× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Nasirnagar dry fair is losing its tradition
google_news print-icon

ঐতিহ্য হারাচ্ছে নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা

ঐতিহ্য-হারাচ্ছে-নাসিরনগরের-শুঁটকি-মেলা
নাসিরনগরের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা। ছবি: নিউজবাংলা
শুঁটকি দোকানি কৃষ্ণদাস বলেন, ‘পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় কমে গেছে ঐতিহ্যবাহী বিনিময় প্রথা। অথচ এক বছর আগে এই প্রথা চালু ছিল। এখন নামে মাত্র এই প্রথা চালু আছে। তাই এ মেলার ঐতিহ্য হারিয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী একটি মেলা নাসিরনগর উপজেলার শুঁটকি মেলায়। প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শনিবার থেকে উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামের কুলিকুন্ডা (উত্তর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দুদিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে এই মেলার ঐতিহ্য ও আমেজের ভাটা পড়েছে। আর এর প্রধার কারণ পণ্যের বাড়তি দাম।

লোকশ্রুতি অনুযায়ী, দুই শত বছরের বেশি সময় ধরে নাসিরনগর উপজেলায় এই শুঁটকি মেলা চলছে। তবে প্রবীণরা বলছেন, মুদ্রার প্রচলনের সময়কাল থেকে এই মেলা হয়ে আসছে গ্রামটিতে। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় জেলেরা এখনও পহেলা বৈশাখে এ মেলার আয়োজন করেন।

ঐতিহ্য হারাচ্ছে নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা

মেলায় আগতরা জানান, শুঁটকি মেলার ঐতিহ্য ছিল পণ্যের বিনিময়ে বেচাকেনা। স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, চাল, ডাল, শিমের বিচি, আলু, শর্ষে, পেঁয়াজ, রসুনসহ নানা পণ্যের বিনিময়ে এই শুঁটকি কিনতেন। পণ্য বিনিময়ের এ প্রথা স্বল্প পরিসরে কয়েক বছর আগেও ছিল। করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে তা আর নেই। এখন টাকায় লেনদেন হয়। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা শুঁটকি বেচাকেনা করতে এ মেলায় আসেন। শুঁটকির পাশাপাশি মেলায় গৃহস্থালি সামগ্রীসহ শিশুদের নানা ধরনের খেলনাও বিক্রি হয়।

শনিবার সকালে এ শুঁটকি মেলায় গিয়ে দেখা যায়, সিলেট, হবিগঞ্জ, আশুগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এ মেলায় এসেছেন। তারা বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, ছুরি, লইট্টা, পুঁটি, গনা, গুচি, ট্যাংরা, আইড়সহ নানা ধরনের শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেছেন। শুধু তাই নয়, শুঁটকি মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের জমিতে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় সার্বিক কেনাবেচা ভালো হওয়ায় খুশি দোকানিরা।

শুঁটকি দোকানি কৃষ্ণদাস বলেন, ‘পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় কমে গেছে ঐতিহ্যবাহী বিনিময় প্রথা। অথচ এক বছর আগে এই প্রথা চালু ছিল। এখন নামে মাত্র এই প্রথা চালু আছে। তাই এ মেলার ঐতিহ্য হারিয়েছে।’

আশুগঞ্জের আড়াইসিধা গ্রামের মুমিন মিয়া ১৯ বছর যাবৎ মেলায় শুঁটকি বিক্রি করে আসছেন। এবার ছেলে বাবুল মিয়াকে নিয়ে মেলায় এসেছেন তিনি। তার দোকানে গিয়ে দেখা যায়, বোয়াল, বাইন, ছুরি, আইল, বামট, রিডাসহ নানা ধরনের শুঁটকি।

ঐতিহ্য হারাচ্ছে নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা

মেলায় প্রথমবার আসা আশুগঞ্জের লালপুরের চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘২৫ জাতের শুঁটকি এনেছি। এগুলোর বাজারমূল্য তিন লাখ টাকা। মেলায় বেচাকেনা ভালো হয় বলে লোকমুখে শুনেছি। তাই আশা নিয়ে এসেছি।’

ক্রেতা মো. মহব্বত আলী বলেন, ‘প্রাচীনকালে যখন কাগজের মুদ্রা প্রচলন হয়নি ঠিক তখন থেকে কৃষকেরা তাদের সদ্য উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে বেচাকেনা করতেন। বিশেষ করে শুঁটকি ছিল তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য। তবে কালের বিবর্তনে এই মেলার জৌলুস অনেকটাই হারিয়েছে। শুধু তাই নয় হারিয়েছে চিরচেনা বিনিময় প্রথাও। তারপরেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেলায় শুঁটকি কেনার জন্যে এসেছি।’

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওহাব আলী বলেন, ‘বিনিময় প্রথার ঐতিহ্য ধরে রাখতে অল্প পরিসরে পণ্য বিনিময়রে মধ্যে দিয়ে শুঁটকি বিক্রি শুরু হয়। এখন বেশিরভাগই টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়।’

আরও পড়ুন:
নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার মামলায় ১৩ জনের কারাদণ্ড
ইসলামি বক্তার জিহ্বা কাটার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
মানসিক চাপে আত্মগোপনে ছিলাম: আসিফ
পাওয়া গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিখোঁজ প্রার্থী আসিফকে
সাত্তার চমকের শেষটা দেখার অপেক্ষা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Minister hopes black market of train tickets will be closed forever

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চিরতরে বন্ধ হবে, আশা মন্ত্রীর

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চিরতরে বন্ধ হবে, আশা মন্ত্রীর প্রতীকী ছবি
মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ট্রেনের টিকেটে কালোবাজারি থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে। আশা করি চিরতরে কালোবাজারি বন্ধ হয়ে যাবে।’

সরকারের তৎপরতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম।

মুক্তিযুদ্ধকালীন রণাঙ্গনের স্মৃতি বিজড়িত মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষলোটাকা গ্রাম পরিদর্শনকালে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমন দাবি করেন বলে বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ট্রেনের টিকেটে কালোবাজারি থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে। আশা করি চিরতরে কালোবাজারি বন্ধ হয়ে যাবে।’

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমি এই ষলোটাকা গ্রামে রাতযাপনও করেছি। দেশ স্বাধীনতার বড় একটা ভূমিকা ছিল এই গ্রামের মানুষের।’

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হয়ে মুজিবনগর থেকে মেহেরপুর রেললাইন স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ রেললাইন স্থাপনকাজ দ্রুত শুরু হবে।

রেলপথমন্ত্রী সড়কপথে দুপুরে মেহেরপুরে পৌঁছালে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু সালেহ মো. নাজমুল হক সাগর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ খালেক ও গাংনী পৌরসভার মেয়র আহম্মেদ আলী।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠির নলছিটিতে থামবে ট্রেন, দখিনা জনপদে হচ্ছে ১২টি স্টেশন
ফেনীতে ট্রাক-ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬
ফেনীতে রেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রাক-ট্রেন সংঘর্ষ, নিহত ২
মুন্সীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু
ঈদযাত্রায় চট্টগ্রাম থেকে চলবে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The bodies of two missing Dhaka Bank officials have been recovered from the river in Munshiganj

মুন্সীগঞ্জে নদীতে নিখোঁজ ঢাকা ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুজনের মরদেহ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জে নদীতে নিখোঁজ ঢাকা ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুজনের মরদেহ উদ্ধার প্রতীকী ছবি
টঙ্গিবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ঢাকা থেকে ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে একজন।’

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ঢাকা ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ দুজনের মরদেহ শুক্রবার উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনাস্থলের অদূরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রাত সাড়ে আটটার দিকে ব্যাংক কর্মকর্তা জুয়েল রানা ও রিয়াদ আহমেদ রাজু নামের দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এখনও নিখোঁজ রয়েছে রিয়াদ আহমেদ রাজুর ছেলে রামিন আরিদ (১৬)।

উদ্ধার হওয়া দুজনের মধ্যে জুয়েল ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা ছিলেন, তবে তার পদবি জানা যায়নি। জুয়েলের ভাইরা রিয়াদ আহমেদ রাজুর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। দুজনই ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, জুয়েল, রাজু ও রামিন টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেসনাল এলাকায় তাদের স্বজন আলম মোল্লার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ট্রলারে করে ৩০ থেকে ৩৫ জন দিঘীরপাড় ইউনিয়নের ধানকোড়া এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে ঘুরতে বের হন। ওই সময় তারা বেশ কয়েকজন ট্রলার থেকে গোসল করতে নামেন।

গোসল করার সময় রামিন নদীর স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে তার বাবা ও খালু তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম ও নৌ পুলিশ। পরে ঢাকার ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

টঙ্গিবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ঢাকা থেকে ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে একজন।’

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার চর আবদুল্লাহ নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল হাসনাত জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের টিম উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন:
নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩
চট্টগ্রামে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, চালকসহ নিহত ২
ময়মনসিংহে এক দিনে সড়কে ঝরল ৮ প্রাণ
ময়মনসিংহে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২
ধামরাইয়ে বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরোহীর মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I am very healthy in my old age because of playing stick

‘বয়স অনেক, সুস্থ আছি লাঠি খেলার কারণে’

‘বয়স অনেক, সুস্থ আছি লাঠি খেলার কারণে’ নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে শুক্রবার লাঠি খেলার আয়োজন করে বাউল আখড়া বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা
লাঠি খেলা দেখতে আসা ভীমপুর এলাকার বাসিন্দা মুমিন সরদার (৩৫) বলেন, ‘গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাটি এখন আর দেখতেই পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সংগঠন প্রতি বছর এ খেলার আয়োজন করে বলে আমরা যুবসমাজ দেখতে পারি।  গ্রামীণ খেলাগুলো টিকিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে চেষ্টা করা উচিত।’

‘আমার বয়স অনেক হয়েছে, তবুও আমি সুস্থ আছি নিয়মিত লাঠি খেলার কারণে। আমার যারা ওস্তাদ ছিল, সবাই মারা গেছে। তাদের শেখানো লাঠি খেলা দেখিয়ে গ্রামের মানুষকে আনন্দ দিয়ে থাকি।’

কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁ সদর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের সাহাজ আলী সরদার। ৬০ বছর বয়সী এ ব্যক্তি শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের মুক্তির মোড়ে অংশ নেন লাঠি খেলায়।

বাউল আখড়া বাড়ির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এ খেলার আয়োজন করা হয়।

লাঠি খেলা দেখতে আসা ভীমপুর এলাকার বাসিন্দা মুমিন সরদার (৩৫) বলেন, ‘গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাটি এখন আর দেখতেই পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সংগঠন প্রতি বছর এ খেলার আয়োজন করে বলে আমরা যুবসমাজ দেখতে পারি।

‘গ্রামীণ খেলাগুলো টিকিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে চেষ্টা করা উচিত।’

শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার মীম বলেন, ‘আমরা সবাই এখন ভিডিও গেইমের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছি দিন দিন। তাই গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো দেখলে অন্যরকম ভালো লাগে।

‘বেড়াতে এসেছিলাম। ঢোলের শব্দ শুনে এসে দেখি লাঠি খেলা হচ্ছে। খুব ভালো লাগছে অনেক পুরোনো লাঠি খেলা দেখে।’

লাঠি খেলার দলের সদস্য আবদুস সামাদ (৫৫) বলেন, ‘আমার বয়স যখন ১৩ বছর, তখন আমার বাবার কাছ থেকে লাঠি খেলা শিখেছি। একসময় প্রচুর খেলা দেখানোর জন্য দাওয়াত পেতাম।

‘এখন আর পাই না, তবে এটা ভেবে ভালো লাগে যে, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এখনো লাঠি খেলাকে টিকিয়ে রেখেছেন।’

দারিয়াপুর গ্রামের সাহাজ আলী সরদার (৬০) বলেন, ‘একটা সময় ছিল প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দাওয়াত পেতাম, তবে এখন আর আগের সময় নেই।

‘সবাই বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেইম নিয়ে ব্যস্ত। গ্রামীণ খেলাগুলোর মাধ্যমে যুবসমাজ বিভিন্ন ধরনের নেশা থেকে বিরত থাকবে বলে আমি মনে করি।’

আয়োজনের বিষয়ে বাউল আখড়া বাড়ির সভাপতি সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘লাঠি খেলা হলো গ্রামীণ ঐতিহ্য। এটি যেন বিলীন না হয়ে যায়, সে জন্য আমরা আয়োজন করেছি, যাতে মানুষেরা গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত এখানে বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছে, কিন্তু আমরা গ্রামীণ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে কিছু করতে পারি না। কারণ লাঠি খেলাও আমাদের ঐতিহ্য। আমরা প্রতি বছর লাঠিখেলা ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁ সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর
নওগাঁয় গৃহবধূ হত্যা: স্বামী, শাশুড়ি ও দেবর ঢাকায় গ্রেপ্তার
নওগাঁয় কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার, আওয়ামী লীগ নেতা আটক
নওগাঁয় এনজিও কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার 
নওগাঁয় সড়কের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The fire may spread to 6 divisions including Dhaka

বিস্তৃত হতে পারে ঢাকাসহ ৬ বিভাগের দাবদাহ

বিস্তৃত হতে পারে ঢাকাসহ ৬ বিভাগের দাবদাহ মাথায় কাপড় দিয়ে উত্তাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা এক ব্যক্তির। ফাইল ছবি
তাপপ্রবাহ বা দাবদাহ নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।

ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগে ‍মৃদু দাবদাহ চলছে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এটি বিস্তার লাভ করতে পারে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন বার্তা দিয়েছে।

পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা নিয়ে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

তাপপ্রবাহ বা দাবদাহ নিয়ে বলা হয়, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:
গরম কমছে
দুই দিন কমে মঙ্গলবার থেকে বাড়তে পারে গরম
দিনে আরও বাড়তে পারে গরম
দিনে গরম বাড়বে
বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি, আরও ঘামবে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Strict suppression of any terrorist group Hanif

যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন: হানিফ

যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন: হানিফ কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। ছবি: বাসস
হানিফ বলেন, ‘কুকি-চিন বা কেএনএফ যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই হোক না কেন, তাদের জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হানিফ বলেন, ‘কুকি-চিন বা কেএনএফ যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই হোক না কেন, তাদের জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশে একসময় বাংলা ভাইসহ বড় বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছিল। তাদেরকে যেভাবে নির্মূল করা হয়েছে, এদেরকেও ঠিক সেভাবেই নির্মূল করা হবে। আর এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পেছন থেকে কারা মদদ দিচ্ছে, তাদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা।’

বিরোধীদের বিষয়ে হানিফ বলেন, ‘যারা আজকে সরকারের বিরোধিতা করছেন, তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন রেখে গিয়েছিল? মাথাপিছু আয় ৫৩৫ মার্কিন ডলার থেকে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় তা এখন ২৮০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। আজ বাংলাদেশ চরম ব্যর্থ রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। এটা যাদের ভালো লাগে না, তারাই এসব আবোল তাবোল কথা বলে।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচন নিয়ে কথা বলে আর লাভ নেই: হানিফ
বিএনপি এখন বিলুপ্তির পথে: হানিফ
তারেক সন্ত্রাসী নেতা: হানিফ
আন্দোলনের নামে পুলিশ হত্যা করেছে বিএনপি: হানিফ
টাকা দিয়ে নোবেল কিনেছেন ড. ইউনূস: হানিফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Opportunity to check popularity in upazila elections Tajul

উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ: তাজুল

উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ: তাজুল কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনীতে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘যারা কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে পেরেছে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, মানুষকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।’

দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘যারা কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে পেরেছে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, মানুষকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।’

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনীতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওই সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যে কেউ চাইলে প্রার্থী হতে পারেন, তবে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কোথাও একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে।’

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যেও দেশের মানুষ তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে। দেশে খাদ্য ঘাটতি দূর হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে।’

ওই সময় মন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মানুষের সক্ষমতা ও রুচি উন্নত হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। যোগ্যরাই টিকে থাকে। তাই মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য।’

সমাজে সবাইকে সৎ আচরণ অনুশীলন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে।’

ঈদ পুনর্মিলনী সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এলজিআরডি মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেওয়ান জসিম উদ্দিন, হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, লক্ষ্ণণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সেলিম কাদের চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বিপ্লব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. তাহসীন বাহার সূচসাসহ কাউন্সিলররা। অনুষ্ঠান শেষে তারা এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ওই সময় মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণকে দিতে, বিএনপি আসে নিতে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাকে ঈদের শুভেচ্ছা মোদির
ঈদের ছুটিতে দুই হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
জিম্মি নাবিকরা ভালো আছেন, তবে উদ্ধারের দিনক্ষণ বলা কঠিন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sadarghat launch tragedy Five accused on three day remand

সদরঘাট লঞ্চ ট্র্যাজেডি: তিন দিনের রিমান্ডে পাঁচ আসামি

সদরঘাট লঞ্চ ট্র্যাজেডি: তিন দিনের রিমান্ডে পাঁচ আসামি সদরঘাটে এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চটির ছিঁড়ে যাওয়া দড়ির আঘাতেই আশপাশে থাকা পাঁচজন প্রাণ হারান। ছবি: মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ/নিউজবাংলা
রিমান্ড পাওয়া আসামিরা হলেন এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) আবদুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) সেলিম হাওলাদার (৫৪), ম্যানেজার ফারুক খান (৭০), এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) মিজানুর রহমান (৪৮) ও দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) মনিরুজ্জামান (২৮)।

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে দুই লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লেগে রশি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় হওয়ায় মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার ও ম্যানেজার। বাকি দুজন এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের মাস্টার।

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা চৌধুরী হিমেল শুক্রবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবির বাবুল নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার সদরঘাট নৌ পুলিশের সদস্যরা আসামিদের আদালতে হাজির করেন। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের সাত দিনের পুলিশি রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক নকীব অয়জুল হক। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রিমান্ড পাওয়া আসামিরা হলেন এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) আবদুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) সেলিম হাওলাদার (৫৪), ম্যানেজার ফারুক খান (৭০), এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) মিজানুর রহমান (৪৮) ও দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) মনিরুজ্জামান (২৮)।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ২টা ৫৫ মিনিটে সদরঘাট টার্মিনালের ১১ নম্বর পল্টুনে এমভি তাসরিফ-৪ নোঙর করা অবস্থায় এমভি ফারহান-৬-এর চালক বেপরোয়া গতিতে লঞ্চ চালিয়ে ১১ নম্বর পন্টুনে ঢোকার সময় তাসরিফ লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। এতে তাসরিফ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়। সেটি দ্রুত গতিতে এসে পন্টুনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের আঘাত করলে তারা নদীতে পড়ে যায়। এতে এক পরিবারের তিনজনসহ পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফারহান এবং তাসরিফ লঞ্চের দায়িত্ব অবহেলা আছে।

লঞ্চ ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মাটিচোরা গ্রামের প্রয়াত আবদুল মালেকের ছেলে বিল্লাল (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬), তাদের মেয়ে সাইমা (৩)। প্রাণ হারানো বাকি দুজন হলেন পটুয়াখালী সদরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রিপন হাওলাদার (৩৮) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ কাফীর ছেলে রবিউল (১৯)।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে মৃত প্রত্যেকের নমিনির কাছে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে পাঁচ যাত্রী নিহত
ঈদের সকালে হরিয়ানায় স্কুলবাস উল্টে ৬ শিশু নিহত, ‘মদ্যপ ছিলেন’ চালক
নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩
চট্টগ্রামে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, চালকসহ নিহত ২
শেষ কর্মদিবসে সদরঘাট ছেড়েছে যাত্রীভর্তি লঞ্চ

মন্তব্য

p
উপরে