× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Palm juice There are trees and there are no trees
hear-news
player
google_news print-icon

খেজুরের রস: গাছ আছে, গাছি নেই

খেজুরের-রস-গাছ-আছে-গাছি-নেই
মাগুরায় শীত যত বাড়ছে, ততটাই খেজুর গাছ বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে গ্রামে-গ্রামে। ছবি কোলাজ:নিউজবাংলা
মাগুরা সদরের বার্লো বাজার থেকে শুরু করে ছোটফালিয়া ও ডেফুলিয়ায় মোট খেজুরগাছ রয়েছে ৫০০-এর ওপরে। গাছের মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছি সংকটে সব গাছ কাটা যাবে না। ফলে খেজুর রসের জোগান অর্ধেকে নেমে আসবে এ বছর।

শীত এবার যেন আগেভাগেই নেমে গেছে মাগুরায়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরগাছ ‘কাটার’ও ধুম পড়েছে। শীত যত বাড়ছে, ততটাই খেজুরগাছ বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে গ্রামে-গ্রামে। এখন গ্রামের মাঠে গেলে শোনা যায় খেজুরগাছ বাছাইয়ের শব্দ। তবে খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহে গাছির অভাব দেখা দিয়েছে। সংকট রয়েছে নতুন গাছি তৈরিতেও।

মাগুরা সদরের পাটকেলবাড়িয়া গ্রাম। বার্লো বাজার থেকে শুরু করে ছোটফালিয়া, ডেফুলিয়ায় মোট খেজুরগাছ রয়েছে ৫০০-এর ওপরে। এখানকার গাছিরা জানান, এই সংখ্যা আগে ছিল হাজারখানেক। বসতভিটা বাড়ায় অর্ধেকেরও বেশি গাছ কাটা পড়েছে। তবে যা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাটা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গাছ কাটতে হয় কার্তিকের শুরু থেকে।

খেজুরগাছ ‘কাটা’ বলতে বোঝায় গাছকে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা ও রস সংগ্রহ করা।

গাছের মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছি সংকটে সব গাছ কাটা যাবে না। ফলে খেজুর রসের জোগান অর্ধেকে নেমে আসবে এ বছর।

পাটকেলবাড়িয়ায় গাছি আমির আলীর খেজুরগাছ কাটছেন ৬০ বছর ধরে। বয়স ৭০-এর উপরে হলেও এ বছর তার এলাকায় গাছ কেটেছেন ৫০টির বেশি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা সময় আমাগের এলাকায় গাছ কাটতাম উৎসব করে। আমি সহ ছিল মালেক, আফসার, রমিজ মিয়াসহ আরো অনেকে।

‘তবে সময়ের সঙ্গে কেউ পেশা বদলাইছে, কেউ বা বেঁচে নেই। ফলে পুরান এই পেশা আর নতুন কাউকে ধরতে দেখিনি এ জন্য গাছ কাটার লোক নেই। রসও এ জন্য আগের মতো হবে না।’

রাঘবাদউড় ইউনিয়নের গাছি সুরুজ আলী বলেন, ‘মানুষ খেজুর রস খেতে চায়। বিশেষ করে এখনকার প্রজন্ম তো এই রস চেনেই না। তাই বাবা-মার থেকে শুনে তারা গ্রামে আসে। কিন্তু সবাইকে রস দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এলাকার বেশির ভাগ গাছ কাটা পড়ছে না গাছির অভাবে।’

হাজিপুর, হাজরাপুর, আলমখালি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, খেজুরগাছ অর্ধেকের মতো কেটে রেখেছে গাছিরা। কিছু গাছে হাঁড়ি পাতা রয়েছে। তবে এই রস খাওয়া যাবে না বলে জানান গাছি আমির আলি। তিনি বলেন, ‘শীত আরও ঘন হলেই কেবল আসল রস বের হবে। এখন যা রস পাওয়া যায়, এটা খাওয়ার উপযোগী না হলেও এটা দিয়ে পাটালি গুড় বানানো হয়। তবে তা খুব ভালো স্বাদের হয় না।’

খেজুর রস খান প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘খেজুর রস গত কয়েক বছর গ্রামে গিয়ে খাই। তবে স্বাদ আগের মতো নেই। এবারও আশা করছি গ্রামে গিয়ে রস খাব এবং বাড়ির সবার জন্য নিয়ে আসব।’

তিনি জানান, চাহিদা বেশি, কিন্তু রস কম পওয়া যায়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি এক লিটার রস কেনেন ১২০ টাকা করে। একটা সময় কিনতেন ৭০ টাকায়। তিনি মনে করেন, গাছির অভাবে ধীরে ধীরে এটা হারিয়ে যাবে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুফী মোহাম্মদ রফিকুজজামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলায় কতটি খেজুরগাছ আছে, বলা মুশকিল। এমনকি গাছিদের সংখ্যাও তেমন জানার সুয়োগ নেই। তবে যারা গাছি, তারা মৌসুমি পেশা হিসেবে এটাকে নিয়েছেন। এ জন্য সঠিক পেশার পরিমাপ করা কঠিন। তবে খেজুর রস কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ভালো স্বাদের হয়। মাগুরার প্রত্যন্ত এলাকায় এখন দেখেছি গাছ কেটে মাটির হাঁড়ি ঝোলানো রয়েছে। আশা করি, শহরবাসী এবার ভালো রস খেতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ
‘বেশি শীত হলে খড়-পাতা জ্বালায় দিন কাটামো’
হেমন্তে কলকাতায় শীতের আমেজ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Successful businessman started mushroom cultivation after watching YouTube

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী মাশরুম পরিচর্যায় সাগর আলী। ছবি: নিউজবাংলা
মাশরুম চাষি সাগর আলী বলেন, ‘গত বছরের শেষের দিকে মাশরুম খামার গড়ে তুলি। সবমিলে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। খরচের টাকা উঠে কিছু লাভও হয়েছে। বর্তমানে খামারে মাশরুম বীজ আছে তা থেকে আগামী তিন মাস বিক্রি করা যাবে মাশরুম। আশা করছি তিন মাস মাশরুম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকার আয় করতে পারব।’

নওগাঁ সদর উপজেলার কির্ত্তিপুর ইউনিয়ন বিনে ফতেপুর গ্রামের সাগর আলী। পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। আবাদের জন্য তেমন কৃষি জমি নেই। গত ১৪-১৫ বছর যাবৎ নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তার পাশে বাজারে সবজি বিক্রি করে আসছেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউটিউবে মাশরুম চাষের একটি ভিডিও দেখে সিন্ধান্ত নেন তিনি মাশরুম চাষ করবেন। এর পর মার্চ মাসের শুরুর দিকে যশোর ডিএম সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চারদিনের একটি কোর্স করেন মাশরুম চাষের ওপর।

এরপর অক্টোবর মাসে সেখান থেকে কিছু বীজ সংগ্রহ করে নিজ বাড়ির পাশের জায়গায় শুরু করেন মাশরুম চাষ। তার খামারে বর্তমানে দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট করা ৩০০টি মাশরুমের স্পন রয়েছে।

খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভুসি, বীজ, ছাঁউনিসহ সবমিলে খরচ হয়েছিল ১৫ হাজার টাকার মতো। ইতোমধ্যে তিনি মাশরুম বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। আগামী তিন মাস যাবৎ তিনি তার খামার থেকে মাশরুম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

প্রতিদিনই সাগরের মাসরুমের খামার দেখতে আসছেন অনেকই আবার কেউবা মাশরুম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা তার এই সফলতা দেখে আগামীতে এমন উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান।

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

স্থানীয় বিনে ফতেপুর গ্রামের বুলবুলি বেগম বলেন, ‘সাগর চাচার মাশরুম খামার দেখে খুবই ভালো লাগছে। একবার বীজ ৩০ থেকে নাকি ৩৫ বার ফলন পাওয়া যায়। আমরাও বাড়ির ফাঁকা জায়গায় এমন মাশরুম চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’

সাজ্জাত হোসেন নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সাগর চারমাস আগে থেকে এখানে মাশরুম চাষ শুরু করেছে। বর্তমানে তিনি সফল একজন চাষি। সবজি বিক্রির পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে থাকেন। প্রথম মাসেই তিনি মাশরুম চাষে লাভবান হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব, আমরা এমন উদ্যোগ নিব বলে ভাবছি।’

নওগাঁ শহরের থানার মোড় এলাকা থেকে মাশরুম কিনতে এসেছেন আব্দুল্লাহ আল মুসাব্বের। তিনি বলেন, ‘বাজার থেকে মাশরুম কিনলে অনেক সময় কীটনাশক যুক্ত হয়। যার কারণে ফ্রেস ও টাটকা মাশরুম যাতে পাই, সেজন্য সাগর ভাইয়ের এখানে এসেছি। মাশরুম খামার থেকে সংগ্রহ করে ৩০০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি কিনলাম।’

মাশরুম চাষি সাগর আলী বলেন, ‘খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভুসি, ইত্যাদি দিয়ে ওয়েষ্টার জাতের মাসরুমের খামার গড়ে তুলেছি। প্রথম স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় দুই কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি মাশরুম বিক্রি করে থাকি। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম পাইকারি ২৫০ এবং খুচরা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকি। যশোরে চার দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম।

‘গত বছরের শেষের দিকে মাশরুম খামার গড়ে তুলি। সবমিলে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। খরচের টাকা উঠে কিছু লাভও হয়েছে। বর্তমানে খামারে মাশরুম বীজ আছে তা থেকে আগামী তিন মাস বিক্রি করা যাবে মাশরুম। আশা করছি তিন মাস মাশরুম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকার আয় করতে পারব।’

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

সাগর আরও বলেন, ‘খামারে প্রতিদিন তিন বেলা পানি দিয়ে স্প্রে করতে হয়। আমার কাজে আমার মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা করে থাকেন। যদি কৃষি অফিস থেকে সহায়তা পেতাম তবে আগামীতে আরও বড় পরিসরে মাশরুমের আবাদ করতাম।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর সুস্বাদু ও ওষধি গুণসম্পন্ন খাবার। ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি। দিন দিন নওগাঁতেও মাশরুম চাষের আগ্রহ বাড়ছে। মাশরুম চাষ বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাশরুম চাষি সাগর আলী বর্তমান এটি চাষে সফল হয়েছেন। যদি কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অবশ্যই তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাশরুম চাষে কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জমি না থাকলেও বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। সহজেই মাশরুমের বীজতলা তৈরি করা যায়।’

আরও পড়ুন:
আশা জাগাচ্ছে কাসাভা
ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে আলুর আবাদ, সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কা
মেহেরপুরে গমের বীজসংকট, দিশেহারা কৃষক
কমলা-মাল্টা চাষে একরামুলের বছরে আয় ৭০ লাখ
শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sukhsagar is the hope of farmers in onion seeds

সুখসাগর পেঁয়াজের বীজে চাষিদের আশা

সুখসাগর পেঁয়াজের বীজে চাষিদের আশা মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার একটি মাঠ থেকে সম্প্রতি সময় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের ফুল। ছবি: নিউজবাংলা
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, ‘মেহেরপুরের আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন‍্য বেশ উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে এ পেঁয়াজ।’

মেহেরপুরে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সুখসাগর পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে সফল হয়ে লাভবান হচ্ছেন জেলার স্থানীয় কৃষকরা।

একটা সময় ছিল পেঁয়াজের বীজ বপণের মৌসুম আসলেই আমদানি করা পেঁয়াজের বীজের জন‍্য অপেক্ষা করা লাগত। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময় অসাধু ব‍্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়ায় বির্পযয়ের মুখে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। আবার ভালো বীজের আশায় বীজ সংকটকের সময় অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়েছে পেঁয়াজের বীজ।

কৃষকরা বলছেন, নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজে ঝুঁকি কম থাকে, ফলনও ভালো হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে গিয়ে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।

কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বীজ উৎপাদন করে সফল হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে। এতে উৎপাদন ব‍্যায়টাও কমে যাবে। নিজেদের বাড়ির বীজ হওয়াই সঠিক সময়ে বীজ বপণও করতে পারবে। তাই বীজ উৎপাদনে চাষিদেরকে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তাও করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। এটি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে।

জেলার মুজিব নগর ও সদর উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি নির্ভর মেহেরপুর জেলার সদর ও মুজিব নগর উপজেলায় বিগত পাঁচ বছর যাবত সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ করছেন সেখানকার চাষিরা। অন্যান্য যেকোনো জাতের পেঁয়াজ চাষের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজে। এই এলাকাগুলোতে আরও বেশ কয়েকটি জাতের পেঁয়াজ চাষ ও বেশ জনপ্রিয় তাদের মধ‍্যে অন‍্যতম তাহেরপুরি, বারি ৪, নাসিকা রেড ও ফিপটি।

তবে আকারে বড় অধিক ফলন ও বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি পেঁয়াজ ও পাওয়ায় এক খরচে দুই ফলন। ফলে খরচের তুলনায় বেশি লাভবান হওয়া যায় এ সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষে।

তাই বেশ কয়েক বছর এ জাতটি পেঁয়াজ চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বীজটি যখন আমদানি নির্ভর ছিল। তখন ভরা মৌসুমে বীজ পেতে চাষিদের বেশ বেগ পেতে হতো। আবার বীজ সংকটের কারনে দ্বিগুন দাম দিয়ে কিনতে হতো।

শুধু বপনকালীন বীজ সংকট কিংবা বেশি মূল্য দিয়ে বীজ কেনা নয়। কতিপয় অসাধু ব‍্যাবসায়ীরা কৃষকদের চাহিদাকে পুঁজি করে ভেজাল বীজ বিক্রয়ের ফলে ফলন বিপর্যয়ে চাষিদের লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদন হওয়াই চাষিদের আর এই সকল সমস‍্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলেও কৃষকরা মনে করেন।

মুজিব নগর গ্রামের কৃষক জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হয়ে থাকে ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। আবার বীজ সংকট দেখা দিলে এর চেয়ে বেশি দামেও কেনা লাগে। আর জমিতে বীজ ভালো হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ কেজি পযর্ন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব।

একই এলাকার পেঁয়াজ চাষি রাজিবুল বলেন, ‘সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ আবাদ মানে একসঙ্গে দুই ফসল পাওয়ার মতো। শুধু বীজ নয়, ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করার পর গাছ থেকে পেঁয়াজ পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ পেঁয়াজ পাওয়ার পাশাপাশি ৬০ থেকে ৭০ মণ পযর্ন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব।

মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষক আরমান আলী বলেন, ‘আমাদের একটা সময় গেছে পেঁয়াজ চাষের ভরা মৌসুম আসলেই বীজের সংকট দেখা দিত। এতে আমরা অনেক সময়, সঠিক সময়ে বীজ বপণ করতে পারিনি। আবার বাজারে বীজ থাকলেও অধিক দামে কেনা লাগছে। আজ দুই বছর মত হবে নিজেদের বীজ থেকেই পেঁয়াজ চাষ করছি। ঘরের বীজ, তাই বীজ নিয়ে টেনশন করতে হয় না।’

একই এলাকার আরেক চাষি রশিদ বলেন, ‘আমি দুই বছর আগে বাজার থেকে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের বীজ কিনে এনে প্রতারিত হয়েছি। মাঠে বীজ বপণের পরে অর্ধেকের কম হবে, কোনো ফলনি পাইনি।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, ‘মেহেরপুরের আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন‍্য বেশ উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে এ পেঁয়াজ।’

সাধারণত বছরের নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ বীজ বপন করা হয়ে থাকে। জানুয়ারি মাসের দিকে পেঁয়াজ বাজারজাত করা হয়। আর বীজ উৎপাদন হয় মার্চ মাসের শেষের দিকে। সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা দুই সুবিধা পাচ্ছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজ পাওয়া যায়। ফলে প্রতিনিয়তই জেলার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছে। তাছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদন না বাড়ালে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হওয়া আসা সম্ভব হবে না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শের পাশাপাশি প্রনোদণাও দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Poison free cucumber village

বিষমুক্ত শসার গ্রাম

বিষমুক্ত শসার গ্রাম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা চাষ হচ্ছে। ছবি: কোলাজ নিউজবাংলা
মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে ৬ কোটি টাকার বিষমুক্ত শসা বিক্রির আশা করছে কৃষি কর্মকর্তারা। গত বছর এই গ্রামে সাড়ে চার কোটি টাকার শসা বিক্রি হয়। এবার কীটনাশকমুক্ত পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করায় বেড়েছে শসার চাহিদা। কৃষকদের আশা তারা বেশি দাম পাবেন। আগামী দিন পনেরর মধ্যে এই গ্রামের শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্য প্রাচ্যের দেশ দুবাইতে যাবে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

মুগুজি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের ৩৫ হেক্টর জমিতে শসার চাষ হয়েছে। যেদিকে চোখ যায় সেখানে সবুজ আর সবুজ। কোথাও শসার হলুদ ফুল মাথা উঁকি দিয়ে আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। কোথাও বাতাসে দুলছে কচি শসা। পোকা দমনে ব্যবহার করা হয় পাতা-লতার রস।

মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা ও সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক সমাবেশ ও মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় কৃষক আমীর হোসেন বলেন, শসা চাষে ১০ গন্ডায় (২০ শতাংশ) এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা বিক্রি হবে। বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করায় ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে গেছে।’

মনির হোসেন, সাহাব উদ্দিন ও সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬ গন্ডায় (১২ শতাংশ) খরচ হয়েছে ৭০ হাজার বিক্রি হবে দেড় লাখ টাকা। সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে আমাদের আয়ও বাড়বে। বিষমুক্ত শসার উৎপাদনে কৃষি অফিস উদ্বুদ্ধ করেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।’

মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লা জেলার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এইখানে নিরাপদ শসা উৎপাদনে উদ্যোগ নিয়েছি। এখানের শসা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর সঙ্গে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।’

কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ‘নিরাপদ সবজি চাষ বিষয়টি এখানে কৃষকরা প্রশংসনীয়ভাবে আত্মস্ত করেছেন। আমরা এই অগ্রগতি ধরে রাখবো। এটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।’

পরিচালক (সরেজমিন উইং) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম দেশের ২০টি ইউনিয়নে এই বিষমুক্ত শসা চাষের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার একটি বরুড়ার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়ন। কৃষি পণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য তাদের কিছু শর্ত থাকে। আমরা তা পূরণের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে রপ্তানিকারকরা আসা শুরু করেছেন।’

আরও পড়ুন:
দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা
ঝড়ের শঙ্কায় বাজার ভরেছে কাঁচা আমে
শসার কেজি শহরে ৪০ টাকা, গ্রামে ৪
দাকোপে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চাষির মৃত্যু
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি, শঙ্কায় চাষি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The value of gourd eggplant is increasing

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের লাউ বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের। ছবি: নিউজবাংলা
চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

মাঝারি গাছের ডালে দোল খাচ্ছে বড় বড় সবুজ বেগুন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বেগুন গাছে লাউ ঝুলছে। এমন বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের।

একটি বেগুনের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকারে বড়, নরম ও স্বাদে পুষ্টিমানে অনন্য বারি বেগুনের বাজার চাহিদা অনেক।

সরেজমিনে কুমিল্লা্র চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গিয়ে দেখা যায় বিস্তৃত জমিতে কাজ করছেন কৃষকরা। যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। তার মাঝে লাউ বেগুনের জমিতে চোখ আটকে যায় সবার।

কৃষক আমির হোসেন জানান, কৃষি অফিস থেকে বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ এনেছেন তিনি। ৩০ শতক জমিতে প্রথমবারের মত লাউ বেগুন চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি বেগুন ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বাজারে নিতে হয় না। গ্রাহকরা জমিতে এসেই বেগুন নিয়ে যায়৷’

লাউ বেগুন আকারে বড় এবং অনেক নরম। তাই পাখির প্রিয় খাবার এই লাউ বেগুন। এতে কৃষকরা চিন্তা করেন পাখির ঠোঁট থেকে কীভাবে তাদের লাউ বেগুনকে রক্ষা করবে।

কৃষক শাহজাহান ভূইয়া বলেন, ‘লাউ বেগুন খুব নরম বলে পাখি ও পোকামাকড়ের প্রিয় খাবার। তাই এ বেগুন রক্ষায় জাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি। না হয় জমিতে বেগুন থাকবে না।’

চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কমকর্তা মনিরুল হক রোমেল বলেন, ‘আমরা প্রথমে ২০ গ্রাম বীজ থেকে চারা উৎপাদন করি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকজন কৃষককে বাছাই করি। কৃষি অফিসার ও কৃষকদের আন্তরিকতায় প্রথম বছরই ভালো ফলন হয়েছে। আমরা আশাকরি আগামী বছর আমরা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে বারি-১২ জাতের এই বেগুন।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এ বছর পুরো জেলায় দেড় হেক্টর জমিতে বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এই বেগুন আকারে অনেক বড় হয়। প্রতিটা বেগুন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়। এই বেগুনের টিস্যু অনেক নরম। খেতে সুস্বাদু। আশা করি আগামী বছর কুমিল্লায় সবজির একটা বড় অভাব পূরণ হবে বারি ১২ জাতের বেগুনে।

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচা বাজারের তরকারী ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, ‘এত বড় বেগুন আগে দেখি নাই। খুব বড় এবং নরম। এ বেগুনের প্রচুর চাহিদা আছে বাজারে।’

আরও পড়ুন:
বেগুনে ক্ষতিকর ধাতু, মাটিদূষণে অন্য সবজি নিয়েও শঙ্কা
বেগুনের ভালো ফলন, বেড়েছে চাহিদাও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mustard in the mango orchard

আমবাগানের ফাঁকে সরিষা

আমবাগানের ফাঁকে সরিষা নওগাঁয় আমবাগানের ফাঁকে সরিষা চাষে বাড়তি আয়ের আশা চাষিদের। ছবি: নিউজবাংলা
পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকদের আম বাগানের ফাঁকে জায়গাগুলোতে সরিষার আবাদ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমরা পরামর্শ ও সাধ্যমত সহায়তা করে থাকি।’

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। জেলার অন্তবর্তী ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল নামে পরিচিত পোরশা উপজেলা। গত কয়েক বছর আগে যেখানে বৃষ্টিনির্ভর আমন ধান ছাড়া আর কিছুই উৎপাদন করা সম্ভব হতো না।

বর্তমানে জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে আমের জন্য বিখ্যাত পোরশা উপজেলা। আমের জন্য বিখ্যাত হলেও উপজেলার বাগানে বাগানে আম গাছের ফাঁকে ফাঁকে শোভা ছড়াচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। একই জমিতে দুই ফসল হওয়ায় বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে কৃষকদের মাঝে। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে বাড়তি ফসল করে বাড়তি আয়ের আশা চাষিরা।

স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। আমের আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আম বাগানে চাষ হয়েছে এক হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে।

জেলার কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকল্প চাষ হিসেবে আম বাগানের ভেতর সরিষার চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।

পোরশা উপজেলার সরাইগাছী গ্রামের চাষি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছর ১০ বিঘা জমিতে আমের আবাদ করেছি। এ ছাড়া এ বাগানের অবশিষ্ট ফাঁকা জায়গায় সরিষার আবাদ করেছি। এর আগে কখনো এমনভাবে আবাদ করিনি। এই প্রথম আম বাগানে সরিষার আবাদ করলাম। কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।’

একই এলাকার মেজবাউল হক নামের আরেক চাষি বলেন, ‘আমবাগানে সরিষার আবাদ এই প্রথম করলাম। সরিষার ফলনও ভালো হয়েছে। তেমন কোনো রোগবালাই নাই। আমি ১৫বিঘা জমিতে আম ও সরিষার আবাদ করেছি। পরীক্ষামূলকভাবেই এবার আম বাগানে সরিষার আবাদ করেছি। এর আগে এমন উদ্যোগ কেউ নেয়নি। এবার সঙ্গে দুই ফসল পাচ্ছি। এতে আমরা বাড়তি আয় করতে পারব।’

উপজেলার নিতপুর গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, ‘ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে আমার পাঁচ বিঘা আমার বাগানের ফাঁকে সরিষার আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। আমাদের এখানে বৃষ্টিনির্ভর আমান আবাদ ছাড়া তেমন কোনো ফসল হতো না। গত কয়েক বছর আমার আবাদ হচ্ছে। আর এইবার আমরা আমের পাশাপাশি বাগানে সরিষারও আবাদ করেছি। ফুল ধরেছে। রোগবালাই হয়নি। আম গাছেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। আশা করছি আম ও সরিষার দুই আবাদই ভালো হবে।’

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘এই প্রথম জেলার পোরশায় এবার সরিষার আবাদ হয়েছে চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আম বাগানে চাষ হয়েছে ১৭৭৫ হেক্টর জমিতে। ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকদের আম বাগানের ফাঁকে জায়গাগুলোতে সরিষার আবাদ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমরা পরামর্শ ও সাধ্যমত সহায়তা করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে আম বাগনে যেন সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পায় সেজন্য চাষিদের নিয়ে মাঠদিবস, উঠান বৈঠকসহ নানার ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে প্রথম শ্রেণির চাকরি
কৃষিঋণে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর অর্থ জমা রাখতে তহবিল
৬০ বছর হলে পেনশন চান ক্ষেতমজুররা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jamuna Fertilizer factory stopped production by pressing wrong button

‘ভুল বাটনে চাপ’, যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

‘ভুল বাটনে চাপ’, যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ যমুনা সার কারখানা। ফাইল ছবি
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, তানাজি এস পন্দেকার গত রোববার বিকেলে অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসার পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় তিনি একটি ভুল বাটনে চাপ দিলে বিকট আওয়াজে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়।

দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ইনগার্সল-রেন্ড (ইন্ডিয়া) লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ এক ব্যক্তির হাত ‘ভুল বাটনে’ পড়লে বিকট শব্দে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সোমবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় কারখানার ভেতরে ও বাইরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জেএফসিএল সূত্র জানায়, সম্প্রতি যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসারে মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রোজেন অপচয়সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ এনজি বুস্টার ক্রয় ও পুনঃস্থাপনের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ‘ইনগার্সল-রেন্ড (ইন্ডিয়া) লিমিটেড’কে অবগত করে। পরে ইনগার্সল-রেন্ড কর্তৃপক্ষ কারখানা পরিদর্শনের জন্য তাদের ডেপুটি ম্যানেজার (সার্ভিস) ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম পাঠায়। ওই টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন ইনগার্সল-রেন্ডের টেরিটরি ম্যানেজার (সার্ভিস) ইমামুল সর্দার এবং মার্কেটিং প্রতিনিধি কসমো মার্কেটিং কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, তানাজি এস পন্দেকার গত রোববার বিকেলে অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসার পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় তিনি একটি ভুল বাটনে চাপ দিলে বিকট আওয়াজে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়। এতে মুহূর্তেই ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। বিকট শব্দে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও গতকাল সোমবার সকাল থেকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।

কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) আফাজ উদ্দিন জানান, তিনি ও কারখানার মেশিনারিজপ্রধান ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকার এনজি বুস্টার কমপ্রেসারের বিভিন্ন প্যারামিটার ঘুরে দেখছিলেন। এ সময় এমটিএস বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী ওভারটাইম সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে তার কাছে আসেন। তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার কারণে ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাস অ্যামোনিয়া শিফট ইনচার্জ ফজলুল হককে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে থাকার জন্য বলেন। পরিদর্শন চলাকালে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে হঠাৎ অ্যামোনিয়া কমপ্রেসার বন্ধ হয়ে যায়। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় পরিদর্শকের সঙ্গে থাকা আফাজ উদ্দিনকে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসসহ চারজন সদস্য রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
৬ মাস পর ইউরিয়া উৎপাদনে যমুনা সার কারখানা
কেঁচো সারের খামারে উৎসাহ কৃষকের
নারী দর্শক-শ্রোতাদের জন্য কনসার্ট
‘ব্যান্ড মিউজিক ডে’র উদ্বোধন, শুক্রবার বড় কনসার্ট
বরিশালে বাসচালককে মারধর, সার্জেন্ট ক্লোজড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the modern system of modern farming the cost will be reduced and the yield will be increased

সমলয় চাষাবাদে কমবে খরচ, বাড়বে ফলন

সমলয় চাষাবাদে কমবে খরচ, বাড়বে ফলন সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বুধবার দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শোভারামপুর থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে কুমিল্লার একাধিক উপজেলায় আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ করছি। এবার কুমিল্লার বুড়িচং, লাকসাম ও সদর দক্ষিণ উপজেলার প্রায় ৪০০ একর জমিতে ট্রান্সপ্লান্ট রাইস মেশিনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হচ্ছে।’

কুমিল্লার তিন উপজেলার প্রায় ৪০০ একর জমিতে এবার ট্রান্সপ্লান্ট রাইস মেশিনের সাহায্যে আধুনিক পদ্ধতিতে সমলয় চাষাবাদে বোরো ধান রোপণ করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বোরো মৌসুমে বুড়িচং উপজেলাতে ১৫০ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে খরচ কমবে, সঙ্গে ফলন বাড়বে। এ ছাড়া পরিপক্ব ধান পেতে সময়ও কমে আসবে।

বুড়িচং উপজেলায় রামপুর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুকের জমিতে বুধবার এ আধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনের মাধ্যমে ধান চাষের উদ্বোধন করা হয়। গ্রামের শত শত কৃষক ও উৎসুক জনতা রোপণ পদ্ধতি দেখতে এ সময় ভিড় করেন।

রামপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি এবার দুই বিঘা জমি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করব। দুই বিঘা জমি রোপণে আমার ন্যূনতম আট হাজার টাকা খরচ হতো। এ ছাড়া কৃষি শ্রমিক পেতে খুব কষ্ট হতো। এ মৌসুমে বিনামূল্যে ধান রোপণ করছি। পরবর্তী মৌসুম থেকে আমার মাত্র দুই হাজার ৪০০ টাকা খরচ হবে। কৃষি শ্রমিক খোঁজার হয়রানিও কমে যাবে।’

এতবারপুর গ্রামের কৃষক ওহিদ মিয়া বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ নিয়ে আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের প্রশিক্ষণ করানো হয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর আমাদের ভুল ভেঙে যায়। আমরা সবাই এখন উচ্ছ্বসিত।’

রামপুর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক বলেন, আগে ধান রোপণে অনেক পরিশ্রম করতে হতো। আজ দশ মিনিটেই আমার ১৫ শতাংশ জমির ধান রোপণ হয়ে গেছে।

মোহাম্মদ এগ্রিকালচারাল মেশিনারিজের স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসেন বলেন, ‘প্রতি একর জমিতে ধান রোপণে আমাদের মাত্র আড়াই লিটার ডিজেল খরচ হয়। একর প্রতি আমরা মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকার খরচ নিই। যদি একসঙ্গে বেশি জমিতে রোপণ করি, তাহলে খরচ নিই তিন হাজার টাকা।’

বুড়িচং উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, ‘প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল এ এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা। আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এখন তারা এ পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহী। আমরা এ মৌসুমে সবাইকে সুযোগ দিতে পারছি না। এবার প্রণোদনার আওতায় থাকা ১০৯ জন কৃষক এ সুবিধা পাচ্ছেন।’

তিনি জানান, জমির মালিকানা হিসাবে কৃষক প্রতি শতাংশ জমির জন্য ৯০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬০০ গ্রাম ডিএপি ও ৫০০ গ্রাম হারে এমওপি সার পাবেন। ইতোমধ্যে ৩০০০ কেজি ডিএপি ও ২৫০০ কেজি এমওপি সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

৪৫০০ কেজি ইউরিয়া সার প্রথম উপরি প্রয়োগের পূর্বেই আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ৫০ একর জমি রোপণের উদ্দেশ্যে চার হাজার ৫০০ ট্রেতে চারা উৎপাদন করা হয়েছে। সকল জমি কর্মসূচির অর্থায়নে রোপণ করে দেয়া হবে। মৌসুম শেষে সকল জমি কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে কুমিল্লার একাধিক উপজেলায় আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ করছি। এবার কুমিল্লার বুড়িচং, লাকসাম ও সদর দক্ষিণ উপজেলার প্রায় ৪০০ একর জমিতে ট্রান্সপ্লান্ট রাইস মেশিনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হচ্ছে।

‘এ কর্মসূচিটা আমরা ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রহণ করি। আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষের কারণে সময় কমে আসবে। জমিতে তিন ফসলের পরিবর্তে চার ফসল হবে।’

আরও পড়ুন:
মেহেরপুরে গমের বীজসংকট, দিশেহারা কৃষক
কমলা-মাল্টা চাষে একরামুলের বছরে আয় ৭০ লাখ
শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের
বাজার চড়া, তাই আগাম মাঠে লবণ চাষিরা
বগুড়ায় কমলার চাষ শুরু যার হাত দিয়ে

মন্তব্য

p
উপরে