× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BSF returned the body of the youth after two days
google_news print-icon

দুদিন পর যুবকের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ

দুদিন-পর-যুবকের-মরদেহ-ফেরত-দিল-বিএসএফ
প্রতীকী ছবি
বিএসএফ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয় কয়েকজন একসঙ্গে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভারতের ফকিরগঞ্জ বিএসএফের একটি টহল দল তাদের উদ্দেশ্যে করে গুলি করলে ভারতীয় ভূখণ্ডে মারা যায় আক্কাস।

পঞ্চগড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর শনিবার সকালে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ও ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে মরদেহটি ফেরত দেয় বিএসএফ।

নিহত ৩৫ বছর বয়সী আক্কাস তিরনই হাট ইউনিয়নের বাসিন্দা।

বিএসএফ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয় কয়েকজন একসঙ্গে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভারতের ফকিরগঞ্জ বিএসএফের একটি টহল দল তাদের উদ্দেশ্যে করে গুলি করলে ভারতীয় ভূখণ্ডে মারা যায় আক্কাস।

বুধবার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন দুপুরে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। পরে বিএসএফ নিহত ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার সকালে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি সীমান্তের জিরো লাইনে পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Job student Khadija was acquitted from two cases

জবি শিক্ষার্থী খাদিজাকে দুই মামলা থেকেই অব্যাহতি

জবি শিক্ষার্থী খাদিজাকে দুই মামলা থেকেই অব্যাহতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। ছবি: সংগৃহীত
২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজা ও মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ। ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খাদিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছরের ২০ নভেম্বর জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন খাদিজা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে নিউমার্কেট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) আরেক মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। তবে মামলার অপর আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ গঠনের মতো কোনো উপাদান না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালত।

এর আগে ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে খাদিজাতুল কুবরাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ১৪ মাস পর গত বছরের নভেম্বরে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

‘সরকারবিরোধী প্রচারণা ও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করার’ অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ। ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খাদিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবশেষে ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন খাদিজা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, খাদিজা ও দেলোয়ার দেশের বৈধ প্রশাসনকে উৎখাত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও ঊর্ধ্বতন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর প্রচারণা চালানোর ষড়যন্ত্র করেছেন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও বিভেদ সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চান তারা।

২০২০ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাগুলো করার সময় খাদিজার বয়স ছিল ১৭ বছর। কিন্তু তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে মামলা করা হয় বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থী খাদিজাকে এক মামলায় অব্যাহতি
কারামুক্তির পর কেমন আছেন খাদিজা
কারামুক্ত হয়েই পরীক্ষার হলে জবি শিক্ষার্থী খাদিজা
বিনা দোষে প্রায় ১৫ মাস জেল খাটলাম: খাদিজা
জামিনে কারামুক্ত জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The explosion was not caused by the gas released from the cylinder

বিস্ফোরণ নয়, সিলিন্ডারের ছেড়ে দেয়া গ্যাসে ভাসানচরে অগ্নিকাণ্ড

বিস্ফোরণ নয়, সিলিন্ডারের ছেড়ে দেয়া গ্যাসে ভাসানচরে অগ্নিকাণ্ড নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ফাইল ছবি
ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের মাঝে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের তারিখ ছিল। নতুন সিলিন্ডার নিতে সফি আলম তার আগের সিলিন্ডারের তলানিতে থেকে যাওয়া গ্যাস ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেন। সেসময় পাশের কক্ষের আবদুস শুক্কুরের স্ত্রী আমিনা খাতুন এবং অপর কক্ষে আব্দুল হাকিমের মেয়ে রোমানা গ্যাসের চুলা জ্বালাতে দিয়াশলাই জ্বালালে ওই ছেড়ে দেয়া গ্যাস বাতাসে মিশে আগুন ধরে যায়।’

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ পাঁচ শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এর কারণ ছিল এতদিন অজানা। তবে পাঁচদিন পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা গেছে।

সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে সিলিন্ডারের গ্যাস ছেড়ে দেয়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বলেন, ‘শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের মাঝে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের তারিখ ছিল। এর আগের দিন সকালে ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের ২৪ বছর বয়সী সফি আলম নতুন সিলিন্ডার নিতে তার ব্যবহৃত সিলিন্ডারের তলানিতে থেকে যাওয়া গ্যাস ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেন। সেসময় পাশের কক্ষের আবদুস শুক্কুরের স্ত্রী আমিনা খাতুন এবং অপর কক্ষে আব্দুল হাকিমের মেয়ে রোমানা গ্যাসের চুলা জ্বালাতে দিয়াশলাই জ্বালালে ওই ছেড়ে দেয়া গ্যাস বাতাসে মিশে ৩, ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর কক্ষসহ বারান্দায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন দগ্ধ হন।

তাদের উদ্ধার করে ভাসানচর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে গুরুতর সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ পাঁচ শিশু ৫ বছরের রবি আলম, সোহেল, ৪ বছরের রাসেল এবং তিন বছরের মুবাশিরা ও রোমানার মৃত্যু হয়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘সাবধানতা অবলম্বন না করে অবহেলা করে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ছেড়ে দেয়ায় আগুনের সুত্রপাত হয়। এ ঘটনায় ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের সফি আলমের বিরুদ্ধে ভাসানচর থানায় বুধবার রাতে মামলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মামলার একমাত্র অভিযুক্ত সফি আলমের দুই শিশু সন্তানও এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

‘তিনি নিজেও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তাকে ভাসানচর হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের একটি কক্ষে রান্নার চুলার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন।

আহতদের প্রথমে নোয়াখালীর নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠান।

আরও পড়ুন:
ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণ: দগ্ধ পাঁচ শিশুরই মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The police claim that there is evidence of student harassment against teacher Murad

শিক্ষক মুরাদের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির প্রমাণ মিলেছে, দাবি পুলিশের

শিক্ষক মুরাদের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির প্রমাণ মিলেছে, দাবি পুলিশের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মুরাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘কোচিং সেন্টারে ছাত্রীদের পড়ানোর নামে বিভিন্ন সময় তাদের শরীরে হাত দেয়াসহ নানা অশোভন আচরণের মাধ্যমে যৌন হয়রানি করেছেন শিক্ষক মুরাদ। তার প্রমাণ পাওয়া গেছে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপে।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তির ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করে কিছু অডিও-ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যায়। ডিভাইস দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

‘ওই শিক্ষক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। আমরা অনেক তথ্য পাচ্ছি। আসামি এসব অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘স্কুলের পাশে কোচিং সেন্টারে ছাত্রীদের পড়ানোর নামে বিভিন্ন সময় তাদের শরীরে হাত দেয়াসহ নানা অশোভন আচরণের মাধ্যমে যৌন হয়রানি করেছেন শিক্ষক মুরাদ। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপে।

‘একাধিক ছাত্রীর বেশকিছু অডিও রেকর্ডিং ও কথোপকথনে এর প্রমাণ মিলেছে। তিনি পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীদের কুরুচিপূর্ণ কৌতুক শোনাতেন বলেও জানা গেছে।’

মুরাদকে রিমান্ডে নিয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘যে অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুলিশ হেফাজতে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার সত্যতা পাওয়া গেছে।

‘গত বছরের নভেম্বরে ওই শিক্ষার্থী যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে পুলিশ। তবে ওই ঘটনা জানাজানি হলে মা-বাবার সম্মানহানি হবে এবং স্কুল থেকে তাকে বের করে দেয়া হবে এমন আশঙ্কায় নির্যাতিত ছাত্রী কাউকে কিছু জানায়নি।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘২৬ ফেব্রুয়ারি এক শিক্ষার্থীর মা লালবাগ থানায় এসে অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত, তখন সে ওই শিক্ষকের কোচিংয়ে পড়তে যেত। মেয়েটিকে গত বছরের ১০ মার্চসহ বিভিন্ন সময় নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করেছেন শিক্ষক মুরাদ।’

তিনি বলেন, ‘এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ এসেছে। এ নিয়ে কিছু অভিভাবক ও তাদের সন্তানদের বক্তব্য শোনেন কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ ঘটনায় স্কুলে মানববন্ধনও হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলা হওয়ার পর ওই রাতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘ফৌজদারি অপরাধ কখনও তামাদি হয়ে যায় না। আর শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণের জন্য মেডিক্যাল প্রতিবেদন জরুরি নয়। অভিযোগ প্রমাণের জন্য আরও অনেক প্রক্রিয়া রয়েছে।

‘আমরা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকারের বিষয়ে সংবেদনশীল। যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অপরাধ কত দিন, কত জায়গায়, কতবার হয়েছে, সবই তদন্তের আওতায় আনা হবে।’

অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন সরকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর ক্যাম্পাসের দিবা শাখার গণিতের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। ২০১০ সাল থেকে তিনি বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি আজিমপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে কোচিং সেন্টার খুলে ছাত্রীদের পড়াতেন।

শিক্ষক মুরাদ কারাগারে

যৌন হয়রানির মামলায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর ক্যাম্পাসের গণিতের শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

দুদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম।

একইসঙ্গে আসামি পক্ষের আইনজীবী চিকিৎসার আবেদন করলে কারাবিধি মোতাবেক তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর কলাবাগানের বাসা থেকে মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই রাতেই ভিকারুননিসা স্কুলের গভর্নিং বডির জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ বরাবর অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের একাংশ ও তাদের অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে শনিবার স্কুল কর্তৃপক্ষ এই শিক্ষককে প্রত্যাহার করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করে।

পরদিন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ রিমান্ডে
যৌন হয়রানির মামলায় ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The couple at the UNO office with a complaint against the chairman
ঠাকুরগাঁওয়ে ঘর থেকে বের করে দরোজায় তালা

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে সেই দম্পতি

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে সেই দম্পতি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নালিশ করতে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর ইউএনও কার্যালয়ে যান বৃদ্ধ দম্পতি। ছবি: নিউজবাংলা
বৃদ্ধ আব্দুল হালিম বলেন, ‘ইউএনও স্যার যা প্রশ্ন করেছেন উত্তর দিয়েছি। চেয়ারম্যান আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তালা দিলেন, হুমকি-ধমকি দিলেন- এসব বিষয় জানিয়ে নালিশ করেছি এবং বিচার চেয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।’

ঠাকুরগাঁওয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের করে দিয়ে দরোজায় চেয়ারম্যানের তালা ঝুলিয়ে দেয়া ও নানামুখী ভয় দেখানোর ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে নালিশ জানিয়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি আব্দুল হালিম ও জোৎস্না বেগম।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যালয়ে বসে ওই বৃদ্ধ দম্পতির কথা শুনে আইন অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও মো. বেলায়েত হোসেন।

ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মৌখিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নালিশ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী ওই দম্পতি।

বৃদ্ধ দম্পতির ভাষ্যমতে, সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পৌর শহরের দক্ষিণ সালন্দর শান্তিনগর এলাকায় স্কুল শিক্ষিকা ফারহানা ইসলাম কলির বাসায় ভাড়াটে হিসেবে ওঠেন তারা। কয়েকদিন পর ভোরের দিকে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে বের করে দেন এবং বাড়ির দরোজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

জানা যায়, ওই বাড়ির জায়গা নিয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন ও বাড়িওয়ালার মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেদিন ভুক্তভোগী দম্পতি জীবিকার তাগিদে অন্যত্র থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি পরিদর্শনকারীদের। পরে তাদের দেখা করতে বলা হলে ওই বৃদ্ধ দম্পতি ইউএনওর কার্যালয়ে যান এবং তাদের সমস্যার কথা ইউএনও’র কাছে তুলে ধরেন।

ভাড়াটে বৃদ্ধ আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি এর আগেও ইউএনও স্যারের সঙ্গে দেখা করতে কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্যার সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় দেখা করা সম্ভব হয়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) দেখা করেছি। তিনি অনেকক্ষণ ধরে আমাদের কথা শুনেছেন।

‘স্যার আমাদের যা প্রশ্ন করেছেন সব উত্তর দিয়েছি। চেয়ারম্যান আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তালা দিলেন, হুমকি-ধমকি দিলেন- এসব নালিশ করেছি ও বিচার চেয়েছি। এছাড়াও আমার ঘরের যেসব জিনিসপত্র চেয়ারম্যানের লোকজন সরিয়েছে সেসব জিনিস উদ্ধারের জন্য স্যারের সহযোগিতা চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে- আমার নিজস্ব বাসা ছেড়ে ভাড়া বাসায় কেন উঠেছি? আমি স্যারকে পরিষ্কার করেছি বিষয়টি। বলেছি, টাকার অভাবে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না। বাড়ি বিক্রির জন্য আমি এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছি। কিন্তু বাড়ি খালি না করা পর্যন্ত ওই ব্যক্তি জমি রেজিস্ট্রি নিচ্ছে না।

‘তখন বাড়ি খালি করার জন্য আমি স্কুল শিক্ষিকাকে অনুরোধ করে বলি- তাদের তো অনেক জায়গা জমি, যেন আমাকে একটি থাকার ঘর তুলে দেন। আমি প্রতি মাসে ভাড়া দেব। তখন তিনি আমাকে তার জায়গায় দুটো ঘর তুলে দেন। এখন ওই জায়গা নিয়ে কারও সঙ্গে বিরোধ থাকলে এখানে আমাদের তো দোষ নেই। আমাদের থাকতে না দিলে থাকতাম না।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন। তিনি এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। আমি দুদিন সেখানে গিয়েছি। গণমাধ্যমকর্মীরাও গিয়েছিল।’

সে সময় তিনি বাড়ির দরোজায় তালা ঝুলানো ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে ঘটনার পর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন বাড়িওয়ালা স্কুল শিক্ষিকা ফারহানা ইসলাম কলি।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে এসেছে। কিন্তু এখনও আমাদের এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। নিশ্চয় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। সেখানে ইউএনও স্যারও পরিদর্শন করেছেন। মামলা নেয়ার মতো ঘটনা হলে আমরা মামলা নেব। আমরা তদন্ত করছি।’

ইউএনও মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ওই বৃদ্ধ দম্পতি আজ (বৃহস্পতিবার) আমার কার্যালয়ে এসেছেন এবং আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য আমার এখান থেকে যতদূর করা যায় করব।’

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসককে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে এই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন:
বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ির দরজার তালা গেল কোথায়?
ভাড়া বাসায় ‘চেয়ারম্যানের দেয়া’ তালা খোলার অপেক্ষায় দম্পতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Madrasa teacher detained again on the charge of Balatkar

ফের বলাৎকারের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

ফের বলাৎকারের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক আটক বলাৎকারে অভিযুক্ত দেবীগঞ্জ পৌর শহরের আলহেরা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
দুই বছর আগেও এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছাত্রদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তিনি এই অপকর্ম করতেন বলে সেসময় অভিযোগ পাওয়া যায়।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে হাফেজ মিজানুর রহমান নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের আলহেরা মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়। সেইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশে মাদ্রাসার ভুক্তভোগী ৬ ছাত্রকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ গোড় গ্ৰামের বাসিন্দা। আলহেরা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আবাসিক ও অনাবসিক- দুই ব্যবস্থাতেই পাঠদান করে আলহেরা মাদ্রাসা। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ পায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা পুলিশকে না জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে।

চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ওই শিক্ষক মাদ্রাসায় অবস্থান নিলে বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার খবরে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে রাত ৮টার দিকে মাদ্রাসায় জড়ো হন তারা।

পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বিবেচনায় ৯৯৯ ফোন করে সহযোগিতা চায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

দুই বছর আগেও এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছাত্রদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তিনি এই অপকর্ম করতেন বলে সেসময় অভিযোগ পাওয়া যায়।

আলহেরা মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই প্রধান বলেন, ‘৭/৮ বছর ধরে এখানে শিক্ষকতা করছেন মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার এক অভিভাবক তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনলে, ওইদিনই তাকে জরুরি মিটিংয়ের মাধ্যমে বরখাস্ত করা হয়।’

দেবীগঞ্জ থানার ওসি সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীকে বলাৎকার: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
মাদারীপুরে মাদ্রাসার ৪ ছাত্রকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
মাদ্রাসার ছাত্রকে ‘আছাড় মেরে’ মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলার অভিযোগ
পালাতে গিয়ে পাঁচতলার কার্ণিশে আটকা, অতঃপর…

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Police must prepare to deal with new forms of crime PM

অপরাধের নতুন ধরন মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অপরাধের নতুন ধরন মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ছবি: পিআইডি
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নানাভাবে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধের নতুন ধরন মোকাবিলার ওপর সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। অপরাধ মোকাবিলায় সিস্টেম আপগ্রেড করা না গেলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

প্রযুক্তির উন্নয়নের যুগে অপরাধের নতুন নতুন ধরন মোকাবিলা করতে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

‘স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ, শান্তি ও প্রগতির বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নানাভাবে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধের নতুন নতুন ধরন তৈরি হচ্ছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীকে সম্ভাব্য সব উপায়ে এগুলো মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধের নতুন ধরন মোকাবিলার ওপর সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ মোকাবিলায় সিস্টেম আপগ্রেড করা না গেলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

অপরাধের নতুন ধরন মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফটোসেশনে অংশ নেন। ছবি: পিআইডি

পুরুষ, নারী ও শিশু নির্বিশেষে জনগণকে কর্মক্ষেত্রে আপনজন বিবেচনা করে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ এখন জনগণের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। এখন মানুষ অতীতের মতো পুলিশকে ভয় পায় না। এখন তারা (জনগণ) তাদের আস্থা ফিরে পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষ পুলিশকে তাদের বন্ধু ও আস্থাভাজন মনে করে।’

আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, পুলিশকে মারা, পুলিশ হত্যাসহ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের যে মামলাগুলো রয়েছে এর দীর্ঘসূত্রতা থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মামলাগুলো কিন্তু যথাযথভাবে চলে না। আমি মনে করি যারা এ ধরনের অপরাধ করে তাদের মামলাগুলো যথাযথভাবে চললে এবং দ্রুত সাজা হয়ে গেলে আর অপরাধ করার সাহস পাবে না।’

আগামীতে যেন আর কেউ পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে না পারে সেভাবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির নামে হোক আর সন্ত্রাসের নামে হোক আইনকে যাতে নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে এবং আইন-শৃঙ্খলা ও মানুষের জানমাল এবং জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে পুলিশকে অবিচল থাকতে হবে। যখনই যেটা দরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যেন আইনকে নিজের হাতে তুলে নিতে এবং আইনশৃংখলার অবনতি ঘটাতে না পারে।’

আরও পড়ুন:
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে
নিজের লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারিভাবে বড় ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
সরকার অফশোর গ্যাস উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের মানুষের সেবা করুন: পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Order to release 157 foreigners who have completed their sentence and send them back to their country

সাজা শেষ হওয়া ১৫৭ বিদেশিকে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ

সাজা শেষ হওয়া ১৫৭ বিদেশিকে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ ফাইল ছবি
দেশের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন অপরাধের সাজা শেষে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা ১৫৭ জন বিদেশি কারাবন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০ জন ভারতের, পাঁচজন মিয়ানমারের ও একজন করে পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন।

সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশের কারাগারে থাকা ১৫৭ বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। খবর বাসসের

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

গত ২১ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন অপরাধের সাজা শেষে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা ১৫৭ জন বিদেশি কারাবন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০ জন ভারতের, পাঁচজন মিয়ানমারের ও একজন করে পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। ১৫৭ জনের মধ্যে ১৯ জনের মতো নারী। উচ্চ আদালতের আদেশের পর কারা অধিদপ্তরের পাঠানো এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল দিয়ে অনুপ্রবেশের দায়ে ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর থানার বাসিন্দা গোবিন্দ উড়িয়াকে (২৬) আটক করেন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। ওই দিনই আটক ব্যক্তিকে শ্রীমঙ্গল থানায় সোপর্দ করে তার নামে মামলা করে বিজিবি।

তদন্তের পর একই বছর ৪ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২৪২ ধারা ও দি কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২ আইনের ৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

বিচার শেষে মৌলভীবাজারের চতুর্থ বিচারিক হাকিম এম মিজবাহ উর রহমান দোষ স্বীকার ও অতীতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ না থাকায় আদালত গোবিন্দ উড়িয়াকে ২ মাস ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এ রায়ের পর দুই বছর কেটে গেলেও প্রত্যাবাসন হয়নি গোবিন্দ উড়িয়ার। তাই তার প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপারকে নির্দেশ দেয় আদালত।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী বিভূতি তরফদার। সাজা ভোগ করা কারাবন্দি গোবিন্দ উড়িয়ার কারামুক্তি ও তার প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয় রিট পিটিশনে।

গত ১৫ জানুয়ারি এ রিটে প্রাথমিক শুনানির পর রুলসহ আদেশ দেয় হাইকোর্ট। আদেশে গোবিন্দ উড়িয়াকে কারামুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়। আর দণ্ড বা সাজাভোগ করার পরও প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা না করে কারাবন্দি রাখা হয়েছে, এমন বিদেশি নাগরিকদের তালিকা দিতে বলে উচ্চ আদালত।

কারা মহাপরিদর্শককে এ নির্দেশ দিয়ে আগামী ১০ মার্চ পরবর্তী আদেশের তারিখ রাখা হয়। এরপর আদালতে দাখিলের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠায় কারা অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন:
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যেই: হাইকোর্ট
খতনা করাতে গিয়ে আয়ানের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন কমিটি
রেজিস্ট্রেশনযোগ্য জিআই পণ্যের তালিকা দাখিলে হাইকোর্টের নির্দেশ

মন্তব্য

p
উপরে