× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Japa will come to the polls without shame Roshan
google_news print-icon

অভিমান ভুলে একজোট জাপা, লড়বে ভোটে: রওশন

অভিমান-ভুলে-একজোট-জাপা-লড়বে-ভোটে-রওশন
কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রোববার সমাবেশে কথা বলেন রওশন এরশাদ। ছবি: নিউজবাংলা
‘রাজনৈতিক জীবনে চলার পথে ছোটখাটো মান অভিমান সৃষ্টি হতেই পারে। নিজেদের মধ্যে মান অভিমান ভুলে যেতে হবে। আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ আগে দেখতে হবে।…আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করবে।’

জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে দেবর জি এম কাদেরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনার মধ্যে এক মঞ্চে বেগম রওশন এরশাদ। জানালেন অভিমান ভুলে দলের স্বার্থে এক হওয়ার আহ্বান। বললেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী আর তাতে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি।

রোববার জাতীয় পার্টির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও। তবে তিনি ওই সমাবেশে বক্তব্য দেননি।

জাতীয় পার্টিতে রওশনের সঙ্গে জি এম কাদের অনুসারীদের প্রকাশ্য বিরোধের শুরু হয় গত বছরের ৩১ অক্টোবর। সেদিন দলের কাউন্সিল আহ্বান করে চিঠি দেন রওশন। দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের এই পদক্ষেপের বিরোধিতায় সরব হয়ে ওঠেন কাদেরপন্থিরা। তারা বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে রওশন এই কাউন্সিল আহ্বান করতে পারেন না।

এর মধ্যে রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে বাদ দিয়ে জি এম কাদেরকে সে পদে বসাতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকেও চিঠি দেয় জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। দাবি পূরণ না হলে আর সংসদে না যাওয়ার হুমকিও আসে।

ওদিকে বহিষ্কার করা হতে থাকে রওশনপন্থিদের। দল আবার দুই টুকরো হয়ে যায় কি না, এই আলোচনার মধ্যে হঠাৎ শান্তির আভাস। রওশন অনুসারী মসিউর রহমান রাঙ্গা জানান, তিনি দ্বন্দ্বের মীমাংসায় বসতে আগ্রহী।

চিকিৎসা শেষে গত ২৭ নভেম্বর দেশে ফিরে রওশন জাতীয় পার্টিতে ঐক্যের ডাক দেন। পাশাপাশি জি এম কাদেরের সঙ্গে বসেন চা চক্রে। দুইজন মিলে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও।

সমাবেশে রওশন এরশাদ বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে চলার পথে ছোটখাটো মান অভিমান সৃষ্টি হতেই পারে। নিজেদের মধ্যে মান অভিমান ভুলে যেতে হবে। আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ আগে দেখতে হবে। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে পার্টি শক্তিশালী থাকবে। মনে রাখতে হবে জাতীয় পার্টি একটি পরিবার। আমরা সকলেই জাতীয় পার্টি পরিবারের গর্বিত সদস্য।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে জানিয়ে এরশাদপত্নী বলেন, ‘সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করবে।’

আগামী নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার অনুরোধ করে রওশন বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে। স্বজনপ্রীতি পরিহার করে সকল পর্যায়ের কমিটি গঠনে যোগ্যতার মাপকাঠি বজায় রাখতে হবে।’

মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য, জনপ্রিয় এবং ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে জানিয়ে রওশন বলেন, ‘দুঃসময়ে যাদের ব্যাপক ত্যাগ ও শ্রম ছিল, তাদের দলীয় বিভিন্ন পদে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।’

দলের আগামী কাউন্সিলে এই বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিনিয়র নেতাদের একত্রে বসে আলোচনার মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দলীয় কর্মীদের মনোভাবকে মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলেই নিজেদের মধ্যে মান অভিমান অনেকটাই কমে যাবে। একইভাবে দলও সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হবে।’

রওশন বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সব সময় গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী, কখনও ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিল না। ভবিষ্যতেও ধ্বংসাত্মক এবং অপরাজনীতিতে জড়াবে না।

‘জাতীয় পার্টি শান্তিতে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের সুআচরণ, ভালোবাসা এবং গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের মন জয় করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হব, ইনশা আল্লাহ।’

অসুস্থ থাকার সময় খোঁজখবর নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান রওশন এরশাদ। বলেন, ‘তিনি ব্যক্তিগতভাবে শতব্যস্ততার মাঝেও আমার খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি আরও কৃতজ্ঞ আমার ছেলে সাদ এরশাদ এমপি ও তার স্ত্রীর প্রতি। তারা দীর্ঘ সময় আমার পাশে থেকে নিয়মিত দেখাশোনা ও সেবা-শুশ্রূষা করেছে।’

আরও পড়ুন:
জি এম কাদেরের ব্যাপারে আদেশ মঙ্গলবার
বিএনপির আহ্বানের জবাবে জাপা, এত প্রেম কিসের?
ভাবি-দেবর বৈঠকের পরও জাপায় বিভেদের সুর!
দল চালানোর ক্ষমতা ফের হারালেন জি এম কাদের 
‘দেশের মানুষ আতঙ্কে আছে’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Farmers League leader accused of stealing goats under suspicion

‘সন্দেহের বসে’ ছাগল চুরিতে অভিযুক্ত কৃষক লীগ নেতা

‘সন্দেহের বসে’ ছাগল চুরিতে অভিযুক্ত কৃষক লীগ নেতা ছাগল চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত নেতা সানাউল হক হিরো (বাঁয়ে) এবং ছাগলের মালিক অভিযোগকারী জাহেরা বেগম। কোলাজ: নিউজবাংলা
জাহেরা বেগম নামে এক নারী শুক্রবার তাকে বিবাদী করে থানায় ছাগল চুরির অভিযোগ করেন। এরপর কিছু সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে হয়রানির জন্যই এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি ওই কৃষকলীগ নেতার।

নওগাঁর বদলগাছীতে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পারিবারিক শক্রতার জেরে বদলগাছী উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ছাগল চুরির অপবাদ এনে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত নেতা সানাউল হক হিরো।

একই এলাকার জাহেরা বেগম নামে এক নারী শুক্রবার তাকে বিবাদী করে থানায় ছাগল চুরির অভিযোগ করেন। এরপর কিছু সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে হয়রানির জন্যই এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি ওই কৃষকলীগ নেতার।

বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সানাউল হক বর্তমানে বদলগাছী উপজেলার কৃষকলীগের সভাপতি।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা চা দোকানি জাহেরা বেগমের সঙ্গে ছানাউল হোসেন হিরোর পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে জাহেরা বেগমের আনুমানিক ২৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগল (খাসি) বিবাদী হিরোর বাড়ির গেটে গেলে এরপর ছাগলটি (খাসি) অনেক খোঁজাখুঁজি করে পায়নি ভুক্তভোগী ওই নারী। পরে বিভিন্নভাবে তিনি জানতে পারেন, ছাগলটি চুরি করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন হিরো।

এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তবে সরেজমিনে গিয়ে সব কিছুতে অস্পষ্টতা চোখে পড়েছে নিউজবাংলার। অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সাক্ষী ও বিবাদীদের কেউেই ছাগল চুরির বিয়টি স্বচক্ষে দেখেননি। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিবাদীকে অভিযুক্ত করেছেন ছাগলের মালিক জাহেরা বিবি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা রতন ও শাহীনের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তারা বলেন, জাহেরা বেগমের সঙ্গে উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি সানাউল হক হিরোর সঙ্গে বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। এর আগেও জাহেরা বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ দিয়ে হিরোকে হয়রানি ও সন্মানহানির চেষ্টা করেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সাক্ষীদের অন্যতম স্থানীয় বাসিন্দা সানজিদা বলেন, ‘আমরা ছাগল চুরির ব্যপারে কিছুই জানি না। কে বা কারা নিয়েছে বলতে পারছি না। তবে ছাগলটিকে হিরোর বাড়ির সামনে তার ছাগলের সঙ্গে দেখেছিলাম। একটু পর শুনি, ছাগল নাকি হারায় গেছে। আমি ছাগলটাকে হিরোর বাড়ির সামনে দেখেছিলাম, এটুকুই ছাগল মালিককে বলেছি। তবে ছাগল চুরির বিষয়টি আমি নিজ চোখে দেখিনি।’

স্থানীয় আবু বক্কর পলাশ বলেন, ‘এ এলাকায় নেশাখোর বা মাদকসেবীরা প্রতিনিয়ত এসব কাজ করে। এটা তাদের কাজও হতে পারে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেরা বেগম বলেন, ‘হিরোর সঙ্গে আমাদের পরিবারের অনেক দিনের ঝামেলা। এর আগে, ঈদের সময় তার সঙ্গে ঝামেলা ও ঝগড়া হলে আমার ছাগল হারিয়ে যায়; এবারও একই ঘটনা ঘটেছে।’

ছাগল চুরি করতে তিনি নিজে বা সাক্ষীরা কেউ দেখেছেন কি না- জানতে চাইলে এই নারী বলেন, ‘ছাগল চুরি করতে আমি বা যে সাক্ষীর নাম দিয়েছি অভিযোগপত্রে তারা কেউ দেখেননি। তবে আমার সন্দেহ যে, হিরোই ছাগল চুরি করেছে। তার সঙ্গে ঝগড়া হলেই এর দুদিন বাদে আমার জিনিস হারায়। সেই সন্দেহের বসে আমি তার নামে অভিযোগ করেছি।’

তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সানাউল হক হিরো বলেন, ‘আমাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করার জন্যই এমন অভিযোগ করা হয়েছে, যা সাজানো নাটক। বংশগতভাবে এবং ব্যবসা করে যা আয় উর্পাজন করি, তা-ই আমার ও পরিবারের জন্য যথেষ্ট। অন্যের ছাগল কেন ছুরি করতে যাব?’

প্রতিবেশী জাহেরার সঙ্গে পূর্বশত্রুতার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমার নামে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। এই মহিলা অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির মানুষ। বিভিন্নভাবে মানুষের নামে অভিযোগ দিয়ে তাদের হয়রানি করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এলাকার প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তে আমার বিরুদ্ধে চুরির এই অভিযোগ করেছে সে (জাহেরা)। এই মিথ্যা অভিযোগের ফলে পরিবার নিয়ে আমি অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। আমি চাইব, এই ঘটনার সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হোক।’

বদলগাছী থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জাহেরা বেগম নামের একজন ছাগল চুরির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। যতটুকু জেনেছি, তাদের মধ্যে পারিবারিক গণ্ডগোল আছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে । শিগগিরিই ছাগল চুরির সঠিক কারণ জানা যাবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The A League leader has withdrawn the announcement of the prize for Russells viper

রাসেল’স ভাইপার নিয়ে পুরস্কারের ঘোষণা প্রত্যাহার আ.লীগ নেতার

রাসেল’স ভাইপার নিয়ে পুরস্কারের ঘোষণা প্রত্যাহার আ.লীগ নেতার পুরস্কারের ঘোষণা শুনে জীবিত রাসেলস ভাইপার ধরে শনিবার ফরিদপুর বনবিভাগের অফিসে হাজির হন রেজাউল। কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রথমে রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারলে এবং পরে জীবিত ধরতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে- এমন ঘোষণা দিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলেন ওই নেতা।

জীবিত হোক বা মৃত, কোনো প্রকার রাসেল’স ভাইপার সাপের জন্য কোনো পুরস্কার নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক। প্রথমে রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারলে এবং পরে জীবিত ধরতে পারলে ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে- এমন ঘোষণা দিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলেন তিনি।

এরপর রোববার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন শামীম হক।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভার বিবিধ আলোচনায় শামীম হক ফরিদপুরে রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারলে ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

সেসময় সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ এই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘শুধুমাত্র কোতোয়ালি থানার মধ্যে কেউ এই সাপ মারতে পারলে তাকে এই টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। আমাদের সভাপতি সাহেব এই টাকা দেবেন।’

ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পুরস্কার পেতে বিভিন্ন জায়গায় সাপ মারার উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে। সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের দুর্গম চরের ৩৮ দাগ এলাকায় শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে জমিতে ঘাস কাটার সময় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেটি লাঠির আঘাতে মেরে ফেলেন ওই গ্রামের মুরাদ মোল্লা নামের ৪৩ বছর বয়সী এক কৃষক। এরপর তিনি সাপটি পদ্মা পাড়ি দিয়ে সিএন্ডবি ঘাটে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন আবু ফকিরের অফিসে নিয়ে যান। আবু ফকির তখন সাংবাদিকদের জানান, মুরাদ মোল্লাকে সভাপতি ঘোষিত পুরস্কার দেয়া হবে।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এই পুরস্কারের ঘোষণার পর বনবিভাগের পক্ষ থেকে এটি আইনসিদ্ধ নয় বলে সমালোচনা করা হয়। এরপর অবশ্য রাসেলস ভাইপার সাপ মেরে ফেললে পুরস্কার দেয়ার আগের ঘোষণা থেকে সরে এসে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, মেরে ফেললে নয়, জীবিত অবস্থায় রাসেলস ভাইপার ধরতে পারলে পুরস্কার দেয়া হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ আলী আশরাফ পিয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন কেউ যদি নিজেকে রক্ষাকারী পোশাক সম্বলিত হয়ে এবং সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করে জনস্বার্থে রাসেলস ভাইপার সাপটি জীবিত অবস্থায় ধরতে পারেন, তবে তাকে ৫০ হাজার টাকায় পুরস্কৃত করা হবে।

এই ঘোষণা পর আবার স্থানীয়দের মাঝে জীবিত সাপ ধরার উৎসাহ সৃষ্টি হয়।

পরের দিন (শনিবার) সকালে পদ্মার চর থেকে একটি জীবিত রাসেলস ভাইপার সাপ ধরেন রেজাউল নামের এক যুবক। শনিবার সন্ধ্যায় পাতিলের মধ্যে সাপটি নিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে হাজির হন সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের কাদেরের বাজার ওই ব্যক্তি।

রেজাউল বলেন, ‘সকালে চরের মধ্যে থেকে ধরছি। সাপটা হাইট্যা যাইতেছিল। গায়ের গেঞ্জি ছুড়ে ওকে ধরছি।’

তিনি বলেন, ‘নেতারা পুরস্কার ঘোষণা করছেন। এজন্য রিস্ক নিয়ে ধরছি। এখন বনবিভাগে জমা দিতে আইছি।’

তবে রোববার দুপুরে ফরিদপুরের বনবিভাগের অফিসে সাপটি নিয়ে গেলে তাকে সাপসহ ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করাটাই তো অবৈধ। মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা! আমরা এটা প্রমাণ করতে যাব কেন? ওই কৃষকের উচিৎ হবে, যেখান থেকে সাপটি ধরেছেন ওই স্থানেই ছেড়ে দেয়া।’

এদিকে রোববার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক পুরস্কারের ঘোষণা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানিয়ে সকলকে রাসেলস ভাইপার সাপ মারা বা ধরার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান।

শামীম হক তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জীবিত বা মৃত কোনো প্রকার রাসেলস ভাইপারের জন্য কোনো পুরস্কার নেই।

তিনি লেখেন, বর্তমানে রাসেলস ভাইপার একটি আলোচিত বিষয়, পাশাপাশি জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিধায় যেকোনো পুরস্কার বা কৌতূহলবশত এই সাপ নিয়ে অতি উৎসাহী হবেন না। জীবিত বা মৃত কোনো প্রকার রাসেলস ভাইপারের জন্য কোনো পুরস্কার নেই।

তিনি আরও লেখেন, সাপ দেখলে তা ধরা বা মারার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করুন অথবা নিকটস্থ বন বিভাগের অফিসকে অবহিত করুন।

আরও পড়ুন:
রাসেল ভাইপার নিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাসেল ভাইপার নিয়ে গুজব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A pacemaker was installed in Khaleda Zias heart

খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হলো

খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হলো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি
রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে ব্লকও ধরা পড়েছিল। সেখানে একটা স্টেন্টও (রিং) লাগানো ছিল। সব কিছু পর্যালোচনা করে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার হার্টে পেসমেকার বসানো হয়েছে।’

পেসমেকার হলো হৃৎস্পন্দন নিয়মিত রাখার কৃত্রিম বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি করে হৃদপেশিতে পাঠায় এবং হৃদপিণ্ডের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭৯ বছর বয়সি খালেদা জিয়া আর্থরাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল। তখন থেকে ৬ মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sheikh Hasina is the only address of peoples trust Kader

শেখ হাসিনাই জনগণের একমাত্র আস্থার ঠিকানা: কাদের

শেখ হাসিনাই জনগণের একমাত্র আস্থার ঠিকানা: কাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশি বিদেশি। ষড়যন্ত্র চলছে শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন করায় একটি দল অন্তরজ্বালায় জ্বলছে। ওরা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। পূর্ণিমা রাতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। এরা আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রু। এরা দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। ১৫ ও ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ডও তারা। সেই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সব শক্তিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থনের অনুরোধ জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আসুন, সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর কন্যার হাতকে শক্তিশালী করি। আমাদের ভুলত্রুটি নেই এটি বলব না। তারপরও শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের জনগণের একমাত্র আস্থার ঠিকানা।

রোববার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশি বিদেশি। ষড়যন্ত্র চলছে শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন করায় একটি দল অন্তরজ্বালায় জ্বলছে। ওরা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। পূর্ণিমা রাতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। এরা আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রু। এরা দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। ১৫ ও ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ডও তারা। সেই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। এই অর্জনের জনক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই দেশে দুটি লিগ্যাসি তৈরি হয়েছে। একটি স্বাধীনতার জন্য, এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। আরেকটি লিগ্যাসি অর্থনৈতিক মুক্তির, সেটি শেখ হাসিনার। যতদিন বাংলা আছে, ততদিন শেখ হাসিনাও অমর হয়ে থাকবেন। তিনি আমাদের ম্যাজিশিয়ান অফ পলিটিক্স।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সবচেয়ে কীর্তি নিজের টাকায় পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে চোর অপবাদ দিয়ে সরে গিয়েছিল। সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমি নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করব। তিনি প্রমাণ করেছেন, আমরা বীরের জাতি, আমরাও পারি। পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক, সাহসের প্রতীক।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A case under the Pornography Act has been filed against three people including the Chhatra League leader

সেই ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজনের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা

সেই ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজনের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন (ডানে) ও নাজমুল হীরা। ফাইল ছবি
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন হীরাকে। এছাড়া হীরার দুই মামা, যথাক্রমে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও তার বড় ভাই মোশারফ হোসেন মোল্লা বাবুলকে আসামি করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ আদালতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ তিনজনের নামে পর্ণোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন এক কলেজছাত্রী।

কিশোরগঞ্জের ১ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আশিকুর রহমানের আদালতে রোববার দুপুরে এই মামলা করা হয়। ২৩ বছর বয়সী ওই ছাত্রী শহরের একটি সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন হীরাকে। এছাড়া হীরার দুই মামা, যথাক্রমে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও তার বড় ভাই মোশারফ হোসেন মোল্লা বাবুলকে আসামি করা হয়েছে।

তারা সবাই শহরের বয়লা তারাপাশা এলাকার বাসিন্দা।

কিশোরগঞ্জের ১ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শিখা রাণী দাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলাটি এফআইআরের জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় এই তরুণীর। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের একমাস পরই তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় এবং তিনি বাপের বাড়িতে চলে আসেন। সেখান থেকে ফের কলেজে যাওয়া শুরু করেন।

কলেজে যাওয়ার পথে প্রায়ই তাকে প্রেম নিবেদন করতেন নাজমুল হোসেন হীরা। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চলে শারীরিক সম্পর্ক। এসময় নাজমুল হীরা কৌশলে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

পরে বিষয়টি হীরার মামা আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও মোশাররফ হোসেন মোল্লা বাবুলকে জানান মেয়েটি। তখন সুমন ও বাবুল মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে বলেন- তাদের ভাগ্নের সঙ্গে বেশি বাড়াবাড়ি করলে শহরে থাকতে দেবে না।

এভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মেয়েটিকে বেশ কিছুদিন থামিয়ে রাখেন তারা। পরে বাধ্য হয়েই নাজমুল হীরার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয় মেয়েটি। এভাবে টানা এক মাস অতিক্রান্ত হলে আবারও হীরাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন তিনি। এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ৮ জুন গোপনে কাজী ডেকে বিয়েও করেন তারা। বিয়ের পরে তিনি জানতে পারেন, নাজমুল হীরা বিবাহিত; বাড়িতে তার স্ত্রী রয়েছে। বিষয়টি জানার পর মৌখিকভাবে হীরাকে তালাক দিয়ে চলে আসেন তিনি।

পরবর্তীতে হীরা আবারও যোগাযোগ স্থাপন করে শারীরিক সম্পর্ক না রাখলে তাদের অন্তরঙ্গ মুহেূর্তের ভিডিও ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দেন। এভাবে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে দুইবারে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করেন তিনি। এই টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কেনেন তিনি।

হীরার পর একই পন্থা অবলম্বন করেন তার মামা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন। তিনিও ভয় দেখিয়ে মেয়েটির কাছ থেকে আদায় করে একটি আইফোন ও একটি স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন কেনেন। সুমনের বড় ভাই মোশারফ হোসেন মোল্লা বাবুল আদায় করেন নগদ তিন লাখ টাকা। তিনিও কেনেন একটি পালসার মোটরসাইকেল।

এভাবে তাদের টাকা দিতে দিতে বর্তমানে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

তবে এত কিছুর পরও তাদের অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

মেয়েটির অভিযোগ, ‘নাজমুল হীরার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার কারণেই সে এমনটা করেছে। আর এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেছেন তার মামা সুমন ও বাবুল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হোসেন হীরা বলেন, ‘যিনি মামলা করেছেন তিনি তার বিবাহিত স্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে আমি নিজেও মামলা করেছি। সে মামলায় আমার স্ত্রী সাক্ষী। কিছু লোকের কুপরামর্শে সে হয়তো এমনটা করেছে।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ঘটনাটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার ভাগ্নে হীরার সঙ্গে মেয়েটি বিয়ে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে হীরা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল, কিন্তু এখন কী কারণে মেয়েটি ভাগ্নের বিষয় টেনে এনে বড় ভাইসহ আমাকে মামলার আসামি করেছে, সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:
চিনিকাণ্ডে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা: ইনান
চিনি চোরাচালান চক্রে কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Only Awami League is in power by peoples power Prime Minister

একমাত্র আওয়ামী লীগই জনগণের শক্তিতে ভর করে ক্ষমতায়: প্রধানমন্ত্রী

একমাত্র আওয়ামী লীগই জনগণের শক্তিতে ভর করে ক্ষমতায়: প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস করে। জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু অন্য যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা জনগণের শক্তি ভুলে দুর্নীতি সন্ত্রাস করেছিল।

আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস করে এবং জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস করে। জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু অন্য যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা জনগণের শক্তি ভুলে দুর্নীতি সন্ত্রাস করেছিল।

‘ক্ষমতায় এসেছে তারা সন্ত্রাসবাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, দুর্নীতি করেছে। তারা জনগণের শক্তি ভুলে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।’

এদিন আওয়ামী লীগ প্রধান দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যাদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তাদের স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, যা আমরা প্রমাণ করেছি। কেননা বাঙালির সব অর্জনেই আওয়ামী লীগ জড়িত। জন্ম থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি পদক্ষেপের কারণেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল সংগঠনটি। কিন্তু বারবার এই দলকে আঘাত করা হয়েছে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা হয়েছে কিন্তু যতবার এই আঘাত এসেছে দলটি ততবারই জেগে উঠেছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা মন্তব্য করেন, দেশ ও জাতির যতটুকু অর্জন, তা আওয়ামী লীগের দ্বারাই। কিন্তু বারবার এ দলের ওপর আঘাত এসেছে। বারবার এ দলকে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছে। বারবার এ দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৮ সালে সেই আইয়ুব খানের মার্শাল ল থেকে শুরু করে বারবার আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নতি করার সংগঠন। কাজেই বার বার আঘাত এসেও এই সংগঠনের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০০৭ সালেও চেষ্টা করা হয়েছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে নতুন কিংস পার্টি গড়ে তোলার। সেটাও সফল করতে পারেনি। কারণ, আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ, সাধারণ জনগণ, তৃণমূলের মানুষ, আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী, মুজিব আদর্শের সৈনিক। এ সৈনিকরা কখনো পরাভব মানে না। মাথা নত করে না।

তিনি বলেন, হয়ত কখনো কখনো নেতারা ভুল করেছেন। কেউ মনে করেছেন আওয়ামী লীগে থাকলে তারাই হয়ত বড় নেতা। দলের থেকে নিজেকে বড় মনে করেন, কেউ দল ছেড়ে গিয়ে অন্য দল করেছেন। পরবর্তীতে রাজনীতি থেকে এক ধরনের হারিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আকাশে মিটি মিটি তারা জ্বলে, তারা আলোকিত হয় কার দ্বারা? সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়। যেসব নেতারা আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন তারা ভুলে গিয়েছিলেন দলের কথা। তারা আলোকিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন বলেই। চলে যাওয়ার পর ওই তাঁরা আর জ্বলেনি। অনেকেই নিভে গেছেন। কেউ ভুল বুঝে ফিরে এসেছে আমরা নিয়েছি। আবার কেউ কেউ এখনো আওয়ামী লীগের সরকারের পতন কল্পনা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর বার বার ক্ষমতা বদল হয়েছে। হয় অস্ত্রের মাধ্যমে বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শাসকরা ক্ষমতায় এসেছে। সেই সময় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Khaleda Zia on deathbed due to lack of better treatment Fakhrul

উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুশয্যায় খালেদা জিয়া: ফখরুল

উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুশয্যায় খালেদা জিয়া: ফখরুল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
ফখরুল বলেন, ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট মামলায় তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্দেশেই তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে বাড়িতে থাকতে দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ও বন্দি রয়েছেন।’

বিদেশে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার অভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন মৃত্যুশয্যায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দেশব্যাপী দলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর ইউএনবির

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের নেতা খালেদা জিয়া কোনো (প্রয়োজনীয়) চিকিৎসা (বিদেশে) না পেয়ে মৃত্যুশয্যায় সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান জালিম ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিহিংসার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি রয়েছেন।’

ফখরুল বলেন, ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট মামলায় তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্দেশেই তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে বাড়িতে থাকতে দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ও বন্দি রয়েছেন।’

তিনি বলেন, পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সেখানে তার কোনো চিকিৎসা করা হয়নি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘তিনি বারবার অভিযোগ করলেও সরকার কর্ণপাত করেনি এবং চিকিৎসাসেবা দেয়নি। পরে যখন তাকে (কারা কর্তৃপক্ষ) হাসপাতালে পাঠায়, সেখানেও তার কোনো সুচিকিৎসা হয়নি।’

তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে গুলশানে তার বাসায় থাকার অনুমতি দিয়েছে এই শর্তে যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এবং অবশ্যই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিতে হবে।

ফখরুল বলেন, ‘এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড বারবার বলে আসছে, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অসুস্থতার চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য উন্নত দেশের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবার, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিদেশি মিশন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিদেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধায় তার চিকিৎসার অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে অব্যাহতভাবে আবেদন করেছে।

বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, ‘কিন্তু শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে হত্যা এবং রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন।’

শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

মন্তব্য

p
উপরে