× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
A young man who lost his job changed his fortune in bean cultivation
google_news print-icon

শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের

শিম-চাষে-ভাগ্য-বদল-চাকরি-হারানো-যুবকের
কৃষক আব্দুল কাদির তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিম ক্ষেতে কাজ করছেন। ছবি: নিউজবাংলা
২০১৯ সালে করোনার শুরুতে আব্দুল কাহিদের কর্মক্ষেত্র কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বেকার হয়ে পড়েন। এলাকায় ফিরে গিয়ে শুরু করেন শিম চাষ। এ চাষ তার ভাগ্য বদলে দিতে শুরু করেছে।

শেরপুরের আব্দুল কাদির পোশাক কারখানায় চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করোনার শুরুতে তার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৪ বছর সেখানে চাকরি করেন তিনি। বেশি একটা উন্নতি হয়নি। কিন্তু চাকরি হারানো তার জন্য শাপে বর হয়েছে। ভারতের কেরালা জাতের শিম চাষ করে ভাগ্য বদলেছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিম ক্ষেতে কাজ করছেন। ক্ষেত থেকে শিম তুলছেন তারা বিক্রির উদ্দেশ্যে।

আব্দুল কাদির জানান, ২০১৯ সালে করোনার শুরুতে তার কর্মক্ষেত্র কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারও চাকরি চলে যায়। একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হওয়ায় সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।

চাকরি চলে যাওয়ায় পুরো সংসার নিয়ে ঢাকা থেকে নিজের গ্রাম সন্ধ্যাকুড়ার পৈতৃক ভিটায় চলে আসেন তিনি। বাড়িতে এসে কী করবেন, ভেবে পাচ্ছিলেন না। পরে তার বাবার কাছ থেকে মাত্র ২০ শতাংশ জমি বছরে ৮ হাজার টাকায় ইজারা নেন। আর সেই জমিতে সবজি লাগিয়ে পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করেন।

ভাগ্য তার সহায় ছিল না। প্রথমবার এ জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে কাঁকরোলের আবাদ করেন। কাঁকরোল যখন ধরা শুরু করে, তখনই পাহাড়ি ঢল এসে সব শেষ করে দেয়। কিছুদিন পর আবার পাহাড়ি ঢলে আরও ক্ষতি হয় তার। তখন তিনি পথে বসে যান।

শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের

আব্দুল কাদির বলেন, ‘তারপর আমি চিন্তা করি কী করা যায়। আর অল্প সময়ে কীভাবে অধিক মুনাফা লাভ করা যায়। আমি পরে ইউটিউবে দেখতে পাই যে ভারতের কেরালায় আগাম জাতের শিম চাষ হয় আর ওই শিম আগেই বাজারে নামে।

‘পরবর্তী সময়ে আমি চিন্তাভবনা করি যে এই জাতের শিম আমাদের এলাকায় চাষ কেমনে সম্ভব। একপর্যায়ে ভাবলাম এই শিম তো কেরালা থেকে আনা সম্ভব নয়। পরে ইউটিউবে দেখলাম আমাদের বাংলাদেশেও এই শিম নাটোরের একজনের কাছে পাওয়া যাচ্ছে।’

কাদির বলেন, ‘নতুন কর্মসংস্থান ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ উন্নতির কথা চিন্তা করে নাটোর থেকে এক কেজি শিমের বীজ ৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আনি। আমার আবাদি জমিতে আধাকেজি পরিমাণ শিমের বীজ রোপণ করি। বাকি শিমবীজ একই এলাকার আরেক কৃষককে দেই।’

জমিতে বীজ রোপণের পর থেকে বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা, কীটনাশক সারসহ অন্য সব খরচা মিলিয়ে কাদিরের প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। নতুন এই শিমবীজ এলাকায় প্রথমবারের মতো রোপণ করায় কেউ উৎসাহ দেয়নি তাকে। বরং সব গাছ কাটার পরামর্শ দেন অনেকে। কারও কথায় খেয়াল না রেখে তার শিম বাগান পরিচর্যার পাশাপাশি ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে থাকেন কৃষক আব্দুল কাদির।

তিনি জানান, বীজ রোপণের ৭০ দিন পর প্রতিটি গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। সবাইকে তাক লাগিয়ে বীজ রোপণের আড়াই মাস পর থেকে শুরু হয় শিম বিক্রি। বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বাজারের দামে শিম বিক্রি করে যাচ্ছেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও দেড় থেকে ২ লাখ টাকার শিম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে আরও বেশ কিছু পরিবারের কর্মসংস্থান। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে শিম চাষ করা হবে।

শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের

‘চাকরির পেছনে ছুটে অথবা বেকার না ঘুরে অনাবাদি জমিতে শাক-সবজি উৎপাদন করেও লাভবান হওয়া সম্ভব।’

স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর চাকরি চলে যাওয়ার পর আমরা অনেক কষ্ট করছি। কিন্তু এহন আর কষ্ট নাই। আমরা শিম চাষ করে এ পর্যন্ত ২ লাখ টাকা বিক্রি করছি। আমিও মাঠে স্বামীকে সময় দেই।’

স্থানীয় কৃষক মো. শহীদ মিয়া বলেন, ‘কেরালা শিমটা মেলা ভালা। এই শিম চাষ কইরা আমাগো কাদির লাভবান হইছে। আমাদেরও বীজ দিলে আমরাও সামনেরবার লাগামু।’

স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া বলেন, ‘আমরা কী শিম লাইগাইছি এহন পর্যন্ত ফলই আহে নাই। আর কাদির তো মেলা টাকা বেইচ্চা হালাইছে। আমরাও এরপর কাদিরের ওনো থাইক্কা বীজ নিয়া এই শিম লাগামু।’

কিষানি হেপ্পী বেগম বলেন, ‘আমাদের বাড়ির কাছে একটা নতুন শিমের চাষ হইছে। আমরা যে শিম লাগাইছি তার থেকে অনেক ভালো। আমাদের শিম এখনো ফুলই আসে নাই, আর তার শিম বেচা শুরু করে দিছে অনেক আগে থেকেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, কাদের মিয়ার সবজি বাগান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন অনেকে। ফলন ভালো হওয়ায় ভবিষ্যতে এ জাতের শিম তার এলাকার অনেক কৃষক চাষ করবেন বলে জানান ।

শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন দিলদার বলেন, ‘কৃষক আব্দুল কাদির একজন কৃষি উদ্যোক্তা। কৃষিতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আসতে হয়েছে তার। ২০ শতাংশ জমিতে আগাম শিম চাষ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। ইন্ডিয়ার কেরালা জাতের শিম চাষ করে ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করেছেন তিনি।

‘উচ্চ মূল্যের ফসল চাষ করলে কৃষক লাভবানের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। আমরা এ শিমের বীজ আব্দুল কাদিরের কাছ থেকে সংগ্রহ করে এলাকার কৃষকের মাঝে বিতরণ করব। যাতে সবাই তার মত স্বাবলম্বী হতে পারে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাব আব্দুল কাদিরকে।’

আরও পড়ুন:
নাটোরের সমতল জমিতে কমলা চাষে অপার সম্ভাবনা
গভীর রাতে বসে যে হাট
ডায়মন্ডব্যাক মথ আতঙ্কে শেরপুরের ফুলকপিচাষিরা
কৃষি বিভাগের সহায়তা চান পঞ্চগড়ের পান চাষিরা
লালমাই পাহাড়ের কচুমূখীতে কৃষকের স্বপ্ন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Pressure increased on Bangabandhu Expressway congestion at toll plaza

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে চাপ, টোল প্লাজায় জট

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে চাপ, টোল প্লাজায় জট পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা থেকে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট। ছবি: নিউজবাংলা
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে পদ্মা সেতু হয়ে দূর পাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যান ও দুই চাকার মোটরসাইকেল করেও ঘরমুখো মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।

ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। এ কারণে রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা থেকে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের জট দেখা দিয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে যানবাহন চাপ বাড়তে থাকে।

এদিকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় যানবাহনগুলোকে টোল গ্রহণে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে সেতু এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে পদ্মা সেতু হয়ে দূর পাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যান ও দুই চাকার মোটরসাইকেল করেও ঘরমুখো মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।

মাওয়া ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘টোল প্লাজা থেকে প্রায় ছনবাড়ি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এই জট রয়েছে। ভোরবেলায় অনেক গাড়ি একসাথে আসায় এ জট বেঁধে ছনবাড়ি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার গাড়ির ধীর গতি লক্ষ্য করা যায়।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়‌কে ১০ কি‌লো‌মিটার জুড়ে যানজট
বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু
১৪ কিলোমিটার সড়কে দুপুর পর্যন্ত যান চলাচলে ধীরগতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Traffic jam on Dhaka Tangail Bangabandhu Bridge highway for 10 kilometers

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়‌কে ১০ কি‌লো‌মিটার জুড়ে যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়‌কে ১০ কি‌লো‌মিটার জুড়ে যানজট ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে আশেকপুর পর্যন্ত অংশে শুক্রবার ভোরে যানজট দেখা দেয়। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে শুক্রবার ভোরে এলেঙ্গা থেকে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

যানবাহনের বাড়তি চাপ ও একাধিক দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়‌কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে শুক্রবার ভোর থেকে এই যানজট শুরু হয়।

কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে অনেকেই ব্যক্তিগত যানবাহন, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। যানজট আর বৃষ্টিতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ সাজেদুর রহমান জানান, মধ্যরাত থেকে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে এই মহাসড়কে। তাছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ মারা যায়নি। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগে যাওয়ায় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ কাজ করছে।

ওদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে টোলপ্লাজার আগে হালকা যানজট তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি
বনানীর আগে বাসে যাত্রী তুললেই মামলা: ডিএমপি কমিশনার
বজ্রপাত: পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি
চাপ নেই ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে
ঈদযাত্রা: পদ্মা সেতু দিয়ে নির্বিঘ্নে যান চলাচল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Toll collection in 24 hours at Bangabandhu Bridge is Tk 3 crore 21 lakh

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা।। ছবি: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু এবং এর বিপরীত ৪০ হাজার ৯০৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বেড়েই চলছে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা। এর পাশাপাশি প্রতিদিনই টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুতে বাড়ছে টোল আদায়ে টাকার পরিমাণ।

গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ একদিনে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ এবং এর বিপরীত ৪০ হাজার ৯০৬টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে কোরবানির পশু ও পণ্যবাহী পরিবহন বেশি পারাপার হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু এবং এর বিপরীত ৪০ হাজার ৯০৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এরমধ্যে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব অংশে ২২ হাজার ৬৪৫টি যানবাহন পারাপার হয়। এ থেকে টোল আদায় হয় এক কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ টাকা এবং সিরাজগঞ্জ সেতু পশ্চিম অংশে ১৮ হাজার ২৬১টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৯০০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে যানজট নিরসনে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপনসহ মোটরসাইকেলের জন্য চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এবারও ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছি।’

এদিকে শুক্রবার ভোর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস এলাকাজুড়ে কোথাও কোথাও থেমে থেমে ও ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।

আরও পড়ুন:
প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলক ইলেকট্রনিক টোল আদায় শুরু
বঙ্গবন্ধু সেতুতে সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার, টোল আদায়ে রেকর্ড
বঙ্গবন্ধু সেতুতে এক দিনে সোয়া ৩ কোটি টাকার টোল
বঙ্গবন্ধু সেতুতে এক দিনে আড়াই কোটি টাকার বেশি টোল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Train movement stopped for two days on Kolkata Khulna railway

কলকাতা-খুলনা রেলপথে দুদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ

কলকাতা-খুলনা রেলপথে দুদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ
রোববার (১৬ জুন) এবং বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ট্রেনটি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই রেলপথে ট্রেনটি সপ্তাহের ওই দুদিনই চলাচল করে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কলকাতা-খুলনা রেলপথে চলাচল করা যাত্রীবাহী ‘বন্ধন-এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দুদিন বন্ধ থাকবে। রোববার (১৬ জুন) এবং বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ট্রেনটি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই রেলপথে ট্রেনটি সপ্তাহের ওই দুদিনই চলাচল করে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেললাইন ও কর্মীদের ওপর চাপ কমানো এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতি বছরই এ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে গত ১৩ মে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দিয়ে জানায়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মতি জানিয়ে ফিরতি চিঠি পাঠায়।

এ বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচল করা বন্ধন এক্সপ্রেস দুই দিন বন্ধ থাকবে। ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১৬ ও ২০ জুন বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে একটি চিঠি আমার দপ্তরে এসেছে। তবে সড়কপথে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। এমনকি ঈদের দিনও চালু থাকবে পাসপোর্ট যাত্রীদের চলাচল।’

আরও পড়ুন:
ম্যাংগো ট্রেনের সঙ্গে ক্যাটেল ট্রেনেরও যাত্রা শুরু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের যাত্রা শুরু
এক সপ্তাহ পর চালু মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেন
ভাঙা লাইনে ছিপি দিয়ে চলল ট্রেন
মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেন বন্ধে দুর্ভোগে যাত্রীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sunamganj SA transports Indian illegal goods worth crores of rupees

সুনামগঞ্জ এসএ পরিবহনে কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য

সুনামগঞ্জ এসএ পরিবহনে কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য সুনামগঞ্জে এসএ পরিবহনের অফিসে থাকা অবৈধ ভারতীয় পণ্য বুধবার রাতে জব্দ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
জব্দ পণ্যের মধ্যে রয়েছে- ১২৪ বস্তা ফুসকা, ৩০ বস্তা কসমেটিকস সামগ্রী, ১৬ বস্তা কাজু বাদাম, আট বস্তা বিস্কুট, চার বস্তা পলিথিন, তিন বস্তা কিসমিস,  দুই বস্তা চকলেট ও চশমা।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহায়তায় সুনামগঞ্জে এসএ পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা ১৮৭ বস্তা বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করেছে টাস্কফোর্স।

আদালতের নিলাম কাগজ জালিয়াতি করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর সময় বুধবার রাত ১১টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় অবস্থিত এসএ পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান ও কুরিয়ার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

জব্দ পণ্যের মধ্যে রয়েছে- ১২৪ বস্তা ফুসকা, ৩০ বস্তা কসমেটিকস সামগ্রী, ১৬ বস্তা কাজু বাদাম, আট বস্তা বিস্কুট, চার বস্তা পলিথিন, তিন বস্তা কিসমিস, দুই বস্তা চকলেট ও চশমা। অবৈধ পথে আসা এসব পণ্য জব্দ করে তিনটি বড় কার্গো ট্রাকে ভরে বিজিবির ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য কোটি টাকা।

অবৈধ পণ্য পরিবহনের দায়ে এসএ পরিবহন সুনামগঞ্জ শাখার ম্যানেজারকে এর আগেও দুবার সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত।

টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে থাকা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদ শরীফ বলেন, ‘ভারত থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা পণ্য পাচারের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ১৪৭ বস্তা বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করেছি। যারা এই পণ্যগুলো পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অবশ্য এসব অবৈধ পণ্য পরিবহনের জন্য কাউকে আটক করা হয়েছে কী না সে তথ্য দেননি তিনি।

অভিযানে অংশ নেন এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক আরিফুর রহমান, সহকারী পরিচালক কৌশিক আহমদ কনকসহ পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহে ২৮০ বস্তা ভারতীয় চিনিসহ একজন গ্রেপ্তার
বাজারের ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের অর্ধেকই নকল ও অনুমোদনহীন
শেরপুরে পৌনে এক কোটি টাকার ভারতীয় চিনি জব্দ
প্রথমবারের মতো ভারত থেকে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে নারী ট্রাকচালক
‘চোরাই পণ্যবাহী’ গাড়ির কারণে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক এখন মরণফাঁদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Big Boss King Tiger Bullet and Rock are coming to shake the market

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজার ধরতে নানা বাহারি নামে গরু মোটাতাজা করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন মৌলভীবাজারের খামারিরা। এরই মধ্যে অনেক খামারে শুরু হয়ে গেছে আগাম বেচাবিক্রি। খামারিরা জানিয়েছেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো দামে গরু বিক্রির আশা করছেন তারা।

লাভজনক হওয়ায় দেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গরুর খামার। প্রতি বছরই নতুন নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে খামার ব্যবসায়। সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। এমনই এক সফল খামারি হচ্ছেন জুড়ী উপজেলার মেসার্স সিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম ছেনু।

বাবা মৃত বজলু মিয়ার হাতে গড়া খামারটির বয়স এখন শত বছরের ওপরে। ছেনুর বাবার মৃত্যুর পর ছেলেরা খামারের হাল ধরেন। এ খামারে বর্তমানে ছোটবড় মিলিয়ে মোট ৬৫টি গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে ক্রেতাদের মন জয় করতে এ খামারে গড়ে তোলা হয়েছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক নামের পাঁচটি গরু। এসব গরু দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

সাইফুল ইসলাম ছেনু জানান, মূলত কোরবানির বাজার ধরতে অনেক আগে থেকেই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন তিনি। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ না করলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদে ভালো মুনাফা পাবেন বলে আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ছোটবড় মিলিয়ে ৬৫টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। এগুলো দাম ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে চাচ্ছি আমরা।’

জুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় দিনকে দিন বাড়ছে কোরবানির পশুর চাহিদা। সেইসঙ্গে বেড়েছে খামারের সংখ্যা। উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক খামার রয়েছে।

ঈদের আগে খামারগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যাতে অসৎ উপায়ে গরু মোটাতাজা না করতে পারে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
ডিএনসিসির পশুর হাটে নিরাপদ ‘ক্যাশলেস’ লেনদেনের আশা মেয়রের
নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু
‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা
ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসছে বৃহস্পতিবার থেকে
‘সাদা পাহাড়ের’ ওজন ৩৮ মণ, দাম ১৬ লাখ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
He was hacked to death on his way to appear in a case in Teknaf

টেকনাফে মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যা

টেকনাফে মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যা রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত
নিহতের মা বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে কক্সবাজার আদালতে মামলার হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় পেঠানের ছেলে ফরহাদসহ কয়েকজন তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

কক্সবাজার টেকনাফে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে এলোতাপাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ কোনারপাড়া কবরস্থানের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত যুবক টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়া গ্রামের মৃত হামিদ হোসেনের ছেলে রেজাউল করিম।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের হোতা মো. ফরহাদ ওই এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন জেনে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। তাকে না পেয়ে তার মা এবং বাড়ির পাশ থেকে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কক্সবাজারের আদালতে যাচ্ছিলেন। পথে ওই মামলার বাদী পক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশার গতিরোধ করে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউলের হাতে কোপ দেয়। এ সময় রেজাউল অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর হামলাকারীরা তাকে ধরে এলোতাপাড়ি ছুরিকাঘাত করে চলে যায়।

স্থানীয় লোকজন রেজাউলকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নওশাদ আলম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘নিহতের দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র বা লোহার রড ধরনের কিছুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

এ ব্যাপারে নিহতের মা সাজিদা বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে কক্সবাজার আদালতে মামলার হাজিরা দিতে যাচ্ছে এমন সময় পেঠানের ছেলে ফরহাদসহ কয়েকজন তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি ওসমান গণি বলেন, ‘পূর্বশত্রুত থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। হত্যা মামলা রুজু করার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

p
উপরে