× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
People wont ride Metrorail if they understand the cost Tuku
hear-news
player
google_news print-icon

খরচের বিষয়টি বুঝলে মানুষ মেট্রোরেলে চড়বে না: টুকু

খরচের-বিষয়টি-বুঝলে-মানুষ-মেট্রোরেলে-চড়বে-না-টুকু
বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনে বিএনপির ১০ দফা এবং রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা নিয়ে আলোচনা হয়
বিএনপি নেতা টুকু বলেন- বিদ্যুতের দাম এমনভাবে বেড়েছে যে, শতকরা ১০০ জন মানুষ এর বিপক্ষে চলে গেছে। একটা সময় আসবে যখন বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে বিদ্যুৎ থাকবে, তবে ব্যবহারের মানুষ থাকবে না।

সরকার বিভিন্ন উপায়ে খরচ বাড়াচ্ছে, এর প্রভাবে সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘মানুষ না বুঝেই মেট্রোরেলে চড়ছে। তবে কিছুদিন পর আর মানুষ মেট্রোরেলে ওঠার শখ করবে না।

কারণ কোলকাতায় মেট্রেরেলে যে খরচ, বাংলাদেশে তার চেয়ে অনেক বেশি। এখন মানুষ বিনোদনের জন্য শিশু পার্কের মতো ঘুরছে। তবে কিছুদিন পর যখন খরচের বিষয়টি বুঝতে পারবে, তখন আর ওই ট্রেনে কেউ যাতায়াত করবে না।’

বুধবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুরে নিজ বাসভবনে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা এবং রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক এ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম এমনভাবে বেড়েছে, যে শতকরা ১০০ জন মানুষ এর বিপক্ষে চলে গেছে। একটা সময় আসবে যখন বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ থাকবে কিন্তু দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মানুষ থাকবে না।’

টুকু আরো বলেন, ‘ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে সরকার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হানা দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ যেভাবে আমাদের প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশ ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে তাতে প্রমাণ হয় জনগণ সর্বাত্মকভাবে আমাদের বিএনপির সঙ্গে আছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠ নির্বাচন হতে পারে না। মাঠ প্রশাসনকে দলীয় করণের মধ্যে দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন মানুষ দেখেছে। তাই নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ১০ দফা দিয়েছি, সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। কেন দিতে হবে তা ১০ দফার মধ্যে উল্লেখ আছে। এছাড়া ২৭ দফা দিয়েছি রাষ্ট্রকে মেরামত করতে। বর্তমান সরকার যে রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে ফেলেছে, সেটা মেরামত করার জন্যই আমাদের ২৭ দফা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমাদের কী দেবে এই প্রশ্ন জনগণের মনে আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এই ২৭ দফায় আছে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা, সহযোগী সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ থানা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকেরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ আমলে চাকরি হারানো পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ দেবে বিএনপি
আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে রিকশাচালকের মৃত্যু
স্মার্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন ধোঁকা: নজরুল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
BNP leaders and activists are gathering at the gathering place in Khulna

খুলনায় বিএনপির সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা

খুলনায় বিএনপির সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা খুলনায় বিএনপির সমাবেশস্থলে সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম বলেন, ‘রাত ১১টা থেকে এখানে নেতা-কর্মীরা আসা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও চলে এসেছে। বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে নেতা-কর্মীরা আসছে। আশা করি আজকে খুলনাতে জনতার ঢল নামবে।’

খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশস্থলে দলে দলে মিছিল নিয়ে আসছেন নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া সমাবশস্থলে চলে এসেছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। মঞ্চ তৈরির কাজ রয়েছে প্রায় শেষ পথে।

খুলনা মহানগরীর কে ডি ঘোষ রোডের কেসিসি মার্কেট ও জেলা পরিষদ ভবনের সামনে দুপুরের পর শুরু হবে আনুষ্ঠিক সমাবেশ।

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম বলেন, ‘রাত ১১টা থেকে এখানে নেতা-কর্মীরা আসা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও চলে এসেছে। বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে নেতা-কর্মীরা আসছে। আশা করি আজকে খুলনাতে জনতার ঢল নামবে।’

তিনি বলেন, ‘সমাবেশের জন্য আমরা সোনালি ব্যাংক চত্বর অথবা শহীদ হাদিস পার্কের যেকোনো একটি জায়গায় চেয়েছিলাম। তা না দিয়ে আমাদের কেসিসি মার্কেটের কাছে জায়গা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে আমরা মাইক টানানো ও রাত থেকে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেছি। এখন সব কাজ প্রায় শেষের পথে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কণ্ডু, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান, সহ-তথ্য সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান, সহ-ধর্ম সম্পাদক অমলেন্দু দাস।

এ ছাড়া বিভাগের ১০ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা।

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বয়াক কমিটির সদস্য (মিডিয়া সেলের দায়িত্বে) মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি, আওয়ামী সরকারের দমন পীড়ন, আওয়ামী সন্ত্রাস নির্যাতনের প্রতিবাদ, বিদ্যুৎ গ্যাস ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের সকল বিভাগীয় সদরে এই সমাবেশ পালন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সপ্তাহব্যাপী খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া। জেলায় জেলায় হাট-বাজার, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আজকের সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আসবে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি
উপনির্বাচনে ভোটার নিয়ে ফখরুলের বক্তব্য বানোয়াট: কাদের
উপনির্বাচনে ৫ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি: ফখরুল
গণফোরাম ও পিপলস পার্টিকে নিয়ে বিএনপির বৈঠক
খুলনায় সমাবেশ নিয়ে অনুমতির অপেক্ষায় বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sylhet and Khulna counter rally fear of conflict

সিলেট ও খুলনায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, সংঘাতের শঙ্কা

সিলেট ও খুলনায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, সংঘাতের শঙ্কা
সিলেট ও খুলনায় একই দিনে একই নগরীতে বিভাগীয় সমাবেশ ও শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, সরকারের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিবাদ; বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের সব বিভাগীয় সদরে শনিবার সমাবেশ করছে বিএনপি।

এদিকে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সিলেট ও খুলনায় একই দিনে একই নগরীতে শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সিলেটে রেজিস্ট্রি মাঠে বিএনপি ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে। আর খুলনায় আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করবে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে। কেসিসি মার্কেটের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।

দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সিলেট

সিলেটের রাজপথে নিজেদের শক্তি দেখাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই দল শনিবার দুপুরে নগরের পৃথক স্থানে কর্মসূচি দিয়েছে। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল দুটি এর মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে চাইছে।

জানা যায়, প্রায় ৫ বছর পর একই দিনে পৃথক কর্মসূচি নিয়ে সিলেটের রাজপথে মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এর আগে সবশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটে মুখোমুখি হয় তারা। ওইদিন খালেদা জিয়ার সাজার রায়কে কেন্দ্র করে ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন অনেকে। এরপর উভয় দল নানা ইস্যূতে রাজপথে সরব থাকলেও কখনও মুখোমুখি হয়নি।

তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি না থাকলেও গত বছরের ৬ নভেম্বর রাতে জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামাল হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নগরের রিকাবীবাজারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

শনিবার ‘বিভাগীয় সমাবেশ’ ও ‘শান্তি সমাবেশ’-এর মাধ্যমে আবার রাজপথে মুখোমুখি হচ্ছে দুদল। দীর্ঘদিন পর একই দিনে দুই দলের কর্মসূচির কারণে সংঘাতের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে দুই দলের নেতাদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে সমাবেশ।

‘আওয়ামী সন্ত্রাস, সরকারের দমন-নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে, বিরোধী দলের গ্রেপ্ততারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা’ দাবিতে গত জানুয়ারিতেই সিলেটসহ সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা দেয় বিএনপি। শনিবার বেলা ২টায় সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে এই সমাবেশ শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান।

সমাবেশ সফলে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটজুড়ে কর্মিসভা, পথসভা, জনসংযোগের মাধ্যমে সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের চেষ্টা করছেন তারা। সমাবেশের বিষয়টি অবহিত করে দলটির পক্ষ থেকে মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে চিঠিও দেয়া হয়েছে।

এই সমাবেশ সফলে নগরের ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার প্রস্তুতি সভা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিএনপি আহূত বিভাগীয় সমাবেশ ইতিহাস সৃষ্টি করবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুধু জাতীয়তাবাদী শক্তি নয়, গণতন্ত্রকামী সিলেটবাসীর মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সূচনা হয়েছে। সিলেটবাসী সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সমাবেশ সফলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

অপরদিকে একই দিনে সিলেটে ‘শান্তি সমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রথমে এই সমাবেশ বিএনপির সমাবেশস্থল রেজিস্ট্রি মাঠে করার ঘোষণা দেয় দলটি। পরে স্থান পরিবর্তন করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিকেল ৩টায় এই সমাবেশ শুরু হবে। শান্তি সমাবেশ সফলেও প্রচার চালাচ্ছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এই সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি।

শান্তি সমাবেশ সফল করতে বৃহস্পতিকার সন্ধ্যায় প্রস্তুতি সভা করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ। এতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে স্ব স্ব ওয়ার্ড থেকে মিছিল সহকারে সমাবেশে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়।

সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও অগ্নি-সন্ত্রাস রুখে দিতে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে। কোনোভাবেই তাদেরকে সাধারণ মানুষের জান-মালের ক্ষতি করার সুযোগ দেয়া হবে না।’

দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আর ব্যাপক শো-ডাউনের প্রস্তুতির কারণে হঠাৎ করেই সিলেটের রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে উত্তাপ। উঁকি দিচ্ছে সংঘাতের শঙ্কাও।

তবে বিএনপি শান্তিুপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চায় জানিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘সিলেটের রাজনীতিতে সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা আশাবাদী এটা কেউ নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। যার যার কর্মসূচি যার যার মতো করে পালন করবেন। তবে কোনো প্রতিবন্ধকতা এলে তা জয় করে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশ সফল করবে। আমরা সেরকম প্রস্তুতি নিয়েছি।’

বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করলে সংঘাত হবে না জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পক্ষে। রাজনৈতিক সহাবস্থানের পক্ষে। তাই আমরা উদারতা দেখিয়ে নিজেদের কর্মসূচির স্থানও পরিবর্তন করেছি। এখন বিএনপি যদি বিশৃঙ্খলা না করে তবে আমাদের শান্তি সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে।’

দুই দলের পৃথক কর্মসূচির কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশও। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল থেকেই নগরে অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। নগরের সব মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নগরের প্রবেশপথগুলোতে পেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’

খুলনা

খুলনা নগরীর কেসিসি মার্কেটের সামনে ‘বিভাগীয় সমাবেশ’ আয়োজনে প্রস্তুতি সেরেছে বিএনপি। একই দিনে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে ‘শান্তি সমাবেশ’ করবে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। দুই দলের নেতাদের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, একই দিনে ও সময়ে নগরীতে দুই দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কথা মাথায় নিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, শনিবার বিকেল ৩টায় শিববাড়ি মোড়ে তাদের শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানার পরিচালনায় ওই বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

মেয়র খালেক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এই শান্তি সমাবেশকে জনসতায় পরিণত করে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। খুলনায় শান্তি সমাবেশের কথা শুনে বিএনপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে তারা নানাবিধ ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করেছে।

বিএনপির এ ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়া যাবে না। বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবেলা করতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ জানান, শান্তি সমাবেশে সফল করার জন্য তাদের নানমুখী প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন ও আওয়ামী সন্ত্রাস-নির্যাতনের প্রতিবাদ; বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের সব বিভাগীয় সদরে এই সমাবেশ পালন করবে।

খুলনা মহানগর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে শহীদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন কেসিসি মার্কেটের সামনে তারা সমাবেশ করবে। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে সমাবেশের জন্য সোনালী ব্যাংক চত্বর বা শহীদ হাদিস পার্ক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) থেকে বিএনপিকে কেসিসি মার্কেটের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অনুম‌তি পাওয়ার পর সমাবেশস্থলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে মাইক টানানো শুরু করে বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, কেসিসি মার্কেট ও জেলা পরিষদের সামনের সড়কে থানার মোড় অভিমুখী মঞ্চ হচ্ছে। খুলনা মহানগর ও জেলাসহ বিভাগের অন্য সব জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেবেন।’

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ ঘিরে পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি ও হয়রানি করছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ আহ্বান করেছে। ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তাই খুলনায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করা হবে। সমাবেশে খুলনা বিভাগের বিএনপি, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি সংবলিত লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হয়েছে।’

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (মিডিয়া সেলের দায়িত্বে) মিজানুর রহমান মিল্টন জানান, খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিভাগীয় সাংগঠনিক (ভারপ্রাপ্ত) সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ অন্যরা।

খুলনা সদর থানার ওসি হাসান আল-মামুন বলেন, ‘শনিবার যেহেতু দুই দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, তাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের একাধিক ইউনিটের পাশাপাশি সিভিল পোশাকে গোয়েন্দারা শহরের গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোতে বস্থান করবেন। তেমন কোনো ঝামেলা হবে না আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি
খুলনায় সমাবেশ নিয়ে অনুমতির অপেক্ষায় বিএনপি
বিশেষ অভিযানের নামে বিরোধী নেতা-কর্মীদের ধরা হচ্ছে: মোশাররফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh is the wonder of the world on the path of development and prosperity PM

বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বিশ্বের বিস্ময়: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বিশ্বের বিস্ময়: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৪ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বিশ্বের বিস্ময়।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বিশ্বের বিস্ময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘রাজস্ব সম্মেলন’ উপলক্ষে শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বাসস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৪ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বিশ্বের বিস্ময়।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আমরা দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১) বাস্তবায়ন করছি এবং একটি সমৃদ্ধ রাজস্বভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর প্রাধান্য দিচ্ছি। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, যুগোপযোগী ও জনবান্ধব রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৩’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনে আনন্দিত। একই সময়ে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত রাজস্ব ভবনের উদ্বোধন হচ্ছে, যা রাজস্ব সম্মেলনকে আরো অর্থবহ এবং স্মরণীয় করে রাখবে। এই শুভক্ষণে তিনি দেশের জনগণ, করদাতা, রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মহান স্বাধীনতার পর অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানের ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। তাই অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থা সুসংহত করার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় নির্বাহ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনয়নে এনবিআরের গুরুত্ব অপরিসীম।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শিগগিরৈই এলডিসি হতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে এনবিআর রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে ‘লক্ষ্যমাত্রা ১৭.২’ বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি চমৎকার উদ্যোগ; একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস। এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্র বৃদ্ধি পাবে। রাজস্ব সম্মেলনের মাধ্যমে কর আহরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠবে এবং তা উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সকলে সততা, এক্যগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিকসহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নানাবিধ বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক এই প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আরো উদ্যমী হয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশা করেন। প্রধানমন্ত্রী ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৩’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

আরও পড়ুন:
কৃচ্ছ্র সাধনে দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের
দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে: প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League BNP face off in Sylhet

সিলেটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি

সিলেটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি
শনিবার সিলেট শহরের রেজিস্ট্রি মাঠে বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। একই দিন সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এর মধ্য দিয়ে আবার রাজপথে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এর ফলে দেখা দিয়েছে সংঘাতের শঙ্কা।

সিলেটের রাজপথে নিজেদের শক্তি দেখাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই দল শনিবার দুপুরে নগরের পৃথক স্থানে কর্মসূচি দিয়েছে। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল দুটি এর মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে চাইছে।

জানা যায়, প্রায় ৫ বছর পর একই দিনে পৃথক কর্মসূচি নিয়ে সিলেটের রাজপথে মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এর আগে সবশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটে মুখোমুখি হয় তারা। ওইদিন খালেদা জিয়ার সাজার রায়কে কেন্দ্র করে ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন অনেকে। এরপর উভয় দল নানা ইস্যূতে রাজপথে সরব থাকলেও কখনও মুখোমুখি হয়নি।

তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি না থাকলেও গত বছরের ৬ নভেম্বর রাতে জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামাল হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নগরের রিকাবীবাজারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

শনিবার ‘বিভাগীয় সমাবেশ’ ও ‘শান্তি সমাবেশ’-এর মাধ্যমে আবার রাজপথে মুখোমুখি হচ্ছে দুদল। দীর্ঘদিন পর একই দিনে দুই দলের কর্মসূচির কারণে সংঘাতের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে দুই দলের নেতাদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে সমাবেশ।

‘আওয়ামী সন্ত্রাস, সরকারের দমন-নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে, বিরোধী দলের গ্রেপ্ততারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা’ দাবিতে গত জানুয়ারিতেই সিলেটসহ সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা দেয় বিএনপি। শনিবার বেলা ২টায় সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে এই সমাবেশ শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান।

সমাবেশ সফলে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটজুড়ে কর্মিসভা, পথসভা, জনসংযোগের মাধ্যমে সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের চেষ্টা করছেন তারা। সমাবেশের বিষয়টি অবহিত করে দলটির পক্ষ থেকে মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে চিঠিও দেয়া হয়েছে।

এই সমাবেশ সফলে নগরের ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার প্রস্তুতি সভা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিএনপি আহূত বিভাগীয় সমাবেশ ইতিহাস সৃষ্টি করবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুধু জাতীয়তাবাদী শক্তি নয়, গণতন্ত্রকামী সিলেটবাসীর মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সূচনা হয়েছে। সিলেটবাসী সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সমাবেশ সফলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

অপরদিকে একই দিনে সিলেটে ‘শান্তি সমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রথমে এই সমাবেশ বিএনপির সমাবেশস্থল রেজিস্ট্রি মাঠে করার ঘোষণা দেয় দলটি। পরে স্থান পরিবর্তন করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিকেল ৩টায় এই সমাবেশ শুরু হবে। শান্তি সমাবেশ সফলেও প্রচার চালাচ্ছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এই সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি।

শান্তি সমাবেশ সফলে বৃহস্পতিকার সন্ধ্যায় প্রস্তুতি সভা করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ। এতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে স্ব স্ব ওয়ার্ড থেকে মিছিল সহকারে সমাবেশে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়।

সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও অগ্নি-সন্ত্রাস রুখে দিতে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে। কোনোভাবেই তাদেরকে সাধারণ মানুষের জান-মালের ক্ষতি করার সুযোগ দেয়া হবে না।’

দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আর ব্যাপক শো-ডাউনের প্রস্তুতির কারণে হঠাৎ করেই সিলেটের রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে উত্তাপ। উঁকি দিচ্ছে সংঘাতের শঙ্কাও।

তবে বিএনপি শান্তিুপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চায় জানিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘সিলেটের রাজনীতিতে সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা আশাবাদী এটা কেউ নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। যার যার কর্মসূচি যার যার মতো করে পালন করবেন। তবে কোনো প্রতিবন্ধকতা এলে তা জয় করে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশ সফল করবে। আমরা সেরকম প্রস্তুতি নিয়েছি।’

বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করলে সংঘাত হবে না জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পক্ষে। রাজনৈতিক সহাবস্থানের পক্ষে। তাই আমরা উদারতা দেখিয়ে নিজেদের কর্মসূচির স্থানও পরিবর্তন করেছি। এখন বিএনপি যদি বিশৃঙ্খলা না করে তবে আমাদের শান্তি সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে।’

দুই দলের পৃথক কর্মসূচির কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশও। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল থেকেই নগরে অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। নগরের সব মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নগরের প্রবেশপথগুলোতে পেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মরণযাত্রা না, আওয়ামী লীগের শোকযাত্রা: গয়েশ্বর
আন্দোলনের পরবর্তী সময় ও স্থান জানাল বিএনপি
নাশকতার মামলায় বিএনপির ৪২ নেতা-কর্মীর জামিন
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে রাজশাহীতে বিশেষ ট্রেন
জিততে পারবে না জেনে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির টালবাহানা: হাছান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Development will continue as long as Sheikh Hasina is in power Health Minister

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যতদিন, উন্নয়নও ততদিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যতদিন, উন্নয়নও ততদিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন আসছে। শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছেন, ততদিন দেশে শান্তি-সমৃদ্ধি, উন্নয়ন আছে। দেশের মানুষ পিছিয়ে যেতে চায় না, বিএনপির অন্ধকার যুগে, বোমার যুগে যেতে চায় না। আমরা আশা করবো, জনগণ আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটের শেখ হাসিনার দলকে, শেখ হাসিনার পার্থীকে জয় লাভ করাবে।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা যতদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন দেশের উন্নয়নের ধারাও ততদিন বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এই ধারা বজায় রাখতে মানুষ আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দেবে বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন এবং চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন আসছে। শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছেন, ততদিন দেশে শান্তি-সমৃদ্ধি, উন্নয়ন আছে। দেশের মানুষ পিছিয়ে যেতে চায় না, বিএনপির অন্ধকার যুগে, বোমার যুগে যেতে চায় না। আমরা আশা করবো, জনগণ আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটের শেখ হাসিনার দলকে, শেখ হাসিনার পার্থীকে জয় লাভ করাবে।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারকে বিএনপি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চায়। কিন্তু বিএনপি জানে না, আওয়ামী লীগ ইস্পাতের সরকার। এখানে হাত দিলে হাত কেটে যাবে। কারণ জনগণের জন্য যারা কাজ করে, জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘চক্ষু রোগীরা বিনামূল্যে চোখ অপারেশন ও চোখের লেন্স পাচ্ছেন। রোগীদের যে লেন্স দেয়া হচ্ছে, তার প্রতিটি লেন্সের দাম ২০-৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ পাবেন এবং রোগীদের থাকা খাওয়ার ফ্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া, স্বাস্থ্য সেবার উন্নতি করা এবং দেশের মানুষকে ভালো ও শান্তিতে রাখা আওয়ামী লীগের কাজ। কারণ আমরা মনে করি দেশের মানুষকে ভালো রাখা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। এই রাজনীতি আমরা করতে চাই।’

বিএনপির সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বিনামূল্যে মানুষের চোখের অপারেশন করে ও চোখের লেন্স পরায়। আর বিএনপির গ্রেনেড হামলায় বহু মানুষের চোখ উঠে গেছে, চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। বিএনপি মানুষের চোখের আলো ছিনিয়ে নেয় আর আওয়ামী লীগ মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেয়।’

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন এবং চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিনামূল্যে চক্ষু সেবার মাধ্যমে প্রায় ৮ শ লোক নতুন করে চোখের আলো পাবেন। অপারেশন ছাড়া এর আগে প্রায় ৪ হাজার চক্ষু রোগীকে বিভিন্ন চিকিৎসা এবং ৫ হাজার চশমা দেয়া হয়েছে। আগামীতেও মানিকগঞ্জবাসির জন্য বিনামূল্যে চক্ষু সেবার ব্যবস্থা করা হবে।

এ সময় ন্যাশনাল আই কেয়ার এর লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী, কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন মো. মোয়াজ্জেম আলী চৌধুরী খান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কিনলে শাস্তি
চলতি শীতে নিপা ভাইরাসে ৮ জনের মধ্যে ৫ জনই মারা গেছেন
হাসপাতালেই চেম্বার করতে পারবেন চিকিৎসকরা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Suspect of sabotage arrested again from jail

জেলে থেকেও নাশকতার আসামি, ফের গ্রেপ্তার

জেলে থেকেও নাশকতার আসামি, ফের গ্রেপ্তার এইচ এম আসলাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা মহানগর বিএনপির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আসলাম হোসেনকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। অথচ যে সময়ের ঘটনার অভিযোগে ওই মামলা হয়েছে সে সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। অথচ যেদিনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এই নাশকতার অভিযোগ, সেদিন তিনি ছিলেন পুলিশের হেফাজতে।

তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই দিন তিনি ঘটনাস্থলে তো ছিলেই না, ছিলেন অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে পুলিশের জিম্মায়। এই বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে খুলনা সদর থানা এলাকায় আহসান আহমেদ রোডে নিজের ছেলেকে কোচিং সেন্টারে দিতে এসে গ্রেপ্তার হন এইচ এম আসলাম হোসেন। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে পুলিশ বাদী একটি মামলার অজ্ঞাত আসামির তালিকায় ফেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা সূত্র জানায়, এইচ এম আসলাম হোসেনকে ৪ ডিসেম্বর সদর থানায় পুলিশের করা এক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেছিলেন সদর থানার এস আই মো. শাহিন কবির। তাতে ৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যাদের মধ্যে ৩৮ জন এজাহারনামীয় ও বাকিরা অজ্ঞাত।

ওই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ৩ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে খুলনার লোয়ার যশোর রোডের বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের দক্ষিণ পাশের গেটের সামনে এই মামলার আসামিরা সারাদেশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কেপিআই ধ্বংস ও নাশকতার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ও ককটেল বোমা নিয়ে সমবেত হন। সেখান থেকে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি স্টিলের রামদা, একটি কাঠের বাতা ও তিনটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাকিদেরকে মামলার আসইম করা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, এসব আসামি বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ করার জন্য নাশকতার যড়যন্ত্র করছিল।

মামলাটি ১৯৭৪ সালের দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের ১৫(৩)/২৫-ডি ও ১৯০৮ সালের দ্য এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্স অ্যাক্টের ৪ ধারায় রেকর্ড করেছিলেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ ডিসেম্বর দুপুরে খুলনা সদর থানা এলাকা থেকে এইচ এম আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়ে তাকে গত বছরের ২৬ মে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আটক করে পরদিন সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

খুলনার জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদেরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নথিপত্র দেখে নিশ্চিত করেন যে ৪ ডিসেম্বর এইচ এম আসলাম অন্য এক মারামারির মামলায় জেলে ছিলেন। ১৫ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এ ব্যাপারে খুলনা সদর থানা পুলিশের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে ঘটনাটি জানতে পেরে কোর্ট পুলিশের কাছে থানা থেকে আসলামকে ফেরত চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক আসলামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিল পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কিছু জানি না। পরে জেনে জানানো হবে।’

খুলনা মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘আমাদের খুলনা বিএনপির ২ শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে সরকার বিরোধী নাশকতা মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশ যে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাচ্ছে তার বড় প্রমাণ আসলামের এই ঘটনা। বাস্তবে আসলে সেদিন ওইরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আদালত থেকে ওইদিনের ঘটনার সব নথি উদ্ধার করেছি। তাতে স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে, ঘটনার সময়ে তিনি পুলিশের জিম্মায় ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি বাইরে নাশকতা কীভাবে করলেন?

‘মূল কথা হলো, শনিবার খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে পুলিশ আবার ধড়পাকড় শুরু করেছে। তবে এভাবে আমাদের আন্দোলন দমানো যাবে না।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fakhruls statement about voters in the by election is fabricated Kader

উপনির্বাচনে ভোটার নিয়ে ফখরুলের বক্তব্য বানোয়াট: কাদের

উপনির্বাচনে ভোটার নিয়ে ফখরুলের বক্তব্য বানোয়াট: কাদের আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনগুলোয় ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপির এক হিসাব তুলে ধরে বলেছেন, উপনির্বাচনগুলোয় ভোটার উপস্থিতি ৫ শতাংশের বেশি হয়নি, যা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।’

দেশের ছয়টি আসনের উপনির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ‘বানোয়াট’ আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা শুক্রবার এক বিবৃতিতে এমন আখ্যা দেন।

বিএনপির ছেড়ে দেয়া ছয়টি আসনে বুধবার যে উপনির্বাচন হয়, তাতে সামগ্রিক ভোটার পরিস্থিতি ৫ শতাংশের বেশি হয়নি বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, কোনো আসনে ভোটার উপস্থিতি ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের বেশি নয়, তবে বিএনপির হিসাব বলছে, সংখ্যাটা ৫ শতাংশের বেশি হবে না।

ওই বক্তব্যের এক দিন পর দেয়া বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপনির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের বিষয় থাকে না বলে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এ নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ কম থাকে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং মানুষ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দেবে।

উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনগুলোয় ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপির এক হিসাব তুলে ধরে বলেছেন, উপনির্বাচনগুলোয় ভোটার উপস্থিতি ৫ শতাংশের বেশি হয়নি, যা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।’

কাদের আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এ ধরনের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন। প্রচণ্ড শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোট দিতে এসেছিলেন। সবগুলো উপনির্বাচনে ২৫ শতাংশের বেশি ভোটাররা ভোট প্রদান করেছেন।’

‘এমনকি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৫ শতাংশের মতো। উপনির্বাচনে যেহেতু সরকার পরিবর্তনের কোনো বিষয় থাকে না, সেহেতু জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এটা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কম থাকে।’

আরও পড়ুন:
উন্নয়ন দেখে বিএনপি অন্তর্জ্বালায় ভুগছে: কাদের
উপনির্বাচনে ৫ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি: ফখরুল
গণফোরাম ও পিপলস পার্টিকে নিয়ে বিএনপির বৈঠক
খুলনায় সমাবেশ নিয়ে অনুমতির অপেক্ষায় বিএনপি
বিএনপির আন্দোলন জোয়ার থেকে ভাটার দিকে: কাদের

মন্তব্য

p
উপরে