× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The main goal was to remove the militant Arafat
hear-news
player
google_news print-icon
ব্রিফিংয়ে সিটিটিসি

জঙ্গি আরাফাতকে ছিনিয়ে নেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য

জঙ্গি-আরাফাতকে-ছিনিয়ে-নেয়াই-ছিল-মূল-লক্ষ্য
আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘প্রথম দফায় আদালত থেকে বেরিয়ে আসা চার জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিতে চাইলেও দুই জঙ্গি আরাফাত রহমান ও আবদুস সবুর ওরফে রাজু ওরফে সাদ ওরফে সুজনকে ছিনিয়ে নিতে পারেনি জঙ্গিরা।’

কারাগার থেকে ঢাকার বিচারিক আদালতে হাজিরা দিতে আসা ১২ জঙ্গির মধ্যে আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামসকে ছিনিয়ে নেয়াই অপারেশন দলের মূল লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির ভাষ্য, ছিনতাই পরিকল্পনা সমন্বয় করেছেন ২০১৭ সাল থেকে জামিনে থাকা জঙ্গি মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে বুধবার অমিকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, আদালতে হাজিরা দিতে আসা জঙ্গিদের হাতে কিছু টাকাও তুলে দিয়েছিলেন অমি।

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফীন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব গত ২০ নভেম্বর দুপুরে পুলিশের চোখ-মুখে গ্যাস স্প্রে করে পালিয়ে যান।

আদালত এলাকা থেকে আনসার আল ইসলামের এ দুই সদস্যকে ছিনতাইয়ের মামলাটি তদন্ত করছে সিটিটিসি।

জঙ্গি ছিনতাই নিয়ে সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘প্রথম দফায় আদালত থেকে বেরিয়ে আসা চার জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিতে চাইলেও দুই জঙ্গি আরাফাত রহমান ও আবদুস সবুর ওরফে রাজু ওরফে সাদ ওরফে সুজনকে ছিনিয়ে নিতে পারেনি জঙ্গিরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘অমিকে গ্রেপ্তারের পর আজ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।’

পুলিশ জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার হন আরাফাত। তিনি আনসার আল ইসলামের অপারেশন শাখার সদস্য।

বাহিনীর ভাষ্য, আরাফাত পলাতক জঙ্গি নেতা মেজর জিয়ার বিশ্বস্ত। এ কারণে তাকে ছিনিয়ে নেয়াই মূল লক্ষ্য ছিল।

আরও পড়ুন:
ছিনিয়ে নেয়া দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে র‌্যাব
দুই জঙ্গি যেকোনো সময় গ্রেপ্তার: ডিবিপ্রধান
জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ পুলিশ বরখাস্ত
জঙ্গি ছিনতাই: মামলার তদন্তভার সিটিটিসিতে
জঙ্গি ছিনতাই: পরিকল্পনায় মেজর জিয়া

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
After Rizvi Ishraq the arrest warrant for Sohail

রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, ইশরাক হোসেন ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
আগের দিন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে এবং ১ ডিসেম্বর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারে আলাদা আদেশ জারি হয়।

প্রায় সাড়ে নয় বছর আগে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের অবস্থানের দিন নাশকতার এক মামলায় এবার বিএনপি নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগে দলটির পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগের মধ্যে এক সপ্তাহে তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তারের এই নির্দেশ এলো।

বুধবার বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী সোহেলসহ ১৩ নেতার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেন।

আগের দিন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে এবং ১ ডিসেম্বর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারে আলাদা আদেশ জারি হয়।

রিজভীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ২০১২ সালে বিএনপির কর্মসূচির দিন সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায়। এই মামলার আসামি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। ১ ডিসেম্বর ফখরুল হাজিরা দিলেও আদালতে যাননি রিজভী। সেদিনই জারি হয় পরোয়ানা।

অন্যদিকে ইশরাকের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মীদের গাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগে হয় মামলা। সোমবার এই মামলায় তার আদালতে হাজিরার কথা ছিল কিন্তু তিনি যাননি।

সোহেলের বিরুদ্ধে মামলাটিও প্রায় ১০ বছর আগের। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের অবস্থানের দিন সহিংসতার ঘটনায় পল্টন থানায় অভিযোগটি করা হয়।

বুধবার এই মামলায় সোহেল ও আরও ১২ জন হাজির না হয়ে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে করেন সময় আবেদন। তবে সে আবেদন নাকচ করেন বিচারক।

মামলায় বলা হয়, সে হেফাজত ইসলাম, জামায়াত-শিবির ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ নেতা-কর্মী বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। বেআইনি অস্ত্রশস্ত্রে, ইটপাটকেল, বাঁশের লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক নিয়ে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা হত্যার উদ্দেশে ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে অনেক পুলিশ সদস্যসহ অনেকে আহত হয়।

পল্টন মডেল থানার এসআই সঞ্চয় কুমার দাসের করা মামলায় বিএনপি নেতা সোহেলসহ আসামি করা হয় ৬৯ জনকে।

আরও পড়ুন:
১৫০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ বিএনপির
রিজভী-ইশরাকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালতের বিষয়: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
High Court reprimands Shyamoli Travels for not paying compensation

ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় শ্যামলী ট্রাভেলসকে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা 

ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় শ্যামলী ট্রাভেলসকে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা  ফাইল ছবি
শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশকে উদ্দেশ্য করে জ্যেষ্ঠ বিচারক কেএম কামরুল কাদের বলেন, ‘মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম লোকটি মারা গেল, পরিবারের বাকি সদস্যরা পঙ্গু হয়েছে। আপনারা একটি বারের জন্য খোঁজ-খবরও নিলেন না। আপনারা মানুষের পর্যায়ে নেই।’

অ্যাম্বুলেন্সে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সবজি বিক্রেতা আয়নালের পরিবারকে দীর্ঘদিন পরও কোনো আর্থিক সহায়তা না করায় শ্যামলী এন আর পরিবহনকে ভর্ৎসনা করেছে হাইকোর্ট।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে জারি করা রুলের শুনানিকালে বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ ভর্ৎসনা করে।

শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশকে উদ্দেশ্য করে জ্যেষ্ঠ বিচারক কেএম কামরুল কাদের বলেন, ‘মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম লোকটি মারা গেল, পরিবারের বাকি সদস্যরা পঙ্গু হয়েছে। আপনারা একটি বারের জন্য খোঁজ-খবরও নিলেন না। আপনারা মানুষের পর্যায়ে নেই।’

বিচারক বলেন, ‘আপনারা আইন বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেন না। সড়কে যা ইচ্ছা তাই করছেন। আর কত? টাকা লুট করছেন। আপনারা কোনো মানুষের পর্যায়ে নেই।’

এ সময় বিচারক রিটকারিদের আইনজীবী শিশির মনিরকে ডেকে বলেন, ‘তারা (বাস কর্তৃপক্ষ) কি কোনো টাকা দিয়েছেন?’

তখন আইনজীবী বলেন, ‘না, মাই লর্ড কোনো টাকা দেয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তিন সন্তান পঙ্গু হয়েছেন।’

তখন বিচারক শ্যামলী এনআরের এমডি রাকেশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার অথচ এখানে আপনার অবহেলা দেখা যায়। আপনারা কি মানুষের পর্যায়ে আছেন। লাশ নিতে গিয়ে মানুষ মারা গেল, আপনারা একজন দেখতেও গেলেন না। আপনাদের কি মানবিকতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘আপানারা চালকদের কোনো শিক্ষা দেন না। আপনাদের চালকেরা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না। কাউকে পরোয়া করে না। যত্রতত্র গাড়ি চালান। এটা ঠিক না। পুলিশও এসব দেখে না। ভাবখানা যেন পুলিশের থেকেও আপনারা পাওয়ারফুল।’

গাড়ি চালকদের পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করে আদালত।

পরে আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে বসে অবিলম্বের টাকা দিতে নির্দেশ দিয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বর বুধবার ফের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়।

আদালতে রিটকারিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির, আর শ্যামলী এনআর ট্রাভেলেসের পক্ষে ছিলেন তাজুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

অ্যাম্বুলেন্সে করে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সবজি বিক্রেতা আয়নালের পরিবারে সদস্য ও আহতদের জন্য ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ৭ আগস্ট রুল জারি করে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন আইনের অধীনে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের ফান্ড গঠনে কি অগ্রগতি হয়েছে তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়।

আদালতের নোটিসে সাড়া না দেয়ায় শ্যামলী এনআর ট্রাভেলেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তলব করে হাইকোর্ট। বুধবার তিনি হাজির হন।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘ঢাকার রূপনগরের সবজি বিক্রেতা আয়নাল হোসেন নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিস দেয়া হয়েছিল। শ্যামলী পরিবহনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।’

চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বেুলেন্সে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ঘোগা সেতুর পাশে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সচটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আয়নাল হোসেনের মৃত্যু হয়। পর অ্যাম্বুলেন্সের চালকেরও মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন আয়নাল হোসেনের তিন ছেলে ফরিদ হোসেন, ফরহাদ হোসেন ও ফিরোজ হোসেন।

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত
ঢাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভে ১১ দফা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Robbery panic in Barisal

বরিশালে ডাকাত আসা নিয়ে মসজিদে মাইকিং, পুলিশ বলছে গুজব

বরিশালে ডাকাত আসা নিয়ে মসজিদে মাইকিং, পুলিশ বলছে গুজব বরিশাল নগরীতে ডাকাত আতঙ্কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বিএমপি ক‌মিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, মধ্যরাতে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তার ভিত্তি নেই। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে একটি চক্র স্রেফ গুজব র‌টিয়েছে। এতে কান দিয়ে নগরবাসী যেন আতঙ্কিত না হয়।

ডাকাত আসার খবর জানিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে, তবে পুলিশ বলছে, ডাকাতির কোনো খবর বাহিনীর কাছে নেই। এ ধরনের গুজব রটানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।

বিভিন্ন এলাকার মসজিদ থেকে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ডাকাত আসার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

নগরীর প‌শ্চিম কাউ‌নিয়া এলাকার বা‌সিন্দা শামসুল আলম জানান, মস‌জিদের মাইক থেকে রাত ২টার দিকে এলাকায় ডাকা‌ত প্রবেশের খবর প্রচার করা হয়। এতে কিছুক্ষণের মধ্যে আতঙ্ক ছ‌ড়িয়ে পড়ে। আশপাশের মস‌জিদের মাইক থেকেও একই ঘোষণা দেয়া হয়।

ওই এলাকার আরেক বা‌সিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সোয়া দুইটা থেকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয় ডাকাত এলাকায় প্রবেশ করেছে; সবাই যেন সতর্ক থাকে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যে এলাকায় হইচই পড়ে যায়। শহরে এমন খবর তো প্রথম শুনলাম।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, নগরীর ভা‌টিখানা, নতুন বাজার, কাউ‌নিয়া, মহাবাজ, কালুশাহ সড়ক, নথুল্লাবাদ, আলেকান্দা, লুৎফর রহমান সড়ক, কা‌শিপুর, বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা, দেহেরগ‌তি, সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর, ষোলনা, লাকু‌টিয়াসহ নগরীর সব এলাকার মস‌জিদ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়, তবে এ ঘোষণা শুরু হয় বাবুগঞ্জের দেহেরগ‌তি থেকে।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ মসজিদের মাইকে ডাকাতের কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাহায্য চাওয়াসহ স্বজন, প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেন।

জানতে চাইলে ব‌রিশা‌ল মহানগরীর কাউ‌নিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান মুকুল জানান, ডাকাতির খবর তাদের কাছে নেই। বিষয়‌টি সম্পূর্ণ গুজব।

কোতোয়ালি মডেল থানার ও‌সি আজিমুল করিম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বরিশাল নগরীতে ডাকাতির বিষয়ে তেমন কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করছেন।

‘আমরা শুনেছি কেউ কেউ মসজিদে মাইকিং করছেন। সর্বত্র পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অ‌তি‌রিক্ত উপক‌মিশনার ফজলুল ক‌রিম বলেন, ‘সম্ভবত গুজব ছড়ানো হয়েছে। প্রতি‌টি এলাকায় টহল দিচ্ছে পু‌লিশ। গুজব থেকে সকলে সতর্ক থাকুন।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহেল মারুফ বলেন, ‘জেলা পু‌লিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছে।

‘মাইকিং সম্পর্কে পুলিশের কাছে পরিষ্কার মেসেজ নেই, তবে মাইকিং হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন। মাইকিংয়ের বিষয়টি পরিকল্পিত হতে পারে।’

বিএমপি ক‌মিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মধ্যরাতে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে একটি চক্র স্রেফ গুজব র‌টিয়েছে। এতে কান দিয়ে নগরবাসী যেন আতঙ্কিত না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যারা এই গুজব ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি নগরীতে রাতে পুলিশ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আদালত চত্বরে হাতকড়া ভেঙে পালাল আসামি
স্বর্ণালংকার নিয়ে পালানোর সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক ডাকাত
দিনে নানা পেশায়, রাতে ডিবির বেশে ডাকাতি
গাজীপুরে ৯ ডাকাত গ্রেপ্তার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
এক্সপ্রেসওয়েতে পিকআপ ভ্যানে ডাকাতি, পুলিশের ধাওয়ায় একজনের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mother arrested for the death of 2 children in a locked room

তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে ২ শিশুর মৃত্যুতে মা গ্রেপ্তার

তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে ২ শিশুর মৃত্যুতে মা গ্রেপ্তার
ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিশুদের বাবা মানিক বৈদ্য ৪ থেকে ৫টি মামলার আসামি। একটি মামলায় তিনি এখন কারাগারে। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কলহ চলছিল স্ত্রী পূর্ণিমার। তিনি অভিমানে ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান।’

মাদারীপুর সদরে তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তানদের হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

গ্রেপ্তার পূর্ণিমা বৈদ্য সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদী এলাকার মানিক বৈদ্যর স্ত্রী। সদর উপজেলার ঝিকরহাটি এলাকার টিনশেড ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ভাড়া থাকতেন।

ওই ঘরে গত সোমবার দুপুরে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশীরা। বাইরে থেকে তালা দেয়া দরজা ভেঙে পানি দিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ততক্ষণে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়ে ভেতরে দুই শিশুকে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পায়। এর মধ্যে দেড় বছরের মানদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আড়াই বছরের রুদ্রকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা ছিলেন শিশুদের মা।

ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিশুদের বাবা মানিক বৈদ্য ৪ থেকে ৫টি মামলার আসামি। একটি মামলায় তিনি এখন কারাগারে। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কলহ চলছিল স্ত্রী পূর্ণিমার। তিনি অভিমানে ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান।

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পূর্ণিমা সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শিশু দুটির চাচি রত্মা রানী থানায় পূর্ণিমার নামে মামলা করেছেন।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা
কিশোরকে হত্যার অভিযোগ প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে
রায়পুরায় কলাবাগানে দুই মরদেহ: একজনের পরিচয় শনাক্ত
ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লেগে কনস্টেবলের মৃত্যু
সগিরা মোর্শেদ হত্যা: সাক্ষ্য গ্রহণ ১২ ডিসেম্বর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ACC is investigating allegations of irregularities in Taksim and WASA

তাকসিমসহ ওয়াসার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক

তাকসিমসহ ওয়াসার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান। ফাইল ছবি
হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক বলেছে, ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে সেসব বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের ব্যাংক হিসাবসহ ওয়াসায় অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক এ তথ্য জানিয়েছে।

দুদক জানায়, ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে তাকসিম এ খানের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এ রিপোর্ট দাখিল করে।

ওয়াসার এমডি নিয়ে আরেকটি কোর্টে রুল বিচারাধীন। এদিকে দুদকও অনুসন্ধান করছে। তাই পৃথক করে রুল জারির প্রয়োজনীয়তা নেই উল্লেখ করে সুমনের রিটটি নিষ্পত্তি করে দেয় হাইকোর্ট।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারি আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন নিজেই। ওয়াসার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম মাসুম। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি।

দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, পদ্মা জশলদিয়া প্রকল্পের প্রায় ১১শ’ কোটি, গন্ধবপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের প্রায় এক হাজার কোটি, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের প্রায় এক হাজার কোটি, গুলশান-বারিধারা লেক দূষণ প্রকল্পের প্রায় ৫০ কোটি, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-২ এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকার দুর্নীতি এবং ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এছাড়া তাকসিম এ খানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও এসব হিসাবের কাগজপত্র সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য নয় এমন লোকদের দিয়ে ২০১১ সালের ৩০ মে কমিটি গঠন করে এই কমিটির মাধ্যমে সমিতির ঠিকাদারি বিলের ৪১ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে।

এছাড়া প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের ৬২ হাজার ৪৮১টি পানির মিটার সমিতির অনুমতি না নিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর ও ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারি চিঠি পাঠিয়ে সমিতির জনতা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার হিসাবের সব লেনদেন স্থগিতের অভিযোগও দুদকের অনুসন্ধানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগ ও পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কর্মকর্তাকে নোটিস পাঠানোর পর জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে তাকসিম এ খানের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে তা অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

নিয়োগ প্রবিধানের শর্ত না মেনে ২০০৯ সালের ১৪ অক্টোবর ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে তাকসিম এ খানের নিয়োগ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। মঙ্গলবা দুদক প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত রিটটি নিষ্পত্তি করে দেয়।

আরও পড়ুন:
ওয়াসায় তাকসিমের নিয়োগ বৈধ কি না, আদেশ মঙ্গলবার
ওয়াসার এমডি পদে তাকসিমের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে রিট
ওয়াসার তাকসিমের ১৩ বছরে বেতন ভাতা ৫ কোটি ৮০ লাখ
বিদ্যুতের চেয়ে পানির দাম বেশি
ঢাকা ওয়াসা এমডির বেতন-ভাতার হিসাব দিতেই হবে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Jubo League leader was arrested and killed in front of the police

পুলিশের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা

পুলিশের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা নিহত জহিরুল ইসলাম ছিলেন ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। ছবি: সংগৃহীত
ওসি জানান, পুলিশ গিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঢিলের আঘাতে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান আহত হন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আবুল হোসেনের ছেলে জহির এগিয়ে গেলে পুলিশের সামনে থেকেই তাকে ধরে নিয়ে যায় কয়েকজন।

কুমিল্লার তিতাসে দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের সামনে থেকে যুবলীগ নেতাকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিতাসের ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস এসব নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ৩৫ বছরের জহিরুল ইসলাম ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। ঢাকায় তার কাপড়ের ব্যবসা ছিল। ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন।

থানা পুলিশ নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, গ্রামের একটি মাছের ঘের নিয়ে সাবেক ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপের দ্বন্দ্ব অনেকদিনের। ওই ঘেরে মঙ্গলবার সাইফুলের ছেলে সোহরাব ইসলাম ও তার লোকজন মাছ ধরতে যায়। এ নিয়ে তর্কাতর্কির পর আবুল হোসেন গ্রুপের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

ওসি জানান, পুলিশ গিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঢিলের আঘাতে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান আহত হন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আবুল হোসেনের ছেলে জহির এগিয়ে গেলে পুলিশের সামনে থেকেই তাকে ধরে নিয়ে যায় কয়েকজন। তাকে সোহরাবের বাড়িতে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে কোপানো হয়। পুলিশ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় জহিরকে বের করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে ঢাকা পাঠানোর পথে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের সামনে থেকে কীভাবে তুলে নিয়ে গেল- এর জবাবে ওসি বলেন, ‘জহিরকে হুট করে ধরে নিয়ে যায় কয়েকজন। এর মধ্যে পুলিশের দিকে ঢিল ছুড়তে থাকে। পুলিশ তখন কয়েক রাউন্ড গুলি করে। আমরা দ্রুত গিয়ে জহিরকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। তবে ততক্ষণে তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।’

জহিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোহরাবের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় নিহতের স্বজনরা। তবে পরিস্থিতি সন্ধ্যার পর থেকে নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছেন ওসি।

পুলিশের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা

নিহত জহিরের ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমাদের কেনা জায়গায় জোর করে মাছ ধরে নিয়ে গেলে জহির বাধা দেয়। এতে সাইফুল মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাম দাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করে। আমাদের আরও ৬-৭ জন আহত হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাইফুলকে একাধিকবার কল করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fardins father is disappointed that the criminal has not been arrested even in a month

এক মাসেও অপরাধী গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশ ফারদিনের বাবা

এক মাসেও অপরাধী গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশ ফারদিনের বাবা ফারদিন নুর পরশ হত্যার প্রতিবাদ এবং দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার বুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে কথা বলেন পরশের বাবা কাজী নূর উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা
ফারদিন নুর পরশের বাবা বলেন, ‘তদন্ত সংস্থাগুলো মামলার কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি, এটি হতাশার। তবে আস্থা রাখছি সংস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করবে৷ আমি ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যার এক মাস পার হলেও কোনো অপরাধীকে ধরতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ‘আজ বুয়েট ক্যাম্পাসে সবই আছে, শুধু আমার ছেলেটিই নেই। সন্তানহারা বাবা হয়ে আমার আর বলার কিছু নেই।’

ফারদিন নুর পরশ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বুয়েটর সাধারণ ছাত্রবৃন্দের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা চাই’, ‘ফারদিন হত্যার বিচার চাই’, ‘আমরা সবাই ভাই ভাই, ফারদিন হত্যার বিচার চাই’, ‘তদন্তে বিলম্ব কেন’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্লাকার্ড তুলে ধরেন।

ফারদিনের বাবা বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে আমার ছেলেকে হারিয়েছি প্রায় এক মাস হলো। এ পর্যন্ত এই ঘটনার তদন্তে সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি নেই। আমার সন্তানের সঙ্গে কী হয়েছে তা জানি না৷ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু এখন পর্যন্ত তদন্তে কেউ চিহ্নিত হয়নি।’

তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থাগুলো মামলার কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি, এটি হতাশার। তবে আস্থা রাখছি সংস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করবে৷ আমি ছেলের হত্যাকারীর বিচার চাই। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের খুঁজে বের করা হোক, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

কাজী নূর উদ্দিন বলেন, ‘এই বুয়েট থেকে আর কোনো সন্তান যেন এভাবে আর তার মায়ের বুক খালি করে না যায়। এটি এখন নিরাপত্তাহীনতার চাদরে ঢেকে ফেলেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। সবাই একটি অনিশ্চয়তার ভেতরে আছেন। দ্রুত সময়ে ফারদিন হত্যার বিচার হলে অন্যরা আস্থা ফিরে পাবেন।’

ফারদিন হত্যার ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ নির্লিপ্ত উল্লেখ করে তিনি এর সমালোচনা করেন। বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধু ও সহপাঠীকে হারিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়ায়নি।

‘আমি ফারদিনের পরিবারের অবিভাবক। কিন্তু বুয়েট কর্তৃপক্ষও তো আমার ছেলের অভিভাবক ছিল। এক্ষেত্রে তারা যদি মামলার অগ্রগতি ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং তদন্তকারী সংস্থাকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন তাহলে বিচার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাব বলে বিশ্বাস করি।’

বুয়েট শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি দাবি করে মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের প্রায় এক মাস অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি; হত্যাকারীরাও চিহ্নিত হয়নি।

‘আমরা প্রথম থেকেই এই হত্যাকাণ্ড দ্রুত তদন্তের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ ফারদিনের মরদেহ প্রাপ্তির ২৯তম দিনে এসেও আমরা জানি না কী কারণে আমাদের বন্ধু ফারদিনকে হত্যা করা হলো। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতায় আমরা বুয়েট শিক্ষার্থীরা আশাহত।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘ফারদিন হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি ও ছায়া-তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে আসা পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে আমরা বিভ্রান্ত। আমরা বুয়েট শিক্ষার্থীরা ফারদিন নুর পরশের খনিদের শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার এবং তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার জন্য পুনরায় জোর দাবি জানাচ্ছি।

‘হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফারদিনের পরিবারের পাশে আছি এবং থাকব। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে ফারদিনের মতো আর কোনো মেধাবী প্রাণ এভাবে নৃশংস হত্যার শিকার হবে না।’

আরও পড়ুন:
ফারদিন হত্যার তদন্তে অগ্রগতির দাবি র‌্যাবের
বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন
চনপাড়ার বজলুর ৬ দিনের রিমান্ডে
চনপাড়ার বজলুর মেম্বার গ্রেপ্তার
ফারদিন অটোরিকশায় যান চনপাড়ায়, গুম প্রাইভেট কারে

মন্তব্য

p
উপরে