× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The Home Minister described the attack on police in Nayapaltan
hear-news
player
google_news print-icon

নয়াপল্টনের ঘটনার বর্ণনা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নয়াপল্টনের-ঘটনার-বর্ণনা-দিলেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যদের রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধান করতে বলেছিলাম। দুপুরে একটা মিটিং করছিলাম। আমাদের আইজিপি, সিনিয়র সচিব অনেকেই সেখানে ছিল। কী ঘটছিল, তা আমরা জানতাম না। হঠাৎ শুনলাম, তারা (বিএনপি নেতা-কর্মী) মারমুখী আচরণ করছেন। ততক্ষণে পুলিশ সদস্যদের ওপরেও ঢিল ছোড়া শুরু করেন তারা।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার বিএনপি নেতা-কর্মী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং অনেকে আহত হন। সংঘর্ষের পর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পুলিশ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন- বিএনপি নেতা-কর্মীরা মারমুখী অবস্থানে ছিল। হঠাৎ করেই পুলিশ সদস্যদের ওপরে ঢিল ছোড়ে। বিভিন্ন ধরনের পটকা ফুটিয়ে আওয়াজ সৃষ্টি করে তারা।

বৃহস্পতিবার রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সেদিন আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধান করতে বলেছিলাম। আমরা দুপুরে একটা মিটিং করছিলাম। আমাদের আইজিপি, সিনিয়র সচিব অনেকেই সেখানে ছিলেন। কী ঘটছিল, তা আমরা জানতাম না।

হঠাৎ শুনলাম, তারা (বিএনপি নেতা-কর্মী) মারমুখী আচরণ করছে। আমাদের পুলিশ সদস্যদের ওপর ঢিল ছুড়ছে। বিভিন্ন ধরনের পটকা ফুটিয়ে তারা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ অত্যন্ত নির্ভীক। তারা দায়িত্বে অটল। ঘটনার পর তারা একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছিলেন। সেই মোকাবিলার সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ৪৯ জন পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ২৫ জন ভর্তি রয়েছেন। এই হাসপাতালে একজন আছেন যার মাথায় ৪৮টি সেলাই পড়েছে। তিনি ক্রিটিক্যাল পজিশনে রয়েছেন। ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় কোপানো হয়েছে।

‘ঢাকা মেডিক্যালে একজন আছেন। অন্য যারা আছেন, তাদের অধিকাংশ বোমার স্প্লিন্টারে আহত হয়েছেন কিংবা লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন। অনেকের শরীরে পেটানোর দাগ রয়েছে। এ রকমভাবে তারা আমাদের পুলিশ সদস্যদের আহত করেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ মব ডিসপাস করার জন্য টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। তারপর বাধ্য হয়ে রাবার বুলেট ছুড়েছে। কোথা থেকে বোমা এসেছে তা দেখতে পুলিশ সদস্যরা একযোগে বিএনপির পার্টি অফিসের ভেতরে যায়।

‘সেখানে অনেক চালের মজুত ছিল। পানি ছিল। অনেক চিনি ও ডালের মজুত ছিল। সেখানে ১৫টি হাতবোমা পাওয়া গেছে। যেগুলো অবিস্ফোরিত ছিল। ছুরি-কাঁচি এগুলোও পাওয়া গেছে। রান্না অবস্থায় খিচুরি পেয়েছি। এগুলো আনার পেছনে কারণটা কী?’

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘তারা (বিএনপি নেতা-কর্মী) সড়কে অবস্থান নেবে কিনা জানতাম না। তবে এখন শুনছি, তারা বসে পড়ার জন্য এসব রসদ মজুত রেখেছিল। এর বেশি কিছু জানি না।’

বিশৃঙ্খলা মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দলের কর্মসূচি করেন কোনো আপত্তি নেই। আপনারা ভাঙচুর করবেন, জান-মালের ক্ষতি করবেন, আমাদের পুলিশ চুপচাপ বসে থাকতে পারে না। তাদের দায়িত্ব হলো জান-মালের প্রোটেকশন দেয়া। এই কাজ করতে গিয়ে আপনারা দেখেছেন কত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবু তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।’

সমাবেশস্থল নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারা দেশে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সব জায়গায় সমাবেশ করেছে। আমরা কোথাও বাধা দেইনি, অসহযোগিতা করিনি। ঢাকায় তারা বিরাট সমাবেশ করবে বলেছিল। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসে যে তারা অন্তত ২৫ লাখ লোক ঢাকায় আনবে।

'আমরা বললাম, ঢাকায় তো এমন মাঠ নেই। তারা আমাদের কাছে প্রথমে চেয়েছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সংসদ ভবনের সামনে ও তাদের অফিসের সামনে। সংগত কারণেই পুলিশ কমিশনার নয়াপল্টনে দেননি। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাবে। ঢাকায় একটা অচল অবস্থা তৈরি হবে। সে কারণে কমিশনার অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সংসদ ভবনের সামনে কাউকে সমাবেশ করতে দেয়া হয় না।'

তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৮ ডিসেম্বর আমাদের একটা সমাবেশ ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে কর্মসূচি এগিয়ে আনার কথা বলেন। সেভাবেই হয়েছে। এরপর মাঠ ফ্রি ছিল। আমরা বলেছি, আপনারা আসুন। যত সমর্থক আসবে, আসুক। তারা এখানে না থেকে বার বারই পল্টনে পার্টি অফিসের কথা বলছিলেন।’

বিএনপিকে বিকল্প ভেন্যুর কথা বলা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিকল্পের কথা বললাম, ঢাকা শহরে আরও বড় বড় মাঠ আছে। সেখানে সমাবেশ করলে ট্রাফিক সচল থাকবে।

কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করবে না। বিকল্প ব্যবস্থা না করে দিলে নয়াপল্টনেই বিএনপি সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছে।’

পরিস্থিতি নাজুক কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি নাজুক বলে মনে করি না। তবে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। একগুঁয়েমি ছেড়ে সোরাওয়ার্দী ময়দানে আসুক, বিরাট সমাবেশ করুক। আমাদের কমিশনারের সঙ্গে বসুক। বিকল্প কোনো প্রস্তাব থাকলে তারা জানালে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।’

নয়াপল্টনই চায় বিএনপি

এদিকে সংঘর্ষের পরও বিএনপি নয়াপল্টনেই বিভাগীয় সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য বিকল্প না এলে সেদিন সকালে জনগণ নয়াপল্টনেই যাবে। যদি বাধা আসে, তাহলে জনগণই ঠিক করবে তারা কী করবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১২ অক্টোবর থেকে বিএনপি ৯টি বিভাগীয় সমাবেশ করেছে, কোনো সমাবেশে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। এখানেও হওয়ার কারণ ছিল না। যা হয়েছে, তার জন্য সরকারই দায়ী।

এর আগে বুধবার বিকেলে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহতসহ অনেক আহত হন। সংঘর্ষের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে অন্তত ২১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে। এতে ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি আছে জানিয়ে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, আরও কয়েকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আসামিদের মধ্যে আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন।

এদিকে মতিঝিল থানায় সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া শাহজাহানপুর থানায় পুলিশ আরেকটি মামলা করেছে, যাতে ৫২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় অজ্ঞাত আসামি ২০০ থেকে ২৫০ জন।

আরও পড়ুন:
ডিএমপি কমিশনার কার্যালয়ে বিএনপি নেতারা
রাস্তায় বসে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই: বিএনপি
পুলিশ ভ্যানে সুরাইয়ার সঙ্গের শিশুটি ছাড়া পেয়েছে, পরীক্ষাও দিয়েছে
সড়কে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকার সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট, পুলিশের পাশে বৈঠা হাতে টহল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Kidnapped and raped 2 young men for life

অপহরণের পর কিশোরীকে ধর্ষণ, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

অপহরণের পর কিশোরীকে ধর্ষণ, ২ যুবকের যাবজ্জীবন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ফাইল ছবি
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের পূবেরগাঁও এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ করেন আসামিরা। এরপর কিশোরীর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে তারা। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- জাফর ইসলাম রিজভী (৩৬) ও সজিব ভূঁইয়া বাবু (৩৬), তবে রায় ঘোষণার সময়ে আদালতে তারা অনুপস্থিত ছিলেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের পূবেরগাঁও এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ করেন আসামিরা। এরপর কিশোরীর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জের এসপিসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন রিজভীর
বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা ‘লিখে দিয়েছে পুলিশ’, লাপাত্তা শাওনের ভাই
দেশে ফিরে গ্রেপ্তার ‘নারায়ণগঞ্জের ত্রাস’ জাকির খান
শাওন যুবদলের নন, আ.লীগ নেতার ভাতিজা: তথ্যমন্ত্রী
হাসপাতাল নেই, বেতন নিচ্ছেন ৭ চিকিৎসক  

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Order to admit 41 brothers in Vikarunnisa

ভিকারুননিসায় ৪১ সহোদরকে ভর্তির নির্দেশ

ভিকারুননিসায় ৪১ সহোদরকে ভর্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি
৪১ জন সহোদর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করে, কিন্তু ১৬ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র দেয়। যেখানে বলা হয়, শুধুমাত্র ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি শ্রেণিসহ অন্য শ্রেণিতে মোট আসনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সহোদর ও জমজ ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে ভর্তি করাতে পারবে। এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।

প্রথম শ্রেণিতে ৪১ সহোদর ও জমজকে ভর্তি নিতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাদের অভিভাবকের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন ও আইনজীবী শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন জানান, বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ (মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তর) শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২২ অনুসারে কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সহোদর/সহোদরা বা জমজ ভাই/বোন যদি আগে থেকে অধ্যয়নরত থাকে, সেসব সহোদর বা জমজকে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই বিধান অনুযায়ী, ৪১ জন সহোদর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করে, কিন্তু ১৬ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র দেয়। যেখানে বলা হয়, শুধুমাত্র ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি শ্রেণিসহ অন্য শ্রেণিতে মোট আসনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সহোদর ও জমজ ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে ভর্তি করাতে পারবে। এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। কারণ তারা যখন আবেদন করে, তখন ৫ শতাংশের বিধান ছিল না। এ কারণে আদালত এই ৪১ জনের ক্ষেত্রে ওই বিধান স্থগিত করে রুল জারি করেছেন। পাশাপাশি তাদের ভর্তি করাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
জমি চাইলেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ
ধানমন্ডিতে ভাড়া ভবনে থাকতে চায় না ভিকারুননিসার ছাত্রীরা
ভিকারুননিসার অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন বন্ধে আইনি নোটিশ
ভিকারুননিসায় কামরুন নাহারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ
এ অধ্যক্ষ ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না: হাইকোর্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The High Court is concerned about Dhakas air

ঢাকার বাতাস নিয়ে উদ্বেগ হাইকোর্টের

ঢাকার বাতাস নিয়ে উদ্বেগ হাইকোর্টের ফাইল ছবি
হাইকোর্ট বলেছে, ‘আপনারা কি আমাদের মেরে ফেলবেন নাকি? নির্দেশনা বাস্তবায়নে বারবার আপনাদের ডাকতে হয়। আমরা নিজেরাই লজ্জা পাচ্ছি।’

ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই উদ্বেগ প্রকাশ করে।

এ সময় বায়ু দূষণ রোধে নেয়া পদক্ষেপ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছে, ‘আপনারা কি আমাদের মেরে ফেলবেন নাকি? নির্দেশনা বাস্তবায়নে বারবার আপনাদের ডাকতে হয়। আমরা নিজেরাই লজ্জা পাচ্ছি।’

আদালতের নির্দেশনার কথা জানিয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন চেয়ে আমরা একটি আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উদ্দেশে এ কথা বলেছে।

তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশে আদালত বলেছে, ‘বায়ু দূষণরোধে আপনারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বারবার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। আপনারা কি আমাদের সবাইকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে চান?’

আদালতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী আমাতুল করিম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সাঈদ আহমেদ রাজা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে উচ্চ আদালতের যে নয় দফা নির্দেশনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা চেয়ে সোমবার হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বায়ু দূষণরোধে ৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০২০ সালে রায় দেন উচ্চ আদালত।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আপনারা জানেন কয়েক দিন ধরে রিপোর্ট হচ্ছে, বিশ্বের সর্বোচ্চ বায়ু দূষণকারী শহর হচ্ছে ঢাকা। বায়ু দূষণে ঢাকার এই অবস্থান ধারাবাহিক হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এটি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। যেটা দিল্লিতে করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের এখানে কারো কোনো খবর নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঢাকা শহর বায়ু দূষণে এক নম্বরে আছে, অথচ কেউ কোনো পাত্তা দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত এ বিষয়ে বলে যাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন:
কাতার বিশ্বকাপ: বাংলাদেশি শ্রমিক নিহতের সংখ্যা জানতে চায় হাইকোর্ট
অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে ওয়াসার তাকসিমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
স্ত্রী হত্যায় স্বামীর সাজা কমে যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Turin Afrozes case against his brother is adjourned

ভাইয়ের বিরুদ্ধে তুরিন আফরোজের মামলা স্থগিত

ভাইয়ের বিরুদ্ধে তুরিন আফরোজের মামলা স্থগিত
আইনজীবী মনযুর রাব্বি বলেন, ‘একই দিনে তুরিন আফরোজ এবং তার ভাই শাহনেওয়াজ থানায় জিডি করেন। কিন্তু পুলিশ ভাইয়ের জিডি না নিয়ে বোনের জিডি নিয়ে মামলা ফাইল করে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এই বিবেচনায় মামলাটি বাতিলযোগ্য। আদালত আমাদের শুনানি নিয়ে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে।’

বোনকে নিয়ে মিথ্যা রটানোর অভিযোগে ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশিরের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের করা মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে এ মামলাটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবেনা তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চে আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মনযুর রাব্বি, সঙ্গে ছিলেন এম আনিসুজ্জামান।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী মনযুর রাব্বি বলেন, ‘একই দিনে তুরিন আফরোজ এবং তার ভাই শাহনেওয়াজ থানায় জিডি করেন। কিন্তু পুলিশ ভাইয়ের জিডি না নিয়ে বোনের জিডি নিয়ে মামলা ফাইল করে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এই বিবেচনায় মামলাটি বাতিলযোগ্য। আদালত আমাদের শুনানি নিয়ে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে।’

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশিরের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় আদালত।

২০১৯ সালের ১৪ জুন বাস ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করতে চাওয়ার জন্য এবং তুরিন আফরোজকে প্রাণনাশসহ নানারূপ অশালীন হুমকি দেয়ার কারণে উত্তরা পশ্চিম থানাতে নিজের মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা জিডি করেন তুরিন আফরোজ।

পরবর্তীতে তদন্তে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের করা জিডির সত্যতা প্রমাণিত হয়। এতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তুরিন আফরোজের মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। ঢাকার বিজ্ঞ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নেয়। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর আসামি শাহ নাওয়াজ শিশিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এ মামলায় তিনি ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন নেন। এরপর মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত। এদিকে মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তুরিন আফরোজের ভাই শাহনেওয়াজ।

আরও পড়ুন:
তুরিন আফরোজকে আদালতের শো' কজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two war criminals who were ordered to be hanged were arrested

ফাঁসির আদেশ পাওয়া দুই যুদ্ধাপরাধী গ্রেপ্তার

ফাঁসির আদেশ পাওয়া দুই যুদ্ধাপরাধী গ্রেপ্তার র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি: নিউজবাংলা
গ্রেপ্তার নকিব হোসেন ও মোখলেছুর ২০১৫ সালে মামলার তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে তারা আত্মগোপনে চলে যান।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার রাতে র‌্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর দক্ষিণখান ও আশুলিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নকিব হোসেন আদিল সরকার ও মোখলেসুর রহমান মুকুল।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাকচর গ্রামের ইউনুছ আলী নামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নদী পারাপারে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের নদী পারাপারে সহযোগিতার কারণে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা বীর মুক্তিযুদ্ধা ইউনুছ আলীকে রাজাকারদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায় এবং রাজাকার ক্যাম্পের টর্চার সেলে নির্যাতনের পর ১৫ আগস্ট সকালে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় শহীদ ইউনুস আলীর ছেলে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিচারিক আদালতে নকিব হোসেন আদিল সরকার ও মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। পরে আদালত বিচারিক কার্যক্রমের জন্য মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠায়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০১৭ সালে অভিযোগের তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা নকিব হোসেন ও মোখলেছুরসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ২৩ জানুয়ারি এ দুজনসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার নকিব হোসেন ও মোখলেছুর ২০১৫ সালে মামলার তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে তারা আত্মগোপনে চলে যান।

গ্রেপ্তার এড়াতে নাকিব রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং মোখলেছুর আশুলিয়া ইপিজেড এলাকায় বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তারা দুইজনেই একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন।

র‌্যাব আরও জানায়, এ সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তারা অন্যের রেজিস্ট্রেশন করা সিমকার্ড দিয়ে মোবাইল ফোনে ব্যবহার করতেন।

আরও পড়ুন:
পলাতক যুদ্ধাপরাধী খলিলের মৃত্যুদণ্ড
যুদ্ধাপরাধীর সম্পত্তি পরিত্যক্তর বিধান রেখে খসড়া পাস
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত হাজতির মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dancer Evans woman trafficking case report leaked

নৃত্যশিল্পী ইভানের নারী পাচার মামলার প্রতিবেদন পেছাল

নৃত্যশিল্পী ইভানের নারী পাচার মামলার প্রতিবেদন পেছাল ফাইল ছবি
২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর নিকেতন থেকে ইভানকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। দুবাই পুলিশের দেয়া তথ্যে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য আজম খান ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেয়া তথ্যে ইভানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মানব পাচার আইনের মামলায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল। প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. শাকিল আহাম্মদের আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় বিচারক নতুন দিন ধার্য করেন।

২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর নিকেতন থেকে ইভানকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। দুবাই পুলিশের দেয়া তথ্যে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য আজম খান ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেয়া তথ্যে ইভানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২ জুলাই চক্রের মূল হোতা আজম খানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে লালবাগ থানায় মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মৃণাল কান্তি শাহ।

মামলার নথিতে বলা হয়, এই চক্রটি মূলত দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ড্যান্স বারে চাকরি দেয়ার কথা বলে নারী পাচার করত। দুবাইয়ে আজম খানের নিজস্ব হোটেল ও ড্যান্স বার আছে। দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যারা নাচ-গান করেন তাদের বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হতো। সেখানে নিয়ে নৃত্যশিল্পীদের যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো।

ইভান শাহরিয়ার সোহাগ নিজের নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নাচে অংশ নিত তার দল। ২০১৭ সালে নির্মিত ‘ধ্যাততেরেকি’ চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

আরও পড়ুন:
নৃত্যশিল্পী ইভানের নারী পাচার মামলার প্রতিবেদন ৩১ জানুয়ারি
নৃত্যশিল্পী ইভানের নারী পাচার মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল
নৃত্যশিল্পী ইভানের নারীপাচার মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jamaat directed to submit summary of appeal against registration within 2 months

নিবন্ধন: জামায়াতকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমার নির্দেশ

নিবন্ধন: জামায়াতকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি
জামায়াতের আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘আজকে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় বিষয়টি ছিল। আদালত আগামী দুই মাসের জন্য সময় দিয়েছে। এ দুই মাসের মধ্যে কনসাইজ স্টেটমেন্ট (আপিলের সার সংক্ষেপ) জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আর কোনো সময় দেবেনা বলে উল্লেখ করেছে।’

দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেয়া নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সার সংক্ষেপ প্রস্তুত করতে চূড়ান্তভাবে দুই মাস সময় দিয়েছে আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তুহিন। আর রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর।

তানিয়া আমীর বলেন, ‘মামলাটি শুনানি করার জন্য আমরা অনেকবার উদ্যোগ নিয়েছি। আদালত তাদের (জামায়াত) অনেকবার সময় দিয়েছে। তারা গড়িমসি করে রেডি করছে না। আজকে ফাইনাল আদেশ দিল আদালত। যদি আট সপ্তাহের মধ্যে ফাইল (আপিলের সার সংক্ষেপ) শুনানির জন্য রেডি না করে তাহলে ডিফল্ট (খারিজ) হয়ে যাবে।’

জামায়াতের আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘আজকে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় বিষয়টি ছিল। আদালত আগামী দুই মাসের জন্য সময় দিয়েছে। এ দুই মাসের মধ্যে কনসাইজ স্টেটমেন্ট (আপিলের সার সংক্ষেপ) জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আর কোনো সময় দেবে না বলে উল্লেখ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ অনুসারে মামলার শুনানিতে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেবে। আশা করি জামায়াত নিবন্ধন ফিরে পাবে। আর দুই মাসের মধ্যে সার সংক্ষেপ প্রস্তুত করতে পারব।

‘আমাদের প্রধান আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। এ ছাড়া ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক ও এহসান সিদ্দিক আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত আছেন। তারা এ মামলাটি পরিচালনা করবেন।’

জামায়াতকে দেয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন ২০১৩ সালের ১ আগস্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হকের হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ।

সে সময় সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেছিল, এ নিবন্ধন দেয়া আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত। একই সঙ্গে আদালত জামায়াতকে আপিল করারও অনুমোদন দেয়।

তবে এ রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে জামায়াতের করা আবেদন একই বছরের ৫ আগস্ট খারিজ করে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। পরে ২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জামায়াতে ইসলামী আপিল করে।

এর আগে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভুত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি (১) (বি) (২) ও ৯০ (সি) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।

এ রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১২ জুন রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে আদালত। পরে ওই বছরের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট।

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতকে সাময়িক নিবন্ধন দেয়া হয়। সে সময় সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামের কথা ছিল।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে রিট আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (পরে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করে।

রুল জারির পর ওই বছরের ডিসেম্বরে একবার, ২০১০ সালের জুলাই ও নভেম্বরে দুবার এবং ২০১২ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে দুবার তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এসব সংশোধনীতে দলের নাম ‘জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ করা হয়।

মন্তব্য

p
উপরে