মেয়ে: আলুর তরকারিটার স্বাদ কেমন হয়েছে?
বাবা: দারুণ স্বাদ হয়েছে। তুই রান্না করেছিস নাকি?
মেয়ে: না, আলু আমি ছিলেছি।
-
বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]
ছবি: সংগৃহীত
প্রকৃতির রুদ্ররূপ আর মানুষের অসচেতনতার এক ভয়াবহ যুগলবন্দি দেখল দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং সীমান্ত পেরিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে এক বিস্তীর্ণ জনপদ এখন অথৈ জলের নিচে। কোথাও বুকসমান পানি, কোথাও আবার মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে আস্ত পাহাড়ের চাঙ্গড়। প্রকৃতির এই তাণ্ডবে ওলটপালট হয়ে গেছে লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
সরকারি সর্বশেষ হিসাব মতে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা এখন পুরোপুরি বা আংশিক জলমগ্ন। হঠাৎ ধেয়ে আসা এই জলস্রোত কেড়ে নিয়েছে অন্তত ৪৪টি তাজা প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১০ লাখ ২২ হাজার। বিপন্ন এই জনপদে এখন কেবলই বেঁচে থাকার আকুতি, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ আর পানি কমার প্রতীক্ষা।
কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ট্র্যাজেডি: চলতি বন্যায় সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ওপর। পাহাড়ি ঢলের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৪ জন মৃতের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। যার মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা হলেও বাকি ১৩ জন আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা নাগরিক। পাহাড়ের ঢালু জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে বসবাসের কারণে ভারি বৃষ্টিপাতে মাটি ধসে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে দেয়াল ধসে ও বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন ১১ জন। পাহাড়বেষ্টিত জেলা বান্দরবানে ঢলের পানিতে ভেসে এবং পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। রাঙামাটিতে ৩ জন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজারে বন্যায় ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: দশটিরও বেশি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এখনো চারটি নদীর পানি ছয় জেলার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র শনিবার (১১ জুলাই) নিয়মিত বন্যা পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও এ সময় প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৬৪টিতে কমছে এবং ছয়টিতে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ ছাড়া তিস্তা, কুশিয়ারা, সুরমা, সোমেশ্বরী, মুহুরী ও মাতামুহুরী নদীর কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানি বর্তমানে সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
কোন জেলা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত: মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সবচেয়ে শোচনীয় ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পাহাড়ধস, সড়ক তলিয়ে যাওয়া এবং দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে বাঙ্গালহালিয়ার বেইলি ব্রিজটি ধ্বংস হওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া গাছ ভেঙে পড়ায় পুরো জেলা বিদ্যুৎহীন এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। আলীকদমসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন পৌর এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করছে এবং বিভিন্ন এনজিও (যেমন: ব্র্যাক, বিএনকেএস) দুর্গতদের মাঝে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতির কারণে জেলা প্রশাসন আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে।
রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা আক্ষেপ করে বলেন, বান্দরবান সদরের নিম্নাঞ্চলের পাড়াগুলো পুরোপুরি ডুবে গেছে। ফোন করে যে কারও খবর নেব, সেই উপায়ও নেই। নিজেকেই জীবন বাজি রেখে নৌকা বা হেঁটে গিয়ে খবর নিতে হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় তৎপরতা: দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সরকার মূলত তিনটি ফেজ—উদ্ধার (Rescuing), ত্রাণ (Relief) এবং পুনর্বাসন (Rehabilitation) নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে।
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র: দুর্গতদের জন্য ১,১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৪৪,৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ৬,৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর বাইরেও প্রধানমন্ত্রী জরুরি তহবিল থেকে আরও ২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন।
উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে উপকূলবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং পার্বত্য ও দুর্গম জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বেসরকারি ও এনজিওদের মানবিক হাত: সরকারি সহায়তার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
ব্র্যাক (BRAC): লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দরবান সদরের ৬৬৫টি পরিবারকে জরুরি খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, চিনি, গুড়, লবণ, পেঁয়াজ) পৌঁছে দিয়েছে।
বলিপাড়া নারী কল্যাণ সংস্থা (BNKS): বান্দরবান ও লামা এলাকার প্রায় ১৬,০০০ বন্যাদুর্গত পরিবারকে জরুরি আপদকালীন খরচ হিসেবে বিকাশের মাধ্যমে সরাসরি ৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
প্রত্যন্তের আর্তনাদ ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ: ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলেও বাস্তব চিত্র বেশ জটলা পাকানো। পাহাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গায় সরকারি-বেসরকারি সাহায্য পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নেওয়া বিপন্ন মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে পানিবাহিত রোগ ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও মেডিকেল টিমগুলো ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তজুড়ে আবার অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট এবং শেরপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে তারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অতন্দ্র প্রহরা এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের সাহসী প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই অবৈধ চক্রান্ত ভেস্তে গেছে। অনেক জায়গাতেই পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা এখন জিরো পয়েন্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পঞ্চগড় সীমান্ত: তেঁতুলিয়া সীমান্ত দিয়ে শনিবার (১১ জুলাই) নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাঝিপাড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের নয়াবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ভোরে নারী, শিশুসহ মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস জানান, যাদের পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল তারা সবাই ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন। বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি এবং বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
জয়পুরহাট সীমান্ত: সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তের সব আলো নিভিয়ে দিয়ে ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়রা টের পেয়ে বিজিবিকে জানালে বিজিবি দ্রুত গিয়ে বাধা দেয়। এ সময় ২ জন পালিয়ে গেলেও দুই নারী ও এক পুরুষ বর্তমানে শূন্যরেখায় আটকা পড়ে আছেন।
দিনাজপুরে আটক বাংলাদেশিদেরই ফেরত পাঠানোর অপচেষ্টা: দিনাজপুরের দাইনুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের শিকার ৪ জন আসলে ভারতীয় নাগরিক নন, তারা বাংলাদেশি। প্রায় দুই বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং দুই মাস কারাভোগ করেন। কারামুক্তির পর আইনি প্রক্রিয়ায় পুশব্যাক না করে, বিএসএফ গভীর রাতে চোরের মতো তাদের ৩১৫ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে। এদের মধ্যে এক নারী ও এক প্রতিবন্ধী পুরুষও রয়েছেন। বিজিবির ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের বাধার মুখে তারা এখন শূন্যরেখায় দিন কাটাচ্ছেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজিবি পতাকা বৈঠকের চিঠি দিলেও বিএসএফ এখনো কোনো জবাব দেয়নি।
লালমনিরহাটে বিজিবি-জনতার যৌথ প্রতিরোধ: লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলসূতি ও ষোলঘরিয়া সীমান্তে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখরিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা ৩ জন ভারতীয় নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এবার শুধু বিজিবি নয়, স্থানীয় উৎসুক জনতাও লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিজিবি ও সাধারণ মানুষের এই যৌথ প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ পিছু হটে এবং ওই নারীদের ভারতের ১৫০ গজ অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শেরপুর সীমান্তে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক: রাতভর গ্রামবাসীর পাহারা: সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমরা গ্রাম সীমান্তে। গত বৃহস্পতিবার ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয়দের কাছে খবর আসে—ওপারে মেঘালয় রাজ্যের ভেতর প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে জড়ো করে রেখেছে বিএসএফ, যাদের যেকোনো মুহূর্তে বাংলাদেশে পুশইন করা হতে পারে।এই আতঙ্কে গোমরা গ্রামের সাধারণ মানুষ ১৫ থেকে ২০ জনের ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে, লাঠিসোটা ও টর্চলাইট নিয়ে রাতভর ভারতের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি সবজি ক্ষেতগুলোতে পাহারা দিচ্ছেন। দেশের সীমান্ত রক্ষায় সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতেই বিএসএফ সুপরিকল্পিতভাবে এই পুশইনের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।
এ বিষয়ে তিস্তা ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম এবং ময়মনসিংহের ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অস্ত্র পাচার রোধ করা বিজিবির নিয়মিত দায়িত্ব। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি দিনরাত ‘হাই ভলিউম’ নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার ঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট এবং শেরপুর প্রতিনিধি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা থেকে রোগীর চাপ কমাতে জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রাম থেকে অধিক সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসার জন্য যেন ঢাকায় আসতে না হয়, সেজন্য সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ডিএমসি-ডে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়। এ পর্বে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা এবং চলমান নানা বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় সরকারের স্বাস্ব্যসেবা উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এমন এক মহৎ প্রতিষ্ঠান যেটি আমাদের সামনে এক জীবন্ত ইতিহাস ‘কালের সাক্ষী’। শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, ১৯৭১ সালের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ঢামেকের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ক্যাম্পাসে শুধুমাত্র দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরি হয়নি, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাসহ এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন মহৎ মানুষ তৈরি হয়েছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চিকিৎসাপেশায় নিয়োজিত রয়েছেন কিংবা যারা একজন চিকিৎসক হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত, প্রতিটি মানুষের মনোজগতে আপনাদের অবস্থান কিন্তু তাদের সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত। এ উপলব্ধি থেকেই সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, চিকিসকরাই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। চিকিৎসকরা রোগে শোকে কাতর মানুষটির পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন।
তার মতে, একজনের চিকিৎসকের উপদেশ আন্তরিক ব্যবহারও একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। তাই একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা চিকিৎসক, নার্স এবং সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে এর মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম এর মধ্যে শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর বিদ্যমান শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মহীন মানুষের মুখে খাবার পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, বন্যার তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মহীন পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
শনিবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় এবং তদারকি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রীকে।
সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিকল্পিত, সমন্বিত ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, শুধু আশ্রয় দেওয়াই যথেষ্ট নয়; খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়মিত পৌঁছে দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসককে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা দেন। এই সেলের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যা, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা, নতুন প্লাবিত এলাকা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতির দৈনিক তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সময়মতো কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘সরকারি সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হবে।’
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
ছবি: সংগৃহীত
কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের যেসব এলাকার কৃষকরা সাম্প্রতিক সময়ের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব এলাকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা শেষে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরের লুটপাটের অভ্যাস অনেকের এখনো যায়নি। তবে সবাইকে জেনে রাখতে হবে, সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়মিত তদারকি করছেন। তাই এ কর্মসূচিতে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেছেন, কুমিল্লার পরিবেশ সংরক্ষণ রক্ষা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার এ কর্মসূচিতে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জরুরি। আমরা আশা করছি মেলার সর্বস্তরের মানুষ আসবেন এবং তাদের পছন্দের বৃক্ষ ক্রয় করবেন।
এর আগে তিনি মেলার উদ্বোধনী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য রেলিতে অংশ নেন এবং শেষে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে বিভিন্ন মেলার ফলজ ও বনজ স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
ছবি: সংগৃহীত
পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে ঢাকা। আর এই অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে; নিচু জমিতে গড়ে উঠেছে স্থাপনা; আর নির্মাণ করা হয়েছে এমন সব বহুতল ভবন, যেগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্প সহ্য করতে না-ও পারে।
জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ৪২টি ভবনকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে তিন মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত ভাঙা হয়েছে মাত্র দুটি ভবন।
বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থানা সচল থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশিত। কারণ এসব স্থাপনা উদ্ধার কার্যক্রম, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ত্রাণ তৎপরতার মূল ভিত্তি। তবে এসব স্থাপনার অনেকগুলোই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে মাঝারি থেকে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর দেশের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো দ্রুত মূল্যায়ন করে রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করা না হলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিপর্যয় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত, স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত ও বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় জরুরি জনসেবা অচল করে দিতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগটি ১৭ তলা ভবনের দোতলায় অবস্থিত। ভবনটি ২০২৩ সালের শুরুর দিকেই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ভবনটিতে কার্যক্রম চলছে। রাজধানীর আরও ৪১টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও একইভাবে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের সাবেক পরিচালক আবদুল লতিফ হেলালী বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, থানা, বিদ্যুৎ স্থাপনা ও টেলিযোগাযোগ ভবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় রাজউক ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের তিন হাজার ২৫২টি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের র্যাপিড ভিজুয়াল অ্যাসেসমেন্ট বা দ্রুত দৃশ্যমান মূল্যায়ন করে।
ওই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ৫৭৯টি ভবনের প্রাথমিক প্রকৌশল মূল্যায়ন ও পরে ২২৯টির বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলা ও ১৮৭টি ভবন রেট্রোফিটিংয়ের সুপারিশ করা হয়।
হেলালী বলেন, ‘থানাগুলোকে শুধু প্রাথমিক যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে থাকায় আমরা বিস্তারিত মূল্যায়ন করতে পারিনি।’ এ ধরনের স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৪২টি ভবনের অধিকাংশই আটটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। আর তিনটি ভবন সাবেক পিজি হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
রাজউক ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে সাত দিনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করতে ও তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। তবে এখন পর্যন্ত পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের একটি ভবনসহ মাত্র দুটি ভবন ভাঙা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তদারক করে। রাজউকের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবনের অনেকগুলো এই অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মূল্যায়নের পর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবনের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল।
অনেক মালিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বলেছেন, ভবন ভেঙে ফেলা হলে নতুন করে নির্মাণের মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। এ কারণে অগ্রগতি ধীর হয়েছে।
তিনি জানান, কিছু ভবনে এখনো স্কুল বা বাজারের কার্যক্রম চলছে। আবার কিছু বাজারের মালিক আদালতের আদেশে অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন। এই সমস্যা এককভাবে সমাধান করা রাজউকের পক্ষে সম্ভব না।
আশরাফুল মনে করেন, প্রতিটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ক্ষেত্রে যথাযথ করণীয় নির্ধারণে রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সারাদেশে ৫৩৭টি ফায়ার স্টেশনের মধ্যে ১১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। এর অনেকগুলো পাকিস্তান আমলে নির্মিত।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ঢাকায় ১৮টি ফায়ার স্টেশনে প্রায় ৭০০ জন কর্মী রয়েছেন।
তিনি জানান, পোস্তগোলা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের পুরনো ফায়ার স্টেশনগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বারিধারা, সূত্রাপুর, পল্লবী, হাজারীবাগ, কল্যাণপুর ও উত্তরায় নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।
কাজী আলাউদ্দিন রোডের সদর দপ্তর এবং কুর্মিটোলা ও তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন রেট্রোফিটিং করা হয়েছে। আরও কয়েকটি পুরোনো স্টেশন সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। সদরঘাট ও মিরপুর-১০ ফায়ার স্টেশনেও নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, জানান তিনি।
‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিস তাদের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো মিরপুরের নতুন জরুরি পরিচালন কেন্দ্রে (ইওসি) স্থানান্তর করেছে।’
জাহেদ বলেন, নতুন ভূমিকম্প-সহনশীল বহুতল সদর দপ্তরের নির্মাণকাজও চলছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স পূর্বাচলে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও ঝুঁকি প্রশমনে ব্যবস্থা নেওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া।
জাহেদ বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে জরুরি পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশের আরও ১২০টি ফায়ার স্টেশনের কর্মীদের উদ্ধার সরঞ্জামসহ ঢাকায় মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবকেরাও কাজ করবেন।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, স্কুল ও থানা বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ধসে পড়লে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। এমনকি ভবন দাঁড়িয়ে থাকলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেগুলো স্বাস্থ্যসেবার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।’
জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রায়ই ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজ ব্যবহৃত হয়। সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে, যোগ করেন তিনি।
হাসপাতালগুলোর ঝুঁকি নিয়ে সমন্বিত মূল্যায়ন ও ঝুঁকি প্রশমনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আদিল বলেন, অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালও ঝুঁকিতে রয়েছে।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঝুঁকি মূল্যায়নের পরই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর রেট্রোফিটিং শুরু করা উচিত। রেট্রোফিট নকশা তৈরির আগে আমাদের দ্রুত একটি মৌলিক যাচাই দরকার। কম খরচের র্যাপিড ভিজুয়াল স্ক্রিনিং (আরভিএস) পদ্ধতিতে এটি করা যেতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর অবশেষে তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এই কথা জানান।
তিনি জানান, কেবল সাময়িকভাবে বর্জ্য অপসারণ নয়, ভবিষ্যতে কেউ যেন সড়কের পাশে আর ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য সেখানে তারের বেড়া (ফেন্সিং) দিয়ে নিমগাছের চারা রোপণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমিনবাজারের পর থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে একটি ময়লার ভাগাড় হয়ে ছিল। এই এলাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নাকি সাভার পৌরসভার অধীনে পড়বে তা নিয়ে একটা অভিভাবকহীন অবস্থা ছিল। এর ফলে যে যার ইচ্ছামতো এখানে ময়লা ফেলে যেত। এটি পরিষ্কার করা বা রোধ করার কেউ ছিল না।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসে। এ ছাড়া আপনারা জানেন, চার দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক দিয়ে সিঙ্গাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে যান, তখন তার নজরেও বিষয়টি আসে। এরপর তিনি আমাকে নির্দেশনা দেন। আমরা সভা করে সিদ্ধান্ত নিই যে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার রাস্তার সব ময়লা যৌথভাবে পরিষ্কার করবে কেরানীগঞ্জ উপজেলা, সাভার উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। এখানে বালু ফেলে নেটিং করে নিমগাছ লাগানো হবে।’
এ সময় সাভার পৌরসভার জন্য একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন (বর্জ্য ফেলার স্থান) নির্মাণের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেখানে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগের সরকারের মতো বলব না যে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানাব। আমরা তা পারব না। তবে বাংলাদেশকে বসবাসযোগ্য এবং মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের উপযোগী একটি পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের যা করা প্রয়োজন, তা আমরা করব।’
বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং সড়ক মেরামতে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালেই এমন সমস্যা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সড়ক মেরামতের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করব। আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বা মুখগুলো পরিষ্কার করার বিষয়ে কাজ করছি।’
মন্তব্য