সরকারি উন্নয়নকাজে মাটি পোড়ানো ইটের পরিবর্তে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও দৃশ্যত এর কোনো অগ্রগতি নেই। পরিবেশের সুরক্ষায় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি এ-সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকরেও উদ্যোগ নেই।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, ‘ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নে নানা বাধা আছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যেভাবে ধাক্কা দেয়া প্রয়োজন ছিল, সেভাবে দেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। অভাব আছে সচেতনতারও। তবে বিলম্ব হলেও কার্যকর না করে উপায় নেই।’
বালি, সিমেন্ট, নুড়ি পাথর মিলে নির্দিষ্ট মাত্রায় কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করে উচ্চ চাপে ব্লক ইট বানানো হয়। বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্লক ইট তৈরি হচ্ছে- সলিড ও হলোটাইপ। হলো ব্লক দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করলে ইটের তুলনায় ভবনের ওজন কম হয়। প্রকল্পের খরচও কমে আসে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্লক ইট ব্যবহারে সবাই যাতে উৎসাহিত হয়, সে জন্য চেষ্টা চলছে। কেউ আইন মানতে চায় না। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে এ বিধান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
বাংলাদেশে সব ধরনের বাড়ি-ঘর নির্মাণে পোড়া মাটির ইট ব্যবহার করা হয়। এই ইট বানাতে যে মাটি ব্যবহার হয় তা সংগ্রহ করা হয় কৃষিজমির উপরিভাগ থেকে। এতে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউস বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ একর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, যা মোট চাষযোগ্য জমির ১ শতাংশের বেশি। এই ৭০০ একর জমির ২০ শতাংশ নষ্ট হয় ইটভাটার কারণে।
এমন বাস্তবতায় মাটি পোড়ানো ইটভাটাকে নিরুৎসাহিত করে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক ইট ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইন করে সরকার। পাশাপাশি আইনটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা নেয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রচলিত ইটের ব্যবহার থেকে সরে এসে ধাপে ধাপে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি সব উন্নয়নকাজে ব্লক ইট ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এ পরিকল্পনা নেয়া হয় ২০১৯ সালে। ওই বছরই ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন করা হয়।
জানা যায়, সংশোধিত আইনে সরকারি সব নির্মাণ, মেরামত ও সম্প্রসারণ কাজে পোড়া মাটির তৈরি ইটের পরিবর্তে ব্লক ইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয় এবং ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়।
সরকারের এ পরিকল্পনা কার্যকর করতে ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।
জানা গেছে, পরিবেশ দূষণ রোধে মাটি পোড়ানো ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিটের ব্লক ইট ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেন ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
পরে এক তথ্যবিবরণীর মাধ্যমে ওই নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘গৃহনির্মাণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইচবিআরআই উদ্ভাবিত বিকল্প ইট পরিবেশবান্ধব ও অর্থ সাশ্রয়ী বিধায় প্রধানমন্ত্রী এই ব্লক ইট সরকারি সব উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।’
এ ছাড়া এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায়ে ব্লক ইট ব্যবহারে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো ওই নির্দেশনা কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বাস্তবে উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি নেই।
বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার ইটভাটায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ইট উৎপাদিত হয়। কিন্তু সরকারি খাতে কত অংশ ব্লক ইট ব্যবহার হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে বেশি নির্মাণ কাজ চলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য- এই চারটি প্রকৌশল অধিদপ্তরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি উন্নয়নকাজের ৬০ শতাংশই হয় এই চারটি সংস্থায়।
এদিকে সরকারপ্রধানের উল্লিখিত নির্দেশনা প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
যোগাযোগ করা হলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্লক ইট ব্যবহারে পিডব্লিউডি যেভাবে কাজ শুরু করেছিল পরবর্তী সময়ে সেভাবে এগোয়নি। আমি মন্ত্রণালয়ে নতুন এসেছি। যোগদান করার পর বারবার প্রশ্ন করেছি কেন কাজটি করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের বলেছি, যেভাবে নির্দেশ দেয়া আছে, সে অনুযায়ী কার্যাদেশ দিতে। এখন কাজ শুরু হয়েছে। বিলম্ব হলেও এটি বাস্তবায়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে যেসব উন্নয়নকাজ হবে, তাতে ব্লক ইট ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ অবশ্যই পালন করতে হবে।’
তিনি মনে করেন, সরকারি কাজে ব্লক ইট ব্যবহার শুরু হলে বেসরকারি খাতও উৎসাহিত হবে। তবে এটা ঠিক, এর জন্য যেভাবে ধাক্কা দেয়া প্রয়োজন ছিল সেভাবে দেয়া হয়নি।
পরিকল্পনা ও বাস্তবতা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৯-২০ সালের মধ্যে সরকারি নির্মাণকাজের ১০ শতাংশ, ২০২০-২১ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ, ২০২১-২২ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ, ২০২২-২৩ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ, ২০২৩-২৪ মধ্যে ৮০ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ সালে শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহার করতে হবে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন সব সরকারি নির্মাণকাজে অন্তত ৩০ শতাংশ ব্লক ইট ব্যবহার করার কথা। কিন্তু বাস্তবে যা হচ্ছে তা উল্লেখ করার মতো নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সারোয়ার বারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বড় প্রকল্পে ব্লক ইট ব্যবহারের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্দেশটি পালন করতে বলা হয়েছে।
‘করোনা মহামারির কারণে আমরা পিছিয়ে গেছি। এখন থেকে কাজ শুরু হয়ে গেছে। সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে আশা করি।’
সমস্যা কোথায়?
পরিবেশবান্ধব নির্মাণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে মীর কংক্রিট কোম্পানি লিমিটেড। এই কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাজার তৈরি না হওয়ার বিষয়টি ব্লক ইটের জন্য এখনও বড় বাধা। দেশে প্রায় ১০ হাজার ইটভাটা রয়েছে এবং বছরে ৩৫-৪০ হাজার কোটি টাকার বাজার আছে পোড়া মাটির ইটের।
‘অন্যদিকে ব্লক তৈরি করছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি নয়। পুরো মার্কেট তো ইটভাটার মালিকদের দখলে। ফলে ব্লক ইটের মার্কেটিং কম হচ্ছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ব্লক ইট কারখানা বর্তমানে ১৩৫টি। এর মধ্যে ঢাকায় ৮৩টি ও চট্টগ্রামে ২৬টি কারখানা রয়েছে। বাকিগুলো অন্যান্য শহরে।
সাধারণ মানুষ ব্লক ইট সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানে না। এটাকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন আবাসন শিল্প মালিকদের সংগঠন রিহ্যাবের সাবেক সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘সচেতনতার অভাবই বড় সমস্যা। একটি কংক্রিট ব্লক পাঁচটি ইটের সমান। এই ইট ব্যবহার করলে নির্মাণ ব্যয় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সাশ্রয় হবে। ভবনের ভেতরে ব্যবহারযোগ্য জায়গাও বাড়বে।’
ব্লক ইট নিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচার বাড়ানোর কথা বলেন আবাসন খাতের অভিজ্ঞ এই ব্যবসায়ী।
খসড়া রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়াতে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে খসড়া রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ব্লক ইট উৎপাদন উৎসাহিত করতে প্রকল্প অনুমোদনের সময় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ বাধ্যতামূলক ব্যবহার, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, কর ছাড়, সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপের উল্লেখ থাকছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে রোডম্যাপ চূড়ান্ত হবে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাটি পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমাতে হলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের বিকল্প নেই। প্রজ্ঞাপনের শর্ত বাস্তবায়নের জন্যই রোডম্যাপ করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে ব্লক ইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বাধা দূর হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী আবু তাহের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাই ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ুক। সে জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
মুহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের (২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবি বলছে, জরিপটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির চিত্রের বিশ্লেষণ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে এই জরিপ করেছিল টিআইবি।
বর্তমান জরিপের ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি।
তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে। পাশাপাশি কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে বা আগের মতোই রয়ে গেছে।
দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় ও কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।
দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার জানলেও অভিযোগ করার হার খুবই কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির বদলে সুবিধা পাওয়া।
জরিপে আরও দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয় (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা—এই পাঁচটি প্রধান শহরের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা শুরু হবে। তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরের ভিসা সেন্টারগুলোতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত প্রায় দুই বছর ধরে সাধারণ ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান স্থগিত রেখেছিল ভারত। হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘোষণা দিতে পেরে তিনি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল ভিসা প্রসঙ্গে দিনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন যে, এই ক্যাটাগরির ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে মানবিক বিবেচনায় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর সাধারণ ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন দিনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব শুরুর প্রথম দিনেই ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ভিসা সেন্টার পরিদর্শন করে সাধারণ আবেদনকারীদের কথা শুনবেন এবং সেবার মান উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করবেন। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। সাবেক এই রেলমন্ত্রীকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। গত ১২ জুন তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছান এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দীনেশ ত্রিবেদীকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে ভারত সরকার। গত ২৪ জুন জারি করা এক সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে দায়িত্বরত থাকাকালীন তাঁকে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মূলত আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকায় (টেবিল অব প্রিসিডেন্স) তিনি এই উচ্চমর্যাদা ভোগ করবেন।
তবে স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে ভারতের স্থায়ী প্রটোকল তালিকায় বা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এর মৌলিক কাঠামোতে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। কূটনৈতিক মহলে দীনেশ ত্রিবেদীর এই বর্ধিত মর্যাদা দুই দেশের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে উড্ডয়নের প্রাক্কালে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পরে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানের দরজা ভেঙে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭০ জন যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে বের করে আনা হয়।
জানা গেছে, ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হঠাৎ ককপিটের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বা অগ্নি-সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। বিপদ টের পেয়ে অভিজ্ঞ পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজটি থামিয়ে দেন এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি অবহিত করেন। ইঞ্জিনে ত্রুটির খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা দ্রুত বিমান থেকে নামার চেষ্টা করেন। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উড্ডয়নের আগেই যান্ত্রিক গোলযোগ শনাক্ত হওয়ায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উড্ডয়ন বাতিল করে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর এবং সকল নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে ফ্লাইটটি পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঞ্জিনের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সময়োচিত এই পদক্ষেপের কারণে যাত্রীদের জীবন রক্ষা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ছবি: সংগৃহীত
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষায় অস্ত্র প্রদানের পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যাদের একটি বড় অংশ সিনথেটিক ও সেমি সিনথেটিক মাদকের শিকার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, বর্তমান মাদকচক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। তাঁর ভাষায়, “পরিস্থিতি অনেকটা ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারে’র মতো।” এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার মাদক আইন সংশোধনের কাজ শুরু করেছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংশোধিত আইনটি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলা জট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাতেও প্রচুর মামলা ঝুলে আছে। প্রথাগত আদালত ব্যবস্থায় এই বিশাল সংখ্যক মামলার বিচার সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তাই বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে ‘স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি প্রচলিত আদালতেও মাদকের বিচার কাজ যথারীতি অব্যাহত থাকবে।
মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষে সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এদিন ১৫টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয় এবং মোট ৭৩টি কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিস্তা নদী প্রকল্পসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি ও গবেষণাধর্মী সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
বৈঠকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চলমান নদী খনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের সক্রিয় কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া নদীভাঙন রোধ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশনের উন্নয়নে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রত্যুত্তরে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বর্তমান সহযোগিতা অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর। মন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন যে, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে প্রভূত উন্নতি করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানান।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকের শেষে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ বই উপহার দেন। এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে বাংলাদেশের পানিসম্পদ উন্নয়নে চীনের সাথে সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রভাবশালী মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের প্রারম্ভে লিউ হাইশিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নয়বার চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি সগৌরবে জানান যে, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক চীন সফরের দুর্লভ স্থিরচিত্র তাঁর সম্মানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বিএনপি ও সিপিসি-র মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব উল্লেখ করে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লিউ হাইশিং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, চীন সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক। তিনি পারস্পরিক সম্মান ও গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সক্রিয় কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বিকশিত হবে।
চীনের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন যে, তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন লাভ করবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিনসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। চীনের পক্ষ থেকেও সিপিসি-র আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মন্তব্য