× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Everyone is a reserve expert now Prime Minister
hear-news
player
google_news print-icon

এখন সবাই রিজার্ভ বিশেষজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

এখন-সবাই-রিজার্ভ-বিশেষজ্ঞ-প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাচিপের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা
‘কিছুদিন থেকে শুনলাম আমাদের দেশের সবাই রিজার্ভ সম্পর্কে এবং অর্থনীতি সম্পর্কে ভীষণভাবে পারদর্শী হয়ে গেছে। গ্রামে গ্রামে চায়ের দোকানে রিজার্ভ নিয়ে কথা। সেখানে আমার কথা হচ্ছে জাতির পিতা তো যাত্রা শুরু করেছেন শূন্য রিজার্ভ নিয়ে। তিনি এই দেশটাকে গড়ে তুলেছিলেন।’

একটি দেশের আমদানি নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ রিজার্ভ দরকার, বাংলাদেশে তার চেয়ে বেশি আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বিষয়টি নিয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে বলে মনে করে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ‘এখন সবাই রিজার্ভ বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছে।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর কেবল বাংলাদেশে নয়, দেশে দেশেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে বলেও জানিয়েছেন সরকার প্রধান। বলেছেন, ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে মানুষের টাকাকেই বরং ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে। ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে চোরের হাতে তুলে দেয়ার উপক্রম হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বা স্বাচিপের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

উদ্যানে পৌঁছে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ প্রধান। সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ইকবাল আর্সলান এবং মহাসচিব এম এ আজিজ। স্বাচিপের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগদান ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত হওয়ায় সম্মেলনস্থল রূপ নেয় জনসভায়।

এরপর দীর্ঘ বক্তব্যে তার সরকারের আমলের উন্নয়ন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমহ্রাসমান রিজার্ভ পরিস্থিতি, ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে গুজব প্রসঙ্গ, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমেরিকার বিভিন্ন নীতি নিয়ে বক্তব্য উঠে আসে।

বিদেশি ঋণ নিয়েও আশ্বস্ত করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ঋণ পরিশোধের সব পরিকল্পনাই করা আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যত ঋণ নেই, সময় মতো সব পরিশোধ করি। একমাত্র বাংলাদেশ কোনোদিন ডিফল্টার হয়নি। যত সমস্যা হোক, ঋণ বিতরণে এবং ঋণ পরিশোধ সবসময় ধরে রাখি।’

তার সরকারের শাসনামলে দেশের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা তৃতীয়বারে মতো এখন সরকারে। অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি, এই ১৪ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে, আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে।’
২০০১ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দৃষ্টান্তও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, তার সরকার সবসময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চায়, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চায়।

‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই আছে রিজার্ভ’

এর মধ্যে শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি কথা বলেন রিজার্ভ নিয়ে। সোয়া এক বছরের মধ্যে রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন কমে ৩৪ বিলিয়নের কোটায় নেমে আসার পর এ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যে আক্রমণ শুরু হয়েছে, তারও জবাব দেন। বলেন, রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়নে তুলেছিল তার সরকারই। এরপর করোনার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বেশি দামে পণ্য কিনতে গিয়ে রিজার্ভ কমেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে অতি চর্চা হচ্ছে বলেও মনে করেন সরকার প্রধান। বলেন, ‘কিছুদিন থেকে শুনলাম আমাদের দেশের সবাই রিজার্ভ সম্পর্কে এবং অর্থনীতি সম্পর্কে ভীষণভাবে পারদর্শী হয়ে গেছে। গ্রামে গ্রামে চায়ের দোকানে রিজার্ভ নিয়ে কথা। সেখানে আমার কথা হচ্ছে জাতির পিতা তো যাত্রা শুরু করেছেন শূন্য রিজার্ভ নিয়ে। তিনি এই দেশটাকে গড়ে তুলেছিলেন।’

করোনাকালে আমদানি-রপ্তানি, হুন্ডি, বিদেশ যাওয়া বন্ধ থাকায় দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পরে তা কমে।

এখনও যে রিজার্ভ আছে, তা যথেষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ রাখা লাগে কীসের জন্য? যদি কোনো দৈব-দুর্বিপাক হয়, আমার তিন মাসের খাবার যেন আমি আমদানি করতে পারি।…আমাদের খরচ হচ্ছে রিজার্ভ। এটাও ঠিক। আমি বলব, আমাদের এখন যে রিজার্ভ তাতে তিন মাস না আমরা পাঁচ মাসের আমদানি করতে পারি এই পরিমাণ অর্থ আমাদের কাছে আছে।’

আমদানি যেন করতে না হয়, সেজন্য দেশের মানুষকে, এক ইঞ্চি জমি ফেলে না রেখে উৎপাদন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান সরকারপ্রধান। বলেন, ‘নিজেরটা নিজে করে খান, নিজে সাশ্রয় করেন, নিজের খাদ্য নিজে যোগান দেন। আমরা কিন্তু তা করতে পারি। কারণ বাংলাদেশ মানুষ তা পারে।’

রিজার্ভ কমার সমস্যাটা কেবল বাংলাদেশের নয় বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘শুধু আমাদের দেশে নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেরই রিজার্ভ কমে গেছে। আমরা শ্রীলঙ্কাকে কিছু সহযোগিতা করেছি, আরও অনেক দেশ কিন্তু ওই সহযোগিতার পর আমাকে অনুরোধ করেছে। আমি নাম বলতে চাই না, কিন্তু আমি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি যে আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না। কারণ, এখন যেটুকু রিজার্ভ তা আমার দেশের জন্য প্রয়োজন, সেটা আমাকে রাখতে হবে।’

কেন কমেছে রিজার্ভ

এই ব্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রী আগেও দিয়েছেন। আবার উল্লেখ করলেন। বলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলসহ পণ্যমূল্যের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সেই ধাক্কাটা দেশেও লেগেছে।

তিনি বলেন, ‘কোভিড শেষ হলে আমাদের আমদানি বেড়েছে, রপ্তানি বেড়েছে, কাজ বেড়েছে।…এখন খাদ্য কেনা, যত দামই বাড়ুক।

‘ইউক্রেন থেকে আমরা গম কিনি, রাশিয়া থেকে গম কিনি। যুদ্ধকালীন সময়ে পাইনি। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, কোন কোন জায়গায় পাওয়া যায়, যত বেশি দাম হোক… ২০০ ডলারে যে গম পাওয়া যেত ৬০০ ডলারে আমরা কিনে নিয়ে আসি।

‘ভোজ্য তেলেও একই অবস্থা। সেই ব্রাজিল থেকে শুরু করে পৃথিবীর যে দেশে পাওয়া যায়, যত দাম হোক, আমরা নিয়ে আসছি। মানুষের যেগুলো ভোগ্যপণ্য তার যেন কোনোরকম অসুবিধা না হয়, তার জন্য যথাযথ কাজ আমরা করে যাচ্ছি, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।’

ভোগ্যপণ্যের কোনো অসুবিধা হবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ইউক্রেন থেকে, রাশিয়া থেকে আমরা আমদানি শুরু করেছি। যদিও স্যাংশনের কারণে ডলারে পেমেন্টের অসুবিধে। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা কিভাবে করা যায়, তার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

করোনার টিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘শুধু ভ্যাকসিনের মূল্য ধরলে তো হবে না। এর সঙ্গে সিরিঞ্জ কিনতে হয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি মাত্র এক কোটি সিরিঞ্জ তৈরি করতে পারে। তখন ছোট সিরিঞ্জ পাওয়া যাচ্ছিল না বিদেশে। বলে, একটু বড় সাইজ, পয়সা বেশি লাগবে। আমি বলি, লাগুক, আনতে হবে। যখন যেটা প্রয়োজন হয়েছে সোজা প্লেন পাঠিয়ে কোটি টাকা খরচ করে আমরা কিন্তু নিয়ে এসেছি, মানুষকে ভ্যাকসিন দিয়েছি।

‘ভ্যাকসিন রক্ষণাবেক্ষণ, ফ্রিজার কিনে সংরক্ষণ, পরিবহন ব্যয় গ্রাম থেকে শহরে তা নিয়ে যেতে অর্থ খরচ হয়েছে।’

এখন সবাই রিজার্ভ বিশেষজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাচিপের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

বিনা খরচে করোনাপ্রতিরোধী টিকা দেয়ার কথাও স্মরণ করান শেখ হাসিনা। সবাইকে ভাইরাসটির বুস্টার ডোজ নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। চিকিৎসা সেবায় যারা জড়িত তাদের অবশ্যই নিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মজার ছলে বলেন, ‘যে না নেবে, তাকে ফাইন করব।’


টাকা বাড়িতে রাখলে চোরে নেবে

ব্যাংকে রাখা অনিরাপদ বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিশ্বাস করে যারা টাকা তুলে ফেলছেন, তাদেরকে সতর্কও করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘একটা গুজব ছড়াচ্ছে, টাকা ব্যাংকে নাই, টাকা পাবে না। সবাইকে টাকা ব্যাংক থেকে তুলে যাতে ঘরে রাখে।

‘ঘরে টাকা রেখে তো চোরকে সুযোগ করে দেয়া, তাই না? চোরের পোয়াবারো! তারা বেশ ভালোভাবে জানবে ওই বাড়িতে টাকা আছে, যাই চুরি করি। চোরের হাতে তুলে দেবেন নাকি ব্যাংকে টাকা থাকবে, টাকার মালিক যারা তাদের ওপরই নির্ভর করে।’

‘মন্দা তো উন্নত বিশ্বেও, দেশের অর্থনীতি গতিশীল’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও হিমশিম খাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সেখানে আমি সবাইকে আহ্বান করেছি যেন কৃচ্ছ্র্রতা সাধন করে। সবাইকে একটু সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুৎ, পানি, বা খাদ্য কোনো কিছু যেন অপচয় না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালোই আছে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বা সক্ষমতা আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। যদিও আমাদের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা হয়।

‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা…বিশ্বব্যাপী, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, তারওপর আমেরিকার স্যাংশন, ইউরোপের স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশন, যার ফলে আজকে প্রতিটি জিনিস আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যাধিক মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘চেষ্টা করে যাচ্ছি আমাদের উন্নয়নের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে। সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা আছে। আমরা কিছু অগ্রগতিও পাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা

মানবাধিকারের কথা বললেও বঙ্গবন্ধুর সাজাপ্রাপ্ত খুনিকে আশ্রয় দিয়ে রাখা এবং র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দৃষ্টিতে বিশ্বের এই পরাশক্তির নীতি দ্বিমুখি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় এক খুনি রয়ে গেছে। তাকে বার বার আনার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেহেতু তার ফাঁসির আদেশ হয়েছে, আমেরিকা সেই খুনিকে লালন পালন করছে।’

পরক্ষণেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অবশ্য আমেরিকার কারবারই এ রকম। এখানে যখন একজন ড্রাগ ডিলার, যখন ড্রাগসহ তাকে ধরতে গেছে পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে, র‌্যাব ধরতে গেছে হামলা করেছে। ১৪টা মামলার আসামি এবং ড্রাগসহ ধরা পড়ে তার গ্রুপ পুলিশের ওপর গুলি করে, র‌্যাবের ওপর গুলি করে, তারপর সেও গুলি খায়, মারা যায়। তার জন্য আমাদের দেশের কিছু লোক বিভিন্ন জায়গায় তদবির করে বেড়ায়।

‘অথচ এই ড্রাগ ডিলারদের খোঁজ আনতে যেয়ে, ধরতে যেয়ে আমাদেরই একজন এয়ার ফোর্সের অফিসার, তাকে ড্রাগ ডিলাররা অপহরণ করে নিয়ে যায়, অত্যন্ত নির্মমভাবে তাকে মারে, হত্যা করে।

‘এ ব্যাপারে তাদের কিন্তু উদ্বেগ নেই, মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও উদ্বেগ নেই বা যারা আমাদের ওপর স্যাংশন দেয়, আমেরিকা, তাদেরও কোনো উদ্বেগ নেই, কারও কোনো উদ্বেগ নেই। কেমন একটা অদ্ভুত বিশ্ব পরিস্থিতি, সেটাই আমার অবাক লাগে।’

দেশের উন্নয়নের বর্ণনা

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশের উন্নয়নে কী কী করেছেন, সে কথা আবারও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বক্তব্যের মাঝে নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিলে তাদের থামিয়ে তিনি বলেন, ‘স্লোগানটা একটু পরে। অনেক কথা বলার আছে, একটু বলে রাখি। শুনি, আমরা নাকি কিছুই করিনি। তাই যখন যে সেক্টরে যাচ্ছি, সেই সেক্টরে কী কাজ করেছি, একটু মানুষকে জানানো দরকার।

‘আসলে বাংলাদেশের মানুষ তো, ছয় ঋতুর দেশ। দুই মাস পর ঋতু বদলায়, পাখির ডাক বদলায়, পশু-পাখির কলকাকলি বদলায়, বাতাসের গতি বদলায়, মানুষের মনও বদলায়, আর যা কিছু করি ভুলে যায়। ভুলে যেন না যায়, মাঝে মাঝে একটু স্মরণ করাতে হয়।’

অন্য সব খাতের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আমরা প্রতিষ্ঠা করব। ইতিমধ্যে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে করেছি। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করে দিচ্ছি। প্রতিটি জেলায় আমরা মেডিক্যাল কলেজ করে দিচ্ছি।’

চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন:
আমেরিকাকে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী
আবার ভোট দিন, যা চাইবেন তার বেশি দেব: শেখ হাসিনা
রিজার্ভ ও ব্যাংকের টাকা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
After Chittagong A League prepares for the mass of people in Coxs Bazar

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের কক্সবাজারে নবনির্মত বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। তাই সব স্তরের মানুষ এ সমাবেশে আসবে। সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি।’

চট্টগ্রামে বিশাল সমাবেশের তিন দিন পর সাগর-কন্যা কক্সবাজার সফর। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি দলটির সমর্থন প্রমাণের সুযোগ হিসেবে দেখছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির সমাবেশের মধ্যে আওয়ামী লীগও তাদের শক্তি দেখানোর চেষ্টায়। শেখ হাসিনাকে সামনে রেখেই হচ্ছে তাদের জমায়েতগুলো।

গত ২৪ নভেম্বর যশোরের পর ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে বুধবার কক্সবাজার শহরের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জনসভা ঘিরেও দলের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকায় ছোট-বড় যে ৭২টি প্রকল্প চলছে, তার মধ্যে কাজ শেষ হওয়া ২৩টির উদ্বোধন করতে সেদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কক্সবাজার।

সেদিন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতে তিন দিনের আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন মহড়াও উদ্বোধন করবেন তিনি। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আয়োজিত এ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতসহ ৩০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

সেখান থেকে বেলা ২টার দিকে শেখ হাসিনা যাবেন আওয়ামী লীগের জনসভায়।

শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এই এগিয়ে যাওয়া বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের পছন্দ নয়। তাই তারা দেশের এগিয়ে যাওয়া এবং উন্নয়নের গতি ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

‘তারা আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অরাজগতা সৃষ্টি করে দেশের শান্ত পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল করে লুটপাট, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস করে হাওয়া ভবনের মতো আরেকটি ভবন সৃষ্টি করা। পাকিস্তানি ভাবধারায় অনুন্নত ও অস্থিতিশীল বাংলাদেশে রূপান্তর করা।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। তাই সবস্তরের মানুষ এ সমাবেশে আসবে। সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি।’

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের
সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকায় ৭২টি প্রকল্পের অন্যতম এ রেললাইন

সফরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী দাবি

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সরকার প্রধানের কাছে কক্সবাজারে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মেডিক্যাল কলেজকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত, কক্সবাজার সদরের সঙ্গে মহেশখালীর সংযোগ সেতু এবং বাঁকখালী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া-মগনামা ফেরি সার্ভিস চালু, পর্যটন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চার লেনে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারি করা এবং উচ্ছেদ করা ঝিনুক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবে ক্ষমতাসীন দল।

শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, নাগরিকদের দাবিও তুলে ধরতে হবে জানিয়ে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের মূখপাত্র এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নির্মাণ বন্ধ, পর্যটন ও পরিবেশবান্ধব শহর রক্ষা বাঁধ, বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করা ও সৈকত দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারসহ আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র করতে বিশেষ নীতির ঘোষণাসহ প্রধানমন্ত্রীর মুখে সুস্পষ্ট বক্তব্য আশা করছি।’

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের

কী বলছে প্রশাসন

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কক্সবাজারকে একটি উন্নত ও পরিপূর্ণ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর রয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া আরও ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, ‘এ নগরীকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে গণপূর্ত বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে তিনটির কাজ শেষ হওয়ায় উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে। আমরা প্রকল্প তিনটির কাজ সুন্দর ও সফলভাবে শেষ করেছি।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘১৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্পের মধ্যে ১০টি শেষ হয়েছে। যার সুফলও পাচ্ছে স্থানীয়রা।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফীন বলেন, ‘৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লিংক রোড-লাবনী মোড়, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ সড়ক এবং রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের সম্মেলনে উৎসাহ নেই নেতাকর্মীর
সম্মেলন: টেন্ডারবাজমুক্ত কমিটি চায় আ.লীগের তৃণমূল
আ.লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষ, গুলি: আহত ১৫
রংপুর জেলা আ.লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি একাংশের
আ.লীগের সম্মেলন: রাসেল, আজমত ও বুদ্দিন আলোচনায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Anticipatory bail for 150 BNP activists

বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মীর আগাম জামিন

বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মীর আগাম জামিন
‘১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হচ্ছে। যার মধ্যে নাশকতা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরকের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করি। আদালত ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছে।’

নাশকতার অভিযোগে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলায় করা ৫ মামলায় বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মী হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।

সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন তাদেরকে জামিন দেয়।

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে জামিনপ্রাপ্তাদের বিচারিক আদালতের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, আব্দুল জব্বার ভূইয়া ও মাহবুবুর রহমান খান।

মাহবুবুর রহমান জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হচ্ছে। যার মধ্যে নাশকতা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরকের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করি। আদালত ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছে।’

জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে-ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার আনোয়ার পারভেজ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এইচ মামুন ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজলসহ চার জেলার প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতির কাছে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের নালিশ
১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: ফখরুল
সড়কে সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছে না বিএনপি
রিজভীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
সোহরাওয়ার্দীর বিকল্প পূর্বাচল: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League Conference Avoid all the roads

ছাত্রলীগের সম্মেলন: এড়িয়ে চলবেন যেসব সড়ক

ছাত্রলীগের সম্মেলন: এড়িয়ে চলবেন যেসব সড়ক ছাত্রলীগের সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হবে। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা রাজধানীতে সমবেত হতে শুরু করেছেন।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় প্রচুর জনসমাগম হবে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সম্মেলন ঘিরে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে রাজধানীর কাঁটাবন ক্রসিং, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাবি মেডিক্যাল সেন্টার, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ঢাবি ভাস্কর্য ক্রসিং, উপাচার্য ভবন ক্রসিং এলাকায় সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক ডাইভারশন চলবে।

এ ক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকা দিয়ে চলাচলে নগরবাসীকে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

এদিকে সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। আগে থেকে প্রস্তুত করা আছে মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে প্রায় পাঁচ বছর পর। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মে মাসে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয় জুলাইয়ে। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী।

পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান দুজন। তাদের স্থলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে ‘ভারমুক্ত’ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীদের অবরোধ প্রত্যাহার
জয়কে আটকে কমিটি দাবি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন মুছে দিল হল কর্তৃপক্ষ
ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After Rizvi Ishrak was also ordered to be arrested

রিজভীর পর ইশরাককেও গ্রেপ্তারের নির্দেশ

রিজভীর পর ইশরাককেও গ্রেপ্তারের নির্দেশ রুহুল কবির রিজভী (বাঁয়ে) ও ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
গত ৬ এপ্রিল সকালে মতিঝিল এলাকায় লিফলেট বিতরণের সময় শাপলা চত্বরের পাশ থেকে ইশরাককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেলে তাকে আদালতে নিলে জামিন আবেদন নাকচ হয়। তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। ছয় দিন পর ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত বিএনপি নেতাকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পান।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পর এবার দলটির আলোচিত নেতা ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে জারি হলো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। দুই বছর আগে নাশকতার এক মামলায় হাজিরা না দেয়ায় এই পরোয়ানা জারি হয়েছে।

রিজভীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এক দশক আগে। সেটিতেও তিনি জামিনে ছিলেন এবং আদালতে হাজিরা না দেয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে হাজিরার কথা থাকলেও যাননি ইশরাকসহ ১৩ জন। তারা সময়ের আবেদন করলেও না গ্রহণ করেননি বিচারক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচন বানচাল করার জন্য আসামিরা একত্র হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত পাশে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পুড়িয়ে মারার উদ্দেশে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

এ ঘটনায় পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ভুইয়া ইশরাকসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

গত ৬ এপ্রিল সকালে মতিঝিল এলাকায় লিফলেট বিতরণের সময় শাপলা চত্বরের পাশ থেকে ইশরাককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেলে তাকে আদালতে নিলে জামিন আবেদন নাকচ হয়। তাকে পাঠানো হয় কারাগারে।

ছয় দিন পর ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত বিএনপি নেতাকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পান।

ইশরাককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ আসার দিনই জানাজানি হয় রিজভীকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানার বিষয়টি, যদিও তার বিরুদ্ধে পরোয়ানাটি জারি হয় ১ ডিসেম্বর।

২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজকে আসামি করে মামলা করা হয়।

১ ডিসেম্বর মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ ছিল। সেদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজন হাজিরা দেন। কিন্তু রিজভীসহ তিনজন হাজির হননি। এরপর বিচারক তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আরও পড়ুন:
হঠাৎ অসুস্থ ইশরাক
ইশরাকদের বরিশাল যাত্রা ঠেকাতে ফেরি বন্ধ
ইশরাকের খালাসের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল
ইশরাকের বাসায় হামলা
বাংলাদেশে থাকতে হলে জিয়াকে মানতে হবে: গয়েশ্বর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The whole world is watching the rally on December 10 Fakhrul

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: ফখরুল

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: ফখরুল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
‘১০ ডিসেম্বরের দিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সমাবেশ সফল করতে হবে। মামলা-হামলা গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন বেগবান করতে হবে।’

১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিএনপি যে সমাবেশ ডেকেছে, তাতে কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেরই চোখ থাকবে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ফিরে পেতে চাইলে যেকোনো মূল্যে এই গণসমাবেশ সফল করতে হবে।

সোমবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী শনিবার বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে বিএনপিপন্থি বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সঙ্গে বসে দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের দিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে। যে কোনো মূল্যে আমাদের সমাবেশ সফল করতে হবে। মামলা-হামলা গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন বেগবান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন শুধু তারেক রহমান বা বিএনপির অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়, আজকে গোটা জাতির জন্য অস্তিত্বের লড়াই।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিপন্ন। আওয়ামী লীগ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।’

ফখরুলের দাবি, ক্ষমতায় এলেই আওয়ামী লীগ লুটপাট করে। তারা ভয় দেখিয়ে শাসন করে। তারা জনগণের সঙ্গে থাকে না বরং প্রতারণা করে। ভুল বুঝিয়ে ভোট নেয়। এখন তাদের আসল চেহারা বের হয়ে গেছে।

সারা দেশে মানুষ জেগে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত ৯টি বিভাগীয় গণসমাবেশে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। নদী সাঁতরে, হেঁটে, সাইকেলে চড়ে, চিড়া-মুড়ি গুড় নিয়ে সমাবেশে অংশ নিয়েছে।

‘দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন। তারা সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। তারা কিছুই চাননি। শুধু মুক্তি চান’- বলেন ফখরুল।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ ঘিরে একটি গোষ্ঠী হামলা-মামলা চালাচ্ছে। ইনশা আল্লাহ আমাদের ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ মহাসমাবেশে রূপ লাভ করবে। ইতোমধ্যে অনেক লোক ঢাকা আসা শুরু করেছে। পল্টন এলাকায় গেলেই দেখা যাবে লোকে লোকারণ্য। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই সরকারের পতন হবে। অতীতেও তা-ই হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, ‘নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না দিলে গোটা ঢাকায় সমাবেশ হবে। তা না সেটা কিন্তু ঠেকানো যাবে না।’

বিএনপিপন্থি চিকিৎসক নেতা ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সেবা দেবেন তারা।

বিএসপিপির আহ্বায়ক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্ব ও সদস্যসচিব কাদের গনি চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী আখতার হোসেন, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, চিকিৎসক মামুন আহমেদ ও সেলিম ভুঁইয়া।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ লুট করে এখন ডিফেন্সিভ পজিশনে: ফখরুল
জনগণের উত্তাল তরঙ্গে আ.লীগ ভেসে যাবে: ফখরুল
ভোট নিয়ে জাপানি দূতের বক্তব্য চরম সত্য কথা: ফখরুল
১০ ডিসেম্বরের উত্তেজনায় ফখরুলের জল
আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে আ.লীগ আগুন সন্ত্রাসের কথা বলছে: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dont be afraid of election duty EC Rasheda Sultana

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ভয় পেলে চলবে না: ইসি রাশেদা

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ভয় পেলে চলবে না: ইসি রাশেদা নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে কমিশনার রাশেদা সুলতানা। ফাইল ছবি
‘আগের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ১২৬ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে নতুন করে ভোটের দায়িত্বে আনার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে ওই উপজেলায় না হলে পাশের উপজেলা থেকে কর্মকর্তা আনতে হবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাহসের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আমি সরকারি কর্মচারী। এটা আমার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। আমাকে ভয় পেলে চলবে না। ভয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে।’

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমার মেসেজ একটাই। আপনারা সাহস নিয়ে কাজ করেন। ভয় পাওয়ার তো কারণ দেখি না৷ ভয় পাবেন কেন?’

এর আগে ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের পাঁচ উপ-পরিদর্শকসহ ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে ১২৬ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন।

১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে চরম অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ভোট শেষের দেড় ঘণ্টা আগে তা বন্ধ ঘোষণা করে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন।

সে ক্ষেত্রে নতুন করে যারা এই ভোটের দায়িত্ব নেবেন তাদের ভয়ের ঊর্ধ্বে থাকার পরামর্শ দেন কমিশনার রাশেদা সুলতানা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার নির্বাচন খুব দ্রুতই হবে। এ সপ্তাহের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা হবে। ১৫ জানুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে।’

‘আগের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ১২৬ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে ভোটে দায়িত্ব দেয়ার প্রশ্নই আসে না। যারা দোষী হয়েছে তাদের আনার আর সুযোগ নেই। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগে আইনে যা বলা আছে, সে অনুযায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ হবে। এক্ষেত্রে ওই উপজেলায় না হলে পাশের উপজেলা থেকে কর্মকর্তা আনতে হবে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা কে হবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিশন বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আর রিটার্নিংয়ের দায়িত্ব দেয়ার মতো আমাদের বহু কর্মকর্তা আছেন।’

গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ভোট হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার পরে যে কয়টা ভোট করেছি, কোথাও কোনো ঝামেলা হয়নি। আশা করি এবারও হবে না। একটা ভালো নির্বাচন করতে পারব৷’

গাইবান্ধা-৫ আসনের ১৪৫ ভোটকেন্দ্রেই ভোট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে নতুন প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷ আইনে সেভাবে বলা আছে।’

গাইবান্ধার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে কোনো আলোচনার দরকার নেই বলে মনে করেন এই কমিশনার। বলেন, ‘যথারীতি সিসি ক্যামেরা থাকবে, আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করব। আমাদের অধীন যত নির্বাচন হবে, সেখানে ভোটাররা আসবেন, সুষ্ঠুভাবে ইচ্ছামতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এটাই আমাদের চাওয়া।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আরপিও বিধান সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এই কমিশনার বলেন, ‘যাচাই-বাছাই চলছে। খুব দ্রুত অগ্রগতি জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পাসে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি
গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন: ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ইসির
গাইবান্ধা ‍উপনির্বাচনের প্রতিবেদন: হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না সিইসি
গাইবান্ধা ভোটে অনিয়ম: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আগামী সপ্তাহে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Barisal Bhola speedboat closed on Mayors orders

ব‌রিশাল-ভোলা স্পিডবোট বন্ধ ‘মেয়রের নির্দেশে’

ব‌রিশাল-ভোলা স্পিডবোট বন্ধ ‘মেয়রের নির্দেশে’
স্পিডবোট মালিকরা আরও জানান, সোমবার রাতেই ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস স্পিডবোট চালুর কথা বলার জন্য মা‌লিকদের নিয়ে মেয়রের বাড়িতে যান। তবে তাতে কোনো সুরাহা হয়‌নি। পরদিন শেখর দাসকে দলীয় পদ থেকে সাম‌য়িক অব্যাহ‌তি দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ।

ব‌রিশাল ভোলা নৌপথে এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ হয়ে আছে স্পিডবোট চলাচল। জরুরি কাজে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান ক্ষুব্ধ এই রুটের যাত্রীরা। স্থানীয় লোকজন ও স্পিডবোট মালিকরা জানিয়েছেন, ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ স্পিডবোট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোলার ভেদু‌রিয়া ঘাটের যাত্রী ফাহাদ হোসেন বলেন, ‘পি‌রোজপুর যেতে হবে খুব জরুরি কাজে। এত‌দিন ধ‌রে স্পিডবোট বন্ধ তা জানতাম না। এখন কয়েক ঘণ্টা লঞ্চ জা‌র্নি ক‌রে যেতে হ‌বে ব‌রিশাল, তারপর পি‌রোজপুর।’

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে ডাক্তার দেখাতে স্বামীকে নিয়ে ঘাটে এসেছেন সু‌মিত্রা রানী।

তিনি বলেন, ‘স্বামী‌ হঠাৎ অসুস্থ হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে বু‌কে ব‌্যথা নি‌য়ে। দ্রুত শের-ই-বাংলায় নি‌তে ব‌লে‌ছে ভোলা হাসপাতাল থে‌কে। ঘা‌টে এসে দেখি সরাস‌রি না‌কি স্পিডবোট যা‌বে না। এই স্পিডবোট লাহারহাট যা‌বে, সেখান থে‌কে মে‌ডিক‌্যা‌লে। এত ভোগা‌ন্তি কেন পোহা‌ব আমরা‌।’

ব‌রিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার ফজলু রহমান জানান, ব্যবসার কাজে প্রায়ই ভোলা যাওয়ার প্রয়োজন হয় তার। সময় কম লাগে বলে স্পিডবোটই ব্যবহার করেন তিনি।

ফজুল বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন ব‌্যবসার কাজে ভোলা যেতে হয়। এখন এক সপ্তাহ ধ‌রে স্পিডবোট বন্ধ। গত বুধবার এসে‌ছিলাম, আজ (সোমবার) আবারও আসলাম। আজকেও বন্ধ। মেয়রের প্রতি আহ্বান থাকবে, জনগণের ভোগা‌ন্তি কমাতে না পারলে ভোগা‌ন্তি না বাড়ানোই ভা‌লো।

‘কিছু ভা‌লো করতে পারলে করুন, না হ‌লে কোনো কিছু কইরেন না। আপনার কাছ থে‌কে আমরা কিছু আশা ক‌রি না।’

কী কারণে এই রুটে স্পিডবোট ঘোষণা ছাড়া এতদিন ধরে বন্ধ, তা জানতে স্পিডবোট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে নিউজবাংলা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, স্পিডবোট ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখানকার লাইনম‌্যান তারেক শাহের সঙ্গে ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বন্দ্ব ছি‌ল। ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাসের বেশ নিয়ন্ত্রণ ছি‌ল ঘাটে।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্বের পর সি‌টি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহর নির্দেশে শিল্প ও বা‌ণিজ‌্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল গত সোমবার ঘাটে এসে স্পিডবোট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন, তি‌নি না বলা পর্যন্ত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখ‌তে ব‌লেন।

ব‌রিশাল-ভোলা স্পিডবোট বন্ধ ‘মেয়রের নির্দেশে’

স্পিডবোট মালিকরা আরও জানান, সোমবার রাতেই ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস স্পিডবোট চালুর কথা বলার জন‌্য মা‌লিকদের নিয়ে মেয়রের বাড়িতে যান। তবে তাতে কোনো সুরাহা হয়‌নি। পরদিন শেখর দাসকে দলীয় পদ থেকে সাম‌য়িক অব‌্যা‌হ‌তি দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ।

স্পিডবোট মালিকরা এসব জানালেও মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসব তথ্য নাকচ করেছেন।

তিনি জানান, সব স্পিডবোট ভোলায় আটকে আছে। ব‌রিশালে এলেই চ‌লবে। কেন আটকে আছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

ঘাট এলাকার স্থানীয় শাহ আলম ফ‌কির বলেন, ‘স্পিডবোট ঘাটে ভালো টাকা ইনকাম আছে। যে কারণে এই ঘাট নিয়ন্ত্রণে নিতে সবার মাথাব‌্যথা। আর এই নিয়ন্ত্রণ নিয়েই যত দ্বন্দ্ব। এবার এর নিয়ন্ত্রণ নি‌তে চাইছেন মেয়র মহোদয়। তি‌নি য‌দি নিয়ন্ত্রণে নিতে না চাইতেন, তাহলে তো ঘাট বন্ধ করাতেন না লোক পা‌ঠিয়ে। ঘাট বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে ভোগা‌ন্তিতে রাখার কোনো মানে হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাসকে কল করা হলে তিনি কোনো মন্তব‌্য করতে রাজি হননি। ব‌রিশাল স্পিডবো‌ট ঘাটের লাইনম‌্যান তারেক শাহ্ও কিছু বলতে রা‌জি হননি।

আর একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি মহানগর আওয়ামী লী‌গের শিল্প ও বা‌ণিজ‌্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল‌ এবং সি‌টি মেয়র সা‌দিক আব্দুল্লাহকে।

ব‌রিশাল-ভোলা রুটে ২০০টি স্পিডবোট চলাচল করে। প্রতি‌দিন কয়েক হাজার যাত্রী স্পিডবোটে যাতায়াত করেন। চলাচল বন্ধের নির্দেশনার পর ঘাট থেকেও বে‌শির ভাগ স্পিডবোট স‌রিয়ে অন‌্যত্র রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পদ্মায় লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিসের কী হবে
নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে সক্রিয় সরকার, দাবি প্রতিমন্ত্রীর
বন্দরে ডুবে গেল ইয়ট, পরিবেশদূষণের শঙ্কা
পদ্মায় স্পিডবোটডুবি, সবাই উদ্ধার
স্পিডবোটডুবি: মিলল নিখোঁজ সৈকতের মরদেহ

মন্তব্য

p
উপরে