× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Fardin murder Investigation report of the case on February 14
google_news print-icon

ফারদিন হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১৪ ফেব্রুয়ারি

ফারদিন-হত্যা-মামলার-তদন্ত-প্রতিবেদন-১৪-ফেব্রুয়ারি
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ। ফাইল ছবি
বুয়েট ছাত্র ফারদিন নুর পরশ ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়া-তদন্ত করছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত।

এ মামলায় রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম শান্ত ইসলাম মল্লিকের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) খিলগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মজিবুর রহমান এতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক নতুন তারিখ ঠিক করে দেন।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়া-তদন্ত করছে।

ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের তিনদিনের মাথায় ১০ নভেম্বর তার বন্ধু আমাতুল্লাহ বুশরার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও পরিকল্পিতভাবে লাশ গোপন করার অভিযোগ এনে রামপুরা থানায় মামলা করেন ফারদিনের বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা।

ওইদিনই বুশরাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানা পুলিশ। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়। মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে যাওয়ায় রিমান্ডে বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্বও পায় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো যোগসাজশ পাননি গোয়েন্দারা। তদন্তে ফারদিনের সঙ্গে বুশরার নিছক পরিচয় ও বন্ধুত্বের তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে জামিনে আছেন বুশরা।

আরও পড়ুন:
ফারদিনের আত্মহত্যা নিয়ে ‘আপাতত’ প্রশ্ন নেই বুয়েট শিক্ষার্থীদের
ফারদিনের মৃত্যুতে বুশরার দায় নেই, অভিযোগপত্রে বলবে ডিবি
তারা কাকে বাঁচাতে চায়: ফারদিনের বাবা
বুয়েট শিক্ষার্থী সানি হত্যা মামলা: পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
ফারদিনের আত্মহত্যার বিষয়ে নিশ্চিত নন বুয়েট শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
In Sonaimuri haze surrounds the dead body of the madrasa student

সোনাইমুড়িতে মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ ঘিরে ধোঁয়াশা

সোনাইমুড়িতে মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ ঘিরে ধোঁয়াশা নিহত মাদ্রাসাছাত্র মান্নান মেহেরাজ। ছবি: সংগৃহীত
নিহত শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মারা গেছে- সিসি টিভি ফুটেজে এমনই দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সোনাইমুড়ী থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পানি থেকে তোলার সময় মরদেহের মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বস্তাবন্দি ছিল।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র খুনের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। নিহত ১৪ বছরের মান্নান মেহেরাজের মরদেহের সর্বাংশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকলেও খুনি কে, তা এখনও বের করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারকে মামলা প্রত্যাহার করতে অব্যাহত হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে নাটেশ্বর ইউনিয়নের দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার পুকুর থেকে নাজেরা বিভাগের ছাত্র মেহেরাজের মরদেহ ভেসে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহের মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বস্তাবন্দি ছিল। পঁচা-গলা মরদেহটি মাদ্রাসার মোহতামিমের নির্দেশে পুকুর থেকে তুলে আনে ছাত্ররা।

এ ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্রের পরিবার গত শুক্রবার (১৪ জুন) হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে। অপরদিকে, মাদ্রাসা রোববার (১৬ জুন) এই ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করে কর্তৃপক্ষ।

নিহতের বাবা মো. কামাল বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে শিক্ষক আহসান হাবিবকে আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন। আগামী বুধবার (২৬ জুন) এ মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত মান্নান মেহেরাজ তার নাজেরা বিভাগের শিক্ষক আহসান হাবিবকে আরেক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার করার ঘটনা দেখে ফেলে। ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে আব্দুল মান্নানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, মাদ্রাসার পুকুর থেকে মেহেরাজের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেন মোহতামিম মহিন উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে তার দাবি ছিল, এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। ছেলেটি পানিতে পড়ে মারা গেছে।

এসময় ছাত্র নিহতের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

গত শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলার উত্তর মির্জানগর মন্ত্রীর মসজিদের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন করে।

এসময় তারা উল্লেখ করেন, নাজেরা বিভাগের শিক্ষক আহসান হাবিব আরেক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার করার ঘটনা দেখে ফেলায় খুন করা হয় মান্নান মেহেরাজকে। এছাড়া গত সোমবার (১০ জুন) থেকে মেহরাজ নিখোঁজ থাকলেও তার পরিবারকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি, থানা থেকে মামলা নেয়া হয়নি। আদালতে মামলা করায় তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তবে সোনাইমুড়ী থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, মরদেহটি মাদ্রাসার পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ছেলেটি পানিতে ডুবে মারা গেছে।

নিহতের বড়ভাই মো. হানিফ বলেন, ‘পানি থেকে উদ্ধার করার পর দেখতে পাই, মেহরাজের মরদেহের ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল ক্ষতবিক্ষত। দুই পায়ের উরুতে হাতের ছাপ ও গলায় আঙুলের ছাপ রয়েছে।

তিনি জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে, সিসি টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে পানিতে ডুবে গেছে মান্নান। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা বক্তব্য দিয়েছে, এ ঘটনার একদিন আগে থেকেই মান্নান নিখোঁজ। আর নিখোঁজের ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তা তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়নি।

এছাড়া, সিসি টিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে পানিতে ডুবে পরদিন বিকেলে মরদেহ ভেসে ওঠে। মরদেহ দেখতে পেয়েও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে কিংবা নিহতের পরিবারকে কিছুই জানায়নি। পরে প্রতিবেশীর মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

অন্যদিকে, পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ‘হার্ডডিস্ক মাইজদিতে রয়েছে’ জানায়। এর দুই ঘণ্টা পর মাইজদি থেকে হার্ডডিস্ক এলে সিসি টিভি ফুটেজ দেখানো হয় পুলিশকে।

এদিকে, নিহত মাদ্রাসা ছাত্র মান্নান মেহেরাজ সাঁতার জানত বলে জানিয়েছেন তার ভাই মো. হানিফ।

আরও পড়ুন:
পরিচালকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ফুটবল খেলার ‘অপরাধে’ মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম
‘ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
ছাত্রলীগ নেতা হত্যা: মানববন্ধনে নিস্তব্ধতা, গ্রেপ্তার ১
কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Allegations of misappropriation of madrasa and orphanage money against the director

পরিচালকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

পরিচালকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এক মাস সময় নিয়েও অভিযুক্ত পরিচালক মাদ্রাসার অর্থের কোনো হিসাব দেননি বলে দাবি প্রতিষ্ঠাতার। কোলাজ: নিউজবাংলা
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর ওয়াদুদ খানের অভিযোগ, হিসাব চাওয়ায় পরিচালক আহসান হাবিব তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণ নাশের হুমকি দেন। এছাড়া আগের সকল শিক্ষক ও স্টাফদের ছাঁটাই করে তিনি তার অনুগত শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার দারুল আবরার ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর ওয়াদুদ খান।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর-বেউথা এলাকায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল ওয়াদুদ খান। প্রতিষ্ঠার পর তিন বছর পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

এরপর ২০১৫ সালে মৌখিকভাবে আহসান হাবিবকে মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনার জন্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ধীরে ধীরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের জায়গা সম্প্রসারণের জন্য মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক আহসান হাবিবের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

পরবর্তীতে, ২০১৯ সালে জমি কেনার জন্য পরিচালকের কাছে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। কিন্তু এর ফলে ওয়াদুর খানের সঙ্গে আহসান হাবিবের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও মাদ্রাসার অভিভাবকরা একাধিবার চেষ্টা করেও পরিচালক আহসান হাবিবের কাছ থেকে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব আদায় করতে পারেননি। তখন থেকে শিক্ষার্থীদের পড়লেখার কথা চিন্তা করে স্থানীয় জনিপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিরা একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

বর্তমানে মাদ্রাসায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়লেখা করে। প্রত্যেকের কাছ থেকে পড়ালেখা ও খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বাবদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা আদায় করেন মাদ্রাসার পরিচালক। এরপর মধ্যে প্রায় ৫০জন শিক্ষার্থী অর্ধেক বা বিনা বেতনে পড়ালেখা করে আসছে।

স্থানীয় মো. শাহিনুর ও হারুন অর রশিদ জানান, আব্দুর ওয়াদুদ নিজের জমির ওপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওই সময় ১৮ মাস মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিজ অর্থায়নের বেতন দিয়েছেন তিনি ও তার এক বন্ধু। মাদ্রাসাটিকে অনেক কষ্টে দাঁড় করেছেন তিনি।

তারা বলেন, বর্তমান পরিচালক আহসান হাবিব মাদ্রাসার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ভালোভাবেই সব চলছিল। তার কাছে মাদ্রাসার ফান্ডের টাকার হিসাব চাওয়ার পর থেকেই ওয়াদুদ সাহেবের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়।

তাদের দাবি, আহসান হাবিব একজন ঈমাম। শুনেছি, এর আগে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করেছেন। তিনি ঈমাম হয়ে এত টাকা কোথায় পেলেন যে, এক কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে জয়নগ এলাকায় আরেকটি মাদ্রাসার নামে জয়াগা কেনেন?

এছাড়াও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বেরসকারি হাসপাতালে তার একাধিক শেয়ার আছে দাবি করে তারা জানান, পৌরসুপার মার্কেটে দোকানও কিনেছেন তিনি।

স্থানীয় কাউন্সিলর ও মাদ্রাসা পরিচালানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, ‘মাদ্রাসার অনুদানের টাকার হিসাব আমাদের দেয়া হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেয়ার সময় মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব শূন্য ছিল। এ কারণে পরিচালক মাদ্রাসার কোনো টাকাপয়সা অন্যত্র সরিয়েছেন কি না, তা সঠিক বলতে পারছি না। পরিচালনা কমিটি কোনো রশিদের মাধ্যেমে আমাদের হিসাব বুঝিয়ে দেয় নাই, মৌখিকভাবে হিসাব দিয়েছেন।’

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর ওয়াদুদ খান জানান, ‘আল্লাহকে খুশি করার জন্য নিজের জমিতে উপার্জিত কষ্টের টাকায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠতা করেছি। প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর মৌখিকভাবে আহসান হাবিব হুজুরকে পরিচালনার দায়িত্ব দেই। তিনি এই সুযোগে মাদ্রাসার নামে আসা অনুদানের টাকা যৌথ ব্যাংক হিসাবে (ইসলামী ব্যাংক মানিকগঞ্জ শাখা) না রেখে নিজের ব্যাংক হিসাবে রাখেন। এরপর মাদ্রাসার জায়গা সম্প্রসারণের জন্য ২০১৯ সালে তার কাছে টাকা চাই এবং দীর্ঘ ৫ বছরের সমস্ত আয়-ব্যয়ের হিসাবও চাওয়া হয়। তবে এক মাসের সময় নিয়েও আজ পর্যন্ত তিনি কোনো হিসাব দেন নাই।’

তার অভিযোগ, হিসাব চাওয়ায় পরিচালক আহসান হাবিব তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণ নাশের হুমকি দেন। এছাড়া আগের সকল শিক্ষক ও স্টাফদের ছাঁটাই করে তিনি তার অনুগত শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ দিয়েছেন।

মাদ্রাসার ছাত্রদের ভবিষ্যত ও প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতির জন্য পরিচালকের নিকট থেকে হিসাব গ্রহণ এবং পরিচালককে প্রতিষ্ঠান থেকে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রতিষ্ঠাতা আবদুর ওয়াদুদ খান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহসান হাবির বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।’ এরপর ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার বলেণ, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ফুটবল খেলার ‘অপরাধে’ মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম
মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: ১১ মাস পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
এনআইডি-জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি, ইসি কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২
মানিকগঞ্জে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রী নিহত
বন্ধের মধ্যেই চলছিল ক্লাস, সতর্ক করলেন ইউএনও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Job Professor Zakir Hossain is a member of UGC

ইউজিসির সদস্য হলেন জবি অধ্যাপক জাকির হোসেন

ইউজিসির সদস্য হলেন জবি অধ্যাপক জাকির হোসেন জবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বর্তমানে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ এর যুগ্মসচিব নুমেরী জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১০/৭৩)-এর সংশোধিত আইন, ১৯৯৮-এর ৪ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকাকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে চার শর্তে তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শর্তগুলো উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।

অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বর্তমানে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

এর আগে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহেরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই গত মার্চে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এরপর থেকেই ইউজিসির এই পদটি ফাঁকা হয়।

আরও পড়ুন:
জবি কর্মচারীদের ৩ মাসের মধ্যে ক্যাম্পাসের আবাসস্থল ছাড়ার নির্দেশ
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিল চান জবি শিক্ষকরাও
মধ্যরাতে জবির মসজিদে নারী, ইমামকে অব্যাহতি
ক্যানসারের কাছে হার মানলেন জবি অধ্যাপক
শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three students were beaten and injured in madrasa for playing football

ফুটবল খেলার ‘অপরাধে’ মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম

ফুটবল খেলার ‘অপরাধে’ মাদ্রাসায় তিন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম শিক্ষকের বেত্রাঘাতে জখম শিক্ষার্থী নাইম। ছবি: নিউজবাংলা
ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঝালকাঠির বাসন্ডা এলাকার নেছারাবাদ এনএস কামিল মাদ্রাসায় ফুটবল খেলার কারণে তিন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে মো. সালাহ উদ্দিন নামের ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক।

নেছারাবাদ মাদ্রাসার তাহেলি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

আহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার মিজানুর রহমানের ছেলে হাবিবুল্লাহ, পটুয়াখালীর ছোট দিঘাই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে রুবায়েত এবং ভোলা জেলা সদরের চরনোয়াবাদ গ্রামের মাহমুদ হাসানের ছেলে ইয়াসিন হাসান নাইম। তাদের সবার বয়স ১৬ বছর। এদের মধ্যে ইয়াসিন হাসান নাইম গুরুতর আহত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আহতদের সহপাঠিরা বলে, মাদ্রাসার তাহেলী আবাসিক বিভাগের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ, রুবায়েত ও নাইম। সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে বাইরে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল তারা। খেলা শেষে মাদ্রাসায় ফিরলে শিক্ষক মো. সালাহ উদ্দিন তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ফুটবল খেলার অপরাধে তাদের বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে নাইমের সমস্ত শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। এরপর শিক্ষকরা তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার দুপুরে তাদের ডেকে নিয়ে সালাহ উদ্দিন হুজুর বেত দিয়ে মারতে শুরু করেন। অনেক অনুনয় আর কাকুতি-মিনতি করলেও মন গলেনি তার।

এদিকে, আহত শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে এমন বর্বরোচিত নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবি জানান অনেকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: ১১ মাস পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
নওগাঁয় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় শিক্ষক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Outsider women 5 students injured by knife in Gaibandha school

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ছুরি হাতে বহিরাগত নারী, ৫ শিক্ষার্থী আহত

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ছুরি হাতে বহিরাগত নারী, ৫ শিক্ষার্থী আহত ছুরির আঘাতে আহত শিশু শিক্ষার্থীদের সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের একজন সেতু ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, ‘বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়েছে মাত্র। আমরা তখনও ক্লাসে যাইনি। এ সময় হঠাৎ ওই মহিলা ছুটে এসে চাকু (ছুরি) দিয়ে আমাদের আঘাত করতে থাকে। এতে আমার বাম হাত কেটে যায়। এক ক্লাসমেটের পিঠে এবং আরেকজনের পা ও মাথায় ছুরি মারা হয়েছে। আরও দুজনকে আঘাত করেছে ওই মহিলা।’

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের জামালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক বহিরাগত এক নারী ছুরি হাতে প্রবেশ করে শিশু শিক্ষার্থীদের ছুরিকাঘাত করেছে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে ভর্তি তিন শিক্ষার্থী হল সেতু, মিতু ও রাবেয়া। ষষ্ঠ শ্রেণির এই তিন ছাত্রীর মধ্যে ছুরিকাঘাতে সেতুর বাম হাত, মিতুর পিঠ ও রাবেয়ার দুই পা ও মাথায় জখম হয়েছে। আহত অপর দুই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ওই নারীর নাম জান্নাতী আক্তার। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণী উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের আশিক মিয়ার স্ত্রী।

কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেন যে ওই তরুণী মানসিক ভারসাম্যহীন।

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ছুরি হাতে বহিরাগত নারী, ৫ শিক্ষার্থী আহত
হামলাকারী নারীকে আটকের পর পুলিশ এসে থানায় নিয়ে যায়। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন ওই নারী হঠাৎ করেই ছুরি হাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থানরত পাঁচ শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।

আহতদের চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ওই নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের একজন সেতু ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, ‘বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়েছে মাত্র। আমরা তখনও ক্লাসে যাইনি। এ সময় হঠাৎ ওই মহিলা আমাদের দিকে ছুটে এসে চাকু (ছুরি) দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এতে আমার বাম হাত কেটে যায়। আমার আরও এক ক্লাসমেটের পিঠে এবং আরেকজনের পায়ে ও মাথায় ছুরি মারা হয়েছে। এছাড়া আরও দুজনকে আঘাত করেছে ওই মহিলা।’

অভিভাবক আবুল কালাম (খোকা) বলেন, ‘বিদ্যালয়ে একজন নারী প্রবেশ করে ছাত্রীদের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করেছে। আমরা অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। ঘটনাটি আরও বড় হতে পারত। এসব বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমজারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

সাদুল্লাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম (শফিক) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে একটি দেশীয় ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

হামলাকারী মানসিক ভারসাম্যহীন কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনই সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Human chain in Jabi to protest against the restoration of quota system

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাবির শহীদ মিনার-সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং উভয়ের চাওয়াই এক। আজকের আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও এই কোটার বিরুদ্ধে কথা বলছে। দেশের যেকোনো অন্যায় রায়কে এদেশের শিক্ষাথীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেমনি কোটা নিয়ে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালে বাতিল হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনরায় বহাল করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সাধারণ সভা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার-সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তরা কোটা পুনর্বহালে আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কোটা প্রদান করা হয় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে তোলার জন্য, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ইতোমধ্যে অনেকেই সরকারি চাকরিতে রয়েছেন। এই কোটা পদ্ধতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে এবং অযোগ্যদের হাতে প্রতিনিয়ত দেশকে তুলে দিচ্ছে। এই রায়ের মাধ্যমে তারা নতুনভাবে পাকিস্তান আমলের বৈষম্যপ্রথা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে। আবারও মুক্তিযোদ্ধা কোটা নামে নতুন বৈষম্যের সূচনা করেছে। সরকারি চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা রাখা রীতিমতো মেধাশূন্য দেশ গড়ার পায়তারা ছাড়া কিছুই নয়।

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। অথচ আজকে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাইকোর্ট কোটার পক্ষে রায় দিয়েছে।

‘মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, এই কোটার রায়কে সবাই প্রত্যাখান করেছে। ২০১৮ সালের আন্দোলনে যে কোটা বাতিল করা হয়েছে, আদালতের এই রায়কেও আন্দোলনের মাধ্যমে একইভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। যে রায়কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেটা কখনও বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা মেহের আফরোজ শাওলী বলেন, ‘কোটা সমতা সৃষ্টির জন্য, কিন্তু সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা মেধাবীদের অবমূল্যায়ন। এ কোটাব্যবস্থা রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে সমতার পরিবর্তে অসমতার সৃষ্টি করবে। তাই অবিলম্বে এই রায় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে কোটা বিলুপ্ত করতে হবে।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং উভয়ের চাওয়াই এক। আজকের আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও এই কোটার বিরুদ্ধে কথা বলছে। দেশের যেকোনো অন্যায় রায়কে এদেশের শিক্ষাথীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেমনি কোটা নিয়ে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রসঙ্গত, বুধবার (৫ জুন) সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের করা এক রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
কোটা বহালে আদালতের রায়, ঢাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
80 percent of university students suffer from depression survey

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশই হতাশায় ভুগছেন: জরিপ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশই হতাশায় ভুগছেন: জরিপ জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশেরই আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় এসেছে। প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত
আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই হতাশার মধ্যে দিয়ে কাটান বলে আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে উঠে এসেছে। হতাশার বিভিন্ন উপসর্গ, যেমন: ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, কোনো কিছু উপভোগ না করা, ঘুমের ধরনের পরিবর্তন, আত্মহত্যার চিন্তা, কাজে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ’ শীর্ষক সমীক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত করা এ জরিপে সারা দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

হতাশার উপসর্গ তুলনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী আগের তুলনায় বেশি সময় হতাশার উপসর্গ নিজের মাঝে অনুভব করেছেন। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বিষণ্ণতার উপসর্গগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বাকি ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের মাঝে হতাশার উপসর্গ দেখা যায়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা হতাশার উপসর্গগুলো অনুভব করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এই ধরনের উপসর্গের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা

এদিকে, ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের হতাশার বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে জরিপে। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। বিভিন্ন কারণে নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার কারণে হতাশায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেয়া মোট শিক্ষার্থীর ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, হল বা আবাসিক পরিবেশ নিয়ে ৯ শতাংশ, সহপাঠী বা শিক্ষকের দ্বারা বুলিংয়ের কারণে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং উপর্যুক্ত সবগুলো কারণের জন্য ১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা অন্যান্য কারণে হতাশায় ভুগছেন।

এদের মধ্যে সহপাঠী, সিনিয়র কিংবা শিক্ষকের দ্বারা ক্যাম্পাসে শারীরিক বা মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন ৩১ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী; যার মাঝে বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হননি ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিভিন্ন ধরনের হয়রানিতে আক্রান্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহপাঠী বা সিনিয়র দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ, শিক্ষক কর্তৃক ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, স্টাফ কর্তৃক ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং অন্যান্যদের দ্বারা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়েছন।

হয়রানির ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর, মোটামুটি প্রভাব পড়েছে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর এবং কোনোরূপ প্রভাব পড়েনি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে পুরোপুরি অসন্তুষ্ট ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, মোটামুটি সন্তুষ্ট ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং পুরোপুরি সন্তুষ্ট মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

নিজেকে প্রকাশ

জরিপের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা মন খুলে কথা বলার মত কোনো শিক্ষক পাননি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা খুব সহজে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ৪১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভাগের অন্যান্য সদস্যদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

হলের পরিবেশ

হলের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা পুরোপুরি অসন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কথা বলেছেন মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকিরা জানিয়েছেন তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট।

অসন্তুষ্টির কারণ হিসেবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকার পরিবেশকে দায়ী করেছেন। অনুন্নত খাবারকে দায়ী করেছেন ৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগার সংকট মনে করছেন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং সবগুলো কারণকেই দায়ী করছেন ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়াও ১০ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্যান্য কারণকে অসন্তুষ্টির জন্য দায়ী করছেন। ৭০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, হলের পরিবেশ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যারিয়ার ভাবনা

জরিপের তথ্যানুসারে, ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরি করতে চান, ৯ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি চাকরি করতে চান।

বাকি শিক্ষার্থীরা এখনও কোনোরূপ ক্যারিয়ার ভাবনা ঠিক করেননি, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২২ শতাংশ।

আত্মহত্যার প্রবণতা

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তায় এসেছে, কিন্তু আত্মহত্যার চেষ্টা করেননি ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তা এসেছে ও উপকরণও জোগাড় করেছেন ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং কখনও মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসেনি ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা এসেছে। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশায়, ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানের ফলে, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রেমঘটিত বিষয়ে, ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে, অন্যরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করার চিন্তা মাথায় এসেছে বলে জানিয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিপক্ষে মত দিয়েছেন। আর ২৬ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা এ সম্পর্কে জানেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির দূরীকরণে সংগঠনটি বেশকিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।

এগুলো হলো- ক্যাম্পাসে কাউন্সিলিং ইউনিটের ব্যবস্থা করা, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা, ক্যাম্পাসে কেউ যেন বুলিং এর শিকার না হয় তা মনিটরিং করা, নিরাপদ বাসস্থান ও উন্নতমানের খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা।

এ ছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্মান ও আস্থার সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করানো; মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা; সেমিনার ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা; মনোবিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের এসব সেশনে বিভিন্ন সমস্যা ও এগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো এবং দেশের সব স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ), এডুকেশনাল কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫১ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ১৬ শতাংশ, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫৪ জন (১৬ দশমিক ২ শতাংশ), তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৬৯ জন (২৩ দশমিক ৪ শতাংশ), চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪০ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ), মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪১ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং সদ্য গ্র্যাজুয়েট ছিলেন ১৫ জন (এক শতাংশ)।

আরও পড়ুন:
কিউএস র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫৪তম
এশিয়ার সেরা তিনশ’র তালিকায় নেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য

p
উপরে