× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Murderer who killed mother and daughter next to relatives gets death sentence after 9 years
google_news print-icon

মা-মেয়েকে হত্যা করে স্বজনদের পাশেই খুনি, ৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ড

মা-মেয়েকে-হত্যা-করে-স্বজনদের-পাশেই-খুনি-৯-বছর-পর-মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামের আদালতে বৃহস্পতিবার মা-মেয়ে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর বেলাল হোসেনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার নালাপাড়ায় মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যার পর লুটপাট শেষে চলে যান বেলাল হোসেন। ঘটনার খবর ছড়ানোর পর বাসায় এসে মা ও বোনহারা দুই শিশুকে সান্ত্বনা দেন তাদের দূরসম্পর্কের এই চাচা। তবে শেষরক্ষা হয়নি। টাকা ও স্বর্ণালংকারের সঙ্গে লুট করা দুটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনাক্ত করা হয় খুনিকে।

২০১৫ সালের ৭ মে সকাল সাড়ে ১০টা। চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া দুই ভাই হৃদয় ও রিয়াদ তখন ক্লাসে। হঠাৎ খবর আসে- বাসায় একটা সমস্যা হয়েছে, দ্রুত যেতে হবে। শিশু দুটি তখনও কিছু আঁচ করতে পারেনি। দ্রুত এক কিলোমিটার দূরে সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসার উদ্দেশে ছোটে দুই ভাই।

বাসার নিচে পৌঁছেই ওরা দেখতে পায় মানুষের ভিড়। স্থানীয় লোকজন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জটলা। বাসায় প্রবেশ করে দেখে স্বজনরা আহাজারি করছেন। আর ড্রয়িংরুমের মেঝেতে পড়ে আছে মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ।

বাথরুমে পড়ে আছে ফাল্গুনীর নিথর দেহ। আদরের একমাত্র ছোট বোনটিরও গলাকাটা। দু’জনের রক্তে ভেসে গেছে ড্রয়িংরুম ও বাথরুমের মেঝে।

ঘণ্টা দুয়েক আগেও হৃদয় ও রিয়াদকে ঘুম থেকে ডেকে হালুয়া-পরোটা খাইয়ে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন মা। ছোট বোন ফাল্গুনী ছিল ঘুমে।

ঘটনার আকষ্মিকতায় সেদিন মুষড়ে পড়েছিল দুই শিশু। মা ও বোনকে হারানোর শোকে কাঁদতেও ভুলে যায় ওরা। ধপ করে বসে পড়ে পাশের খাটে। সে সময় ওদের সঙ্গে ছিলেন দূর সম্পর্কীয় চাচা মো. বেলাল হোসেন। এই বেলাল সেদিন চারতলার ওই ফ্ল্যাটে পাশে বসে স্বজনহারা শিশু দুটিকে সান্ত্বনার বাণী শোনান।

মা-মেয়েকে হত্যা করে স্বজনদের পাশেই খুনি, ৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ড
স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাসন্তানকে কেড়ে নিয়েছে ঘাতকের ছুরি। শাহ আলমের এই সুখের সংসার আজ শুধুই স্মৃতি। ফাইল ছবি

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ ৯ বছর পর ওই মা-মেয়ে হত্যার মামলার রায় হয়েছে বৃহস্পতিবার। রায়ে ঘটনার দিন হৃদয়-রিয়াদের সঙ্গে খাটে বসে থাকা বেলালের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আদালতের রায়ের খবরটিও সেদিনের মতোই ক্লাসে বসে জানতে পারেন রিয়াদ হোসেন। তবে সেদিনের মতো স্কুলের বেঞ্চিতে বসে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে।

সময় পরিক্রমায় রিয়াদ এখন বড় হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে লেখাপড়া করেন তিনি। আর তার বড় ভাই হৃদয় হোসেন এলাকায় ব্যবসা করেন।

রিয়াদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রায় শুনে খুব খুশি হয়েছি। এখন আমাদের চাওয়া- রায়টা দ্রুত কার্যকর করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘এখন একটু বড় হয়েছি। অনেক কিছুই আজ বুঝতে পারি। তখন (ঘটনার সময়) ছোট ছিলাম, কিছুই বুঝতাম না। আম্মু থাকলে জীবনটা অন্যরকম হতে পারতো। তবে আলহামদুলিল্লাহ, আব্বু সবকিছু পূরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু মা তো মা-ই; মায়ের অভাব কখনোই অন্য কিছুতে পূরণ হয় না।’

আসামি বেলালের উল্লেখ করে রিয়াদ বলেন, ‘আমার মা-বোনকে খুন করে লোকটা স্বাভাবিক মানুষের মতো আমাদের সঙ্গেই বসে ছিল। কত বড় অমানুষ হলে কেউ এমন আচরণ করতে পারে! তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, এটাই চাওয়ার ছিল।’

মা-মেয়েকে হত্যা করে স্বজনদের পাশেই খুনি, ৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ড
বাবার সঙ্গে দুই ছেলে হৃদয় ও রিয়াদ। ফাইল ছবি

যা ঘটেছিল সেদিন

সদরঘাটে দক্ষিণ নালাপাড়ায় মোবাশ্বের মিয়ার বাড়ির চতুর্থ তলার ওই বাসা থেকে ছাগলের মাংস ব্যবসায়ী শাহ আলমের স্ত্রী নাছিমা বেগম ও তার ১০ বছর বয়সী কন্যা রিয়া আক্তার ফাল্গুনীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সদরঘাট থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন নাছিমার স্বামী শাহ আলম। মামলায় হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি নগদ ১ লাখ ১১ হাজার টাকা ও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুটের কথা উল্লেখ করা হয়। সেই মামলার তদন্তে নেমে হিমশিম খান সদরঘাট থানার তৎকালীন পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছিলো না।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন নগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ আব্দুর রউফ৷ তদন্তে নেমে প্রতিবেশী ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি শাহ আলমের সঙ্গেও নতুন করে কথা বলেন তিনি।

এই পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন যে নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ছাড়াও সেদিন দুটি মোবাইল ফোন ওই বাসা থেকে লুট হয়। সেই মোবাইলের সূত্র ধরে মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পর একই বছরের নভেম্বরে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি। পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মো. বেলাল হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বেলাল নিহত নাছিমা ও ফাল্গুনীকে হত্যা করে লুট করা স্বর্ণালঙ্কার নগরীর কালামিয়া বাজারে মৌমিতা জুয়েলার্সে বিক্রির কথা জানান।

পরবর্তীতে বেলালের দেখানো মতে মৌমিতা জুয়েলার্সের কর্মচারী টিটু সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কেনার পর ওই স্বর্ণালংকার গলিয়ে নতুন স্বর্ণালংকার তৈরির কথা জানান। তাছাড়া লুট করা দুটি মোবাইল সেটের একটি নিজের কাছে রেখেছিলেন বেলাল। অন্যটি উপহার দিয়েছিলেন বান্ধবীকে।

মো. বেলাল হোসেন সম্পর্কে শাহ আলমের খালাতো ভাই৷ ঘটনার তিনদিন আগে নিজের মাংসের দোকানের টিউবওয়েল মেরামতের জন্য বেলালকে ডেকে বাসায় নেন শাহ আলম। পরদিন টিউবওয়েল মেরামতের সময় দুপুরের খাবারের জন্য শাহ আলমের সঙ্গে বাসায় যান বেলাল। সেখানে আলমারি থেকে টাকা নিয়ে নাছিমা তার স্বামী শাহ আলমকে দেয়ার সময় বিষয়টি খেয়াল করেন বেলাল। পরবর্তীতে ওই টাকা লুটের পরিকল্পনা করে তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের ফাঁকে শাহ আলমের মাংসের দোকান থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে পাশ্ববর্তী ডাস্টবিনে রাখেন বেলাল।

৭ মে সকালে শাহ আলমকে দোকানে দেখে ডাস্টবিন থেকে ছুরিটি শরীরের পেছনে লুকিয়ে বাসার সামনে যান বেলাল। সেখানে দাঁড়িয়ে শাহ আলমের ১৪ ও ১২ বছর বয়সী দুই ছেলে হৃদয় হোসেন ও রিয়াদ হোসেন স্কুলের উদ্দেশে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি।

হৃদয় ও রিয়াদ বেরিয়ে যাওয়ার পর বাসায় প্রবেশ করে নাছিমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন বেলাল। এসময় ফাল্গুনী এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। পরে ওই বাসায় হাত-মুখ ধুয়ে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর স্বজনদের সঙ্গে শাহ আলমের বাসায় এসে নিহতদের মরদেহ ভবন থেকে নিচে নামানোসহ বিভিন্ন কাজে অংশ নেন বেলাল।

মা-মেয়েকে হত্যা করে স্বজনদের পাশেই খুনি, ৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ড
সেদিনের শিশু রিয়াদ বড় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

বেলালের মৃত্যুদণ্ড ও টিটুর ৩ বছরের জেল

নাছিমা ও তার মেয়ে ফাল্গুনীকে গলাকেটে হত্যার ওই মামলায় বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বেগম সীরাজম মুনিরা। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সাগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দীর্ঘতম বড়ুয়া দীঘু বলেন, ‘মর্মান্তিক ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে মো. বেলাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাছাড়া লুট করা মালামাল কেনায় স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী টিটু সাহাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। দণ্ডের অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের জেল দেয়া হয়েছে।’

রায়ের আদেশ নিয়ে স্ত্রী-কন্যার কবরের পাশে যাবেন শাহ আলম

নিহত নাছিমার স্বামী শাহ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী-কন্যা বলে বলছি না, ঘটনার মর্মান্তিকতা সেদিন উপস্থিত সবাইকে ছুঁয়ে গেছে। পুরো এলাকার মানুষ কেঁদেছে। আবার আজ (বৃহস্পতিবার) রায় শুনে এলাকার গাছপাতা পর্যন্ত খুশি।’

তিনি জানান, নিহত স্ত্রী-কন্যাকে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে সমাহিত করা হয়। আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার রায়ের কপি ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে দুই ছেলেসহ মুরাদনগরের পূর্ব ধইর এলাকায় নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে স্ত্রী ও কন্যার কবর জিয়ারতে যাবেন তিনি।

আরও পড়ুন:
লক্ষ্মীপুর আওয়ামী লীগ নেতা হত্যায় ৮ জনের যাবজ্জীবন
গৃহবধূকে গ্যাসের ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার
ছাগলে শিম গাছ খাওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা
বরিশালে বাইকচালক হত্যায় একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন
মুন্সীগঞ্জে দুটি আলাদা ঘটনায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ex policeman killed in Nephews case

ভাতিজার দায়ের কোপে সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত

ভাতিজার দায়ের কোপে সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত প্রতীকী ছবি
হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা বা অন‌্য কোনো কারণ আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্ত‌রে দুমকি থানার ওসি তারেক মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘খুঁ‌টিনা‌টি সব‌কিছু আমরা খুঁজে দেখ‌ছি। সব তথ‌্য-উপাত্ত যাচাই-বাচাই কর‌‌ছি।’

পটুয়াখালীর দুমকিতে ভাতিজার দায়ের কোপে সাবেক এক পুলিশ নিহত হয়েছেন।

উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া গ্রামে শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

কোপে প্রাণ হারানো সাবেক পুলিশ সদস্যের নাম আবদুল আজিজ সিকদার, যার বয়স ৭০ বছর।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, দুপুরে আঠারগাছিয়া গ্রামের আলতাফ সিকদারের সৌদিফেরত ছেলে শহিদ শিকদার (২৮) হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তিন থেকে চারজন প্রতিবেশীর ঘরের দরজা- জানালা পিটিয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। একপর্যা‌য়ে চাচা আবদুল আজিজ সিকদারের হাতে থাকা ধারালো দা কেড়ে নিয়ে তাকেই উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন এ যুবক।

পরে স্থানীয় লোকজন এক‌ত্রিত হ‌য়ে শহিদকে ধ‌রে পুলিশে সোপর্দ করেন। অন্যদি‌কে গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল আজিজকে উদ্ধার করে তাৎক্ষ‌ণিকভা‌বে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখা‌নে বেলা আড়াইটার দি‌কে তার মৃত্যু হয়।

শহিদ সিকদারের ভাই সবুজ সিকদার দাবি ক‌রেন, সৌদি আরব থে‌কে ফি‌রে এসে শহিদ সিকদার বেশ কিছু দিন ধরে একাকিত্বে থেকে অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন। কারও সঙ্গে পূর্ব বিরোধ না থাকলেও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তি‌নি।

দুমকি থানার ওসি তারেক মো. আবদুল হান্নান জানান, নিহত আবদুল আজিজ সিকদা‌রের মরদেহ বরিশালের শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।

হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা বা অন‌্য কোনো কারণ আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্ত‌রে ওসি বলেন, ‘খুঁ‌টিনা‌টি সব‌কিছু আমরা খুঁজে দেখ‌ছি। সব তথ‌্য-উপাত্ত যাচাই-বাচাই কর‌‌ছি।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে প্রেমিকের হাতে নারী খুন
পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ
ঈদে বাড়ি যেতে দেরি হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা
কুমিল্লায় অপহরণের পর যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান আটক
সর্বহারা নেতা রাজ্জাক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A youth was killed in a clash between the A League parties in Munshiganj

মুন্সীগঞ্জে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত

মুন্সীগঞ্জে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত সংঘর্ষের পর ওই গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। কোলাজ: নিউজবাংলা
ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে একটি পাইপ গান, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও ৭টি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সদরের ছোট মোল্লাকান্দি গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে পুলিশ গ্রামটিতে অভিযান চালায়।

এর আগে এদিন ভোরে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. ফয়সালের বিপ্লবের অনুসারী আহম্মেদ আলী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের অনুসারী মো. মামুনের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে।

এতে পারভেজ খান নামের ২০ বছর বয়সী এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান জানান, পুলিশের অভিযানে একটি পাইপ গান, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও ৭টি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিত্যক্ত অবস্থায় ওইসব আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fugitive accused in Natore rape case arrested

নাটোরে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নাটোরে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার গ্রেপ্তারকৃত সাজিদ আলী। ছবি: র‌্যাব
র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর বিকেলে প্রতিবেশী সাজিদ আলী ভুক্তভোগীকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। পরে ঘরের দরোজা আটকে তাকে ধর্ষণ করেন তিনি।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সাজিদ আলী নামের ধর্ষণ মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শনিবার সকালে র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

২১ বছর বয়সী সাজিদ উপজেলার ডাকারমারিয়া এলাকার বাসিন্দা।

নাটোর র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক আবদুল্লাহ মওদুদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর বিকেলে প্রতিবেশী সাজিদ আলী ভুক্তভোগীকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। পরে ঘরের দরোজা আটকে তাকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করলে আসামি সাজিদ আত্মগোপনে চলে যান।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাবের সহযোগিতা চান। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সাজিদ আলীর অবস্থান শনাক্ত করেন।

শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মাল্লাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। পরে গ্রেপ্তারকৃত সাজিদকে বাগাতিপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত সেই বাবা মারা গেছেন
মাদারীপুরে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার
সর্বহারা নেতা রাজ্জাক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৫
বন কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার
বান্দরবানে কেএনএফের তিন সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৪

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hard stone Vishnu idol recovered in Munshiganj

মুন্সীগঞ্জে কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জে কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার ছবি: নিউজবাংলা
শনিবার সকাল দশটার দিকে রামপালের খানকা দালালপাড়া এলাকায় ফসলি জমির পাশে রাস্তা থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপালে এক কৃষকের কাছ থেকে প্রায় ৩৭ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মূর্তিটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

শনিবার সকাল দশটার দিকে রামপালের খানকা দালালপাড়া এলাকায় ফসলি জমির পাশে রাস্তা থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তিনদিন আগে ফসলি জমি থেকে মূর্তিটি পাওয়া গেলেও বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন ওই কৃষক।

জমির মালিক মো. রিপন জানান, গত ১০ এপ্রিল খানকা দালালপাড়া এলাকায় তাদের ফসলি জমিতে মাটি কাটার সময় কৃষক খোরশেদ ৬ ইঞ্চি গভীর থেকে মূর্তিটি দেখতে পেয়ে বাসায় নিয়ে যান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ভয়ে নিজেই পুলিশকে খবর দেন তিনি।

খোরশেদকে জমিটি বাৎসরিক ফিসের বিনিময়ে চাষাবাদের জন্য দেয়া হয়েছিলো বলেও জানান তিনি।

হাতিমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক এনামুল হক জানান, মূর্তিটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছে মূর্তিটি হস্তান্তর করা হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Schoolboy dies after falling from brick laden tractor

ইটবোঝাই ট্রাক্টর থেকে পড়ে যাওয়া স্কুলছাত্রের মৃত্যু

ইটবোঝাই ট্রাক্টর থেকে পড়ে যাওয়া স্কুলছাত্রের মৃত্যু ছবি: সংগৃহীত
নিহতের দুলাভাই বিজয় অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিবেশি হাবিবুল্লাহ টাকার লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাকে একপ্রকার জোর করে ডেকে নিয়ে যায়। বুধবার সকাল ৮টায় দুর্ঘটনা ঘটলেও হেদায়েত উল্লাহ বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন।’

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ইটবোঝাই ট্রাক থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মাদ আলীর ১৪ বছরের ছেলে মেহেদী হাসান মৃদুল।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

স্থানীয় ও মৃদুলের স্বজনরা জানান, সে কালিকাপ্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১০ এপ্রিল প্রতিবেশি ট্রাক্টর মালিক হাবিবুল্লাহর ভাই হেদায়েত উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি মৃদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে জেলার কুলিয়ারচর উসমানপুর এলাকায় ট্রাক্টর থেকে পড়ে গিয়ে গুরুত্বর আহত হয় সে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

নিহতের দুলাভাই বিজয় অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিবেশি হাবিবুল্লাহ টাকার লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাকে একপ্রকার জোর করে ডেকে নিয়ে যায়। বুধবার সকাল ৮টায় দুর্ঘটনা ঘটলেও হেদায়েত উল্লাহ বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন। এরপর বেলা ১২টায় অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা বাজিতপুর হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে ডাক্তার তাকে ঢাকায় প্রেরণ করে। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়।’

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানা ওসি মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়তদন্ত শেষে ভৈরবে আনতে বলা হয়েছে। এই বিষয়ে নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে পিটুনিতে আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু
নওগাঁয় অতিরিক্ত মদ পানে তিন বন্ধুর মৃত্যু: চিকিৎসক
গুলশানে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় ইউনাইটেড হাসপাতালের কর্মী নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Woman killed by lover in Panchgarh

পঞ্চগড়ে প্রেমিকের হাতে নারী খুন

পঞ্চগড়ে প্রেমিকের হাতে নারী খুন ফাইল ছবি
শাহনাজের স্বামী মজিদ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকতেন। বছর দুয়েক আগে প্রতিবেশী রাজুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শাহনাজ। একসময় অজানা কারণে তাদের প্রেম ভেঙ্গে যায়।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রেমিকের হাতে শাহনাজ পারভীন নামে এক নারী খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই সন্তানের মা ওই নারীকে হত্যার পর ওই যুবক পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ঈদের সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের মতিয়ারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

২৫ বছর বয়সী শহনাজ পরভীন ওই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী। এ দম্পতির ঘরে ৬ বছরের একটি মেয়ে ও একটি ৪ মাস বয়সী এক সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, শাহনাজের স্বামী মজিদ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকতেন। বছর দুয়েক আগে প্রতিবেশী রাজুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শাহনাজ। একসময় অজানা কারণে তাদের প্রেম ভেঙ্গে যায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহে গেলে আগে থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঁৎ পেতে থাকা রাজু শাহনাজের বাড়িতে যান। সেখানে শাহনাজের বড় মেয়ের সামনেই শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গলা কেটে শুহনাজের মৃত্যু হয়।

এদিকে শিশুটির কান্না ও চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে শাহনাজের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাকত রাজুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে একইসঙ্গে আইনগত বিষয়ও প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ
ঈদে বাড়ি যেতে দেরি হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Case in Sadarghat 5 deaths

সদরঘাটে ৫ প্রাণহানির ঘটনায় মামলা

সদরঘাটে ৫ প্রাণহানির ঘটনায় মামলা সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে দুই লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লেগে রশি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্মপরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলা করেছেন।

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে দুই লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লেগে রশি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্মপরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলা করেছেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন অর-রশিদ।
তিনি জানান, দুই লঞ্চের মাষ্টার ও ম্যানেজারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অবহেলাজনিত বেপরোয়া গতিতে লঞ্চ চালানোর কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওসি জানান, এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই পাঁচজনকে আটক করা হয়। এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাষ্টার (চালক) আব্দুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাষ্টার (চালক) সেলিম হাওলাদার (৫৪), ম্যানেজার ফারুক খান (৭০), এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাষ্টার (চালক) মিজানুর রহমান (৪৮), দ্বিতীয় শ্রেণির মাষ্টার (চালক) মনিরুজ্জামান (২৮)।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। ঢাকা নদী বন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ইসমাইল হোসাইন বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ২টা ৫৫ মিনিটে সদরঘাট টার্মিনালের ১১ নম্বর পল্টুনে এমভি তাসরিফ-৪ নোঙর করে থাকা অবস্থায় এমভি ফারহান-৬ এর চালক বেপরোয়া গতিতে লঞ্চ চালিয়ে ১১ নম্বর পন্টুনে ঢোকার সময় তাসরিফ লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। এতে তাসরিফ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়। সেটি দ্রুত গতিতে এসে পন্টুনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের আঘাত করলে তারা নদীতে পড়ে যায়। এতে এক পরিবারের তিনজনসহ ৫ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফারহান এবং তাসরিফ লঞ্চের দায়িত্ব অবহেলা আছে।

মিডফোর্ড হাসপাতালে লাশের সুরতহালের দায়িত্বে থাকা সদরঘাট নৌ থানার এসআই কুমারেশ ঘোষ জানান, এক লঞ্চকে আরেক লঞ্চ ধাক্কা দেয়। ওই ধাক্কায় লঞ্চের মোটা রশি ছিঁড়ে মানুষের গায়ে ধাক্কা লেগেছে। আর এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ফারহান-৬ লঞ্চটি জোরে পার্কিং করতে যাওয়ায় তাসরিফের রশি ছিঁড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। এ দুর্ঘটনার পর এমভি ফারহান ও এমভি টিপুর যাত্রা বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ১১ নম্বর পন্টুনের সামনে ঢাকা থেকে ভোলাগামী এমভি তাশরিফ-৪ ও এমভি টিপু-১৩ নামে দুটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে নোঙর করা ছিল। লঞ্চ দুটির মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় এম ভি ফারহান-৬ লঞ্চটি এম ভি টিপু-১৩ কে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে এম ভি টিপু-১৩ ধাক্কা দেয় এম ভি তাসরিফ-৪-কে। এ সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়।

ছিঁড়ে যাওয়া সেই দড়িটিই পন্টুনের আশপাশে থাকা পাঁচজনকে সজোরে আঘাত করে। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন- পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মাটিচোরা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬), তাদের মেয়ে সাইমা (৩)। তারা তিনজন একই পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন হলেন পটুয়াখালী সদরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রিপন হাওলাদার (৩৮) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ কাফীর ছেলে রবিউল (১৯)।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএর ক্রয় ও সংরক্ষণ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম কমিটির আহ্বায়ক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আজগর আলী এবং বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন কমিটির সদস্য।

কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ হতে প্রতি মৃত ব্যক্তির নমিনির কাছে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হওয়া ৪ কিশোরের প্রাণ গেল সড়কে
সদরঘাটে দুর্ঘটনা: দুই লঞ্চের মাস্টার ম্যানেজারসহ পাঁচজন আটক
সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি, দুই লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল

মন্তব্য

p
উপরে