মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈশ্বিক মন্দার এ সময়ে দেশের অর্থনীতি এখনও ভালো জানিয়ে দেশবাসীকে সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার সকালে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যতক্ষণ আছি কাজ করে যাব, তবে আমি চাই, সব মানুষই যেন ন্যায়বিচারটা পায়। দ্রুত মামলাগুলো যেন নিষ্পত্তি হয়। একটা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি যেন সৃষ্টি হয়। সেই পরিবেশটা যেন থাকে। সেটাই আমরা চাই।
‘আমরা তো আইন প্রণয়ন করি। আপনারা (বিচারক) আইন ব্যবহার করেন। কাজেই সেখানেও যখন যেটা হয়, আমরা সংশোধন করি, আরও উন্নত করি। যা-ই করি, মানুষের কল্যাণে, মানুষের উন্নয়নে।’
তিনি বলেন, ‘আমি যতক্ষণ আছি, এটুকু বলব, বাংলাদেশে আমাদের মানুষ যেন অন্তত আইনের শাসন পায়, সঠিক বিচার পায়। তাদের স্বার্থে এই জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য যা যা করণীয়, তা আমরা করে দেব।’
সারা দেশে ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ই-জুডিশিয়ারি চালু করা গেলে মামলা ব্যবস্থাপনায় আরও গতি আসবে। বিচারকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা আমরা করে দেব…সেই সঙ্গে একটা আইনি বিশ্ববিদ্যালয় আমরা প্রতিষ্ঠা করব। আমি মনে করি যে, সর্বক্ষেত্রে ট্রেনিংটা একান্তভাবে দরকার।’
তিনি বলেন, ‘এখন এই সময়টা আসলে অর্থনৈতিক মন্দা যেহেতু বিশ্বব্যাপী, তার একটা ধাক্কা আমাদের আছে। তাই আমি বলতে পারি না যে, এক্ষুনি করে দিতে পারব, তবে আমার ইচ্ছে আছে আমাদের এই জুডিশিয়ারি সার্ভিসটাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী এবং অ্যাকাডেমি বা যা-ই করব, তা আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন হয়, যাতে বিশ্ব থেকে কেউ এসে দেখতে পারে। আমরা যেমন বিদেশে পাঠাব ট্রেনিংয়ের জন্য, বিদেশ থেকেও যেন আমাদের এখানে আসে, সেই ধরনের করেই আমি করতে চাই।’
করোনাভাইরাসের অভিঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট মন্দা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস অতিমারির কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। আমাদেরও কৃচ্ছ্রসাধন করতে হচ্ছে। অনেক কাজ এখন আমাদের একটু কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। কারণ সারা বিশ্বের তো এই দুরবস্থা।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা নিয়েও আলোচনা ছিল সরকারপ্রধানের কণ্ঠে।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে স্যাংশন, পাল্টা স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা)। আমেরিকার এই স্যাংশনের কারণেই আমাদের যে পণ্য, বিশেষ করে যেগুলো বিদেশ থেকে আমাদের আনতে হয়, কিনতে হয়, সেগুলোর এত বেশি দাম বেড়ে গেছে; জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে গেছে। ভোজ্যতেলের মূল্য বেড়ে গেছে। গম, চিনি, সার—যা যা আমাদের কিনতে হচ্ছে, ভুট্টা যে আমাদের কিনতে হয় বিদেশ থেকে, সেগুলোও কয়েক গুণ বেশি; মুদ্রাস্ফীতি সারা বিশ্বব্যাপী।
‘উন্নত দেশ ধনী দেশ, তারাও নিজেদের এখন অর্থনৈতিক মন্দার দেশ ঘোষণা করে দিয়েছে, তবে বাংলাদেশটা এখনও আমরা ওই অবস্থায় পৌঁছায়নি। সে কারণেই আমি সবাইকে আহ্বান করেছি, যার যেখানে যতটুকু জায়গা আছে, যে যা পারবেন, অন্তত উৎপাদন বাড়ান, যেন আমাদের খাদ্য বা অন্য কোনো কারণে কারও কাছে হাত পেতে চলতে না হয়। জ্বালানি তেল হোক, ভোজ্যতেল হোক, বিদ্যুৎ। কারণ আমাদের কথা ছিল বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার, আমরা কিন্তু সেটা দিতে পেরেছি, কিন্তু এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে।’
সারা দেশের আদালত ভবনগুলোর উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিচার করবেন, যারা বিচার চাইতে আসবেন, সবাই যেন একটা সুস্থ পরিবেশ পায়। ভালোভাবে থাকলে, ভালো পরিবেশ পেলে পরে চিন্তা করারও একটা সুযোগ হয়। কাজেই একটা সঠিক চিন্তা করেই কিন্তু বিচারটা করতে হয়। এটা একটা কঠিন কাজ। কাজেই সেই কাজটা যেন সহজভাবে হয়, তার ব্যবস্থা করা, এটা আমাদের দায়িত্ব।
‘এ জন্য ৬৪ জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য ৮ থেকে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৪টির কাজ শেষ; আরও ৭টি সমাপ্তির পথে। তা ছাড়া সব জেলারগুলো উন্নতি করে দিচ্ছি। জেলা জজ আদালতে এজলাস সংকট নিরসনে ২৮টি জেলায় জজ আদালত ভবন যেগুলো তিন তলা, সেগুলো চার তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী করে দেয়া হয়েছে।’
অবশিষ্ট ভবনগুলোর উন্নয়নেও প্রকল্প নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারকদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্যের দিকটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্ব যখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে একেবারে বিধ্বস্ত, বাংলাদেশে কিন্তু মাত্র একটা ঘটনাই ঘটতে পেরেছে। সেই হোলি আর্টিজান। তারপর থেকে কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা বা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা প্রত্যেকেই সতর্ক। আর কোনো ঘটনা এমনভাবে ঘটতে দিইনি আজ পর্যন্ত, ঘটতে পারেনি।’
আদালতেও সন্ত্রাসী হামলা হওয়ায় বিচারকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘রায় দিয়ে যখন ঘরে ফিরতে যান, যেকোনো সময় তাদের ওপরে হামলা হতে পারে। সেটা যাতে না হয়, সে ব্যাপারে কী কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে…কিছু ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। সামনে আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে, সবাই যেন নিরাপদ থাকতে পারেন সে জন্য।’
সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম—এটারও কিন্তু ধরন পাল্টে যাচ্ছে। এখানেও কিন্তু সাইবার ক্রাইমটা সব থেকে বেশি। তার জন্য আমরা আইনও করেছি। অনেকে এর বিরুদ্ধে অনেক কথা বলে, কিন্তু বাস্তবতা হলো এটা আমাদের একান্তভাবে প্রয়োজন। এই কারণে যে এখন কিন্তু আগের মতো যুদ্ধ আর মল্ল যুদ্ধ তো হয় না।
‘এটাও বোতাম টিপে হয়, এখন তো ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। যুদ্ধও ডিজিটাল পদ্ধতিতে, ক্রাইমগুলোও এ ধরনের পদ্ধতিতে হয়ে যায়। এমনকি ট্রেনিং পর্যন্ত। কারণ অনলাইনে ট্রেনিং দেয়া হয় কীভাবে বোমা বানাবে, কীভাবে মানুষ খুন করবে—সেগুলো শেখানো হয়।’
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী মামলাগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলে পরে তখন যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তারা আর হবে না।’
নিজের বাবা-মা হত্যার বিচার পেতে ৩৫ বছর অপেক্ষার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমিও চেষ্টা করে যাচ্ছি একটি মানুষ ভূমিহীন থাকবে না, ঠিকানাবিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। কেউ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হবে না। প্রতিটি মানুষের জীবনমান যেন উন্নত হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু কাজ করে যাচ্ছি। নইলে যতবার আমার ওপর আঘাত এসেছে, সব তো মামলাও করতে পারিনি।
‘অনেক ক্ষেত্রে মামলা করারও সুযোগ ছিল না তখন। কারণ বিএনপি-জামায়াত জোটের সময় আমরা মামলা করতে পারিনি। অনেক মামলা পেন্ডিং ছিল। সেগুলো একে একে আপনারা নিষ্পত্তি করে দিচ্ছেন। দোষীরা সাজা পাচ্ছে।’
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ও দূরদর্শিতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। উঠে আসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বদলে যাওয়া রাজনীতি এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে নিজের ছয় বছরের শরণার্থী জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) যদি বেঁচে থাকতেন ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারত।’
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত মোট ২৯ বছরের এই সময়কালকে ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এই সময়গুলোতে বাংলাদেশের মানুষের জীবনে শুধু অন্ধকারই নেমে এসেছে। কোনো ক্ষেত্রেই কিন্তু কোনো অগ্রগতি সাধিত হয়নি। বাংলাদেশকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল যেন তখনও ওই পাকিস্তানের একটা প্রদেশ হিসেবে রয়ে গেছে।’
জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের বিচারের পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধী বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়েও নানা বাধা, প্রতিবন্ধকতা আসে বলে জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।
তিনি বলেন, ‘শুধু দেশে না, অনেক অনেক বড় বড় দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানরাও এই বিচারে অনেক বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। কেউ কেউ তো সরাসরি টেলিফোনে আমার সঙ্গে কথাও বলে, কিন্তু যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, তাদের বিচার হবে না…তাদের শুধু আমি একটা কথা বলেছিলাম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যারা অপরাধ করেছিল, তাদের বিচার তো এখনও চলছে। তো বাংলাদেশে মানুষের ওপর যারা এ রকম অত্যাচার করেছে, আমার মা-বোনদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছে, তারা এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের বিচার হবে না কেন? এ ধরনের চাপ কিন্তু সবসময় ছিল। তারপরেও এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কিন্তু আমরা করতে পেরেছি।’
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না। আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’
এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনো কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।’
বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।’
দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলে থাকি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’
এদিকে, বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে সোমবার (১৩ জুলাই) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি। মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র ক’দিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সকল শ্রেণিপেশা, সকল ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে এই দেশটাকে হটিয়েছে। তার মানে আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যদি ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।
প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আজকে বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই — সকলে মিলে দেশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, ঠিক রাখব। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা, আমাদের ঘরবাড়ির আশেপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশেপাশের এলাকা, আমাদের স্কুল-কলেজের আশেপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।’
ত্রিশ গোডাউনে সাগরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দু’পাশে যে সকল মানুষ আছেন, তাদের সকলকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই খালের পানির মধ্যে অনেক সময় অনেক প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের কাগজ, টিস্যু পেপারসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ভাসতে থাকে। অর্থাৎ আমরা যারা এখানে পার্কে আসি, হয়তো পানি খেলাম আর বোতলটা ফেলে দিলাম খালের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, এখানে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন সকলের কাছে, আপনারা যখনই যার সাথে দেখা হবে— দয়া করে প্রত্যেককে বলবেন যে, খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না।’
সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা ময়লা ফেলার বিন লাগানো আছে। সবাইকে আপনারা দয়া করে মাইকেও প্রচার করবেন, যারা এই খালের পাশে বসবেন, বিকেল বেলায় অনেকে বেড়াতে আসেন তারা যেন বিনের মধ্যে ময়লা ফেলেন। খাল পরিষ্কার রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেখুন, খালের অপরপাড়ে একটা পাইপ লাগানো হয়েছে, এটা কীসের পাইপ? যা খালের সাথে এসে যুক্ত হয়েছে। বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি? সিটি করপোরেশনের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা বাসা-বাড়ির পানির ড্রেনেজ সিস্টেম করুন। কিন্তু পানি বা সুয়ারেজ লাইনের কানেকশনগুলো খালের মধ্যে না রাখাই ভালো। এগুলো থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, পানি দূষিত হয়ে যায়। কাজেই আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের নিজের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘরটা যেমন ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ যদি আমরা নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করব, কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব আমরা নষ্ট করে দেব।’
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতৃবৃন্দরা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়।
ছবি: সংগৃহীত
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মডেল মসজিদ নির্মাণের নামে প্রকল্প ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘ইসলামের নাম ভাঙিয়ে যারা এই অপকর্ম করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ও ব্যয় নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে।’
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অর্থ লোপাটের উদ্দেশে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। মসজিদের নামে করা এসব অনিয়ম কেবল দুর্নীতির নয়, বরং ধর্মীয় অবমাননার শামিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রেও মেগাপ্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সময় ও ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে লুটপাট করা হয়েছে। মডেল মসজিদের ক্ষেত্রেও ঠিক একইভাবে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরকারের অন্যান্য সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে তিনি জানান।
এ সময় জয়নুল আবদীন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ মডেল মসজিদ মানসম্মতভাবে নির্মিত হয়নি এবং নির্মাণের পরপরই অনেকগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তার নিজের নির্বাচনী এলাকা সেনবাগের মডেল মসজিদের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে মসজিদে প্রবেশ করাই দায় এবং ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। একই অভিযোগ শোনা যায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের কণ্ঠেও।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিনা সুদে গাড়ির ঋণ স্থগিতের পর এবার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাচ্ছে সরকার। এতে অর্ধেকে নামতে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের মাসিক ব্যয়। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পেতেন। তবে ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় এর পরিমাণ কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।
উপসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি অর্থে বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।
সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।’
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।
একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ছবি: সংগৃহীত
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতে সংস্কার, করখাতে প্রবৃদ্ধিসহ সার্বিকভাবে আইএমএফ সন্তুষ্ট। তবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আইএমএফের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে এ পর্যন্ত আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফের দেওয়া শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সংস্থাটি নতুন রাজনৈতিক সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট।’
নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন আইএমএফ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলের কর্মসূচি দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল বলে সেখান থেকে সরকার বের হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আইএমএফের সাথে আওয়ামী লীগের সময়ের প্রোগ্রাম থেকে বের হয়ে আসছে সরকার। আগের প্রোগ্রামের অনেকগুলো বিষয়ে সম্মত নই, তাই বেরিয়ে এসে নতুন প্রোগ্রামে যাচ্ছি। নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের মানুষের সুরক্ষা করে যে ধরনের প্রোগ্রামে যাওয়া দরকার সে ধরনের প্রোগ্রামে যাচ্ছি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য, জনগণে স্বার্থে যে ধরনের প্রোগ্রাম প্রয়োজন সেটি নেওয়া হবে। কিস্তির টাকা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই, যে প্রোগ্রামে যাবো সেটিতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটিই চিন্তা। কিস্তির টাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রোগ্রামে যাব সেটি দেশ ও মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
আইএমএফের সঙ্গে কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের সাথে আওয়ামী লীগ আমলের প্রোগ্রাম দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল, না হলে বের হলাম কেন! অনেকগুলো শর্ত ছিল, যেগুলো নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা মনে করি গ্রহণযোগ্য নয়।’
২০২৩ সালে আইএমএফের অনুমোদিত ঋণের পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঋণের প্রায় ২০০ কোটি ডলার এখনো বকেয়া রয়েছে। অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ ছাড় হয়নি। তাই পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া ঋণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে নতুন করে আইএমএফের কাছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে চায় বিএনপি সরকার।
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ নারী ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, "এতে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে সাত হাজার নারী এই কার্ড পাবেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর সরকার দেশের চার কোটি পরিবারের নারীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পৌঁছালে স্থানীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। গৌরনদীর সরিকল সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। জনসমাবেশে উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "গাছ বড় হওয়া পর্যন্ত যে যতটুকু পারবেন, ততটুকু যত্ন করবেন।" এ সময় তিনি স্লোগান দেন, "বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।" নিজস্ব উদ্যোগে চারটি চারা রোপণ করে তিনি যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলারও অনুরোধ জানান।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রী নারীর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করেছে এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করব। এদের মধ্যে যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।"
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, "আমরা দেশের সবাইকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। সবাইকে নিয়ে, সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলতে চাই। সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে মানবিকতার ভিত্তিতে আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা যদি সবাই ধৈর্য নিয়ে চলতে পারি, তাহলে এই দেশটাকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—যে ধর্মেরই হই না কেন, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে, এই দেশে আমরা সবাই শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করেছি।"
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের সাগরদী খালে বৃক্ষরোপণ এবং বিকেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকা ফেরার কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন যে, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশের স্বার্থে যেকোনো বাধা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার বরিশাল সফর করছেন তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা হতে সড়কপথে রওয়ানা হয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পৌঁছান। এক দিনের এই সংক্ষিপ্ত অথচ বিশেষ সফরে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের তীরে বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। অনেকগুলি কর্মসূচির মধ্যে আমরা সারাদেশে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু রাখতে চাই। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।” রোপণকৃত চারার সঠিক যত্নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মন্তব্য করেন, “আজ এখানে দুই হাজার ৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ চারা রোপণের পর দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। একটি শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয় তার পরপর বাবা-মায়ের কাজ শেষ হয়ে যায় না। শিশুটাকে যত্ন সহকারে গড়ে তুলে মানুষ করা হচ্ছে আসল কাজ। তাই আজকে যে গাছের চারা রোপণ করা হবে সেটি নির্দিষ্ট সাইজে বড় না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে।”
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সেখানে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের সুবিধাভোগীদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি বরিশাল বিভাগীয় শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দুপুর নাগাদ কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সেখানে তিনি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ও জিআই স্বীকৃত আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করবেন। বিকেলের দিকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি বিশেষ সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি, যেখানে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এই সফরে কোনো তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে গৌরনদী হতে বরিশাল শহর পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই প্রান্তে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে ‘মানবপ্রাচীর’ তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও দলীয় কর্মীরা তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ হতে কঠোর নিরাপত্তা ও যাবতীয় লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকল নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে আজ সন্ধ্যার দিকেই তাঁর পুনরায় রাজধানী ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
মন্তব্য