× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Slap the engineer Bani Amin expressed his grief to the leader
google_news print-icon

প্রকৌশলীকে চড়: ‘নেতার কাছে দুঃখ প্রকাশ’ বানি আমিনের

প্রকৌশলীকে-চড়-নেতার-কাছে-দুঃখ-প্রকাশ-বানি-আমিনের
জাতীয় জাদুঘরের সামনে শনিবার লিফলেট বিতরণের সময় প্রকৌশলী ম ইনামুল হককে চড় মারা কৃষক লীগ নেতা বানি আমিন। ছবি: সংগৃহীত
মেহেরপুর জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ বলেন, ‘চড় মারার ঘটনায় আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বানি আমিন। নেত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি তা সহ‍্য করতে পারেননি। তাই এমনটি ঘটেছেন। এমন করাটা যে ঠিক হয়নি, সেটা স্বীকার করেছেন তিনি।’

জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রকৌশলী ম ইনামুল হককে চড় মারার ঘটনায় মেহেরপুরের কৃষক লীগ নেতা বানি আমিন ক্ষমা চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ।

তিনি জানান, গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি তার (সাজ্জাদ) কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সর্বজন বিপ্লবী দলের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ও প্রকৌশলী ম ইনামুল হক।

ব্যানার টানিয়ে ২৭ ডিসেম্বর অর্ধদিবস হরতাল পালনের আহ্বান জানাচ্ছিলেন ইনামুল এবং আরও তিন নেতা-কর্মী। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে প্রকৌশলীকে চড় মারেন।

ওই সময় ওই ব্যক্তি বলছিলেন, ‘দেশ ধ্বংস করছে মানে? দেশ কই ধ্বংস হইছে?’

এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওর জেরে চড় মারা ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

চড় মারার বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার বিকেলে বানি আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় পৌঁছে সেখানে গিয়ে দেখি এক ব‍্যক্তি হাতে লিফলেট নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমন্ধে বাজে কথা বলছে। তা শুনে মাথা ঠিক রাখতে পারিনি, অজান্তেই তার ওপর হাত ওঠে গেছে। যদিও আমার এটা করা ঠিক হয়নি।’

মেহেরপুর জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ জানান, বানি আমিন কৃষক লীগ করার আগে কাজিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এ বছরের ২৫ জুলাই কৃষক লীগের কাউন্সিলে তিনি কাজিপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি এলাকায় সুপরিচিত মুখ।

তিনি আরও বলেন, ‘চড় মারার ঘটনায় আমার (ওয়াসিম) কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বানি আমিন। নেত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি তা সহ‍্য করতে পারেননি। তাই এমনটি ঘটেছে। এমন করাটা যে ঠিক হয়নি, সেটা স্বীকার করেছেন তিনি।’

আরও পড়ুন:
‘সচিবের ফোন না ধরায়’ নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি
ঠিকাদারের নামে প্রকৌশলীর মামলা
নিম্নমানের কাজ : বাধা দেয়ায় প্রকৌশলীকে ঠিকাদারের মারধর
প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার
চার বছরেও শুরু হয়নি মহাবিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The body of the police officer was found under the bridge

সেতুর নিচে মিলল কারা হিসাবরক্ষকের মরদেহ

সেতুর নিচে মিলল কারা হিসাবরক্ষকের মরদেহ প্রাণ হারানো শহিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
নিহতের স্ত্রী শামসুন্নাহার রুমি জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে ফোনে কথা বলে ঈদ করার জন্য গাজীপুর থেকে রওনা দেন স্বামী শহিদুল ইসলাম। এর পর একাধিকবার ফোন করেও শহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মানিকগঞ্জে সেতুর নিচ থেকে এক কারা হিসাবরক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঈদের দিন সোমবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাগীর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর জাগীর সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাণ হারানো শহিদুল ইসলাম (৫২) সিরাজগঞ্জের বাজন দারগাতী এলাকার বাসিন্দা। তিনি গাজীপুর কারাগারে কারা হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী শামসুন্নাহার রুমি জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে ফোনে কথা বলে ঈদ করার জন্য গাজীপুর থেকে রওনা দেন স্বামী শহিদুল ইসলাম। এর পর একাধিকবার ফোন করেও শহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ঈদের দিন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে মরদেহের কথা জানতে পেরে জাগীর সেতুর নিচে যান এবং নিহত শহিদুল ইসলামকে শনাক্ত করেন তিনি।

মানিকগঞ্জ সদর ওসি মো.হাবিল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কৃষকরা জাগীর সেতুর নিচে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে জরুরি ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে এবং খবর পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে নিহতের সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিহত শহিদুল ইসলাম মানিকগঞ্জ শহরের গঙ্গাধরপট্টি এলাকায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে সাগরে মিলল জেলের মরদেহ
খুলি ও টুকরো টুকরো মাংস উদ্ধার: নিখোঁজ শর্মিলার বাবার মামলা
চাচার বিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করায় সৌরভ খুন
খুলি নিয়ে টানাটানি করছিল কুকুর, বস্তায় মিলল টুকরো টুকরো মাংস
ট্রেন থেকে পড়ে মেঘনায় নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The owner was killed by a cow on the way to market

হাটে নেয়ার পথে ‘গরুর আঘাতে’ মালিকের মৃত্যু

হাটে নেয়ার পথে ‘গরুর আঘাতে’ মালিকের মৃত্যু প্রতীকী ছবি
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম গত শুক্রবার রোয়াইলবাড়ি বাজার কোরবানির হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার পথে নিজের পালিত গরুর আঘাতে মারাত্মক আহত হন।

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে পালিত ষাঁড়ের আঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোয়াইলবাড়ি বাজার কুরবানির হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার পথে শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে মারা যান তিনি।

প্রাণ হারানো সাইফুল ইসলাম (২৮) নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের আউজিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম গত শুক্রবার রোয়াইলবাড়ি বাজার কোরবানির হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার পথে নিজের পালিত গরুর আঘাতে মারাত্মক আহত হন। তাকে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে শনিবার রাত ২টার দিকে মারা যান সাইফুল। ঈদের আগের দিন রোববার দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে একই উপজেলায় ঈদের আগের দিন রোববার বিকেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান রিমন মিয়া নামে এক যুবক। তিনি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের ছয়দুন বালিকান্দি পাড়া গ্রামের ইনছান মিয়ার ছেলে।

খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

আরও পড়ুন:
দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে পুকুরে মিলল মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ
ঢামেকে অসুস্থ হাজতির মৃত্যু
ভাটারায় ভবনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ শিশুর মৃত্যু
চট্টগ্রামে খালে নিখোঁজ দুই শিশুর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার
মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A live dolphin floated in the estuary of Andharmanik again

আন্ধারমা‌নিকের মোহনায় ফের ভেসে এলো জীবিত ডলফিন

আন্ধারমা‌নিকের মোহনায় ফের ভেসে এলো জীবিত ডলফিন পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীতে আবারও ভেসে এসেছে একটি জীবিত ডলফিন। ছবি: নিউজবাংলা
কেন বার বার জীবিত বা মৃত ডলফিন উপকূলে আসছে, এ নিয়ে মৎস্য গবেষণা এবং মৎস্য বিভাগের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার বলে জানান ডলফিন রক্ষা কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ তুষার।

পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় আবারও ভেসে এসেছে একটি জীবিত ডলফিন। এর আগে গত ১২ জুন বিকেলে ওই নদী সংলগ্ন একটি জলাশয়ে ভেসে আসে আরেকটি জীবিত ডলফিন। পরদিন সেটিকে সাগরে অবমুক্ত করা হয়।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় দুটি জীবিত ডলফিন ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, রোববার শেষ বিকেলে কলাপাড়া উপজেলার জালালপুর গ্রামে আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে একটি জীবিত ডলফিন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার ইমতিয়াজ তুষার ও সদস্য কেএম বাচ্চুর নেতৃত্বে সাত থেকে আটজনের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ডলফিনের শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তারা।

ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য কেএম বাচ্চু বলেন, ‘আমরা পানিতে নেমে প্রায় আধঘণ্টা ধরে ডলফিনটিকে কিছু খাবারের ব্যবস্থা করেছি এবং তাকে সঙ্গ দেয়ার চেষ্টা করেছি। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ডলফিনটিকে ওই এলাকার একটি পুকুরে রাখা হয়েছে। আগামীকাল সকালে ডলফিনটি সুস্থ থাকলে সাগরে অবমুক্ত করা হবে।’

কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান মিরাজ জানান, এর আগে প্রায় কাছাকাছি স্থান থেকে আরও একটি জীবিত ডলফিন ভেসে এসেছিল। আজকেও আসলো। এরমধ্যে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসল মৃত ডলফিন। কিন্তু কেন এরকম হচ্ছে এ বিষয়ে গবেষণা দরকার।

কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ তুষার জানান, এটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় দেড় ফুট। এটি বোতলনোজ প্রজাতির ডলফিন। এরা সাধারণত জোড়াবদ্ধ অবস্থায় সাগরে থাকে।

কেন বার বার জীবিত বা মৃত ডলফিন উপকূলে আসছে এ নিয়ে মৎস্য গবেষণা এবং মৎস্য বিভাগের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
কুয়াকাটা সৈকতে অর্ধগলিত ডলফিন
হালদায় এক সপ্তাহে ৩ ডলফিনের মৃত্যুর কারণ কী
৭ দিনের ব্যবধানে হালদায় আরও দুটি মৃত ডলফিন
হালদার বুকে আরও একটি মৃত ডলফিন
এবার কুয়াকাটা সৈকতে ‘সদ্যোমৃত’ ডলফিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The resort owners said in Srimangal that there is less advance booking during Eid

ঈদে আগাম বুকিং কম শ্রীমঙ্গলে, বললেন রিসোর্ট মালিকরা

ঈদে আগাম বুকিং কম শ্রীমঙ্গলে, বললেন রিসোর্ট মালিকরা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের একটি রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা
শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীনলিফ গেস্টহাউজের মালিক এসকে দাশ সুমন বলেন, ‘সিলেটে বৃষ্টির কারণে বন্যা হচ্ছে। অনেক পর্যটক ধারণা করছেন শ্রীমঙ্গলেও বন্যা, কিন্তু শ্রীমঙ্গলে কখনই বন্যা হয় না। অনেকে সিলেটের সাথে সেটা গুলিয়ে ফেলছেন।’

ঈদ কিংবা অন্য কোনো লম্বা ছুটি পেলেই প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমাতে শুরু করেন চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারে, তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে পর্যটকদের আগাম বুকিং কম বলে জানাচ্ছেন হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা।

শহর ও শহরের বাহিরের হোটেল-রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার বিকেল পর্যন্ত শহরের হোটেলগুলোতে প্রায় ২০ শতাংশ ও শহরের বাহিরের রিসোর্টগুলোতে প্রায় ৪০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং করেছেন পর্যটকরা।

চা–বাগান ছাড়াও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, সাত রঙের চা, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১–সহ নানা স্থান ঘুরে দেখেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।

শহর থেকে একটু দূরে লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, হরিণছড়া গলফ মাঠ, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী পল্লি, সুদৃশ্য জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ ঘুরে দেখেন অনেকেই।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, পদ্মা লেক, পাত্রখলা লেক, ক্যামেলিয়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, মণিপুরী পল্লি, খাসিয়া পল্লি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতির টানে তাই পর্যটকরা ছুটে আসেন চায়ের রাজ্যে।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীনলিফ গেস্টহাউজের মালিক এসকে দাশ সুমন বলেন, ‘দিন দিন পর্যটকরা দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ট্যুর কোম্পানি গুলো ঈদ কিংবা অন্যান্য ছুটির সময় ভারত, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে যাওয়ার অফার দেন। এখন বেশির ভাগ পর্যটকই বিদেশমুখী হয়ে যাচ্ছেন। এবার ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমরা হোটেল রিসোর্ট মালিকরা খুব কম আগাম বুকিং পাচ্ছি। মূলত যারা শ্রীমঙ্গলে রাত্রী যাপন করেন ৮০ ভাগই আগাম বুকিং দিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, ‘সিলেটে বৃষ্টির কারণে বন্যা হচ্ছে। অনেক পর্যটক ধারণা করছেন শ্রীমঙ্গলেও বন্যা, কিন্তু শ্রীমঙ্গলে কখনই বন্যা হয় না। অনেকে সিলেটের সাথে সেটা গুলিয়ে ফেলছেন। এখন শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জিত। সবুজে ভরে আছে সবকিছু।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘সাধারণত ১ সপ্তাহ আগ থেকেই হোটেল রিসোর্টে আগাম বুকিং হয়। এবার আগাম বুকিং অনেক কম। তবে আমরা আশা করছি ঈদের দিন পর্যটক বাড়বে৷ তাছাড়া ঈদুল আযহায় অনেকে কোরবানি দেন। সেজন্য অনেকে বাড়িতে ঈদ পালন করেন। আমরা আশা করছি ঈদের পরের শুক্র শনিবার আমরা অনেক পর্যটক পাব।’

মৌলভীবাজার সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে আমরা পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঈদের আগে শপিংমল ও কোরবানির পশুর হাটে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি পর্যটন স্পটগুলোতে আমাদের পুলিশ থাকবে। পর্যটকরা যেন ঈদের ছুটি কাটিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

আরও পড়ুন:
‘সাগর নিবাস’ রিসোর্ট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান
মামুনুলকাণ্ডে তছনছ রিসোর্টটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এক বছরেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inundated Eid flood situation worsens in Sylhet

সিলেটে জলমগ্ন ঈদ, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সিলেটে জলমগ্ন ঈদ, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি পাহাড়ি ঢলে নগরের বাইরে উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
নগরের বালুচর এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান নোমান বলেন, ‘বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তাঘাটও পানির নিচে। এ অবস্থায় কোরবানি কীভাবে দেব বুঝতে পারছি না। এলাকার সবাই এনিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।’

ভারি বৃষ্টিতে সিলেট নগরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বেশির ভাগ এলাকা। ঈদের সকালে এমন পরিস্থিতি দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরের অনেক ঈদগায়ের ঈদের জামাত পেছানো হয়েছে। বাসা বাড়ি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোরবানি দেয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় স্থানীয়রা।

এদিকে পাহাড়ি ঢলে নগরের বাইরে উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষত সুনামগঞ্জ শহরে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি।

রোববার রাত থেকেই সিলেটে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। যা সোমবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে সিলেট নগরের অর্ধেকের বেশি এলাকা জলমগ্ন হয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে নগর। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে অনেক এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহ।

সোমবার ভোরে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমনটা জানা যায়।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব জানান, রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আরও দুদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সান্তনু দত্ত সন্তু বলেন, ‘রোববার রাতেই আমার ওয়ার্ডের তালতলা, মাছুদিঘীর পাড়, জামতলা, মনিপুরী রাজবাড়ী, রামের দিঘীরপাড়, খুলিয়া পাড়া, তোপখানাসহ প্রায় সব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

নগরের বনকলা পাড়া এলাকার আব্বাসী জামে মসজিদে পানি ঢুকে পড়েছে। এই মসজিদে সকালে ঈদের জামাত হওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে স্থানীয়রা মসজিদ থেকে পানি বের করার চেষ্টা করছেন।

নগ‌রের বিভিন্ন এলাকা ডু‌বে যাওয়ায় হযরত শাহজালাল (র.) মসজিদ ঈদের বিশেষ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দরগার খাদেম মুখ‌তি আব্দুল খা‌বির।

নগরের বালুচর এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান নোমান বলেন, ‘বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তাঘাটও পানির নিচে। এ অবস্থায় কোরবানি কীভাবে দেব বুঝতে পারছি না। এলাকার সবাই এনিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।’

এদিকে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপ‌র দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানিতে তলিয়ে গেচগে সুনামগঞ্জ পৌর শহ‌রের বেশ কয়েকটি এলাকার। এসব এলাকার বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

এ ছাড়াও জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর ও তা‌হিরপুর উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। জেলার অন্তত শতা‌ধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক ত‌লিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বা‌সিন্দারা।

আরও পড়ুন:
ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল কুড়িগ্রাম শহর
পাকিস্তানের স্বপ্ন ভাঙল বৃষ্টি, সুপার এইটে যুক্তরাষ্ট্র
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে
বৃষ্টি হতে পারে সব বিভাগে
তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ফের পানির নিচে সিলেট নগর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The city of Kurigram was submerged in heavy rain

ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল কুড়িগ্রাম শহর

ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল কুড়িগ্রাম শহর কুড়িগ্রামে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় হাজার হাজার বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
পৌর বাজারের ক্রেতা জুয়েল রানা বলেন, ‘বাজারের পাশের ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে আছে। পৌরসভার লোকজন এসব দেখে না। গত তিনদিন ধরে রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার কারণে চলতে লোকজনের কষ্ট হচ্ছে।’

কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে ভারি বৃষ্টির কারণে জেলা শহরের অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা শহরের দুটি খাল দখল হওয়াসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেনগুলোতে দীর্ঘদিনের প্লাস্টিক বর্জ্য, ময়লা আবর্জনা জমে থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে নামতে পারছে না। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস, খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল পাড়া, শিক্ষা অফিস, পিটিআই, মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, রৌমারী পাড়া, গণপূর্ত অফিস, তালতলা, হরিকেশ কানিপাড়া, হাটিরপাড়, স্বাধীন পাড়া, পৌরবাজার এলাকা, মধুর মোড়, দাদামোড়,গড়ের পাড়সহ পৌর শহরের অনেক স্থানে রাস্তা এবং বাসা-বাড়িগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভার রৌমারি পাড়ার বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই অসুবিধা হয়েছে। পৌরসভার উদাসীনতায় আমাদের মতো বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌরসভার পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় হাজার হাজার বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’

পৌর বাজারের ক্রেতা জুয়েল রানা বলেন, ‘বাজারের পাশের ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে আছে। পৌরসভার লোকজন এসব দেখে না। গত তিনদিন ধরে রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার কারণে চলতে লোকজনের কষ্ট হচ্ছে।’

সাংস্কৃতিক কর্মী শ্যামল ভৌমিক বলেন, পৌর শহরের বৃষ্টির পানি নামত পৌরসভার ঈদগাহের নালা দিয়ে। এটি ভরাটের কারণে পানি আর নামতে পারছে না ফলে এমন জলজটের সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস জানায়, রোববার গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র কাজিউল ইসলাম বলেন, শহরের ড্রেনগুলোতে বৃষ্টির পানি বেশি থাকায় পানি ধীরে ধীরে নামছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘স্থায়ীভাবে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে ওসমানী হাসপাতালে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগ
মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে কোথাও কোথাও
স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চান নেত্রকোণা শহরের বাহিরচাপড়ার বাসিন্দারা
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে সব বিভাগে
গাছ উপড়ে সড়কে, কমলগঞ্জে দুই ঘণ্টা যোগাযোগ বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Residents of St Martins Eid cheer dimmed

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের ঈদের আনন্দ ম্লান

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের ঈদের আনন্দ ম্লান মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা কারও মন ভালো নেই। ছবি: নিউজবাংলা
পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে পড়েছে। বেড়ে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কোরবানির পশু দ্বীপে নেয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু দ্বীপবাসীর ঈদের আনন্দে ভর করেছে শঙ্কা।

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। অথচ এই উৎসবের আনন্দ স্পর্শ করছে না দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত এখনও চলছে। আর এই সংঘাতে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের দিকে ছোড়া হচ্ছে গুলি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১০ দিন ধরে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে নৌ-চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাঝে একদিন চলাচল করলেও আবার তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে পড়েছে। বেড়ে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভয়াবহ অবস্থায় আছি। কাল ঈদ। কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ১০ দিন ধরে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে নৌ-চলাচল বন্ধ। টেকনাফ থেকে গরু আনতে পারি নাই। তাই ঈদ আনন্দ শেষ হয়ে গেছে।

‘শতাধিক পরিবারে এখন এমনই চিত্র। মিয়ানমারে যুদ্ধের কারণে এসব পরিবারে ঈদের এই সময়টাতেও আতঙ্ক ভর করেছে। প্রতি বছর সেন্টমার্টিনে চার শতাধিক গরু কোরবানি হতো। এ বছর সম্ভব হয়নি। এখানে আমরা যেন জীবন-মরণ যুদ্ধের মধ্যে আছি।’

দ্বীপের আরেক বাসিন্দা মোনাফ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে এসে প্রতি বছর ভাগে হলেও কোরবানি দিতাম। এবার সম্ভব না। গত বছর সাতজন মিলে ৭০ হাজার টাকায় একটি গরু কোরবানি দিয়েছিলাম।

‘এ বছরও কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ১০ দিন আগে টেকনাফে একটা গরু দেখে আসছি। হঠাৎ নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রলার দেখলেই মিয়ানমার থেকে গুলি ছোড়ে। এ কারণে কোরবানির সামর্থ্য থাকলেও এবার দিতে পারতেছি না।’

সেন্টমার্টিনে ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মিয়ানমারে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ। এখানে পর্যটক আসলে আমাদের ঘর-সংসার চলে। তা থেকেও দ্বীপের মানুষ বঞ্চিত।

‘এই দ্বীপে বেশিরভাগ মানুষের পেশা হচ্ছে মাছ শিকার। ৬৫ দিন সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ শিকারও বন্ধ রয়েছে। আবার এ মাসে এসে নাফ নদ বন্ধ করে রেখেছে মিয়ানমার। গত ১০ দিন ধরে নৌ-রুট বন্ধ। এ কারণে এবার দ্বীপের মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই বললেই চলে। তবুও ঈদ আনন্দ উদযাপনের অপেক্ষায় সেন্টমার্টিন।

সেন্টমার্টিনের কলেজ শিক্ষার্থী আক্কাস উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে দ্বীপে ৫/৬টি পশুর হাট বসলেও বড় আকারের গরু কিনতে যেতে হয় টেকনাফ বা শাহপরীর দ্বীপে। সেখান থেকে ট্রলারে করে দ্বীপে আনা হয় গরু।

বর্তমান অবস্থায় তা কি আদৌ সম্ভব? অথচ আগের বছরও দ্বীপে তিন শতাধিক গবাদি পশু কোরবানি দেয়া হয়। এই সংখ্যা এবার খুব বেশি হলে ২০-২৫টা হবে। আমাদের ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিছে মিয়ানমার।’

সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এবার সেন্টমার্টিনে কোনো ঈদের আমেজ নেই। সর্বত্র শুধু মিয়ানমারের আতঙ্ক। টাস করে ট্রলারে গুলি করে এবং মাঝে মধ্যে বিকট গুলির শব্দ আসে। এ অবস্থায় কিভাবে ঈদের আনন্দ থাকবে?’

তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌরুটে গত দুশ বছর ধরে নিরাপদ যাতায়াত থাকলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ছোড়া গুলির অজুহাতে সমুদ্র ও নাফ নদের চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর এমন কষ্টে দিন কাটাতে চাই না। আমরা এটির স্থায়ী সমাধান চাই।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতিতে কোরবানি উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য পাঁচটি গরুসহ ভিজিডি, ভিজিএফ, জেলে পরিবারের জন্য ৭৬ টন চাল সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে তৎপর থাকার নির্দেশ বিজিবি প্রধানের
সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচলে সংকটের নেপথ্যে দুটি ডুবোচর
সেন্টমার্টিনের পথে পণ্যবাহী জাহাজ
সেন্টমার্টিন থেকে এসেছে যাত্রী, টেকনাফ থেকে পণ্যবাহী ট্রলার যায়নি
বিকল্প রুটে সেন্টমার্টিনে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন শুরু

মন্তব্য

p
উপরে