× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
On Friday the BNP procession will leave Nayapaltan for Moghbazar at 2 pm
google_news print-icon

শুক্রবার বিএনপির মিছিল বেলা ২টায়, নয়াপল্টন থেকে যাবে মগবাজার

শুক্রবার-বিএনপির-মিছিল-বেলা-২টায়-নয়াপল্টন-থেকে-যাবে-মগবাজার
শুক্রবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মগবাজার পর্যন্ত মিছিল করবে বিএনপি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
গণমিছিল করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেটার জন্যই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়ার জন্য ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। ডিএমপি আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: এ জেড এম জাহিদ হোসেন

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে বিএনপি রাজধানীতে যে মিছিল করতে যাচ্ছে, সেটির রুট প্রকাশ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আগের দিন বৃহস্পতিবার দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিভাগীয় মিছিলের প্রধান সমন্বয়ক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মিছিলটি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মগবাজার পর্যন্ত।

দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর দুইটায় শুরু হয়ে মিছিলটি যাবে কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ হয়ে মগবাজার চৌরাস্তা ঘুরে ফের নয়াপল্টনে এসে শেষ হবে।

ঢাকাবাসীকে গণমিছিল সফল করার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘গণমিছিল করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেটার জন্যই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়ার জন্য ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। ডিএমপি আমাদের সর্বাত্নক সহযোগিতা করবে।’

১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে প্রথমে ২৪ ডিসেম্বর সারা দেশে মিছিলের ডাক দেয়া হয়। ঢাকা ছাড়া অন্য শহরে সে কর্মসূচি পালনও হয়েছে। তবে ঢাকায় সেদিন আওয়ামী লীগের ২২ তম জাতীয় সম্মেলন হবে- সেই ঘোষণা আসে গত ২৮ অক্টোবর।

বিএনপি পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাইছে- ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পর বিএনপি কর্মসূচি পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর করে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বসছে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি
মিছিলের অনুমতি পেল বিএনপি
১২ দলীয় জোট ও সমমনা ৭ দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
নয়াপল্টন থেকে বাংলামোটর মিছিল করতে চায় বিএনপি
ফখরুল-আব্বাসদের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান অযৌক্তিক: বিএনপি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Chhatra League Student clash again in Shahidullah Hall area of ​​Dubai

ঢাবির শহীদুল্লাহ হল এলাকায় ফের ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ

ঢাবির শহীদুল্লাহ হল এলাকায় ফের ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল এলাকায় সোমবার রাতে শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। ছবি: নিউজবাংলা
রাতে দোয়েল চত্বর এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় রাস্তায় অনেকগুলো ককটেল ফুটিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ককটেলের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড এবং গুলিও ছোড়া হয়েছে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে ফের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। তবে রাত সোয়া ৯টার দিকে পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

রাতে দোয়েল চত্বর এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় রাস্তায় অনেকগুলো ককটেল ফুটিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ককটেলের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড এবং গুলিও ছোড়া হয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। ছাত্রলীগের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শহীদুল্লাহ্ হল ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরে আর ছাত্রলীগ দোয়েল চত্বর আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মোড়ের দিকে অবস্থান নেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে হলের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা হলের ভেতর ও ছাদ থেকে পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এভাবে দেড় ঘণ্টা ধরে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি চলে৷

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির এই পুরোটা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ এবং এর আগ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল মুহিত শহীদুল্লাহ হলে প্রবেশ করেন। পুলিশ ছাত্রলীগকে আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

এ সময় ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বললে শিক্ষার্থীরা ‘দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টরের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি আমাদের ক্যাম্পাস। যারা বহিরাগত তাদের আগে বের হতে বলেন।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগও দাবি করেন।

দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসার পর শিক্ষার্থীরা হলের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। আর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দোয়েল চত্বরের কাছে অবস্থান নেন। মাঝখানে অবস্থান নেয় পুলিশ।

কিছু সময় বিরতি দিয়ে পুনরায় শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। শিক্ষার্থীরা হল গেটের ভেতরে ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বাইরে থেকে পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একইসঙ্গে চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। অবশেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠক ডাকেন উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এস এম মাকসুদ কামাল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের হলের প্রাধ্যক্ষরা রাতভর হলে অবস্থান করবেন। মিটিংয়ে আমাদের আরও কিছু বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
চবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা, ছাত্রীদের হেনস্তা
জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০
ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনায় মহাসড়ক অবরোধ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে ববিতে বিক্ষোভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chabis repeated attacks by the Chhatra League are harassment of female students

চবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা, ছাত্রীদের হেনস্তা

চবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা, ছাত্রীদের হেনস্তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারের পাশে সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদৈর ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রীরা বলেন, ‘শহীদ মিনারে আমাদেরকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ দিতে যাই। সেখানেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের উপস্থিতিতেই ছাত্রলীগ আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছি।’

চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনের সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের ওপর আবারও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। হামলায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। নারী শিক্ষার্থীদেরকে শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং প্রক্টরের সামনে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করারও অভিযোগ উঠেছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে সোমবার বেলা আড়াইটার শাটল ট্রেন ধরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এসময় ছাত্রলীগের নেতারা এসে শাটলের চাবি কেড়ে নেন এবং আন্দোলনের সমন্বয়কসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে নিয়ে যান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে ফের প্রক্টরের উপস্থিতিতে কোটা সংস্কারপন্থীদের মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

চবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা, ছাত্রীদের হেনস্তা
ছাত্রলীগ জিম্মি করে ধরে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে চবি প্রক্টর অফিসে অন্য শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কোটা সংস্কারপন্থী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দুপুরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনে জড়ো হই চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য। তখন ছাত্রলীগ কর্মীরা এসে শাটলের চাবি নিয়ে নেয় ও আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা তালাত মাহমুদ রাফিসহ কয়েক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়।

‘আন্দোলনকারী জিম্মি শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে যাওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের আটকে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা এ সময় এক শিক্ষার্থীকে রাস্তায় ফেলে বাঁশ-তক্তা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং ছাত্রীদের হেনস্তা করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাহবুবুর রহমান গুরুতর আহত হন।

ছাত্রীরা বলেন, শহীদ মিনারে আমাদেরকে হেনস্থা করার প্রতিবাদে প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ দিতে যাই। এ সময় ছাত্রলীগ আমাদের পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমরা প্রক্টর অফিসের ভেতরে ঢুকতে গেলে তারা দরজা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে এবং আমাদেরকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের উপস্থিতিতেই ছাত্রলীগ আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। আমাদের দেখে নেয়ার কথা বলেছে। আমরা নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছি।’

শিক্ষার্থী তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, ‘গণতন্ত্রের দেশে একজন নাগরিককে কেউ জোর করে তুলে আনতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। ছাত্রলীগের নেতারা আমার শরীরে বেশ কয়েকবার আঘাত করেছে।’

প্রক্টর অফিসের সামনে মারধরের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা প্রক্টরের অফিসে ঢুকতে চাইলে ছাত্রলীগ বাধা দেয়, দরজা লাগিয়ে দিতে চায়। তখন আমি দরজা আটকালে তারা আমার পায়ে একাধিক লাথি মারে ও হাতে আঘাত করে।

‘আমাদের সব ছাত্রীর সঙ্গেই তারা খারাপ আচরণ করেছে। তারা প্রক্টর অফিসের সামনেই আমাদের ওপর হাত তুলেছে, বিশ্রী ভাষা ব্যবহার করেছে। প্রক্টররা সব কিছু দেখেও কোনো পদক্ষেপ নেননি, উল্টো তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমাদেরকে ধমক দেন।’

চবি ছাত্রলীগের একাংশের নেতা ইলিয়াস বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারদের কোনো ঠাঁই নেই। রাজাকার-রাজাকার স্লোগান দিয়ে কেউ এদেশে থাকতে পারে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. অহিদুল আলম বলেন, ‘গতকাল রাতে যে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল আমরা সে বিষয়ে অবগত ছিলাম না। তার জেরে আজ এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা তদন্ত করে দেখব কারা দোষী।’

এর আগে রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে, আমি কে- রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে মিছিল বের করেন। এ সময় ক্যাম্পাসের কাটাপাহাড় রোডে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

আরও পড়ুন:
কুবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল
ক্যাম্পাসে আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ছাত্রলীগ: কাদের
শাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
তারা সমগ্র জাতিকে কলঙ্কিত করেছে: সেলিম মাহমুদ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League attack on student march in Jabi 20 injured

জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০

জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সোমবার সন্ধ্যায় মিছিলে ছাত্রলীগের হামলায় আহত কয়েকজন। ছবি: নিউজবাংলা
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাবি ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় একজন শিক্ষক ও প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রাত ৮টায় এই নিউজ লেখার সময়ও দু’পক্ষে ভেতর ধাওয়া পাল্টা চলছিল। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে হামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় একজন শিক্ষকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

রাত ৮টায় এই নিউজ লেখার সময়ও দু’পক্ষে ভেতর ধাওয়া পাল্টা চলছিল।

জাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০
কোটা সংস্কার দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় জাবি ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে এলে অতর্কিত হামলা চালান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনায় মহাসড়ক অবরোধ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে ববিতে বিক্ষোভ
ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০
কুবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It is clear that politics has entered the quota movement Foreign Minister

কোটা আন্দোলনে রাজনীতি ঢুকেছে তা স্পষ্ট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কোটা আন্দোলনে রাজনীতি ঢুকেছে তা স্পষ্ট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কাল যেসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্লোগান ও বক্তব্য দেয়া হয়েছে তাতে প্রমাণ হয় এটি কোটাবিরোধী আন্দোলন নয়। এ আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরে থেকে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যরা সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রোববার রাতে যে ধরনের স্লোগান দেয়া হয়েছে তা সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই দেশে রাজাকারের পক্ষে স্লোগান, এটি রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান। একইসঙ্গে সেখানে সরকারবিরোধী, প্রধানমন্ত্রীবিরোধী স্লোগান দেয়া হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, কোটা আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক অপশক্তি ঢুকেছে, তা স্পষ্ট।

সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলানের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতসহ যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা ঢুকেছে। তাদের পরিকল্পিত কিছু মানুষ সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা যা বলেছিলাম, গতকাল তারা তা স্পষ্ট করেছে।

‘কাল যেসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্লোগান ও বক্তব্য দেয়া হয়েছে তাতে প্রমাণ হয় এটি কোটাবিরোধী আন্দোলন নয়। এ আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরে থেকে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যরা সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা দেশকে কখনও অস্থিতিশীল করতে দেব না। আমাদের সরকার অনেক শক্তিশালী সরকার। আমরা কোনো রাজনৈতিক অপশক্তিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার স্পষ্ট করে বলেছে যে আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। আদালত যেভাবে নিষ্পত্তি করবে সরকারকে সেভাবে কাজ করতে হবে, এটি স্পষ্ট।

‘তারপরও এ ধরনের স্লোগান দেয়া এবং আন্দোলন করা একেবারে দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকেছে।’

আরও পড়ুন:
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League Students chase counter chase in DU under control after one and a half hours

ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীরা শহীদুল্লাহ হল গেটের ভেতরে অবস্থান নিয়ে নানামুখী স্লোগান দিচ্ছেন। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘বিকেল থেকে আমাদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের অনেকেই আহত হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টরিয়াল বডির কেউ ছাত্রলীগকে থামাতে মাঠে আসেননি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া অবশেষে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা হলের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছেন। একইসঙ্গে তারা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘বিকেল থেকে আমাদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের অনেকেই আহত হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টরিয়াল বডির কেউ ছাত্রলীগকে থামাতে মাঠে আসেননি।’

বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। ছাত্রলীগের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শহীদুল্লাহ্ হল ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ঢাবিতে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

এ সময় শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরে আর ছাত্রলীগ দোয়েল চত্বর আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মোড়ের দিকে অবস্থান নেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে হলের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা হলের ভেতর ও ছাদ থেকে পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এভাবে দেড় ঘণ্টা ধরে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি চলে৷

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির এই পুরোটা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ এবং এর আগ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল মুহিত শহীদুল্লাহ হলে প্রবেশ করেন। পুলিশ ছাত্রলীগকে আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

এ সময় ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বললে শিক্ষার্থীরা ‘দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টরের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি আমাদের ক্যাম্পাস। যারা বহিরাগত তাদের আগে বের হতে বলেন।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগও দাবি করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হল গেটের সামনে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। আর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দোয়েল চত্বরের দিকে অবস্থান করছেন। মাঝখানে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠক ডাকেন উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এস এম মাকসুদ কামাল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের হলের প্রাধ্যক্ষরা রাতভর হলে অবস্থান করবেন। মিটিংয়ে আমাদের আরও কিছু বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
শাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
তারা সমগ্র জাতিকে কলঙ্কিত করেছে: সেলিম মাহমুদ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ
চবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
মধ্যরাতে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
200 injured in attack of Chhatra League on protesting students in DU

ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০

ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় অনেকে আহত হন। ছবি: নিউজবাংলা
বিজয় একাত্তর হলের সামনে শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা পিছু হটলে তাদের ওপর পেছন থেকে ছাত্রলীগের আরেকটি গ্রুপ হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হন। এ সময় অনেক নারী শিক্ষার্থী টিএসসির অবস্থান কর্মসূচি থেকে হল বা নিজেদের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাইলে তাদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা চালায় মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে আন্দোলনকারী অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এমনটা দাবি করে বলেছেন, আহতদের মধ্যে অনেক নারী শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এদিকে ছাত্রলীগেরও একদল নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিজয় একাত্তর হলে প্রবেশের চেষ্টা করলে।

ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০

সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থান করেন। অন্য একটি অংশ বিজয় একাত্তরে হলের ভেতরে ঢুকে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিতে আহ্বান জানাতে থাকেন। এ সময় উপর থেকে তাদেরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ইটপাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারাও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারীরা আহত হলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ বিজয় একাত্তর হলের সামনে সৃষ্ট ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় যোগ দেয়। এরপর আন্দোলনকারী আর ছাত্রলীগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে। এ সময় আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেল হলের বিভিন্ন কাঁচের জানালা ভেঙে পড়ে।

ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০
হামলায় রক্তাক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী আর ছাত্রলীগের মধ্যে প্রায় এক ঘন্টা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এতে ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। এতে বিজয় একাত্তর হলের ১০টি বাইক এবং পঞ্চাশজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে আন্দোলনকারীরা পিছু হটলে তাদের ওপর পেছন থেকে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হন। এ সময় অনেক নারী শিক্ষার্থী টিএসসির অবস্থান কর্মসূচি থেকে হল বা নিজেদের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাইলে তাদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা চালান মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০

ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভাংচুর করতেও দেখা যায়। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগসহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজ ভাস্কর্যে অবস্থান নেন।

ওদিকে আন্দোলনকারী আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়েছে।

হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার পর থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আহত শতাধিক শিক্ষার্থীকে সেখানে জরুরি বিভাগে নেয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের জরুরি বিভাগের নিউরো সার্জারি ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ঢাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০০

এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বহিরাগত নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হওয়ার পর বিক্ষোভ করছেন রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীর। এ সময় ‘ক্যাম্পাসে হামলা কেন প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ছাত্রলীগ হামলা করে প্রশাসন কী করে? ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন:
চবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
মধ্যরাতে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা পুনর্বহাল করে‌ হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ
দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের
কোটা আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ইচ্ছা নেই: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League will take action on self confessed Razakars on campus Quader

ক্যাম্পাসে আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ছাত্রলীগ: কাদের

ক্যাম্পাসে আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ছাত্রলীগ: কাদের ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী স্লোগানে প্রকাশ পেয়েছে যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী আন্দোলন করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসে আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ছাত্রলীগ। রাজাকার পরিচয়-সংশ্লিষ্ট স্লোগান জাতীয় মৌলিক চেতনার সঙ্গে ধৃষ্টতার শামিল।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী আন্দোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত জড়িত রয়েছে।

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতকাল (রোববার) রাতে আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের অনেকের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কুৎসিত স্লোগান শুনেছি। এতদিন আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে তারা আসলে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এমন আশঙ্কা গতকাল রাতে স্পষ্ট হয়েছে।

‘এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ আছে। তারা প্রকাশ্যেই এতে সমর্থন দিচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোটা সংস্কারের চলমান আন্দোলন নিয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। গতকাল (রোববার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই মতামত ব্যক্ত করেছেন।

‘যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন সেটি আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের কিছু করার নেই। বিচারাধীন বিষয়ে মতামত দেয়া আদালত অবমাননার শামিল। আমরা বার বার তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ সরকার মেনে নেবে না। যেকোনো অপশক্তিকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’

আন্দোলনকারীদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী স্লোগানে প্রকাশ পেয়েছে যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী আন্দোলন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ছাত্রলীগ। রাজাকার পরিচয়-সংশ্লিষ্ট স্লোগান জাতীয় মৌলিক চেতনার সঙ্গে ধৃষ্টতার শামিল।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
শাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
তারা সমগ্র জাতিকে কলঙ্কিত করেছে: সেলিম মাহমুদ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ
চবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
মধ্যরাতে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য

p
উপরে