শিল্প নগরী খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আজ সোমবার। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সকাল ৮টায় শুরু হয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে দুই সিটিতে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
খুলনা সিটির ২৮৯টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৭৩২টি বুথে ভোটগ্রহণে প্রায় ৩ হাজার ইভিএম ব্যবহার হবে। আর বরিশাল সিটি করপোরেশনে ৩০টি ওয়ার্ডে ৮৯৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য দেড় হাজার ইভিএম বরিশালে পৌঁছে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন ভোটগ্রহণ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
কেসিসি
খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ৭৩২টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। এসব কেন্দ্রের ৫৬ শতাংশই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ৫টি ওয়ার্ডের সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।
কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন, ৩১টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৪জন এবং ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৯জনসহ মোট ১৭৩জন প্রার্থী কেসিসি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা), জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র পার্থী শফিকুল রহমান (টেবিল ঘড়ি)।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. আলাউদ্দিন এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মাসুদুর রহমান ভুইয়া রোববার নগরীর বয়রা পুলিশ লাইন মাঠে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক দিক তুলে ধরেন। তারা জানান, কেসিসি নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।
কেএমপি কমিশনার জানান, ৪ হাজার ৫২০ পুলিশ সদস্য, ৩শ’ এপিবিএন, ৩ হাজার ৪৬৮ জন আনসারসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর মোট ৮ হাজার ৩শ’ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮টি রিজার্ভ ফোর্স এবং ৫টি স্ট্যান্ডবাই ফোর্সসহ ১৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম, ৬২টি মোবাইল পেট্রল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও অন্তত ১১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নগর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে আরও ৫ প্লাটুন।
রিটার্নিং অফিসার জানান, কেসিসি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী বুথের ভেতরে ও বাইরে মোট ২ হাজার ৩২০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটার ছাড়া অন্য কাউকে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। নির্বাচনে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে ইসি কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে সরকারি জেলা স্কুল মাঠে রোববার এক ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল ফিরোজ কবীর বলেন, ‘কেসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে র্যাবের ১৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে কোনো বিস্ফোরক লুকানো আছে কিনা তা খুঁজে দেখছে।’
কেসিসি নির্বাচনে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৮ জন পুরুষ ও ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৮ জন নারী ভোটার আজ ভোধিকার প্রয়োগ করবেন।
বিসিসি
বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) ৭জন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ১১৮ জন সাধারণ ও ৪২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটে লড়ছেন। এখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন নারী।
মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, জাতীয় পার্টির প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জাকের পার্টির মিজানুর রহমান, স্বতন্ত্র হিসেবে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল আহসান রুপন প্রমুখ।
নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে সব কেন্দ্র ও বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহিন শরীফ বলেন, ‘এই নির্বাচনে ৮৯৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রতিটি ভোটকক্ষে ১টি ও প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশ পথে ২টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বিসিসি নির্বাচনের ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৬টিই গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, পুলিশের হিসাবে ৭০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রার্থীরা যেসব কেন্দ্র নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেগুলো যুক্ত করে মোট ১০৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, নির্বাচনের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব, এবিপিএন ও আনসার মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৪শ’ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরিশাল সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে যে কোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। র্যাব-৮ এর পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকেই র্যাব-৮ এর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বরিশাল নগরীতে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন চলাকালে নগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে মোট ১৬টি টিম তৎপর থাকবে।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।
বুধবার (৩ জুন) আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
নতুন এই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই নেতা মাঠপর্যায়ের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি করে উঠে এসে তিনি যুবদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও আন্দোলনমূলক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা তাকে সংগঠনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মাঠে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দলের ভেতরে আলোচনায় আসেন।
নতুন কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা। তার অনুসারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই দায়িত্ব পেয়ে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলকে আরও সংগঠিত ও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবেন।
একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি। এর আগে তাকে রুহিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, একটি মহল চেষ্টা করছে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার জন্য। এই অস্থিতিশীলতা যাতে না করতে পারে, তার জন্য আপনাদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান করছি। কারণ এই সময়ে যখন আমরা নতুন করে দেশ গড়ার কাজ শুরু করছি তারেক রহমানের নেতৃত্বে, তখন যেন আমরা আবার বিভ্রান্ত না হয়ে যাই।
তিনি বলেন, যে কথাগুলো দিয়েছি, আমরা সেই কথাগুলো পালন করার চেষ্টা করছি। তারেক রহমান বলেছিলেন- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচির কথা, সেই কাজগুলো আমরা শুরু করেছি। অন্যান্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রত্যেকটি পূরণ করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আপনারা দেখেছেন, এই সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস, এই তিন মাসের মধ্যে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম, আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছিলেন। আমি এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ, সব শ্রেণির মানুষকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, তাদের সমর্থনে আজকে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
নারীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, নারীরা এমনিতেই সংগঠিত, তাদের আরও সংগঠিত হতে হবে। সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নকে নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহর জানাজা ঢাকার বেরাইদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টায় বেরাইদ রহমতউল্লাহ স্টেডিয়াম ও বেরাইদ বড় মসজিদ মাঠে জানাজার পর মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন।
বেরাইদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সাজেদুল হক সুজন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমতুল্লাহকে বিকাল সাড়ে ৫টায় বেরাইদ কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে রহমতুল্লাহর মৃত্যু হয়।
রহমতুল্লাহর পারিবারিক সূত্র জানায়, বেশ কয়েক দিন ধরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমতুল্লাহ আমৃত্যু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৫ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নিজ জন্মভূমি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তার নামাজে জানাজা। জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং হাজারো সাধারণ নাগরিক অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেক দফা জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। প্রায় আট মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার জীবনাবসান ঘটে।
গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি প্রায় ছয় দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন।গত কয়েক বছর ধরে তোফায়েল আহমেদ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোকজনিত কারণে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানান, তোফায়েল আহমেদ যখনই গ্রামের বাড়ি আসতেন, তখনই তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতেন। কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। তোফায়েল আহমেদের জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার স্বজনরা।
গোরখোদক আবু তাহের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত মানুষের জন্য কবর খুঁড়ে আসছেন। আজ তোফায়েল আহমেদের কবর খুঁড়তে গিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তোফায়েল আহমেদের বাবা, মা, চাচা-চাচি, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজনের কবর তিনি খুঁড়েছেন। আজ তোফায়েল আহমেদের কবর খুঁড়তে গিয়ে তার খুব খারাপ লাগছে।
ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। দীর্ঘদিন পাশাপাশি রাজনীতি করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে: ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। শিক্ষাজীবনের শুরু ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। ইকবাল হল ছাত্র সংসদ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছাত্রসমাজের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে। ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, যখন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ভূমিকা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মুজিব বাহিনী’র চার প্রধানের একজন হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত হন। মুজিবনগর সরকার গঠন, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন তিনি।
কারাবরণ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গ্রেপ্তার হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস কারাবন্দি জীবন কাটান তিনি। কারাগারে থেকেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে দলকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: তোফায়েল আহমেদ মোট ১২ বার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পথচলা বিস্তৃত ছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও ছিলেন। ১৯৯৬ সালে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জীবনের শেষভাগে রাজনৈতিক বাস্তবতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকলেও শেষ দিকে দলীয় রাজনীতিতে অনেকটাই নীরব ও আড়ালে চলে যান তোফায়েল আহমেদ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবস্থান, মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতন ও বাস্তবতার মধ্যেও তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দেশের রাজনীতি ও জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী ছিলেন ছাত্রনেতা, গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমসাময়িক নেতারা। ইতিহাসের নানা বাঁকবদলের সাক্ষী এই প্রবীণ রাজনীতিককে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানিয়েছে তার জন্মভূমি ভোলা।
বাংলার রাজনীতির অন্যতম দিকপাল এবং মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি সংগঠক তোফায়েল আহমেদের অন্তিম যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটেয় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অশ্রুসিক্ত ঢল লক্ষ্য করা গেছে। জানাজার পূর্বে এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অব অনার' প্রদান করা হয়। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ ঢাকা থেকে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিজ জেলার মাটি ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই নেতাকে তার পৈতৃক গ্রাম দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অনন্য সাধারণ। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তুখড় ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন। ঐ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ১৯৭১ সালে তিনি মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন এবং পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোট ৯ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক পথচলায় তোফায়েল আহমেদ ১৯৯৬ এবং ২০১৪ সালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দীর্ঘ ৩৩ মাস কারান্তরালে থাকলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি জনসেবায় সক্রিয় ছিলেন। ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হওয়া এই নেতা কেবল ভোলার মানুষের প্রিয় অভিভাবকই নন, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার চারটি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছে। যাদের বয়স ৩০ হয়নি তারা উপদেষ্টা হয়ে দেশ-বিদেশে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে। সোমবার (০১ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি আমাদের নতুন জেনারেশন নষ্ট হয়ে গেছে। এ দেশে অনেক চক্রান্ত করে গুপ্ত সংগঠন সৃষ্টি করে একটা রাজনৈতিক দল। তাদের লেখাপড়া নাই, খেলাধুলা নাই, সংগীত-সংস্কৃতি নাই, এমনকি রিয়েল ধর্ম পালনও নাই।
এনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘তারা শুধু কিভাবে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে ছাত্রসমাজকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে মিছিলে নিয়ে যাবেন। তাদের জীবনকে ধ্বংস করে নিজেদের আখের ঘোচাতে পারবেন, সে চক্রান্ত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দুজন লোক যাদের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। কুমিল্লার ডিসিকে গিয়ে বলেছেন ১৫ কোটি টাকা দাও।
রাজস্ব ভাণ্ডারের টাকা না দিয়া উপায় নাই। আরেকজনের নাম হাসনাত আব্দুল্লাহ। উনি এখন এমপি। তিনি গিয়ে ডিসিকে বলছেন আমারে ১০ কোটি টাকা দিয়ে দাও। এরা অমানুষ, চিটার-বাটপাড়। এদের মতো মানুষ ধ্বংস করার কোনো মেশিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রকল্পের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দের অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দুই নেতা যদি সত্যিই এই টাকা না নিয়ে থাকেন, তবে যেন প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেন।
রোববার (৩১ মে) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেলা পরিষদের প্রশাসক তাঁর আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য উপজেলাগুলোর কপালে জুটেছে মাত্র ১০ থেকে ২৬ লাখ টাকা।
নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির টাকার এমন অসমান বণ্টনকে উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন মোস্তাক মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে এই নতুন অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মহলে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।
অবশ্য বক্তব্যের শেষভাগে কিছুটা সুর নরম করে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে, নেতারা এই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন—এমন দাবি তিনি করছেন না। বরং প্রকল্পের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুই এলাকায় মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে নেওয়ার কারণে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো যে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে, তিনি মূলত সেই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
মন্তব্য