× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Praveen Hitaishi Sangh is drowning in syndicate corruption
google_news print-icon

সিন্ডিকেটের দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ

সিন্ডিকেটের-দুর্নীতিতে-ডুবতে-বসেছে-প্রবীণ-হিতৈষী-সংঘ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম)। ছবি: নিউজবাংলা
বাইগামের নবনিযুক্ত প্রশাসক ড. মো. মোকতার হোসেন বলেন, ‘অপ্রয়োজনে অসংখ্য নিয়োগ, এফডিআর ভেঙে ৫ কোটি টাকা তসরুপ, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মানে দুর্নীতি, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিং কেনায় অনিয়ম, সমান্য একটা বনভোজনে ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় এবং হোটেল ইজারার ঘটনাগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পেয়েছি। আরও নানা অনিয়ম রয়েছে, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধিভুক্ত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে অনিয়ম আর দুর্নীতি। অপ্রয়োজনীয় নিয়োগ, কেনাকাটায় কমিশন বাণিজ্য, ব্যক্তিগত কাজে প্রতিষ্ঠানের সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার, অযাচিত ব্যয়- এমন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে এতো সব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফলে তিন মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রশাসক।

সিন্ডিকেটের দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ
বাইগামে সিন্ডিকেটের তিন সদস্য (বাঁ থেকে)- উপ-পরিচালক বদরুল আহসান, সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম মাসুম ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সরকার সুমন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান ও মহাসচিব আমির হোসেন মোল্লাকে সামনে রেখে বাইগামের উপ-পরিচালক বদরুল আহসান, সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম মাসুম ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সরকার সুমনের সীমাহীন দুর্নীতি আর অনিয়েমেই বাইগাম-এর আজ এই অবস্থা। তাদের কারণেই তিন মাস ধরে তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। পরিবার নিয়ে দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে।

বাইগামের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস খান বলেন, ‘এখানে দুর্নীতির শেষ নেই। গত কমিটির সভাপতি-মহাসচিবের ছত্রছায়ায় বাইগামের তিন কর্মকর্তা দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তারাই সব অপকর্মের হোতা।

‘এই সিন্ডিকেটই নিয়মবর্হিভূতভাবে বাইগামের ১১ কোটি টাকার বেশি এফডিআর ভেঙে তা থেকে ৪ কোটি টাকা তসরুপ করেছে। ওই এফডিআর করা হয়েছিল প্রবীণদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য। তাদের বিপদে-আপদে সাহায্য করার জন্য। অথচ ওই এফডিআরের টাকা দিয়ে পিকনিক, অফিসের বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠান পালনের নামে অর্ধেকটাই গায়েব করা হয়েছে।’

দীর্ঘদিন ধরে বাইগামে এতো সব অনিয়ম-দুর্নীতি চললেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি সমাজসেবা অধিদপ্তর। দুর্নীতি মহামারি আকার ধারণ করার পর টনক নড়ে তাদের। গঠন করা হয় ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখি এখানে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে অনিয়ম হয়নি। এই প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পরিচালনা করা হতো।

‘ইতোমধ্যে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে বাইগামের বর্তমান প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। আমরা যা যা পেয়েছি তার সবই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি।’

বিনা প্রয়োজনে ৬৮ জনের নিয়োগ

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, গত তিন বছরে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কেবল নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে (বাইগাম) নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৬৮ জনকে। আর এসব নিয়োগের মাধ্যেমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ৯ জন চিকিৎসক, ৯ জন নার্স এবং বাকি ৫০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। এর মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে ১১ জনের। বাকিদের নিয়োগ হয়েছে নিয়মবর্হিভূতভাবে। আর এই ৬৮ জনকে নিয়োগ দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে বেতন-ভাতা বাবদ গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ২২ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে নিম্নমান সহকারী হিসেবে কর্মরত এবিএম জাকারিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এই হাসপাতালে এমনিতেই কম রোগী আসে। আর প্রবীণ নিবাসও থাকে নিরিবিলি। আমাদের আগের কর্মচারী দিয়েই ভালোভাবে কাজকর্ম চলছিল। তারপরও এখানে প্রায় ৬৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন এইখানে রোগী আর প্রবীণদের চেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। এখন ওই অতিরিক্ত জনবলের কারণে আমরা ৩ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না।

সিন্ডিকেটের দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ
দিনের বেশিরভাগ সময়ই রোগী না থাকায় সুনসান হাসপাতাল। অথচ অপ্রয়োজনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৬৮ জনকে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস খান বলেন, ‘মূলত টাকা খাওয়া জন্য সিন্ডিকেট এসব অবৈধ নিয়োগের ব্যবস্থা করে। এই নিয়োগের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু সরকারের কোন জায়গা থেকেই এই নিয়োগের অনুমতি নেয়া হয়নি। প্রতিটি পদের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খেয়ে তারা নিয়োগ দিয়েছে। আর কিছু পদে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছে।’

বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপনে দুর্নীতি

বাইগামের বৈদ্যুতিক ব্যাবস্থা উন্নত করতে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে একটি এক হাজার কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে সর্বনিন্ম দরদাতাকে কাজ না দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা এ আর পাওয়ারটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড কম্পানিকে ৭২ লাখ টাকায় কাজ দেয়া হয়।

বাইগামের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই কাজে প্রথমেই দুর্নীতি করা হয় সর্ব্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে। এর পরে হয় মহা দুর্নীতি। কাজ পাওয়া কোম্পানিটি কাজ শুরুর এক পর্যায়ে জানায় যে সাব-স্টেশনটি ১ হাজার কেভি হবে না, ৮০০ কেভি হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ শতাংশ বিল দেয়ার পর জানা গেল সাব-স্টেশনটি আসলে ৪০০ কেভির। এছাড়া দরপত্রে এই স্টেশনের সঙ্গে সোলার প্যানেল দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। বুয়েটের মাধ্যমে সার্টিফায়েড হওয়ার শর্তও পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই অনিয়ম করার সাহস পেয়েছে আমাদের এখানকার তিন কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের সহায়তায়। এই তিনজন হলেন উপ-পরিচালক বদরুল আহসান, সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম মাসুম এবং সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সরকার সুমন। এরাই কারসাজি করে কমিশন খেয়ে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এনেছে। আর পরিচালনা কমিটিকে নানা বুঝ দিয়ে তা পাস করিয়ে নিয়েছে।’

কিডনি ডায়ালাসিস মেশিন কেনায় অনিয়ম

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, গত অথর্বছরে প্রবীণ হাসপাতালের জন্য কেনা হয় ৫টি কিডনি ডায়ালাসিস মেশিন। এখানেও সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে ৬৬ লাখ টাকায় মেশিন সরবরাহের কাজ দেয়া হয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে ডায়ালাসিস মেশিন সরবরাহ করেছে সেটি ২০১৮ সালের পুরনো মডেলের। অথচ শর্ত ছিল আধুনিক আপডেটেড মেশিন সরবরাহ করতে হবে।

এ বিষয়ে ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাদের চাকরি থাকবে না। সমস্যা তো শুধু কেনাকাটায় না, পরিচালনায়ও আছে। ৫টি ডায়ালাইসিস মেশিন কেনা হলেও হাসপাতালে কোনো আইসিইউ-এসডিইউ নেই। তাই এই মেশিন প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

‘ডায়ালাইসিস করার পর অনেক সময় আইসিইউ জরুরি হয়ে পড়তে পারে। আইসিইউ না থাকলে অনেক সময় রোগী মারাও যেতে পারে। তাই আমরা ডায়ালাসিস মেশিন আইসিইউর অভাবে বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করি না। এগুলো আসলে পরিকল্পনা করে কেনা হয়নি। কমিশন বাণিজ্য করার জন্য কেনা হয়েছে।’

এক বনভোজনেই খরচ ৪৩ লাখ টাকা

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ সদস্যদের চাঁদার অর্থে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ এবং ৭০ লাখ টাকার দুটি এফডিআর ছিল। তা প্রবীণদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা ছিলো। কিন্তু দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সেই এইফডিআর থেকে ৪ কোটি টাকার বেশি নিজেদের আমোদ-প্রমোদে ব্যয় করেছে।

চলতি বছর এফডিআররের ৪৩ লাখ টাকায় করা হয় বনভোজন। এছাড়া বিভিন্ন দিবস পালন, উৎসবের নামেও খরচ করা হয় এই টাকা। মূলত এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাইগামের তহবিল বন্ধ করে দেয়।

স্বজনদের নিয়োগ দিতে হিসাব সফটওয়্যার স্থাপন

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব ঠিক রাখার জন্য ৩ লাখ টাকা মূল্যের সফটওয়ার ৭ লাখ টাকায় কেনার অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, এই সফটওয়‍্যার পরিচালনার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সফটওয়ার অনেক কোম্পানিই মাত্র ৩ লাখ টাকায় করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু কমিশন খেয়ে নামসর্বস্ব এক কোম্পানির কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা তা কেনা হয়।

‘সফটওয়্যার স্থাপনের পর তা পরিচালনার নামে নতুন নিয়োগ দিতে উঠেপড়ে লাগেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। অথচ ওই সফটওয়্যার আমাদের পুরনো লোকেরাই চালাতে সক্ষম। বাস্তবতা হলো, সফটওয়্যার কেনা ও নতুন লোক নিয়োগ দেয়ার পরও হাসপাতাল চলছে সেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে।’

সিন্ডিকেটের দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ
বাইগামের সামনে স্থাপিত এই হোটেল ইজারা নিয়েও হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের সামনে হোটেল বসিয়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

আগারগাঁওয়ে প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সামনে একটি হোটেল স্থাপনের অনুমতি দেয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। তিন বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকায় এটি ইজারা নেন সুলতান কিচেন নামের হোটেলের মালিক নাসির উদ্দিন। তিনি প্রবীণ সংঘের অফিসে ১৫ লাখ টাকা জামা দিলেও পরে জানতে পারেন যে জমা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কী একটা বিপদে যে পড়ছি বলে বোঝাতে পারবো না ভাই। আমি নিজ হাতে ১৫ লাখ টাকা অফিসে জমা দিয়ে আসছি। অথচ পরে শুনি জমা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। বাকি ৫ লাখ টাকা নাকি জমাই হয়নি। তারা টাকা খেয়ে ফেলেছে। এখন বলছে আমাকে আরও ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।’

কারা টাকা খেয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই অফিসের সবাই জানে যে টাকা কে বা কারা খাইছে। তবে আমি তাদের নাম বলতে পারব না। আমাকে তো এখানেই ব্যবসা করতে হবে, তাই না!’

বন্ধ হওয়ার উপক্রম প্রবীণ নিবাস

বাইগাম কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়ায় আমাদের প্রবীণ নিবাসও বন্ধ হওয়ার পথে। কারণ এই প্রতিষ্ঠান চলে এখানে থাকা প্রবীণদের দেয়া কিছু টাকা আর প্রবীণ সংঘের ভর্তুকির টাকায়।

বর্তমানে এখানে ৩৬ জন প্রবীণ থাকেন। সেখান থেকে মাসে আয় হয় দেড় লাখ টাকা। আর মাসে খরচ হয় ৭-৮ লাখ টাকা। তাছাড়া ৩ মাস আমাদের বেতন না হওয়ায় ডাক্তাররাও আর আগের মতো এখানে রোগী দেখেন না। তাই হাসপাতালে আর আগের মতো রোগী নেই। এখন হাসপাতালের বেডে রোগী আছে ৫-৬ জন। তাই প্রতিষ্ঠানের আয়ও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বরাদ্দ না পেলে প্রবীণ নিবাসই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাইগামের একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানের উপ পরিচালক বদরুল আহসান এখন এলপিআর-এ আছেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি অফিস না করেও বেতন-ভাতা পাবেন। অথচ শুধু দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি এখনও নিয়মিত অফিস করে যাচ্ছেন।

‘দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা ইতোমধ্যে তিনি তার বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনকে বাইগামে চাকরি দিয়েছেন। সঙ্গে অন্যান্য পদে নিয়োগ বাণিজ্য তো আছেই। তারই নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিতে গড়ে উঠেছে দুর্নীতির এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের অপর দুই প্রভাবশালী সদস্য হলেন- বাইগামের সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম মাসুম ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সরকার সুমন।’

তারা জানান, সিন্ডিকেট সদস্য এই সহকারী পরিচালক মাসুম প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদান করলেও উপ-পরিচালক বদরুল আহসানের সহযোগিতায় হয়ে যান প্রশাসনিক বিভাগের সহকারী পরিচালক। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাইগামে নিয়োগ দিয়েছেন তার বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনকে। বাইগামের সব দুর্নীতিতেই রয়েছে তার হাত। অফিসে নারী কর্মীদের যৌন হয়রানির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন বর্তমান প্রশাসক।

সিন্ডিকেটের দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ
প্রবীণ হাসপাতালের পাশেই প্রবীণ নিবাস। ছবি: নিউজবাংলা


অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার: আয় ৭ হাজার, ব্যয় ৮ লাখ

বাইগামের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ছিল। তবে তিন বছর ধরে রয়েছে মাত্র একটি। এই তিন বছরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে হাসপাতালের আয় হয়েছে ৭ হাজার টাকা। অথচ ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ টাকা।

কারণ হিসেবে বাইগামের কর্মকর্তরা বলছেন, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সুমন বাইগামের পরিবহন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকাকালে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। মূলত সে কারণে অ্যাম্বুলেন্সের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ায় বাইগামের আরও অনেক অপকর্মের সঙ্গে তার নাম রয়েছে। তদন্ত কমিটিও তার ব্যাপারে নানা অনিয়মের তথ্য পেয়েছে।

সিন্ডিকেটের এই প্রভাবশালী সদস্য পুরো প্রতিষ্ঠানেই ধরাকে সরাজ্ঞান করে চলেন। নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতি করে চললেও তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছু বলার সাহস পান না। কিছু বলতে গেলেই তিনি মারমুখী হয়ে ওঠেন। সুমনের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ভিডিও ফুটেজও নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস খান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় বছরে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে হাসপাতাল আর প্রবীণ নিবাস ও অন্যান্য খাত থেকে ৩-৪ কোটি টাকা ইনকাম হয়। বাদবাকি ৫ কোটি টাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এখন এসব দুর্নীতির কারণে মন্ত্রণালয় বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে।

‘এসব দুর্নীতি তদন্ত করতে ৪ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সহকারী পরিচালক মাসুমকে তার পদ থেকে সরিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আর সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা সুমনকে বসানো হয়েছে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে। আশা করি সঠিক তদন্ত করে এসব দুর্নীতিবাজকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

সিন্ডিকেটের তিন কর্মকর্তার অভিযোগ অস্বীকার

এদিকে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাইগামের সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম মাসুম ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সরকার সুমন।

মাসুম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ দেয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে জানি না। তবে এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ।’

তাহলে আপনাকে নিজের পদ থেকে সরিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসির দায়িত্বে দেয়া হলো কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুম বলেন, ‘আমি জানি না কেন আমাকে এতো নিম্ন পদে দেয়া হলো। আসলে চাকরি করতে গেলে কর্তৃপক্ষ যে পদে দেবে আমাকে তো সেই পদেই কাজ করতে হবে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’

আব্দুর রহমান সরকার সুমনকে প্রশ্ন করলে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনার যা জানার সেটা আপনি আমাদের প্রশাসককে প্রশ্ন করেন। তিনিই সব উত্তর দেবেন।’

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান চলে একটি কমিটির মাধ্যমে। কমিটির বাইরে গিয়ে তো আমি একা একা কোনো কিছু ব্যবহার করতে পারি না। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় বাইগামের উপ-পরিচালক বদরুল আহসানের সঙ্গে।

দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা। যারা এই কথা বলছে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলছে। একটা অফিস তিনজন দিয়ে চলে নাকি?’

আপনার বিরুদ্ধে বাইগামের কেনাকাটা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ কেন আসছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এগুলো মিথ্যা অভিযোগ। আর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আমি এখনও দেখিনি। তাই এসব নিয়ে আমি কিছু বলব না।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বদরুল আহসান বলেন, ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি যে নির্দেশ দিয়েছে অফিসিয়াল প্রধান হয়ে কেবল সেটা বস্তাবায়ন করেছি। এই অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে আপনি আমাদের আগের কমিটির মহাসচিব আমির হোসেন মোল্লাকে প্রশ্ন করেন। তিনিই সব বলতে পারবেন।’

তবে আমির হোসেন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ যেন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না প্রবাদের মতো। তারা অফিসিয়াল লোক, অফিসে কতজন নিয়োগ হবে, কী কী কেনাকাটা হবে সেসব তারাই তৈরি করে দিত। আমরা কমিটির নেতা হিসেবে সেগুলো পাস করে দিতাম। অফিসে সব কাগজপত্রই আছে। সেগুলো দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা এগুলো করেছে।’

নবনিযুক্ত প্রশাসক যা বললেন

বাইগামের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামজিক নিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ড. মো. মোকতার হোসেন বলেন, জানুয়ারি মাসে ওরা বনভোজন করেছে ৪৩ লাখ টাকা খরচ করে। এখানে অনিয়মের গন্ধ পেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ৩ মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। আমি এখন প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে তাদের বেতন দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আয় কম হওয়ায় বেতন দিতে দেরি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটা দেখে বোঝা যায় এই প্রতিষ্ঠান (বাইগাম) চলতো ম্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে। যে যার মতো নিয়োগ নিতো, যোগ্যতা না থাকলেও নিয়োগ নিতো অনেক বেতনে। প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটাও করতো। এমনকি এই প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক বদরুল আহসান নিজেকে উপ-সচিব পদমর্যদার দাবি করত। এবং তার যোগ্যতার চেয়েও অনেক বেশি বেতন নিতো।’

তদন্ত প্রতিবেদনে কী কী অনিয়ম পেলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনে অসংখ্য নিয়োগ, এফডিআর ভেঙে ৪ কোটি টাকা তসরুপ, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মানে দুর্নীতি, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিং কেনায় অনিয়ম, সমান্য একটা বনভোজনে ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় এবং হোটেল ইজারার ঘটনাগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পেয়েছি। আরও নানা অনিয়ম রয়েছে, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘মোট কথা, তৎকালীন কমিটির কয়েকজন আর বাইগামের কয়েকজন কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন এখন আমাদের হাতে। তারা সিন্ডিকেট করে এগুলো করতো বলে আমরা জানতে পেরেছি।

‘এখন আমি এই তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় এই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবে।’

আরও পড়ুন:
প্রবীণ হিতৈষী সংঘে কর্মকর্তার ঢালাও যৌন হয়রানি!

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Kishoreganj Chhatra League president in sugar smuggling ring

চিনি চোরাচালান চক্রে কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতি

চিনি চোরাচালান চক্রে কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন (ডানে) ও নাজমুল হীরা। ছবি: সংগৃহীত
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের বিরুদ্ধে চোরাচালানে সম্পৃক্ততা ছাড়াও সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, স্থানীয় পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। আর চোরাচালান চক্রে জড়িত রয়েছে তার অনুসারীরাও।

ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে চিনি এনে দেশে বিক্রি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও তার স্বজন নাজমুল হীরার বিরুদ্ধে। হীরা নিজেও ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলেন। সুমন-হীরা একা নন, তাদের অনুসারীরাও এই অপকর্মে জড়িয়েছেন। এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে।

সম্প্রতি চোরাচালানের চিনিসহ একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। ট্রাকটি সুমন ও হীরার ঘনিষ্ঠ একজন আনেন বলে খবর চাউর হয়। অথচ মামলার আসামি করা হয় ছাত্রলীগের অন্য এক নেতাকে। ওই নেতার দাবি- চোরাই চিনিবোঝাই ট্রাক ধরিয়ে দিতে তিনি সহযোগিতা করেছেন।

দেশে প্রতি কেজি চিনির দাম ১৪০ টাকা হলেও ভারতে দাম ৫০ রুপির মতো। ফলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অনেকে চিনি নিয়ে এসে অবৈধভাবে দেশে বিক্রি করেন। সম্প্রতি সিলেট ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চিনি চোরাকারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

একই অভিযোগ এবার কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও। তাদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে মেসেজ আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

সুমনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

অনেক আগে থেকেই সুমন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে শহরের সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায়, টাকার বিনিময়ে উপজেলা কমিটির অনুমোদনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অভিযোগ এনেছেন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাই।

দৃশ্যমান আয়ের উৎস না থাকলেও ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম আসার পর সুমন বেশ বিত্তশালী হয়ে গেছেন। তার নির্মিত ডুপ্লেক্স বাড়িতে বিলাস আর খরচের ছাপ স্পষ্ট।

স্থনীয়রা জানান, শহরের একাধিক এলাকায় জমি কিনেছেন মোল্লা সুমন। এর একটি জমির দামই নাকি কোটি টাকার বেশি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্ত বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চিনি চোরাচালান চক্রে কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতি
চিনি চোরাচালান নিয়ে হোয়াটঅ্যাপে মোল্লা সুমনের বার্তা আদান-প্রদানের স্ক্রিনশট।

চোরাই চিনির ট্রাক ধরিয়ে দিয়ে মামলার আসামি

গত ১৪ জুন শুক্রবার সকালে ভারতীয় অবৈধ চিনিসহ একটি ট্রাক আটক করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকটির চালক ও সহযোগীসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা হয়। মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে আছেন শহরের মনিপুরঘাট এলাকার রাতুল মিয়া ও পূর্ব তারাপাশা এলাকার মো. রাজিব। তারা ট্রাকের চালক ও সহযোগী।

অন্য দুজনের একজন হলেন মো. জনি, যিনি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হীরার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অপরজন হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল জুবায়েদ খান নিয়াজ।

নিয়াজের দাবি, ট্রাকটি ধরিয়ে দিতে তিনিই পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জেলা শহরের তালতলা এলাকা থেকে চিনিভর্তি ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাকটি আটক করেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির।

সে সময় থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, চোরাই চিনি কারবারে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হীরা দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত বলে তাদের কাছে তথ্য আছে। ছাত্রলীগ নেতা নিয়াজ তাকে ধরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন। তিনিই পুলিশকে চিনিবোঝাই ট্রাক আসার বিষয়ে তথ্য দেন।

তথ্য পেয়ে শহরের বড়বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। কিন্তু নাজমুল হীরা ও তার সহযোগীরা ট্রাকটিকে শহরের মোরগমহলে নিয়ে যান। সেখানে নিয়াজ ও তার অনুসারীরা অবস্থান নিলে হীরা ও তার সহযোগীরা সটকে পড়েন। আর চালক দ্রুতগতিতে ট্রাকটি নিয়ে শহরের তালতলা এলাকায় চলে যান।

তালতলা থেকে নিয়াজের সহযোগিতায় চালক ও সহযোগীসহ ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সেদিন চোরাচালানটি ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে হীরা ঘুষের প্রস্তাব দেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

অথচ মামলার পর দেখা যায়, আসামির তালিকায় মোল্লা সুমন ও নাজমুল হীরার নাম নেই। পরিবর্তে সুমন ও হীরার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জনি নামের এক যুবককে মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশকে সহযোগিতা করে আসামি হয়েছেন নিয়াজও।

পুলিশ জানায়, ট্রাকটি এনেছিলেন জনি; তার আশ্রয়দাতা হলেন নাজমুল হীরা। ট্রাকটি যখন হীরার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখনই সহযোগিতার জন্য এসআই রুহুল আমিনকে ফোন করেন তিনি। হীরা জানান, নিয়াজ তাদের ট্রাকটি নিয়ে গেছেন। আর নিয়াজের কাছ থেকে ট্রাকটি উদ্ধারের উদ্দেশ্যেই ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়।

তাহলে নিয়াজ কীভাবে আসামি হলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে দুজনের নাম দেয়া হয়েছে।’

‘নিয়াজ তো বলেছেন, তিনি সেদিন পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়েছিলেন’- সাংবাদিকের এই মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি। তদন্তে যদি কারও সম্পৃক্ততা না পাওয়া যায়, তবে তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়ারও সুযোগ রয়েছে।’

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ‘যারা চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

চোরাকারবারীদের সঙ্গে সুমনের বার্তা ভাইরাল

ভারতীয় অবৈধ চিনিবোঝাই ট্রাকটি আটকের পর চোরাকারবারীদের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন যেসব বার্তা আদান-প্রদান করেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বার্তা আদান-প্রদানের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সুমন নিয়মিত খোঁজ রাখছেন কয়টা গাড়ি শহরে প্রবেশ করেছে এবং তাকে কী পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

একটি বার্তায় সুমন লেখেন, ‘কত করে কত দিনের দিছস?’ জবাবে তাকে বলা হয়, ‘ছয় দিনের ১০ করে।’ উত্তরে সুমন লেখেন, ‘তোরে না বলছি প্রতিদিন ১৫ করে দিতে?’

আরেকটি মেসেজে সুমন জানতে চেয়েছেন, ‘সকালে গাড়ি কয়টা এসেছে?’ জবাব আসে, ‘ওইদিকে ঝামেলা। কালকে দুইটা আসবে।’

সুমন ও হীরার প্রতিদিনের বখরা

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কিশোরগঞ্জ বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি ট্রাক বড়বাজারে প্রবেশ করত। কখনও আবার ৭টা থেকে ৮টাও আসত। রাস্তায় ঝামেলা থাকলে ট্রাক আসা বন্ধ রাখতেন তারা।

এই ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন যদি ২০ হাজার টাকা পান, তাহলে মাসে ছয় লাখেরও বেশি টাকা সুমনের ভাগে যুক্ত হয়েছে। বছরে সে হিসাবটা কোটি টাকার কাছাকাছি চলে যায়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের সঙ্গে একবার ফোনে সংক্ষিপ্ত কথা হয়। চিনির ট্রাক আটকের ঘটনায় সে সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় যদি আমার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ হবে। এতে তো কোনো সমস্যা নেই!’

তবে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের এই চোরাচালানে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘যারা চোরাই কারবারের জড়িত, তারা মূলত নামধারী ছাত্রলীগ। তারা কোনো পদ-পদবিতে না থাকায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও সুযোগ থাকে না।’

স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে পরবর্তীতে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে বার বার কল করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হীরার দাবি, মেসেজের স্ক্রিনশটগুলো সুমনের নয়।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এগুলো বানানো যায়। তাছাড়া মেসেজের কোথাও কি লেখা আছে যে, কিসের গাড়ি? বৈধ চিনির গাড়ি, নাকি অবৈধ চিনির গাড়ি?’

তারা নিকটাত্মীয়

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের আপন ভাগ্নে এই নাজমুল হীরা। তবে তাদের চলাফেরাটা বন্ধুর মতো। সুমনের ‘ডান হাত’ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত হীরা।

তাদের ঘনিষ্ঠরা জানান, সুমনের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ হীরাই করে থাকেন।

হীরার বাড়ি নেত্রকোণার মদন উপজেলার ফেকনী গ্রামে হলেও শৈশব থেকেই তার বেড়ে ওঠা মামার বাড়িতে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ একাধিক মামলা রয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ভারতীয় অবৈধ পণ্যভর্তি ট্রাকগুলো শহরে প্রবেশ করার আগে হীরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হীরা ‘সবুজ সংকেত’ দিলেই সেগুলো রওনা হয়।

তারা জানান, হীরা ও তার অনুসারীদের মোটরসাইকেল পাহারায় সেসব ট্রাক শহরের বড়বাজারে প্রবেশ করে। ট্রাকগুলো আনলোড হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তারা। রাস্তায় কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে ছাড়িয়ে আনার কাজটাও তারাই করে থাকেন।

তবে নাজমুল হীরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেন, ‘এ ঘটনায় যদি আমার সম্পৃক্ততা থাকত, তবে আরও আগেই শুনতেন। এগুলো মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।’

তার দাবি, চোরাচালানে পুলিশ যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে।

অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি

শহরের বিভিন্ন সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে।

সংগঠনের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান নয়ন বলেন, ‘এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে জেলা ছাত্রলীগের নামে চাঁদাবাজি হয় না। স্ট্যান্ডগুলোতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার অনুসারীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের অত্যাচার ও মামলার হুমকি দেয়া হয়।’

তার দাবি, শহরের একরামপুর ও পুরানথানা- এ দুটি সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন হীরা।

তিনি জানান, সিএনজি অটো স্ট্যান্ডের জায়গা মালিকপক্ষ ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের কাছ থেকে দৈনিক ভিক্তিতে ভাড়া নিয়েছেন নাজমুল হীরা। একেক দিন একেক লোককে সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করে অটোরিকশা থেকে প্রতি ট্রিপে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন তিনি।

প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি অটোরিকশা পুরানথানা ও একরামপুর থেকে চামটাঘাট ও বালিখলায় যায়। একরামপুর থেকে কিছু অটোরিকশা ভৈরব এবং গাজীপুরেও যায়। সে হিসাবে দিনে ১৫০ থেকে ২০০ অটোরিকশা চলে।

প্রতিদিন এভাবে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়, যা মাসে দাঁড়ায় চার লাখ টাকার মতো।

কমিটি গঠনে বাণিজ্য

২০২২ সালের ৫ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ।

পরদিন সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ। তারা জানায়- বিবাহিত, অছাত্র, বয়সোত্তীর্ণ ও মাদকাসক্তদের কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়েছে।

টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয় ওই সংবাদ সম্মেলনে।

একইদিন পাকুন্দিয়াতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে ছাত্রলীগের একাংশ। তাদের অনেকেই ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেন।

সেসময় পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আরমিন দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার কথা বলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হন।

তিনি বলেছিলেন, ‘বিবাহিত, অছাত্র, মাদকাসক্ত, বয়সোত্তীর্ণ, বিএনপি-জামায়াত পরিবার থেকে উঠে আসা সুবিধাবাদীদের দিয়ে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে নেয়া হয়েছে। এটা উপজেলা ছাত্রলীগের কাঠমোকে দুর্বল করে দেয়ার চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র।’

এ বিষয়ে তখন মৌনতা অবলম্বন করেন মোল্লা সুমন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিন সদস্যের জেলা কমিটির অনুমোদন দেন তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

কমিটিতে আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনকে সভাপতি, ফয়েজ ওমান খান সাধারণ সম্পাদক ও লুৎফর রহমান নয়নকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। সেই কমিটি পার করে চারটি বছর। শুরু থেকেই এই কমিটিকে মানতে নারাজ ছাত্রলীগের একটি পক্ষ।

জেলা ছাত্রলীগ নেতা হয়েও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ

চার বছর আগে অর্থকষ্টে ভুগতেন সুমন। জেলা ছাত্রলীগে পদ বাগানোর পর থেকেই তার অর্থকষ্ট অর্থের প্রাচুর্যে রূপ নেয়। এখন তিনি বিপুল সম্পদের মালিক।

সুমনের বাড়ি সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে হলেও বর্তমানে থাকেন শহরের বয়লা এলাকায়। জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পরই একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণে হাত দেন তিনি। সেই বাড়িটির নির্মাণ কাজ বর্তমানে শেষ হয়েছে।

বয়লা এলাকা ছাড়াও সদর উপজেলার বৌলাই, নাকভাঙ্গা এলাকাতেও তিনি জমি কিনেছেন বলে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করে এবং একাধিকবার মেসেজ পাঠিয়েও মোল্লা সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
ববির আবাসিক হলে ছাত্রলীগের ভাঙচুর মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার
রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর করে হলছাড়া, অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে
ছাত্রলীগের সহসভাপতির নামে গরু ছিনতাইয়ের মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Rohingya camp is burning again and again in the fire of sabotage

‘নাশকতার’ আগুনে বারবার জ্বলছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

‘নাশকতার’ আগুনে বারবার জ্বলছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প টেকনাফে ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ফাইল ছবি
অভিযোগ উঠেছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত রয়েছে। ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গাদের এরা জিম্মি করে রেখেছে বহুদিন ধরে। বিশেষত ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় উগ্রবাদী ‘আলেকিন’ গোষ্ঠীর দুগ্রুপের বিরোধের জের ধরে এসব আগুনের ঘটনা ঘটছে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বারবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এসব আগুনের ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনা না ঘটলেও সার্বিক বিচারে ক্ষতি হচ্ছে ব্যাপক। বারবার নিঃস্ব হচ্ছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলো৷ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে শিশুরা। বই-খাতা, স্কুলের পোশাকসহ বাসস্থান যেমন পুড়ছে, তেমনি মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বারবার আগুন লাগার নেপথ্য কারণ কেবলই কি অসাবধানতা? এমন প্রশ্নে ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের বক্তব্য- দুই-একটি ক্ষেত্রে অসাবধানতা আগুনের কারণ হতে পারে। তবে বার বার আগুন লাগার পেছনে কোনো নাশকতামূলক তৎপরতা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা উচিত। অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি হয়। কিন্তু সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন এবং তাদের সুপারিশ কখনও আলোর মুখ দেখে না।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, ‘বলা হচ্ছে যে শিবিরে বার বার অসাবধানতায় আগুন লাগছে। তবে এর পেছনে কোনো নাশকতামূলক তৎপরতা রয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও এখন সাধারণ রোহিঙ্গাদের মুখে মুখে।’

তারা বলছেন, প্রতিবছর শিবিরগুলোতে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এর পুনরাবৃত্তি রোধে মাইকিং আর মহড়া ছাড়া সংশ্লিষ্টদের খুব বেশি জোরালো ভূমিকা চোখে পড়ে না।

অভিযোগ উঠেছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাত রয়েছে। ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গাদের এরা জিম্মি করে রেখেছে বহুদিন ধরে। বিশেষত ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় উগ্রবাদী ‘আলেকিন’ গোষ্ঠীর দুগ্রুপের বিরোধের জের ধরে এসব আগুনের ঘটনা ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, প্রায় প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের সময় বিস্ফোরকের গন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি কোনো দাহ্য পদার্থের মতো আগুনের ফুলকি বহুদূর থেকে ক্যাম্পের এক একটি স্থানে ছুটে আসতেও দেখা গেছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পে বার বার আগুন লাগাচ্ছে এই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে আবারও আগুন লেগেছে। শনিবার (১ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পে আগুন লাগার ঘটনাকে সব সময়ই ‘নাশকতা’ বলে উল্লেখ করছে রোহিঙ্গারা। এতো ঘিঞ্জি এলাকায় কীভাবে আগুন দিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় সে প্রশ্নও থেকে যায়।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদিন বা দুদিনের ব্যবধানে কেন বার বার আগুন লাগছে- এমন প্রশ্ন সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রায় সবার মাঝেই। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভাবাচ্ছে।

‘এসব অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে- এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারও যোগসাজশে বা কূটচালে আগুনের ঘটনাগুলো ঘটছে কি না, তার সঠিক তদন্ত দরকার বলে মনে করছি আমরা।’

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে ৬৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০২০ সালে আগুনের ঘটনা ঘটে ৮২টি। ২০২৩ সালেও ৬০টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত পাঁচ মাসে উখিয়ায় পাঁচটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও আশ্রিত রোহিঙ্গাদের হিসাব অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডের এই সংখ্যা আরও বেশি।

এ বিষয়ে কুতুপালং শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার জোবায়ের বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনায় তদন্ত করা হলেও প্রকাশ্যে আসে না তদন্ত রিপোর্ট। আর অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নাশকতার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। আর ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আমির জাফর বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আমাদের কানেও এসেছে। আমরা অভিযোগগুলো উড়িয়ে দিচ্ছি না। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো নাশকতা- এমন অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে আশা করি।

এদিকে চলতি বছরের পাঁচ মাসে উখিয়ায় রোহিঙ্গ আশ্রয় শিবিরে পাঁচটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উখিয়া স্টেশনের কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আগের তুলনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কমে এসেছে। তবে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো ঘনবসতিপূর্ণ। সেখানে ঝুপড়ি ঘর আছে। দুর্গম পাহাড়ে অবস্থানের কারণে আগুন লাগলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না।’

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আগুনের ঘটনার পর আমার কাছে যেসব খবরাখবর এসেছে তাতে মনে হচ্ছে, এগুলো পরিকল্পিত। কিভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে তা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসন ও সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’

এর আগে ২০২১ সালে ২২ মার্চ একই ক্যাম্পসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি ক্যাম্পে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় আগুনে ১০ হাজারের বেশি বসতঘর পুড়ে যায়। গৃহহারা হয় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা।

এছাড়া দগ্ধ হয়ে দুই শিশুসহ ১৫ জন রোহিঙ্গা মারা যায়। ওই ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি ও জানমাল রক্ষায় ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা।

আরও পড়ুন:
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ল দুই শতাধিক ঘর
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের আগুন
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে পুড়ল অর্ধশত ঘর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Who will stop the occupation of special land of roads and highways?

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে? মহাসড়কের পাশের খাস জমি দখল করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চলছে অবকাঠামো নির্মাণ। কোলাজ: নিউজবাংলা
সড়ক বিভাগের জমি দিন দিন বেদখল হয়ে মোটা হচ্ছে ব্যক্তিবিশেষের পকেট। এসব টাকার ভাগ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটেও যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তদের দাবি, নিয়মিত উৎকোচ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টরাও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে সড়ক-মহাসড়কের পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। সংশ্লিষ্টদের চোখের সামনে এভাবে দখল হচ্ছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি।

অজ্ঞাত কারণে এসব দেখার কেউ নেই! এসব দখলদারি রুখবে কে?- এলাকার সচেতন মহলের মুখে মুখে ঘুরছে এ প্রশ্ন।

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর একটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক কালিয়াকৈর উপজেলার ওপর দিয়ে গেছে। এ ছাড়াও এ উপজেলার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। এসব মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক বিভাগের জমি রক্ষায় চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের পাশে চন্দ্রা এলাকায় একটি রেস্ট হাউজ ও ধামরাই-কালিয়াকৈর-মাওনা সড়কের কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় একটি সাইট অফিস তৈরি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারপরও দিনের পর দিন সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ হাটবাজার বসিয়ে, ফুটপাত দখল করে তাতে দোকানপাট বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন চক্রের সদস্যরা।

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ট্রাক স্টেশন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গায় থাকা পুকুর ভরাট করছে ব্যক্তিবিশেষ। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, চন্দ্রা এলাকায় সড়ক বিভাগের রেস্ট হাউজের পাশেই হাটবাজার ও ফুটপাতে দোকানপাট বসিয়ে রমরমা বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা পুলিশের চোখের সামনে এসব কর্মকাণ্ড চললেও অজ্ঞাত কারণে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

সড়ক বিভাগের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে বিভিন্ন সিন্ডিকেট বাণিজ্য চালিয়ে আসছে বলেও আছে অভিযোগ।

এভাবে সড়ক বিভাগের জমি দিন দিন বেদখল হয়ে মোটা হচ্ছে ব্যক্তিবিশেষের পকেট। এসব টাকার ভাগ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটেও যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তদের দাবি, নিয়মিত উৎকোচ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টরাও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের লতিফপুর এলাকার জোড়া ব্রিজের পাশে সড়ক বিভাগের জমিতে বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি দোকান নির্মাণ শুরু করেছেন। এর পাশে ট্রাক স্টেশন এলাকায় মোরশেদ আলম দুরে (সাগর) বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সড়ক বিভাগের সরকারি জমি ভরাট করেছেন।

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?
কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় সড়ক বিভাগের সাইট অফিসের পাশেই সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রজত বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভেকু গাড়ি জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত, কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দিন দুয়েক পর আবার রাতের আধাঁরে ওই জমি ভরাট হয়ে গেছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগ দিয়েই দায় সেরেছে সড়ক বিভাগ। আর সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি ভরাটের মাধ্যমে দখল করেছেন সাগর।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাগর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা আমাদের সম্পত্তি। সড়ক বিভাগের জমি দখল করছি না। এর এক পাশের সম্পত্তি মহাসড়কে গেছে, কিন্তু এখনও রেকর্ড হয়নি। অপর পাশে মহাসড়ক থেকে অ্যাপ্রোস সড়কের জন্য আবেদন করেছি। এখানে অস্থায়ী গরুর হাট করা হবে।’

কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়ক বিভাগের সাইট অফিসের পাশেই একটি বড় দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সে দোকানের ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ চালাচ্ছেন দীপংকর নামের এক ব্যক্তি।

জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সড়ক বিভাগের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই এটা নির্মাণ করতেছি।’

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দোকান মালিক বলেন, ‘আপনারা কেন আসছেন? এ বিষয়ে আপনাদের কী করার আছে?’

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?
ট্রাক স্টেশন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গায় থাকা পুকুর ভরাটের আরেকটি চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্টদের অতৎপরতার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযান চালিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্য সহকারী তায়েব আলম বলেন, ‘জমি ভরাট করার বিষয়ে মামলা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে চিঠি লিখে ইউএনও অফিস ও থানায় পাঠানো হয়েছে।

‘সরকার পক্ষ থেকে ভরাটকারীদের নামে মামলা হবে। বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়ও (আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক) জানেন। এটা নিয়ে তিনবার বসা হয়েছে। আমরা খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভি আহম্মেদ সুজন বলেন, ‘ওই জমি ভরাটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে চলমান দোকানপাট নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব সমস্যা সমাধানে এ সপ্তাহেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রজত বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিক স্কুলের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ
কর্ণফুলীতে এক বছরে ৫০ কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার
ফুটপাত থেকে সরিয়ে হকারদের খোলা মাঠে পুনর্বাসন
বনের জমি উদ্ধারে গিয়ে হামলায় কর্মকর্তা হাসপাতালে
সওজের জমিতে মেম্বারের ‘সমাজসেবা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two DGMs stole 20 crore rupees in 27 months
মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড

২৭ মাসে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন দুই ডিজিএম

২৭ মাসে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন দুই ডিজিএম মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের চাকরিচ্যুত দুই ডিজিএম রবিউল করিম (বাঁয়ে) ও শান্তনু কুমার দাশ। কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রবিউল করিম ঢাকায় চারটি ফ্ল্যাট, রংপুরে বাগানবাড়ি ও নাটোরে ৫০ বিঘা জমি কেনেন। আর শান্তনু কুমার দাশ রাজধানীতে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটি প্লট ও গাড়ির মালিক হয়েছেন। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও মিলেছে মোটা অংকের টাকা।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড আন্তর্জাতিক মানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য সেবামূলক যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও আমদানিকারক এই প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ কোটি টাকা। উপরন্তু পরস্পর যোগসাজশে তারা প্রতিষ্ঠানের আরও ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছেন।

আলোচিত ওই দুই ব্যক্তি হলেন- মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রবিউল করিম ও শান্তনু কুমার দাশ।

মাত্র ২৭ মাস ৮ দিনের চাকরি জীবনে এই দুই কর্মকর্তা কোম্পানিটির সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি করে নামে-বেনামে কিনেছেন একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি, প্লট ও জমি। তাদের ব্যাংক হিসাবেও মিলেছে মোটা অঙ্কের টাকা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানা সম্প্রতি এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। একদিনের রিমান্ড শেষে তারা এখন কারাগারে।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে রবিউল করিম প্রতিষ্ঠানটিতে ডিজিএম পদে যোগ দেন ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর। অপরজন শান্তনু কুমার দাশ একই পদে যোগদান করেন ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল। তবে তাদের দুর্নীতি ডালপালা মেলে ২০২১ সালের শেষের দিকে।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডির) চৌধুরী হাসান মাহমুদ ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান। আর তার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান অভিভাবক হয়ে দাঁড়ান এই দুই কর্মকর্তা।

কোম্পানীর মালিক কর্তৃপক্ষ এই দুই কর্মকর্তার ওপর সরকারি বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে সেবাদান কার্যক্রম দেখাশোনার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। এমডির অনুপস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করে রবিউল করিম ও শান্তনু কুমার দাশসহ তাদের সহযোগীরা নিজেদের আখের গোছাতে নেমে পড়েন। পরস্পর যোগসাজশে তারা গড়েন অনিয়ম-দুর্নীতির সিন্ডিকেট।

চাকরিদাতা কোম্পানিকে না জানিয়ে তারা নিজেরাই একাধিক প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডে চাকরিরত অবস্থাতেই পদ-পদবী ব্যবহার করে তারা নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন।

দুর্নীতিবাজরা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভুয়া প্যাড, ভুয়া নথি ও দলিল বানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অগোচরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রবিউল ও শান্তনু মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডে ডিজিএম পদে কর্মরত থাকলেও তাদের বেতনের অংকটা আহামরি কিছু ছিল না। স্বল্প বেতনের এই দুই চাকুরে ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করেন ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারা যাওয়ার পর।

এমডির মৃত্যুর পর থেকে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ মাস ৮ দিন চাকরিকালে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এই দুই দুর্নীতিবাজ। তাদের জালিয়াতি-দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে চলতি বছরের ১ এপ্রিল। ওইদিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের একটি কারণ দর্শানো নোটিশ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাদের ভয়াবহ মাত্রার দুর্নীতি প্রকাশ হয়ে ড়ে।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ওইদিনই প্রথম জানতে পারে যে, ডিজিএম রবিউল ও শান্তনু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও সরকারি সংস্থার কাছে তথ্য গোপন করে দ্য ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল নামে এক প্রতিষ্ঠানের প্যাডে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন। একইসঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের সিইও ও ব্যবস্থাপনার অংশীদার হিসেবে স্বাক্ষর করেন রবিউল।

প্রযুক্তি ইন্টারন্যাশনাল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রবিউল। ডিজিডিপির নোটিশ আসার পর প্রতিষ্ঠানটি আরও জানতে পারে, রবিউলের এই অপকর্মের সঙ্গে কোম্পানির আরেক ডিজিএম শান্তনু কুমার দাশও জড়িত।

পরবর্তীতে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসা ফেঁদেছেন ওই দুই কর্মকর্তা। তারা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ‘দ্য ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’ নামে এক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারে অংশ নিতেন। আর এ সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ বহন করতো মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিংয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমেই অনিয়মের বিষয়টি ধরে ফেলে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি ইস্যু হলে এই দুই কর্মকর্তা আগেভাগে যোগাযোগ করে কৌশলে তা রিসিভ করে নিতেন।

অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের জবাব চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পরপর তিনবার চিঠি পাঠানো হয়। আর প্রতিবারই এমডির স্বাক্ষর জাল করে সেই চিঠির উত্তর দেন রবিউল ও শান্তনু।

দ্বিতীয় চিঠিটি প্রতিষ্ঠানের ১৪ পুরানো পল্টন, রেজিস্টার অফিসে এলে রবিউল করিম কৌশলে অফিস কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে অফিসে পৌঁছে দেয়ার নাম করে জোর করে নিয়ে আসেন।

তবে ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় এই দুই ডিজিএম বাড়ি চলে গেলে তৃতীয় চিঠিটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। আর তখনই তাদের প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে যায়।

কর্মকর্তারা বলেন, মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনামও ক্ষুণ্ন করেছেন রবিউল ও শান্তনু। পরস্পর যোগসাজশে তারা কোম্পানির লেটার হেড প্যাড ব্যবহার করে তাতে জাল স্বাক্ষর দিয়ে ১৩ এপ্রিল প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরে চিঠিও ইস্যু করেন। ওই চিঠিতে রবিউল উল্লেখ করেন, তিনি কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে আছেন।

শুধু তাই নয়, তথ্য গোপন করে রবিউল তার ব্যক্তিগত ও কোম্পানির ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। এই দুজন গ্রাহকদের কাছ থেকে উৎকোচ নিতেন। নামে-বেনামে কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে টাকা পকেটে ভরে তা বকেয়া দেখাতেন।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করে জানতে পারে, এই দুই কর্মকর্তা সামান্য বেতনের চাকুরে হয়েও অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল বিত্তের মালিক হয়ে গেছেন।

কোম্পানির হিসাবমতে, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী হাসান মাহমুদ মারা যাওয়ার পর এই দুজন তাদের চাকরিকালীন ২৭ মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া মেডিগ্রাফিক প্রতিষ্ঠানের আরও ৩০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা অনেকদিন ধরেই আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তদন্ত করে জানতে পেরেছি, তারা নিজেদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও তথ্য গোপন করে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে গড়ে তোলেন। আর এভাবে তারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া পরোক্ষভাবে আরও ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছেন।’

জাল-জালিয়াতি ধরা পরার পরপরই মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং থেকে ওই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ জাকির হোসেন ২৪ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন। ওইইদিনই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে কোম্পানির টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় রবিউল ও শান্তনুকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

গুলশান থানা পুলিশ জানায়, রবিউল করিম চাকরিকালীন তথ্য গোপন করে ‘দ্য ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’, ‘বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ’ ও ‘প্রযুক্তি ইন্টারন্যশনাল’ এবং শান্তনু কুমার দাশ ‘নোরামেড লাইফ সাইন্স’ নামে কোম্পানি খোলেন।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের নামে আসা সব কাজ তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতেন। এভাবে অল্প দিনেই প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত টাকায় রবিউল করিম রাজধানীতে বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাট, রংপুরে বাগানবাড়ি ও নাটোরে ৫০ বিঘা জমি কেনেন। আর শান্তনু কুমার দাশ রাজধানীতে কেনেন দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটি প্লট ও গাড়ি। এছাড়া তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোটা অংকের টাকা পাওয়া গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই অল্প সময়ে এতো অর্থ-সম্পত্তির মালিক কিভাবে হলেন- তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি রবিউল ও শান্তনু।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড জানায়, সাবেক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালেও চেক জালিয়াতির কারণে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়ার এক সপ্তাহ আগেও কোম্পইনর একটি চেক জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা পড়েন তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Satgaon forest million trees disappear

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব! মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত সাতগাঁও বনের সর্বত্র নজরে পড়ে কেটে নেয়া গাছে গুড়ির এমন দৃশ্য। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ রয়েছে, খোদ বন কর্মকর্তারাই এসব গাছ সাবাড় করার জন্য দায়ী। দিনদুপুরেই তারা নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে লোক দিয়ে গাছ কেটে বন উজাড় করে দিচ্ছেন। বাধা দিতে গেলে উল্টো মামলা করে দেন বন কর্মকর্তারা।

মৌলভীবাজারের সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ এককথায় লোপাট হয়ে গেছে। খোদ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই দিন-দুপুরে এসব গাছ কেটে নিয়ে গেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যেই গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো বন বিভাগের মামলার হুমকির মুখে পড়তে হয়।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কোল ঘেঁষেই অবস্থিত সাতগাঁও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রায় চল্লিশ হেক্টর উঁচু-নিচু টিলা আর পাহাড়ে ঘেরা এই বনাঞ্চলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ঔষধি গাছ। এসব গাছ রোপণ করা হয়েছে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায়।

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!
সাতগাঁও বনের গাছগুলোতে এভাবেই নম্বর দেয়া আছে। কিন্তু বন কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্যে গাছই থাকছে না। ছবি: নিউজবাংলা

বনের সব গাছের গায়েই নম্বর দেয়া। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এই বনের গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পড়ে আছে কেবল শত শত কাটা গাছের শেকড়সমেত গুড়ি আর ডালপালা। কেটে নেয়া এসব গাছের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে সামাজিক বনায়নের জন্য স্থানীয় উপকারভোগীদের নিয়ে এই বাগান গড়ে তোলা হয়। সাতগাঁও বনবিটের আওতায় এই বাগানে দ্রুত বর্ধনশীল আকাশমনি, বেলজিয়াম ও ক্রস গাছ রোপণ করা হয়। কিন্তু এসব গাছ বড় হতে না হতেই শ্যেন দৃষ্টি পড়ে যায় খোদ বন কর্তাদের। দিনদুপুরে হরহামেশাই এসব গাছ কেটে নিয়ে যান বন বিভাগের বিট কর্মকর্তারাই- এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সাতগাওঁ বনবিট এলাকায় বসবাস করা বাগানের উপকারভোগীদের একজন শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘২০০৭ সালে শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ অফিসের মাধ্যমে আমরা এই বাগানের উপকারভোগী হই। এই গাছগুলো রোপণ করার পর এখন বড় হয়েছে।

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!

‘কিছুদিন আগে নিলাম হয়। এরপর সাতগাঁও বিট অফিসার ও শ্রীমঙ্গলের রেঞ্জার অবাধে গাছগুলো কেটে বিক্রি করছেন। এখন গাছগুলোর নিলাম হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা নিলামের টাকা পাওয়ার সময়। অথচ বন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে গাছগুলো কেটে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। আমরা বাধা দিলে গাছ চুরির মামলা দিয়ে দেয়া হয়।’

বনের পার্শ্ববর্তী গুচ্ছগ্রামের রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমি এখানে গরু চড়াতে আসি। প্রায় সময়ই দেখি বনের কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে থেকে লোকজন দিয়ে গাছ কাটছেন। গাছ কেটে তারা দিনে ও রাতে প্রকাশ্যেই নিয়ে যান। অনেক সময় বড় বড় গাড়ি দিয়েও গাছ নিয়ে যাওয়া হয়। আর এতে বাধা দিলে মামলা দিয়ে দেয়।’

স্থানীয় অধিবাসী মুজাহিদ বলেন, ‘আমার লেবু বাগানে যাওয়া-আসার সময় সাতগাঁও বিটের রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। প্রায়ই দেখি বনের লোকেরা গাছ কাটছে। বন কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে থেকে লোকজন দিয়ে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে।’

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাতগাঁও বনবিটের এই সামজিক বনায়নটি ১২ ফেব্রুয়ারি নিলামের টেন্ডার হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এই বাগানে মোট গাছের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৪৪টি। এসবের মধ্যে রয়েছে আকাশমনি, বেলজিয়াম ও ক্রস গাছ। ৪০ হেক্টর এলাকাজুড়ে স্থানীয় উপকারভোগী ৪০ জনকে নিয়ে এই বনায়ন গড়ে তোলা হয়।

এ বিষয়ে বন বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মজনু বলেন, ‘বনের গাছ কাটা হলে তার দায় শুধু বিট অফিসারের নয়। এই দায় উপকারভোগীরাও এড়াতে পারেন না। চুক্তি অনুযায়ী তাদেরও কিছু দায়বদ্ধতা আছে। আর মামলা দেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা। বরং তাদের হাতেনাতে ধরেই মামলা দেয়া হয়।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Most of the houses in the Teknaf shelter project are being rented

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০টি ঘরের সাতটিই বরাদ্দ পেয়েছেন সচ্ছল ব্যক্তিরা। ছবি: নিউজবাংলা
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা জানান, এখানে ১০টি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটিতে অসচ্ছল উপকারভোগীরা বসবাস করেন। বাকি সাতটি ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা কেউ থাকেন না। কেউ কেউ নিজের নামে বরাদ্দ ঘর ভাড়া দিয়েছিল। বর্তমানে সাতটি ঘরে তালা ঝুললেও বরাদ্দপ্রাপ্তরা নতুন ভাড়াটে খুঁজছেন। দুটি ঘর ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফে উপজেলার একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ৫২৩ জন ভূমি ও গৃহহীনের মাঝে ঘর বিতরণ করা হয়। মাথা গোঁজার স্থায়ী একটি আবাসন পেয়ে নতুন জীবন শুরু করেন ভূমিহীন অসহায় মানুষ।

তবে এখানে ঘর বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই ভূমিহীন নন। অভাবগ্রস্তও নন। দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে ঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত অনেকেই সচ্ছল। আশ্রয়ণের সেসব ঘর মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য।

আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দে অনিয়ম ও ভাড়া আদায়ের এমন একাধিক ঘটনা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে সেসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য
আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া প্রভাবশালী সচ্ছলদের অধিকাংশ ঘর এখন তালাবদ্ধ। খোঁজা হচ্ছে ভাড়াটে। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নে নয়াপাড়ার শেষ মাথায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের তালিকায় ৫ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কামালের ঘর। ওই গ্রামেই তার নিজস্ব টিনশেড ঘর রয়েছে। তারপরও প্রভাব খাটিয়ে তিনি আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। কামালের নিজের ঘর থাকায় এখন আশ্রয়ণে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে থাকেন আরেকজন।

আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কামাল হোসেন নিজের নামে বরাদ্দ ঘরে কখনোই বসবাস করেননি। কামালসহ প্রভাবশালী সাতজন একটি করে ঘর বরাদ্দ নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কামাল দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘরটি বিক্রি করে দেন রাশেদা নামের এক নারীর কাছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ওই নারীকে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান বাসিন্দারা।

নয়াপাড়ায় (পুরান পাড়া) আশ্রয়ণের ঘরে বসবাসকারী এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের এখানে ১০টি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটিতে আমাদের মতো অসচ্ছল উপকারভোগী বসবাস করে। বাকি সাতটি ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা কেউ থাকেন না।

‘৫ নম্বর ঘর বিক্রি করলেও পরে টাকা ফেরত নিছে। আর ১ নম্বর ঘর সাইফুল ইসলাম ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছিল। এখন সেই টাকা ফেরত দিছে কিনা তা জানি না। কেউ কেউ নিজের নামে বরাদ্দ ঘরটি দীর্ঘদিন তাদের আত্মীয়দের কাছে ভাড়া দিয়েছিল। বর্তমানে সেই সাতটি ঘরে তালা ঝুলিয়ে রাখলেও তারা নতুন ভাড়াটে খোঁজ করছেন।’

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য
নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে দশটি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটি বরাদ্দ পেয়েছেন প্রকৃত ভূমিহীনরা। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল ও সাইফুল মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ঘর আগে বিক্রি করেছিলাম। এখন আর ঘর বিক্রি করব না। ভাড়াও দেব না। অন্যদের পাঁচটি বাড়ি ভাড়া চলে। আমাদের ঘর তালাবদ্ধ করে রাখছি।’

বিষয়টি নিয়ে কোনো খবর প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তারা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা সঠিকভাবে করা হয়নি। তালিকা প্রস্তুতকারীরা প্রকৃত ভূমিহীনদের বদলে নিজেদের পছন্দের লোকের নাম দিয়েছেন। ফলে প্রকৃত অভাবীদের অনেকে আশ্রয়ণের ঘর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সচ্ছল ব্যক্তিরা ঘর বরাদ্দ পেয়ে সেগুলো মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে রাখছেন।

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মুফিত কামাল ও ফেরুজা বেগম বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে সরকার গুচ্ছগ্রাম করে টিনের ঘর বানিয়ে বরাদ্দ দিয়েছিল। সেখানে প্রতিটি ঘরেই বরাদ্দপ্রাপ্ত অভাবী মানুষগুলো থাকে। বর্তমানে ওইসব ঘর জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

‘পাশেই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর রয়েছে। অথচ অনেকে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে থাকছেন না। সবময় তালাবদ্ধ থাকে। আর যারা বসবাস করেন তাদের সিংহভাগই অন্যের বরাদ্দ পাওয়া ঘরে থাকেন। অনেকে উপহারের ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার অনেকে ভাড়া দিয়েছেন।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের যেসব ঘর তালাবদ্ধ থাকে, সেগুলো গুচ্ছগ্রামে জরাজীর্ণ ঘরে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

স্থানীয় কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মো. শাহ্ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সিংহভাগ ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা থাকেন না। শুধু সাবরাং নয়, টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে এই প্রকল্পের আওতায় যেসব ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সবখানেই এমন অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যাদের ঘরের প্রয়োজন নেই তারাই এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছের লোক এবং আত্মীয়দের ঘর দিয়েছেন। তাই সিংহভাগ ঘর তালাবদ্ধ থাকছে।’

প্রশাসনের কাউকে কোনোদিন আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসব ঘর তদারকি করতেও দেখেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বরাদ্দ পাওয়া যেসব ঘরে প্রকৃত মালিকরা থাকেন না, সেগুলো ফেরত নিয়ে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে বণ্টন করার দাবি জানান এই শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর কেউ বিক্রি করে থাকলে এবং ভাড়া দিয়ে থাকলে যাচাই-বাছাই করে তাদের দেয়া ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া ঘর ভাড়া দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের সংস্কার চান বাসিন্দারা
গজারিয়ায় আশ্রয়ণের ঘরে আগুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Torture of Hajti after seeing the activities of Subeda and women prisoners
গাইবান্ধা জেলা কারাগার

সুবেদারের ‘অপকর্ম’ দেখে ফেলায় নারী হাজতিকে নির্যাতন!

সুবেদারের ‘অপকর্ম’ দেখে ফেলায় নারী হাজতিকে নির্যাতন! গাইবান্ধা জেলা কারাগার। ছবি: নিউজবাংলা
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষীর সঙ্গে এক নারী কয়েদির অবৈধ কর্মকাণ্ড দেখে ফেলেন এক নারী কয়েদি। ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে ওই দুজনসহ আরও কয়েক বন্দি ও কারারক্ষী মিলে ওই কয়েদির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

গাইবান্ধা জেলা কারাগারে এক নারী হাজতিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, এক প্রধান কারারক্ষীর সঙ্গে এক নারী কয়েদির ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ দেখে ফেলায় তার মেয়েকে এই নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী হাজতির নাম মোর্শেদা খাতুন সীমা। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। সীমা মাদক মামলায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাইবান্ধা কারাগারে বন্দি।

লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে হাজতি সীমার উন্নত চিকিৎসা ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা করিমন নেছা। সেই অভিযোগের কপি নিউজবাংলার হাতেও এসেছে।

অভিযুক্তরা হলেন- গাইবান্ধা জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী (সুবেদার) আশরাফুল ইসলাম, নারী কয়েদি মেঘলা খাতুন, রেহেনা ও আলেফা, কারারক্ষী তহমিনা ও সাবানা, সিআইডি আনিছ ও হাবিলদার মোস্তফা।

সুবেদারের ‘অপকর্ম’ দেখে ফেলায় নারী হাজতিকে নির্যাতন!
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া অভিযোগপত্র।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসককে দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হাজতি মোর্শেদা খাতুন সীমা একটি মামলায় (হাজতি নং-৫০৮) প্রায় ৫ বছর ধরে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি। কিছুদিন আগে কারাগারে কর্মরত সুবেদার আশরাফুল ইসলাম ও মহিলা কয়েদি (রাইটার) মেঘলা খাতুনের মধ্যে চলমান অবৈধ কার্যকলাপ দেখে ফেলেন নারী হাজতি সীমা।

বিষয়টি জানতে পেরে সুবেদার আশরাফুল ও মহিলা কয়েদি মেঘলা খাতুন সীমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। ঘটনা জানাজানির ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে তারা কারাগারের ভেতরে সীমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন।

একপর্যায়ে সুবেদার আশরাফুল ও তার সহযোগীরা হাজতি সীমার স্বামী খোকন মিয়াকে গাইবান্ধা কারাগারে ডেকে আনেন। তারা অভিযুক্তরা সীমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য দিয়ে সীমার সংসার ভেঙে দেন।

এতোসবের পর হাজতি সীমা এসব ঘটনা জানিয়ে জেল সুপারের কাছে বিচার দেবেন জানালে সুবেদার আশরাফুল তাকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেন। এক পর্যায়ে ২০ মার্চ দুপুরে সুবেদার আশরাফুলের নেতৃত্বে মহিলা কয়েদি মেঘলা খাতুন, রেহেনা ও আলেফা এবং কারারক্ষী তহমিনা ও সাবানা কারাগারের মহিলা ইউনিটের ভেতরের বারান্দায় লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। পরে সেলের ভেতরে নিয়ে সীমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রশি দিয়ে দুই পা বেঁধে আবারও মারধর করেন। উপরন্তু নির্যাতনের এসব ঘটনা বাইরে প্রকাশ করলে সীমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, করিমন নেছা একাধিকবার তার মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি। অবশেষে হাজিরার তারিখে আদালতে মেয়ের সাক্ষাৎ পান মা করিমন নেছা। এদিন সীমা মায়ের কাছে নির্যাতনের ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের অভিযুক্ত প্রধান কারারক্ষী আশরাফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টির সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার নামটা কেন আসতেছে জানা নেই।

‘ঘটনাটি এক মাস আগের। আরেক প্রধান কারারক্ষী মোস্তফার ডিউটির সময়ের। কিন্তু আমার নাম কেন হচ্ছে বিষয়টি জানি না।’

অপর অভিযুক্ত মহিলা কারারক্ষী তহমিনা আক্তার মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সেদিন যা ঘটেছিল তার বিপরীত ঘটনা তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়েছে। আরেফিন নামে এক নারী কারারক্ষী ও তার স্বামীর মদদে এই বন্দি এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

কারারক্ষী তহমিনা আরও বলেন, ‘এই বন্দী (সীমা) একাধিক মামলার আসামি। প্রশাসনের লোকজনের ওপর হাত তোলার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার দিনও সাবানা নামে এক নারী কারারক্ষীর গায়ে হাত তুলেছিলেন এই বন্দি।’

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা কারাগারের জেল সুপার জাভেদ মেহেদী মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) এডিসি মহোদয় তদন্তে এসেছিলেন। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে ভেতরের ব্যাপারে পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে একটি ব্যাপার তৈরি হয়েছে, যা ফোনে বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিসি) মো. মশিউর রহমান মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) বিষয়টির তদন্ত করেছি। খুব দ্রুত জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। এরপরই জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন।’

মন্তব্য

p
উপরে