× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bumper yield of paddy in Sunamganj Haor
google_news print-icon

হাওরাঞ্চলে কৃষকের মুখে রোদের হাসি

হাওরাঞ্চলে-কৃষকের-মুখে-রোদের-হাসি
কুলোয় ধান ঝেড়ে ঘরে তোলার প্রস্তুতি। ছবি: নিউজবাংলা
দিরাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, এ বছর উপজেলার ছোট-বড় ১০টি হাওরে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৯ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে।

তীব্র গরম, কাঠফাটা রোদে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। তবে এই কাঠফাটা রোদ সুনামগঞ্জের হাওরের কৃষকের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে ফসল হারানোর শঙ্কা অনেকটাই দূর হওয়ায় এই রোদকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন।

ফসলহানির শঙ্কায় হাওরের নিম্নাঞ্চলের ক্ষেতের ধান আগে কাটা হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যস্ততার শেষ নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শ্রমিকদের নিয়ে তারা দিনমান পরিশ্রম করে চলেছেন। যেভাবেই হোক, হাওরাঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলনের সুফলটা ঘরে তোলা চাই।

অপেক্ষাকৃত উঁচু জমির ধান ক্ষেতগুলোতে এখন সেভাবে কাস্তের কোপ পড়েনি। সবাই ব্যস্ত নিচু জমির ক্ষেতে। কোনো কোনো ক্ষেতের ধান পুরোপুরি পাকেনি। তারপরও কৃষকরা অপেক্ষা করছেন না। তবে শীষের অধিকাংশ ধানই পুষ্ট হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের ক্ষেত থেকে অধিকাংশ ধান কৃষকরা ঘরে তুলে এনেছেন।

হাওরাঞ্চলে কৃষকের মুখে রোদের হাসি
ধান কাটা শেষে হাওরের পাশেই ধান ও খড় শুকানোতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের কালিয়াকোটার হাওরের কৃষক ফয়েজ মিয়া বলেন, ‘এবারের বৈশাখে কড়া রোদে ধান তাড়াতাড়ি পেকেছে। ঠিক তেমনি ধান ও খড় শুকাতে পেরেছে কৃষকরা। অন্যান্য বছর বৃষ্টির পানির জন্য হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা বা ধান পরিবহনে কষ্ট হতো। এ বছর কড়া রোদ থাকায় এবং এখন পর্যন্ত বৃষ্টি ও ঢলের বাগড়া না থাকায় সেই সমস্যাটা হচ্ছে না।’

জেলার বৃহৎ বোরো ফসলি হাওরের উপজেলা তাহিরপুরেও এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলী বলেন, ‘এবারের ফসলের সঙ্গে আগের বছরগুলোর ফলনের কোনো তুলনা হয় না। বিগত ১৫ বছরের মধ্যে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।’

উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ধানের গোলা পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে সোনালি ধানে। পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্বাইন্ড হারভেস্টার থাকায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সুবিধা পেয়েছেন তারা। ফলন ভালো হওয়ায় এবং প্রকৃতির কোনো ধরনের বিরূপতা ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পারায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

তাহিরপুরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর দুই দফা বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা পলিমাটির কারণে এবার ফসল বেশি হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েক জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান হাওরকে ফসলে ভরিয়ে দিয়েছে।

হাওরাঞ্চলে কৃষকের মুখে রোদের হাসি
হাওরাঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন হাসি ফুটিয়েছে পুরো কৃষক পরিবারে। ধান কেটে শিশুদের নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন এক কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দিরাইয়ের কালিয়াকোটা, বরামসহ বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কাঠফাটা রোদ হাওরের ধান দ্রুত পাকতে সাহায্য করেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতের ধানেও শুকনো। কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কেটে সহজেই ট্রাক্টর, ট্রলি বা ইঞ্জিনচালিত যান দিয়ে কৃষকরা বাড়ি নিয়ে এসেছেন। সেগুলো শুকিয়ে গোলায় তুলেও ফেলেছেন।

কৃষক রানু পুরকায়স্থ বলেন, ‘খড়া থাকার সুযোগে আমাদের কালিয়াকোটা হাওরের জটিচর, কাইমা, মধুপুর, দলুয়া, গচিয়া, অনন্তপুর, মির্জাপুর অংশেই ১১-১২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে কৃষকরা দিন ও রাতে ধান কেটে আনছেন। ফসল সংগ্রহও প্রায় শেষ পর্যায়ে।’

কৃষক মুক্তার মিয়া জানান, গত বছরের অকাল বন্যায় বেশকিছু হাওর ডুবে গিয়ে শত শত কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান কাটা ও শুকাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

তবে সুনামগঞ্জ সদরের শিয়ালমারা হাওরের কৃষক মইনুদ্দীন বলেন, ‘এবার ব্রি২৮ ধানের বেশ কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে। আগামীতে ব্রি২৮-এর পরিবর্তে অন্য কোনো ধান চাষ করতে হবে।’

সুনামগঞ্জ সদরের গোয়াচোরা হাওরের কৃষাণী ফুলেছা বলেন, ‘সরকারি গুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান দিতে পারলেই আমরা খুশি হবো।’

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া, বর্ধিতগুরমা, সমসা, নাইন্দা, খাউজ্যাউরি, নাওটানা, গণিয়াকুরিসহ প্রায় ২৩টি হাওরে এ বছর ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বএরা ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৯০ হেক্টর হাওরের জমিতে চাষাবাদ হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩০ হেক্টর বিভিন্ন কিত্তায় (গ্রামের পাশে) জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার টন।

হাওরাঞ্চলে কৃষকের মুখে রোদের হাসি
হাওর থেকে ধান কেটে আনার পর চলছে মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। ছবি: নিউজবাংলা

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, ‘তাহিরপুর উপজেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৯০ হেক্টর হাওরের জমিতে চাষাবাদ হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩০ হেক্টর বিভিন্ন কিত্তার (গ্রামের পাশে) জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার টন।’

দিরাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, এ বছর উপজেলার ছোট-বড় ১০ টি হাওরে ৩০ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৯ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৭ টন।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘হাওরের ৯০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এ বছর ১ হাজার কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের পাশাপাশি ২ লাখ ৬৫ হাজার শ্রমিক হাওরে ধান কাটছে।’

আরও পড়ুন:
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার 
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ কর্মকর্তা নিখোঁজ
তিন দশকে হাওরে পানি ধারণক্ষমতা ৮৭ শতাংশ কমেছে
হাওর ভ্রমণে ট্রলারে মোটরসাইকেল না নেয়ার পরামর্শ
বাজেটে নদী খননে বরাদ্দ চান হাওরবাসী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
15 more days to get Chapai mangoes

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে আম পাড়া ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি। ছবি: নিউজবাংলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাগানগুলোতে এ বছর কিছুটা দেরিতেই ফুটেছিলো মুকুল। তাই এই জেলার সুস্বাদু আমের স্বাদ নিতে ভোক্তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে পেতে হলে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

মধুমাস জ্যৈষ্ঠ শুরু হলেও আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোর চিত্র ভিন্ন। আমের গায়ে রং চড়েনি। পাকেনি এই সুস্বাদু রসালো ফল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাগানগুলোতে এ বছর কিছুটা দেরিতেই ফুটেছিলো মুকুল। তাই এই জেলার সুস্বাদু আমের স্বাদ নিতে ভোক্তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে পেতে হলে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের আগাম প্রস্তুতি শেষ করছেন ব্যবসায়ীরা। গাছ থেকে আম পেড়ে রাখার জন্য তৈরি হচ্ছে কুড়ে ঘর। সে সঙ্গে গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা আমের শেষ মহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা আমে এখনও রং চড়েনি। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের স্বরূপনগর এলাকায় একটি আম বাগানে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা গাছে থাকা শুকিয়ে যাওয়া আমের গুটি ও মরা পাতা ঝরিয়ে ফেলছেন। শ্রমিকরা জানান, বৃষ্টি হলে শুকিয়ে যাওয়া আমগুলোতে পচন ধরবে। তখন তা টিকে থাকা অনান্য আমে দাগ ধরাবে। ফলে আমের রং নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তারা শুকিয়ে যাওয়া আমগুলো ঝরিয়ে দিচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুটি জাতের আম মে মাসের শেষে গাছে পাকতে শুরু করতে পারে। আর জিআই সনদপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারে উঠবে।

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন
বাগানগুলোতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যার ফাঁকে একটু জিরিয়ে নেয়া। ছবি: নিউজবাংলা

ভোক্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোথাও আম পাকা দেখা যায়নি। তাই কেউ চাঁপাইয়ের আম বলে দেশের কোথাও আম বিক্রি করলে সেটি হবে বিভ্রান্তিকর।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পরিপক্ব আম যেন বাজারে ওঠে সে লক্ষ্যে আম ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ ও ফল গবেষকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার মতবিনিময় সভা করবে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে
নাটোরের আম লিচু মিলবে যেদিন থেকে
আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার
দাবদাহ বাড়াচ্ছে পানির সংকট, আম-লিচু চাষিদের মাথায় হাত
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Naogaon mangoes will be available in the market from May 22

নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে

নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি আম বাগানের দৃশ্য। ছবি: নিউজবাংলা
২২ মে থেকে বাজারে নওগাঁর আম আসা শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে।

বরেন্দ্র জেলা নওগাঁর আমচাষিদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগামী ২২ মে আম পাড়ার মধ্য দিয়ে জেলার আম বাজারজাতকরণ কার্যক্রম শুরু করার তারিখ নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি অফিস।

চাষিরা বলছেন, এ বছর প্রচণ্ড দাবদাহ ও খরায় আম বাগানের যত্ন ও পরিচর্যায় খরচ অনেক বেশি হয়েছে। তাই আম বিক্রিতে বিগত বছরের তুলনায় বেশি দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, নওগাঁর গুটি বা স্থানীয় জাতের আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২২ মে। এরপর ৩০ মে থেকে গোপালভোগ, ২ জুন থেকে ক্ষিরসাপাত ও হিমসাগর, ৫ জুন থেকে নাক ফজলি, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও হাড়িভাঙা, ২০ জুন থেকে আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে ফজলি এবং আগামী ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-১১, গৌড়মতি ও কাটিমন আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছর জেলার ৩৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ হয়েছে। এসব বাগানে ব্যানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকি, কাটিমন, গৌড়মতি, বারি আমসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১৬ জাতের আম চাষ করেছেন চাষিরা। নওগাঁ থেকে এ বছর অন্তত ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি অফিস।

জেলায় যে পরিমাণ আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে শুধু আম্রপালি চাষই হয়েছে মোট জমির ৬০ দশমিক ৮০ শতাংশে।

বাগান মালিকদের ভাষ্য, বছরের শুরুতে প্রচণ্ড শীত থাকায় গাছে মুকুল আসতে ১৫-২০ দিন দেরি হয়েছে। পরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মুকুল ও আমের গুটির ক্ষতি হয়েছে। তবে পরবর্তীতে দুবার বৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক উপকারও হয়েছে।

চাষিরা জানান, বরেন্দ্র এলাকা হওয়ায় এমনিতেই পানিস্বল্পতা সমস্যা থাকে প্রতি বছর। বৃষ্টির কারণে যেসব বাগানে সেচের প্রয়োজন পড়ে, সেগুলোতে সেচও কম লেগেছে।

নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে

কৃষি অফিস বলছে, বরেন্দ্র এলাকার আম দেশের অন্যান্য এলাকার আমের তুলনায় সুস্বাদু। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এ জেলার আম্রপালি আমের চাহিদা থাকে দেশজুড়ে। তাই এ বছর জেলার ৬০ শতাংশ বাগানেই আম্রপালির চাষ হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ জেলার আম সরবরাহ হয়ে থাকে। শুধু তা-ই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম কুড়াচ্ছে নওগাঁর আম।

২২ মে থেকে বাজারে নওগাঁর আম আসা শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে।

সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি নুরুজ্জামান বলেন, ‘আম চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই এখানে বাগানের পরিমাণ বাড়ছে। অন্যবার আমের মুকুল থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত বিঘাতে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে যায়। তবে এ বছর খরার কারণে আরও ৪-৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খরায় আমের গুটি পড়ে গেলেও যা ছিল, তা আকারে অনেক বড় হয়েছে। তাই গাছে আমের পরিমাণ কম হলেও দাম ভালো পেলে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমচাষিরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার আম উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো দামও পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর আম্রপালি, বারি ও ব্যানানা জাতের আম বাগানের পরিমাণ বেড়েছে। রপ্তানি পরিসর বাড়াতে উত্তম কৃষিচর্চায় কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আমের প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
নাটোরের আম লিচু মিলবে যেদিন থেকে
আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার
দাবদাহ বাড়াচ্ছে পানির সংকট, আম-লিচু চাষিদের মাথায় হাত
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boro crop in Panchagarh is good but there is fear of damage due to rain

পঞ্চগড়ে বোরো আবাদ ভালো হলেও বৃষ্টিতে ক্ষতির শঙ্কা

পঞ্চগড়ে বোরো আবাদ ভালো হলেও বৃষ্টিতে ক্ষতির শঙ্কা পঞ্চগড়ে খরা এবং দীর্ঘমেয়াদে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকদের বাড়তি সেচ সরবরাহ করে বোরো আবাদ করতে হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
ভজনপুর এলাকার চাষি রফিকুল ইসলাম জানায়, প্রতি বছরের চেয়ে এবার তার বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। যদিও পরিমিত বৃষ্টিপাত হয়নি, বাড়তি সেচ প্রদান করে বোরো রক্ষা করেছে। এখন শেষ সময় পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো হয়।

পঞ্চগড়ে অব্যাহতভাবে খরা এবং দীর্ঘমেয়াদে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকদের বাড়তি সেচ সরবরাহ করে বোরো আবাদ করতে হয়েছে এবার। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো ফলন আশা করছেন চাষিরা, তবে এ মুহূর্তে ঝড় বৃষ্টি হলে পাকা ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৩৬০ টন বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৩০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এখন ধান কর্তনের সময় এসেছে।

এদিকে জাতগত তারতম্যের কারণে কিছু কিছু জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেতে ব্লাস্ট (ধানের গলা পচা রোগ) রোগের আক্রমণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাষিরা বলছেন, ভালো দাম থাকলে তারা লাভবান হবেন।

ভজনপুর এলাকার চাষি রফিকুল ইসলাম জানায়, প্রতি বছরের চেয়ে এবার তার বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। যদিও পরিমিত বৃষ্টিপাত হয়নি, বাড়তি সেচ প্রদান করে বোরো রক্ষা করেছে। এখন শেষ সময় পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো হয়।

তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বোরো চাষি অমর আলী জানান, ধানের শিষ বের হওয়ার পর থেকে পরিচর্যার কমতি করেননি, কিন্তু ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে ব্লাস্টের আক্রমণ সব আশাকে নিরাশায় ফেলেছে। এখন আবার বৃষ্টি নিয়ে চিন্তা।

তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান এলাকার আবদুল মতিন বলেন, ব্লাস্টের আক্রমণে এমনিই ক্ষতিগ্রস্ত তিনি। তার উপর যদি ধান কাটার সময় ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়, পাকা ধান নষ্ট হবে।

মহাজনের ঋণ পরিশোধ কীভাবে করবেন তা নিয়েই হতাশায় পড়েছেন মতিন।

কৃষকরা জানান, ঝড় বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হওয়ার চিন্তা তো আছেই, এর মধ্যে জেলার কিছু কিছু জায়গায় ব্লাস্ট রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে।

তবে কৃষি বিভাগের দাবি, কেবল ২৮ এবং ৬১ জাতের ধানেই এ ছত্রাক দেখা দিয়েছে। সংক্রমণ সামান্য এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল মতিন জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণেই পঞ্চগড়ের কিছু অঞ্চলে ব্রি ২৮ এবং ৬১ দুটি জাতের ধানে ব্লাস্ট ছত্রাক আক্রমণ করেছে। এটি একটি বীজ বাহিত রোগ, প্রতিকূল পরিবেশ পেলে এই রোগের বিস্তার হবে।

তিনি জানান, সামগ্রিকভাবে এ বছর বোরোর আবাদ ভালো।

আরও পড়ুন:
ফরিদপুরে পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে সাফল্য
বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতসহ উফশী চার ধানে নতুন সম্ভাবনা
পেঁয়াজ কেন আমদানি করতে হয়, জানালেন কৃষিমন্ত্রী
তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টিতে পঞ্চগড়ে মরিচচাষীদের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা
দাবদাহ বাড়াচ্ছে পানির সংকট, আম-লিচু চাষিদের মাথায় হাত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Success in experimental grape cultivation in Faridpur

ফরিদপুরে পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে সাফল্য

ফরিদপুরে পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে সাফল্য আহম্মেদ ফজলে রাব্বি একজন তরুণ উদ্যোক্তা। ছবি: নিউজবাংলা
ফজলে রাব্বি জানান, এখন তার বাগানে যে আঙুর আছে, এগুলো সবই দর্শনার্থীদের জন্য। এ বছর তিনি আঙুর বিক্রি করবেন না।

আঙুর বিদেশি ফল হলেও জনপ্রিয় এ ফলটির পরীক্ষামূলক চাষে সফল হয়েছেন ফরিদপুর জেলার একজন তরুণ উদ্যোক্তা আহম্মেদ ফজলে রাব্বি।

তিনি শহরতলীর শোভারামপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এক বছর আগে ৭০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই তিনি সফলতার মুখ দেখলেন। আগামী বছর থেকে তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

আঙুর দেখতে আশপাশ থেকে অনেকেই যান রাব্বির বাগানে। যারা যান তাদের তিনি নিজ বাগানের আঙুর তুলে খাওয়ান।

দর্শনার্থীরা জানায়, আঙুর বেশ মিষ্টি এবং সুস্বাদু। বাজার থেকে কেনা আঙুরের থেকে কোনো অংশে কম নয়, বরঞ্চ কোনো কোনোটা আরও বেশি মিষ্টি এবং সুস্বাদু হয়েছে।

থ্রি স্টার গ্রিন বাগানের মালিক আহম্মেদ ফজলে রাব্বি জানান, ছোট বেলা থেকেই গাছপালা লাগানোর শখ তার।তিনি সখের বশে নিজ বাড়ির ছাদে বিভিন্ন ফলের গাছ লাগিয়েছেন। এখন সে জমি লিজ নিয়ে পরীক্ষামূলক আঙুর চাষ করে সফলতা পাওয়ায় আগামী বছর থেকে তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করবেন।

ফজলে রাব্বি জানান, এখন তার বাগানে যে আঙুর আছে, এগুলো সবই দর্শনার্থীদের জন্য। এ বছর তিনি আঙুর বিক্রি করবেন না।

ফরিদপুরে পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে সাফল্য

এ বছর তিনি তার বাগানে বাইকুনুর, ডিক্সন, ফ্যান্টাসি সিডলেস, নারু সিডলেস, মার্সেল ফোরাস, ভাইটালিয়া আরলি রেডসহ বিভিন্ন প্রজাতির আঙুরের চাষ করেছেন।

আহম্মেদ ফজলে রাব্বি জানান, আঙুরের পাশাপাশি মাল্টা, কমলা, লিচু, আনারসহ বিভিন্ন ফলের বাগান করতে চান তিনি। এক্ষেত্রে তিনি কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ফরিদপুর গার্ডেনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাগর নন্দী বলেন, ‘আবহাওয়া, মাটি ও বাণিজ্যিক চাষের জ্ঞানের অভাবসহ নানা কারণে বাংলাদেশে ফলটি চাষের আগ্রহ খুব একটা দেখা যায় না, তবে ফরিদপুরের আহম্মেদ ফজলে রাব্বি তার বাগানে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করে যে আঙুর ফলতে সক্ষম হয়েছে তা অতুলনীয়, মিষ্টি এবং সুস্বাদু, সে সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে আঙুর উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা পাবে বলে আমি মনে করি।

আরও পড়ুন:
ফিলিপাইনের আনারস চাষ কুমিল্লায়
কৃষিতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ
৪২ কেজিতে এক মণ, তবু শসার ‘দাম পাচ্ছেন না’ কৃষক
‘কালো সোনা’য় ফরিদপুরের কৃষকদের দিনবদল
টুঙ্গিপাড়ায় ইঁদুরের লেজ জমা দিলেই ১০ টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
From the day Natore mango and litchi meet
প্রস্তুতিমূলক সভা

নাটোরের আম লিচু মিলবে যেদিন থেকে

নাটোরের আম লিচু মিলবে যেদিন থেকে
মোজাফর লিচু ২০ মে থেকে এবং বোম্বাই ও চায়না লিচু ২৭ মে থেকে আহরণ করা যাবে। আর গুটি আম ১৫ মে, গোপালভোগ ২৫ মে, রানী পছন্দ ও খিরসাপাত ৩০ মে থেকে আহরণের সময় ধার্য করা হয়েছে।

মৌসুমী ফলের জন্য দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা নাটোরের খ্যাতি আছে। তার মধ্যে আম ও লিচু অন্যতম। তবে ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা বাজারে উঠিয়ে বাড়তি অর্থ আয়ের চেষ্টা দেশের অন্যান্য জেলার মতো এখানেও আছে।

অপরিপক্ব ফল বাজারে তোলার সেই অপচেষ্টা রুখতেই বৃহস্পতিবার নাটোরে নিরাপদ আম ও লিচু আহরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঁঞার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাছুদুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন, উপ-পরিচালক (উদ্যান) শামসুর নাহার ভুঁঞা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহানসহ অন্যরা।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আম, লিচুসহ গ্রীষ্মকালীন ফল দেরিতে এসেছে। এর মধ্যে কোন ফল কখন গাছ থেকে আহরণ করে বাজারজাত করা যাবে সভায় তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ আম বা লিচু বাজারজাত করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আম চাষী, বাগান মালিক, আড়ত মালিক ও ব্যবসায়ী- সবার ক্ষেত্রেই এ নির্দেশনা প্রযোজ্য।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোজাফর লিচু ২০ মে থেকে এবং বোম্বাই ও চায়না লিচু ২৭ মে থেকে আহরণ করা যাবে। আর গুটি আম ১৫ মে, গোপালভোগ ২৫ মে, রানী পছন্দ ও খিরসাপাত ৩০ মে থেকে আহরণের সময় ধার্য করা হয়েছে।

অন্যান্য আমের মধ্যে লক্ষণভোগ ৫ জুন, ল্যাংড়া ১২ জুন, মোহনভোগ ২০ জুন, হাঁড়িভাঙা ২৫ জুন,ফজলী ৩০ জুন, আম্রপলি ২৫ জুন, মল্লিকা ৫ জুলাই, বারি আম ১০ জুন, আশ্বিনা ২০ জুলাই এবং গৌরমতি ২০ আগস্ট থেকে আহরণ ও বাজারজাতকরণ করা যাবে।

আরও পড়ুন:
আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার
মেহেরপুরের বাজারে রসালো লিচু, দাম কিছুটা বেশি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kalabaisakhi rampage in Feni hands on the heads of Boro farmers

ফেনীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বোরো চাষিদের মাথায় হাত

ফেনীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বোরো চাষিদের মাথায় হাত ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি বিভাগ বলছে, ধান যেহেতু ৮০ শতাংশের মত পেকেছে সেক্ষেত্রে চিটার আশঙ্কা নেই, তবে শ্রমিক খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।

কালবৈশাখী ঝড়ে ফেনীতে নুয়ে পড়েছে কৃষকের পাকা বোরো ধান। কিছু স্থানে ধানের জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে ধানে চিটার পরিমাণ বেড়ে কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, ধান যেহেতু ৮০ শতাংশের মত পেকেছে সেক্ষেত্রে চিটার আশঙ্কা নেই, তবে শ্রমিক খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা না গেলেও ধান দ্রুত মাঠ থেকে তুলে নিতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামের ষাটোর্ধ রফিকুল ইসলাম। নিজে গায়ে খেটে অন্যের ৮০ শতক জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেছিলেন বোরো ধান।

তার দাবি, সব মিলিয়ে খরচ পড়েছে হাজার পঞ্চাশের মতো। আশা করেছিলেন, পাকা ধান ঘরে তুলে তৃপ্তির হাসি হাসবেন, কিন্তু তা আর হলো না। কালবৈশাখী ঝড় ও তুমূল বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে তার ধান, হয়ে পড়েছে জলমগ্ন। এখন অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারে কি না, তা নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়।

ফেনীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বোরো চাষিদের মাথায় হাত

এমন চিত্র শুধু কৃষক রফিকুল ইসলামের জমিতেই নয়। জেলার সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম ও দাগনভূঞাঁর আরও বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো বৃষ্টিতে ধানের এমন ক্ষতি হয়েছে। মাঠের ধান নিয়ে দিশেহারা কৃষকদের।

আবুল হোসেন নামের আরেক কৃষক জানান, তিনি ১২০ শতক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ধান পুরোপুরি পাকেনি, এর মধ্যেই বৃষ্টির কারণে নুয়ে পড়েছে। ৪০ শতাংশ ধানও তুলতে পারবেন কি না জানেন না তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক একরাম উদ্দিন বলেন, ‘ধানে বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৩৫ শতাংশের মত ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বলা হয়েছে পানি নামানোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে।’

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। নিরাপদে মাঠ থেকে ধান তুলে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারধ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৩১ হাজার ২৭৭ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮২০ টন।

আরও পড়ুন:
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ২ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অর্ধশতাধিক গ্রাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Buds on the mango bud

আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার

আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার ছবি: নিউজবাংলা
বাগানের মালিক দুলাল হোসেন রুবেল বলেন, ‘আমের বোঁটার মুখে আবার নতুন করে মুকুল আসতে দেখে ভীষণ অবাক হয়েছি। আল্লাহ চাইলে সবই পারেন, এটি দেখে তাই প্রমাণ হলো আবার। এটি আমার কাছে আল্লাহর একটি নিদর্শন মনে হয়েছে।’

আম গাছে মুকুল আসে, সেই মুকুল থেকেই হয় আম। তবে ফরিদপুরের একটি আম বাগানে দেখা মিলেছে ভিন্ন চিত্র। আম গাছের ডালে নয় বরং গাছের আমের বোঁটার গোড়া থেকে বের হয়েছে অসংখ্য আমের মুকুল। আর সেই মুকুল থেকে এরইমধ্যে ধরেছে আমের গুটি।

এমন বিস্ময়কর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ফরিদপুরের ধলার মোড়ের কাছে একটি আম বাগানে। আর এ খবর জানতে পেরে তা দেখতে ছুটে আসছেন অনেকে।

পদ্মার পারে চরের খাঁ খাঁ বিরান জমিতে সবুজের দেখা পাওয়া ভার। চোখ মেললে চারদিকে শুধু ধু ধু বালির চর। এমনই এক পরিবেশে চার বছর আগে স্থানীয় যুবক দুলাল হোসেন রুবেল তার খামার বাড়িতে শখের বসে গড়ে তোলেন ফলজ বাগান। প্রায় শতাধিক আম গাছের সঙ্গে এখানে তিনি আরও বেশ কিছু ফলের চারা রোপন করেন। এরইমধ্যে তার এই আমবাগানের গাছগুলো বড় হয়ে ফলবতী হয়ে উঠেছে। এবার তার আমবাগানে ধরেছে প্রচুর আম। তবে সব আমের ভিড়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে আমেরিকান রেড পালমার জাতের একটি আম গাছ। এই গাছের একটি আম বড় হওয়ার পরে সেই আমের বোটার মুখ থেকে নতুন করে বের হয়েছে আবার নতুন মুকুল।

বাগানের মালিক দুলাল হোসেন রুবেল বলেন, ‘আমের বোঁটার মুখে আবার নতুন করে মুকুল আসতে দেখে ভীষণ অবাক হয়েছি। আল্লাহ চাইলে সবই পারেন, এটি দেখে তাই প্রমাণ হলো আবার। এটি আমার কাছে আল্লাহর একটি নিদর্শন মনে হয়েছে।’

আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার

রুবেল বলেন, ‘চার বছর আগে রেড পালমার জাতের এই আম গাছটি আমি বৃক্ষমেলা থেকে কিনি। পরের বছরই ফল আসে। আর এবার এলো আম থেকে আসা এই অবাক করা আমের মুকুল।’

তিনি বলেন, ‘ধলার মোড়ের এই এলাকায় আগে আশেপাশে কোনো সবুজ ছিল না। এই জায়গটি ছিল ২০ ফুট গভীর। চার বছর লেগেছে আমার এই বাগানটি দাঁড় করাতে। এখন বাগানটি সবুজে ভরে গেছে। আমাদের এই ধলার মোড়ে আমার এই বাগানটি ছাড়া আশপাশে আর কোনো সবুজ চোখে পড়ে না।’

মূলতঃ পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই ৬৯ শতাংশ জমির ওপর এই খামার বাড়ি গড়ে তোলেন বলে জানান রুবেল। বলেন, ‘সেখানে আম, কলা, লিচু, চালতা, সফেদাসহ নানা ফলমূলের গাছ লাগিয়েছি। এখানে রেড পালমার ছাড়াও মিয়াজাকি, বানানা ম্যাঙ্গো, দেশীয় হাড়িভাঙা, বারি ফোরসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৯০টি আম গাছ রয়েছে।

‘সামনের অংশে এবার ড্রাগন ফলের চাষ করছি। এছাড়া কবুতর ও খরগোশ পালছি। আগে কিছু গাড়ল ছিল, সেগুলো এখন চরে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

রুবেলের স্ত্রী সৈয়দা সানজিদা মিশু বলেন, ‘আমের বোঁটা থেকে এভাবে আবার আমের মুকুল ধরতে দেখে ভীষণ অবাক হয়েছি। মুকুল থেকে আবার নতুন করে আমের গুটিও এসেছে। এখন দেখার পালা, এই আমের গুটি কত বড় হতে পারে। যদি সেগুলো পরিপূর্ণ আম হয়ে উঠে তাহলে সেটি হবে আরেকটি বিস্ময়কর ব্যাপার।’

আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার

জহুরুল আলম শোভন নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘আমি এই আমের ওপর মুকুল ধরার খবর জেনে দেখতে এসেছি। এখন মনে হচ্ছে, আমি একটি বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলাম।’

সৈয়দ মোস্তফা আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার বয়স ৭৬ বছর। আমার এই দীর্ঘজীবনে আমি ফলের গায়ে এভাবে মুকুল চোখে দেখিনি বা শুনিনি। গতকাল সন্ধ্যায় আমি খবরটি শুনতে পেয়ে নিজ চোখে দেখার জন্য এসেছি। আমের বোঁটার উপরে মুকুল ধরেছে, আবার সেই মুকুল থেকে ছোট ছোট আমের গুটি বের হচ্ছে। এটি আল্লাহরই একটা নেয়ামত।’

এ ব্যাপারে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক দেব নারায়ণ রায় বলেন, ‘উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় এমব্রায়োজেনোসিস (embryogenesis), যাকে বাংলায় বলা হয় বহুভ্রুনিতা। এটি একটি ভ্রূণজনিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভ্রূণের গঠন ও বিকাশ হয়। অনেকসময় অতিরিক্ত ফলনের জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় হরমোন প্রয়োগ করা হলে এমনটি ঘটে থাকে।’

মন্তব্য

p
উপরে