× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
CTTC hopes to end the chapter of militancy with the arrest of Shamin
google_news print-icon

শামিন গ্রেপ্তারে জঙ্গিবাদের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখছে সিটিটিসি

শামিন-গ্রেপ্তারে-জঙ্গিবাদের-একটি-অধ্যায়ের-সমাপ্তি-দেখছে-সিটিটিসি
শামিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন শেষে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শামিন মাহফুজ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অনেকগুলো পর্যায়ে জড়িত। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে আমরা আরও অনেক তথ্য পাব, যেগুলো ভবিষ্যতে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে আমাদের জন্য অনেক অনেক সহায়ক হবে। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের একটি অধ্যায় সমাপ্ত হবে।’

পুরোনো জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যদের নিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। নতুন সংগঠনের আধ্যাত্মিক নেতা ও প্রধান শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শামিন মাহফুজ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অনেকগুলো পর্যায়ে জড়িত। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে আমরা আরও অনেক তথ্য পাব, যেগুলো ভবিষ্যতে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে আমাদের জন্য অনেক অনেক সহায়ক হবে। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের একটি অধ্যায় সমাপ্ত হবে।’

সিটিটিসি জানায়, শুক্রবার রাজধানীর ডেমরা থেকে শামিন মাহফুজ ও তার স্ত্রী নাসরিনকে বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ আইইডি বানানোর সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে জঙ্গিবাদে শামিন

সিটিটিসি জানায়, রংপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন শামিন। এসএসসিতে রাজশাহী বোর্ডে পঞ্চম স্থান অর্জন করেন তিনি। কলেজে থাকা অবস্থায় ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানার পর তাকে বহিষ্কার করে। অন্য একটি কলেজ থেকে এইচএসসিতে সপ্তম স্থান অধিকার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তখনকার জঙ্গি সংগঠন জমিয়েতুল মুসলিমিনের দাওয়াত পেয়ে যুক্ত হন তিনি। সংগঠনটির পরবর্তী রূপ আনসার আল ইসলাম।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বড় ভাইয়ের ছেলে শরীফের মাধ্যমে জমিয়েতুল মুসলিমিনের দাওয়াত পান শামিন। ২০০৭ সাল থেকে এই সংগঠনের আধ্যাত্মিক নেতা জসিমউদ্দিন রাহমানীর সংস্পর্শে আসেন। তারেক সোহেল, এজাজ কারগিল, শামীম, সাখাওয়াত শফিক— যারা ওই সময়ের শীর্ষ নেতৃত্ব, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।’

শামিন মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন শামীন মাহফুজ। শিক্ষকতা করাকালীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার জন্য এনরুলমেন্ট হয়। তার সাবজেক্ট ছিল পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীর জীবনযাপন। ইচ্ছে করেই এই বিষয়টি বেছে নেয়, যাতে পিএইচডির আড়ালে পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পসহ একটি আস্তানা করা যায়।’

‘কারাগারে বসে পরিকল্পনা’

শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তারের পর সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ নিয়ে তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছেন শামিন মাহফুজ। ২০১১ সালে বিজিবি তাকে বিপুল পরিমাণ আইইডি তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে একই কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। দ্বিতীয়বার ২০১৪ সালে ডিবি তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে রাখা হয় কাশিমপুর কারাগারে।

তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকাকালীন নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা হয়। কারাগারে তিনি আটক হুজি ও জেএমবির শীর্ষ নেতৃত্বের সংস্পর্শে আসেন। তার মধ্যে অন্যতম জেএমবির মাওলানা সাইদুর রহমান, হুজির হাফেজ ইয়াহিয়া, আবু সাঈদ, মুফতি হান্নান। তারা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনের প্রথম আমির রক্সিও তখন জেলে ছিল।

‘জেলে আটক জঙ্গিরা জানতেন, শামিন ও রক্সি দ্রুত জেল থেকে ছাড়া পাবেন। তাদের দায়িত্ব দেয়া হয় হুজি, জেএমবি, আনসার আল ইসলামসহ সকল জঙ্গিকে নিয়ে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য। ২০১৭ সালে রক্সি জামিন পান, ২০১৮ সালে শামীন জামিন পান। বের হয়ে তারা নতুন জঙ্গি সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। তখনও সংগঠনের নামকরণ করা হয়নি। প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করতে থাকে। শামীম পার্বত্য এলাকাকেন্দ্রিক আস্তানা গড়ার জন্য কাজ করতে থাকে। রক্সি সমতলে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। ২০১৯ সালে রক্সিকে আমির নিয়োগ করে।’

নাথান বম ও শামিনের সম্পর্ক

পাবর্ত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান লনচেও বম। শামিন ও নাথান বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু।

সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘কুকি-চিনের প্রধান নাথান বম, শামিনের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু। শামিন এসএম হলে ও নাথান বম থাকতেন জগন্নাথ হলে। সূদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে নাথান বমের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন শামিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে নাথান বমের সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে পরিদর্শনে গিয়েছেন।

‘এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে জঙ্গি সংগঠন সৃষ্টি ও সদস্যদের সশস্ত্র জিহাদের জন্য প্রস্তুত করতে ট্রেনিং ক্যাম্প করার প্রস্তাব দেন শামিন। সেই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ২০২০ সালে কক্সবাজারে বে ওন্ডার্স নামে হোটেলে বসে তারা একটি সমঝোতা করেন।’

সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘হাতে লেখা সমঝোতা স্মারকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুই পৃষ্ঠার স্মারকে কীভাবে ট্রেনিং ক্যাম্প হবে এবং পরস্পর কীভাবে সহযোগিতা করবে তা বিস্তারিত উল্লেখ আছে।’

তিনি বলেন, ‘তখন থেকেই সংগঠনে প্রশিক্ষণ যাত্রা শুরু। ২০২১ সালে প্রথম সিলেট থেকে ছয় তরুণ নিখোঁজ হয়। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে জানতে পারি, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ১২ জন সদস্যকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। সেটা ছিল কেএনএফ ক্যাম্পের কাছে।

‘এই ক্যাম্পের নাম দিয়েছিল কেটিসি ক্যাম্প। ২০২২ সালের শুরুর দিকে ত্রিশের অধিক, সর্বশেষ কুমিল্লা থেকে সাত তরুণ নিখোঁজ হন। তখন ১৫ থেকে ২০ জনের একটা গ্রুপ ট্রেনিং ক্যাম্পে যায়।’

সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বসেই নতুন জঙ্গি সংগঠনের আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। শামিন মাহফুজের প্রস্তাব মতেই সংগঠনের নামকরণ করা হয় জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। সকলে একটাকে সমর্থন করে। ২০২১ সালে রক্সি গ্রেপ্তার হয়। তিনি ছিলেন প্রথম আমির। তাকে গ্রেপ্তারের পর আনিসুল ইসলাম ওরফে মাহমুদ ওরফে তমালকে ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে নিয়োগ দেয়।’

নেতৃত্ব পাওয়া প্রায় সবাই গ্রেপ্তার

নামকরণ করার পর শুরা কমিটি গঠন করে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। শুরা কমিটির দায়িত্ব পাওয়া প্রায় সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটিটিসির প্রধান।

তিনি বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিক নাম নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। তখন একটি শুরা কমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্নজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মো. মহিবুল্লাহ ওরফে ভোলার শায়েখকে নায়েবে আমির নিযুক্ত করা হয়, যাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। ডা. শাকেরকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি, যিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন।

‘তিনি দাওয়া বিভাগের প্রধান ছিলেন। আইটি বিভাগের প্রধান করা হয় সাকিব বিন কামালকে। তাকেও আমরা গ্রেপ্তার করেছি। অর্থ বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয় রাকিবকে। মাইমুনকে সামরিক বিভাগের দায়িত্ব দেয়। আমরা প্রথম অভিযান শুরু করলে এই ক্যাম্পের সন্ধান পাই। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়।’

নাথান বম সবাইকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করার একটি প্রস্তাব শামিন মাহফুজকে দিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে সিটিটিসি। শামিনকে গ্রেপ্তারের পর একটি গোপন কথোপকথন পায় তদন্ত কর্মকর্তারা।

সেই কথোপকথনের বরাতে সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘সেই কনভারসেশনে দেখা যায়, দ্বিতীয় আমির, শুরা কমিটির সদস্য পাশাপাশি নাথান বম তাদের দলবল নিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য শামিন মাহফুজকে প্রস্তাব দেয়। শামিন মাহফুজ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তিনি নির্দেশ দেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। তারই নির্দেশে বিভিন্ন সময় অভিযানে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ও কুকি-চিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল।’

সিটিটিসির প্রধান বলেন, “শামিন মাহফুজ নির্দেশ দিয়েছিলেন, যুদ্ধ হবে আক্রমণাত্মক। রক্ষণাত্মক নয়। কোট করে বলতে গেলে, ‘শামিন মাহফুজ বলেছিল, ওরা আক্রমণ করলে ওদের এমন ধাওয়া করবেন যেন একটাও পালিয়ে না বাঁচতে পারে। যুদ্ধ হবে আক্রমণাত্মক; রক্ষণাত্মক নয়।’ এই নির্দেশনায় তারা আত্মসমর্পণ থেকে ফিরে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদ ছিল উদ্দেশ্য’

শামিনের সংগঠন দেশ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ করতে চেয়েছিল জানিয়ে সিটিটিসির প্রধান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারা মনে করে, যারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করে, তারা মুরতাদ। তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ, সশস্ত্র যুদ্ধ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এমন একটা প্রস্তুতি নিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছিল। দেশের অনেক যুবককে বিভ্রান্ত করে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

‘পরবর্তী সময়ে সকল শীর্ষ জঙ্গি গ্রেপ্তার হলেও মূল ব্যক্তি অধরা থেকে গিয়েছিল। আমরা শুরু থেকেই বলছিলাম, শামিনকে না ধরা পর্যন্ত এই সংগঠনের উদ্দেশ্যের বিষয়ে স্পষ্ট হতে পারব না। আমরা তাকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করেছি।’

আরও পড়ুন:
শামিনকে দলবল নিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলেন নাথান বম: সিটিটিসি
নতুন জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণে দেশি-বিদেশি অস্ত্র: সিটিটিসি
সৌদিতে ছিলেন ইমাম, দেশে ফিরে জঙ্গি ক্যাম্পে, দাবি সিটিটিসির
‘জঙ্গিদের অনলাইন কার্যক্রমও এখন নিয়ন্ত্রণে’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Reporter of fake milk production in Pabna allegedly beaten and broken leg

নকল দুধ তৈরির সংবাদ প্রকাশ করায় পিটিয়ে সাংবাদিকের পা ভাঙার অভিযোগ

নকল দুধ তৈরির সংবাদ প্রকাশ করায় পিটিয়ে সাংবাদিকের পা ভাঙার অভিযোগ আহত মানিক হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ বিষয়ে মামলা রুজু হলে আসামিদের আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া নকল দুধ তৈরির বিষয়টি বর্তমানে খুবই আলোচিত। এ বিষয়েও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার পুঁইবিল গ্রামে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মানিক হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারধরের সময় তার মোটরসাইকেল ও মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়। মানিক ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের চক লক্ষীকোল গ্রামের দুগ্ধ ব্যবসায়ী রাজীব আহমেদ এবং কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নকল দুধ তৈরির করে বাজারজাত করে আসছেন। এ নিয়ে কিছুদিন আগে মানিক হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিক নকল দুধ তৈরির ভিডিও ধারণ করেন।

এসব ভিডিও উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনকে দেখালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতবিনিময় সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সুশীল সমাজের বক্তারা এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

পরে এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজিব আহমেদ ও আবুল বাশারের নেতৃত্বে বায়েজিদ, রাজিব ও মাহাতাবসহ ১০ থেকে ১২জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী মঙ্গলবার সকালে পুঁইবিল সড়কে মানিককে একা পেয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেযন।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মানিককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। অবস্থা মুমূর্ষু হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা মানিককে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

আহত প্রতিনিধি মানিক বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর থেকে নকল দুধ তৈরির ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে কয়েকদিন হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় আমাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে এবং সেই পেটানোর ভিডিও করেছে তারা। আমার মোটরসাইকেল ও মোবাইল কেড়ে নিয়েছে। আমি আমার পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ইকরামুন নাহার শেলী বলেন, ‘এক্সরেতে দেখা যায় মানিকের পায়ের হার ডিসপ্লেস হয়ে গেছে। এর চিকিৎসা ভাঙ্গুড়ায় সম্ভব নয়। তাই পাবনা পাঠানো হয়েছে।’

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ বিষয়ে মামলা রুজু হলে আসামিদের আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া নকল দুধ তৈরির বিষয়টি বর্তমানে খুবই আলোচিত। এ বিষয়েও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Youth arrested in case of rape of madrasa student

মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যুবক গ্রেপ্তার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুলফিকার আলী বলেন, ‘গত বছরের ৭ আগস্ট মেয়েটির বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সুমন মেয়ের ঘরে ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। পরে রাতে মেয়েটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে সুমন।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পঞ্চম শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার হোসেন মার্কেট এলাকা থেকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার মহিদুল ইসলাম ওরফে সুমন (২৮) গৌরীপুরের মাওয়া ইউনিয়নের কুমড়ী গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুলফিকার আলী বলেন, ‘স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে ওই শিক্ষার্থী। মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে মেয়েটিকে বিরক্ত করত সুমন। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। গত বছরের ৭ আগস্ট মেয়েটির বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সুমন মেয়ের ঘরে ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে।

‘পরে রাতে মেয়েটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে সুমন। এ সময় ডাক-চিৎকারের একপর্যায়ে মেয়েটির মানসিক প্রতিবন্ধী মা এগিয়ে এলে সুমন দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনায় ২২ আগস্ট মেয়েটির বাবা থানায় বাদী হয়ে সুমনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। ঘটনাটি র‌্যাবের নজরে আসলে ছায়াতদন্ত শুরু করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুমনের পালিয়ে থাকার অবস্থান জানতে পেরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সুমনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
নাটোরে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার
সাংবাদিককে মারধর: আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিনজনের নামে মামলা
বান্দরবানে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় ৪ মামলা
চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Munshiganj Awami Leagues two groups attacked and looted the marriage house of the cocktail explosion

মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭

মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭ হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর। ছবি: নিউজবাংলা
মুন্সীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে এ সংঘাতের ঘটনা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে পুলিশ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
মুন্সীগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাতজন।
সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে এলাকায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে এ ঘটনার শুরু, চলে বেশ কিছুক্ষণ। এ সময় উভয় পক্ষের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারীর অনুসারী বাহাদুর মিয়া ও ইউপি সদস্য ডলি বেগম গ্রুপের সঙ্গে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহসিনা হক কল্পনার অনুসারী বাবু কাজী, শওকত ও ইউপি সদস্য সুমা গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে উভয় পক্ষ মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। এ সময়ে গাবুয়া বাড়ি এলাকার বাবু কাজী নেতৃত্বে বিয়ে বাড়িতে হামলা করে করে নিয়ে যায় সবকিছু।
এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উভয় পক্ষ ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলতে থাকে এবং ওই ইউনিয়নের ঢালীকান্দি, মুন্সীকান্দি ও উত্তর বেহেরকান্দি গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষ গুলিবর্ষণ করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
গুলিবিদ্ধ সিফাত (২০) ও ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত আম্বিয়া খাতুনকে (৬০) মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘাতের সময় মুন্সীকান্দি গ্রামে একটি বিয়ে বাড়িতে মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাহার উদ্দিনের ছেলে আশিকের বিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। বাহার উদ্দিনের ছেলে আশিকের বিয়েকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বাড়িতে আনন্দ করছিলেন আত্মীয় স্বজনরা। এ সময় প্রতিপক্ষ বাবু কাজীর লোকজন অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হামলা করে গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

বাহার উদ্দিনের ভাষ্য, ব্যাপক ভাঙচুর, নববধুর পরিহিত স্বর্ণালংকারসহ বাড়ির অন্যদের গহনা লুটপাট করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থান্ডার খায়রুল হাসান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আমিনুল বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে এ সংঘাতের ঘটনা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে পুলিশ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। বিয়ে বাড়িতে হামলা করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে। তবে এখানে কেউ আহত হয়নি। বিয়ে বাড়ির লোকজন অভিযোগ করেছে তাদের স্বর্ণালংকার, খাবার নিয়ে গেছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 fugitive accused in Jhenaidah murder case arrested

ঝিনাইদহে হত্যা মামলার ৬ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহে হত্যা মামলার ৬ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার শৈলকুপায় হত্যা মামলার ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয়রা জানায়, রোববার বিকেলে কাদা খেলা নিয়ে ওই গ্রামের মাতব্বর সুনিল বিশ্বাসের সঙ্গে অধির বিশ্বাস নামের এক চৈত্র সন্ন্যাসীর কথা কাটাকাটি হয়। দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে সন্ন্যাসীকে থাপ্পড় দেন সুনিল বিশ্বাস। এরই জের ধরে রাতে বাড়ির পেছনে গেলে সুনিল বিশ্বাস ও তার ছেলে স্বাধীনকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন সন্ন্যাসীরা।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্বাধীন বিশ্বাস হত্যা মামলার ছয়জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬।

উপজেলার ভাটই বাজার এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানায় র‍্যাব।

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন ভগবাননগর গ্রামের সজীব বিশ্বাস (২০), বিজয় বিশ্বাস (১৮), সুশান্ত বিশ্বাস (৩৫), সুভাষ বিশ্বাস (৪০), প্রশনজিৎ বিশ্বাস (২৬) ও পলাশ বিশ্বাস (১৬)।

এর আগে রোববার রাতে উপজেলার ভগবান নগর গ্রামের আদিবাসী পাড়ার সুনিল বিশ্বাসের ছেলে স্বাধীন বিশ্বাসকে (২২) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন আরও একজন।

স্থানীয়রা জানায়, ভগবান নগর গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নীলপূজার অংশ হিসেবে কাদা খেলার আয়োজন করে স্থানীয় বাগদি সম্প্রদায়। রোববার বিকেলে এ নিয়ে ওই গ্রামের মাতব্বর সুনিল বিশ্বাসের সঙ্গে অধির বিশ্বাস নামের এক চৈত্র সন্ন্যাসীর কথা কাটাকাটি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে সন্ন্যাসীকে থাপ্পড় দেন সুনিল বিশ্বাস। এরই জের ধরে রাতে বাড়ির পেছনে গেলে সুনিল বিশ্বাস ও তার ছেলে স্বাধীনকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন সন্ন্যাসীরা। রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই দিন রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাধীনের মৃত্যু হয় স্বাধীনের।

এ ঘটনায় স্বাধীন বিশ্বাসের বাবা বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে শৈলকুপা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, সোমবার বিকেলে র‌্যাব-৬ (ঝিনাইদহ ক্যাম্প)-এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকুপা উপজেলার ভাটই বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয়জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের মঙ্গলবার সকালে শৈলকুপা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
রূপপুরে পড়ে গিয়ে আহত শ্রমিকের মৃত্যু
ময়মনসিংহে দুই বাসের সংঘর্ষে নারীসহ ২ জন নিহত
কাদা খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ‘সন্ন্যাসীদের’ পিটুনিতে যুবক নিহত
ঝরে গেল হাসনাহেনা, মা শুধুই কাঁদছেন
গাছে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ২ যুবক নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The sound of mortar shells is coming intermittently in Teknaf

টেকনাফে থেমে থেমে আসছে মর্টার শেলের শব্দ

টেকনাফে থেমে থেমে আসছে মর্টার শেলের শব্দ কক্সবাজারের টেকনাফের একটি এলাকা। ছবি: নিউজবাংলা
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, ‘মনে হচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি এবং দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হচ্ছে। এ কারণে সীমান্তে আগের তুলনায় এখন বিস্ফোরণের শব্দ বেশি শোনা যাচ্ছে।’

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের চলমান লড়াইয়ের মধ্যে থেমে থেমে মর্টার শেলের শব্দ ভেসে আসছে সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফে।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলাটিতে মর্টার শেলের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাদের ভাষ্য, সীমান্তে বসবাসকারীদের জন্য নাফ নদী দিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া এবং টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ঈদের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। তখন মিয়ানমারের ওপার থেকে ভারি বিস্ফোরণের শব্দ এপারে ভেসে আসে। এতে সীমান্তের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে।

‘সারা দিন থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও রাতে তা তীব্র হয়ে উঠে আরও। এখনও এ রকম চলতেছে। এপারের ভূখণ্ডে গোলা না পড়লেও ভূখণ্ড কাঁপছে ঠিকই।’

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, ‘মনে হচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি এবং দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হচ্ছে। এ কারণে সীমান্তে আগের তুলনায় এখন বিস্ফোরণের শব্দ বেশি শোনা যাচ্ছে।

‘ঈদের দিন ও মধ্যরাতসহ এখনও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ওপার থেকে টেকনাফ সীমান্তে ভেসে আসছে।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের কোনো নাগরিক যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সীমান্তবর্তী রাখাইনে তাদের অভ্যন্তরের অনেক দূরে গোলাগুলি চলছে। এ কারণে এপারে বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের সীমান্তবর্তী লোকজনের ভয়ের কোনো কারণ নেই। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের ১৮০ সেনা ফিরে যাবে, তবে এখনই নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিন সপ্তাহ পর উদ্ধার টেকনাফে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্র ছোয়াদ
৮০০ টাকার জন্য যুবককে গুলি করে হত্যা, দাবি পরিবারের
নওগাঁ সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর
টেকনাফের অপহৃত চারজন ফিরেছেন ‘মুক্তিপণ দিয়ে’, এক কৃষকের খোঁজ নেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Former UP member injured in BSF firing in Lalmonirhat

লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে সাবেক ইউপি সদস্য আহত

লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে সাবেক ইউপি সদস্য আহত আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম নান্নু। ছবি: নিউজবাংলা
ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় গরু পাচার করতে সন্ধ্যার পর তালুক দুলালী বড় মালদি সীমান্ত এলাকার ২১ নম্বর পিলার সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার পাশে যান গরু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম নান্নুসহ কয়েকজন। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছুড়লে সাইফুল ইসলাম নান্নু গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে উপজেলার লোহাকুচি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাইফুল ইসলাম নান্নু নামের সাবেক এক ইউপি সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের তালুক দুলালী বড় মালদি এলাকায় অবস্থিত ২১ নম্বর পিলার সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে আহত সাইফুল ইসলামকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান বিজিবির সদস্যরা।

এলাকাবাসী জানান, ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় গরু পাচার করতে সন্ধ্যার পর তালুক দুলালী বড় মালদি সীমান্ত এলাকার ২১ নম্বর পিলার সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার পাশে যান গরু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম নান্নুসহ কয়েকজন। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছুড়লে সাইফুল ইসলাম নান্নু গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সঙ্গীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোহাকুচি বিজিবি ক্যাম্পের টহল দলকে খবর দিলে তারা আহত সাইফুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

৪৮ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম নান্নু তালুক দুলালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য।

এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক বিক্রম চন্দ্র বলেন, ‘আহত সাইফুল ইসলাম নান্নুকে পিঠের নিচে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে আসে বিজিবি। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’

বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে নাম ঠিকানা এখনও জানতে পারিনি।’

আরও পড়ুন:
অভয়নগরে গুলিতে ৩ আওয়ামী লীগ নেতা আহত
সাইফুলের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ
বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটে দুই বাংলাদেশি আহত
লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, দুজন আহত
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
40 gold bars arrested from Maheshpur border 2

মহেশপুর সীমান্ত থেকে ৪০টি স্বর্ণের বারসহ আটক ২

মহেশপুর সীমান্ত থেকে ৪০টি স্বর্ণের বারসহ আটক ২ ছবি: নিউজবাংলা
আটককৃত স্বর্ণের ওজন ৪ কেজি ৬৩৩ গ্রাম বলে জানান ৫৮ বিজিবি মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সালাহউদ্দিন চৌধুরী।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে ৪০টি স্বর্ণের বারসহ দুজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী পলিয়ানপুর সীমান্তের ছয়ঘরিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- মহেশপুর উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী মো. জসিম উদ্দিন ও ৪০ বছর বয়সী মো. হুমায়ন কবির।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ৫৮ বিজিবি মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সালাহউদ্দিন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে সোনা পাচার হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করে বিজিবি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছয়ঘরিয়া নামক স্থানে মহেশপুর থেকে সীমান্তের দিকে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়।

তিনি জানান, ওই দুই ব্যক্তির শরীর তল্লাশি করে ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। আটককৃত স্বর্ণের ওজন ৪ কেজি ৬৩৩ গ্রাম বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন ও হুমায়ন কবির নামের ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দিয়ে আসামিদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পায়ুপথে স্বর্ণের ৬ বার, একজন আটক

মন্তব্য

p
উপরে