× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Increasing production costs have not seen the rain
google_news print-icon

নওগাঁয় বেড়ে চলেছে ধান উৎপাদন ব্যয়, দেখা নেই বৃষ্টির

নওগাঁয়-বেড়ে-চলেছে-ধান-উৎপাদন-ব্যয়-দেখা-নেই-বৃষ্টির
বৃষ্টির অভাবে চৌচির নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের জমি। ছবি: নিউজবাংলা
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ আধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমনের মৌসুম কেবলই শুরু হয়েছে। আগস্টজুড়েই আমনের চারা লাগানো যাবে। ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ জমিতে চারা লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যায় সঠিক সময়েই আমনের চারা লাগানো সম্পন্ন হবে, তবে যেসব কৃষক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করছে তাদের খরচ বাড়বে।

দেশের ধান-চালের চাহিদার বড় অংশ মেটায় উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে দাবদাহ। বৃষ্টির জন্য যেন হাহাকার চারদিকে। এমন বাস্তবতায় আবাদ করা আমনের জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের এ সময়ে বৃষ্টির পানি থাকে, কিন্তু এ বছর একেবারে ভিন্ন চিত্র।

অনাবৃষ্টির কারণে পানি সংকট দেখা দিয়েছে কৃষি জমিতে। পানি সংকটে কারও কারও রোপা বীজ মরে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও রোদে জমি ফেটে চৌচির। এতে অনেকটা প্রকৃতিনির্ভর আমন চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকদের বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে সেচযন্ত্র। শুরুতেই বেড়ে যাচ্ছে চাষের খরচ। এতে করে শুধু সেচ খরচ বাবদ কৃষকের ব্যয় বেড়ে গেছে।

চালু রয়েছে প্রায় সব সেচযন্ত্র

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা লাগানো সম্পন্ন হয়েছে।

সেচের জন্য মাঠে মাঠে ৪ হাজার ৮৬৮টি গভীর নলকূপ, ৪৮ হাজার ৭৯টি অভীর নলকূপ ও ২ হাজার ২২৭টি এলএলপি (লো লিফট পাম্প) সেচযন্ত্র রয়েছে।

সব মিলিয়ে জেলায় ৫৫ হাজার ১৭৪টি সেচযন্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৯৫টি বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র। বাকি ৩৭ হাজার ৬৭৯টি সেচযন্ত্র ডিজেলচালিত।

খরা মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের প্রায় সবগুলোই চালু রয়েছে।

অনাবৃষ্টিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ

কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে সেচ দিতে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ছে।

আমনের চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত ও খরার কবলে পড়া আমনের চারা বাঁচাতে ইতোমধ্যে কমপক্ষে দুইবার সেচ দিতে হয়েছে। এ মৌসুমে এভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত চললে কমপক্ষে আরও ছয়বার সেচ দিতে হবে।

সেই হিসাবে জেলার ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর আমনের ফসল রক্ষায় এবার সেচের খরচ বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

কৃষদের দুর্দশা বাড়ছে

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে দিন ধরে আমাদের এলাকায় এক পশলা বৃষ্টিও হয়নি। খরার কারণে চারা লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। যেসব জমিতে চারা লাগানো হয়েছে পানির অভাবে ওই সব চারা মরে যেতে বসেছে।

‘বাধ্য হয়ে সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে খরা, আরেকদিকে চলছে লোডশেডিং। এ কারণে সেচ দিয়ে মাটি ভেজাতে অনেক বেশি সময় লাগছে।’

আত্রাই উপজেলার সোনাতলা গ্রামের গ্রামের কৃষক আবদুস ছালাম জানান, চলতি মৌসুমে ৩০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। আমনের বীজতলাও প্রস্তুত। আগেভাগে মাঠ থেকে আমন ধান কেটে সেই জমিতে রবি শস্য আবাদের জন্য জুলাইয়ের মধ্যেই ক্ষেতে চারা রোপণের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে ১০ বিঘা জমিতে চারা লাগিয়েছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অন্য জমিগুলো চারা লাগানোর জন্য সঠিক সময়ে প্রস্তুত করতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে।

বদলগাছী উপজেলা ভান্ডারপুর গ্রামের কৃষক শুকবর আলী বলেন, ‘আগে এক বিঘা জমিতে পানি দিয়ে ভেজাতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে খরচ পড়ত, কিন্তু ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছর থেকে সেচ খরচ বেড়ে গেছে।

‘এখন বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে গড়ে ৪০০ টাকা করে খরচ পড়ে। সাত-আটবার করে সেচ দিতে হলে এক বিঘা জমিতে সেচ খরচ পড়ে প্রায় তিন হাজার টাকা। যদি বৃষ্টি পর্যাপ্ত হতো, তবে পানির খরচ লাগত না।’

যা বলছে কৃষি বিভাগ

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ আধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়া কিছুটা ব্যহৃত হচ্ছে। কৃষক নিজস্ব সেচযন্ত্রের মাধ্যমে চাষাবাদের চেষ্টা করছেন, তবে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এখনই অতটা চিন্তিত হওয়ার কারণ দেখছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমনের মৌসুম কেবলই শুরু হয়েছে। আগস্ট মাসজুড়েই আমনের চারা লাগানো যাবে। ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ জমিতে চারা লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যায় সঠিক সময়েই আমনের চারা লাগানো সম্পন্ন হবে, তবে যেসব কৃষক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করছে, তাদের খরচ বাড়বে।

‘গত বছরেও মৌসুমের শুরুতে তেমন বৃষ্টি ছিল না, তবে শেষের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এ বছরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে আশা করা যায়।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁয় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত
এক কলাগাছে ১৬ মোচা, চাঞ্চল্য
যৌন হয়রানির অভিযোগ: মাদ্রাসার শিক্ষক বরখাস্ত
পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত দল
যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি: কৃষিমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Jhalkathi farmers benefit from cotton cultivation

তুলা চাষে লাভবান ঝালকাঠির চাষিরা

তুলা চাষে লাভবান ঝালকাঠির চাষিরা ঝালকাঠির গাবখান গ্রামের একটি তুলা চাষের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা
কটন ইউনিট কর্মকর্তা (গাবখান ইউনিট) সৈয়দ শাহিন হোসেন গাজী বলেন, ‘ঝালকাঠি গাবখান থেকে এ তুলা ক্রয় করে নিয়ে যাওয়া হয় যশোরের ঝিকড়গাছার একটি বেসরকারী জিনার মিলে। সেখানে মেশিনের মাধ্যমে জিনিং করে বিভিন্ন কটন মিলে বিক্রি করা হয়। তুলা চাষকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ঝালকাঠিতে অনেক পতিত জমি থাকায় এ অঞ্চল তুলা চাষের উপযোগী।’

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে তুলা চাষ করে আর্থিক লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। এসব তুলা সরাসরি মিল কর্তৃপক্ষ কিনে নেয়ায় তাদের লাভ হচ্ছে বেশি আর এতে তুলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় আরও অনেক চাষি।

সদর উপজেলার গাবখান-ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের কৃষিভিত্তিক গাবখান গ্রামে যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় পরীক্ষামূলক ভাবে ২০১১ সালে শুরু হয় রূপালি-১ এবং হোয়াইট গোল্ড জাতের তুলার চাষ।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ধরে তুলা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন বাগান মালিকসহ এখানকার কৃষক ও শ্রমিকরা।

স্থানীয় তুলা চাষিরা জানান, একটু উচু জমিতে কান্দি পদ্ধতিতে আষাঢ় শ্রাবন মাসে তুলার বীজ লাগানো শুরু হয়। বীজ বপনের ৫৫ থেকে ৬০ দিন পরে গাছে ফুল ধরে। সেই ফুল থেকে বের হয় তুলা। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চৈত্র থেকে বৈশাখ মাস জুড়ে তারা মাঠ থেকে তুলা সংগ্রহ করেন। বিগত বছরগুলোতে একর প্রতি ১০ থেকে ১৫ মন তুলার ফলন হয়েছে।

তবে এ বছর আষাঢ় শ্রাবন মাসে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় অনেক গাছ নষ্ট হয়েছে। তাই এ বছর তুলার ফলন কিছুটা কম হওয়ার কথা জানালের কৃষকরা। তারা মনে করেন, সরকার তুলা চাষের দিকে একটু নজর দিলে অনেক কৃষকের কর্মসংস্থান হবে এবং তুলার ব্যপক চাহিদা থাকায় বাজার নিয়েও কোন শংকা থাকবে না।

কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘২০১১ সালে যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আমি ৮ বিঘা জমিতে তুলা চাষ শুরু করি গাবখান এলাকায়। সেই থেকে এখনও আমি এই তুলা চাষ করে যাচ্ছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে তুলা চাষে কোন লোকসান হয়না। ‘স্থানীয় বেকার ও বয়স্ক লোক দিয়ে এ তুলা মাঠ থেকে সংগ্রহ করে থাকি। তাতে তাদের সংসার খরচটাও এই সিজনে ভালো ভাবে চালাতে পারে। তুলা আমি মাঠ থেকেই যশোরসহ বিভিন্ন মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করে থাকি। শুধু তুলাই নয়, এ তুলার বীজ থেকে তৈল ও খৈড় তৈরি করে বাড়তি আয় করাও সম্ভব।’

দিনমজুর লাল মিয়া হওলাদার বলেন, ‘গাছে ফুল ধরেছে। আর কয়েকমাস পরেই তুলার ফলন হবে। আমি কয়েক বছর ধরে এ বাগানে কাজ করি। বীজ রোপন এবং পরিচর্যা করি দৈনিক মজুরী হিসেবে। তুলা ফলনের পর মাঠ থেকে তুলা তুলে দিয়ে কেজি প্রতি ৩০ টাকা মজুরী পাই। মৌসুমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কেজি তুলা মাঠ থেকে সংগ্রহ করতে পারি। আমার বয়স হয়েছে এখন আর কেউ কাজে নেয় না, এই তুলাটা চাষ হয় বলে আমি এখানে কাজ করে টাকা রোজগার করতে পারি।’

আরেক দিনমজুর হেনারা বেগম বলেন, ‘গাবখান এলাকায় তুলা চাষ শুরু হওয়া থেকে আমি প্রতি বছর এখানে কাজ করি। তবে রোপনের কাজ করিনা, আমি শুধু গাছ থেকে তুলা তুলি। আমার স্বামী একজন দিনমজুর, তার আয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয় তাই এ তুলা তুলে যে টাকা পাই তা থেকে আমাদের সংসার ও ছেলে-মেয়ের খরচ চালাই।’

কটন ইউনিট কর্মকর্তা (গাবখান ইউনিট) সৈয়দ শাহিন হোসেন গাজী বলেন, ‘ঝালকাঠি গাবখান থেকে এ তুলা ক্রয় করে নিয়ে যাওয়া হয় যশোরের ঝিকড়গাছার একটি বেসরকারী জিনার মিলে। সেখানে মেশিনের মাধ্যমে জিনিং করে বিভিন্ন কটন মিলে বিক্রি করা হয়। তুলা চাষকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ঝালকাঠিতে অনেক পতিত জমি থাকায় এ অঞ্চল তুলা চাষের উপযোগী।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farmers in Meherpur fear of loss due to high price of potato seeds

মেহেরপুরে আলুর বীজের চড়া দামে লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

মেহেরপুরে আলুর বীজের চড়া দামে লোকসানের শঙ্কায় কৃষক মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি আড়তে রাখা আলু। ছবি: নিউজবাংলা
আলুর বীজ বিক্রেতা আবদুল মালেক বলেন, ‘এ বছর বীজ অথবা খাবার আলু দুটোর দামই বেশি। গতবার আমরা যে আলুর বীজ এই সময় ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার তার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক চাষিই আলু চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’

মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে আলুর বীজের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় পণ্যটি চাষ করে লাভ তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

সরকারিভাবে গত বছর কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড আলুর বীজ ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং এরিস্টন জাতের আলুর বীজ বিক্রি হয় ৩৫ টাকা কেজিতে। সেখানে চলতি বছরে কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড আলুর বীজ সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৬ টাকা। আর এরিস্টন জাতের আলুবীজ বিক্রির দাম নির্ধারণ করা হয় ৬০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে ডায়মন্ড আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা করে। আর এরিস্টন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে। কার্ডিনাল আলুর বীজ বিএডিসি কর্তৃক শেষ হওয়ায় বাজারে তার দেখা মিলছে না।

কৃষকদের বিঘাপ্রতি জমিতে আলু চাষের জন‍্য ছয় মণ হারে বীজের প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ যোগ করলে এক বিঘা আলু চাষে কৃষকের বতর্মান সময়ে খরচ পড়বে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে, গত বছর যেটি ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

কৃষকদের অভিযোগ, দ্রব‍্যমূল‍্যের ঊর্ধ্বগতির দোহাই দিয়ে ব‍্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ‍্যমে আলুর দামে বাড়িয়েছে, যার ফলে বেড়ে গেছে আলুবীজের দাম। বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি অধিক দামে আলুবীজ কিনে চাষ করার পরে যখন আলু উৎপাদন শেষে বাজারে বিক্রি করতে যান, ঠিক তখনই আলুর দাম কমে যায়। তখন উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হয়।

আর কৃষি বিভাগ বলছে, বতর্মানে আলুর বাজারদর একটু বেশি থাকায় বীজের দাম বেড়েছে। উৎপাদন বাড়লেই আলুর দাম কমে যাবে। তা ছাড়া আলুর বীজের তেমন কোনো সংকট নেই।

কৃষকদের ভাষ্য

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর গ্রামের কৃষক হাকিম আলী বলেন, ‘আমরা গত বছর প্রতি কেজি আলুর বীজ কিনেছি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা করে। এ বছর তার দাম বেড়ে হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। ৩০ টাকায় বীজ কিনে আলু উৎপাদন করেও গত বছর আলুর বাজারে দাম কম পাওয়ায় লোকসান হয়েছে। আর এ বছর সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও বীজের দাম বেশি। তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।

‘বতর্মানে এক বিঘা আলু চাষ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন পড়বে, যা সব কৃষকের পক্ষে জোগাড় করা এক প্রকার অসম্ভব।’

নওদাপাড়া গ্রামের কৃষক রাজা আহমেদ বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষ যেটিই পছন্দ করবে, তারই দাম বেড়ে যাবে। মনে করছিলাম এ বছর দুই বিঘা জমিতে আলুর চাষ করব, তবে আলুর বীজের যে দাম, তাতে করে আলু চাষ করে জয়ী হওয়া যাবে না। বর্তমানে সার, বীজ, বিষ ও জমির লিজ খরচ দিয়ে আলু চাষে যে পরিমাণ খরচ হবে, ভরা মৌসুমে আলু বিক্রি করে সেই টাকা উঠবে না।

‘কারণ আমাদের যে সময় আলু উৎপাদন শেষে বাজারে নিয়ে যাব, তখন আলুর দাম একবারে কমে নিচে গিয়ে ঠেকবে। আর তখনই লস হবে।’

আলু বীজ বিক্রেতা আবদুল মালেক বলেন, ‘এ বছর বীজ অথবা খাবার আলু দুটোর দামই বেশি। গতবার আমরা যে আলুর বীজ এই সময় ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার তার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক চাষিই আলু চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

‘কেননা এত টাকা খরচ করে আলু উৎপাদন শেষে বাজারে বিক্রি করার সময় কৃষকরা আলুর দাম পায় না।’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার মো. সামসুল আলম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আলু বীজের দাম অন‍্য বছরের তুলনায় বেশি। কারণ বাজারে খাওয়ার আলুর দাম বেশি হওয়ায় এমনটি হয়েছে।

‘জেলায় এ বছর ৮৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের সম্ভবনা রয়েছে, যা কিনা গত বছরের সমান। কৃষকরা যত বেশি আলু চাষ করবে, তত বেশি উৎপাদন বাড়বে। উৎপাদন বাড়লেই আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং আলুর বাজারদর কমে আসবে। তাই উৎপাদনের বিকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
বেশি মূল্যে আলু পেঁয়াজ বিক্রি, ব্যবসায়ীদের জরিমানা
মেহেরপুরে আলুর সংকট, কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে
অদৃশ্য হাত আলুর বাজার অস্থির করেছে: ভোক্তা অধিকার
মেহেরপুরে সাপের ছোবলে কলেজছাত্রের মৃত্যু
যে কারণে লবণাক্ত মেহেরপুরের অনেক আবাদি জমি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Irregularity in the distribution of agricultural incentives in Naogaon

নওগাঁয় কৃষি প্রণোদনার বীজ-সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁয় কৃষি প্রণোদনার বীজ-সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নওগাঁয় একই পরিবারের ৮ ব্যক্তি ভিন্ন পরিচয়ে অসাধু উপায়ে সরকারি কৃষি প্রণোদনার সুবিধা নিয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘কৃষি কার্ড থাকলেই সে কৃষক। নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন তাতে কোন সমস্যা নেই।’ একই ব্যক্তির নামে একাধিক কৃষি কার্ড এবং একই পরিবারে ৮ সদস্যদের নামে কৃষি কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। অথচ এ বিষয়ে সর্বশেষ পরীক্ষা করার দায়িত্বটি তার।

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় রবি শস্য উৎপাদনে সরকারি কৃষি প্রণোদনার বরাদ্দকৃত গম বীজ ও সার বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলার কিছু অসাধু কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এমন কর্মকান্ড চলছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় চাষীরা।

চাষীদের অভিযোগ, এক আইডি নাম্বার দিয়ে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে একাধিক নাম ব্যবহার করে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার উত্তোলন করে নিচ্ছে একটি চক্র। তারা এসব বীজ-সার উত্তোলনের পর উৎপাদনের পরিবর্তে বাজারে বিক্রি করছেন। যার কারণে প্রকৃত চাষীরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন না।

এতে লাভবান হচ্ছে সুবিধাভোগী অসাধু একাধিক কৃষি কার্ডধারী ব্যক্তিরা। অন্যদিকে, সরকারি কৃষি প্রণোদনার মূল উদ্দেশ্য কম খরচে শস্য উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।

তারা দাবি করেন, আগে প্রণোদনার বীজ ও সার দেয়ার ক্ষেত্রে যাচাই বাছাইয়ের সুযোগ থাকলেও তা না করেই বর্তমান কৃষি কর্মকর্তারা এভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন বিতরণ কার্যক্রম।

স্থানীয় চাষীরা জানান, রবি শস্য উৎপাদনের জন্য এ বছর ৭০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে কৃষি প্রণোদনার সার ও গমের বীজ বিতরণ করার কথা। উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের জন্য ৫০টি কার্ড বরাদ্দ হয়েছে যা তালিকা অনুযায়ী ইতোমধ্যে কৃষকদের বিতরণ করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী একটি পরিবারের কর্তার নামে একটি কৃষি কার্ড প্রযোজ্য। কিন্তু পরিবারের কর্তার পরিবর্তে একই পরিবারের নারী-পুরুষ সকল সদস্যকে প্রান্তিক কৃষক ও চাষী বানিয়ে এসব প্রণোদনার সার ও বীজ নিয়েছেন। আবার এক আইডি নাম্বারের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে একই ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন নামে হয়েছে এসব বরাদ্দ ও উত্তোলন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউপির ১ নাম্বার ওয়ার্ডের প্রণোদনার সুবিধাভোগী হয়েছেন একই পরিবারের ৮ ব্যক্তি। গোলাম হোসেন ও গোলাম মোস্তফা- দুজনেরই পিতা একজন, তাদের আইডি নাম্বার ২১৪৭৭। হাসান আলী ও তার পিতা গফুর উভয়ের আইডি নাম্বার ০০১৪২। মজিবর আলীর ও মজিবর রহমান উভয়ের পিতা সাইফুল ও ছাইফুল তাদের আইডি নাম্বার ০০৭৮।

এছাড়া প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী নওশেরা বেগম নামে কৃষি কার্ড করে নিয়েছেন। আরেকজন নুরজাহান নামে কার্ডধারী যিনি পিতার জায়গাতে ভিন্ন নাম বসিয়েছেন। এভাবেই একই পরিবারের ৮ সদস্যদের নামেও উত্তোলন হয়েছে কৃষি প্রণোদনা। তারা জানান, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাই তাদের এ অসাধু কাজের সহযোগী।

রবিবার দুপুরে স্থানীয়রা নুরুল্যাবাদ ইউপির জোতবাজারে প্রণোদনার সার ও গমের বীজ ভর্তি একটি ভ্যান আটকের পর ভিডিও ধারণ করেন। এরপর ইউপি সদস্য পাঠিয়েছে এমন কথা বলে ভ্যানটি ইউনিয়ন পরিষদে চলে যায়।

কৃষি প্রণোদনার বরাদ্দকৃত সার ও গম বীজ কৃষকরা সঠিক ভাবে পায়নি এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সন্ধ্যার দিকে নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের কৃষি অফিসে যান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাইমিনুল হক। তবে এ সময় তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় নুরুল্যাবাদ ইউপির উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘এসব কার্ড কিভাবে হয় আপনারা হয়তো জানেন। নাম মাত্র দায়িত্বে থাকলেও এখানে আমাদের করার কিছুই থাকেনা। আমরা কিছু বললে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (স্যার) ভালো চোখে নেন না।’

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘কৃষি কার্ড থাকলেই সে কৃষক। নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন তাতে কোন সমস্যা নেই।’

একই ব্যক্তির নামে একাধিক কৃষি কার্ড এবং একই পরিবারে ৮ সদস্যদের নামে কৃষি কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। অথচ এ বিষয়ে সর্বশেষ পরীক্ষা করার দায়িত্বটি তার।

কথা হলে সোমবার দুপুরে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘একজনকে একাধিক বার কৃষক সাজিয়ে প্রণোদনা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু আপনি এ বিষয়ে অবগত করলেন আমরা খোঁজ নিবো।’

আরও পড়ুন:
২৮ অক্টোবর বিএনপি ঢাকা বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না: কৃষিমন্ত্রী
ময়মনসিংহে বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের অভিযোগ
৩০ অক্টোবর থেকে কৃষি মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু: মেয়র আতিক
স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ
কৃষিতে উদ্ভাবিত নতুন বিষয়গুলো কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে: ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Protest by throwing vegetables on the highway
পাবনায় হরতাল-অবরোধ বিরোধী কৃষকবন্ধন!

মহাসড়কে সবজি ঢেলে প্রতিবাদ

মহাসড়কে সবজি ঢেলে প্রতিবাদ মহাসড়কে কাঁচা সবজি ঢেলে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ বলেন, ‘আমরা কৃষকরা তো কোনো দলের না, রাজনীতিও করি না। আমরা সবজি উৎপাদন করি। কিন্তু আমরা সেই সবজি বিক্রি করতে পারছি না। গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে। এজন্য কোনো গাড়ি আমাদের সবজি বহন করছে না। ব্যাপারিরাও আসছে না।’

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলিতে হরতাল-অবরোধ বিরোধী কৃষকবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো কৃষক। এছাড়াও মহাসড়কে কাঁচা সবজি ঢেলে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে কৃষি ভান্ডারখ্যাত মুলাডুলি সবজি আড়তের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় কর্মসূচিতে এক বক্তা বলেন, ‘আমরা সাধারণ কৃষক, আমরা রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু রাজনীতির ঝামেলায় পড়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার সবজি নষ্ট হচ্ছে। আমরা কৃষকদের জন্য হুমকি, এমন হরতাল-অবরোধ বন্ধ চাই। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কর্মসূচি না দিতে সকল রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মহাসড়কে সবজি ঢেলে প্রতিবাদ

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ বলেন, ‘আমরা কৃষকরা তো কোনো দলের না, রাজনীতিও করি না। আমরা সবজি উৎপাদন করি। কিন্তু আমরা সেই সবজি বিক্রি করতে পারছি না। গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে। এজন্য কোনো গাড়ি আমাদের সবজি বহন করছে না। ব্যাপারিরাও আসছে না।’

কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম, সাংগঠনিক রেজাউল করিম রেজা, সহ-সভাপতি বেলি বেগম ও মৎসজীবী হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কৃষকরা। এ সময় পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কে কাঁচা সবজি ঢেলে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদ জানান তারা।

আরও পড়ুন:
২৮ অক্টোবর পুলিশ হত্যার ঘটনায় আরও একজন গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গুলশানের হোটেল থেকে আটক ১০
অবরোধের তৃতীয় দিনেও চট্টগ্রামে বাসে আগুন, ভাঙচুর 
উত্তরায় পরিস্থান পরিবহনের বাসে আগুন
গাইবান্ধায় মাদ্রাসার মাঠ থেকে ককটেল, পেট্রলবোমা উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bagbatis olive market has a daily sales of Tk 4 lakh

বাগবাটির জলপাইয়ের হাটে দৈনিক বেচাকেনা ৪ লাখ টাকা

বাগবাটির জলপাইয়ের হাটে দৈনিক বেচাকেনা ৪ লাখ টাকা সিরাজগঞ্জের বাগবাটিতে বসেছে জলপাইয়ের হাট। ছবি: নিউজবাংলা
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, অর্থকারী ফসলের পাশাপাশি পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা এবং জলপাই চাষে আশাতীত সাফল্য থাকায় চাষিদের এসব ফল চাষে কৃষি বিভাগের তদারকি বাড়ানো হয়েছে।’

মৌসুম জুড়ে সিরাজগঞ্জের বাগবাটিতে জলপাইয়ের হাট সরগরম থাকে। প্রতিদিন এই হাটে গড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার জলপাই কেনাবেচা হচ্ছে। বাগান থেকে জলপাই সংগ্রহ করে আড়ৎদারের কাছে বিক্রি করেই জীবিকা চলছে এলাকার শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চাষিদের।

এদিকে, সদর উপজেলার বাগবাটি জলপাই হাট থেকে আমদানি করা জলপাই চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। মান ও গুনের কারণে চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। চাহিদা এবং লাভজনক হবার কারণে প্রতি বছর জলপাই বাগানের পরিধিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পিপুলবাড়িয়া বাজার, সীমান্ত বাজার ও রতনকান্দি হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জলপাই ক্রয় করছে। সেই জলপাইগুলো কেউ পানি দিয়ে পরিস্কার করছে আবার কেউ বস্তায় ভরে ট্রাকে তুলছেন কিনে নেয়া জলপাই।

বাগবাটির জলপাইয়ের হাটে দৈনিক বেচাকেনা ৪ লাখ টাকা

মৌসুম আসার আগেই বাগান মালিকদের জামানত দিয়ে বাগান কিনে নেয় বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। ফল পরিপক্ব হলে বাগান থেকে ফল তুলে নিয়ে আড়তে যায় তারা। ফলে কোনো বিড়ম্বনাই থাকছে না এলাকার চাষি-ব্যবসায়ীদের মধ্যে। প্রতি কেজি জলপাই প্রকারভেদে ১৫ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হাটে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার জলপাই দৈনিক কেনাবেচা হয় বলে জানান স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।

হাটে জলপাই বিক্রি করতে আসা উপজেলার ঘোড়াচরা গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছ বিক্রি থেকে একদিন দুই মণ করে জলপাই এ হাটে এনে বিক্রি করি। প্রতিদিন জলপাই হাট ছাড়াও রোববার ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক এই হাট বসে।

ব্যবসায়ী মজিদ বলেন, ‘এ মৌসুমে ২০ জন মিলে প্রায় ২৫ লাখ টাকার জলপাই বাগান কিনেছি। পরিবেশ ভালো থাকলে প্রতি বাগান থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার জলপাই বিক্রির আশা করছি।

আমিনপুর গ্রামের জলপাই বাগানের মালিক আবদুল করিম বলেন, ‘হাটে গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার জলপাই বিক্রি হয়। প্রকারভেদে প্রতি কেজি জলপাইয়ের দাম থাকে ১৫ থেকে ৩৫ টাকা পরে প্রতি কেজিতে। এখানে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ টন জলপাই বেচাকেনা হয়।’

বাগবাটির জলপাইয়ের হাটে দৈনিক বেচাকেনা ৪ লাখ টাকা

স্থানীয় চর-খাতা গ্রামের শামমুল মন্ডল জানান, বাগবাটি ইউপিতে জলপাইয়ের ছোট-বড় অনেক বাগান আছে। আরও নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে এ ব্যবসার সাফল্য দেখে। জলপাইয়ের ভালো দাম পাওয়ার কারণে চাষিদের মধ্যে বাগান করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই এলাকার জলপাইয়ের আকার ও স্বাদে ভালো হওয়ার কারণে বাজারে এর চাহিদা অনেক। এ হাটে জলপাই বিক্রি হয় সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত।’

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘জলপাইয়ের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। এ বছর সদর উপজেলাতে ৩১ হেক্টর জমিতে জলপাই চাষবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৯১০ টন।’

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, অর্থকারী ফসলের পাশাপাশি পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা এবং জলপাই চাষে আশাতীত সাফল্য থাকায় চাষিদের এসব ফল চাষে কৃষি বিভাগের তদারকি বাড়ানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রশিক্ষণে ভাগ্য বদলেছে দীনেশের
ভরা মৌসুমে ইলিশখরায় দুশ্চিন্তায় বাগেরহাটের জেলেরা
জোয়ার ও নিম্নচাপে প্লাবিত বাগেরহাট
ডিজে গানে কান ঝালাপালা ভাসমান পেয়ারার হাটে, অর্থদণ্ড
পানি কমেছে তিস্তা ধরলার, এখনও প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kaptai developed two improved varieties of coffee

কাপ্তাইয়ে কফির উন্নত দুটি জাত উদ্ভাবন

কাপ্তাইয়ে কফির উন্নত দুটি জাত উদ্ভাবন অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা নামের দুটি উন্নত কফির জাত উদ্ভাবন করেছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই রাইখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি বছরে প্রায় সবকটি কফি চারায় ভালো ফলন হয়েছে। পাহাড়ে কফির চাষের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা নামের দুটি উন্নত কফির জাত উদ্ভাবন করেছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই রাইখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। এখানে কফি চাষের পাশাপাশি চলছে কাজু বাদাম চাষ।

রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ নম্বর ব্লকে প্রায় ২ একর জমিতে অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা জাতের কফিসহ কাজুবাদামের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করা হয় এবং ইতোমধ্যে প্রকল্পের রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলার ৯০ জন কৃষককে কফি ও কাজুবাদামের আধুনিক কলাকৌশল, চাষ বিষয়ে অবহিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি বছরে প্রায় সবকটি কফি চারায় ভালো ফলন হয়েছে। পাহাড়ে কফির চাষের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

কফি ও কাজুবাদাম চাষের বিষয়ে রাইখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শৈবাল সরকার সাগর বলেন, ‘আমি রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে গত বছর ২ একর কৃষি জমিতে রোবাস্টা জাতের কফি চাষ করেছি। কিছু চারায় ইতোমধ্যে ফল এসেছে। আশা করছি আমরা কৃষকরা লাভবান হব।’

তিন পার্বত্য জেলার কফি ও কাজু বাদাম চাষ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়ক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পটি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে বর্তমানে সফলতার দ্বারপ্রান্তেই রয়েছি। ৩ বছরের মাথায় কফিতে ভালো ফলন এসেছে এটা আমাদের জন্য বিশাল একটি সুখবর। পাহাড়ের আবহাওয়া ও মাটি কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কফি ও কাজু বাদাম চাষে পাহাড়ের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষি ক্ষেত্রে একটি আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করি।”

সম্প্রতি জেলার রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কফি ও কাজু বাদাম চাষের বাগান পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার।

রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাহাড়ের কৃষকদের মাধ্যমে ২৭টি উপযোগিতা যাচাই করে কফি ও কাজুবাদামের পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। এতে অধিকাংশ ব্লকে অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা দুটি উন্নত জাতের কফি চাষে সফল হয়েছেন এখানকার বিজ্ঞানীরা। পাহাড়ে কফির উন্নত দুটি জাত উদ্ভাবনের সফলতাকে কাজে লাগাতে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবস পালনসহ তাদের কফি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’

কফি চাষের এ সফলতাকে কাজে লাগাতে সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রকার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাঙ্গামাটির রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রায় ২ একর জমিতে অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা জাতের কফির চাষের সফলতাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলে কফি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনসহ উৎপাদিত কফি দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের।

পাহাড়ে চাষ উপযোগী ফসলের জাত এবং অন্যান্য কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে পাহাড়ি এ অঞ্চলে কৃষির উন্নয়নে ১৯৭৬ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নে প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে উঠে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

ইতোমধ্যে এ গবেষণা কেন্দ্রে বিভিন্ন ফলের জাত উদ্ভাবন করে সফলতা অর্জন করেছেন এ কেন্দ্রে কর্মরত বিজ্ঞানীরা। এখানে রয়েছে নানা ধরনের দেশি-বিদেশি নতুন উদ্ভাবনকৃত ফল ফলাদির বাগানের সমারোহ।

পাহাড়ের কৃষি উৎপাদনের ‘বাতিঘর’ রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এবার কফি ও কাজুবাদাম চাষ এবং গবেষণা করে সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছেছে এ গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
আজ ‘কফি আইসক্রিম’ খাওয়ার দিন
কফি পানের অভ্যাস কমায় মৃত্যুঝুঁকি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Buyers have to pay higher prices for vegetables in advance of winter

শীতকালীন আগাম সবজিতে অধিক দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের

শীতকালীন আগাম সবজিতে অধিক দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে গাছে সিম আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে দিন ছোট হয়ে আসায় শীত বাড়ছে। এতে করে সিমসহ অন্যান্য আগাম জাতের শাকসবজির আবাদ ভাল হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করছি।’

নওগাঁর বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন আগাম সবজি। সরবরাহের তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশ চড়া। বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষীরা। তবে দাম উর্ধ্বমুখী হওয়ায় অস্বস্থিতে ক্রেতা। সবজির বাজার স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক মাসের অধিক সময় লাগবে বলে জানাচ্ছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিভিন্ন জাতের প্রায় ৮ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০ টন শাকসবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে।

ভোরের কুয়াশা শাকসবজির ফুল ও লতায় পড়লেও সকালের সূর্যের আলোয় তা বিলিন হয়ে যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা।

অনাবৃষ্টিতে শাকসবজির আবাদে কৃষকদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আবার সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে অতিবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অনাবৃষ্টি এবং অতিবৃষ্টিতে শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে শাকসবজির উৎপাদন ব্যহৃত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কম হওয়ায় বেড়েছে সবজির দামও।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের সোমবাড়ি হাট। সোমবার সাপ্তাহিত হাটবার। এ হাটে ভোর থেকে দিনব্যাপী চাষীরা তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। করেন পাইকারি বেচাকেনা। হাট ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিম, ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বেগুন ও করলা ৯০ টাকা কেজি, মুলা ও বরবটি ৫০ টাকা কেজি, পটল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি, ওল ৩৫ থেক ৪০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৪০ টাকা পিস এবং লাউ ২০ থেকে ২৬ টাকা পিস।

ব্যবসায়িরা এ হাট থেকে সবজি কিনে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে থাকেন।

বর্ষাইল গ্রামের সবজি চাষি লতিফুর রহমান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে চার হাজার পিস ফুলকপির চারা লাগিয়েছিলাম। কিছুদিন আগের বৃষ্টিতে বেশকিছু চারা নষ্ট হয়ে যায়। হাটে ৭০ পিস ফুলিকপি নিয়ে এসেছি। প্রতি পিস ৪০ টাকা হিসেবে বিক্রি করলাম। গত হাটে ১৫ পিস বিক্রি হয়েছে। দিন যত যাবে ফুলকপি তত বড়ো হবে।’

কেশবপুর গ্রামের সিম চাষী সাগর হোসেন বলেন, ‘দুই কাঠা জমিতে সিমের আবাদ করেছি। গাছে ফুল আসলেও ফল আসতে দেরি হয়েছে। দুই বার সাত কেজি সিম বিক্রি করেছি। পাইকারিতে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সিমের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশি পেয়ে লাভবান হচ্ছি এখন পর্যন্ত। তবে উৎপাদনের পরিমাণ যখন বেশি হবে তখন দাম কমে আসবে।’

পাইকারি ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, ‘সবজির দাম অতিরিক্ত। কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। সবজির উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এতে দামও বেশি। সাপ্তাহিক এক দিনের এ হাটে প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। আগের বছর এ সময় প্রচুর পরিমাণ সবজি বাজারে উঠতো। তবে এ বছর তার ব্যতিক্রম।’

জাহিদুল হক নামের আরেক পাইকারী ব্যবসায়ী বলেন, ‘কৃষকরা সবজির দাম পাচ্ছেন বেশ ভালো। তবে এবার সবজি কিছুটা কম উঠেছে বাজারে। তবে আশা করছি কয়েকদিন পর আরও বেশি পরিমাণে সবজি উঠতে শুরু করবে বাজারে।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে গাছে সিম আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে দিন ছোট হয়ে আসায় শীত বাড়ছে। এতে করে সিমসহ অন্যান্য আগাম জাতের শাকসবজির আবাদ ভাল হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
‘সবজির দাম শুনলে চোখে পানি চলে আসে’
বৃষ্টিতে ‘ভাসল’ দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রীর জনসভা
‘হঠাৎ বৃষ্টি’ আরও ৩ দিন
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, স্থবির নগরজীবন
নির্বাচনের আগে জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে

মন্তব্য

p
উপরে