× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Policeman withdrawn for bribing judge
google_news print-icon

বিচারককে ঘুষ সেধে পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

বিচারককে-ঘুষ-সেধে-পুলিশ-সদস্য-প্রত্যাহার
আদালত ভবন, চট্টগ্রাম। ফাইল ছবি
আদালতের সূত্র জানায়, বিকেল তিনটার পর ওই পুলিশ সদস্য একটি পারিবারিক মামলার নথি নিয়ে বিচারকের কক্ষে দেখা করতে যান। নথির সঙ্গে একটি টাকার বান্ডিল দিয়ে ওই মামলার আসামির জামিনের বিষয়ে তদবিরের চেষ্টা করেন। এতে বিচারক তাকে আদালতে আটক রেখে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

চট্টগ্রামে আদালত চলাকালে মহানগর আদালতের এক বিচারককে ঘুষ নিতে অনুরোধের অভিযোগে দুলাল মিয়া নামের এক পুলিশের কনস্টেবলকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরওয়ার জাহানের আদালতে এই ঘুষ সাধার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আদালত তৎক্ষণাৎ ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে ওই পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

কনস্টেবল দুলাল মিয়া চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখায় কর্মরত ছিলেন।

আদালতের সূত্র জানায়, বিকেল তিনটার পর ওই পুলিশ সদস্য একটি পারিবারিক মামলার নথি নিয়ে বিচারকের কক্ষে দেখা করতে যান। নথির সঙ্গে একটি টাকার বান্ডিল দিয়ে ওই মামলার আসামির জামিনের বিষয়ে তদবিরের চেষ্টা করেন। এতে বিচারক তাকে আদালতে আটক রেখে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

এ বিষয়ে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এরকম একটি ঘটনার পর আদলত এডিসিকে (অতিরিক্ত উপ-কমিশনার) ডেকে বিষয়টি জানান। এতে তৎক্ষণাৎ তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই, আহত ৪
ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় পেটালেন সেই প্রকৌশলী
আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর গণশুনানির পরের দিন ওসি প্রত্যাহার
ফরিদপুরে দোকানিকে মারধর করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
পুলিশ সদস্যদের মাথা ফাটিয়ে ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
2 killed in Chittagong clash with quota activists

চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ২

চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ২ কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে নেমেছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়কে। ছবি: নিউজবাংলা
দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত আরও নয়জনকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। দুজনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী এবং অপরজন পথচারী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত আরও নয়জনকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।’

জানা গেছে, বিকেল ৩টা থেকে বন্দর নগরের মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট ও ষোলশহরসহ আশপাশের এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে দুপুর থেকে বিভিন্ন মোড়ে অবস্থা নেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

সবশেষ পাওয়া তথ্যমতে, ষোলশহর শিক্ষা বোর্ড এলাকায় কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে। মুরাদপুর অংশে অবস্থান নিয়েছেন কোটা আন্দোলনকারীরা। আর দুই নম্বর ও ষোলশহর এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। কোটা আন্দোলনকারীরাও লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ কোটা আন্দোলনকারীদের
রাতভর যা ঘটল জাবিতে
সারা দেশে মঙ্গলবার বিক্ষোভ কোটা আন্দোলনকারীদের
ঢাবি প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভা, পাঁচ সিদ্ধান্ত
ঢাবির শহীদুল্লাহ হল এলাকায় ফের ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Protesting students killed in clash with police in Rangpur

রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নিহত

রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নিহত বেরোবি কোটা আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত
নিহত আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ছাত্র নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত আবু সাঈদ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মঙ্গলবার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। একজন মারা গেছেন বলে শুনেছি। তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা বলতে পারছি না।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘দুপুরে বেরোবির কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকা থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যান। তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহত হন।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার ঢাবির সহকারী প্রক্টর
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ
সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা
বিক্ষোভে মৃত্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভিত্তিহীন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ কোটা আন্দোলনকারীদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Newsbangla Jabi Correspondent Sergil injured in police firing

পুলিশের গুলিতে আহত নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল

পুলিশের গুলিতে আহত নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল জাবিতে সোমবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে আহত হন নিউজবাংলার প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল। কোলাজ: নিউজবাংলা
নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসির বাসভবনে ঢুকে আন্দোলনকারীদের মারধর করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। সে সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছড়রা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অনেকেই আহত হয়। আমরা চার গণমাধ্যমকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে সোমবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও গুলিবিদ্ধ সার্জিল জানান, রাতে ‍পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে বিদ্ধ হন সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ চারজন। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

জাবি ক্যাম্পাসে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত উত্তেজনা চলে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

তারা আরও জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ জাবি শাখা ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা সশস্ত্র অবস্থায় হেলমেট পড়ে ভিসি ভবনের সামনেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। তখন আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকেও শিক্ষার্থীদের মারধর করে আহত করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন হল থেকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসলে পুলিশ-ছাত্রলীগ ও তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও ছড়রা গুলি ছোড়ে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন জাবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার লুৎফুল এলাহী, নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল ও বণিক বার্তার মেহেদী মামুনসহ চারজন।

নিউজবাংলার জাবি প্রতিনিধি সার্জিল বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসির বাসভবনে ঢুকে আন্দোলনকারীদের মারধর করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। সে সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

‘পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছড়রা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অনেকেই আহত হয়। আমরা চার গণমাধ্যমকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

এনাম মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার আলী বিন সোলাইমান বলেন, ‘(সোমবার) রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ৬০ জন আহত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।’

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা যখন ভিসির বাসভবনের সামনে মুখোমুখি হয়, অপর দিক থেকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। সে সময় আমাদের টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের হামলায় আমিসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন পুলিশ আহত হয়েছে, তবে সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জাবির বাজেটে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যখাত
জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দুই বহিরাগত গ্রেপ্তার
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে জাবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি
অবশেষে ঈদের নাটকে মেহজাবীন
জাবি ক্যাম্পাসে ছিনতাইকালে আটক ৩

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What happened overnight

রাতভর যা ঘটল জাবিতে

রাতভর যা ঘটল জাবিতে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে রাতভর উত্তেজনা চলে জাবিতে। ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, হামলাকারীদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ও হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। সে সময় দুটি পেট্রলবোমা ছুড়তে দেখা যায় তাদের। হামলা থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন। ওই সময় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের ফটক ছেড়ে রাস্তায় চলে যান।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানে সোমবার রাতে কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও গুলিবিদ্ধ এক সাংবাদিক জানান, রাতে ‍পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে বিদ্ধ হয়েছেন সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ চারজন। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহত হন।

অন্যদিকে পুলিশ জানায়, বাহিনীর অন্তত ১৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

জাবি ক্যাম্পাসে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত উত্তেজনা চলে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

তারা আরও জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ জাবি শাখা ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা সশস্ত্র অবস্থায় হেলমেট পড়ে ভিসি ভবনের সামনেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। তখন আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকেও শিক্ষার্থীদের মারধর করে আহত করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন হল থেকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসলে পুলিশ-ছাত্রলীগ ও তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও ছড়রা গুলি ছোড়ে। এতে অর্ধাশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জাবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার লুৎফুল এলাহী, নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জাবি প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল ও বণিক বার্তার মেহেদী মামুনসহ চারজন।

পরে আহত ও গুলিবিদ্ধদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ ও জাবির হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, হামলাকারীদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ও হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। সে সময় দুটি পেট্রলবোমা ছুড়তে দেখা যায় তাদের। হামলা থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন। ওই সময় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের ফটক ছেড়ে রাস্তায় চলে যান।

পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে ফটক ভেঙে বাসভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। তখন বেশ কয়েকটি পেট্রলবোমা ছুড়ে বাসভবনের ফটকের লাইটসহ বিভিন্ন লাইট ভাঙচুর করেন তারা। এরপর আন্দোলনকারীদের ব্যাপক মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সেই সময় উপাচার্য বাসভবনেই ছিলেন।

গুলিবিদ্ধ নিউজবাংলার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সার্জিল বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসির বাসভবনে ঢুকে আন্দোলনকারীদের মারধর করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। সে সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

‘পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছড়রা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অনেকেই আহত হয়। আমরা চার গণমাধ্যমকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

এনাম মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার আলী বিন সোলাইমান বলেন, ‘(সোমবার) রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ৬০ জন আহত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা যখন ভিসির বাসভবনের সামনে মুখোমুখি হয়, অপর দিক থেকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। সে সময় আমাদের টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের হামলায় আমিসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন পুলিশ আহত হয়েছে, তবে সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০
ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনায় মহাসড়ক অবরোধ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে ববিতে বিক্ষোভ
ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Today is Sheikh Hasinas imprisonment day

শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ

শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২৫ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জমা দেয়। সারা দেশ থেকে তার মুক্তির দাবি ওঠে। তার দল আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেয় ‘মুক্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেয়ার’। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ। সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বাসস জানায়, ওই সময় শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২৫ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জমা দেয়। সারা দেশ থেকে তার মুক্তির দাবি ওঠে। তার দল আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেয় ‘মুক্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেয়ার’।

এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরায় ফিরে আসে।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রায় দেড় যুগ আগে ১৬ ‍জুলাই ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুই সহস্রাধিক সদস্য সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন ঘেরাও করে। সেই সময় শেখ হাসিনা ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন।

সকাল সাড়ে সাতটার দিকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা শেখ হাসিনাকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে সুধা সদন থেকে বের করে নিয়ে আসে এবং যৌথবাহিনীর সদস্যরা বন্দি অবস্থায় তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করে।

তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জামিন আবেদন নাকচ করেন বিচারক। তাকে রাখা হয় সংসদ ভবনের স্যাঁতসেঁতে একটি ভবনে, যা পরবর্তী সময়ে সাব জেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অবরুদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালায় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শেখ হাসিনা আদালতের গেটে দাঁড়িয়ে প্রায় ৩৬ মিনিটের অগ্নিঝরা বক্তৃতার মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের হীন-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।

গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে একটি চিঠির মাধ্যমে দেশের জনগণ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গণতন্ত্র রক্ষায় মনোবল না হারিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও গণতন্ত্রপ্রত্যাশী দেশবাসীর ক্রমাগত প্রতিরোধ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুকন্যার আপসহীন ও দৃঢ় মনোভাব এবং দেশবাসীর অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

আওয়ামী লীগসহ সমমনা সংগঠনগুলো যথাযথ কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করবে।

আরও পড়ুন:
চীন থেকে শূন্য হাতে ফেরার দাবিকারীরা মানসিকভাবে অসুস্থ: প্রধানমন্ত্রী
রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে
ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন রোববার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bank accounts of Pion Jahangis wife children and organization have been seized

‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীর, স্ত্রী-সন্তান ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীর, স্ত্রী-সন্তান ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত
সত্রে জানায়, বিএফআইইউ সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। সে সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য আগামী পাঁচদিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল- প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের কোনো সম্পর্ক নেই।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নাহার খিল গ্রামের মৃত রহমত উল্যাহর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে গত এক দশক ধরে নোয়াখালী জেলাসহ নানা জায়গায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত সফরে গাড়িবহর ও প্রশাসনিক প্রটোকল নিয়ে চলাচল করতেন রাজকীয় স্টাইলে।

‘করিৎকর্মা’ জাহাঙ্গীর এবার ভিন্নভাবে আলোচনায় এসেছেন। রোববার জাহাঙ্গীর ছাড়াও তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। সে সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য আগামী পাঁচদিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ও তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো হিসাব থাকলে সেসব হিসাবের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ২৩ (১) (গ) ধারার আওতায় ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হলো।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সেই সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ব্যাপারে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নিতেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

তথ্য বলছে, নব্বই দশকের দিকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি সুধা সদনে আসা দলীয় নেতা-কর্মীদের পানি খাওয়ানোর কাজ করতেন জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে শেখ হাসিনার খাদ্য বহনকারী হিসেবে ‘টিফিন ক্যারিয়ার’ তিনি নিজ হাতে রাখতেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার সময় দুঃসাহসিক ভূমিকা রাখায় তিনি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে পরিচিতি লাভ করেন।

আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার পর গণভবনে যাতায়াতের সুযোগ পান জাহাঙ্গীর। ঢাকার ইপিজেডে ২০০৯ সালে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীরা ঝুট ব্যবসায় হাত দিলে জাহাঙ্গীর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পরিচয়ে ফোন করে সরাসরি তাদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করতেন। এই ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেন তিনি। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি এবং মন্ত্রীদের কাছে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পরিচয় দিয়ে তদবির করতেন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা নোয়াখালী-১ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি জাহাঙ্গীর। পরে নোয়াখালী-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহীমের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালান তিনি। শেষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজের বাসার সাবেক এক কর্মীর অর্থসম্পদের বিষয়টি সামনে আনেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাসায় কাজ করেছে, পিয়ন ছিল সে। এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না। বাস্তব কথা। কী করে বানাল এত টাকা? জানতে পেরেছি, পরে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে টানা দুই মেয়াদের পাশাপাশি গত মেয়াদেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে গেছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no obstacle to the release of Milton Samadda who got bail

জামিন পেলেন মিল্টন সমাদ্দার, কারামুক্তিতে বাধা নেই

জামিন পেলেন মিল্টন সমাদ্দার, কারামুক্তিতে বাধা নেই মিল্টন সমাদ্দারকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ফাইল ছবি
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার। আরেকটি মামলায় সিএমএম আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এ নিয়ে সব মামলায় জামিন পেলেন তিনি।

রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা মানবপাচার আইনের মামলায় চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় আসামির জামিনের আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান মিল্টন সমাদ্দার। আরেকটি মামলায় সিএমএম আদালত থেকে জামিন পান তিনি। সব মামলায় জামিন পাওয়ায় এখন তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

গত ১ মে রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত্যু সনদ তৈরির মামলায় ২ মে মিল্টন সমাদ্দারকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। ৫ মে মানবপাচার আইনের মামলায় আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ৯ মে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, একটি জাতীয় দৈনিকে ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিল্টন সমাদ্দারের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ১৬টির বেশি নম্বর এবং তিনটি ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা জমা হয়। এর বাইরে অনেকেই তার প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদান দিয়ে আসেন। এই অর্থের অপব্যবহার করছেন চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান।

মানবিক কাজের জন্য এ পর্যন্ত তিনটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।

আরও পড়ুন:
মানুষের হাত-পা কেটে মিল্টন পৈশাচিক আনন্দ পেতেন: ডিবি
মিল্টন সমাদ্দার এবার মানবপাচার মামলায় রিমান্ডে
মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ, তদন্ত হবে: ডিবি প্রধান
মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি

মন্তব্য

p
উপরে