মাদারীপুরে বিস্কুট খাওয়ার অভিযোগে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দোকানদারের বিরুদ্ধে।
সদর উপজেলার নাওহাটা গ্রামে সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
পরে রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় লিয়ন নামে ওই শিশুকে। লিয়ন ওই গ্রামের দুলাল ফকিরের ছেলে। অভিযুক্ত মান্নান খাঁ একই গ্রামের সুরাত খানের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে বন্ধু আমিনের সঙ্গে বাড়ির পাশের দোকানে যায় লিয়ন। দোকানি না থাকায় দুই বন্ধু বিস্কুট নিয়ে খেতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে দোকানি মান্নান দোকানে এসে চুরির অভিযোগে লিয়নকে কাঠ দিয়ে মারধর করেন। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মান্নানের বাড়িতে।
সেখানে রশি দিয়ে হাত বেঁধে শিশুটিকে মারধর করা হয় বলে লিয়নের পরিবার অভিযোগ করেছে।
তারা জানিয়েছে, লিয়নের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ওই দোকানি। পরে ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয় জেলা সদর হাসপাতালে।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত দোকানির মোবাইলে কল করে তাকে পাওয়া যায়নি।
লিয়ন অভিযোগ করে বলে, ‘আমার বন্ধু আমিন আমাকে বিস্কুট নিতে বলেছিল। ওর জন্য এক প্যাকেট আর আমার জন্য এক প্যাকেট নিয়েছি। পরে দোকানদার এসে আমাকে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে মারে। আমি অনেকবার মাফ চেয়েছি, উনি আমার কথা শোনেন নাই। পরে বাড়িতে নিয়ে আবারও মেরেছে।’
লিয়ন ফকিরের মা রাজিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে হয়তো ভুল করে বিস্কুট খেয়েছে তাই বলে এভাবে কেউ মারধর করে। আমাদের কাছে বললে, বিস্কুটের দাম দিয়ে দিতাম। আমার ছেলেটির জ্বর এসে পড়েছে। শরীরে বড় বড় দাগ হয়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই।’
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবু সফর হাওলাদার বলেন, ‘শিশুটির বাঁ হাতের বাহুতে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তা ছাড়া দুই হাতে দড়ির দাগ ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি। বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছে।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যদি পরিবার থেকে অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
মীরসরাইয়ে তিন দিনের টানা ভারি বর্ষণে আবারও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী অনেকে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-মাদরাসায় যাওয়া আসায় কষ্ট করতে হচ্ছে।
গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে। তখন থেকে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। বৃষ্টি বন্ধ না হলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি যেতে পারছে না। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মূলত এই ফ্যাক্টরির কারণে শত শত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে দিনমজুর, কৃষক, শ্রমজীবী, রিকশাচালক ও সিএনজি চালকরা আয় রোজগার না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে। টানা তিন দিন বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ভ্যান-রিকশাচালক, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টিতে কাজ না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে দিনমজুর ও শ্রমজীবি মানুষের। দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় পড়ুয়া পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার পোলমোগরা, সৈদালী, ইছাখালী এলাকায় কিছু গ্রামের মানুষ।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে আউশের চারা কিছু ডুবে গেছে। আমরা মাঠে রয়েছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে একাধিক এলাকা পরির্দশন করেছি। আশা করছি বৃষ্টি বন্ধ হলে পানি নেমে যাবে। কেউ যদি জলাবদ্ধতায় পানিবন্ধি হয়ে থাকে আমাদের তালিকা পাঠালে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়াও স্থল নিম্নচাপের প্রভাব ও মৌসুমী বায়ু প্রবলভাবে দেশের ওপর সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত বেড়ে হুহু করে বাড়ছে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি। এতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে; এবং লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এ ছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
এদিকে, বোয়ালখালী প্রতিনিধি জানান : অবিরাম ভারি বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
গতকাল সকাল থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ল্যাব এবং প্রশাসনিক কক্ষসমূহে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর অভিভাবকেরা ভোগান্তিতে পড়েন।
উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী, পশ্চিম শাকপুরা, ঘোষখীল, কধুরখীলের বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা।
গত সোমবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর থেকেই বোয়ালখালী উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস ও দোকানপাটের কার্যক্রমেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।
পৌর সদরের বাসিন্দা মো. আজিজ বলেন, এক দুর্বিষহ অবস্থায় দিনযাপন করছি। দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে চার্জ না থাকায় কারো সাথে জরুরি যোগাযোগও করতে পারছি না। শুধু বৃষ্টি বলে না, কোনো না কোনো অজুহাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অথচ মাস শেষে বিশাল অঙ্কের বিলের বোঝা টানতে হয় গ্রাহকদের।
গতকাল সকালে আরাকান সড়কের নয়া রাস্তার মাথায় একটি গাছ উপড়ে পড়লে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম গাছ কেটে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমা বলেন, সকালে একটি গাছ পড়ে আরাকান সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা জানান, পৌর এলাকার কয়েকটি জায়গায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকাসমূহে পানি নিষ্কাশনে পৌরকর্মীরা কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, উপজেলায় এখন অবধি বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সুস্বাদু ফল আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের কম প্রকোপ এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক ও নিয়মিত পরামর্শে এবার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গাছে গাছে ফল ধরেছে রেকর্ড পরিমাণে। বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ের মুখেই ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
স্থানীয়ভাবে ‘কাঠলিচু’ বা ‘লংগান’ নামে পরিচিত এই ফলটি দেখতে অনেকটা লিচুর মতো এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, আটলিয়া, মাগুরা ঘোনা, শোভনা, সাহস, গুটুদিয়া এবং রংপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে এবার অভাবনীয় ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ডুমুরিয়ায় প্রতি বছরই বাণিজ্যিকভাবে আঁশফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা এখন এই ফলের বাগান গড়তে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
বর্তমানে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর এবং ডুমুরিয়া সদর বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসছে আঁশফলের জমজমাট পাইকারি হাট। খুলনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং রাজধানী ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভোরেই ছুটে আসছেন এই হাটে।
বাজারে ১টি আঁশফল খুচরা ৩ থেকে ৪ টাকা। ফলভর্তি একটি গাছের পাইকারি দাম ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকা (আকার ও ফলন ভেদে)।ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সরাসরি ফল কিনে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন বড় বড় আড়তে।
উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের আঁশফল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন,‘ফল পাকার পর দ্রুত সংগ্রহ না করলে তা এমনিতেই ঝরে পড়ে। তার ওপর বাদুড় একবার গাছে বসলে এক রাতেই প্রায় সব ফল নষ্ট করে দিয়ে যায়। তাই খরচ একটু বেশি হলেও এখন বাধ্য হয়ে অধিকাংশ চাষিই পুরো গাছ নেট (জাল) দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষার ব্যবস্থা করছেন।’
ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আঁশফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আঁশফলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দেশি ফলের কদর দিন দিন বাড়ছে। ভালো ফলন ও উপযুক্ত বাজারদরের কারণে চলতি মৌসুমটিকে ডুমুরিয়ার আঁশফল চাষিদের জন্য একটি অত্যন্ত সফল ও লাভজনক বছর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ছবি: সংগৃহীত
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা ও জরুরি বিভাগে হাঁটুসমান পানি জমে চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও চিকিৎসকরা পানির মধ্যেই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর ও বাইরের আঙিনায় হাঁটুসমান পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগের কক্ষেও পানি ঢোকে পড়ায় চিকিৎসকরা পানির মধ্যেই রোগী দেখছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন বিভিন্ন রোগী।
উচ্চ রক্তচাপ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হোসনা আরা (৫৮) নামে এক নারীকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পূজা ভূমিক বলেন, ‘রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন বলেন, ‘হাসপাতালটি রাস্তার তুলনায় নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার মধ্যেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।’
এদিকে টানা বর্ষণে নদীর তীরবর্তী কধুরখীল, পশ্চিম গোমদণ্ডী, চরখিদিরপুর, শাকপুরা ঘোষখীল, পশ্চিম শাকপুরা ও চরণদ্বীপ এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠোনেও হাঁটুসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
চরখিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, ‘চারদিকে পানি থইথই করছে। বাড়ির উঠোনসহ সব জায়গায় হাঁটুসমান পানি ওঠে যাওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ‘প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নেমে গিয়ে জনদুর্ভোগ কমে।’
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, ‘মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স ও নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনাও করা হচ্ছে।’
গত সোমবার (৬ জুলাই) সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জিএমপি হেডকোয়ার্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে জিএমপি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মামলা নিষ্পত্তি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি জানান, শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গুজব ও অপপ্রচার সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জিএমপি কমিশনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। সভায় মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রম ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ১৮নং ওয়ার্ডের মাহাতাব উদ্দিন সড়কের শেষ প্রান্তে ময়ূর নদীর ওপর বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজটির বিষয়ে জনৈক সাংবাদিকের করা একটি প্রতিবেদন দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ব্রিজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জনসাধারণের চলাচলের ভোগান্তি দূর করতে বর্ণিত স্থানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।’ উপস্থিত সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘ময়ূর নদীতে একাধিক ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্থাটি দুটি ব্রিজের নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে এই ব্রিজটি নাই। এই ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ এলজিইডি অপারগতা প্রকাশ করলে সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হবে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ময়ূর নদীতে বিদ্যমান কচুরিপানা দ্রুত পরিচ্ছন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, ১৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি, কাজী শফিকুল ইসলাম শফি, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, হুমায়ুন কবীরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গল্লামারী ব্রিজ সড়কের সম্প্রসারণ কাজসহ বাব এ সালাম আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক, ছবেদ আলী লেন, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, মাহতাব উদ্দিন সড়ক, খালিশপুরস্থ বাস্তুহারা কলোনির ড্রেনেজ, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ পোর্ট কলোনির অভ্যন্তরে স্লুইচগেট নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দীর্ঘদিনের মামলাজট কমাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বিচারপতি এবং বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে অধস্তন আদালতের শূন্যপদ পূরণে ৫০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে।
আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে। ফলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই; তবে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের সুযোগ রয়েছে।
সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান তার প্রশ্নে জানতে চান মামলাজট কমাতে নতুন বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।
প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
নিম্ন আদালতের বিচারক সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে মোট ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক।
খালি পদগুলো দ্রুত পূরণে সরকারের চলমান পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯তম ও ২০তম বিজেএস: এ ছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এই চাহিদাপত্র অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলেও আইনমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শাহিন আলী (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
গত সোমবার (৬ জুলাই) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শাহিন আলী শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের জালালিয়া রোডের শুক্কুর আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, অভিযুক্ত শাহিন আলী তার বাসায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন এবং ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার কাছ থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করতেন। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ওই গৃহবধূ শাহিনের কাছ থেকে এক জোড়া জুতা কিনেন। জুতাটি ছোট হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে ওই দিনই তিনি শাহিনের বাসায় যান। সে সময় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে শাহিন জোরপূর্বক গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন এবং গোপনে মোবাইলে তার ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
র্যাব আরও জানায়, পরবর্তীতে ওই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি করে রাখেন শাহিন এবং তাকে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ করলে শাহিন তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিনকে ৫০ হাজার টাকা দিলেও, বাকি টাকার জন্য সে পুনরায় চাপ দিতে থাকে। পরবর্তীতে টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় গৃহবধূ শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহিন আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য