× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Traditional boating on Jabai Bill
google_news print-icon

জবই বিলের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

জবই-বিলের-ঐতিহ্যবাহী-নৌকাবাইচ
জবই বিলে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। ছবি: নিউজবাংলা
নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জবই বিল কেন্দ্রীক পর্যটন বিকাশে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিনিয়ত বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এরই একটি অংশ জবই বিলে নৌকাবাইচ। এই প্রতিযোগীতা আয়োজন করায় আবহমান বাংলার চিরায়ত চিত্র ধরে রাখার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে জবই বিল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করছি। এতে স্থানীয়দের জীবন জীবিকায় পরিবর্তন আসবে যদি আমরা এর মান বজায় রেখে এ ধারা বজায় রাখতে পারি।’

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার জবই বিল। বিলের দুই পাড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হাজারও মানুষের ঢল। থেমে থেমে হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছে নদীর চারপাশ।

বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝি-মাল্লাদের কণ্ঠের কোরাস ‘হেইও রে, হেইও’ শোনা যাচ্ছে একটু পর পর। একেকটি নৌকা ছুটে চললেই হর্ষধ্বনি দিয়ে দলগুলোকে উৎসাহিত করছেন দর্শকরা।

এভাবেই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগীতা।

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের আয়জনে হয় এই নৌকাবাইচ। এতে অংশ নেয় নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশেপাশের ছোট-বড় ৮টি নৌকা।

জবই বিলের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

নৌকাবাইচের এমন আয়োজন দেখতে গিয়ে দেখা যায়, আয়োজন উপভোগ করতে তিব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে দুপুরের পর থেকেই ভির জমতে শুরু করে জবই বিলের চারপাশে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জবই বিলের মাহিল প্রান্ত থেকে নৌকাবাইচ শুরু হয়ে মাছ চত্বর এলাকায় শেষ হয়।

নৌকাবাইচের দূরত্ব ছিল প্রায় ১ কিলোমিটার। এ সময় বিলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার দুই পাশে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল দেখার মতো। নৌকাবাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীদের আনন্দ-উল্লাসে মুখরিত হয়ে ছিল বিলের চারপাশ।

এ সময় প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কয়েকজন নৌকাবাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীর।

দর্শনার্থী মমিন হোসেন বলেন, ‘বাইচ দেখতে আমি দুপুর ২টার মধ্যে এখানে এসেছি। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শুরু হয়েছে নৌকাবাইচ। বাইচ দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি।’

প্রতি বছর এমন আয়োজন করার আহ্বান জানিয়ে দর্শনার্থী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার জীবনে প্রথম নৌকাবাইচ দেখতে এসেছি। নৌকাবাইচ দেখে দারুণ আনন্দ পেয়েছি।’

নওগাঁ শহর থেকে নৌকাবাইচ দেখতে আসা সুমন আলী বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নৌকাবাইচ উৎসবের কথা জেনে এখানে এসেছি বন্ধুদের সঙ্গে। এসে খুব ভালো লাগছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ এখন বিলুপ্তির পথে, আশা করছি এখানে অন্তত এ ঐতিহ্য ধরে রাখবেন স্থানীয়রা।’

জবই বিলের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জবই বিল কেন্দ্রীক পর্যটন বিকাশে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিনিয়ত বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এরই একটি অংশ জবই বিলে নৌকাবাইচ। এই প্রতিযোগীতা আয়োজন করায় আবহমান বাংলার চিরায়ত চিত্র ধরে রাখার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে জবই বিল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করছি। এতে স্থানীয়দের জীবন জীবিকায় পরিবর্তন আসবে যদি আমরা এর মান বজায় রেখে এ ধারা বজায় রাখতে পারি।’

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ধরে রাখতে ও জবই বিলের ইতিহাস-ঐতিহ্যর ধারা বজায় রাখার একটি অংশ এই নৌকাবাইচ। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মাঝে যেন প্রাণ ফিরে আসে।’

আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই ধরনের আয়োজন করা হবে বলে জানান এ মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
বর্ণি বাওড়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ
নৌকাবাইচ দেখতে কুমার নদের দুই পাড়ে হাজারো মানুষ
এমপি-মেয়র দ্বন্দ্ব মাঠ থেকে গড়াল নদীতে
বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখরিত দুই পাড়
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The Dogs of Khalishapur and Rakibs thesis is a fresh idea

‘খলিশাপুরের কুকুরগুলো ও রকিবের থিসিস’ একটি নতুন ভাবনা

‘খলিশাপুরের কুকুরগুলো ও রকিবের থিসিস’ একটি নতুন ভাবনা
লেখক চমৎকার বইটিতে নানা অণুগল্পের মধ্য দিয়ে ওই সব ভয়ঙ্কর কুকুর-মানবদের চরিত্র পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন।

সাংবাদিক মুস্তফা মনওয়ার সুজনের ‘খলিশাপুরের কুকুরগুলো ও রকিবের থিসিস’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা পাঠকদের সামনে তুলে ধরার খুব ইচ্ছা থেকেই লিখতে বসা। লেখকের সঙ্গে যোগাযোগে সুবাদে বইটি লেখার শুরুর আগেই আলোচনা এবং পরে পান্ডুলিপি থেকেই পড়ার সুযোগ হয়েছে। এতে আমাদের প্রত্যেকের জীবনের চিরন্তন সত্য কিছু ঘটনা উপস্থাপন করেছেন লেখক।

বইটি না পড়লে বা না ধরলে আসলে চমৎকার কিছু বিষয় জানা থেকে পাঠকরা বঞ্চিত হবেন। আমি মনে করি, বইটি সবারই পড়া উচিত।

আমরা যদি বইমেলা থেকে সবসময় শুধু বিখ্যাত লেখকদের বই কিনি আর পড়ি, তাহলে এতসব অসাধারণ লেখাগুলো অজানাই থেকে যাবে। নতুন লেখক বা আরেকজন হুমায়ুন আজাদ কিংবা হুমায়ূন আহমেদ অথবা তার চেয়ে বেশি কেউ সৃষ্টি হবে না।

তবে নিশ্চয়ই বলছি না, বিখ্যাত লেখকদের বই কেউ পড়বেন না। অবশ্যই কিনবেন এবং পড়বেন। পাশাপাশি নতুন লেখকদের ভালো ভালো বইগুলোও স্পর্শ করতে হবে, দেখতে হবে ভেতরে কী আছে। তবেই তারা লিখতে উৎসাহ পাবেন, নাহলে তো আর লেখক সৃষ্টি হবে না।

সাংবাদিক মুস্তফা মনওয়ার সুজনের খলিশাপুরের কুকুরগুলো ও রকিবের থিসিস বইটি পড়ে মনে হয়েছে, এটি পড়ে পাঠক মজা পাবেন এবং ভাববেন।

বইটিতে লেখক যা বলতে চেয়েছেন তা অনেকটা এরকম- আমরা প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত। এরমধ্যে কিছু মানুষ থাকে মুখোশ পরা, মুখোশটা মুখের সেঙ্গ খুব কৌশলে নিখুঁতভাবে মেশানো, সহজে দেখা যায় না। চারপাশটা ঘিরে তাদের বিচরণ। আমরা খুব বেশি খেয়াল না করলে বুঝতে পারি না, এদের ভেতর হিংস্র এক কুকুরের বাস। তারা প্রতি মুহূর্তে বন্ধুবেশে মানুষের চরম ক্ষতি করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে; অনেকটা অজগর সাপের মতো।

এ প্রসঙ্গে আমার বন্ধু শারমিন মিলির একটি গল্প বলি। গল্পটি এরকম- এক লোক একটি অজগর সাপ পোষেন। তো এক পর্যায়ে দেখা গেল, অজগরটি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সাপের মালিক বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। তিনি চিকিৎসককে জানালেন, সাপটি এরকম ছিল না, তাকে খুবই ভালোবাসত, সবসময় তাকে জড়িয়ে ধরে থাকত, কিন্তু এখন যেন কেমন হয়ে গেছে! তখন চিকিৎসক হেসে বলেন, সাপটি আসলে তাকে কখনোই ভালোবাসেনি। সারাক্ষণ যে জড়িয়ে থাকত, সেটি আসলে প্রতি মুহূর্তে সে দেখত- তিনি সাপটির খাওয়ার উপযোগী হয়েছেন কি না। বইটি অজগরের গল্প বার বার মনে করিয়ে দিয়েছে।

লেখক চমৎকার বইটিতে নানা অণুগল্পের মধ্য দিয়ে ওই সব ভয়ঙ্কর কুকুর-মানবদের চরিত্র পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। উপন্যাসটিতে রকিব, অংকন, কেয়া, ফাহমিদাসহ বেশ কিছু চরিত্র দাঁড়িয়েছে, সেসব বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্র। উপন্যাসটি পড়ে বারবার মনে হয়েছে- চরিত্র সৃষ্টির নয়া কারিগরের আবির্ভাব হলো।

আমি হলফ করে বলতে পারি, ‘খলিশাপুরের কুকুরগুলো ও রকিবের থিসিস’ পড়লে পাঠকের অবশ্যই অনেক ভালো লাগবে। বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক রকম আকর্ষণ বা মাদকতা আছে। অসাধারণ এক কাহিনী। আমি পাঠক হিসেবে, আহ্বান জানাই- পাঠকরা যেনো বইমেলায় গিয়ে মনোবৈজ্ঞানিক উপন্যাসটি সংগ্রহ করেন এবং সময় নিয়ে বইটি পড়েন।

‘খলিশাপুরের কুকুরগুলো ও রকিবের থিসিস’-এর প্রকাশক বেহুলা বাংলা। অমর একুশে বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ২২৪ নম্বর স্টলে গেলেই মিলবে, এছাড়া রকমারি তো আছেই।

লেখক: সাংবাদিক

আরও পড়ুন:
ফটোগ্রাফি নিয়ে ভিন্নধর্মী বই ‘বিখ্যাত ছবির পেছনের গল্প’
বইমেলায় মীরাক্কেল খ্যাত রাশেদের ‘ফিলিং চিলিং’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rain attack at book fair

বইমেলায় বৃষ্টির হানা

বইমেলায় বৃষ্টির হানা হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন বইমেলার বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
মেলার প্রথম দিন থেকেই লেখকবৃন্দ বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হওয়া তাদের বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করে চলছেন। বৃহস্পতিবার ২২তম দিন পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৪০৭টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতা, উপন্যাস আর গল্পের বই।

বসন্তের শুরুতেই রাজধানীতে হয়েছে ঝুম বৃষ্টি। এর প্রভাব পড়েছে বইমেলায়ও। অবশ্য বৃষ্টি বেশিক্ষণ স্থায়ী না হওয়ায় তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি প্রকাশক এবং পাঠকদের।

অল্প সময়ের বৃষ্টিতে মেলায় বেশ কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও বইয়ের উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি কায়সার হোসেন মামুন বলেন, ‘বৃষ্টি হয়েছে একবার, কিন্তু আমাদের বই গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে দুইবার। মেঘ এমনভাবে জমেছে যেন মনে হচ্ছে তখনই বৃষ্টি চলে আসবে। এই মেঘ দেখে একবার, আরেকবার বৃষ্টি শুরু হলে বই গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে। তবে বইগুলোর কভার ভালো হওয়াতে বৃষ্টির কারণে কোনো বইয়ের ক্ষতি হয়নি।’

বৃষ্টি সময় মেলা ঘুরে বেশ কয়েকটি স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের বই গুটিয়ে ভেতরে বসে থাকতে দেখা যায়। কথা হলে তারা জানান, স্টল যিনি তৈরি করেছেন, তিনি ভালো করে করেননি। বৃষ্টির পর ছাদ চুইয়ে পানি নিচে পড়ছে। তাই বাধ্য হয়েই বই গুটিয়ে তাদের বসে থাকতে হচ্ছে।

মেলার ২২তম দিনে নতুন বই ৭৮টি

বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হয় বিকেল তিনটায় এবং চলে রাত নয়টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ৭৮টি।

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: আসাদ চৌধুরী’ এবং ‘স্মরণ: জাহিদুল হক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে মাহমুদা আকতার এবং কামরুল হাসান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দিলারা হাফিজ, বায়তুল্লাহ কাদেরী এবং মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মুহম্মদ সামাদ।

প্রাবন্ধিকরা বলেন, কবি আসাদ চৌধুরী ষাটের দশকের বাস্তবতায় একজন ঐতিহ্যমগ্ন কবি। তার কবিতায় জাতীয়তা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার-চেতনা নান্দনিক সৌকর্যে প্রতিভাত হয়েছে। যার ফলে তার কবিতার মাঝে শৈল্পিক বোধের সঙ্গে স্বজাতির প্রতি সুগভীর ভালোবাসা মূর্ত হয়ে উঠেছে।

বইমেলায় বৃষ্টির হানা
বৃষ্টিতে জবুথবু বইমেলার একটি স্টল। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচকবৃন্দ বলেন, সদাবিনয়ী, মিষ্টভাষী কবি আসাদ চৌধুরী গণমানুষের কবি। বাহান্নর চেতনাকে বুকে ধারণ করে স্বদেশের প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তিনি দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতিকে চিত্রিত করেছেন তার কবিতায়।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহম্মদ সামাদ বলেন, ‘কবি আসাদ চৌধুরী ও জাহিদুল হক তাদের কবিতার মধ্য দিয়ে মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি, ভাষার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাই তাদের কবিতা গণমানুষের ভাষ্য হয়ে উঠেছে।’

এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি শিহাব সরকার, শিশুসাহিত্যিক তপংকর চক্রবর্তী, গবেষক হোসনে আরা এবং কথাসাহিত্যিক মিলটন রহমান।

মেলায় নতুন কবিতা, গল্প ও উপন্যাসের সংখ্যা বেশি

মেলার প্রথম দিন থেকেই লেখকবৃন্দ বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হওয়া তাদের বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করে চলছেন। বৃহস্পতিবার ২২তম দিন পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৪০৭টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতা, উপন্যাস আর গল্পের বই।

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেলার দ্বিতীয় দিন থেকে ২২তম দিন পর্যন্ত কবিতার বই এসেছে ৭০৪টি, উপন্যাসের বই এসেছে ৩৬৪টি এবং গল্পের বই এসেছে ২৯৬টি।

বেশ কিছু প্রবন্ধ, ভ্রমণের বই, অনুবাদগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ইতিহাসের, মুক্তিযুদ্ধ, গবেষণাধর্মী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাজনীতি, রচনাসমগ্র, শিশুসাহিত্য আর ধর্মের ওপর বই তো আছেই।

কবিতা, উপন্যাস ও গল্পের বই বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নতুন লেখকরা তাদের লেখালেখি শুরুই করেন মূলত কবিতা, গল্প আর উপন্যাস দিয়ে। এটি এসব বই বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ।

‘তবে আমি এই বছর বুঝেছি, বিষয়ভিত্তিক বইগুলোর ভালো চাহিদা। তাই তরুণ লেখকদের জন্য আমাদের পরামর্শ থাকবে, তারা যেন এসব বই নিয়েও লিখেন।’

বইমেলায় বৃষ্টির হানা
ছবি: ফোকাস বাংলা

উপন্যাসের ওপর উল্লেখযোগ্য বইসমূহ হলো- সাব্বির জাদিদ লিখিত আজাদীর সন্তান, বইটি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখিত পরিণীতা, দেবদাস এবং পল্লিসমাজ, বই তিনটি পুনরায় প্রকাশ করেছে মিজান পাবলিশার্স। সাদাত হোসাইন লিখিত আগুনডানা মেয়ে, বইটি প্রকাশ করেছ অন্যপ্রকাশ।

প্রবন্ধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মোহাম্মদ নুরুল হুদা লিখিত সংস্কৃতি ও সদাচার, পাঠক সমাবেশ প্রকাশিত স্বকৃত নোমান লিখিত বাংলায় ইসলাম: সহজিয়া ও রক্ষণশীল ধারা, অন্যপ্রকাশ প্রকাশিত আবুল কাসেম লিখিত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক অর্থনীতি।

কবিতার উল্লেখযোগ্য বইসমূহ হলো- আগামী প্রকাশনী প্রকাশিত শামসুর রাহমানের প্রেমের কবিতা, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ প্রকাশিত তানজীনা ফেরদৌস লিখিত প্রেমের হুলিয়া জারি হোক তোমার নামে, আসাদ চৌধুরী লিখিত ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত একাত্তরের ৭১ কবিতা।

মুক্তিযুদ্ধের ওপর উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো- সুজন বড়ুয়া লিখিত মুক্তিযুদ্ধের কিশোর উপন্যাসসমগ্র, রফিকুর রশীদ লিখিত মুক্তিযুদ্ধের গল্পসমগ্র, আরেফিন বাদল লিখিত এই যুদ্ধ সেই যুদ্ধ: মুক্তিযুদ্ধের গল্প এবং ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম লিখিত মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর বগুড়া। ড. নুসরাত রাব্বি অনূদিত War Heroines Speak বইটি প্রকাশ করেছে শ্রাবণ প্রকাশনী।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আজিজুর রহমান আজিজের লিখা অন্তরে বঙ্গবন্ধু বইটিও প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী।

ভাষা আন্দোলনের ওপর পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত লেখক-গবেষক বদরুদ্দোজা হারুনের লেখা ‘ভাষাশহিদ আবুল বরকত: নেপথ্যকথা’, প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীর অমর একুশ বিষয়ক স্মৃতি ও ভাবনার সংকলন ‘একুশের স্মৃতি ও ভাবনা’, প্রথমা থেকে প্রকাশিত ভাষা সৈনিক মর্তুজা বশীরের লেখা ‘একুশের লেখা, একুশের আঁকা’ এবং ঝিঙেফুল থেকে প্রকাশিত গাজী হানিফের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ বইগুলো উল্লেখযোগ্য।

জীবনীগ্রন্থের মধ্যে শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান লিখিত বিজয় প্রকাশ থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুলের কারাজীবন, অনুপম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আবদুল্লাহ আল-মুতীর স্মৃতিকথা ও সাগরপারের চিঠি, পাঠক সমাবেশ থেকে প্রকাশিত আবদুল মমিন চৌধুরী/সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শত মনীষীর জীবনী।

বইমেলায় বৃষ্টির হানা
ছবি: ফেকাস বাংলা

ইতিহাসের মধ্যে কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত জাহীদ রেজা নূরের ৬ দফা থেকে স্বাধিকার, জ্যোতি প্রকাশ থেকে প্রকাশিত মো. রফিকুল হক আখন্দের বিশ্বজুড়ে আখন্দ বংশ। আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ড. মুকিদ চৌধুরীর জার্মানি: অতীত ও বর্তমান উল্লেখযোগ্য।

রাজনীতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য বই পুথিনিলয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আতিউর রহমানের বাংলাদেশ নেতৃত্বের পরম্পরা ও উন্নয়ন। ভ্রমণবিষয়ক উল্লেখযোগ্য বই অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হাসনাত আবদুল হাইয়ের একদা সোভিয়েত ইউনিয়নে, ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত আশির আহমেদের জাপান কাহিনি (দশম খণ্ড)।

গবেষণাধর্মী বইয়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের দৈনিক ঘটনালিপির ওপর লিখা বই ‘একাত্তরের দিনপঞ্জি’, বিরূপাক্ষ পালের ‘বাংলাদেশের অর্থ খাত ও নীতি-অনীতির দ্বন্দ’, আনু মুহাম্মদের ‘অর্থশাস্ত্র’ উল্লেখযোগ্য।

অনুবাদগ্রন্থের মধ্যে ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত মুমিত আল রশিদের মাজার শরিফ-এর আর্তনাদ এবং কিংডম অফ সোলায়মান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কবি সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথার অনুবাদ 1971: A Dairy, রিজিয়া রহমানের উপন্যাসের অনুবাদ An Untold Story এবং সেলিনা হোসেনের উপন্যাসের অনুবাদ The Glorious Afternoon উল্লেখযোগ্য।

শুক্রবারের আয়োজন

শুক্রবার মেলা শুরু হবে সকাল এগারোটায় এবং চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। সকাল এগারোটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর।

সকাল সাড়ে দশটায় বইমেলার মূলমঞ্চে রয়েছে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।

এ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এ এফ এম হায়াতুল্লাহ।

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: আখতারুজ্জামান ইলিয়াস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মামুন হুসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ওয়াসি আহমেদ এবং জাফর আহমদ রাশেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Earlier there was an uproar among teachers at Shaheed Minar after giving flowers

আগে ফুল দেয়া নিয়ে শহীদ মিনারে কুবি শিক্ষকদের হট্টগোল

আগে ফুল দেয়া নিয়ে শহীদ মিনারে কুবি শিক্ষকদের হট্টগোল শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার মাঝে হট্টগোলে জড়ান কুবি শিক্ষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। এরপর শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ছাত্রলীগ, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি ফুল দেয়। তারপর কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িকে ফুল দেয়ার অনুরোধ জানান উপস্থাপক। এতেই হট্টগোল বাঁধান শিক্ষক সমিতির নেতারা।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে হট্টগোল করেছেন শিক্ষক নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। এরপর শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ছাত্রলীগ, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি ফুল দেয়। তারপর কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িকে ফুল দেয়ার অনুরোধ জানান উপস্থাপক নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অমিত দত্ত। এতেই হট্টগোল বাঁধান শিক্ষক সমিতির নেতারা।

এ সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এসে প্রথমে অমিত দত্তের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বাকি থাকার পরও পুলিশকে ফুল দিতে অনুমতি দেয়ার কারণ জানতে চান এবং পরবর্তীতে একই প্রশ্ন রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের কাছে।

অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা ফুল দেয় নাই, আবাসিক হল ও বিভাগগুলোও ফুল দেয় নাই। এটা কোন ধরনের কালচার? তারা (পুলিশ) অবশ্যই ফুল দেবেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ফুল দেবেন।’

অপরদিক থেকে অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন আঙুল তুলে বলেন, ‘এই আয়োজনের আহ্বায়ক কে? ওরে কান ধরে উঠবস করাও।’

এরপর তিনি অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘আপনি হলের প্রভোস্ট ছিলেন না? আপনার লজ্জা করে না? আপনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।’

এরপর কুবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান বলেন, ‘আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অপমান করে বাইরের সংগঠনকে আনবেন। তারপর দোকান মালিক সমিতিকে আনবেন, ভূমিদস্যু আনবেন- এইসব আপনাদের কাজ? এইসব করার জন্য আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন? আপনাকে যদি কেউ নির্দেশ দিয়ে থাকে তাহলে তার নাম বলতে হবে।’

তখন আবার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘প্রক্টর কোথায়? প্রক্টর বিষয়টা এড়াতে পারেন না।’

এরপর অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই তাদের আগে দিতে রাজি হইনি।’

আহ্বায়কের এই কথা শুনে তখন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষকের মুখ থেকে শুনতে পাওয়া যায়, ‘তাহলে কার নির্দেশে এটা হয়েছে? আপনি কার নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অপমান করেছেন? এটা সবার সামনে বলতে হবে।’

প্রত্যুত্তরে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আর তর্ক না করি। বিভাগ এবং হলগুলোর আগে তাদের (পুলিশ ফাঁড়ি) ফুল দেয়ার বিষয়ে আমাদের প্রশাসনিকভাবে ভুল হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব। এই মুহূর্তে এখানে এটা আলোচনার বিষয় নয়।’

এদিকে হট্টগোলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চের এক পাশে উপাচার্য ও প্রক্টর বসে আছেন। পাশে ছিলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মিজানুর রহমান।

একপর্যায়ে নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির নেতারা চারপাশে ঘিরে ধরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা জানতে চান, হলের ছাত্ররা আগে ফুল না দিয়ে কেন পুলিশকে সুযোগ দেয়া হলো? এ ঘটনায় উত্তেজিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবু তাহের অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ককে ক্ষমা চাইতে বলেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানকেও আঙ্গুল নাড়িয়ে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায় ভিডিওতে। উত্তেজিত দেখা যায় সমিতির সহ-সভাপতি কাজী মো. কামাল উদ্দিনকেও।

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বড় বড় কর্মকর্তা আছেন, হলের ছাত্ররা আছেন। বিষয়টি শিক্ষক-ছাত্ররা আমাকে জানালে আমি নিজেও সামান্য উত্তেজিত হই।’

অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ সবসময় ডিউটিতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করে। তাই তাদের এক ফাঁকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও এমন কিছু লেখা নেই যে, পুলিশ আগে ফুল দিতে পারবে না। তারা ফুল দিয়ে ডিউটিতে চলে যেতেন। তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Crowds at the book fair energized by the spirit of twenty one

একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত

একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত ছবি: নিউজবাংলা
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হাজার মানুষ আসেন। যারাই শহীদ মিনারে গিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই প্রাণের মেলায় ঢুঁ মেরেছেন। স্টল-প্যাভিলিয়নে ঘুরেছেন, বই দেখেছেন এবং কিনেছেনও।

এ যেন মানুষের স্রোত। যেদিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। এতো মানুষ একদিনে বইমেলায় এবার আর কোনো দিনই দেখা যায়নি। অবশ্য এই দিনটির জন্যই তো প্রাণের মেলা। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি বলেই এদিন মেলা প্রাঙ্গণে সবচেয়ে বেশি পাঠক-দর্শনার্থী তথা বইপ্রেমীদের উপস্থিতি হয়ে থাকে। বুধবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

সকাল ৮টায় মেলার দ্বার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পাঠকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হাজার মানুষ আসেন। যারাই শহীদ মিনারে গিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই প্রাণের মেলায় ঢুঁ মেরেছেন। স্টল-প্যাভিলিয়নে ঘুরেছেন, বই দেখেছেন এবং কিনেছেনও।

এদিন মেলার বেশি পাঠক ঢাকার বাইরের বলে প্রকাশক ও বিক্রয়প্রতিনিধিরা জানান। কেননা, শহীদ মিনারে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নানান অঙ্গ-সংগঠনের মানুষজন ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যায়। ফলে এ দিন মেলায় এসে তারা পছন্দের লেখকের বই দেখেন এবং কিনেনও।

একুশ মানে বাঙালির ইতিহাসে একই সঙ্গে শোক আবার গৌরবের দিনও। তাই তো এদিনে বইয়ের মেলায় চেতনাসমৃদ্ধ এক অধ্যায়ও বলা যায়। এদিন মেলায় যে সংখ্যক মানুষ দেখা গেছে, সেই তুলনায় বই কেনার মানুষ না বলেও কেউ কেউ উল্লেখ করেন। চারুলিপি প্রকাশনীর ম্যানেজার মাসুম পারভেজ বলেন, ‘মেলায় দর্শনার্থী অনেক কিন্তু ক্রেতা কম। অনেকেই আসছেন বই দেখছেন, পড়ছেন, ছবি তুলছেন কিন্তু আলটিমেটলি কিনছেন না। এটা আমাদের জন্য তো দুঃখজনক বটেই, পাশাপাশি লেখক এবং সংশ্লিষ্টদের জন্যও নেতিবাচক একটা বার্তা।’

তবে ভিন্ন কথাও বলেছেন কেউ কেউ। অন্বেষা প্রকাশনীর শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘বইমেলায় যারাই আসবেন, তারাই যে বই কিনবেন এমনটা না। তবে এই যে বইমেলাকে মাথায় রেখে সবাই আসছেন এটা কিন্তু মেলার জন্য একটা ইতিবাচক দিক।’

মেলায় প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশু প্রহর হওয়ায় ওই সময়ে সিসিমপুরের পরিবেশনা থাকে। তবে শুক্র-শনিবারের বাইরে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মেলাপ্রাঙ্গণে সিসিমপুর লাইভ শো অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সিসিমপুরের প্রিয় চরিত্র টুকটুকি, হালুম, শিকু, ইকরি উপস্থিত ছিল।

মেলায় ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বেড়েছে আজ। অন্যদিনের তুলনায় এদিন বিক্রি বেশি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা। এদিন অনেকেই বাংলা ভাষা, ভাষা সাহিত্য ও গবেষণামূলক বই কেনার জন্য বিভিন্ন স্টলে গিয়েছেন বলেও কোনো কোনো প্রকাশনার বিক্রয়প্রতিনিধিরা জানান। তবে অনেক পাঠক এই বিষয়ের ওপর বই পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে গাজীপুর থেকে আসা একজন শিক্ষক বলেন, ‘মেলায় বাংলা ভাষা তথা ভাষা সাহিত্যের ওপর লেখা বই খুব কম। তরুণ প্রজন্মকে আমাদের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানানোর জন্য গবেষণামূলক অনেক বই দরকার। এই বিষয়ে প্রকাশকরাই ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

আজ মেলা একুশের চেতনায় বেশ উজ্জীবিত দেখা গেছে। ছেলে-মেয়েদের পোশাকেও ছিল একুশের ছোঁয়া। কালো আর সাদা রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি কিংবা সালোয়ার-কামিজে তরুণ-তরুণীদের মেলামাঠে দেখতে বেশ প্রাণবন্ত আর উচ্ছ্বসিত দেখা গিয়েছিল। মেলাজুড়ে লেখক-পাঠক-দর্শনার্থী সবার সাজগোজেও প্রবলভাবে ফুটে উঠছে একুশের চেতনা। যেন এদিনে মেলায় আসতে পেরে নিজেদের ভিন্নভাবে জানান দিচ্ছিল পাঠকরা। বাংলা ভাষার গৌরবময় চেতনায় শামিল করেছেন নিজেদের। সব মিলিয়ে আজ একুশের দিন প্রাণের এই সাহিত্য মেলার ২৯ দিনের সেরা দিন একটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ থেকে জানায়, আজ মেলার ২১তম দিনে নতুন বই এসেছে ২৩৪টি। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করতে দিনভর নানান কর্মসূচি পালন করে বাংলা একাডেমি। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। স্বরচিত কবিতাপাঠে প্রায় ১৩৫ জন কবি কবিতা পাঠ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি শামীম আজাদ। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বক্তৃতা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. সরকার আমিন। আরও বক্তৃতা দেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. হাসান কবীর।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, শিশুসাহিত্যিক ওয়াসিফ এ খোদা, কথাসাহিত্যিক মাসউদ আহমাদ এবং শিশুসাহিত্যিক ইমরান পরশ।

আগামীকালকের বইমেলা

আগামীকাল বৃহস্পতিবার মেলার ২২তম দিনে দ্বার খুলবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: আসাদ চৌধুরী এবং স্মরণ: জাহিদুল হক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মাহমুদা আকতার এবং কামরুল হাসান। আলোচনায় অংশ নেবেন দিলারা হাফিজ, বায়তুল্লাহ কাদেরী, খালেদ হোসাইন এবং মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ড. মুহম্মদ সামাদ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
English banner procession on Mother Language Day in Barisal

মাতৃভাষা দিবসে ইংরেজি ব‌্যানারে শোভাযাত্রা, বরিশালে তোলপাড়

মাতৃভাষা দিবসে ইংরেজি ব‌্যানারে শোভাযাত্রা, বরিশালে তোলপাড় বুধবার সকালে ইংরেজিতে লেখা ব‌্যানার নিয়ে নগরীর কলেজ রোড থেকে প্রভাতফেরি নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ইংরেজি ভাষায় লেখা সংবলিত ব‌্যানার নিয়ে শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার চত্বরে পৌঁছানোর পর তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকে। জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এমন কাণ্ডে বিব্রত অভিভাবকরাও।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বরিশালে ইংরেজি ভাষায় লেখা ব‌্যানার নিয়ে শোভাযাত্রা করেছে নগরীর জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শোভাযাত্রা শেষে ওই ব‌্যানার নিয়েই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। তবে বিষয়টিকে ‘তুচ্ছ’ বলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকালে ইংরেজিতে লেখা ব‌্যানার নিয়ে নগরীর কলেজ রোড থেকে প্রভাতফেরি নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শহীদ মিনার চত্বরে পৌঁছানোর পর ইংরেজি ব‌্যানার দেখেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকে। জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত অভিভাবকরাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই অভিভাবক বলেন, ভোরে স্কুল প্রাঙ্গণে এসে ইংরেজিতে লেখা ব‌্যানার দেখেই আমরা বলেছি যে এটা ঠিক হয়নি। কেননা যে বাংলা ভাষার জন‌্য সংগ্রাম, সেই ভাষাকে একভাবে অপমান করা হয়েছে ইংরেজি ভাষায় লেখা ব‌্যানার দিয়ে প্রভাতফেরি করে।

তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলতে যার যার ভাষায় মানুষ ভাষাকে সম্মান দেবে। আমরা বাঙালি, আমাদের বাংলা ভাষার জন‌্য আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে। বাঙালি রক্ত দিয়েছে, কোনো ইংরেজ রক্ত দেননি। আমার ভাষার জন‌্য আন্দোলনের কারণেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি এসেছে। আর সেখানে আমার বাংলা ভাষাই উপেক্ষিত। এই কাজের মধ্যে দিয়ে স্কুলের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা প্রতীয়মান হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘মাতৃভাষা দিবসে এমন কাজ নিজের ভাষাকে অপমান করার শামিল। রাষ্ট্রকে অপমান করা হয়েছে এমন কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষার অপমান করে যারা, তারা নিজের মাকে অপমান করে। মূলত এসব স্কুল ব‌্যবসা করতে এসেছে। দেশের প্রতি এদের কোনো দায়িত্ব-কর্তব‌্য নেই।’

গবেষক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘শহীদ দিবস তো বাঙালি জাতির ত‌্যাগের দিন। বাংলা ভাষার জন‌্য কত মানুষ শহীদ হয়েছেন। ইংরেজি ব‌্যানার নিয়ে বাঙালিদের প্রভাতফেরি করা বাংলা ভাষাকে অপমান করার সমান।’

তিনি বলেন, ‘একজন ইংরেজি ভাষাভাষী যদি ইংরেজি অক্ষরে লেখা ব‌্যানার নিয়ে শহীদ মিনারে এসে তার মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানান, সেটা একটা বিষয়; কিন্তু যদি একজন বাংলাভাষী ইংরেজি ব‌্যানার নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন, তাহলে বাংলাকে অপমান করা এবং শহীদদের অমর্যাদা করা হয়।’

সুশাসনের জন‌্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘এটা বাঙালি জাতির সঙ্গে বেইমানি এবং ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। যারা শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন, তাদেরই উচিৎ ছিল ব‌্যানারটি ছিঁড়ে প্রতিবাদ করা। কারণ এই ভাষার জন‌্য আমরা রক্ত দিয়েছি।

‘যারা এই কাজটি করেছেন, তারা আমাদের ভাষার সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তাছাড়া ওই শোভাযাত্রাতে থাকা শিশু শিক্ষার্থীদের ওপরও এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়বে।’

তবে বিষয়টিকে তুচ্ছ দাবি করে জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম‌্যান সালেহ মাহামুদ শেলী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ভাষা তো ইংরেজি। তাই ইংরেজি ব‌্যানার নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A book on Prana Mela Inadequate Language Movement

প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই

প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই বইমেলায় পছন্দের বই খুঁজে চলেছেন এক পাঠক। ছবি: নিউজবাংলা
অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে চাই, কিন্তু এসব বিষয়ে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাণ্ডুলিপি পাই না। ভাষা আন্দোলনের ওপর পাণ্ডুলিপি নেই বললেই চলে।’

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া একুশে বইমেলা চলে ফেব্রুয়ারির পুরো মাসজুড়ে। এবারের বইমেলায় প্রতিদিন প্রায় শ’ খানেক বই প্রকাশিত হলেও যাদের আন্দোলন এবং রক্তের বিনিময়ে আমরা এই ভাষা পেয়েছি সেই ভাষা আন্দোলন এবং ভাষা শহীদদের নেয়া লেখা বই প্রকাশ হচ্ছে না বললেই চলে।

প্রকাশকেরা বলছেন, এসব বিষয়ে তারা বই প্রকাশে আগ্রহী, কিন্তু ভালো পাণ্ডুলিপি পাচ্ছেন না।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার মেলার ২০তম দিনে দুই হাজার ৯৫টি বই প্রকাশতি হলেও তার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ওপর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে মাত্র চারটি। এর মধ্যে দুইটি বই প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী, একটি বই প্রথমা প্রকাশনী এবং ঝিঙেফুল প্রকাশনী প্রকাশ করেছে আরেকটি বই। এছাড়া ভাষা আন্দোলনের ওপর আরও তিনটি বই মেলায় নিয়ে আসার কথা জানিয়েছে ঐতিহ্য।

বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মেলায় ভাষা আন্দোলনের ওপর আসা নতুন চারটি বই হলো- ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত লেখক-গবেষক বদরুদ্দোজা হারুনের লেখা ‘ভাষাশহিদ আবুল বরকত: নেপথ্যকথা’, প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীর অমর একুশ বিষয়ক স্মৃতি ও ভাবনার সংকলন ‘একুশের স্মৃতি ও ভাবনা’, প্রথমা থেকে প্রকাশিত ভাষা সৈনিক মর্তুজা বশীরের লেখা ‘একুশের লেখা, একুশের আঁকা’ এবং ঝিঙেফুল থেকে প্রকাশিত গাজী হানিফের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’।

একুশ নিয়ে লেখা বইয়ের অপ্রতুলতা নিয়ে আক্ষেপ ঝরল বিভিন্ন প্যাভিলিয়নের বিক্রয় প্রতিনিধিদের কণ্ঠেও।

বাংলা একাডেমির বিক্রয়কর্মী লাভলু আলম বলেন, ‘এ বছর ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা একাডেমির নতুন কোনো বই নেই। আগের বইগুলোই পুনরায় প্রিন্ট করা হচ্ছে।’

বাংলা একাডেমির স্টলঘুরে অমর একুশ নিয়ে কয়েকটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলো হচ্ছে- ড. সরকার আমিনের সম্পাদনায় ‘একুশের প্রবন্ধ ২০২৩’, সাজ্জাদ আরেফিনের সম্পাদনায় ‘একুশের কবিতা-পরিচয়’, জালাল ফিরোজের ‘অমর একুশে বইমেলার ইতিহাস’ ও আমিনুর রহমান সুলতানের ‘ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক’।

অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে চাই, কিন্তু এসব বিষয়ে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাণ্ডুলিপি পাই না। ভাষা আন্দোলনের ওপর পাণ্ডুলিপি নেই বললেই চলে।

‘অনেক বছর আগে হয়ত দুই একটা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণার অভাবে আমরা কোনো পাণ্ডুলিপি পাচ্ছি না। হয়ত গবেষকরা এসব বিষয়ে উৎসাহ পাচ্ছেন না অথবা বিভিন্ন কারণে লিখছেন না। এসব কারণে আমরা এ বিষয়ে কোনো বইও প্রকাশ করতে পারছি না।’

তিনি বলেন, “প্রতিবছরই আমাদের ইচ্ছা থাকে ভাষা আন্দোলনের ওপর কমপক্ষে একটা বই প্রকাশ করার, কিন্তু পাণ্ডুলিপি না পাওয়ার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। পুরাতন যে বইগুলো আছে, সেগুলো নিয়েই আমাদের চলতে হয়। বর্তমানে আমাদের ডা. শেখ মেহেদী হাসানের ‘ভাষা আন্দোলনের পূর্বাপর’ বইটি আছে।”

পাঠক সমাবেশের স্টল ম্যানেজার লিয়ন বলেন, ‘এই বিষয় নিয়ে নতুন কোনো বই আসেনি। আগেরও কোনো বইও আমাদের নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই আছে।’

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয় প্রতিনিধি মোসাদ্দেক হোসাইন বলেন, “নতুন কোনো বই আসেনি। তবে আতিউর রহমান স্যারের সম্পাদনায় ‘ভাষা আন্দোলনের আত্ম সামাজিক পটভূমি’ শীর্ষক একটি বই ছিল। তবে সেটা এখন নেই। নতুন করে আবার প্রকাশিত হবে।”

প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রিয় প্রতিনিধি আশফাক বলেন, “একটা ছাড়া আর কোনো নতুন বই আসেনি। তবে আগের কিছু বই আছে, সেগুলো হচ্ছে- আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলন’, ‘একুশের মুহুর্তগুলো’, ছয় ভাষাশহীদের জীবনগাথা নিয়ে বই ‘একুশের শহীদ’, মতিউর রহমানের সম্পাদনায় ‘একুশের পটভূমি একুশের স্মৃতি’ ইত্যাদি।”

মওলা ব্রাদার্সের স্টল ম্যানেজার তামিম বলেন, “‘ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছর নামে’ একটি বই ছিল, সেটা গত বইমেলায় শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে রিপ্রিন্ট করা হয়নি। তবে এই বছর নতুন কোনো বই আসেনি।”

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মেহেদী হাসান রিফাত বলেন, “ভাষা আন্দোলনের ওপর নতুন আরও তিনটা বই আসবে। সেগুলো হলো- অমর একুশে স্মরণে ‘একুশের ২১ গল্প’, ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলার বরেণ্য কথাশিল্পীদের একুশটি গল্পের এ সংকলন সম্পাদনা করেছেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের দুই অগ্রসৈনিক শহীদ মুনীর চৌধুরীর ‘দুষ্প্রাপ্য রচনা’ এবং ‘শহীদ জহির রায়হানের আত্মকথা ও অন্যান্য রচনা’। এই দুটি গ্রন্থের সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন কাজী জাহিদুল হক।”

“এছাড়া আগের কিছু বই, যেমন: সৈয়দ শামসুল হকের ‘বাহান্নের বিজয়গাথা’, মো. নূরুল আনোয়ারের একুশের গুলিবর্ষণ, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর কারিশমা’ও রয়েছ ‘, যোগ করেন মেহেদী হাসান রিফাত।

তবে আগামী প্রকাশনী থেকে এই বছর ভাষা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নতুন কোন বই পাওয়া না গেলেও আগের কিছু বইয়ের সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো- ড. এম আবদুল আলীমের ‘ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ- কতিপয় দলিল’, ‘ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিব- কতিপয় দলিল’, ‘রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে রফিকুল ইসলাম’, ‘সিরাজগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’, ‘আওয়ামী লীগ ও ভাষা আন্দোলন’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’, বশির আল হেলালের ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’ উল্লেখযোগ্য।

সময় প্রকাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি আবির হাসান বলেন, “আমাদের নতুন কোন বই আসেনি। তবে আগের তিনটা বই আছে। সেগুলো হলো, আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলন- ইতিহাস ও উত্তরপ্রভাব’, হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।”

এছাড়া সেলিনা হোসেনের ‘যাপিত জীবন’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’, আনিসুর হকের ‘যারা ভোর এনেছিলো’, বদরুদ্দীন উমরের ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি-১’, এম আর আখতার মুকুলের ‘একুশের দলিল’, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা’, হুমায়ুন আজাদের ‘ভাষা আন্দোলন’, রফিকুল ইসলামের ‘ভাষা আন্দোলন ও শহীদ মিনার’, মুহাম্মদ শফীর ‘ভাষা আন্দোলনের আগে ও পরে’ এবং আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছু জিজ্ঞাসা’ বইগুলো উল্লেখযোগ্য।

২০তম দিনে নতুন বই ৯৯টি

মঙ্গলবার মেলা শুরু হয় বিকেল তিনটায় এবং চলে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ৯৯টি।

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: জামাল নজরুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজ্ঞানবক্তা আসিফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সুব্রত বড়ুয়া এবং আরশাদ মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

প্রাবন্ধিক বলেন, ‘অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গাণিতিক, পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিশ্ববরেণ্য কসমোলজিস্ট। আন্তর্জাতিক মহলে তিনি জে. এন. ইসলাম হিসেবে পরিচিত।’

আলোচকবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের বিজ্ঞানচিন্তা ও গবেষণার পরিসর ছিল অনেক বিস্তৃত। তিনি আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে বিশিষ্ট অবস্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি কেবল বড়ো বিজ্ঞানীই ছিলেন না, একজন সংস্কৃতিবান ও দেশপ্রেমিক মানুষও ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম বড়ো বিজ্ঞানী হয়েও ছিলেন নিরহংকারী, অত্যন্ত আন্তরিক, সদাশয় ও সরল মনের অধিকারী একজন মানুষ। তিনি বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।’

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি আতাহার খান, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, গবেষক চৌধুরী শহীদ কাদের এবং লেখক ও পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল।

অমর একুশের কর্মসূচি

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাত সাড়ে বারোটায় একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

আগামীকাল বইমেলা শুরু হবে সকাল আটটায় এবং চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।

সকাল আটটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সভাপতিত্ব করবেন কবি শামীম আজাদ।

অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৪

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৪। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The book fair is counting down to twenty one

একুশের প্রহর গুনছে বইমেলা

একুশের প্রহর গুনছে বইমেলা বইমেলার প্রবেশদ্বার দিয়ে মেলায় প্রবেশ করছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা
ভাষা শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষেই পরদিন সকালে জনতার ঢল নামবে অমর একুশে বইমেলায়। এই দিনটির জন্যই যেন অপেক্ষায় আছে একুশে বইমেলা এবং এতে অংশ নেয়া প্রকাশকেরা।

যে দিনটিকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারির পুরো মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি বইমেলার আয়োজন করে, আজ রাত পোহালেই শুরু হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ভাষা শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষেই পরদিন সকালে জনতার ঢল নামবে অমর একুশে বইমেলায়। এই দিনটির জন্যই যেন অপেক্ষায় আছে একুশে বইমেলা এবং এতে অংশ নেয়া প্রকাশকেরা।

এদিন সকাল সাতটায় খুলে যাবে মেলার দুয়ার, খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত। পুরো মাসের মেলায় শুধু এই দিনই দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ১৪ ঘণ্টা খোলা থাকে বইমেলার দুয়ার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পুরো মাসের মধ্যে এইদিনই সবচেয়ে ভালো বেচাবিক্রির প্রত্যাশা থাকে প্রকাশকদের।

বুধবার শহিদ বেদীতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাত সাড়ে বারোটার পর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হবে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ। ওইদিন দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকবে শ্রদ্ধা নিবেদন। ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহিদ মিনারে ছুটে আসবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে আসা হবে, অথচ সেই ভাষা শহিদদের জন্য পাওয়া মাতৃভাষার বইমেলায় যাওয়া হবে না, এটি তো হতে পারে না। তাই সবাই একবারের জন্য হলেও ঢুঁ মারবে অমর একুশে বইমেলায় আর গুনগুন করে গাইবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ গানটি। ফলে নিশ্চিতভাবেই কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে বইমেলা প্রাঙ্গণ। লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ মেলায় প্রবেশ করবে, আড্ডা দেবে আর বই কিনবে।

ভাষা দিবসের দিন নিয়ে আশাবাদী ঐতিহ্য প্রকাশনীর স্টল ম্যানাজার আমজাদ হোসেন খানও। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এদিন সকাল সাতটা থেকে মেলা শুরু হয়ে চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। আমাদের মানসিকভাবে সেই প্রস্তুতিও আছে। যদিও এই দিন লোকসমাগমটা সাধারণত বিকেলেই হয়। যেহেতু মেলা জমজমাট হবে, তাই ভালো বিক্রিও হবে, আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন সবাই যে ভাষা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বই-ই কিনবেন, সেরকম নয়। ওইদিন মূলত বিক্রি বেশি হয়। পাঠকরা সব ধরনের বই-ই সেদিন কিনে থাকেন।’

মওলা ব্রাদার্সের স্টল ম্যানাজার শাহীন শিকদার বলেন, ‘আমরা প্রতিটা দিনই প্রস্তুত। তবে এই দিনটি যেহেতু বিশেষ, তাই প্রস্তুতিও একটু বিশেষভাবে থাকে। বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্য ভিড় অনুযায়ী বিক্রি হয় না। তারপরও এই দিনকে কেন্দ্র করেই যেহেতু বইমেলা, তাই আমাদের অপেক্ষা বলা যায় এই দিনের জন্যই।’

বইমেলায় বই দেখতে গিয়ে কথা হয় মিরপুর থেকে আসা রবিউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজকেসহ আমি দুইদিন মেলায় এসেছি। মেলায় এসে ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুন কোনো বই প্রকাশ হয়েছে কি না, সেটি দেখছি আর এরকম নতুন কোনো বই থাকলে সেটি লিখে নিচ্ছি। আগামী বুধবার শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে এসব বই কিনে বাসায় যাবো।’

১৯তম দিনে মেলায় নতুন বই ১১৫টি

সোমবার মেলা শুরু হয় বিকেল তিনটায় এবং চলে রাত নয়টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ১১৫টি।

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: হাসান আজিজুল হক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোজাফ্ফর হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফারুক মঈনউদ্দীন এবং মহীবুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।

প্রাবন্ধিক বলেন, ‘হাসান আজিজুল হক আখ্যানপ্রধান কথাসাহিত্যিক। বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গল্পের ধারাকে তিনি আরও সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারিত করেছেন। এই বঙ্গে গণমানুষ ও প্রান্তিক মানুষ, দাঙ্গা, খরা, দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা, মুক্তিযুদ্ধ, রাঢ়বঙ্গের প্রকৃতি- এসবই তার ছোটোগল্পে চিত্রিত হয়েছে।’

আলোচকরা কথায় উঠে আসে, বাংলা ছোটোগল্পের অন্যতম প্রধান লেখক হাসান আজিজুল হক তার রচনায় রাঢ়বঙ্গের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ ঘেরা ছিল বাস্তবতার কঠিন আবরণে। তার একাধিক গল্পে শিশুকিশোর চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে, যেখানে তাদের মনোজগৎকে নানা মাত্রিকতায় আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের ছোটোগল্পের বরপুত্র হাসান আজিজুল হক গল্প-উপন্যাস ছাড়াও গভীর পর্যালোচনা ও প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার সাহিত্যের অনালোচিত দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে পারব।’

আজ ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক অসীম হিমেল, কবি গাজী রফিক, রম্যলেখক সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং গবেষক জিয়াউল হক।

রিকশাচিত্র প্রদর্শন বই সংলাপ মঞ্চের আয়োজন

এই মঞ্চে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সদ্যপ্রকাশিত কবিতা সংকলন মুজিবমঞ্জুষা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বইয়ের প্রকাশক আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনিসহ বিশিষ্টজন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, দুলাল সরকার, মাসুদ আলম বাবুল, কাজী আনারকলি, বাপ্পী রহমান এবং নাজমুল হুসাইন বিদ্যুৎ।

আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আনজুমান আরা, বদরুল হুদা জেনু, মাহমুদুল হাকিম তানভীর, আওরঙ্গজেব আরু এবং রূপশ্রী চক্রবর্তী।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল শিল্পী ফরিদা পারভীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অচিন পাখি’, রাখাল কিশোর ঠাকুরের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ত্রিবেণী’ এবং আতিকুর রহমান উজ্জ্বলের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আবিদা রহমান সেতু, সোমা রাণী রায়, ডালিয়া সুলতানা, আরিফ চৌধুরী পলাশ, মুন্নী কাদের, রোমানা আক্তার, জোহুরা আক্তার সোনিয়া এবং মো. রেজাউল করিম।

আগামীকালের সময়সূচি

মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে বিকেল তিনটায় এবং চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: জামাল নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

এ অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আসিফ; আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সুব্রত বড়ুয়া এবং আরশাদ মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

আরও পড়ুন:
বইয়ের দাম এবার কি বেড়েছে
সস্তা-চটুল বইয়ে সয়লাব বইমেলা
মেলায় গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রকাশ ও বিক্রি দুটোই কম
বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা
মেলায় জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের কাটতি বেশি

মন্তব্য

p
উপরে