× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
10 bodies The trawler was pulled from the Mediterranean by Gura Mia
google_news print-icon

১০ মরদেহ: মাঝসাগর থেকে ট্রলারটি টেনে আনেন গুরা মিয়া

১০-মরদেহ-মাঝসাগর-থেকে-ট্রলারটি-টেনে-আনেন-গুরা-মিয়া
কক্সবাজারের নাজিরারটেক চ্যানেলে রোববার দুপুরে ভেসে আসা ট্রলার থেকে মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা ও নৌযানটিকে তীরে নিয়ে আসা গুরা মিয়া। কোলাজ: নিউজবাংলা
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গুরা মিয়ার দাবি, ট্রলাটিতে কারা ছিল, কী ছিল, সে বিষয়ে তার ধারণা ছিল না। ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়ায় নিয়ে আসেন নিজের ট্রলারে বেঁধে। আনার পর নাজিরারটেক পয়েন্টে রেখে নিজের আহরণকৃত মাছ বিক্রি করতে যান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। তখনও জানতেন না ট্রলারটিতে মরদেহ রয়েছে।

মাঝসাগরে ভাসছিল ট্রলারটি। নেই কোনো জেলে বা মাঝি। ভাসমান সে ট্রলার টেনে তীরে নিয়ে আসেন অন্য এক ট্রলারের মাঝি গুরা মিয়া।

তীরে ভেড়ানোর পর নিজের ট্রলার নিয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে চলে যান গুরা মিয়া। সেখান থেকে ফিরে এসে দেখেন, ভাসমান সে ট্রলার থেকে একে একে বের করা হচ্ছে মরদেহ।

রোববার বিকেলে ট্রলারটি টেনে আনার এমন বর্ণনাই দিয়েছেন কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গুরা মিয়া।

তার দাবি, ট্রলাটিতে কারা ছিল, কী ছিল, সে বিষয়ে তার ধারণা ছিল না। ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়ায় নিয়ে আসেন নিজের ট্রলারে বেঁধে। আনার পর নাজিরারটেক পয়েন্টে রেখে নিজের আহরণকৃত মাছ বিক্রি করতে যান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। তখনও জানতেন না ট্রলারটিতে মরদেহ রয়েছে।

গুরার ভাষ্য, মাছ বিক্রি করে ফেরার পর হয়তো তিনি ট্রলারটি তল্লাশি করতেন।

ভাসমান ট্রলার পাওয়ার পর পুলিশ বা মালিক সমিতিকে অবগত করেছেন কি না জানতে চাইলে গুরা মিয়া বলেন, নিজের আহরণকৃত মাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত ঘাটে চলে যান।

তিনি বলেন, ‘ফিরে হয়তো জানাতাম, কিন্তু তার আগেই মানুষের কাছে শুনতে পাই সেখান থেকে মরদেহ মিলছে।’

পরিচয় মিলছে না মরদেহগুলোর

এদিকে ভাসমান ট্রলারটি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১০ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। মরদেহগুলো পচে যাওয়ায় শনাক্ত করতে পারছেন না সম্প্রতি সাগরে নিখোঁজদের স্বজনরা। তাদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম।

প্রেক্ষাপট

কক্সবাজারের নাজিরারটেক চ্যানেলে রোববার দুপুরে ভেসে আসা ওই ট্রলারে মরদেহ দেখে পুলিশকে জানান স্থানীয় জেলেরা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

গত ৭ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলাপাড়ার প্রয়াত রফিক আলমের ছেলে শামসুল আলম তার নিজস্ব মালিকানাধীন একটি ট্রলার নিয়ে ১৪ জেলেসহ সাগরে মাছ ধরতে যান। এর তিন দিন পর ১০ এপ্রিল সাগর থেকে মাছ ধরে ফিরে আসা কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে বাবু জানান, ওই ট্রলারের ১৪ জেলে অপর একটি ট্রলারে ডাকাতি করতে যান। সে সময় কয়েকটি ট্রলার এসে তাদের ঘিরে আটকে ফেলে। এরপর ওই ১৪ জনকে আটক করে ট্রলারটি ডুবিয়ে দেয়া হয়। সেই থেকে ট্রলারের মালিক শামসুল আলমসহ ১৪ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

বাবু আরও জানান, ওই ট্রলারে তার আপন ভাই হায়াত উল্লাহও ছিলেন।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের পূর্ব আঁধারঘোনা গ্রামের ছালেহ আহমদের ছেলে আব্দুল মালেক (২৫), মোহাম্মদ রিদুয়ান (২৩), আব্দুস সালামের ছেলে মো. হায়াত (২৪), দানু মিয়ার ছেলে আবদুল মান্নান (২৬), আকবর আলীর ছেলে মাহবুব আলম (২৮), মো. শরীফের ছেলে নুরুছামাদ (২৭), ছামিরাঘোনা এলাকার আবু জাফরের ছেলে নজরুল (২৭), অফিসপাড়া এলাকার হেলাল উদ্দিন (২৫), শাপলাপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮), জাফর আলমের ছেলে মো. শওকত উল্লাহ (১৮), মুসার ছেলে উসমান গণি (১৭), শাহাব মিয়ার ছেলে সাইফুল্লাহ (২৩), মোহাম্মদ আলীর ছেলে পারভেজ মোশাররফ (১৩) এবং মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে নুরুল কবির (৪৫)।

মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসতে শুরু করেন নিখোঁজ এসব জেলের স্বজনরা।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার হয়তো ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হতে পারে। পরিচয় শনাক্তের পর পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

আরও পড়ুন:
পাবনায় স্কুলের বারান্দা থেকে গলা কাটা লাশ উদ্ধার
খোলা আকাশের নিচে গলায় গামছা প্যাঁচানো মরদেহ
বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারী নিহত
নিজ কক্ষে পড়েছিল নারীর মরদেহ  
হাসপাতালের ময়লার স্তূপে নবজাতকের মরদেহ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The DB chief gave a chilling description of MP Annas murder plan

এমপি আনার হত্যা-পরিকল্পনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ডিবিপ্রধান

এমপি আনার হত্যা-পরিকল্পনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ডিবিপ্রধান বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিণ্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে এমপি আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারন অর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা
হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আমানুল্লাহ ও পরিকল্পনাকারী শাহিনের গার্লফ্রেন্ড শিলাস্তি রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী-১৩ মে বেলা ২টা ৫১ মিনিটে এমপি আনারকে কৌশলে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় ঘাতকরা। সেখানে তারা এমপির কাছে আখতারুজ্জামানের পাওনা টাকা পরিশোধের প্রসঙ্গ তোলে। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সবাই মিলে আনারকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার পরিকল্পনা করা হয় রাজধানী ঢাকায় বসে। এই তথ্য জানানোর পাশাপাশি সেই হত্যা-পরিকল্পনার পুরো বর্ণনা তুলে ধরেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার প্রধান হারুন অর রশীদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিণ্টো রোডে ডিএমপি ডিবি কার্যালয়ে এমপি আনার হত্যার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিনি।

হারুন অর রশীদ জানান, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহিনের গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে একাধিক বৈঠক করেন হত্যাকারীরা। এই পরিকল্পনা নিয়ে দুই থেকে তিন মাস ধরে একের পর এক বৈঠক চলে।

ভিকটিম (এমপি আনার) প্রায়ই ভারতের কলকাতায় আসা-যাওয়া করতেন। তাই কলকাতার মাটিতেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পর সে অনুযায়ী মূল হত্যাকারী আমানুল্লাহ, তার সহযোগী তানভীর ভূঁইয়া ও আখতারুজ্জামান শাহিনের গার্লফ্রেন্ড শিলাস্তি রহমান গত এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ কলকাতায় যান।

কলকাতায় আগে থেকেই ভাড়া করে রাখা নিউটাউন এলাকার সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে ওঠেন তারা। আর কলকাতায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন আখতারুজ্জামানের দুই সহযোগী সিয়াম ও জিহাদ। সেখানে বসে তারা এমপি আনারকে হত্যার ছক সাজান। মূল হত্যাকারীর নাম শিমুল ভূঁইয়া হলেও তিনি আমানুল্লাহ আমান নামে নতুন একটি পাসপোর্ট করে কলকাতায় যান।

ডিএমপি ডিবি প্রধান আরও জানান, হত্যার পুরো দায়িত্ব আমানকে বুঝিয়ে দিয়ে ১০ মে দেশে ফিরে আসেন আখতারুজ্জামান। এমপি আনার যে ১২ মে কলকাতায় যাবেন তা আগে থেকেই জানতেন আখতারুজ্জামান। ১২ মে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে কলকাতায় যান এমপি আনার। প্রথম দিন তিনি তার বন্ধু গোপালের বাসায় থাকেন। পরদিন ১৩ মে কৌশলে এমপি আনারকে নিউটাউনের সেই ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

হারুন বলেন, ফয়সাল নামে এক ব্যক্তি এমপি আনারকে ১৩ মে দুপুরে সাদা একটি গাড়িতে রিসিভ করেন। পরে হত্যাকাণ্ড সংঘটনকারীদের অন্যতম আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভুইয়া ও ফয়সালসহ আনার ওই ফ্ল্যাটে যান। এরপর মোস্তাফিজ নামে আরও একজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। জিহাদ ও সিয়াম নামে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুজন সেখানে ছিলেন।

১৩ মে বেলা ২টা ৫১ মিনিটে এমপি আনার কলকাতার ওই বাসায় যান। এ সময় তারা এমপির কাছে আখতারুজ্জামানের পাওনা টাকা পরিশোধের প্রসঙ্গ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সবাই মিলে আনারকে ঝাপটে ধরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। আধ ঘণ্টার মধ্যে ওরা হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি শেষ করে। হত্যার পর আমান বিষয়টি আখতারুজ্জামানকে জানান।

এমপি আনারকে হত্যার পর তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয় জানিয়ে ডিবির হারুন বলেন, ‘আখতারুজ্জামানের পরামর্শমতো মরদেহ গুম করতেই ঘাতকরা এই কাজ করে। এরপর ফ্ল্যাটের কাছেই শপিংমল থেকে আনা হয় দুটি বড় ট্রলিব্যাগ ও পলিথিন। পরে দেহের টুকরোগুলো পলিথিনে পেঁচিয়ে ট্রলিব্যাগে ভরা হয়। এরপর ভিন্ন ভিন্ন দিনে সেগুলো ফ্ল্যাটের বাইরে নিয়ে যায় খুনিরা। আর ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে ঘরের রক্তের দাগ ও দুর্গন্ধ পরিষ্কার করে তারা।

আটক আমানের স্বীকারোক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পরদিন বিকেলে একটি ট্রলিব্যাগ হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হন আমান। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, বাসা থেকে বের হয়ে পাশের একটি শপিংমলের সামনে ট্রলিব্যাগটি তিনি সিয়ামের হাতে তুলে দেন। সিয়াম ব্যাগ নিয়ে আগে থেকেই ভাড়া করে রাখা গাড়ি নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের দিকে চলে যান। আরেকটি ব্যাগ বাসাতেই ছিল। ওই ব্যাগ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছিল। সহযোগীদের ট্রলিটি অন্য কোথাও ফেলে দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে ১৫ মে শিলিস্তাকে নিয়ে আমান ঢাকায় চলে আসেন।

মরদেহ পাওয়ার আশা খুবই কম জানিয়ে ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘তারপরও চেষ্টা করছি এমপি আনারের দেহের কিছু খণ্ড অন্তত উদ্ধার করার। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নকারী আমানুল্লাহ ছদ্মনাম। তার নাম শিমুল ভূঁইয়া। তিনি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। বর্তমানে আমানুল্লাহ ও পরিকল্পনাকারী শাহিনের গার্লফ্রেন্ড শিলাস্তি রহমান ডিবির হাতে আটক রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পুরো ঘটনা জানা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এমপি আনারকে হত্যার পর শাহিনের গার্লফেন্ড শিলাস্তি ও আমানুল্লাহ ১৫ মে এবং মোস্তাফিজ ১৬ মে ঢাকায় ফেরেন। এরপরই ভিস্তা এয়ারলাইন্সে করে মূল পরিকল্পনাকারী শাহিন দিল্লি হয়ে কাঠমাণ্ডুতে চলে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক।’

হারুন বলেন, “১৮ তারিখ গোপাল বিশ্বাস বন্ধু আনার নিখোঁজ উল্লেখ করে কলকাতার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশে জিডি করেন। পরে হত্যাকারীরা ভিকটিমের মোবাইল ফোন থেকে কল ও মেসেজ দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে ‘দিল্লি যাচ্ছি’ জানিয়ে ১৮ মে এমপি আনারের ফোন থেকে বার্তাও দেয়া হয়।’

কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে হারুন বলেন, ‘একটি টিম আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে আসছে। প্রয়োজনে আমরাও সেখানে গিয়ে তদন্ত করব।’

এদিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারই ছোটবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আখতারুজ্জামান শাহীন। শাহীন ঝিনাইদহের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার ভাই সহিদুজ্জামান ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র।

আরও পড়ুন:
এমপি আনার অপরাধে জড়িত কি না, তদন্তে বেরিয়ে আসবে: কাদের
এমপি আনার খুন: ভারতের সংবাদমাধ্যম যা বলছে
শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি আনারের মেয়ের মামলা
এমপি হত্যায় ভারতকে দোষারোপ না করার আহ্বান কাদেরের
এমপি আনারকে হত্যা করেছে বাংলাদেশি অপরাধীরা: ডিএমপি ডিবি প্রধান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 dead bodies found in Mymensingh have been identified

ময়মনসিংহে উদ্ধার হওয়া ৩ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত

ময়মনসিংহে উদ্ধার হওয়া ৩ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ত্রিশালের কাকচর এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ জানায়, ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে ওই দম্পতির ঝগড়ার পর রাতে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হত্যা করেন আলী হোসেন। পরে পাশের নির্জন স্থানে মরদেহগুলো মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তিনি।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন ২৫ বছর বয়সী আমেনা খাতুন এবং তার দুই ছেলে চার বছরের আবু বক্কর সিদ্দিক ও দুই বছরের আনাস।

নিহতরা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর নয়াপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী ও সন্তান।

পুলিশ জানায়, অভাব-অনটনের সংসার ছিল নিহত আমেনা ও আলী হোসেনের। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে দেনাগ্রস্ত ছিলেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে ওই দম্পতির ঝগড়া হয়। এরপর রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হত্যা করেন আলী হোসেন। পরে রাতেই পাশের এক নির্জন স্থানে মরদেহগুলো মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তিনি।

ঘটনার ছয়দিন পর শেয়াল গর্ত থেকে একটি শিশুর মরদেহ টেনে বের করে আনলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। তারা থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তিনজনকে হত্যার ঘটনায় নিহত আমেনার মা হামিদা খাতুন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে আলী হোসেন পলাতক।

‘ঘাতক আলী হোসেন একটি হত্যা মামলার আসামি। ২০১২ সালে একটি হত্যা মামলায় সাত বছর জেল খাটেন তিনি।’

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহে গর্ত খুঁড়ে দুই শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
An hour later the fire broke out at the Mutual Trust Bank in Dholaikhal

এক ঘণ্টা পর নিভল ধোলাইখালের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আগুন

এক ঘণ্টা পর নিভল ধোলাইখালের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আগুন ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে ধোলাইখাল এলাকায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আগুন নিভিয়ে ফেলে। ছবি: মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ/নিউজবাংলা
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে শনিবার ধরা আগুন নিভিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

এর আগে নিউজবাংলাকে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, ধোলাইখালের ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি ইস্যুতে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু
নতুন করে রিজার্ভ চুরির খবর সত্য নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক
সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বিডিবিএলকে একীভূত করতে চুক্তি সই
ইসলামী ব্যাংকের বরিশাল জোনের কর্মকর্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrested for robbing an autorickshaw by cutting the throat of the driver in the passenger seat 3

যাত্রীবেশে চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

যাত্রীবেশে চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩ নীলফামারীতে অটোরিকশা চালককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, শহরের ধনি পাড়া তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় রোববার রাত ১২টার দিকে যাত্রীবেশে ছাপিনুরের অটোরিকশায় ওঠেন তারা। এরপর জনশূন্য রাস্তায় নিয়ে গিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চেষ্টা করেন। চালক তাদের বাধা দিলে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

নীলফামারীতে এক অটোরিকশার চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।

ছিনতাই করা অটোরিকশাসহ ঢেলাপীর এলাকা থেকে একজনকে এবং তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি দুইজনকে গাছবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের মধ্য সুটিপাড়া ফুলতলা এলাকার মো. রাসেল মিয়া (২২), উত্তর হাড়োয়া পঞ্চপুকুর এলাকার ফেরদৌস আলম (৩৫) ও নীলফামারী পৌরসভার বাড়াই পাড়া এলাকার জলিল ইসলাম ইসলাম ওরফে পিনিক বাবু (৩০)।

প্রাণ হারানো ছাপিনুর রহমান (৫৫) সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার গোলাম সবুর পিপিএম।

তিনি বলেন, শহরের ধনি পাড়া তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় রোববার রাত ১২টার দিকে যাত্রীবেশে ছাপিনুরের অটোরিকশায় ওঠেন তারা। এরপর জনশূন্য রাস্তায় নিয়ে গিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চেষ্টা করেন। চালক তাদের বাধা দিলে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, তারা বিষয়টি টের পেলে ছাপিনুরকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অ্যাম্বুলেন্সে রংপুর যাওয়ার সময় রাতেই মারা যান ছাপিনুর।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশের তিন থেকে চারটি টিম অভিযান শুরু করে। তারই প্রেক্ষিতে ছিনতাই করা অটোসহ ঘাতক রাসেল মিয়াকে ঢেলাপীর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ফেরদৌস ও জলিলকে গাছবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

আসামিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ফেরিওয়ালাকে হত্যায় নারীর মৃত্যুদণ্ড, স্বামীর জেল
পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে লাঠির আঘাতে হত্যার অভিযোগ
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ২ বন্ধুর আত্মহত্যা
যুদ্ধাপরাধের মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
টেকনাফে পিটুনিতে একজন নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Those two constables of Madaripur who took bribes are suspended

ঘুষ নেয়া মাদারীপুরের সেই দুই কনস্টেবল সাসপেন্ড

ঘুষ নেয়া মাদারীপুরের সেই দুই কনস্টেবল সাসপেন্ড সাময়িক বরখাস্ত দুই কনস্টেবল তানজিলা আক্তার ও শহিদুল ইসলাম। কোলাজ: নিউজবাংলা
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির জানান, তদন্তে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও তানজিলা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়ায় মাদারীপুরের সেই দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির।

বরখাস্ত দুই কনস্টেবল হলেন শহিদুল ইসলাম ও তানজিলা আক্তার। তাদের মধ্যে রাজৈর থানায় কর্মরত ছিলেন শহিদুল ইসলাম। অপরজন তানজিলা আক্তার মাদারীপুর জেলা আদালতের পুলিশের শাখায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত দু’জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির জানান, ২০২২ সালের ১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও তানজিলা আক্তার কনস্টেবল পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে সদর উপজেলার মোস্তফাপুরের রবি দাসের ছেলে রতন দাসের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দেন। এ সময় রতনকে দেয়া হয় তানজিলা আক্তারের পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংকের একটি চেক। চেকে তানজিলার স্বাক্ষর ও তারিখ রয়েছে।

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রতন দেখতে পান যে তার নাম নেই। পরে তিনি একাধিকবার পাওনা টাকা ফেরত চাইলেও তা দিতে অভিযুক্ত দুজন টালবাহানা শুরু করেন। ভুক্তভোগী পরে অভিযুক্ত দুজনের বিচার ও টাকা ফেরত চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন।

রতন দাস বলেন, ‘পুলিশে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছে তানজিলা আক্তার নামে এক পুলিশ। কিন্তু সে চাকরি দিতে পারেনি। সেই টাকা দিয়ে তানজিলার স্বামী ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ব্যবসা শুরু করছে। টাকা ফেরত চাইলে সে টালবাহানা করছে।

‘আমার কাছ থেকে টাকা নেয়ার সময় একটি চেকও দিয়েছিল। এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে সে আমার টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এই ঘুষ নেওয়ার সঙ্গে শহিদুল নামে এক পুলিশও জড়িত।’

অভিযোগকারী রতন দাসের বাবা রবি দাস বলেন, ‘আমি ধারদেনা করে ছেলের চাকরির জন্য টাকা দিয়েছিলাম তানজিলার কাছে। সে চাকরি দিতে পারেনি। এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। তাই এসপি অফিসে অভিযোগ দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তানজিলা আক্তার কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘যা বলার এসপি স্যারকেই বলেছি।’

অপর অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম নিজের দায় অস্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি টাকা গ্রহণ করেননি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির আরও জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম তদন্তের জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
চাকরি দেয়ার কথা বলে ঘুষ নেয়ায় দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Debris of crashed plane recovered in Chittagong

চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার উদ্ধার করা বিমানের ধ্বংসাবশেষ। কোলাজ: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিধ্বস্ত বিমান উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ শেষ করেনি। প্রতিবেদন পেলে উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হওয়া বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে নৌবাহিনীর অভিযানকারী দল।

কর্ণফুলী থানার জুলধা মাতব্বর ঘাট সংলগ্ন এইচএম স্টিল কারখানার পাশে কর্ণফুলী নদী থেকে বিমানের অংশটি বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয়, তবে এখনও উদ্ধার কাজ শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।

বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল একেএম শফিউল আজম ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধারকারীরা জানান, বিমানের ভগ্নাংশ খুঁজে পেতে বিমান বাহিনীর আধুনিক উদ্ধার জাহাজ ‘বলবান’ বিমানের ভাঙা অংশ উদ্ধারে কাজ চালিয়েছে। এ ছাড়াও বিমানটি খুঁজতে বিশেষ ‘সোনার সিস্টেম’ও ব্যবহার করা হয়েছিল।

উদ্ধারকারীরা তিন ভাগে বিমানটি খুঁজছেন। যে জায়গায় বিমানটি পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে লাল রংয়ের একটি বেলুন দিয়ে শনাক্ত করেছেন, সেখানে ডুবুরি দিয়ে খোঁজা হয়েছিল।

অন্য একটি দল নদীর পাড়ে খোঁজ চালায়। এ ছাড়া আরেকটি দল জহুরুল হক ঘাঁটিতে বসে সবকিছু মনিটরিং করে। অবশেষে নদীতে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল নামার এক ঘণ্টার মধ্যে বিমানটি নদীতে শনাক্ত করে উপরে জাহাজে তোলা হয় বলে জানান নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা।

উদ্ধারকাজে সেনা, নৌ, বিমানসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিধ্বস্ত বিমান উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ শেষ করেনি। প্রতিবেদন পেলে উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

পতেঙ্গা এলাকার কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের ১১ নম্বর ঘাটের নতুন পতেঙ্গা টার্মিনালের অপর পাশে এইচএম স্টিল মিল প্রান্তে বিমানটি আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে আগুন লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এ সময় পাইলট উইং কমান্ডার মো. সোহান হাসান খাঁন, পিএসসি এবং স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ জরুরি প্যারাসুট দিয়ে বিমান থেকে নদীতে নেমে পড়েন।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের উদ্ধার করে পতেঙ্গার বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাইলট আসিম জাওয়াদ মারা যান।

অপর পাইলট মো. সোহান হাসান খান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগেও রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ মডেলের তিনটি প্রশিক্ষণ বিমান চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত হয়। ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীর পুটিবিলা ও ছোট মহেশখালীতে বিধ্বস্ত হয়। এর আগে একই বছরের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার থানার কাইশ্যাঘোনা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এসব ঘটনায় পাইলটরা আহত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

ইয়াক-১৩০ মডেলের যুদ্ধবিমান ১৯৯৬ সালে প্রথম আকাশে উড্ডয়ন করে। এরপর ২০০২ সালে একে রুশ সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রধান আকাশযান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০১৫ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে বিমানগুলো কেনা হয়।

রাশিয়ার সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইরকুত করপোরেশন এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান নির্মাণ করে থাকে। যুদ্ধবিমানগুলো মৌলিক ও যুদ্ধ প্রশিক্ষণের জন্য উপযোগী। পাশাপাশি একে আক্রমণের কাজেও ব্যবহার করা যায়।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার
ইসরায়েলের কোনো বিমান ঢাকায় আসেনি: বেবিচক
স্থূল হওয়ার কারণে বিমানে নিতে অস্বীকৃতি
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্লেন্ডিং মেশিনে প্রায় আড়াই কেজি স্বর্ণ
চোরাই স্বর্ণসহ বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Free upazila chairman candidate within 12 hours of detention

আটকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী

আটকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীন। ছবি: নিউজবাংলা
র‍্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এহতেশামুল বলেন, ‘আটকের পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যেই টাকা জব্দ করা হয়েছিল সেটি নির্বাচনি ব্যয়ের সীমার মধ্যেই ছিল। জব্দকৃত টাকা ট্রেজারিতে জমা দেয়া হবে এবং শাহীনসহ সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে’

পাবনার সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুজ্জামান শাহীনসহ আটক ১১ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আটকের ১২ ঘণ্টার মাথায় মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র‍্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্প থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

র‍্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এহতেশামুল হক খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সুজানগরের চর ভবানীপুরের নির্বাচনি এলাকা থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহীনের একটি গাড়ি ও প্রায় ২৩ লাখ টাকাসহ ১১ জনকে আটক করে র‍্যাব।

তাদের ছেড়ে দেয়ার বিষয় র‍্যাব কমান্ডার এহতেশামুল বলেন, ‘আটকের পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যেই টাকা জব্দ করা হয়েছিল সেটি নির্বাচনি ব্যয়ের সীমার মধ্যেই ছিল। জব্দকৃত টাকা ট্রেজারিতে জমা দেয়া হবে এবং শাহীনসহ সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তবে বিষয়টি আরও তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মুক্তি পাওয়ার পর শাহীন বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি সকল ব্যয় পরিশোধের জন্য টাকাগুলো আনা হচ্ছিল। এটা কোনো অসৎ উপায়ের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল না। সম্পূর্ণ বৈধ টাকা। আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।’

শাহীন সুজানগর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এবারের উপজেলা নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী।

শাহীনসহ ১১ জনকে আটকের বিষয়ে এর আগে কমান্ডার এহতেশামুল বলেন, ‘আগামী ৮ মে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে সুজানগর উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে র‌্যাবের নিয়মিত টহল দল সোমবার রাতে সুজানগরের চর ভবানীপুর এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীন ও তার ১০ সহযোগীকে আটক করা হয়।

‘এ ছাড়া তার গাড়িতে রাখা দুই ব্যাগ ভর্তি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা ও নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।’

আগামী ৮ মে পাবনার সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আনারস প্রতীকের শাহীনুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব (মোটরসাইকেল)।

আরও পড়ুন:
বিধি ভাঙার অভিযোগে গজারিয়ায় ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে শোকজ
বরিশালে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ৩
উপজেলা নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানো সম্ভব নয়: ইসি
দলের নির্দেশ অমান্য করে প্রভাব বিস্তার ইসির বোধগম্য নয়
বোরকা পরে দ্বিতীয়বার ভোট দিতে গিয়ে নারী আটক

মন্তব্য

p
উপরে