× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Mirza Abbas admitted to hospital
hear-news
player
google_news print-icon

মির্জা আব্বাস হাসপাতালে ভর্তি

মির্জা-আব্বাস-হাসপাতালে-ভর্তি
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ফাইল ছবি
বিএনপির বর্ষীয়াণ এই নেতার অনিয়মিত হার্টবিট, কাশি ও শ্বাসকষ্ট ও মূত্রজনিত সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় রোববার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদ্য কারামুক্ত বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

৩২ দিন কারাভোগের পর গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপির বর্ষীয়াণ এই নেতার অনিয়মিত হার্টবিট, কাশি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি মূত্রজনিত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় রোববার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মির্জা আব্বাস বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
দুর্ভিক্ষের আগেই সরকারের পতন হবে: মির্জা আব্বাস
বিএনপি লুটপাট, খাওয়াদাওয়ার মধ্যে নাই: মির্জা আব্বাস
মির্জা আব্বাসের আবেদন খারিজ, দুর্নীতি মামলা চলবে
সরকার পতন নিয়ে সংশয়ে আব্বাস-গয়েশ্বর
মধ্যম আয়কারীরা নিম্ন আয়ের মানুষে পরিণত: আব্বাস

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Jamals posthumous organ donation after Sarah Nandita

সারাহ, নন্দিতার পর মরণোত্তর অঙ্গদান জামালের

সারাহ, নন্দিতার পর মরণোত্তর অঙ্গদান জামালের
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে ম্যাজাদাহোন্দায় পুয়ের্তা দি হিয়েরো ইউনিভার্সিটি হসপিটালে দাতার কাছ থেকে সংগৃহীত হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের আগে রোগীকে প্রস্তুত করছেন দুই কার্ভিওভাসকুলার সার্জন। ছবি: এএফপি
জামাল উদ্দিনের ছেলে জাহিন জামাল বলেন, তার বাবা রোটারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ডায়াবেটিসজনিত নানা জটিল রোগে ভুগে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রাজধানীতে সারাহ ইসলাম ও নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহদান নিয়ে আলোচনার মধ্যে জামাল উদ্দিন নামের আরেকজনের অঙ্গদানের খবর পাওয়া গেল, যিনি থাকতেন মিরপুরে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ৬২ বছর বয়সে প্রাণ হারানো জামালের দুটি কর্নিয়া সংগ্রহ করে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে জামাল উদ্দিনের ছেলে জাহিন জামাল বলেন, তার বাবা রোটারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ডায়াবেটিসজনিত নানা জটিল রোগে ভুগে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

জাহিন আরও জানান, এক মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় পরিবারকে মরণোত্তর দেহদানের কথা জানিয়েছিলেন তার বাবা। তার দুটি কর্নিয়া কারা পাবেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জামালের কর্নিয়া সংগ্রহের আগের দিন বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যানাটমি বিভাগের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ ঢাকার বাসাবোর বাসিন্দা নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন।

বিএসএমএমইউর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নন্দিতা বড়ুয়ার মৃত্যু হয় ৩০ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। কিডনি রোগের পাশাপাশি এসএলই ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। মরণোত্তর দেহদানের বিষয়ে সন্তানদের বলে গিয়েছিলেন তিনি।

গত ৩১ জানুয়ারি আবদুল আজিজের চোখে বিএসএমএমইউর চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শীষ রহমান নন্দিতার একটি কর্নিয়া সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন। একই দিনে প্রতিষ্ঠানের অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজশ্রী দাস আরেকটি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেন জান্নাতুল ফেরদৌসির চোখে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি মরণোত্তর অঙ্গদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সারাহ ইসলাম।

তার দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুই নারীর শরীরে। আর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় আরও দুজনের চোখে।

আরও পড়ুন:
সারার পর মরণোত্তর দেহদান নন্দিতার, কর্নিয়া পেল আরও দুজন
মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণোত্তর দেহদান স্কুলশিক্ষকের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After Sara two others received Nanditas corneas after posthumous donation

সারার পর মরণোত্তর দেহদান নন্দিতার, কর্নিয়া পেল আরও দুজন

সারার পর মরণোত্তর দেহদান নন্দিতার, কর্নিয়া পেল আরও দুজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যানাটমি বিভাগের পক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন। ছবি: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নন্দিতা বড়ুয়ার মৃত্যু হয় ৩০ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। কিডনি রোগের পাশাপাশি এসএলই ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। মরণোত্তর দেহদানের বিষয়ে সন্তানদের বলে গিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারা ইসলামের পর মরণোত্তর দেহ দান করেছেন ৬৯ বছর বয়সী নন্দিতা বড়ুয়া, যার কর্নিয়ায় চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন দুজন।

তারা হলেন পিরোজপুরের কাউখালী কলেজের ব্যবস্থাপনার বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ২৩ বছর বয়সী ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ও পটুয়াখালীর ৫০ বছর বয়সী দলিল লেখক আবদুল আজিজ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যানাটমি বিভাগের পক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঢাকার বাসাবোর বাসিন্দা নন্দিতা বড়ুয়ার দেহ গ্রহণের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন, অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লায়লা আনজুমান বানু, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ আলম, হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার (টিটো), কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শীষ রহমান, কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক রাজশ্রী দাস, অ্যানাটমি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন আক্তার সুমি, নন্দিতা বড়ুয়ার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া ও সেঁজুতি বড়ুয়া. নন্দিতা বড়ুয়ার কর্নিয়াগ্রহীতা জান্নাতুল ফেরদৌস ও আবদুল আজিজসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে নন্দিতা বড়ুয়ার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া ও সেঁজুতি বড়ুয়াও মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছা কথা জানান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নন্দিতা বড়ুয়ার মৃত্যু হয় ৩০ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। কিডনি রোগের পাশাপাশি এসএলই ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। মরণোত্তর দেহদানের বিষয়ে সন্তানদের বলে গিয়েছিলেন তিনি।

গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শীষ রহমান আবদুল আজিজের চোখে ও অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজশ্রী দাস জান্নাতুল ফেরদৌসির চোখে নন্দিতা বড়ুয়ার একটি করে কর্নিয়া সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি মরণোত্তর অঙ্গদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সারা ইসলাম।

তার দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুই নারীর শরীরে। আর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় আরও দুজনের চোখে।

আরও পড়ুন:
মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণোত্তর দেহদান স্কুলশিক্ষকের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
12 percent of corona sufferers are suffering from depression

করোনা আক্রান্তদের ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভুগছেন

করোনা আক্রান্তদের ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভুগছেন সোমবার বিএসএমএমইউ-তে ‘কিডনি ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ’-্এর উদ্যোগে সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সিম্পোজিয়ামে বলা হয়, ক্রনিক কিডনি ডিজিজের রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের রোগীদের করোনা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি ৫০ ভাগ। আবার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে করোনা টিকার কার্যকারিতা অনেক কম।

‘করোনা বিশ্বকেই পাল্টে দিয়েছে। কিডনি রোগীদের করোনা হলে ফল খুব খারাপ হয়। ডায়ালাইসিসের রোগীদের করোনা হলে ৫০ শতাংশই মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর যারা সুস্থ হয়ে ওঠেন তাদেরও নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হচ্ছে। করোনায় আক্রান্তদের ১২ শতাংশ ডিপ্রেশনে ভুগছেন।’

সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে ‘কিডনি ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ’ আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিএসএমএমইউ-তে করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ‘মাল্টিটিউড অফ ইস্যুস ইন রেনাল, কার্ডিয়াক অ্যান্ড মেটাবলিক ইনফ্লুয়েন্স’ ও ‘লং টার্ম হেলথ কনসিকোয়েন্সেস অ্যাজ এ পোস্ট কোভিড-১৯ সিকোয়াল ইন হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার্স’ শীর্ষক এই সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।

সিম্পোজিয়ামে বলা হয়, ক্রনিক কিডনি ডিজিজের রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের রোগীদের করোনা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি ৫০ ভাগ।

আবার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে করোনা টিকার কার্যকারিতা অনেক কম। করোনার টিকা ডায়ালাইসিস রোগীদের কার্যকারিতা শতকরা ৮৭ ভাগ। করোনার এই টিকা আবার নেফ্রাইটিস রোগের পুনরাগমন ঘটাতে পারে।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তদের ১২ শতাংশ ডিপ্রেশনে ভুগছেন। এ অবস্থা থেকে চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।

‘করোনায় বাংলাদেশে পেশাজীবীদের মধ্যে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও কোভিড আক্রান্ত চিকিৎসকদের ৪০ ভাগ চিকিৎসক এবং ৩৪ ভাগ নার্স লং কোভিডে ভুগছেন। করোনায় যাদের ডায়াবেটিস ছিল না তাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। করোনায় অনেকের মায়োপ্যাথি হয়েছে।’

বিএসএমএমইউ-এর অর্থায়নে ২০২২ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৮০৪ জন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর একটি প্রাথমিক গবেষণা করা হয়।

বিষয়টির উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব চিকিৎসককে গবেষণার কাজ করতে হবে। একবার গবেষণার কাজ করলেই হবে না। ধারাবাহিকভাবে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী বলেন, ‘কোভিড শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বের অনেক দেশেই কোভিড রয়েছে। কোভিডের সংক্রমণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সিম্পোজিয়ামে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সালেহ আহমেদ, বারডেমের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারিয়া আফসানা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের কানসালট্যান্ট মীর ইসারাকুজ্জামান একটি করে গবেষণা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে গবেষণা ফল প্রকাশ করেন অধ্যাপক মাসুদ ইকবাল।

আরও পড়ুন:
বিএসএমএমইউ গবেষণা দিবসে নানা আয়োজন
বিএসএমএমইউতে ভাঙারির নামে ‘পুকুরচুরি’
বিএসএমএমইউ-তে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল এখন অনলাইনে
‘ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে বাঁচবে প্রাণ’
দেশে বছরে ছানি রোগী বাড়ছে ১ লাখের বেশি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5 out of 8 people have died due to Nipah virus this season

চলতি শীতে নিপা ভাইরাসে ৮ জনের মধ্যে ৫ জনই মারা গেছেন

চলতি শীতে নিপা ভাইরাসে ৮ জনের মধ্যে ৫ জনই মারা গেছেন খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছি। ছবি: নিউজবাংলা
খেজুরের রস খাওয়ার ব্যাপারে জনগণকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘‌দেশে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে চলতি শীত মৌসুমে আটজন ব্যক্তি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে পাঁচজনই মারা গেছেন।’

বাদুড় থেকে সংক্রমিত নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, চলতি শীত মৌসুমে এ ভাইরাসে আক্রান্ত আটজনের মধ্যে পাঁচজনই মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রোববার একটি পর্যালোচনা সভায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খেজুরের রস খাওয়ার ব্যাপারে জনগণকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘‌দেশে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে চলতি শীত মৌসুমে আটজন ব্যক্তি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে পাঁচজনই মারা গেছেন।’

চলতি শীতে নিপা ভাইরাসে ৮ জনের মধ্যে ৫ জনই মারা গেছেন

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভোগান্তি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বেসরকারি হাসপাতালের বেড সংখ্যা, যন্ত্রপাতি, অবস্থান, লোকবল, সুযোগ-সুবিধা ভেদে এগুলোকে এ,বি, সি, ডি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেয়া হবে। ক্যাটাগরি ভেদে হাসপাতালগুলোতে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা থাকবে। এতে মানুষ আগে থেকেই জানতে পারবে কোন হাসপাতালে গেলে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে ও চিকিৎসায় কত ব্যয় হবে।’

তিনি বলেন, ' সারাদেশে অলিতে-গলিতে ক্লিনিক হয়ে গেছে। কিছু ক্লিনিক মান-সম্মত হলেও অধিকাংশেরই সেবার মান ভালো না। ‘ফি’-ও নেয়া হয় ইচ্ছে মতো। এগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী যন্ত্রপাতি নেই, কিছু মেশিন আছে যেগুলো সেগুলোও ঠিক মতো কাজ করে না। এসব অনিয়ম আর চলতে পারবে না।'

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর সভাপতি মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিব) সভাপতি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন চৌধুরী, মহাসচিব অধ্যাপক কামরুল হাসান মিলন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খান, মহাসচিব ও সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে নির্বাচনে আসুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চোখ বন্ধ করে রাখলে উন্নয়ন দেখতে পারবেন না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগী হাসপাতালে দেরিতে আসায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা জয় সদ্য মাতৃত্বের সুখের মতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
They want a safe hospital

নিরাপদ হাসপাতাল চান তারা

নিরাপদ হাসপাতাল চান তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার মানববন্ধনে নিহাস সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
মানববন্ধনে বক্তাদের একজন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেকে অর্থের অভাবে এখনও চিকিৎসা করাতে পারছে না। সঙ্গে ভুল ও অপচিকিৎসার শিকার তো নিত্যদিনের বিষয়। ডাক্তার থাকলে ওষুধ থাকে না; ওষুধ থাকলে ডাক্তারের দেখা মেলে না।’

সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সুচিকিৎসাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘নিরাপদ হাসপাতাল চাই’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার মানববন্ধনে এ দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তাদের একজন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেকে অর্থের অভাবে এখনও চিকিৎসা করাতে পারছে না। সঙ্গে ভুল ও অপচিকিৎসার শিকার তো নিত্যদিনের বিষয়। ডাক্তার থাকলে ওষুধ থাকে না; ওষুধ থাকলে ডাক্তারের দেখা মেলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের ২৪ শতাংশ পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এ হার সবচেয়ে কম ভুটানে।’

পাঁচ দফা দাবি

১. দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়ে তোলা।

২. জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) স্থাপনসহ সব পরীক্ষা সেবা নিশ্চিত করে আসন বাড়ানো।

৩. রোগী ও চিকিৎসকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৪. হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা নিশ্চিত করা।

৫. পরীক্ষা ফি ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ হাসপাতাল চাইয়ের সমন্বয়ক এফ. এ. শাহেদ, সহসমন্বয়ক শাহরিয়ার সোহাগ, সদস্য সালেকুজ্জামান রাজিব, আহসান হাবিব সবুজ, ইঞ্জিনিয়ার ফকর উদ্দিন মানিকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘অস্ত্রোপচারে’ গৃহবধূর মৃত্যু, স্বজনদের ভাঙচুরের পর বন্ধ হাসপাতাল
কারাবন্দি নেতাদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, দাবি বিএনপির
হাসপাতালে বিজয় দিবসের সজ্জায় কনডম-কাণ্ড তদন্তে কমিটি
শিশু মাইশার মৃত্যু: ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pride Major Cause of Suicide in School College Students Report

স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বড় কারণ অভিমান: প্রতিবেদন

স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বড় কারণ অভিমান: প্রতিবেদন প্রতীকী ছবি
আত্মহত্যার কারণ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মান-অভিমান থেকে সবচেয়ে বেশি আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। ২৭.৩৬ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে অভিমান করে। তাদের বড় অংশেরই অভিমান ছিল পরিবারের সঙ্গে।

সারা দেশে ২০২২ সালে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৪৪৬ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে আঁচল ফাউন্ডেশন বলেছে, তাদের বেশির ভাগ অভিমান থেকে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।

আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করা সংস্থাটির ‘স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা: সমাধান কোন পথে’ শীর্ষক সমীক্ষায় বিষয়টি উঠে এসেছে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার সমীক্ষা প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আঁচল ফাউন্ডেশন। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শাহরিনা ফেরদৌস এবং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ।

আঁচল ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের দেড় শতাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থকে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে গত বছর স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের আত্মহত্যাকারী ৪৪৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ও সমমান পর্যায়ের রয়েছে ৩৪০ জন। কলেজ ও সমমান পর্যায়ে ১০৬ শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নেন, যাদের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৫৪ জন।

এতে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮৫ ছাত্রী ও ১৬১ ছাত্র রয়েছে। একই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৮৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যার কারণ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মান-অভিমান থেকে সবচেয়ে বেশি আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। ২৭.৩৬ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে অভিমান করে। তাদের বড় অংশেরই অভিমান ছিল পরিবারের সঙ্গে।

এর বাইরে প্রেমঘটিত কারণে ২৩.৩২ শতাংশ, পারিবারিক কলহে ৩.১৪ শতাংশ, হতাশায় ২.০১ শতাংশ, মানসিক সমস্যায় ১.৭৯ শতাংশ, আর্থিক সমস্যায় ১.৭৯ শতাংশ, উত্ত্যক্ত, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ৩.১৩ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে বলে সমীক্ষায় উঠে আসে।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ায় কীটনাশক পানে ছেলের পর বাবারও মৃত্যু
নারী সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা
শিশুকে নিয়ে বাবার কীটনাশক পান, শিশুর মৃত্যু
কীটনাশক পানে সাবেক নারী ইউপি সদস্যের মৃত্যু
ভবনের কাছে নারীর মরদেহ, পাশে আহত শিশু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agreed to be sick on Friday

শুক্রবারে অসুস্থ হতে ‘মানা’

শুক্রবারে অসুস্থ হতে ‘মানা’ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের একটি ভবনের চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা
হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে সেবা কার্যক্রম চললেও শুক্রবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া দায়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দিনটিতে চিকিৎসকরা সবাই একসঙ্গে ছুটি কাটান। বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারেও চিকিৎসকের দেখা মেলে না।

কে কখন অসুস্থ হবে, কার জরুরি চিকিৎসা লাগবে, কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটবে, এসব আগাম বলার বিষয় নয়, তবে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা আগাম জানিয়ে দেয়, সপ্তাহের আর ছয় দিন অসুস্থ হলে সমস্যা নেই; শুক্রবার নয়। কারণ এই দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা মিলবে না।

রাজধানীসহ সারা দেশের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থার চিত্রই মোটামুটি একই। শুক্রবার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে সেবা কার্যক্রম চললেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া দায়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দিনটিতে চিকিৎসকরা সবাই একসঙ্গে ছুটি কাটান।

বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারেও শুক্রবার চিকিৎসকের দেখা মেলে না। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সপ্তাহের ছয় দিন রোগী দেখার জন্য ডজন ডজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন, কিন্তু শুক্রবার এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে হাতেগোনা দুই-চারজন চিকিৎসক থাকলেও বিশেষজ্ঞের দেখা পাওয়া ভার।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে দেখা গেল গেট বন্ধ। শুক্রবার বলে জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো বিভাগে চিকিৎসক ছিল না।

জরুরি বিভাগে ঢুকে দেখা গেল ওয়ার্ডে ভর্তি ২ বছর ৩ মাস বয়সী তানজিম। হিমোগ্লোবিন ৫ দশমিক ৫ এবং হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছে শিশুটি।

তাকে মামীর কাছে রেখে মা কোথাও গেছেন। মামী পাপিয়া বেবি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তানজিমকে রক্ত দেয়া হবে আজ, কিন্তু আজ শুক্রবার; তাই ডাক্তার নেই। ওর হার্টেরও সমস্যা আছে। ওকে দেখছেন একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। এখন আমরা টেনশনে পড়ে গেছি।’

অনেক সময় রক্ত দেয়ার পর পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তেমনটা হলে কী করবেন, সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সমস্যা হতেই পারে। কী করব, কারে বলব বুঝতে পারছি না। ডাক্তার নেই।

‘অগত্যা এখানে যারা ডিউটিতে আছেন তাদের ডাকতে হবে, কিন্তু ওকে যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখছেন, তাকে তো আজ পাওয়া যাবে না!’

তানজিমের পাশের বেডে ভর্তি করা হয় ৬ মাস বয়সের শিশু আলফিকে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুটিকে তিন দিন আগে সাভার থেকে এখানে আনা হয়েছে।

আলফির মা যুঁথি আক্তার বলেন, ‘তিন দিন ধরে ভর্তি করছি বাচ্চাকে। এখন কোনো সিরিয়াস কিছু হলে যার আওতায় ভর্তি সেই ডাক্তার নাই। তার মোবাইল নম্বরও আমাদের কাছে নাই। আমরা চাই শুক্রবারেও প্রয়োজন হলে যেন আমরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাই।’

শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাবাসসুম অবশ্য চিকিৎসা সেবার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ইমারজেন্সিতে আমরা থাকি। রোগীদের যেকোনো সমস্যা আমরা দেখি। এখানে তো সবাই এমবিবিএস।

‘কেউ চিকিৎসা দিতে পারবে না এমন তো না। তা ছাড়া ফোনেও নির্দেশনা নিয়ে চিকিৎসা দিই আমরা। দরকার হলে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ থাকেন। জরুরি হলে কল দিয়েও ডাকা যায়।’

রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তো তাৎক্ষণিক আসতে পারবেন না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আছিই। না হলে শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

কল্যাণপুরে ইবনে সিনাতেও দেখা যায় অন্য দিনের তুলনায় রোগীর ভিড় অনেক কম। কারণ ডাক্তার নেই। রিসিপশনে জানতে চাইলে দায়িত্বরত একজন বলেন, ‘বেশির ভাগ ডাক্তারই শুক্রবার থাকেন না। সুনির্দিষ্ট কয়েকজন বাদে। যেগুলো বেশি প্রয়োজন, যেমন: মেডিসিন, হার্ট, ডায়াবেটিসসহ কিছু ডাক্তার থাকেন।’

কার্ড হোল্ডার থেকে ডাক্তারদের ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে দেখা যায়, বেশির ভাগই সপ্তাহে তিন দিন বা চার দিন বসেন। শুক্রবারে কেউ নেই বললেই চলে।

শুক্রবারে অসুস্থ হতে ‘মানা’

হাসপাতালে কথা হয় তাহেরা সুলতানার সঙ্গে, যিনি একসময় আইসিসিডিআর’বিতে চাকরি করতেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার জরুরি প্রয়োজন হলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। এটা শুধু আমি ফেইস করেছি, তা না; সবার সমস্যা। রোগ তো আর বার বোঝে আসে না। সাপ্তাহিক ছুটিটা চিকিৎসকরা পালাক্রমে নিলে ভালো হয়।

‘ইমারজেন্সিতে যারা থাকেন, তারা তো হঠাৎ কোনো রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হলে ওই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতো তাৎক্ষণিক সেবা দিতে পারবেন না। সেই চিকিৎসককে ফোন করে আনতেও সময় লাগবে। আমি নিজে কতবার এ রকম বিপাকে পড়েছি, ঠিক নেই।’

বেসরকারি হাসপাতালে চেম্বারের সুযোগ

একটি প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের বেতন ছাড়া চেম্বার করতে দেয়া হয়। এখানে আমরা যেভাবে ইচ্ছা যেদিন ইচ্ছা ছুটি কাটাতে পারি।’

এতে হাসপাতালের লাভ কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো চিকিৎসকদের প্রোফাইল দেখে রোগী আসে। তারা অন্য হাসপাতালে যেতে পারত, কিন্তু ভালো ডাক্তার হলে সেখানেই রোগী বেশি যায়। আর সেই হাসপাতালে ভর্তি লাগলে এবং পরীক্ষার জন্য যে অর্থ সেটা হাসপাতাল পায়।

‘বেসরকারি হাসপাতালগুলো দুই-একজন চিকিৎসককে রাখে বেতন দিয়ে। তারা সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে রোগী দেখেন। আর ছোট বেসরকারি হাসপাতালের বেশির ভাগই বেতন দিয়ে কোনো সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চেম্বার করার জন্য রাখে না। যাদের রাখে, তাদের অধিকাংশই মেডিক্যাল অফিসার।’

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ভুয়া চিকিৎসকদের সাজা বাড়াতে রুল
শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
এক দিন রোগী ভুগিয়ে কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা
বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে যে হাসপাতাল

মন্তব্য

p
উপরে