× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Moulvibazars lemon farmers have their hands on their heads due to reduced demand
hear-news
player
google_news print-icon

চাহিদা কমায় মৌলভীবাজারের লেবু চাষিদের মাথায় হাত

চাহিদা-কমায়-মৌলভীবাজারের-লেবু-চাষিদের-মাথায়-হাত
দেশের বিভিন্ন এলাকায় লেবু চাষ হওয়ায় চাহিদা কমেছে মৌলভীবাজারের লেবুর। ছবি নিউজবাংলা
গত বছর এই সময়ে লেবুর দাম ছিল ২ থেকে ৪ টাকা, কিন্তু চলতি বছরের এই সময়ে লেবুর দাম নেমে এসেছে ৫০ পয়সা থেকে দেড় টাকায়।

প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের ৬ থেকে ৮ লাখ লেবু বাজার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেত। দামও ছিল ভালো। কিন্তু হঠাৎ করেই তা নেমে এসেছে ৩ থেকে ৪ লাখে। লেবুর দামও কমেছে দুই থেকে তিন গুণ। গত বছর এই সময়ে লেবুর দাম ছিল ২ থেকে ৪ টাকা, কিন্তু চলতি বছরে এই সময়ে লেবুর দাম নেমে এসেছে ৫০ পয়সা থেকে দেড় টাকায়। ফলে মাথায় হাত পড়েছে লেবু চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

ভারতীয় লেবু বাজারে আসা এবং চট্টগ্রাম, কাপাশিয়া, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লেবু চাষের ফলে শ্রীমঙ্গলের লেবু বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, চাষিরা লেবু বিক্রি করতে এসে লসে পড়ছেন। দাম না পেয়ে অনেকে লেবু ফেলে দিচ্ছেন।

লেবু ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য মতে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল হয়ে কমলগঞ্জ পর্যন্ত এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় দুই হাজার লেবুর বাগান রয়েছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জসহ ৭ উপজেলা ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের পাহাড়-টিলার মাটি ও আবহাওয়া দুটিই লেবু চাষের উপযোগী। প্রতি মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক কাগজি, চায়না, জারা, পাতি ও কাটা লেবুর উৎপাদন হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, শুধু মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় শ্রীমঙ্গলে।

শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজার থেকে লেবু নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

চাষিরা বলছেন, এ বছরের প্রথম দিকে বিরূপ আবহাওয়ায় লেবু বাগানের কিছু ক্ষতি হলেও ফলন ভালোই হয়েছে। প্রত্যন্ত জনপদের চাষিরা বিক্রির জন্য লেবু নিয়ে আসতেন বাজারে। আর করোনায় লেবুর বাড়তি চাহিদা থাকায় কাকডাকা ভোরে শুরু হতো লেবুর ব্যবসা। চাহিদাও ছিল তুঙ্গে, কিন্তু বছরের শেষ সময়ে এসে সে চিত্র বদলে গেছে।

চাষের খরচ তুলতে পারছেন না চাষিরা
শ্রীমঙ্গলের সীমান্তঘেঁষা শিবির বাড়ি খাস এলাকার লেবু চাষি লিটন মিয়া। তিনি বলেন, গাছ থেকে এক গাড়ি (২ হাজার পিস) লেবু পাড়তে মজুরি দিতে হয় ৭৫০ টাকা, বাজারে নিয়ে যেতে গাড়িভাড়া ১,২০০ টাকা। আমার এক গাড়ি লেবু বাজারে তুলতে মোট খরচ হয় ১,৭৫০ টাকা। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। এক দিন ২০০ টাকা লাভ হলে পরের দিনেই ১০০ টাকা লস। এতে লেবু চাষে আর উৎসাহ পাচ্ছি না। অনেক চাষি লেবু পেড়ে ফেলে দিচ্ছেন।

চাহিদা কমায় মৌলভীবাজারের লেবু চাষিদের মাথায় হাত
দেশের বিভিন্ন এলাকায় লেবু চাষ হওয়ায় চাহিদা কমেছে মৌলভীবাজারের লেবুর। ছবি নিউজবাংলা

লেবু চাষিরা জানান, একসময় সেপ্টেম্বরে লেবুর সিজন শেষ হয়ে যেত, তবে বর্তমানে সারা বছর লেবু থাকে। এখন উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ ও উচ্চ ফলনশীল চারা রোপণের কারণে সারা বছরই লেবু উৎপাদন হচ্ছে।

লেবু চাষি সামছুল হক জানান, তিনি এই বছর ৩০ একর জমিতে লেবু চাষ করেছেন। কিন্তু লেবু বিক্রি করে চাষের খরচ তুলতে পারছেন না।

এভাবে লস দিয়ে ব্যবসা বেশিদিন চালানো কঠিন বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ভারত থেকে প্রচুর লেবু বাজারে ঢুকছে। যার ফলে লেবুর বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই লেবুর দাম কম, তার ওপর ভারতীয় লেবু বাজারে আসায় দাম আরও কমছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে লেবু চাষ
শ্রীমঙ্গল লেবু ঘরের পরিচালক আশুতোষ চক্রবর্তী জানান, এই বছর হঠাৎ লেবুর বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে। মূলত দেশের বিভিন্ন জায়গায় লেবুর চাষ বেড়েছে। আগে যেভাবে সারা দেশের লেবুর চাহিদা পূরণ করত শ্রীমঙ্গল এখন আর সেভাবে নেই। শ্রীমঙ্গলের লেবু না গেলেও চাহিদা পূরণ হবে অনান্য এলাকার লেবু থেকে। তাই দাম কমে গেছে।

শ্রীমঙ্গল আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জসিম জানান, এবার লেবুর দাম গত বছরের তুলনায় তিন গুণ কম। ফলে চাষিরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি লেবু ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, এই জেলার মাটি ও আবহাওয়া লেবু চাষের জন্য উন্নত। জেলায় ১৫০০ থেকে ২০০০ হেক্টর জমিতে এ বছর লেবু চাষ হয়েছে। কৃষকদের তারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। বাজারদর ওঠানামা করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে চাষিরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে ব্যাপারে তারা খেয়াল রেখে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবেন।

ভারত থেকে স্থানীয় বাজারে লেবু আসার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এই রকম অভিযোগ আসেনি। যদি অভিযোগ পাই তাহলে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
300 Bigha Sarisha village

৩০০ বিঘার ‘সরিষার গ্রাম’

৩০০ বিঘার ‘সরিষার গ্রাম’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে এগিয়ে এসেছেন এ এলাকার কৃষকরা। এখন আর পতিত থাকছে না কোনো জমি।’

‘আগে আমরা চার পাঁচজন সরিষা আবাদ করতাম। এখন অনেক মানুষ সরিষা চাষ করছে, প্রায় দেড়শ জনের মতো। আরও যারা আছেন এখন তারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন সরিষা আবাদে।’

এমনটাই জানালেন নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের কাচারি পাড়ার সরিষা চাষি হারুন উর রশিদ।

তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। গতবার যেখানে করেছিলেন তিন বিঘা জমিতে।

কৃষক হারুন বলেন, ‘সরিষাতে খরচ চার হাজার টাকার মতো বিঘা প্রতি। ফলন ভালো হয়, দামও ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি সরিষার টাকা দিয়ে বোরো আবাদ উঠি যায়। সরিষার কোনো কিছু ফেলানি যায় না, গাছ খড়ি এবং খৈল গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনেক লাভ সরিষাত।’

আরেক কৃষক আলমগীর ইসলাম বলেন, ‘আমন ও বোরো দুটি ধানই আমরা আবাদ করতাম বছরে। এখন তিনটি ফসল ফলাচ্ছি বছরে। আমন এবং বোরোর মাঝখানের তিন মাস জমি পতিত থাকত। কোনো আবাদ করতাম না। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই সময়ে সরিষা করছি।

‘সরিষায় খরচ কম। সেচ দিতে হয় না। সার কীটনাশকও তেমন প্রয়োজন হয় না। সরিষা এখন আমাদের পুরো গ্রাম ছড়িয়ে পড়েছে। এবার যারা আবাদ করেননি তারাও আগামীতে সরিষা আবাদ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

আব্দুস ছামাদ নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘সরিষা গ্রামের চিত্র বদলে দিয়েছে। এলাকা পরিদর্শনে আসছেন কর্মকর্তাগণ। অনেকে আসছেন ছবি তুলতে।

‘আর ১৫ দিন পরই সরিষা কাটাই মাড়াই শুরু হবে। গতবার আবাদ একটু কম হলেও এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারও ভালো।’

সরেজমিনে কাচারি পাড়া এলাকা গিয়ে দেখা গেছে, ১৪০ জন কৃষক ৩০০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করছেন। দুই বিঘা থেকে শুরু করে পাঁচ বিঘা পর্যন্ত সরিষা লাগিয়েছেন জমিতে।

সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় অনেকে পেয়েছেন সার ও বীজ। কৃষি বিভাগের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরিষা করেছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ কর্মকর্তারা বলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয় কৃষকদের।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, ‘বিঘা প্রতি ৫ মণ উৎপাদন হবে সরিষা, যেখানে চার হাজার টাকা মণ বিক্রি হবে। বিঘা প্রতি চার হাজার টাকা খরচ হয় একজন কৃষকের। বিপরীতে একজন কৃষকের ধানে বিঘা প্রতি লাভ আসে তিন হাজার টাকার মতো।’

কাচারী পাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রশিদুল ইসলাম জানান, কৃষকদের নিয়ে আলোচনা করে এবং পরামর্শ দিয়ে সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে আস্তে আস্তে চাষির সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন ১৪০ জন কৃষক সরিষা করছেন। এই গ্রাম এখন সরিষা গ্রামে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করতে সরিষা আবাদের কোনো বিকল্প নেই এবং কোনো জমি পতিত রাখা যাবে না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা সফল হয়েছি নীলফামারীতে।’

কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ইউনিয়নের প্রতি পাড়া মহল্লায় আবাদ হয়েছে সরিষার। সরকারের প্রণোদনা সফল হয়েছে কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দিন দিন চাষির সংখ্যা আরও বাড়বে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে এগিয়ে এসেছেন এ এলাকার কৃষকরা। এখন আর পতিত থাকছে না কোনো জমি।’

আগামী তিন বছরের মধ্যে সরকারের দেয়া ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ ভাগ পূরণ করা হবে। ইতোমধ্যে শতকরা ১৪ ভাগ উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৭৭৭ হেক্টর জমিতে ৯১০০ টন সরিষায় ৩৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সরিষার তেল কি সয়াবিনের বিকল্প হতে পারবে
সয়াবিনের ঘাটতি পূরণে সরিষায় চোখ সরকারের
সরিষা ফুলে রঙিন কৃষকের স্বপ্ন
মাঠের পর মাঠ যেন হলুদের হাট
চাকে মধু আর হলুদে মোড়া ফসলের মাঠ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mustard smiles on the fallen horizon

পতিত দিগন্তে সরিষার হাসি

পতিত দিগন্তে সরিষার হাসি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়পুর বেলবাড়ি এলাকায় পতিত পড়ে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা এখন সরিষার ক্ষেত। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়পুর বেলবাড়ি এলাকায় এক সময় পতিত পড়ে থাকা ১১০ বিঘা জমি এখন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। কৃষকদের হাতের ছোঁয়ায় সেই পতিত জমিতে এখন সরিষার হাসি। এই সরিষা গোলায় তোলার পর পর্যায়ক্রমে রোপণ করা হবে তিল, আউশ ও আমন ধান।

ওপারে ভারত। আর এপারে সীমান্ত সংলগ্ন ১১০ বিঘা জমি বছরের পর বছর পতিত পড়ে ছিল। দিগন্ত বিস্তৃত এই ফাঁকা জমিতে গরু-ছাগল চড়ত। চারণ ভূমিটি এখন কৃষকদের স্বপ্ন পূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্তক দৃষ্টির মাঝে কৃষকদের হাতের ছোঁয়ায় সেই পতিত জমিতে এখন সরিষার হাসি। এই সরিষা গোলায় তোলার পর পর্যায়ক্রমে রোপণ করা হবে তিল, আউশ ও আমন ধান।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়পুর বেলবাড়ি এলাকার এই পতিত জমি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের কুমিল্লা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. আশিকুর রহমান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফারহানা ইয়াসমিন।

পতিত জমিতে সরিষা আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকারী বুড়িচং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরিষার মাঠ ঘুরে দেখান। এ সময় স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. শাহেদ হোসেনসহ সরিষা চাষী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক ওমর ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম ও আবদুল হালিম জানালেন, গত বছর খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন চাষের পর পাহাড়পুর গ্রামের বেলবাড়ি মাঠের জমিগুলো পতিত থাকবে শুনে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সরিষা চাষের পরামর্শ দেয়। গত বছর ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হলেও এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছি ১১০ হেক্টর। বর্তমানে ফসলের পরিস্থিতি দেখে বিঘাপ্রতি ১২-১৪ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তারা।

পতিত দিগন্তে সরিষার হাসি

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বৃহস্পতিবার বেলবাড়ি এলাকার সরিষা ক্ষেত পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল আউশ মৌসুমে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ৭০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন তারা। আমন মৌসুমেও প্রচলিত ব্রি-৪৯ ও স্বর্ণমসুরি ধানের বিপরীতে স্বল্প জীবনকালীন ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫ ও বিনা-১৭ ধানের আবাদ করা হয়। আর বর্তমান সরিষা মৌসুমে নতুন জাত হিসেবে বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-৪ ও বারি সরিষা-১৮ এর বীজ বিতরণ করে কৃষি বিভাগ।

পরিদর্শনকালে বিনার মহাপরিচারক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম সরিষা চাষীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি সরিষা চাষের সম্ভাবনার কথা কৃষকদের সামনে তুলে ধরেন। তাছাড়া তিনি সরিষা চাষের কিছু ব্যবস্থাপনা, বীজ সংগ্রহ ও বীজের সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, ‘পাহাড়পুরের বিস্তীর্ণ জমিতে বোরো-পতিত-রোপা আমন শস্য বিন্যাসের পরিবর্তে সরিষা-তিল-রোপা আউশ-রোপা আমন ও সরিষা-আউশ-রোপা আমন শস্য বিন্যাস বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামী মৌসুমগুলোতে নতুন নতুন জাত নিয়ে তিল, আউশ ও রোপা আমন আবাদে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি দেশেরও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’

আরও পড়ুন:
নবম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শরীয়তপুরে
কৃষিপণ্য রপ্তানির নীতিমালা হচ্ছে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bumper yield of onion in Teesta pasture

তিস্তার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

তিস্তার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন নীলফামারীর ডোমারে তিস্তা নদীর চর জুড়ে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, খগা খড়িবাড়ী, ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন।

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর বালুচরে যেদিকে চোখ যায় শুধুই পেঁয়াজের আবাদ। দাম বেশি পাওয়ার আশায় এবার কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চরাঞ্চলবাসী।

কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের সঙ্কট এবং দাম বেশি হওয়ায় এসব চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অন্যান্য বছরের মতো গম ও তামাক চাষ না করে এবার অধিকাংশ কৃষক পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, খগা খড়িবাড়ী, ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন। এসব চর এলাকার কৃষকরা বন্যায় রোপা আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পেঁয়াজ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষক নুর ইসলাম, হুকুম আলী, জুলহাস, আজাহার ও আবুল হোসেন জানান, তারা প্রত্যেকেই ৩/৪ বিঘা করে জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ১৫শ’ টাকার বীজ কিনে রোপণ করে শতক প্রতি এক থেকে দেড় মণ করে পেঁয়াজ ফলনের স্বপ্ন তাদের।

হুকুম আলী বলেন, সব মিলে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই ক্ষেতে। ৭০ শতক জমিতে ৭০ থেকে ৯০ মণ পেঁয়াজ পেলে বাজার অনুযায়ী মণ প্রতি ৫ থেকে ৬ শ’ টাকা দরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হবে।

জুলহাস বলেন, ‘খরচ ও পরিশ্রম কম হয়ে ভালো ফলন হওয়ায় চরের অধিকাংশ কৃষকই এখন পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকছে। সহজ সেচ ব্যবস্থা ও ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে চরে পেঁয়াজ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে। তাতে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতিও পূরণ হবে।’

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘তিস্তায় জেগে ওঠা চরে এখন বিভিন্ন ধরনের ফসল হচ্ছে। তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা-পরবর্তী ফসল হিসেবে এবার ৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘মসলা জাতীয় এই ফসলে কৃষকরা সময় সময় লাভবান হন। চরের কৃষকদের ভালো ফলনের জন্য আমরা কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ বীজ থেকে শুরু করে অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
নবম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শরীয়তপুরে
কৃষিপণ্য রপ্তানির নীতিমালা হচ্ছে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Successful businessman started mushroom cultivation after watching YouTube

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী মাশরুম পরিচর্যায় সাগর আলী। ছবি: নিউজবাংলা
মাশরুম চাষি সাগর আলী বলেন, ‘গত বছরের শেষের দিকে মাশরুম খামার গড়ে তুলি। সবমিলে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। খরচের টাকা উঠে কিছু লাভও হয়েছে। বর্তমানে খামারে মাশরুম বীজ আছে তা থেকে আগামী তিন মাস বিক্রি করা যাবে মাশরুম। আশা করছি তিন মাস মাশরুম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকার আয় করতে পারব।’

নওগাঁ সদর উপজেলার কির্ত্তিপুর ইউনিয়ন বিনে ফতেপুর গ্রামের সাগর আলী। পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। আবাদের জন্য তেমন কৃষি জমি নেই। গত ১৪-১৫ বছর যাবৎ নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তার পাশে বাজারে সবজি বিক্রি করে আসছেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউটিউবে মাশরুম চাষের একটি ভিডিও দেখে সিন্ধান্ত নেন তিনি মাশরুম চাষ করবেন। এর পর মার্চ মাসের শুরুর দিকে যশোর ডিএম সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চারদিনের একটি কোর্স করেন মাশরুম চাষের ওপর।

এরপর অক্টোবর মাসে সেখান থেকে কিছু বীজ সংগ্রহ করে নিজ বাড়ির পাশের জায়গায় শুরু করেন মাশরুম চাষ। তার খামারে বর্তমানে দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট করা ৩০০টি মাশরুমের স্পন রয়েছে।

খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভুসি, বীজ, ছাঁউনিসহ সবমিলে খরচ হয়েছিল ১৫ হাজার টাকার মতো। ইতোমধ্যে তিনি মাশরুম বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। আগামী তিন মাস যাবৎ তিনি তার খামার থেকে মাশরুম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

প্রতিদিনই সাগরের মাসরুমের খামার দেখতে আসছেন অনেকই আবার কেউবা মাশরুম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা তার এই সফলতা দেখে আগামীতে এমন উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান।

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

স্থানীয় বিনে ফতেপুর গ্রামের বুলবুলি বেগম বলেন, ‘সাগর চাচার মাশরুম খামার দেখে খুবই ভালো লাগছে। একবার বীজ ৩০ থেকে নাকি ৩৫ বার ফলন পাওয়া যায়। আমরাও বাড়ির ফাঁকা জায়গায় এমন মাশরুম চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’

সাজ্জাত হোসেন নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সাগর চারমাস আগে থেকে এখানে মাশরুম চাষ শুরু করেছে। বর্তমানে তিনি সফল একজন চাষি। সবজি বিক্রির পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে থাকেন। প্রথম মাসেই তিনি মাশরুম চাষে লাভবান হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব, আমরা এমন উদ্যোগ নিব বলে ভাবছি।’

নওগাঁ শহরের থানার মোড় এলাকা থেকে মাশরুম কিনতে এসেছেন আব্দুল্লাহ আল মুসাব্বের। তিনি বলেন, ‘বাজার থেকে মাশরুম কিনলে অনেক সময় কীটনাশক যুক্ত হয়। যার কারণে ফ্রেস ও টাটকা মাশরুম যাতে পাই, সেজন্য সাগর ভাইয়ের এখানে এসেছি। মাশরুম খামার থেকে সংগ্রহ করে ৩০০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি কিনলাম।’

মাশরুম চাষি সাগর আলী বলেন, ‘খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভুসি, ইত্যাদি দিয়ে ওয়েষ্টার জাতের মাসরুমের খামার গড়ে তুলেছি। প্রথম স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় দুই কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি মাশরুম বিক্রি করে থাকি। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম পাইকারি ২৫০ এবং খুচরা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকি। যশোরে চার দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম।

‘গত বছরের শেষের দিকে মাশরুম খামার গড়ে তুলি। সবমিলে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। খরচের টাকা উঠে কিছু লাভও হয়েছে। বর্তমানে খামারে মাশরুম বীজ আছে তা থেকে আগামী তিন মাস বিক্রি করা যাবে মাশরুম। আশা করছি তিন মাস মাশরুম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকার আয় করতে পারব।’

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

সাগর আরও বলেন, ‘খামারে প্রতিদিন তিন বেলা পানি দিয়ে স্প্রে করতে হয়। আমার কাজে আমার মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা করে থাকেন। যদি কৃষি অফিস থেকে সহায়তা পেতাম তবে আগামীতে আরও বড় পরিসরে মাশরুমের আবাদ করতাম।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর সুস্বাদু ও ওষধি গুণসম্পন্ন খাবার। ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি। দিন দিন নওগাঁতেও মাশরুম চাষের আগ্রহ বাড়ছে। মাশরুম চাষ বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাশরুম চাষি সাগর আলী বর্তমান এটি চাষে সফল হয়েছেন। যদি কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অবশ্যই তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাশরুম চাষে কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জমি না থাকলেও বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। সহজেই মাশরুমের বীজতলা তৈরি করা যায়।’

আরও পড়ুন:
আশা জাগাচ্ছে কাসাভা
ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে আলুর আবাদ, সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কা
মেহেরপুরে গমের বীজসংকট, দিশেহারা কৃষক
কমলা-মাল্টা চাষে একরামুলের বছরে আয় ৭০ লাখ
শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sukhsagar is the hope of farmers in onion seeds

সুখসাগর পেঁয়াজের বীজে চাষিদের আশা

সুখসাগর পেঁয়াজের বীজে চাষিদের আশা মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার একটি মাঠ থেকে সম্প্রতি সময় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের ফুল। ছবি: নিউজবাংলা
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, ‘মেহেরপুরের আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন‍্য বেশ উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে এ পেঁয়াজ।’

মেহেরপুরে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সুখসাগর পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে সফল হয়ে লাভবান হচ্ছেন জেলার স্থানীয় কৃষকরা।

একটা সময় ছিল পেঁয়াজের বীজ বপণের মৌসুম আসলেই আমদানি করা পেঁয়াজের বীজের জন‍্য অপেক্ষা করা লাগত। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময় অসাধু ব‍্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়ায় বির্পযয়ের মুখে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। আবার ভালো বীজের আশায় বীজ সংকটকের সময় অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়েছে পেঁয়াজের বীজ।

কৃষকরা বলছেন, নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজে ঝুঁকি কম থাকে, ফলনও ভালো হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে গিয়ে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।

কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বীজ উৎপাদন করে সফল হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে। এতে উৎপাদন ব‍্যায়টাও কমে যাবে। নিজেদের বাড়ির বীজ হওয়াই সঠিক সময়ে বীজ বপণও করতে পারবে। তাই বীজ উৎপাদনে চাষিদেরকে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তাও করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। এটি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে।

জেলার মুজিব নগর ও সদর উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি নির্ভর মেহেরপুর জেলার সদর ও মুজিব নগর উপজেলায় বিগত পাঁচ বছর যাবত সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ করছেন সেখানকার চাষিরা। অন্যান্য যেকোনো জাতের পেঁয়াজ চাষের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজে। এই এলাকাগুলোতে আরও বেশ কয়েকটি জাতের পেঁয়াজ চাষ ও বেশ জনপ্রিয় তাদের মধ‍্যে অন‍্যতম তাহেরপুরি, বারি ৪, নাসিকা রেড ও ফিপটি।

তবে আকারে বড় অধিক ফলন ও বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি পেঁয়াজ ও পাওয়ায় এক খরচে দুই ফলন। ফলে খরচের তুলনায় বেশি লাভবান হওয়া যায় এ সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষে।

তাই বেশ কয়েক বছর এ জাতটি পেঁয়াজ চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বীজটি যখন আমদানি নির্ভর ছিল। তখন ভরা মৌসুমে বীজ পেতে চাষিদের বেশ বেগ পেতে হতো। আবার বীজ সংকটের কারনে দ্বিগুন দাম দিয়ে কিনতে হতো।

শুধু বপনকালীন বীজ সংকট কিংবা বেশি মূল্য দিয়ে বীজ কেনা নয়। কতিপয় অসাধু ব‍্যাবসায়ীরা কৃষকদের চাহিদাকে পুঁজি করে ভেজাল বীজ বিক্রয়ের ফলে ফলন বিপর্যয়ে চাষিদের লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদন হওয়াই চাষিদের আর এই সকল সমস‍্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলেও কৃষকরা মনে করেন।

মুজিব নগর গ্রামের কৃষক জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হয়ে থাকে ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। আবার বীজ সংকট দেখা দিলে এর চেয়ে বেশি দামেও কেনা লাগে। আর জমিতে বীজ ভালো হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ কেজি পযর্ন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব।

একই এলাকার পেঁয়াজ চাষি রাজিবুল বলেন, ‘সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ আবাদ মানে একসঙ্গে দুই ফসল পাওয়ার মতো। শুধু বীজ নয়, ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করার পর গাছ থেকে পেঁয়াজ পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ পেঁয়াজ পাওয়ার পাশাপাশি ৬০ থেকে ৭০ মণ পযর্ন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব।

মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষক আরমান আলী বলেন, ‘আমাদের একটা সময় গেছে পেঁয়াজ চাষের ভরা মৌসুম আসলেই বীজের সংকট দেখা দিত। এতে আমরা অনেক সময়, সঠিক সময়ে বীজ বপণ করতে পারিনি। আবার বাজারে বীজ থাকলেও অধিক দামে কেনা লাগছে। আজ দুই বছর মত হবে নিজেদের বীজ থেকেই পেঁয়াজ চাষ করছি। ঘরের বীজ, তাই বীজ নিয়ে টেনশন করতে হয় না।’

একই এলাকার আরেক চাষি রশিদ বলেন, ‘আমি দুই বছর আগে বাজার থেকে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের বীজ কিনে এনে প্রতারিত হয়েছি। মাঠে বীজ বপণের পরে অর্ধেকের কম হবে, কোনো ফলনি পাইনি।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, ‘মেহেরপুরের আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন‍্য বেশ উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে এ পেঁয়াজ।’

সাধারণত বছরের নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ বীজ বপন করা হয়ে থাকে। জানুয়ারি মাসের দিকে পেঁয়াজ বাজারজাত করা হয়। আর বীজ উৎপাদন হয় মার্চ মাসের শেষের দিকে। সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা দুই সুবিধা পাচ্ছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজ পাওয়া যায়। ফলে প্রতিনিয়তই জেলার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছে। তাছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদন না বাড়ালে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হওয়া আসা সম্ভব হবে না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শের পাশাপাশি প্রনোদণাও দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Poison free cucumber village

বিষমুক্ত শসার গ্রাম

বিষমুক্ত শসার গ্রাম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা চাষ হচ্ছে। ছবি: কোলাজ নিউজবাংলা
মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে ৬ কোটি টাকার বিষমুক্ত শসা বিক্রির আশা করছে কৃষি কর্মকর্তারা। গত বছর এই গ্রামে সাড়ে চার কোটি টাকার শসা বিক্রি হয়। এবার কীটনাশকমুক্ত পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করায় বেড়েছে শসার চাহিদা। কৃষকদের আশা তারা বেশি দাম পাবেন। আগামী দিন পনেরর মধ্যে এই গ্রামের শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্য প্রাচ্যের দেশ দুবাইতে যাবে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

মুগুজি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের ৩৫ হেক্টর জমিতে শসার চাষ হয়েছে। যেদিকে চোখ যায় সেখানে সবুজ আর সবুজ। কোথাও শসার হলুদ ফুল মাথা উঁকি দিয়ে আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। কোথাও বাতাসে দুলছে কচি শসা। পোকা দমনে ব্যবহার করা হয় পাতা-লতার রস।

মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা ও সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক সমাবেশ ও মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় কৃষক আমীর হোসেন বলেন, শসা চাষে ১০ গন্ডায় (২০ শতাংশ) এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা বিক্রি হবে। বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করায় ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে গেছে।’

মনির হোসেন, সাহাব উদ্দিন ও সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬ গন্ডায় (১২ শতাংশ) খরচ হয়েছে ৭০ হাজার বিক্রি হবে দেড় লাখ টাকা। সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে আমাদের আয়ও বাড়বে। বিষমুক্ত শসার উৎপাদনে কৃষি অফিস উদ্বুদ্ধ করেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।’

মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লা জেলার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এইখানে নিরাপদ শসা উৎপাদনে উদ্যোগ নিয়েছি। এখানের শসা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর সঙ্গে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।’

কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ‘নিরাপদ সবজি চাষ বিষয়টি এখানে কৃষকরা প্রশংসনীয়ভাবে আত্মস্ত করেছেন। আমরা এই অগ্রগতি ধরে রাখবো। এটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।’

পরিচালক (সরেজমিন উইং) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম দেশের ২০টি ইউনিয়নে এই বিষমুক্ত শসা চাষের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার একটি বরুড়ার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়ন। কৃষি পণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য তাদের কিছু শর্ত থাকে। আমরা তা পূরণের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে রপ্তানিকারকরা আসা শুরু করেছেন।’

আরও পড়ুন:
দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা
ঝড়ের শঙ্কায় বাজার ভরেছে কাঁচা আমে
শসার কেজি শহরে ৪০ টাকা, গ্রামে ৪
দাকোপে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চাষির মৃত্যু
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি, শঙ্কায় চাষি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The value of gourd eggplant is increasing

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের লাউ বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের। ছবি: নিউজবাংলা
চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

মাঝারি গাছের ডালে দোল খাচ্ছে বড় বড় সবুজ বেগুন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বেগুন গাছে লাউ ঝুলছে। এমন বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের।

একটি বেগুনের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকারে বড়, নরম ও স্বাদে পুষ্টিমানে অনন্য বারি বেগুনের বাজার চাহিদা অনেক।

সরেজমিনে কুমিল্লা্র চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গিয়ে দেখা যায় বিস্তৃত জমিতে কাজ করছেন কৃষকরা। যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। তার মাঝে লাউ বেগুনের জমিতে চোখ আটকে যায় সবার।

কৃষক আমির হোসেন জানান, কৃষি অফিস থেকে বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ এনেছেন তিনি। ৩০ শতক জমিতে প্রথমবারের মত লাউ বেগুন চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি বেগুন ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বাজারে নিতে হয় না। গ্রাহকরা জমিতে এসেই বেগুন নিয়ে যায়৷’

লাউ বেগুন আকারে বড় এবং অনেক নরম। তাই পাখির প্রিয় খাবার এই লাউ বেগুন। এতে কৃষকরা চিন্তা করেন পাখির ঠোঁট থেকে কীভাবে তাদের লাউ বেগুনকে রক্ষা করবে।

কৃষক শাহজাহান ভূইয়া বলেন, ‘লাউ বেগুন খুব নরম বলে পাখি ও পোকামাকড়ের প্রিয় খাবার। তাই এ বেগুন রক্ষায় জাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি। না হয় জমিতে বেগুন থাকবে না।’

চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কমকর্তা মনিরুল হক রোমেল বলেন, ‘আমরা প্রথমে ২০ গ্রাম বীজ থেকে চারা উৎপাদন করি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকজন কৃষককে বাছাই করি। কৃষি অফিসার ও কৃষকদের আন্তরিকতায় প্রথম বছরই ভালো ফলন হয়েছে। আমরা আশাকরি আগামী বছর আমরা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে বারি-১২ জাতের এই বেগুন।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এ বছর পুরো জেলায় দেড় হেক্টর জমিতে বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এই বেগুন আকারে অনেক বড় হয়। প্রতিটা বেগুন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়। এই বেগুনের টিস্যু অনেক নরম। খেতে সুস্বাদু। আশা করি আগামী বছর কুমিল্লায় সবজির একটা বড় অভাব পূরণ হবে বারি ১২ জাতের বেগুনে।

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচা বাজারের তরকারী ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, ‘এত বড় বেগুন আগে দেখি নাই। খুব বড় এবং নরম। এ বেগুনের প্রচুর চাহিদা আছে বাজারে।’

আরও পড়ুন:
বেগুনে ক্ষতিকর ধাতু, মাটিদূষণে অন্য সবজি নিয়েও শঙ্কা
বেগুনের ভালো ফলন, বেড়েছে চাহিদাও

মন্তব্য

p
উপরে