× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Government has created disaster in money laundering Musharraf
google_news print-icon

অর্থ পাচার করে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে সরকার: মোশাররফ

অর্থ-পাচার-করে-বিপর্যয়-সৃষ্টি-করেছে-সরকার-মোশাররফ
বিজয় দিবসে শুক্রবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
‘আওয়ামী লীগ ও সরকারের সিন্ডিকেটের কারণে দেশের অর্থনীতি লুটপাট, চাঁদাবাজি হচ্ছে। দেশের মুদ্রা অন্য দেশে পাচার করে একটি বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। দিনের ভোট রাতে করে তারা দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে। বিচারব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে তা ধ্বংস করে দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অর্থ পাচার করে দেয়ার অভিযোগ এনেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বলেছেন, এ কারণেই দেশের অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমেছে।

বিজয় দিবসে শুক্রবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সকালে মোশাররফ দলের নেতাদের নিয়ে যান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন শেরেবাংলানগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে।

সেখানে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দেয়ার পর তার পরিবার ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় হয় বিশেষ মোনাজাত।

মোশাররফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকারের সিন্ডিকেটের কারণে দেশের অর্থনীতি লুটপাট, চাঁদাবাজি হচ্ছে। দেশের মুদ্রা অন্য দেশে পাচার করে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।’

সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দিনের ভোট রাতে করে তারা দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে। বিচারব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে তা ধ্বংস করে দিয়েছে।

‘দেশের স্বাধীনতা নেই। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি বানোয়াট মামলায় ও নির্দেশিত রায়ে তিনি আজ কারাবন্দি। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের একটি ফরমায়েশি রায়ে বিদেশ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিজয়ের দিনে আমরা আশা করি, এ দেশ থেকে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী সরকারের অবসান হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। জনগণের সরকারের প্রতিষ্ঠা হবে। সেই লক্ষ্যে সবাই আমরা কাজ করছি বলে জানান তিনি।’

স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবারও ষড়যন্ত্র করছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবও দেন মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতা টিকে থাকার জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করছে। বাংলাদেশের ৫০ বছরে যে ইতিহাস বিকৃত করছে। তারা তাদের সুবিধামতো কথা বলে। জনগণ কিন্তু সচেতন। জনগণই বিচার করবে তারা (সরকার) সঠিক না জনগণ সঠিক।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাহান ওমর, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়নি: নুর
বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের হাতাহাতি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Rescue of the drone that fell on the roof of the metro rail station

মেট্রোরেল স্টেশনের ছাদে পড়া ড্রোন উদ্ধার

মেট্রোরেল স্টেশনের ছাদে পড়া ড্রোন উদ্ধার ড্রোন উদ্ধার করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাজাহান শিকদার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশনের তিন তলার ছাদে পড়ে থাকা একটি ড্রোন উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ড্রোনটি কার বা কীভাবে ছাদে আসলো সে ব্যাপারে জানা যায়নি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার কিছুক্ষণ পর ড্রোনটি উদ্ধার করেন সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাজাহান শিকদার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ১০ জুন মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশনের তিন তলার ছাদে একটি ড্রোন পড়েছিল। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে শুক্রবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের টিটিএল দিয়ে ড্রোনটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মেট্রো রেলের চলাচল বন্ধ ছিল।

তবে ঠিক কত সময় মেট্রোরেল বন্ধ ছিল তা জানাতে পারেননি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কোনো কর্মকর্তা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The most polluted air is Dhaka Kampala Uganda 10th

সবচেয়ে দূষিত বাতাস উগান্ডার কাম্পালার, ঢাকা ১০তম

সবচেয়ে দূষিত বাতাস উগান্ডার কাম্পালার, ঢাকা ১০তম ফাইল ছবি
১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়।

রাজধানীর বাতাসের মান শুক্রবার ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে ১০৭ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দশম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। খবর ইউএনবির

১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়, ৩০১+ একিউআই স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

উগান্ডার কাম্পালা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কিনশাসা ও পাকিস্তানের লাহোর যথাক্রমে ১৯৪, ১৮০ ও ১৫৫ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ু দূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People are running on their way home

বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ

বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ ফাইল ছবি
নগরীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, কমলাপুর, সদরঘাটসহ বেশ কিছু এলাকায় ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে এখন। সকাল থেকে পরিবার-স্বজনদের নিয়ে বাড়িফেরা মানুষের চাপে রাজপথ। বাড়তি যাত্রীতে গতি কমে এসেছে গাড়ির চাকারও।

ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে দু-এক দিন আগেই। তবে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে এই যাত্রা গতি পায়। বিকেল থেকে গন্তব্যে ছুটতে শুরু করেন কর্মজীবীরা। রাতভর রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে মানুষ, শুক্রবার সকালে যেন ঈদযাত্রা ফিরেছে চিরচেনা রূপে।

নগরীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, কমলাপুর, সদরঘাটসহ বেশ কিছু এলাকায় ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে এখন। সকাল থেকে পরিবার-স্বজনদের নিয়ে বাড়িফেরা মানুষের চাপে রাজপথ। বাড়তি যাত্রীতে গতি কমে এসেছে গাড়ির চাকারও।

গাবতলী দিয়ে রাজধানী, গাজীপুরসহ বেশ কিছু এলাকার যাত্রী ঢাকা ছাড়ছেন। টার্মিনালে একের পর এক বাস ছাড়ছে। তবু যেন গাড়ির সংকট। যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ফিরে আবার যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে।

যাত্রীরা বলছেন, গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গাড়িও চলছে ধীরগতিতে।

পাটুরিয়া দিয়ে রাজবাড়ী যাবেন আওলাদ ইসলাম। গাবতলীতে পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ডাইরেক্ট টিকিট কাটিনি। মানুষের ভিড় অনেক। লোকাল বাসে ঘাটে গিয়ে পরে নদী পার হয়ে আবার কোনো গাড়িতে যাব। তবে এখানে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে।’

চাপ বেড়েছে সায়েদাবাদেও। পদ্মা সেতু হয়ে গাড়ি যাওয়ায় এই টার্মিনালে ভিড় বেড়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। সময়মতো ছাড়ছে না গাড়িও।

গত কদিন সদরঘাট লঞ্চঘাটে ভিড় কম থাকলেও রাত থেকে আবার আগের রূপে ফিরেছে দক্ষিণবঙ্গে যাওয়া যাত্রীদের এই নৌরুট। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অধিকাংশই।

কমলাপুরে মানুষের ভিড় অন্য ঈদগুলোর মতোই। পুরো স্টেশন এলাকা ভরে গেছে যাত্রীতে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাড়ি ফিরতে এখানে ভিড় করেছে মানুষ। নাড়ির টানে ঘরে ফিরছে সবাই।

সার্বিক পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে প্রতিটি স্টেশনে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One and a half million mobile handsets in one IMEI number

এক আইএমইআই নম্বরে দেড় লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট!

এক আইএমইআই নম্বরে দেড় লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট! বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সেমিনারে আমন্ত্রিরা। ছবি: সংগৃহীত
টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবির সভাপতি রাশেদ মেহেদী বলেন, ‘ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমাদের অস্তিত্ব কেবল একটি ডিভাইস। এটা নিজের পরিচিতি ও আবাস। অপারেটর ও ম্যানুফ্যাকচারের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসায়িক সমঝোতা হলে আমরা অনেক দামি সেটও কম দামে পেতে পারি। এ সমন্বয় না থাকায় দেশে গ্রে মার্কেট বাড়ছে।’

মোবাইল ফোনের পরিচয় বহন করে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টি তথা আইএমইআই নম্বর। একটি মোবাইল হ্যান্ডসেটে একটি আইএমইআই নম্বর এবং দুটি সিম সংযুক্ত হয়- এমন মোবাইলে দুটি আইএমইআই নম্বর থাকে। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে শুধু একটি আইএমইআই নম্বরের নিবন্ধন দিয়ে অন্তত দেড় লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে গ্রাহকের হাতে চলে গেছে এসব অবৈধ মোবাইল ফোন। এমন অভিযোগ করেছেন দেশের মোবাইল উৎপাদকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সেমিনারে মোবাইল ডেটাবেজের উপাত্ত তুলে ধরে এ তথ্য জানান টেলিকম অপারেটর রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম।

টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবির আয়োজনে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় শাহেদ আলম বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে এখন পাঁচটি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়। এ ফোনগুলোর বিপরীতে একটি আইএমইআই নম্বরে রেজিস্ট্রেশন করা আছে ১ লাখ ৫০ হাজারের ওপরে হ্যান্ডসেট। দেড় লাখ হ্যান্ডসেটে আছে একটিমাত্র আইএমইআই নম্বর; সব কপি।

‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকর না হওয়া এবং গ্রে-মার্কেটের কারণে আমাদের জন্য একটি মোবাইল ডিভাইস লকিং গাইডলাইন দেয়া হয়েছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই গাইডলাইন কোনো কাজে আসছে না; কেননা এর শর্তগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সাংঘর্ষিক। সেটে থাকা দুটি সিম স্লটের মধ্যে একটি বন্ধ রেখে আরেকটা চালু রাখার ক্ষেত্রে এটা কাজ করছে না।’

এ তথ্য জেনে চমকে ওঠেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ‘কী বলেন! এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’

এ সময় সেমিনারে উপস্থিত পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হারুন অর রশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

জবাবে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে যখন অভিযান করি, তখন দেখি আপনাদের মতো এমন অফিস বানিয়ে তারা ব্যবসা করছে এবং হ্যান্ডসেট বানাচ্ছে। এক অভিযানে ৭০০ মোবাইল জব্দ করি। চীনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এনে তারা এ মোবাইলগুলো বানাচ্ছে; দুই-তিন মাস চালানোর পর তা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু মোবাইল নয়, গাড়ির ক্ষেত্রেও এমনটা দেখেছি। এক নম্বর দিয়ে ২৯টা গাড়ি চলছে।’

সেমিনারে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোর নতুন সংগঠন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ, সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল হক, এমটব মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এনইআইআর বাস্তবায়ন করে উজবেকিস্তানে ৭০০ শতাংশ রাজস্ব বেড়েছে। আজারবাইজানের ৯৮ শতাংশ হ্যান্ডসেট এখন নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধন জটিলতার কারণে বাংলাদেশে এনইআইআর বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ মোবাইল অ্যাডাপশন ৪০ শতাংশ বাড়লে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয় ৪.৮ শতাংশ। ৬৭ শতাংশ মোবাইল ব্রডব্যান্ড অ্যাডাপশন হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১২ শতাংশ।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রবিন।

সংগঠনের সভাপতি রাশেদ মেহেদী বলেন, ‘ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমাদের অস্তিত্ব কেবল একটি ডিভাইস। এটা নিজের পরিচিতি ও আবাস। অপারেটর ও ম্যানুফ্যাকচারের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসায়িক সমঝোতা হলে আমরা অনেক দামি সেটও কম দামে পেতে পারি। এ সমন্বয় না থাকায় দেশে গ্রে মার্কেট বাড়ছে।’

সেমিনারে মোবাইল উৎপাদকরা দাবি করেন, লাগেজে আনা কর ফাঁকি দেয়া মোবাইল ফোন দেশের মার্কেটগুলোতে বাজারজাত বন্ধে সরকারের মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নজরদারি বাড়াতে হবে।

তারা বলেন, এসব অবৈধ ফোন বাজারজাতকরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলো ব্যবস্থা না নিলে ফোন কারখানাগুলো থেকে কর্মী ছাঁটাইয়ে বাধ্য হবেন হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা।

হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা জানান, হ্যান্ডসেট সংযোজনে বর্তমানে ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ১৭টি প্রতিষ্ঠান। ১৬ হাজার কোটি টাকার হ্যান্ডসেটের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ লাগেজ-ব্যাগেজে আনা অবৈধ মোবাইল ফোনের দখলে। এতে বছরে ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। টিকতে না পেরে স্মার্ট ও ফিচারফোন মিলিয়ে ৪০ লাখ উৎপাদন সক্ষমতার ৩০ শতাংশ অব্যবহৃত থাকছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান জোরদারের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেটকারের ভেতর ২৯৭টি স্মার্টফোন
দেশের বাজারে এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন রিয়েলমি সি৩০

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eid has no effect waiting for garment holidays in Sadarghat

ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা

ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা পদ্মা সেতুর কারণে সদরঘাটে যাত্রী কমেছে বলে ধারণা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের এমভি ফারহান-৫ লঞ্চের স্টাফ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ার আগে ঈদে যেরকম ভিড় বা যাত্রী হতো, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এদিন যাত্রী কিছু বেশি ছিল, তবে শুক্রবার যাত্রীসংখ্যা বেশি হবে।’

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে যাত্রীদের সেবা দিতে চালু করা হয়েছে বিশেষ লঞ্চ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। আনসার ও পুলিশ সদস্যরা সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করছেন। এছাড়া ভিড় এড়াতে যাত্রীদের নিজ নিজ গন্তব্যের পন্টুন দিয়ে প্রবেশের নির্দেশনা দিচ্ছেন সদরঘাটের ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে এদিন ঘরমুখো মানুষের চাপ লক্ষ করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি থাকলেও টার্মিনাল এলাকায় অনেকটা জনশূন্যতা বিরাজ করছে। লঞ্চগুলো ছাড়ার জন্য প্রস্তুত করে রাখা হলেও যাত্রীদের তেমন আনাগোনা নেই। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি লঞ্চের ডেকে কিছু যাত্রী হলেও কেবিনে তেমন যাত্রীই নেই। আগে এ সময়ে যাত্রীদের চাহিদামতো টিকিট সরবরাহ করতে না পারলেও এখন পাল্টেছে সেই চিত্র। অনেক হাঁকডাক করেও যাত্রী মিলছে না। যাত্রী টানতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া রাখা হলেও যাত্রীরা আগ্রহী হচ্ছেন না।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের নিচতলায় রয়েছে সদরঘাট নৌ-থানার কার্যালয়। আনসার ক্যাম্পের পাশে রয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়। এ ছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি নৌ-ফাঁড়িও রয়েছে সেখানে। এগুলোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ডেস্ক বসিয়ে ডিউটি করছেন র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। নদীতে নৌ-পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।

সদরঘাটের কয়েকটি লঞ্চের সুপারভাইজার, টিকিট বিক্রেতা ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদকেন্দ্রিক লঞ্চে যাত্রী এখনও বাড়েনি। কিছু কিছু লঞ্চে কিছু সংখ্যক অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে। তবে ঈদের ২/৩ দিন আগে যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে চলাচল করলেও প্রায় ১০টি রুট ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদ মৌসুমেও সেসব রুটে লঞ্চ চলাচলের তেমন সম্ভাবনা নেই। লঞ্চ ব্যবসায় মন্দার কারণে ইতোমধ্যে ২০টিরও বেশি লঞ্চ বিক্রি করে দিয়েছেন মালিকরা।

টার্মিনাল থেকে কথা হয় ভোলাগামী লঞ্চযাত্রী লিটন তালুকদারের সঙ্গে। পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন ডেমরায়। পেশায় আইনজীবী লিটন গ্রামে বাবা-মাস স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘লঞ্চ ছাড়বে রাত ১০টায়। ভিড় হবে ভেবে বাসা থেকে আগেভাগেই রওনা দেই। বিকেল ৫টায় টার্মিনালে পৌঁছে গেছি। রাস্তায় কোনো ঝামেলা হয়নি। এখন তো দেখি তেমন ভিড় নেই।’

ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের এমভি ফারহান-৫ লঞ্চের স্টাফ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ার আগে ঈদে যেরকম ভিড় বা যাত্রী হতো, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এদিন যাত্রী কিছু বেশি ছিল, তবে শুক্রবার যাত্রীসংখ্যা বেশি হবে।’

লঞ্চ মালিক সমিতির পরিচালক গাজী সালাউদ্দিন বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদযাত্রা সামাল দিতে আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ রয়েছে। যেসব রুটে যাত্রী বেশি থাকবে প্রয়োজনে সেই রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে।’

ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় লঞ্চ চালাই। অন্য সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার নিচে আমরা ভাড়া নিয়ে থাকি।’

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর ফলে সদরঘাটের যাত্রীসংখ্যা অনেকটাই সড়কমুখী হয়েছেন। এতে সদরঘাটে আগের মতো ভিড় ও যাত্রীর চাপ নেই।

এদিন দুপুরে সদরঘাট টার্মিনালে কথা হয় র‌্যাব-১০ এর এসপি সাইফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ডিউটির পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইরোধে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটও কাজ করছে।’

এ বিষয়ে সদরঘাট টার্মিনালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সদরঘাট টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি অসংখ্য সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এগুলো দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চলাচলকারী লঞ্চগুলোর স্টাফদের প্রশিক্ষণ, লঞ্চে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আমরা সচেষ্ট আছি।’

অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার ঢাকা নদীবন্দরের আহ্বায়ক মামুন অর রশিদ বলেন, ‘এখন যাত্রীদের তেমন চাহিদা নেই। আমরা গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষায় আছি। যেদিন গার্মেন্টস ছুটি হবে, সেদিন থেকে বিশেষ লঞ্চ চলাচল শুরু করবে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে।’

যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদীবন্দরের পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘যাত্রীবাহী নৌযানের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করছে। যেহেতু ঝড়ের সময়, সে বিষয়েও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফায়ার সার্ভিস
ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Metrorail will run on new schedule after Eid

ঈদের পর নতুন সময়সূচিতে চলবে মেট্রোরেল

ঈদের পর নতুন সময়সূচিতে চলবে মেট্রোরেল মেট্রোরেলে কর্মব্যস্ত একটি দিনের চিত্র। ফাইল ছবি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১৭ জুন মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া, কোরবানির পশুর চামড়া এবং কাঁচা বা রান্না করা মাংস মেট্রো ট্রেনে বহন করা যাবে না।

সরকার নির্ধারিত অফিসের নতুন সময়সূচির কারণে মেট্রোরেলের স্বাভাবিক সময়সূচিতেও পরিবর্তন আসছে। ঈদের ছুটি শেষে আগামী ১৯ জুন থেকে নতুন সময় অনুযায়ী চলবে মেট্রোরেল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মেট্রোরেলের কার্যালয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক এসব বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘গত ৬ জুন থেকে অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সময়সূচি ঈদের পর ১৯ জুন থেকে কার্যকর হবে। সেজন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, উত্তরা উত্তর থেকে থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগের মতো স্পেশাল অফ পিক থাকবে। এই সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। আর সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট।

আবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত অফ পিক আওয়ার; এসময় ১২ মিনিট হেডওয়ে। আবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার; এসময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। আবার রাত ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক; এসময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট।

অন্যদিকে, মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক; এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট। সকাল ৮টা ১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার; এসময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। এরপর দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৪ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক; এই সময় হেডওয়ে ১২ মিনিট। আবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১২ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার; এই সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। রাত ৯টা ১৩ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিট স্পেশাল অফ পিক; এই সময় হেডওয়ে থাকবে ১০ মিনিট।

আগের মতোই প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান এমএএন ছিদ্দিক।

তিনি আরও জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া এবং কাঁচা বা রান্না করা মাংস মেট্রো ট্রেনে বহন করা যাবে না। পাশাপাশি, এর আগে আরোপিত অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাও বহাল থাকবে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১৭ জুন মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ভারতে মেট্রোরেলে ভ্যাট নেই, বাংলাদেশে কেন: কাদের
আশুলিয়া নয়, মেট্রো যাচ্ছে টঙ্গী পর্যন্ত
স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত মেট্রোরেল চান সাভারবাসী
মেট্রোর ভাড়া কারা বাড়াচ্ছে, ‘জানে না’ সরকার
মেট্রোর টিকিটে ভ্যাট বসছে, বাড়তে পারে ভাড়া

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The demand for colorful garland ropes is increasing in animal markets

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা সারা বছর পশুর গলার মালার তেমন একটা কদর না থাকলেও কোরবানিতে বাড়ে চাহিদা। ছবি: নিউজবাংলা
গাবতলী পশুর হাটের ফটকের ডান দিকে ছোট একটি দোকানে মালা ও দড়ি সাজিয়ে বসেছেন ভোলা জেলার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা বছর আমি দেশে পানের ব্যবসা করলেও গত ১৭ বছর ধরে কোরবানির ঈদে গাবতলীতে মালা ও রশির দোকান দিই। এই বছর প্রায় দুই লাখ টাকার মাল তুলছি। বেচাকেনা শেষে দুই লাখ টাকা লাভ থাকবে আশা করি।’

কোরবানির ঈদের বাকি আর কয়েক দিন। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারিরা গরু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। এমন বাস্তবতায় পশুর হাট যেমন ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে, তেমনই জমেছে হাটে আসা পশুর গলার মালা ও দড়ির দোকানগুলোতে বিক্রি।

সারা বছর এ মালার তেমন একটা কদর না থাকলেও কোরবানিতে বাড়ে চাহিদা।

হাটে আসা ক্রেতাদের কোরবানির পশু কিনেই যেন দায়িত্ব শেষ হয় না। গরুর সাজসজ্জাটাও হওয়া চাই মনের মতো।

পশু নিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পথচারীদের নজর কাড়তে চান অনেকে ক্রেতা। সেই চাহিদা পূরণ করছে পশুর মালা ও দড়ির দোকানিরা।

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা

রাজধানীর সর্ববৃহৎ গরুর হাট গাবতলীতে বৃহস্পতিবার দেখা যায়, বর্ণিল মালা, ঘণ্টা, দড়িসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে দোকান সাজিয়ে বসে আছেন মৌসুমি মালা ও দড়ি বিক্রেতারা।

গাবতলী গরুর হাটে ঢুকে ডান দিকে গেলেই সোজা লাইনে বেশ কয়েকটি মালা, রশি ও ঘণ্টার দোকানের দেখা মেলে। দোকানের সামনে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা নানা রঙের মালা, ছোট-বড় ঘণ্টা ও রশি।

মাঝারি আর বড় পশুর ক্রেতারা গরু-ছাগল কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় আগ্রহের সঙ্গেই ঘণ্টা, মালা কিংবা রশি কেনেন।

বড় গরুর সঙ্গে সাধারণত বেপারিরাই রঙিন মালা, রশি ও ঘণ্টা ক্রেতাদের ফ্রি দেন। গরু কেনার পর ক্রেতারা যেন সেটি সামলাতে পারেন, সে জন্য লাঠিও বিক্রি করা হয়। প্রতিটি লাঠির দাম ৫০ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত।

শুধু গলা নয়, গরুর চোয়ালের জন্যে আছে মালা। এটি বেল্টের মতো। এখানে জরি কাগজ ও কাপড় থাকে। মূল্য একেকটার একেক রকম। এর সঙ্গে থাকে গরুর কপালের প্লেট। এসব প্লেটের বেশির ভাগেই চাঁদ-তারার নকশা। এগুলো বড় গরুর ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয় বেশি।

প্রকারভেদে মালা ও দড়ির দাম ভিন্ন ভিন্ন। আছে ভিন্ন ভিন্ন নামও।

পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা

গাবতলী পশুর হাটের ফটকের ডান দিকে ছোট একটি দোকানে মালা ও দড়ি সাজিয়ে বসেছেন ভোলা জেলার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা বছর আমি দেশে পানের ব্যবসা করলেও গত ১৭ বছর ধরে কোরবানির ঈদে গাবতলীতে মালা ও রশির দোকান দিই। এই বছর প্রায় দুই লাখ টাকার মাল তুলছি। বেচাকেনা শেষে দুই লাখ টাকা লাভ থাকবে আশা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার গত ঈদের চেয়ে মালা-রশির দাম পিসপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ছে। এগুলো আমি মিরপুর বিহারি ক্যাম্প থেকে পাইকারি কিনে নিয়ে আসি। ওইখানেই এগুলো বানানো হয়।’

তার পাশেই পশুর মালা ও দড়ির দোকান সাজিয়ে বসা নুরনবী বলেন, ‘আমার এখানে বিভিন্ন ধরনের মালার বিভিন্ন রকম দাম রয়েছে। এগুলো সব বাংলাদেশেই তৈরি হলেও নাম পাকিস্তানি। চায়না নামেও হয়।’

কোনটার নাম কী আর দাম কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই যেমন একটার নাম আয়না সেট। এর দাম ৮০০ টাকা। চায়না সেটের দাম ৭০০ টাকা। জর্জেট সেটের দাম এক হাজার টাকা।

‘কালো ঘণ্টি ৭০০ টাকা, বেল ঘণ্টি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চায়না মোকা ২৫০, আয়না ঘণ্টি ২৫০, তিন ঘণ্টি ২০০, কলাপাতা ৪০০, লেভেল আয়না ১০০, টাই ৫০, জরি ৩০, কপালি ১০০, তাজ ১৫০ এবং দড়ি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।’

ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, মালা ও দড়ির চাহিদা তত বাড়বে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
বগুড়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৭ লাখ ৩৫ হাজার পশু
বজ্রপাতে তিন জেলায় পাঁচজন নিহত, আহত ৭
আট টাকায় শাড়ি, লুঙ্গি
বাগেরহাটে হাত-পা ও মুখ বাঁধা এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ইউপি চেয়ারম্যান থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হলেন আবু বক্কর

মন্তব্য

p
উপরে