× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
We are committed to bilateral relations Ambassador of Nepal
hear-news
player
google_news print-icon

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: নেপালের রাষ্ট্রদূত

দ্বিপাক্ষিক-সম্পর্ক-নিয়ে-আমরা-প্রতিশ্রুতিবদ্ধ-নেপালের-রাষ্ট্রদূত-
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। ছবি: নিউজবাংলা
নেপালের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পর্যটনসহ নানা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-নেপালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশ পারস্পারিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেমি পর্বতারোহীদের আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশ-নেপাল সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

নেপালের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পর্যটনসহ নানা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-নেপালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশ পারস্পারিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেমি পর্বতারোহীদের আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের সম্পর্কে পরিণত হয়েছে৷ পর্যটকরা হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিচরণ করছেন। তাদের নানা পদক্ষেপে দুই দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি আদান প্রদান ঘটছে। আমরা এই সহযোগিতাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

নেপালের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় নেপালের পর্বতে আরোহনকারী বাংলাদেশিরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিনিধিত্ব করেছে। হিমালয়ের দুর্গম পাদদেশে বসবাসকারী জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তাদের সংস্কৃতিকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ডোলমা খাং বিজয় তার অন্যতম নিদর্শন। এ অভিযানে অংশ নেয়া বাংলাদেশী ও নেপালি পর্বতারোহীদের আমি অভিন্দন জানাই।’

বাংলাদেশ-নেপাল কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে হিমালয়ের ডোলমা খাং পর্বতশিখর বিজয় উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-নেপাল কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ডোলমা খাং অভিযান সফল হওয়ার অভিনন্দন জানাচ্ছি, এসব অভিযান মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করে। বাংলাদেশের পুর্নজাগরণের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নিতে হবে। সর্ববয়সী লোকজনকে এসকল উদ্দীপনা দানকারী অভিযানে উৎসাহিত করতে হবে।’

ডোলমা খাং হিমালয় পর্বতমালার অন্যতম শীর্ষ শৃঙ্গ, এর উচ্চতা ২১ হাজার ৪৪৩ ফুট। গত ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ ও নেপালের আট পর্বত আরোহী ডোলমা খাং অভিযানে নামেন। তবে বিরূপ আবহাওয়ার জন্য ১৬ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এরপর দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় ২ নভেম্বর নেপালের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দুই দেশের আট পর্বতারোহী ডোলমা খাং শীর্ষে আরোহন করেন।

আরও পড়ুন:
হেঁটে বাংলাদেশ ভ্রমণে নেপালি যুবক
নেপালে বন্যা ভূমিধসে ৩৩ প্রাণহানি
বিমানবন্দর থেকে আটক করা হলো লামিছানেকে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
21 injured including gunshots in Nayapaltan clash

ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন সংঘর্ষে আহত ২১ জন

ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন সংঘর্ষে আহত ২১ জন বুধবার নয়াপল্টনে সংঘর্ষে পুলিশসহ বিএনপির বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হন। ছবি: নিউজবাংলা
পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, পল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২১ জন ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে পুলিশসহ তিন জন ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অন্তত ২১ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারের ভয়ে তাদের অধিকাংশই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া বুধবার রাতে এসব তথ্য জানান।

ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদেরকে ভর্তি করে নিয়েছেন তাদের একজন শামীম আহমেদ। তার বাম পা, পিঠ এবং মুখমণ্ডলে শটগানের অসংখ্য গুলির আঘাত রয়েছে। তিনি রূপনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব।

চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ মনির হোসেন রূপনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী। তার হাত, বাম পা ও পিঠে অসংখ্য গুলির চিহ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ সদস্য কনস্টেবল মাহফুজ ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপি কর্মীদের ছোড়া ইটে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘পল্টনে বিএনপি কর্মীদের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা ২১ জনের মধ্যে পুলিশসহ তিন জন ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।’

এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষের পর ঢাকা মেডিক্যালে ১৮ জনের মতো আহত ব্যক্তি আসেন; যাদের প্রায় সবাই গুলিবিদ্ধ।

বুধবার বিকেলের দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে নিহত হন মকবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

নিহত মকবুল হোসেনের বড় ভাই আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তার ভাই বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে মকবুল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন তার স্ত্রী হালিমা বেগম।

এদিকে সংঘর্ষের পর দলীয় কার্যালয় থেকে পরোয়ানা থাকায় বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ১০ ডিসেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ জানান, বিএনপি কার্যালয় থেকে ৩০০ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১৫টি ককটেল উদ্ধারের দাবি করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পাশের রাস্তা ধরে পুলিশ হঠাৎ বাঁশি বাজিয়ে টিয়ার শেল ছুড়ে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করা নেতা-কর্মীদের দিকে এগিয়ে আসে। এ পর্যায়ে দলটির নেতা-কর্মীরা পিছু হটেন। মূল সড়কের পাশের অলি-গলিতেও লাঠিপেটা করে পুলিশ।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টন এলাকায় একাধিক সাঁজোয়া যান, প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০ তারিখের সমাবেশের এখনও চার-পাঁচ দিন বাকি আছে। কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা আজকে নয়াপল্টনে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-মিটিং শুরু করেছিল।

‘আমরা তাদের এসব বন্ধ করতে বলায় তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এরপর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিএনপি কর্মীদের চারপাশ থেকে হামলার কারণে বাড়তি ফোর্স আনাই। বাড়তি সতর্কতার জন্য সোয়াট সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করেন।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির কার্যালয় থেকে খিচুড়ি জব্দ
পল্টনে হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি আইনজীবীদের
সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নয়াপল্টন ছাড়লেন ফখরুল
ভাইয়ের দাবি নিহত মকবুল বিএনপি সমর্থক, স্ত্রীর ‘না’
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fakhrul left Nayapaltan after 3 and a half hours

সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নয়াপল্টন ছাড়লেন ফখরুল

সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নয়াপল্টন ছাড়লেন ফখরুল রাত ৮টার পর দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ফিরে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার ডিএমপি কমিশনারকে কথা দিয়েছি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। আশা করেছিলাম, আজকে আমরা ডিএমপির কাছ থেকে সমাবেশের অনুমতি পাব। সেই আশায় আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলাম।’

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবস্থান করে রাত ৮টার পর নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয় ছেড়ে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নয়াপল্টন ছাড়ার আগে আগামী ১০ ডিসেম্বর কোথায় সমবেশ হবে, সে বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘ব্যাগে করে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি পুলিশ (বিএনপির) কার্যালয়ের ভিতরে নিয়ে গেছে।’

বুধবার বিকেলে পল্টনে পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের খবর শুনে কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি কার্যালয়ের ভেতর প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন; কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি। এরপরই তিনি কার্যালয়ের গেটের বাইরে ফুটপাতে বসে পড়েন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আজ আমি যাব না, এখানেই থাকব। হোম মিনিস্টার আমাকে এখানে আসতে বলেছেন। তারপর আসার পরও আমাকে ঢুকতে (দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে) দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এটা জঘন্য অন্যায়। জনগণের ওপর নির্যাতন।’

সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে অবস্থানের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

এ সময় ফখরুল দাবি করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার ডিএমপি কমিশনারকে কথা দিয়েছি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। আশা করেছিলাম, আজকে আমরা ডিএমপির কাছ থেকে সমাবেশের অনুমতি পাব। সেই আশায় আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলাম।

‘কিন্তু সরকার আমাদের সঙ্গে বিট্রে করেছে। তারা সশস্ত্রভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি দলের কার্যালয়ে প্রবেশ করার জন্য সবার সঙ্গে কথা বলেছি। কমিশনার, হোম মিনিস্টার.. কিন্তু কথা বলে লাভ নেই। ইনফ্যাক্ট এখানে কোনো সরকারই নেই।’

আরও পড়ুন:
দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু
রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP office as it is now after the police raid

পুলিশি অভিযানের পর বিএনপি কার্যালয় এখন যেমন

পুলিশি অভিযানের পর বিএনপি কার্যালয় এখন যেমন সংঘর্ষ ও অভিযানের পর বুধবার রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছিল লণ্ডভণ্ড অবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার রাত ৯টার দিকে নয়াপল্টন এলাকায় গিয়ে সুনসান নীরবতা দেখা যায়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি যেন পরিণত হয়েছে ভূতের বাড়িতে। কার্যালয়ের ভেতরে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আসবাবপত্র। ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে কিছু কক্ষের দরজা। এছাড়া অসংখ্য পানির বোতল, পেঁয়াজ, রসুনও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রাজধানীর নয়াপল্টন বুধবার দুপুরের পর থেকে যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চলা সংঘর্ষ ও পুলিশের অভিযানে একজন নিহত ও অন্তত ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ ডিসেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। দিন শেষে পুলিশ জানায়, অন্তত ৩০০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে রাত ৯টার দিকে কার্যালয় এলাকায় গিয়ে সুনসান নীরবতা দেখা যায়। কার্যালয়টি যেন পরিণত হয়েছে ভূতের বাড়িতে। কার্যালয়ের ভেতরে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আসবাবপত্র। ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে কিছু কক্ষের দরজা। এছাড়া অসংখ্য পানির বোতল, পেঁয়াজ, রসুনও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করার সুযোগ পান গণমাধ্যমকর্মীরা। কলাপসেবল গেট পেরিয়ে ভেতরে যেতে মোবাইলের আলো ব্যবহার করতে হয়েছে।

নিচতলায় প্রবেশমুখেই জিয়াউর রহমানের একটি ভাস্কর্য রয়েছে, যেটি কাঁচ দিয়ে ঘেরা ছিল। তবে তা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিচতলা থেকে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতে চোখে-নাকে অনুভূত হয় টিয়ারশেলের ঝাঁজ। ছয়তলা ভবনটি ছিল জনমানবশূন্য।

পুলিশি অভিযানের পর বিএনপি কার্যালয় এখন যেমন

দ্বিতীয় তলায় আছে মহিলা দলের কার্যালয়। সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। একটি কক্ষে স্তূপ করে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় অসংখ্য পানির বোতল।

তৃতীয় তলায় জেনারেল সেক্রেটারির কক্ষ। সেটির দরজাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশি অভিযানের পর বিএনপি কার্যালয় এখন যেমন
বুধবার রাত ৯টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কের চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

চতুর্থ তলার ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষকদলের কার্যালয়ে আসবাবপত্র এলোমেলা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মেঝেতে কিছু কাপড়ের পোড়া অংশ পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হয়, টিয়ার শেলের ঝাঁজ থেকে মুক্তি পেতে কাপড় পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কক্ষের টেবিলে ছড়িয়ে ছিল কাগজপত্র।

পঞ্চম তলায় জাসাসের কার্যালয় এবং ষষ্ঠ তলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগার। অন্যান্য তলার মতো এই দুই তলাতেও আসববাবপত্র ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

কার্যালয় বা সড়কে বিএনপির কাউকে দেখা না গেলেও নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রয়েছে রায়ট কার ও ব্যারিকেড। থমথমে পরিস্থিতি রিরাজ করছে পুরো নয়াপল্টন এলাকায়।

পুলিশি অভিযানের পর বিএনপি কার্যালয় এখন যেমন

বুধবার বিকেলের দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে নিহত হন মকবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

নিহত মকবুল হোসেনের বড় ভাই আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তার ভাই বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে মকবুল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন তার স্ত্রী হালিমা বেগম। সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর দলীয় কার্যালয় থেকে পরোয়ানা থাকায় বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ১০ ডিসেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ জানান, বিএনপি কার্যালয় থেকে ৩০০ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১৫টি ককটেল উদ্ধারের দাবি করেন তিনি।

বুধবার বিকেলে এ সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় তৈরি হয় থমথমে পরিবেশ।

পুলিশি অভিযানের পর বিএনপি কার্যালয় এখন যেমন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পাশের রাস্তা ধরে পুলিশ হঠাৎ বাঁশি বাজিয়ে টিয়ার শেল ছুড়ে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করা নেতা-কর্মীদের দিকে এগিয়ে আসে। এ পর্যায়ে দলটির নেতা-কর্মীরা পিছু হটেন। মূল সড়কের পাশের অলি-গলিতেও লাঠিপেটা করে পুলিশ।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টন এলাকায় একাধিক সাঁজোয়া যান, প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০ তারিখের সমাবেশের এখনও চার-পাঁচ দিন বাকি আছে। কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা আজকে নয়াপল্টনে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-মিটিং শুরু করেছিল।

‘আমরা তাদের এসব বন্ধ করতে বলায় তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এরপর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিএনপি কর্মীদের চারপাশ থেকে হামলার কারণে বাড়তি ফোর্স আনাই। বাড়তি সতর্কতার জন্য সোয়াট সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করেন।’

আরও পড়ুন:
ভাইয়ের দাবি নিহত মকবুল বিএনপি সমর্থক, স্ত্রীর ‘না’
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই: ফখরুল
নয়াপল্টনে পুলিশি হামলার নিন্দা বাম জোটের
১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Want to hold a peaceful rally Fakhrul

শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই: ফখরুল

শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই: ফখরুল বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
‘আগামী ১০ তারিখে আমাদের যে কর্মসূচি রয়েছে তা যেন শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারি, এজন্য সরকারকে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই যে গ্রেপ্তার নির্যাতন, এর তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।‘

রাজধানীতে বিএনপির ঘোষিত সমাবেশের তিন দিন আগে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ করতে সরকারের সহযেগিতা চেয়েছেন। বলেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

আগামী শনিবার রাজধানীতে সমাবেশের স্থল নিয়ে বিরোধের মধ্যে বুধবারের সংঘর্ষের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে অবস্থানের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার ডিএমপি কমিশনারকে কথা দিয়েছি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। আশা করেছিলাম, আজকে আমরা ডিএমপির কাছ থাকে সমাবেশের অনুমতি পাব। সেই আশায় আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলাম।

‘কিন্তু সরকার আমাদের সঙ্গে বিট্রে করেছে। তারা সশস্ত্রভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি দলের কার্যালয়ে প্রবেশ করার জন্য সবার সঙ্গে কথা বলেছি। কমিশনার, হোম মিনিস্টার.. কিন্তু কথা বলে লাভ নেই। ইনফ্যাক্ট এখানে কোনো সরকারই নেই।’

বিএনপি সমাবেশটি করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

সমাবেশস্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকে।

পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, বিএনপির কাজ বিএনপি করবে- দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

বিকেলে মির্জা ফখরুল অবস্থান নেন দলীয় কার্যালয়ের সামনে। তিনি সেখানে অবস্থানের সময়েই দরজা ভেঙে পুলিশ ঢুকে কার্যালয়ে। গ্রেপ্তার করে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে। আটক করা হয় আরও অনেককে।

পুলিশ কর্মকর্তারা ফখরুলকে জায়গা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। তবে তিনি অনড় থাকেন। বলেন, ‘আজ আমি যাব না, এখানেই থাকব। হোম মিনিস্টার আমাকে এখানে আসতে বলেছেন। তারপরও আসার পর আমাকে ঢুকতে (দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে) দেয়া হয়নি।’

পরে অভিযানের নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। দলীয় কার্যালয় থেকে কেন্দ্রের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে ঢুকেছে। এগুলোকে বিস্ফোরক হিসেবে দেখাবে। এসব দেখিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করবে। এর চেয়ে খারাপ কাজ আর কিছু হতে পারে না।’

‘এটা ন্যক্কারজনক হামলা। পুলিশ গেইট বন্ধ করে ভেতরে তল্লাশির নামে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। ভেতরে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার ব্যবস্থা করছে। এটা অসাংবিধানিক’- বলেন বিএনপি নেতা।

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই

এই সংঘর্ষের পর শনিবার বিএনপির সমাবেশ অনিশ্চিত হয়ে গেল কি না, এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ফখরুল সমাবেশটি করতে চান।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ তারিখে আমাদের যে কর্মসূচি রয়েছে তা যেন শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারি, এজন্য সরকারকে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই যে গ্রেপ্তার নির্যাতন এর তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।‘

আরও পড়ুন:
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aman Ani who spread tension on December 10 is in police custody

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
আমান বলেছিলেন, ‘এই বাংলাদেশ আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে চলবে বেগম খালেদা জিয়ার কথায় ও দেশনায়ক তারেক রহমানের কথায়।’ এ্যানি বলেন, ‘খুব শিগগির তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসবেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে।’

১০ ডিসেম্বর থেকে দেশ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে চলবে, এমন ঘোষণা দিয়ে বিএনপির এই বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানো নেতা আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

সমাবেশের তিন দিন আগে বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দলটির দুই নেতাকে নিয়ে যায় পুলিশ।

সংঘর্ষ থামার পর বিকেল সোয়া ৪টা পর দিকে এ্যানি নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চান। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে নিজেদেরে হেফাজতে নেন। বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চলেন।’

তবে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তারা।

একই এলাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর পুলিশ নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানকে। কার্যালয়ের সামনে থেকে ধরার পর তাকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যায় বাহিনীটি। আমানের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানানো হয়নি।

পরে সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিল্পব কুমার সরকার বলেন, ‘সেইফটি এবং সিকিউরিটিকে যারা নষ্ট করতে চায় তাদের কোনোভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশ ছাড় দেবে না। এরই অংশ হিসেবে আমরা যখন দেখলাম জনগণের জানমালের জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যক্রম হচ্ছে নয়াপল্টন এলাকায় এবং পুলিশের ওপর হামলা ও বোমা নিক্ষেপ হয়েছে, তখন আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। পল্টন থেকে অবৈধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছি। অসংখ্য সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করেছি। এ ছাড়া অসংখ্য বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।’

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ

কয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বলা যাবে না। আমরা এখন অ্যাকশনে আছি। তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা অসংখ্য।’

আমান ও এ্যানিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

সমাবেশস্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকে।

পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, বিএনপির কাজ বিএনপি করবে- দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করে। আটক করা হয় আরও কয়েকজনকে।

১০ ডিসেম্বর নিয়ে উত্তেজনা ছড়ান আমান-এ্যানি

যে সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন, সেখানে ছিলেন আমানও, যিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে গত ৮ অক্টোবর বিএনপি চট্টগ্রামে তার প্রথম বিভাগীয় সমাবেশের দিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা ১০ ডিসেম্বর নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সেই আলোচনায় তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ চলবে না, এই বাংলাদেশ চলবে আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে চলবে বেগম খালেদা জিয়ার কথায় ও দেশনায়ক তারেক রহমানের কথায়। এর বাইরে কোনো দেশ চলবে না কারও কথায়।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি আসছে জানিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বানও জানান আমান। বলেন, ‘আপনারা নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে আল্লাহর নামে শহীদ হওয়ার প্রস্ততি নিন, প্রয়োজনে শহীদ হব, এই বাংলাদেশে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভায়েরা প্রস্তুতি নিন, ওই কাঁচপুর ব্রিজ, ওই টঙ্গী ব্রিজ, এই দিকে মাওয়া রোড, ওই দিকে আরিচা রোড, সারা বাংলাদেশ, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া কর্মসূচি আসছে। সারা বাংলাদেশ বন্ধ করে দেব।’

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
নয়াপল্টনে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে

দুই দিন পর লক্ষ্মীপুরে বিএনপির এক সমাবেশে এ্যানি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ১০ তারিখের পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ চলবে। আর কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগির তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসবেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। অনতিবিলম্বে তাদের সব মামলা প্রত্যাহার ও খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।’

বিএনপির এই দুই নেতা এই বক্তব্য রাখার পর আওয়ামী লীগ নেতারা জবাব দিতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন, ১০ ডিসেম্বর কোনো নাশকতা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১০ ডিসেম্বরের উত্তেজনা কমিয়ে গত ১৭ নভেম্বর ঢাকায় এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘এমন কোনো কর্মসূচি আমরা নেব না, যেটা তো জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিপদগ্রস্ত হবে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছি শান্তিপূর্ণভাবে। আর শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাব।’

তবে এই জনসভাটি কোথায় হবে, এই ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত বিরোধটি সংঘাতেই রূপ নিল।

আরও পড়ুন:
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mayor Tapas returned without inaugurating the attempted attack ground

হামলার চেষ্টা, মাঠ উদ্বোধন না করেই ফিরলেন মেয়র তাপস

হামলার চেষ্টা, মাঠ উদ্বোধন না করেই ফিরলেন মেয়র তাপস মেয়র তাপস বুধবার বকশীবাজারে একটি মাঠ উদ্বোধন করতে গেলে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র তাপস স্থানীয় একটি মাঠ উদ্বোধনের জন্য গেলে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সেটি নিজেদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার একপর্যায়ে মাঠ উদ্বোধন না করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন তাপস।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। রাজধানীর বকশীবাজারে বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় একটি মাঠ উদ্বোধনের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন মেয়র তাপস। এ সময় ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ওই মাঠ নিজেদের বলে দাবি করেন। উত্তেজনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মেয়রের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে মাঠ উদ্বোধন না করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন মেয়র।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, মেয়র চলে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা মাঠের ভেতর থেকে চেয়ার ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে মাঠের অপর প্রান্তে গিয়ে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

লালবাগ জোনের ডিসি মো. জাফর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হামলার চেষ্টা চালানো সবাই ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আপাতত এইটুকু পরিচয় জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। হামলাকারীদের পরিচয় বের করা হবে।’

তবে কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে কি না, এমন তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। স্থানীয় থানায় খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে কারাগার ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মধ্যে মাঠ মিয়ে মামলা চলমান। মামলার রায়ের আগে বলা যাবে না যে মাঠটি আমাদের বা তাদের। শিক্ষার্থীদের দাবি হলো মাঠের নাম নিয়ে। আমরা এ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এক ছাত্রকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিজেরাই তাকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিয়ে যায়৷ আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দাবি থাকলেই শিক্ষার্থীরা কারো ওপর হামলা করতে পারে না। আর পুলিশ আটক করবে এটাও কাম্য নয়।’

এর আগে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঠের মূল ফটক অবরোধ করে রাখেন।

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীকে চিনতে রাজধানীতে ‘পাড়া উৎসব’
ভবন নির্মাণে লাগবে সিটি করপোরেশনের অনুমতিও
মাঠ দখলমুক্ত করে ফুটবল খেললেন মেয়র আতিকুল
‘গাড়ির সংখ্যা কম, আমার আর নিয়ন্ত্রণ করা লাগছে না’
ফিরিয়ে দাও খেলার মাঠ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DMP warns BNP about Nayapaltan

বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি

বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে: ডিএমপি কমিশনার।

অনুমতি ছাড়াই নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার পর পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শেষে ঢাকার পুলিশ কমিশনার দলটিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন অমান্য করার চেষ্টা করা হলে তারা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবেন। সেই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে দলটিকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

তিনি এও বলেছেন, জননিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপিকে সামাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না।

আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার বিএনপি ঘোষিত এই সমাবেশের স্থল নিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আসেন ঢাকার পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।’

‘একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে’-বলেন তিনি।

‘আইন অমান্য করলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে’- দলটির প্রতি সতর্কবার্তাও দিয়ে রাখেন রাজধানীর পুলিশ প্রধান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দা সংস্থা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিএনপি ঢাকা শহরে ১০ লাখ লোক জামাতের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কাজেই পার্টি অফিসের সামনে জনদুর্ভোগ করে এবং ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করে তাদেরকে সেখানে অনুমতি দেয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে কোনো খোলা মাঠে যেতে পারেন বা অন্য কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন। অন্য প্রস্তাব হিসেবে তাদেরকে বলা হয় ইজতেমা মাঠ আছে, সেখানে আপনারা ১০ লাখ লোক জমায়াত করতে পারবেন। পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার মাঠ আছে, সেখানে যেতে পারেন।’

ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হয়। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে আগ্রহী না। তারা পল্টন বা তার আশেপাশে কোন রাস্তায় করতে আগ্রহী।

‘এ প্রসঙ্গে আমাদের ডিএমপির সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা এর মতো কোনো খোলা মাঠে সমাবেশ করতে হবে। আমরা জনদুর্ভোগ এবং জননিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
নয়াপল্টনে বিএনপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে পুলিশ

‘সোহরাওয়ার্দী আসুন, নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার

বিএনপি সোহরাওয়ারাদীতে সমাবেশ করলে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসও দেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘উনারা এর আগেও সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করেছেন। উনারা সোহরাওয়ার্দীতে মিটিং করলে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। আমি নিরাপত্তা দেবো। উনাদের নিরাপত্তার সামান্যতম কোনো ঘাটতি হবে না। কোনো প্রকার বাধা দেয়া হবে না।’

বুধবার সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে অফিশিয়াল ডে, তারা নয়াপল্টনে রাস্তা দখল করে সমাবেশ করছে। গাড়ি চলাচলের বিঘ্ন ঘটিয়ে... কোনো সমাবেশ নাই, এটা তো আইনানুগ কাজ উনারা করেন নাই।’

ঢাকার প্রবেশমুখে চৌকি বসিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে মোবাইল ফোনে বিএনপির কোনো ছবি বা নেতাদের নম্বর পেলে তাকে আটক করার বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এসেছে, সেটিরও জবাব দেন ডিএমপি প্রধান।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট চলছে। কারণ হলো, সামনে ১ থেকে ১৫ তারিখ একটা বিশেষ অভিযান ঘোষণা করেছি। এই মাসে ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর আছে, বড় বড় ৫ টা প্রোগ্রাম আছে। কোনো নাশকতা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা ঢাকার অভিমুখে চেকপোস্ট বসিয়েছি। কোনো যাত্রীর ঢাকা আসা আমরা বন্ধ করি নাই।’

অনুমতি ছাড়াই সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
নয়াপল্টনে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়

সমাবেশ স্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। নয়াপল্টনের বিকল্প কোনো প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি গ্রহণযোগ্য পছন্দনীয় জায়গা বের না করে তাহলে পল্টনই আমাদের পছন্দের জায়গা। পল্টনেই হবে সমাবেশ।’

পুলিশ বাধা দিলে কী হবে, জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, আমাদের কাজ আমরা করব।

আব্বাসের ঘোষণার পরপরই সংঘর্ষ

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

নেতা-কর্মীরাও নয়াপল্টন ঘিরে জমায়েত হচ্ছিল আগের রাত থেকেই। সেখানে দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করে সকাল থেকে চলছিল বক্তৃতা। জনসাধারণকে শনিবারের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বানের পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছিল লিফলেট। এক পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের চাপে নয়াপল্টনের সামনের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
Caption

সকাল থেকে কার্যালয় ঘিরে ছিল শ খানেক‍ ‍পুলিশ। জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের চাপে সামনের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে দুপুরের দিকে তারা এসে হস্তক্ষেপ করে। তখন শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছুড়তে থাকে ইটপাটকেল। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়ে দেয় জবাব।

মিনিট দশেক এই সংঘর্ষ চলে। বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের শ দুয়ের রিজার্ভ ফোর্স। আসে দুটি সাঁজোয়া গাড়িও। কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি ভ্যানও আসে সেখানে।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করতে থাকলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শুরু হয় সংঘর্ষ।

বাড়তি পুলিশ আসার পর বাহিনীটির সদস্যরা ব্যাপক আকারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।

সেখানে আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে যেতে চান। পুলিশই তাকে সঙ্গে নিয়ে যায় সেখান থেকে।

বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ

বেলা ৩টার দিকে আসেন সোয়াট সদস্যরা। এরপর শুরু হয় তাদের টহল। ততক্ষণে নেতা-কর্মীরা আর সড়কে ছিলেন না।

বিকেল চারটার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যান নয়াপল্টনে। তিনি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে বসে যান। সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ইউনুস।

বেলা পাঁচটার দিকে পুলিশ সদস্যরা বিএনপি কার্যালয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানকারী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল গ্রেপ্তার পরোয়ানা।

রিজভী ছাড়াও আরও কয়েকজন নেতাকে আটকের কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি

মন্তব্য

p
উপরে