীতে কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু জায়গায় পানিতে ভরে গেছে; তলিয়ে যাচ্ছে তিল পাটসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল।

‘এবার কয়েক বিঘা জমিতে তিল চাষ করেছি। পানি আসায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই তুলে ফেলতে হয়েছে। যার কারণে চলতি মৌসুমে তিল চাষে অনেকটা লোকসানের মুখে পড়তে হবে।’

অর্জুনার জগৎপুরা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন সরকার বলেন, ‘চরাঞ্চলে নতুন পানি প্রবেশ করেছে। তবে, আজ (সোমবার) কিছুটা পানি কমলেও নিচু জমির ফসলগুলো তলিয়ে গেছে। তার মধ্যে তিল ও ছোট ছোট পাট গাছ বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই অপরিকল্পিত তিল তুলে ফেলছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেলে তিল ও পাট চাষে লোকসান হবে কৃষকের। এছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছি আমরা।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার পোড়াবাড়ী পয়েন্টে যমুনা নদীতে গত দুইদিন পানি বৃদ্ধি পায়নি। বরং ১০ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার থেকে বর্তমানে ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে যমুনার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীতে পানি কমলেও তলিয়ে যাওয়া তিল গাছ পচে গেছে। তবে, কৃষকদের সঙ্গে উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোখলেছুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে তিল চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে বন্যায় এখন পর্যন্ত ২০ হেক্টর জমির অপরিপক্ক তিল পানিতে তলিয়ে পচে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া পাট চাষ হয়েছে ২ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমপক্ষে ৩২ হেক্টর জমি। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে যমুনার পানি কমতে শুরু করছে
নতুন পানিতে ডিম ছাড়তে এসে বিপাকে যমুনার মা বোয়ালরা
বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি, খুলছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো
কুড়িগ্রামে বন্যায় কৃষিতে ক্ষতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There will be specialized cold storage in Mithapukur for storing potted mangoes

হাঁড়িভাঙ্গা আম সংরক্ষণে মিঠাপুকুরে হবে বিশেষায়িত হিমাগার

হাঁড়িভাঙ্গা আম সংরক্ষণে মিঠাপুকুরে হবে বিশেষায়িত হিমাগার ফাইল ছবি
আব্দুস শহীদ বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, এই বিষয়টা বেশি করে প্রচার করতে হবে। কেননা এই আম আমাদের রংপুরের কৃষি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এখানকার আম চাষিরা তাদের সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে ফলনে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেছেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম ও সবজি সংরক্ষণের জন্য রংপুরের মিঠাপুকুরে দেশের প্রথম বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপন করা হবে। সেই সাথে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ ও বাজারজাতকরণে মার্কেট লিংকেজ এবং আম চাষীদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে জিআই পণ্য হাড়িভাঙ্গা আম মেলা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের

আব্দুস শহীদ আরও বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, এই বিষয়টা বেশি করে প্রচার করতে হবে। কেননা এই আম আমাদের রংপুরের কৃষি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এখানকার আম চাষিরা তাদের সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে ফলনে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। সেই ধারাবাহিকতায় আম চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যাতে করে আম চাষিরা তাদের ন্যায্যমূল্য পান।

এ সময় তিনি হাঁড়িভাঙ্গা আম পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরকে বিশেষভাবে দেখার নির্দেশ প্রদান করেন।

এর আগে কৃষিমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ফল-ফসলের ১২টি স্টল পরির্দশন করেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Big Boss King Tiger Bullet and Rock are coming to shake the market

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজার ধরতে নানা বাহারি নামে গরু মোটাতাজা করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন মৌলভীবাজারের খামারিরা। এরই মধ্যে অনেক খামারে শুরু হয়ে গেছে আগাম বেচাবিক্রি। খামারিরা জানিয়েছেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো দামে গরু বিক্রির আশা করছেন তারা।

লাভজনক হওয়ায় দেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গরুর খামার। প্রতি বছরই নতুন নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে খামার ব্যবসায়। সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। এমনই এক সফল খামারি হচ্ছেন জুড়ী উপজেলার মেসার্স সিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম ছেনু।

বাবা মৃত বজলু মিয়ার হাতে গড়া খামারটির বয়স এখন শত বছরের ওপরে। ছেনুর বাবার মৃত্যুর পর ছেলেরা খামারের হাল ধরেন। এ খামারে বর্তমানে ছোটবড় মিলিয়ে মোট ৬৫টি গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে ক্রেতাদের মন জয় করতে এ খামারে গড়ে তোলা হয়েছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক নামের পাঁচটি গরু। এসব গরু দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

সাইফুল ইসলাম ছেনু জানান, মূলত কোরবানির বাজার ধরতে অনেক আগে থেকেই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন তিনি। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ না করলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদে ভালো মুনাফা পাবেন বলে আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ছোটবড় মিলিয়ে ৬৫টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। এগুলো দাম ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে চাচ্ছি আমরা।’

জুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় দিনকে দিন বাড়ছে কোরবানির পশুর চাহিদা। সেইসঙ্গে বেড়েছে খামারের সংখ্যা। উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক খামার রয়েছে।

ঈদের আগে খামারগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যাতে অসৎ উপায়ে গরু মোটাতাজা না করতে পারে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
ডিএনসিসির পশুর হাটে নিরাপদ ‘ক্যাশলেস’ লেনদেনের আশা মেয়রের
নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু
‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা
ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসছে বৃহস্পতিবার থেকে
‘সাদা পাহাড়ের’ ওজন ৩৮ মণ, দাম ১৬ লাখ

মন্তব্য

p
উপরে