× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য শিল্প ইভেন্ট উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন মানসিক স্বাস্থ্য অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ ইউরোপ ব্লকচেইন ভাষান্তর অন্যান্য ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Gaibandhars jinn is all over the country
google_news print-icon

গাইবান্ধার ‘জ্বীনের আছর’ দেশজুড়ে

গাইবান্ধার-জ্বীনের-আছর-দেশজুড়ে-
দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই শিরোনাম হয় ‘জ্বীনের বাদশা’ আটকের খবর। এসব ঘটনায় আটক প্রতারকদের বড় অংশেরই ঘাঁটি গাইবান্ধায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এখান থেকে আটক হয়েছে এমন প্রতারক চক্রের অনেক সদস্য। জ্বীনের বাদশা পরিচয়ে সবশেষ ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় উত্তরের এই জেলা থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে এক প্রতারক।

দেশে ইমো হ্যাকারদের দুর্গ নাটোরে। আবার মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারকদের বড় অংশের অবস্থান মিলেছে ফরিদপুরে। আর জ্বীনের বাদশা সেজে প্রতারণায় জড়িতদের বড় অংশেরই অবস্থান দেশের উত্তরের জেলা গাইবান্ধা। প্রতারক চক্র এখানে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে সারাদেশে প্রতারণার জাল বিছিয়ে আসছে।

‘জ্বীনের বাদশা’ আটকের খবর প্রায়শ দেশের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে। এসব ঘটনায় আটক প্রতারকদের বড় অংশেরই ঘাঁটি গাইবান্ধায়। ‘জ্বীন-প্রতারণা’ সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ পেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও তদন্তের অগ্রভাগে থাকে এই জেলা। তাদের নিয়মিত অভিযানে এখান থেকে আটক হয়েছে এমন প্রতারক চক্রের অনেক সদস্য।

২০২২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘জ্বীনের বাদশা’ নামধারী চার প্রতারককে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন- রায়হান, তুহিন, জিয়াউর ও মিলন দাস।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বুলবুল নামে এমনই এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি গাইবান্ধা জেলার জ্বীনের বাদশা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১১ মে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে সাদ্দাম আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই মাসের ২৬ তারিখ গোবিন্দগঞ্জে সংঘবদ্ধ ‘জ্বীনের বাদশা’ প্রতারক চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য মোর্শেদুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়া বেশকিছু স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করে পুলিশ।

গাইবান্ধার ‘জ্বীনের আছর’ দেশজুড়ে
প্রতারণার শিকার ইয়াসিন (বাঁয়ে); জ্বীনের বাদশা পরিচয়ে ১৩ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়া গাইবান্ধার প্রতারক উজ্জ্বল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসা ‘জ্বীনের বাদশা’ গ্রেপ্তারের এমন খবর অহরহই মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, জ্বীনের বাদশা সেজে প্রতারণার শীর্ষে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা। এই জেলার সাদুল্যাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কথিত জ্বীনের বাদশার আনাগোনা বেশি।

সবশেষ চলতি মাসেই মোবাইল ফোনে আল্লাহর অলি ও জ্বীনের বাদশাহ পরিচয়ে প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক চক্র। ভুক্তভোগী ৮ জুন ওই ঘটনা উল্লেখ করে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন।

এই মামলার তদন্তে নেমে ৯ জুন রাত ৮টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর এলাকার নারায়ণপুর গ্রাম থেকে এক ‘জ্বীনের বাদশাকে’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উজ্জ্বল মিয়া নামের ওই প্রতারকের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

পুলিশ পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানালে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুর রহমান আজাদ নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ইয়াসিন নামে কিশোরগঞ্জের এক বাসিন্দা ৪ এপ্রিল ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় এসে মগবাজারে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। ওইদিন রাত ১২টা ১১ মিনিটে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর অলি ও জীনের বাদশাহ পরিচয় দিয়ে ০১৯৪১৮৫৬৬৩৮ নম্বর থেকে ইয়াছিনের মোবাইলে ফোন করেন। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিই গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারক উজ্জ্বল।’

সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘কথোপকথনের এক পর্যায়ে উজ্জ্বল ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করাসহ ধর্মীয় নানা বিষয়ে উপদেশ দেয়া শুরু করেন। টার্গেট করা ইয়াসিনের ভেতরে ভয় ও জ্বীনের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের উদ্দেশ্যে তিনি আরও নানা কথা বলে মোটিভেশন চালান।

‘একপর্যায়ে ভিকটিমকে ফাঁদে ফেলে উজ্জ্বল ৭টি জায়নামাজের টাকা বাবদ ৪ হাজার ৭০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। এরপর ইফতার খরচ বাবদ ইয়াসিন তাকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠান।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, টার্গেট ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকাপয়সা হাতিয়ে এটা কেবল শুরু। জ্বীনের বাদশা নামধারী এই প্রতারক এরপর ভয় দেখাতে শুরু করেন। মোবাইল ফোনে তিনি ভিকটিমকে ভয় দেখান- টাকা না দিলে তার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। এরপর স্বর্ণের পুতুলের লোভ দেখিয়ে উজ্জ্বলের বড় ভাই রুবেলের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা এবং তার জ্বীনের স্বর্ণের তিনটি হাঁড়ি ভেঙে গেছে জানিয়ে আরও ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। হাঁড়ির ভেতরের স্বর্ণ জমাট বেঁধে গেছে জানিয়ে ৩ ভরি স্বর্ণের মূল্য বাবদ হাতিয়ে নেয়া আরও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে নগদ ৫ লাখ টাকা নেয়া হয় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে। বাকি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় অনলাইন ব্যাংকিং মাধ্যম বিকাশে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করে প্রতারক। পরে নেয়া হয় আরও এক লাখ টাকা।

বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ইয়াসিনের কাছ থেকে প্রতারক উজ্জ্বল হাতিয়ে নেয় মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর উজ্জ্বলকে এই প্রতারণার কাজে সহায়তা দেয় তার বড় ভাই রুবেল।

বড় ভাইয়ের হাত ধরে প্রতারণায়

পুলিশ জানায়, জ্বীনের বাদশা পরিচয়ে উজ্জ্বল এই প্রতারণায় নামেন বড় ভাই রুবেলের হাত ধরে। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি এই পথে পা বাড়ান। আর বড় ভাই রুবেল এভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন প্রায় ৩ বছর ধরে।

উজ্জ্বল তার ভাইয়ের কাছ থেকে প্রতারণার কৌশল রপ্ত করেন। বিভিন্ন মোবাইল নম্বর টার্গেট করে এই দুই ভাই নিজেকে আল্লাহর অলি ও জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে নানা প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেন।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘ইমো হ্যাকারদের দুর্গ নাটোরে। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারকদের বড় অংশ অবস্থান নিয়ে আছে ফরিদপুরে। আর জ্বীনের বাদশা ও আল্লাহর অলি নামধারী প্রতারক বেশি গাইবান্ধায়।’

অপরিচিত কেউ মোবাইল ফোনে যে কোনো ধরনের প্রলোভন দেখালেই লোভের ফাঁদে পা না দেয়ার পরামর্শ দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ইয়াছিন বলেন, ‘আমি ব্যবসা করি। ৪ এপ্রিল ব্যবসায়ের কাজে ঢাকা যাই। হোটেলে অবস্থানকালে গভীর রাতে আমার মোবাইল ফোনে কল করে জ্বীনের বাদশ ও আল্লাহর অলি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বিভিন্ন ধর্মীয় কথা বলতে থাকে। আমি সরল মনে তার কথা বিশ্বাস করি। এক সময় আমি বুঝতে পারি যে প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়েছি। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রতারক চক্র আমার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে অনেক টাকা। শেষ পর্যন্ত আমি ঘটনাটা পুলিশকে জানাই।’

যেভাবে টার্গেট করা হয়

পুলিশ জানায়, চক্রটি গভীর রাতে সহজ-সরল মানুষের মোবাইল নম্বরে ফোন করে নানা ধরনের স্পর্শকাতর কথাবার্তা বলে তাদের মাঝে লোভ ও ভীতির সঞ্চার করে। টার্গেট করা ব্যক্তি প্রতারকদের কথার ফাঁদে পড়ে খুইয়ে বসে সর্বস্ব।

প্রতারক চক্র মূলত দৈবচয়ন ভিত্তিতে মানুষকে গভীর রাতে ফোন করে। কথাবার্তার শুরুতেই ওরা বুঝে যায় টার্গেট ব্যক্তির অবস্থান ও মানসিকতা। ওদের কিছু ইনফর্মারও থাকে, যারা ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে প্রতারণায় সহায়তা করে। ক্ষেত্রবিশেষে ইনফরমাররা মোবাইল ফোন নম্বরও যোগাড় করে দেয়।

টার্গেট স্থির করার পর ওরা ভুক্তভোগীর দুর্বল পয়েন্টে আঘাত করে। উদ্দেশ্য তাকে তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলা। এভাবে ওরা টার্গেট ব্যক্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তার ওপর ভয় ও লোভ জাগিয়ে তোলা হয়। এরপর ওরা টার্গেট ব্যক্তির কাছ থেকে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়।

ভিকটিম ইয়াসিনকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার ক্ষেত্রেও ইনফরমারদের ভূমিকা ছিল বলে ধারণা পুলিশের। ইয়াসিন নিঃসন্তান। প্রতারক উজ্জ্বল ইয়াসিনকে তার এই দুর্বল পয়েন্টে আঘাত করে কথা বলেন। তার সন্তান হবে- এমন আশ্বাস দিয়ে প্রতারক তাকে বশে আনে। এরপর তার আবেগের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শুরু হয় তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া।

আরও পড়ুন:
৬ ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The trial of Abu Saeeds murder began in the tribunal tearful father

আবু সাঈদ হত্যার বিচার শুরু, ট্রাইবুনালে অশ্রুসিক্ত বাবা

আবু সাঈদ হত্যার বিচার শুরু, ট্রাইবুনালে অশ্রুসিক্ত বাবা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হলো।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আজ এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এরপর আবু সাঈদকে গুলি করার দুটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন মনিটরে ছেলেকে গুলির দৃশ্যের ভিডিও দেখে বার বার চোখ মুছছিলেন।

এরপর প্রসিকিউসনের আবেদনে আগামীকাল এই মামলায় প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৩০ জুলাই প্রসিকিউসনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এই মামলায় অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে, আসামী পক্ষে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়।

এরপর গত ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

এই মামলার যে ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়, তাদের মধ্যে গ্রেফতার ৬ জন আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।

এরা হলেন-বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ৩০ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে, সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।

ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে আওয়ামী লীগ সরকার, তার দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করে বলে, একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।

জাজ্জ্বল্যমান এসব অপরাধের বিচার এখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Transferred to 20 judges simultaneously

একযোগে ২৩০ বিচারককে বদলি

একযোগে ২৩০ বিচারককে বদলি

ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ৪১ জন জেলা জজসহ একযোগে জেলা আদালতের ২৩০ বিচারককে বদলি করা হয়েছে। বদলি করা এসব বিচারকের মধ্যে রয়েছেন ৫৩ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৪০ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং ৯৬ জন সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

গতকাল সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলির আদেশ দেয়।

বদলি করা জেলা ও দায়রা জজদের আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে বর্তমান পদের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The policeman accused of raping a woman policeman in the police jail

নারী পুলিশ সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্ত সেই পুলিশ সদস্য কারাগারে

নারী পুলিশ সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্ত সেই পুলিশ সদস্য কারাগারে

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দ্বিতীয়তলার নারী ব্যারাকে ঢুকে নারী পুলিশ সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা একই থানায় কর্মরত সাফিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২১ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নেয় বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৫ দিন ধরে ঘুরে মামলা দায়ের করতে না পারা ভুক্তভোগীকে পুলিশ লাইন্স থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে তাকে বাদী করে ধর্ষণ মামলা রুজু করানো হয়েছে। আর ওই মামলাতেই সাফিউরকে আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগের যাচাই-বাছাই শেষে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সাফিউরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য নিজে বাদী হয়ে শুক্রবার মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলাতেই গত শুক্রবার রাতে সাফিউরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে চালান করা হয়। বিষয়টি আরও গভীরভাবে জানতে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সাফিউরের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দ্বিতীয়তলার নারী ব্যারাকে ঢুকে এক নারী পুলিশ সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই থানায় কর্মরত সাফিউর রহমান নামে আরেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গত ৬ মাস ধরে থানা ব্যারাকেই ওই নারী সদস্যকে ধর্ষণ করে ওই পুলিশ সদস্য। সবশেষ গত ১৫ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকেও সাফিউর থানা ব্যারাকের ওই নারীর রুমে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এর প্রতিকার চেয়ে গত ৫ দিন ধরে ঘুরেও থানায় মামলা করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chief Justice of the proposal to establish a separate commercial court

পৃথক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রধান বিচারপতির

পৃথক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রধান বিচারপতির

দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বিচার ব্যবস্থার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি পৃথক বাণিজ্যিক আদালত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

গতকাল রোববার সিলেটের দ্য গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বাণিজ্যিক আদালত শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কোনো পৃথক বিচারিক ফোরাম নেই। এখন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক বিরোধগুলো ছোটখাটো দেওয়ানি মামলার সঙ্গে একই সারিতে নিষ্পত্তি করতে হওয়ায় দ্রুত, কার্যকর বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এটি আমাদের বিচারকদের প্রতি কোনো সমালোচনা নয়। তাদের নিষ্ঠা প্রশ্নাতীত। বরং এটি একটি কাঠামোগত অসংগতি। ফলে মামলার জট যেমন বাড়ছে, তেমনি ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত শুধু অর্থঋণ আদালতে প্রায় ২৫ হাজারের বেশি মামলা অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

পৃথক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কারও একক কোনো দাবি নয় বরং বাণিজ্যিক মামলাগুলো বিশেষায়িত আদালতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কার্যকর রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার জন্য বৃহৎ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী সবাই দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন সভা-সেমিনারে এই দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রধান বিচারপতি বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, রুয়ান্ডা, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো বাণিজ্যিক আদালত গড়ে তুলে একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এসব দেশের অভিজ্ঞতাগুলো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা বহন করে।

প্রধান বিচারপতি প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক আদালত ব্যবস্থার সাতটি মূল স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো- স্পষ্ট ও একীভূত এখতিয়ার নির্ধারণ, আর্থিক সীমারেখা ও স্তরভিত্তিক কাঠামো, বাধ্যতামূলক কেস ম্যানেজমেন্ট ও কঠোর সময়সীমা, সমন্বিত মধ্যস্থতা ব্যবস্থা, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার (যেমন, ই-ফাইলিং, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, হাইব্রিড শুনানি), সবার জন্য ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার এবং জবাবদিহি ও কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক আদালতের কার্যক্রম হবে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন সিলেটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sagar Rooney Murder Report Report is a record of 120 times

সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্ত প্রতিবেদন ১২০ বার পেছানোর রেকর্ড

সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্ত প্রতিবেদন ১২০ বার পেছানোর রেকর্ড

বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবার পেছানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালত গতকাল সোমবার আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।

এ পর্যন্ত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা মোট ১২০ বার পিছিয়ে এসেছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হন। ঘটনার সময় বাসায় তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ উপস্থিত ছিলেন। সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন — রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তা রক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান।

এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন, বাকিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পিছিয়ে আসায় এ মামলার দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের মাঝে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abu Saeed Murder Hearing the charges against the accused today

আবু সাঈদ হত্যা: ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

আবু সাঈদ হত্যা: ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পুলিশের সদস্যসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি আজ।

সোমবার (২৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবেন বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (২৫ জুলাই) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এই ছয় আসামি হলেন— সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, রাফিউল, আনোয়ার পারভেজ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আশেক।

গত ১০ জুলাই পলাতক ২৬ আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে, ৩০ জুন আবু সাঈদ হত্যায় পুলিশের সদস্যসহ মোট ৩০ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই বিকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত প্রথম শিক্ষার্থী।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Former Chief Justice ABM Khairul Haque arrested

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক গ্রেপ্তার

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক গ্রেপ্তার

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমণ্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি জানান, তথ্য এলে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালে খায়রুল হক শপথ নেন। পরের বছর ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালে তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা একই পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক এই বিচারপতিকে।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না।

মন্তব্য

p
উপরে