× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bail granted to 12 farmers arrested for defaulting loans
google_news print-icon

খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন

খেলাপি-ঋণে-গ্রেপ্তার-১২-কৃষকের-জামিন
ঋণখেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার ১২ কৃষককে জামিন দিয়েছে আদালত। রোববার আদালত প্রাঙ্গণ। ছবি: নিউজবাংলা
২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়। ঋণখেলাপির দায়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন ম্যানেজার সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন।

পাবনার ঈশ্বরদীতে ঋণখেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার ১২ কৃষককে জামিন দিয়েছে আদালত।

রোববার বেলা ১১টার দিকে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. শামসুজ্জামান এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলার অন্য ২৫ আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন তিনি।

জামিন পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের শুকুর প্রামাণিকের ছেলে ৫০ বছর বয়সী আলম প্রামাণিক, মনি মণ্ডলের ছেলে ৪৫ বছর বয়সী মাহাতাব মণ্ডল, মৃত কোরবান আলীর ছেলে ৫০ বছরের কিতাব আলী, হারেজ মিয়ার ছেলে ৪৩ বছরের হান্নান মিয়া, মৃত আবুল হোসেনের ছেলে ৪০ বছরের মোহাম্মদ মজনু, মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে ৫০ বছরের মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান, মৃত সোবহান মণ্ডলের ছেলে ৫০ বছরের আব্দুল গণি মণ্ডল, কামাল প্রামাণিকের ছেলে ৪৫ বছরের শামীম হোসেন, মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে ৪৩ বছরের সামাদ প্রামাণিক, মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে ৪৫ বছরের নূর বক্স, রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ৪৬ বছরের মোহাম্মদ আকরাম এবং লালু খাঁর ছেলে ৪০ বছরের মোহাম্মদ রজব আলী। গ্রেপ্তার সবাই প্রান্তিক কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়। ঋণখেলাপির দায়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন ম্যানেজার সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন।

২৩ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পরোয়ানাভুক্ত ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

কৃষকদের পরিবারের দাবি, ঋণ নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ কৃষক তাদের ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। তাদের পাস বই ও জমা স্লিপও রয়েছে। অথচ সেই অর্থ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন। ফলে তাদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

কৃষকরা জানান, গত বুধবার যখন কৃষকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, তখন তারা গাজরের ক্ষেতে কাজ করছিলেন। বাড়িতে ও বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তারা ঋণের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বলেন, কৃষকরা ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের অফিশিয়াল ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা তাদের আইনগত সহায়তা পেয়েছেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইদুর রহমান সুমন, কাজী সাজ্জাদ ইকবাল লিটন ও মইনুল ইসলাম মোহন।

আরও পড়ুন:
‘আইএমএফের শর্ত শুভদিক খুলে দিতে পারে’
আট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯,১৩৯ কোটি টাকা
আবাসন ঋণের ৭৫ শতাংশই ৫ ব্যাংকের
এখন অন্যরাও ঋণ দেবে, সংকট কেটে যাবে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Eastern Railways embezzlement of crores of rupees was not completed even in 23 days

পূর্ব রেলওয়ের কোটি টাকা আত্মসাৎ, কিনারা হয়নি ২৩ দিনেও

পূর্ব রেলওয়ের কোটি টাকা আত্মসাৎ, কিনারা হয়নি ২৩ দিনেও চট্টগ্রাম নগরীতে পূবাঞ্চল রেলওয়ের কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলছেন, ‘মালামাল সরবরাহ বাবদ প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য টাকা গত ২৮ ডিসেম্বর চারটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ভুয়া বিল-ভাউচারে পাঁচ নম্বর চেকটি আমাদের কেউ গ্রহণ করেননি। ওই চেকের টাকা রেলওেয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার কোনো কিনারা হয়নি দীর্ঘ ২৩ দিনেও। চিহ্নিত হয়নি টাকা আত্মসাৎকারীরা। এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্টও দেয়নি। কোনো মামলাও হয়নি।

তদন্ত কমিটির প্রধান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জয়শ্রী মজুমদার রশ্মি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আমি কোনো কিছু বলতে পারব না। তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে।’

একই বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাবরক্ষক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল আসিফ বলেন, ‘তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে।’

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর পাহাড়তলী থেকে পণ্য কেনার জন্য কোনো ধরনের টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। কেনা হয়নি কোনো পণ্যও। কিন্তু পণ্য কেনাকাটা হয়েছে বলে ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্য কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে ৩১ জানুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেয়।

এদিকে টেন্ডার ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি জানাজানির পর পূর্বাঞ্চল রেলে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব ও অডিট শাখার ৭ কর্মকর্তা–কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন- রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাবরক্ষক মামুন হোসেন, মো. আবু নাছের, শিমুল বেগম, সৈয়দ সাইফুর রহমান, অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম ও অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমান।

পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে ৮ ফেব্রুয়ারি চার সদস্যের কমিটি গঠন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জয়শ্রী মজুমদার রশ্মিকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। এছাড়া হিসাবরক্ষক আব্দুল্লাহ আল আসিফকে সদস্যসচিব, সুগ্রীব চাকমা ও মো. জহিরুল ইসলামকে সদস্য করা হয়।

কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে কমিটিকে বলা হয়েছিল, কসমোপলিটন করপোরেশনকে পরিশোধ করা বিলটি জরুরিভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন। কীভাবে বিলটি পাস ও পরিশোধ করা হলো যাচাই-বাছাই করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা মো. সাইদুর রহমান সরকার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। রিপোর্ট পেলে সব পরিষ্কার হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, গেল অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দ্য কসমোপলিটন করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে রেলের বেশকিছু সরঞ্জাম কেনা হয়। এর মধ্যে চারটি কাজের বিল তিন কোটি ৬২ লাখ টাকা কসমোপলিটনকে পরিশোধের জন্য হিসাব বিভাগকে চিঠি দেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ উদ্দীন। সে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে সমস্যা সৃষ্টি হয় এই টাকার বাইরে আরও ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে তুলে নেয়ায়। রেলওয়েকে কোনো পণ্য না দিয়েই এত টাকা নিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গত ৩১ জানুয়ারি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হলেও ৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি জানতে পেরেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার দপ্তর (এফএঅ্যান্ডসিএও)। এ কাজে রেলের হিসাব বিভাগ থেকে শুরু করে ব্যাংকের কর্মীরাও জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অপরদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কসমোপলিটন করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী নাবিল আহসান টাকা উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘মালামাল সরবরাহ বাবদ প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য টাকা গত ২৮ ডিসেম্বর চারটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ভুয়া বিল-ভাউচারে পাঁচ নম্বর চেকটি অর্থাৎ ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়। এই চেক কসমোপলিটন করপোরেশনের পক্ষে কেউ গ্রহণ করেননি। ওই চেকের টাকা রেলওেয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How two wild elephants were sent to India

যেভাবে ভারতে পাঠানো হলো বন্য দুই হাতিকে

যেভাবে ভারতে পাঠানো হলো বন্য দুই হাতিকে ভারতীয় বন বিভাগের হাতি উদ্ধার বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় উভয় দেশের সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে প্রাণী দুটিকে স্বদেশে ফেরানো হয়। ফাইল ছবি
বাংলাবান্ধা সীমান্তের ৪৪৮ নম্বর পিলার বরাবর কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ভারতের ফাসিদেয়া বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় হাতি দুটিকে পাঠান দুই দেশের সংশ্লিষ্টরা।

সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রবেশ করা দুই হাতিকে মঙ্গলবার ফেরত পাঠানো হয়েছে ভারতে।

ভারতীয় বন বিভাগের হাতি উদ্ধার বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় উভয় দেশের সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে প্রাণী দুটিকে স্বদেশে ফেরানো হয়।

বাংলাবান্ধা সীমান্তের ৪৪৮ নম্বর পিলার বরাবর কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ভারতের ফাসিদেয়া বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় হাতি দুটিকে পাঠান দুই দেশের সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে দুটি বন্যহাতি ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ৭৩৫ পিলার বরাবর তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ইসলামবাগ এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করে।

প্রাণী দুটি তিরনইহাট ইউনিয়ন হয়ে সকাল আটটার দিকে বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ কাশিমগঞ্জ এলাকায় মহানন্দা নদী সংলগ্ন একটি ভুট্টা ক্ষেতে অবস্থান নেয়।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সমন্বয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস স্থানীয় জনসাধারণকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়াসহ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেয়।

অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে ভারতীয় বন বিভাগকে বার্তা পাঠায়। সেই বার্তার ভিত্তিতে বিকেল তিনটার দিকে মেইন পিলার ৭৩০-এ বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়।

পতাকা বৈঠকে বিজিবি-বিএসএফ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উভয় দেশের বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ভারতীয় বন বিভাগের হাতি উদ্ধার বিশেষজ্ঞ দল সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে প্রাণী দুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুমোদন চায়। বিষয়টি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জ্যেষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে জানালে ‘বাংলাদেশ ভারত আন্তসীমান্ত হাতি সংরক্ষণ প্রটোকল ২০২০’ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুপ্রবেশকৃত হাতি দুটি ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এদিকে উদ্ধার কার্যক্রমের একপর্যায়ে হাতি দুটি আকস্মিক ভুট্টা ক্ষেত থেকে বের হয়ে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে স্থানীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক মো. নুরুজ্জামানকে গুরুতর আহত করে। ওই যুবককে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাকালে তার মৃত্যু হয়।

তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাণ হারানো যুবকের পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দিল্লি অভিমুখে লক্ষাধিক কৃষক, আটকাতে সড়কে কংক্রিটের দেয়াল
ভারত থেকে দেড় লাখ টন পেঁয়াজ চিনি কিনতে চায় সরকার
অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে যা বলল দিল্লি
ভারতে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরল ২৫ নারী-পুরুষ ও শিশু
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে, জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক বুধবার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Where did the lock of the door of the old couples house go?

বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ির দরজার তালা গেল কোথায়?

বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ির দরজার তালা গেল কোথায়? ঠাকুরগাঁও সদর পৌরসভায় বৃদ্ধ দম্পতিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে তালা। ছবি: নিউজবাংলা
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ও পৌর প্রশাসন সরেজমিন পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট বাড়ির ফটকে কোনো তালার অস্তিত্ব পায়নি। এ সময় তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানও ছিলেন। অথচ বৃদ্ধ দম্পতি সন্ধ্যায়ও তালাবদ্ধ গেটের বাইরে অবস্থান করছেন। আর এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

ঠাকুরগাঁওয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে ভাড়া বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির মূল ফটকে ইউপি চেয়ারম্যান তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনার তিনদিন পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে পৌর এলাকার শান্তিনগর মহল্লায় ওই বাড়ি পরিদর্শন করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলায়েত হোসেন, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান ও পৌরসভার স্থানীয় সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর স্বপ্না আকতার।

অভিযুক্ত জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, স্কুল শিক্ষিকা ফারহানা ইসলাম কলিসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ির দরজার তালা গেল কোথায়?
সদরের ইউএনও ও পৌরসভার কর্মকর্তারা সোমবার ঘটনাস্থল বাড়িটির সামনে গিয়ে তালা খুঁজে পাননি। তারা চলে আসার পরই আবার তালা ঝুলানো দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও এ সময় স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বললেও ওই বৃদ্ধ দম্পতির দেখা পাননি। তাৎপর্যের বিষয় হলো, পরিদর্শনের সময় বাড়িটির ফটকে ইউএনও কোনো তালা ঝুলতে দেখেননি। এমনকি সেই তালাও তিনি উদ্ধার করতে পারেননি।

পরিদর্শন শেষে ইউএনও বলেন, ‘আমি সেখানে কোনো তালাবদ্ধ ঘর দেখিনি। ভুক্তভোগী ওই দম্পতিরও দেখা পাইনি। এজন্য ঘর থেকে বের করে দিয়ে মূল ফটক তালাবদ্ধ করে রাখার সংবাদের সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।’

তবে পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী ভাড়াটে আব্দুল হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইউএনও। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে এসে বৃদ্ধ দম্পতিকে না পেয়ে পরে আমি মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী আব্দুল হালিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করি। তখন তিনি জানান যে গাড়ি চালাচ্ছেন। তাকে পরবর্তীতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’

অন্যদিকে এক ঘণ্টা পর বৃদ্ধ আব্দুল হালিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঘটনার তিন দিনেও আমাদের কেউ খোঁজ নেয়নি। দেখা করতেও আসেনি। তাই জীবিকার তাগিদে কাজে বের হয়েছি।

‘ইউএনও সাহেব যদি নারী কাউন্সিলরকে দিয়ে বার্তা পাঠাতেন যে আজকে (সোমবার) তারা আসবেন তাহলে আমি কাজে বের হতাম না। আর কেবলই খবর নিলাম যে আমাদের বাড়ির ফটকটিতে এখনও তালা দেয়া আছে। আর ভেতরে গতকাল (রোববার) থেকে চেয়ারম্যানের লোকজন অবস্থান করছিল। আমাদের মালপত্র সব ভেতরে।’

বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ির দরজার তালা গেল কোথায়?
তালা খোলার অপেক্ষায় বাড়ির বাইরে ফটকের সামনে বৃদ্ধ দম্পতি। ছবি: নিউজবাংলা

সবশেষ সংবাদ মিলেছে যে, তালাবদ্ধ ফটকের পাশে বাড়ির বাইরে বেঞ্চে অবস্থান করছেন বৃদ্ধ দম্পতি। অথচ ইউএনও পরিদর্শনের সময় তিনি ফটকে লাগানো দুটি তালার একটিও দেখেননি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে তালা গেল কোথায়? প্রশাসনের পরিদর্শনের সময় কি তাহলে চেয়ারম্যানের লোকজন তালা সরিয়ে রেখেছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ‘ভাড়াটে বৃদ্ধ দম্পতি তালাবদ্ধ ফটকের বাইরে যে স্থানে অবস্থান করছিলেন সেই ফটকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তালা ঝুলছে। কেন সেই তালা খোলা হয়নি এবং ইউএনও তাহলে কোন বাড়ি পরিদর্শন করলেন- এমন প্রশ্নও স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদের বরাতে সচেতন নাগরিক মাহাবুব আলম বলেন, ‘বৃদ্ধ দম্পতির ভাষ্যমতে, ঘরের ভেতরে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে। মূল ফটকে তালা দেয়া থাকায় তিন দিন ধরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না তারা। সেহেতু তাদেরকে জানিয়ে এখানে আসতে পারতেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এখন দ্রুততার সঙ্গে প্রশাসনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।’

আব্দুল হালিমের স্ত্রী বৃদ্ধা জোৎস্না বেগম বলেন, ‘আমি সকাল থেকে বাড়ির সামনে বেঞ্চে বসে ছিলাম। দুপুরের দিকে কয়েকজন যুবক এসে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলছিলো গতকাল আমি যা বলেছি তার সবই নাকি মিথ্যা। তারা আমাকে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করছিলো।

‘আমি এতো করে বলছিলাম যে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে চেয়ারম্যান তালা দিয়েছে; কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দেয়া লোকগুলো বার বার আমাকে চাপ দিচ্ছিলো। আমি এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপর লোকগুলো আমাকে একটু দূরে নিয়ে যায় এবং আরও উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে৷ আমি ভয় পেয়ে ওখান থেকে দূরে সরে থাকি। ইউএনও সাহেব আসবে জানলে কোথাও যেতাম না।’

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মোছা. স্বপ্না আকতার বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি আজই প্রথম সেখানে গিয়েছি। আমাকে ওভাবে কেউ কোনো কিছু জানায়নি।’

পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, ‘বৃদ্ধ দম্পতির ঘটনায় বাড়িওয়ালা ফারহানা ইসলাম কলি বাদী হয়ে আজ (সোমবার) একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।’

ঠাকুরগাঁও সদরের ইউএনও বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি এখনও ভুক্তভোগীর সঙ্গে ওভাবে কথা বলতে পারিনি। আরও কথা বলে বিস্তারিত জেনে জেলা প্রশাসককে লিখিত প্রতিবেদন দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভাড়া বাসায় ‘চেয়ারম্যানের দেয়া’ তালা খোলার অপেক্ষায় দম্পতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chittagong MP Mohiuddin Bachchu bail

চট্টগ্রামের এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর জামিন

চট্টগ্রামের এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর জামিন মহিউদ্দিন বাচ্চু। ফাইল ছবি
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১০ আসনের আওতাধীন মসজিদগুলোর ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এক হাজার টাকা করে এবং মাদানী মসজিদে এক লাখ টাকা অনুদানের চেক বিতরণ করেন মহিউদ্দিন বাচ্চু।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু।

আত্মসমর্পণ পূর্বক জামিনের আবেদন করলে রোববার শুনানি শেষে জামিন আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জামিন দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. সালাউদ্দিন।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত।

মহিউদ্দিন বাচ্চুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘এমপি মহিউদ্দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। এ ধারা জামিনযোগ্য। আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।’

জেলা আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, নির্বাচনি আচারণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন মামলাটি দায়ের করেছিল।

ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের আদালতে এ মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১০ আসনের আওতাধীন মসজিদগুলোর ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এক হাজার টাকা করে এবং মাদানী মসজিদে এক লাখ টাকা অনুদানের চেক বিতরণ করেন মহিউদ্দিন বাচ্চু।

এরপর ২৪ ডিসেম্বর লালখান বাজারে তার প্রধান নির্বাচনি কার্যালয় থেকে মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিনদের ৬০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি ২১টি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডায় অনুদানের চেক বিতরণ সত্যতা পায়।

এ নিয়ে ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মামলা করার নির্দেশ দেয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে মহিউদ্দিন বাচ্চু ৫৯ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী মনজুর আলম পেয়েছিলেন ৩৯ হাজার ৫৩৫ ভোট।

আরও পড়ুন:
জামিন পাননি মির্জা ফখরুল
প্রবাসীদের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ফেনীর তিন এমপির
কারাবন্দি মির্জা ফখরুলকে ডিএমপির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ
বিএনপির জি কে গউছ কারামুক্ত
সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র এমপিদের নিয়ে বসছেন প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pakistan is moving towards forming a coalition government
ব্যবধান বাড়িয়ে চলেছেন ইমরান-সমর্থিতরা

জোট সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে পাকিস্তান

জোট সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে পাকিস্তান পাকিস্তানের নির্বাচনি প্রচারের একটি চিত্র। ছবি: রয়টার্স
এখন পর্যন্ত কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত জোটেই সমাধা হতে পারে পাকিস্তানের সরকার গঠন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ২১৪টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় পার্থক্য নিয়ে দেশটির কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

সময়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান বাড়লেও শেষ পর্যন্ত জোট সরকারই গঠন করতে হবে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোকে। অন্তত নির্বাচনের এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফল তাই বলছে।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসনসংখ্যা ৩৩৬টি। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। আর ৬০ আসন সংরক্ষিত নারীদের জন্য ও ১০টি সংরক্ষিত সংখ্যালঘুদের জন্য।

সরকার গঠন করতে যে কোনো দলের অন্তত ১৩৪টি আসনে জয়লাভ করতে হবে।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের তথ্যানুযায়ী, ঘোষিত ২১৪টি আসনের মধ্যে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৮৯টি আসনে। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থীরা পেয়েছেন ৫৯টি আসন। পিএমএল-এন থেকে খুব বেশি পিছিয়ে নেই বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। ইতোমধ্যে তাদের দখলে গেছে ৫০টি আসন। বাকিদের মধ্যে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ১১টি, জমিয়ত ওলেমা-ই-ইসলাম পাকিস্তান (জেইউআই-পি) ২টি এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীরা পেয়েছেন তিনটি আসন।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৫ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আর একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

প্রধান তিন দলের মধ্যে হাড্ডাহাডি লড়াই-ই জোট সরকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তানকে। আবার বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও সরকার গঠন করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পিটিআই। কারণ বাকি দুই দল (পিএমএল-এন ও পিপিপি) সমঝোতা করে ফেললে সরকার গঠনের ন্যায্যতা হারাতে পারে দলটি।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ। নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে জোট সরকার গঠনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

সরকার গঠনে তৎপর নওয়াজ শরিফ

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা ৯০টির বেশি আসনে জিতলেও অনেক পেছনে থাকা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের শীর্ষ নেতাদের দাবি, তাদের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। তাদের দলই কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে।

এ বিষয়ে নওয়াজ শরিফ বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, নির্বাচনের পর পিএমএল-এন আজ দেশের একক বৃহত্তম দল।’

পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতিকদের ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা পিটিআই নেতাদের

অন্যদিকে, ভোটের ফল ও ভোট-পরবর্তী কৌশল অবলম্বনে কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন পিটিআই নেতারা। জিও টিভির কাছে ইমরানের ঘনিষ্ট এক নেতা এ কথা জানিয়েছেন। শনিবার তাদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয় বিষয়ে ফাঁস সংক্রান্ত মামলায় ইমরান খানের আদালতে শাস্তি হওয়ার পর পিটিআইয়ের নির্বাচনি প্রতীক বাতিল করে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। তার পর স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির প্রার্থীরা।

এ পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে তারাই ৮৯টি আসন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ফলাফল পাওয়ার পর পিটিআই জানায়, এবার তারা এককভাবে সরকার গঠন করবে। সরকার গঠনে অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে না তাদের।

অন্যদিকে, সামান্য পেছেনে থাকা নওয়াজ শরীফের দল জানিয়েছে, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং জোটে হলেও তারাই সরকার গঠন করবে।

যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত জোটেই সমাধা হতে পারে পাকিস্তানের সরকার গঠন।

আরও পড়ুন:
নিজ আসনেই ইমরান সমর্থিত প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী নওয়াজ
পাকিস্তানে ১৭১ আসনের ৭৪টিতে জয়ী ইমরান সমর্থিতরা
পাকিস্তানের নির্বাচন: এগিয়ে ইমরান সমর্থিত প্রার্থীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Is the cheetah poisoned or beaten to death?

চিতাটিকে বিষটোপ নাকি পিটিয়ে হত্যা?

চিতাটিকে বিষটোপ নাকি পিটিয়ে হত্যা? পঞ্চগড়ের আটোয়ারী সীমান্তে নাগর নদীর তীরে চিতা বাঘটির মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা বন ভবনের বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ‘বাঘটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অনেক মানুষ জড়িত। এখন বিষ টোপের কারণে নাকি মানুষের আঘাতে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে এটা পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী সীমান্তে নাগর নদীর তীরে চিতা বাঘের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- বাঘটি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, নাকি পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে?

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অধিকতর তদন্তে ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দলের প্রধান ও বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন- একই ইউনিটের বন্যপ্রাণি স্কাউটস সঞ্জয় বন্ধ ও জসিম শেখ।

শনিবার বিকেলে আটোয়ারী উপজেলার তড়িয়া ইউনিয়নের দাড়খোর সীমান্তে নাগর নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঘের মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা রকম গুঞ্জন চলছে। কেউই সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না।

বাঘের মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের একেক জন একেক রকম কথা বলছেন। কেউ বলছেন, বাঘটি আগে থেকেই দুর্বল ও রোগাক্রান্ত ছিল। সীমান্তের নাগর নদীতে বাঘটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা লাঠিসোটা ও জাল দিয়ে সেটিকে পাকড়াও করে। নদী থেকে উদ্ধারের পর বাঘটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আবার কেউ বলছেন, রোববার স্থানীয় আলম ইসলামের একটি গরু হিংস্র কোনো প্রাণীর আক্রমণে মারা যায়। এই ক্ষোভে আলম ইসলামের ছোট ছেলে মৃত গরুর মধ্যে বিষ (ফুরাডন) মিশিয়ে রাখে। আর সেই বিষ মেশানো গরুর মাংস খেয়ে বৃহস্পতিবার বাঘটি অসুস্থ হয়ে নদীর ধারে অবস্থান করছিল। পরে স্থানীয়রা জাল দিয়ে বাঘটি ধরে ফেলে।

আলম ইসলামের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, ‘রোববার আমার একটি গরু মারা যায়। গরুটিকে বাঘ নাকি শেয়াল আক্রমণ করেছিল জানি না। তবে আমার ছোট ছেলে বলেছিল- মা, আমাদের এত বড় ক্ষতি হলো, আমি তাকেও মেরে ফেলব।

‘এরপর সে গরুর মধ্যে অল্প করে ফুরাডন বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে শুনেছি। এখন বাঘটি বিষ মেশানো সেই গরুর মাংস খেয়ে মারা গেছে, নাকি ঠাণ্ডায় অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছে আমি জানি না।’

স্থানীয় কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘বাঘটি দেখতে পেয়ে লোকজন চেঁচামেচি শুরু করে। তাদের চিৎকার শুনে আমি কাছে যাই। দেখি যে বাঘটি বসে আছে। আমরা কাছে গেলেও সেটি ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছিল না।

‘আমরা একটি জাল দিয়ে বাঘটিকে ঢেকে দেই। তখন সেটি নড়াচড়া শুরু করলে একটি লাঠি দিয়ে ভালো করে জালে পেঁচিয়ে ধরি। তখন বাঘটি মনে হয় মারা গিয়ে নদীতে ডুবে যাচ্ছিল। পরে নদী থেকে ডাঙায় নিয়ে একটি বাঁশ দিয়ে বাঘটির চার পা বেঁধে সামনে নিয়ে আসি।’

ঢাকা বন ভবনের বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাঘটির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। প্রত্যক্ষদর্শী ময়ন উদ্দিনসহ স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। এদের কেউ কেউ বলেছেন যে মারা যাওয়া গরুর মধ্যে বিষটোপ দেয়ায় সেই গরুর মাংস খেয়ে বাঘটি অসুস্থ হয়েছে।

‘আবার কেউ বলছেন, বাঘটিকে উদ্ধারের সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হয়তো মাথায় আঘাত লেগে পানিতে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এরপর বাঘটিকে জাল দিয়ে পেঁচিয়ে উপরে তুলে আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এখানে একটি চিতা বাঘকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অনেক মানুষ জড়িত। আমরা বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাঘের শরীর এবং উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত জাল থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি।

‘এখন বিষ টোপের কারণে নাকি মানুষের আঘাতে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে এটা আরও পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

শুক্রবার সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার দাড়খোর সীমান্ত এলাকায় নাগর নদীর পাড় থেকে চিতা বাঘটির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগের লোকজন। আটোয়ারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষে বাঘটির মরদেহ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক জাদুঘরে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
ভারতে আরও এক চিতার মৃত্যু
চিতা বাঘের গাছে ওঠানামার দৃশ্যে স্তব্ধ নেটিজেনরা
কাশ্মীরে চিতার আক্রমণে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rabi under construction building collapse Committee to investigate

রাবির নির্মাণাধীন ভবনধস: তদন্তে কমিটি

রাবির নির্মাণাধীন ভবনধস: তদন্তে কমিটি ধসে পড়া রাবির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ। ছবি: নিউজবাংলা
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এ ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যয় পুরোটাই বহন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে আহত শ্রমিকরা যে কয়দিন কাজ করতে পারবেন না, সেই দিনের ক্ষতিপূরণের অর্থও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নির্মাণাধীন শহীদ এমএইচএম কামরুজ্জামান হলের ছাদ ধসের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন ছাড়াও কাজের গুণগতমান পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

রাবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে রাবির এই ছাদ ধসের ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘বালিশকাণ্ডে’ আলোচিত মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন। কারণ এ প্রতিষ্ঠানটিই রাবির শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হল নির্মাণের কাজ করছে।

রাবির শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান আবাসিক হলের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। মঙ্গলবার সকাল থেকে একটি অংশের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ সেই ছাদটি ধসে পড়ে। এতে ছয়জন শ্রমিক আহত হন।

এনিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জরুরি সভায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভার শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ ধসের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান সরকারকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও দুই সদস্য হলেন রাবির রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী রাসেদুল ইসলাম ও রাবির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইমরুল হাসান। এই কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন ছাড়াও এই ভবনের যে কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে তারও গুণগত মান যাচাই করবে।

এক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, এ ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যয় পুরোটাই বহন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে আহত শ্রমিকরা যে কয়দিন কাজ করতে পারবেন না, সেই দিনের ক্ষতিপূরণের অর্থও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

২০১৭ সালে ১০ তলা এই ভবন নির্মাণ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন মাসে, তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় পরে সময় বাড়ানো হয়।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মাণ ত্রুটির কারণেই এ অংশটি ধসের ঘটনা ঘটেছে। কোনো কিছু যদি ত্রুটি নাই থাকে, তবে সেটি তো আর এমনি এমনি ভেঙে পড়বে না।’

রাবির প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড রুয়েটেও কাজ পেয়েছে। তারা সিটি করপোরেশনেও কাজ পেয়েছে। তবে, রাবির এই কাজটি নিম্ন মানের বলে মনে হয়নি।’

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘আমি এখন গোটা কাজটি নিয়ে সন্দিহান; তদন্ত করে দেখা হবে। যেটা করা দরকার, করা হবে। এটির সঙ্গে আমাদের অর্থ ও শিক্ষার্থীদের জীবন জড়িত।’

আরও পড়ুন:
নির্মাণ ত্রুটির কারণেই রাবির ভবনের ছাদে ধস
ধসে পড়ল রাবির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ, আহত ৫
রাবির ভর্তি পরীক্ষা: ৩০৬৫ আসনে সাড়ে তিন লাখ আবেদন
রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন শুরু ৮ জানুয়ারি
রাবি ছাত্র ফুয়াদের মৃত্যুর কারণ জানার অপেক্ষা

মন্তব্য

p
উপরে