× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Surviving workers of Tazreen want punishment for the guilty Delwar
hear-news
player
google_news print-icon

দেলোয়ারের শাস্তি চান তাজরীনের শ্রমিকরা

দেলোয়ারের-শাস্তি-চান-তাজরীনের-শ্রমিকরা
তাজরীনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক নাছিমা আক্তার (ডানে) ও সবিতা রানী। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
আহত শ্রমিকসহ নিহতদের স্বজনদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ সময় তারা তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে দোষী উল্লেখ করে তার দ্রুত শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।

২৪ নভেম্বর এলেই আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে বসবাসরত তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকরা বরাবরের মতো সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেন তাদের বিভীষিকাময় স্মৃতির কথা। ভয়াল সেই দিনের কথা বলতে গিয়ে আহত অনেকের কণ্ঠরোধ হয়ে আসে।

২০১২ সালের এই দিনে নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ১১২ শ্রমিক। আহত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আরও দুই শতাধিক।

আহত শ্রমিকসহ নিহতদের স্বজনদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ সময় তারা তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে দোষী উল্লেখ করে তার দ্রুত শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।

তাজরীনের আহত শ্রমিক নাছিমা আক্তার বলেন, ‘ওই দিন আমরা ওয়ালমার্ট বায়ারের শিপমেন্টের জন্য কাজ করতেছিলাম। শিপমেন্টে যাওয়ার পর পৌনে ৭টার দিকে হঠাৎ করেই হালকা করে ফায়ার অ্যালার্ম বাজল। পরে পোলাপান ছোটাছুটি শুরু করছে বের হওয়ার জন্য। তখন ফ্যাক্টরির ম্যানেজার বকাঝকা দিলেন। গালি দিয়া বললেন যে, একটু হুজুক পাইলেই দৌড়াদৌড়ি করে। মেকানিকসরা কাজ করার সময় হয়তো অ্যালার্মে চাপ পড়ছে।

‘এই বইলা সবাইরে ধমক দিয়া বসায় দিল। পরে চারদিক থাইকা খালি আগুন আর আগুন, আর আমরা বাইর হইতে পারি নাই। পরে কোনো মতে তিনতলার স্যাম্পল রুমে আসি। তখন জানালা ভাইঙা আমরা সবাই লাফ দিয়া নিচে পড়ি। পইড়া আমার বাম হাত ভাইঙা যায়। ডান হাতের মাংস কাইটা পইড়া যায়। মেরুদণ্ড ও কাঁধে আঘাত পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থাইকা তিনটা ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি নিশ্চিন্তপুরে। থাকার মতো গ্রামে কোনো ভিটামাটিও নাই। সরকার একবারও আমাদের দিকে তাকায় না। বারবার আমরা অনুরোধ করি, তাজরীনের আহত শ্রমিক যাদের বাড়িঘর নাই, তাদের যেন একটু থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষতিপূরণও দেয় না, চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থাও করে না। আর যে মালিক ষড়যন্ত্র করে আগুন লাগালো তারও আইজ পর্যন্ত বিচার বা শাস্তি হলো না।’

তাজরীনের আরেক শ্রমিক সুইং অপারেটর সবিতা রানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো আর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। ১০ বছর যাবৎ দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবার কাছে দ্বারে দ্বারে বহুত ঘুরছি। কিন্তু আমরা আজও পর্যন্ত কারও কাছে ন্যায্য বিচার পাই নাই।

‘আজ ১০ বছর হইতেছে, আমরা কিছু করতে পারছি না। আমরা ধুঁকে ধুঁকে মরছি। যারা তো মারা গেছে তারা তো মরছেই। আমরা তো বাঁইচাও মরছি। অনেকে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। এতদিনে আমরা কেন বিচার পাচ্ছি না। আমরা কী তাজরীনে কাজ করতে আসছিলাম এটাই ভোগ করার জন্য?' প্রশ্ন তোলেন সবিতা রানী।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘তাজরীন গার্মেন্টেসে অগ্নিকাণ্ডের ১০ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু আমরা দেখছি, এই ঘটনার ১০ বছর পার হওয়ার পরও তাজরীনে আহত এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা কেউই ক্ষতিপূরণ পান নাই। এমনকি দোষী গার্মেন্টস মালিক দেলোয়ার হোসেনের বিচারও করা হয় নাই।

‘এটা যে পরিকল্পিত হত্যা ছিল, এটি পরিষ্কার। কারণ সে সময় তাজরীনের মালিক তার গাড়িটা পাশের ভবনে রেখেছিল এবং তাদের ফ্যাক্টরিতে মাল আনা-নেওয়ার গাড়িগুলোও বাইরে ছিল। তার মানে এটা প্রমাণিত যে, মালিকপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই শ্রমিকদের পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এতদিন পরও দেলোয়ারের কোন শাস্তি হয় নাই,’ যোগ করেন এই শ্রমিক নেতা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দোষী দেলোয়ার হোসেনের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনদের পুনর্বাসনের জন্য তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটায় সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

আরও পড়ুন:
তাজরীন ট্র্যাজেডি: বিপর্যস্ত জীবনের ঘানি টানছেন রূপা
অনুদান জোগাড়ে তাজরীন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Taxes will not increase if the economy is not good

অর্থনীতি ভালো না থাকলে কর বাড়বে না

অর্থনীতি ভালো না থাকলে কর বাড়বে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। ছবি: নিউজবাংলা
দিন দিন কর দেয়া সহজ করা হচ্ছে। নিয়ম পরিবর্তন হচ্ছে। সারা বিশ্বে যেটা হয়ে থাকে। সারা বছর সবাই কর দেয়। আমাদের দেশেও কিন্তু তা-ই হয়। যে যখন বেতন পাচ্ছে তখন কর কেটে নেয়া হচ্ছে। ব্যাংক থেকে বেতন কেটে নেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে এখন এ রকম হচ্ছে। বছর শেষে সেগুলো সব একত্র করা হয়। আমি কত দিয়েছি সেটার প্রমাণ দিতে হবে। কতটা দিতে হবে সেটার কাগজ দিব। এসব কারণে একটি রিটার্ন দেয়ার প্রভিশনটা আছে।

প্রত্যাশা অনুযায়ী রিটার্ন জমা না পড়ায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। এখন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করদাতারা তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। যৌক্তিক কারণ ছাড়া এই সময় বাড়ানো যুক্তিযুক্ত হয়নি বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতি ভালো থাকলে কর বাড়ে। আর অর্থনীতি ভালো না থাকলে কর আহরণ বাড়বে না।’

গত বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিউজবাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

এবারও আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে। প্রায় প্রতিবারই এই সময় বাড়ানো হয়। এই সময় বাড়ানোকে আপনি কতটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন।

দিন দিন কর দেয়া সহজ করা হচ্ছে। নিয়ম পরিবর্তন হচ্ছে। সারা বিশ্বে যেটা হয়ে থাকে। সারা বছর সবাই কর দেয়। আমাদের দেশেও কিন্তু তা-ই হয়। যে যখন বেতন পাচ্ছে তখন কর কেটে নেয়া হচ্ছে। ব্যাংক থেকে বেতন কেটে নেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে এখন এ রকম হচ্ছে। বছর শেষে সেগুলো সব একত্র করা হয়। আমি কত দিয়েছি সেটার প্রমাণ দিতে হবে। কতটা দিতে হবে সেটার কাগজ দিব। এসব কারণে একটি রিটার্ন দেয়ার প্রভিশনটা আছে।

অতীতে নিয়ম ছিল হিসাব বছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে এই রিটার্ন দিতে হবে। কাগজপত্র জোগাড় করতে যতটা সময় লাগে। এখন যে করটা দেয়া হচ্ছে সেটা গত বছর জুন মাস পর্যন্ত। সময় যতই বাড়ুক এটা কিন্তু জুন মাস পর্যন্তই থাকবে। এই বাড়তি সময়টা সবসময় তিন মাস ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকেই তাই। সরকার ২০১০ বা ২০১১ সালের দিকে এটাকে পরিবর্তন করে এটাকে নভেম্বরে নিয়ে গেলেন। অর্থাৎ পাঁচ মাস। কেউ কেউ পারে না এই জন্য। আমি না পারার বিষয়টিকে এভাবে দেখি। এখন যেখানে অনলাইন করা হচ্ছে, ফরম যেখানে সহজ করা হচ্ছে। আমার হিসাব যেহেতু গত জুন মাসের হিসাব। আমি যখন এত সহজ করছি, সেখানে কেন আমাকে পাঁচ মাস সময় দিতে হবে। এর থেকে আসলে বের হয়ে আসা উচিত।

একটি কারণ থাকতে পারে। একটি পরিপত্র জারি করে এনবিআর সেটার জন্য মনে হয় দেরি করতে হয়। সেখানে লেখা থাকে ব্যাখ্যাটা কীভাবে দিচ্ছেন। সেটা আর কিছু না। ব্যাখ্যাটা জারি করতে যদি বিলম্ব হয়। সম্ভবত এটার বিলম্ব হয় বলে তারা পিছিয়ে। তাদের কাজের একটি গতির জন্য পিছিয়ে নভেম্বরে নিয়ে গেছে। কিন্তু এখানে একটি সমন্বয়ের দরকার ছিল। এই ব্যাখ্যাগুলো জুলাই বা আগস্ট মাসের মধ্যে দিতে হবে। তাহলে অর্থবিলে কী লিখেছি। সেটা না করে আমরা মুসাবেদি করতে থাকব। এখন থেকে সবাই আবার বাস্তবায়ন করবে। ব্যাখ্যা কিন্তু বারবার পরিবর্তন করা উচিত না। আর যেহেতু ব্যবসা বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে।

গত বছর করোনা মহামারির কারণে সময় বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এবার তেমনটি নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলেছে, ব্যবসায়ীদের দাবির কারণে সময় বাড়ানো হয়েছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?

এ বছর এমন কিছু ঘটে নাই যে, আরও এক মাস বাড়িয়ে দিতে হবে। বারবার সময় বাড়ানোয় কিন্তু এটা দেখা যাচ্ছে যে, সরকারের ম্যাক্রো ইকোনমিক ম্যানেজমেন্টে একটি জটিলতা তৈরি হচ্ছে। যে টাকা আমি যত তাড়াতাড়ি পেতাম প্রত্যক্ষ করে। প্রত্যক্ষ কর হচ্ছে সরকারের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। এটা সরাসরি পায় সরকার। এই আয়টা দিতে যদি বিলম্ব হয়, আমি যেই টাকা সেপ্টেম্বরে পেতাম, সেই টাকা নভেম্বরে আসে বা ডিসেম্বর মাসে আসে। তাতে কী হলো অর্থবছরের ছয় মাস আমি পিছিয়ে গেলাম। তাহলে এই ছয় মাস আমার চলবে কী করে।

কথা ছিল সেপ্টেম্বরে আমি যেই টাকা পাব সেই টাকা দিয়ে আমি ব্যয় করব। কিন্তু আমার টাকা পেতে যদি বিলম্ব হয় তাহলে ব্যাংকে আমার ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। জিনিসটা ওই ভাবে দেখতে হবে। আমি তো এখন সমস্যা খুব বেশি দেখি না। কারণ আমরা তো সব বিষয় সহজ করছি। সারা বছর আপনি কর দিচ্ছেন। সামনে এমন হবে যদি সব অনলাইন হয়ে যায়। এরপর আমাদের রিটার্ন দিতে সময় লাগার কথা না। ব্যাংক থেকে যেটা কেটে নিচ্ছে সেটা নিয়ে যাব। আমার সিস্টেম বলে দেবে ৫৪৫ টাকা ওনার জমা হয়েছে। এখন যে কাগজ টাকা জমা দিতে হয় তখন সেটা থাকবে না। যেখানে আমরা সহজীকরণের দিকে যাচ্ছি। সময় বাড়ানোটা যুক্তিযুক্ত না বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। অর্থনীতির আকার বাড়ছে। কিন্তু ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম; ৯ শতাংশ। এই অনুপাত নেপালের চেয়েও কম। সরকারও ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর কথা বলছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু বাড়ছে না কেনো?

ট্যাক্স (কর)-জিডিপি রেশিও বা অনুপাত দেশের অর্থনীতি বোঝার একটি বড় মাধ্যম। কর-জিডিপি রেশিও দেখে বোঝা যায়, একটি দেশের জিডিপি গ্রোথ (প্রবৃদ্ধি) ভালো হয়েছে কি না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই রেশিও বিভিন্ন রকম। এই রেশিও সাধারণত ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ ১০০ টাকা আয় হলে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কর হবে। ১৬-১৭ টাকা হলে বলা যায় অর্থনীতিতে সব লোক কর দিচ্ছে। এডিপি (সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাস্তবায়নের সঙ্গে করের একটি বাস্তবতা বোঝা যায়।

কিন্তু আমাদের দেশে সেটা ব্যতিক্রম, এটা ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে পাক খাচ্ছে। আমাদের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ কর সরকার পাচ্ছে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই ঘাটতি? এই ঘাটতি দূর করার উপায়টা কী? আমার বিবেচনায় তিনটি কারণে এই ঘাটতি হচ্ছে। একটি হচ্ছে, সব লোক কর দেয় না। সবই করছে, কিন্তু কর দিচ্ছে না। গাড়ি ২৫ টার যায়গায় ৫০টা কিনছে, কর দিচ্ছে না। তার চালচলন দেখলে মনে হয় না তিনি গরিব। কিন্তু কর দেয়ার বেলায় তিনি গরিব। তার কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অর্থনীতি বাড়ছে; ৩ হাজার ডলার হয়েছে আমাদের পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়)। ৩ হাজার ডলার যদি পার ক্যাপিটা ইনকাম হয়, তাহলে আপনি কর দেন না কেন? কিন্তু আসলে তা না; বাস্তব সত্যটা হচ্ছে, সব লোকের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার বাড়েনি।

আসলে কিছু লোকের এত বেশি বেড়েছে যে, এভারেজ করতে গিয়ে ৩ হাজার হয়েছে। যার বেশি বেড়েছে তার বেশি কর দেয়ার কথা। যেহেতু আমার করের বেজ বাড়ে নাই লোকেরা কর দেয় না। আমাদের সমাজকে সেইভাবে তৈরি করতে হবে মানুষ যেন কর না দিয়ে থাকতে না পারে। আর করদাতার প্রত্যাশা থাকবে, যে কর আমি দিচ্ছি সেটা স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচ্ছে, দেশের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। তাহলে না দেশের মানুষ কর দিতে উদ্বুদ্ধ হবে। কর না দিতে পারার মধ্যে এখানে অনেকগুলো লুপহোলস (ফাঁক) রয়ে গেছে। এখানে একটি সাইকোলজিক্যাল ডিফারেন্স রয়ে গেছে।

ট্যাক্স-জিপিডি অনুপাত না বাড়ার দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, জিডিপি বাড়ছে; জিডিপির সেই বড় খরচের ওপরে আপনি কর অব্যাহতি দিয়ে দিচ্ছেন, রেয়াত দিয়ে দিচ্ছেন। বড় আমদানি করছেন, আপনি কর মুক্তি দিয়ে দিচ্ছেন। কর মুক্তির ক্ষেত্রে আপনার একটি হিসাব থাকবে। যে মাল আনবে তাকে তো একটি হিসাব দেখাতে হবে। কর নেয়া হয় সবকিছু হিসাব-নিকাশের মধ্যে রাখার জন্য।

যদি আমি বলি যে, কর দিতে হবে না। তাহলে তো হিসাব থাকবে না। ৫টি জিনিস আনার কথা ছিল ৩টি জিনিস আনবে আর দুটো বিদেশে বিক্রি করে দেবে। যদি নিয়ম থাকত আপনি পাঁচটি জিনিস আনবেন একটি হিসাব হবে। টাকাটা তো সরকারকেই দিতে হবে। সরকারের এই পকেটের টাকা এই পকেটে যাবে। এখানে কর থাকা দরকার স্বচ্ছতার কারণে, প্রতিযোগিতার কারণে। আমি বলতি পারি যে, তুমি এই জিনিসটা আনো তোমার কর বেশি হবে না জাতীয় স্বার্থে। আরেকজন লোক ঠিকই কর দিয়ে সেই জিনিসটা আনছে। যে কর দিচ্ছে তার উৎপাদন ব্যায় কত হচ্ছে। আর যে কর দিচ্ছে না তার উৎপাদন ব্যয় কত হচ্ছে।

তখন কী হয়। তখন অর্থনীতিতে একটি বৈষম্য তৈরি হয়। আমরা এখন দেখছি সরকার বিশেষভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল বানাচ্ছে। বানিয়ে সেখানে জমির মূল্যসহ অন্য সবকিছুর দাম এক রকম রাখছে। আর অন্যদিকে প্রাইভেট সেক্টর ইউটিলিটি বিলটিল সব কিছু দিয়ে একটি জিনিস বানাচ্ছে। এখানকার খরচ বেশি হবে। বিদেশিরা কার কাছে আসবে। আপনি প্রতিযোগী তৈরি করছেন। একদিকে আপনি কর না দিতে বলছেন। অন্যদিকে কর দিতে বলছেন। এসব কারণে রেয়াত দেয়ার বিষয়টি অবশ্যই পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। কারণ, এতে হিসাবটা মিলছে না। বিনিয়োগ হচ্ছে, জিডিপি বাড়ছে। কিন্তু কর আসছে না। স্বচ্ছতার জন্য করের হিসাব রাখা উচিত। আপনি যখন একটি সেতু করমুক্তভাবে বানাবেন। তখন আপনি যে টোল আদায় করবেন, সেখানে যদি করটা না ধরেন তাহলে তো সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো না। আপনি যদি মনে করেন, এখানে করের টাকা রাখব না। সেটা তো হলো না। আপনি মূল্যকে ছাপিয়ে রাখলেন। অথচ টাকা আপনার খরচ হয়েছে।

আরকর কম হওয়ার তৃতীয় কারণ হচ্ছে, যে কর আহরণ করে আর যে কর দেয় এদের মধ্যে সম্পর্ক। এই সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক নয়। আইনগুলোকে আরও জনবান্ধব করা দরকার। যারা কর আহরণ করে তাদের দক্ষতা ও স্বক্ষমতা বাড়াতে হবে। কর কর্মকর্তারা সব জায়গায় যেতে পারছে না। সব জায়গায় যাওয়া দরকার। উপজেলা অফিস থাকা দরকার। তার দক্ষ জনবল থাকা দরকার।

করদাতা যদি লোক রাখে এফসিএ পাস। তার সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য সেই রকম দক্ষ জনবল লাগবে। কর আহরণকারীকে দক্ষতা-স্বক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে করদাতাকেও কর দিতে আন্তরিক হতে হবে। মনে রাখতে হবে, তার দেয়া করেই দেশ চলবে; রাস্তাঘাট হবে, সেতু হবে, হাসপাতাল হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে সরকার। যে সবের সুবিধা দেশের সকল মানুষ পাবে; দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সবশেষ হিসাবে দেশে টিআইএনধারী (কর শণাক্তকরণ নম্বর) করদাতার সংখ্যা ৮২ লাখের বেশি। কিন্তু কর দেন ২৫ লাখের মতো। টিআইএনধারী সবাই যাতে কর দিতে বাধ্য হয়, সেজন্য কী ব্যবস্থা নেয়া উচিত?

এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। সব করদাতা কর দিতে আসছেন না বা কর দিচ্ছেন না। ৮২ লাখ করদাতার মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে সরকারি আর বেসরকারি কর্মজীবী। এই করদাতারা তো নামেই শুধু করদাতা। এদের বেতন থেকে খুব বেশি টাকা আসে না। যারা ভালো কর দেয়ার কথা, গাড়ি দিয়ে ঘুরে বেড়ান। তিনি কিন্তু আসছেন না; কর দিচ্ছেন না। যারা দিচ্ছেন, যে পরিমাণ কর দেয়ার কথা তা দিচ্ছেন না। অর্থাৎ কর ফাঁকি দিচ্ছেন। সুতরাং এখানে দুপক্ষেরই দায়িত্ব পালন করতে হবে। যিনি টিআইএন খুলেছেন, তাকে অবশ্যই রিটার্ন সাবমিট (জমা) করতে হবে। অন্যদিকে এনবিআর যার টিআইএন খুলে দিয়েছে, তিনি কেন রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না সেটাও ভালোভাবে খোঁজখবর রাখতে হবে। সব টিআইএনধারী যাতে রিটার্ন সাবমিট করে সেটা বাধ্য করতে হবে।

এখন টিআইএন খুলেছেন কিন্তু রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না। এখন রিটার্ন জমা না দিলে উনি প্রমাণ করবেন কী করে যে, ওনার কর হয় কি হয় না। আমি রিটার্ন দিলাম না। আমি বুঝতে পারব না আমার সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় না কি। আমার কত শতাংশ কর হবে, এখন না দিলে কী হবে- এ বিষয়গুলো দুই পক্ষকেই অনুধাবন করতে হবে। একজন টিআইএন খুলেছেন, রিটার্ন দিচ্ছেন না, অথচ তিনি করের আওতায় পড়েন। তার বিরুদ্ধে সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারেন- এ বিষয়গুলো মানুষকে পরিষ্কার করে বোঝাতে হবে।

আমি আবার বলছি, করদাতা আর কর আরোহণকারীর (কর কর্মকর্তা) সংস্কৃতি যদি উন্নতি না হয়, তাহলে কিন্তু এই পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব না। করদাতা তিনি নিজের দায়িত্বে টিআইএন খুলবেন, রিটার্ন সাবমিট করবেন; তার দায়িত্ব তিনি পালন করবেন। আর কর আহরণকারীর কাজ হচ্ছে দেখা যে, করদাতা সঠিকভাবে এটা দিচ্ছেন কি না। তার বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না। সেটা ফেসিলিটেট করা। প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেকে ডেকে এনে করদাতা বানানো এটা সমীচীন নয়। কাউকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য বাধ্য করা, এই এনফোর্সমেন্টের দায়িত্ব এনবিআরের একার না। এটা হচ্ছে সমাজের, এনফোর্সমেন্ট।

করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য গতবার ৩৮ থেকে ৩৯টা খাতে বলা হয়েছিল যে, আপকি কর দিচ্ছেন কি না? এটার প্রমাণ দিতে হবে। আমার মনে হয়, এটার একটি ফল আসবে। সেদিন দেখলাম, এক জায়গায় একজন পরিচালক হতে গিয়েছেন। সেখান থেকে তাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তার টিআইএন আছে কি না। এ রকম ভাবে সব জায়গা থেকে যদি চাওয়া হয় তাহলে এটার পরিবর্তন হবে। একটি চাপ সৃষ্টি হবে। যেমন- ব্যাংকে যত লোকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে তাদের উচিত রিটর্ন সাবমিট করা।

ব্যাংক জানে গ্রাহকের রিটার্ন নাই কিন্তু তারা ব্যাংক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এখন ব্যাংককে বাধ্য করা হচ্ছে। এর আগে ব্যাংকের মাধ্যমে একটি চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে, শুধু টিআইএন থাকলে হবে না। রিটার্ন দিয়েছে কি না সেটা দেখাতে হবে। এর একটি ফল পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি।

তাহলে কি আমরা আশা করতে পারি আগামীতে দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়বে, ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত বাড়বে?

করের অঙ্ক কিন্তু প্রতিবছরই কমবেশি বাড়ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, একটি সভ্য নাগরিক সমাজকে এ রকমভাবে কর দেয়াতে হচ্ছে। এ রকম হওয়ার কথা ছিল না। আমরা একটি ট্রানজিশনে আছি। এটা বুঝতে হবে। সবকিছু এক দিনে হয়ে যাবে এটা ঠিক না। সবগুলো পদ্ধতিকে বাড়িয়ে বাড়িয়ে করদাতা বাড়াতে হবে। এসব প্রচেষ্টা কন্টিনিউয়াসলি করে যেতে হবে। এ বছর করলাম, দ্বিতীয় বছর আর খেয়াল করলাম না- এটা হবে না। আমাদের মজ্জাগত সংস্কৃতির মধ্যে এটা আনতে হবে।

এটা ঠিক যে, সব লোক টিআইএন খোলে না, এটাও ঠিক যারা টিন খুলেছেন তারা রিটার্ন দিচ্ছেন না। যারা দিচ্ছেন তা সঠিক পরিমাণে দিচ্ছেন না। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ তিনটা- সবাই যাতে টিআইএন খুলে সেটা একটি চ্যালেঞ্জ। যারা টিন খুলেছেন তারা যাতে রিটার্ন দেন সেটা একটা চ্যালেঞ্জ। আর যারা রিটার্ন দেন, তারা সঠিক দেন কি না সেটা আরেকটা চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের দায়িত্ব তো আছে। তবে বেশি দায়িত্ব এই পক্ষের, মানে করদাতার। যিনি টিআইএন খুলেছেন তিনি যাতে রিটার্ন দেন।

সামাজিকভাবে আসতে হবে। জনগণকে বুঝতে হবে আমি যদি রাষ্ট্রকে কর না দিই তাহলে সরকার কোথা থেকে টাকাটা পাবে। না হলে তো সরকারকে ধারকর্জ (ঋণ) করতে হবে। ধারকর্জ করলে আমার সন্তানকে এটা শোধ করতে হবে। এই বোধ সবার মধ্যে এলে এই সমস্যা আর থাকবে না। সংস্কৃতিকে উন্নত করতে হবে। সব পক্ষকে সহমত পোষণ করে, সহযোগিতার দৃষ্টিতে সবাইকে জাতীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সহযোগিতা করতে হবে।

এই যে নিজস্ব অর্থে আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু তৈরি হয়েছে, আপনি গর্ব করে বলতে পারছেন যে, আমার টাকা সেখানে আছে। যদি কেউ এমন মনে করে যে, আমার টাকা না আমি সেই সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করছি; করছি তো করছি। কিন্তু এটা তো ঠিক হলো না।

করোনা মহামারির মধ্যেও গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ১৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) হিসাবে সেই ইতিবাচক ধারা অব্যহত আছে। কিন্তু চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব রাজস্ব আদায়ে পড়বে কী?

অবশ্যই পড়বে। কারণ আমদানি-রপ্তানি রাজস্বের একটি বড় খাত। গত বছর কিন্তু আমদানি-রপ্তানি ভলিউম বাড়েনি। দাম বেড়ে গিয়েছিল, সেই কারণে আমদানি বেড়েছিল। রপ্তানিও কিন্তু পরিমাণের দিক দিয়ে বাড়েনি। বেড়েছিল দামের জন্য। যেহেতু আমদানিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ হয়েছিল, তার থেকে আমদানি শুল্কসহ অন্যান্য কর মিলিয়ে সরকারও বেশি ট্যাক্স পেয়েছিল।

একইভাবে রপ্তানি আয়েও টাকার অঙ্কে বড় উল্লম্ফন হয়েছিল, সে কারণে এ খাত থেকেও বেশি কর পেয়েছিল সরকার। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এবার সরকার ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে। যার ফলে আমদানি অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। সে কারণে রপ্তানিতেও মন্থর গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার এই দুই খাত থেকে কর আদায় খুব একটা বাড়বে বলে মনে হয় না।

এগুলোর চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের অর্থনীতিতে একটি বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যে রেভিনিউ আয় করি এর একটি বড় উদ্দেশ্য আয়বৈষম্য কমানো। যার বেশি আয় হচ্ছে, সেখান থেকে নিয়ে যার আয় কম তাকে দেয়া। এটা হচ্ছে রেভিনিউ বাড়ানোর একটি বড় উদ্দেশ্য। আমরা আয়বৈষম্য কমাতে পারছি না। এখানে গলদ দেখা যাচ্ছে। ব্যাংক থেকে টাকা চলে যাচ্ছে। সেই টাকার ওপরে আমি কোন কর নিতে পারছি না। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে; সবশেষ হিসাবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তার মানে এই বিশাল অঙ্কের টাকা থেকে আমি কোনো কর পাচ্ছি না।

এই টাকা বিনিয়োগ হলে, ব্যবহার হলে আমি ভ্যাট পেতাম, আমি সেটা পাচ্ছি না। এই টাকা যিনি নিচ্ছেন তিনি কর দিচ্ছেন না। সুতরাং অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা-অস্পষ্টতা এই একটা পরিস্থিতি। এটা কর আহরণের ওপরে বড় প্রভাব ফেলছে। আমরা বলি অর্থনীতি ভালো থাকলে কর বাড়বে। অর্থনীতি ভারো না থাকলে কর আহরণ বাড়বে না। যে টাকাগুলো পাচার হয়ে যাচ্ছে, সে টাকাগুলো বিনিয়োগ হলে আমরা অনেক কর পেতাম, ভ্যাট পেতাম। কেনাকাটা হতো আমি ভ্যাট পেতাম। এই টাকা দিয়ে কারখানা হতো। ব্যবসা বাণিজ্য হতো। দেশে কর্মসংস্থান হতো। অর্থনীতিতে আরও গতিসঞ্চার হতো।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয় বেশ আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বলছে, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অনেক টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

এই যে আমি এতক্ষণ বললাম, যাদের অনেক কর দেয়ার কথা তারা কর দিচ্ছেন না। অর্থাৎ ফাঁকি দিচ্ছেন। আবার অনেকে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন না। ইচ্ছে করে খেলাপি হচ্ছেন। এই টাকাগুলোই বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। আর অর্থনীতির বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এই টাকা দুর্নীতি করে নেয়া, সেখানেই একটি বৈষম্য সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। বৈষম্য কমাতে এনবিআরের যে লক্ষ্য সেটা তো কাজ করছে না। সেই ফিলোসফি যখন কাজ করবে তখন এটা ঠিক হয়ে যাবে। এটা একটি চ্যালেঞ্জ।

তবে এটাও ঠিক যে, সব সময় এনবিআরকে দোষারোপ করলে হবে না। দেখতে হবে অর্থনীতি সুস্থ আছে কি না? মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। কমে গেছে বলেই সে আগের মতো পণ্য কিনছে না। চাহিদা কমে গেছে। সে কারণে উৎপাদনও কম করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। একটার সঙ্গে একটি সম্পর্কিত কিন্তু। প্রান্তিক মানুষের কাছে টাকা নেই। আপেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে, ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যাদের কাছে টাকা আছে তারা কিনছেন। এর কারণে চাহিদা কমে যাচ্ছে।

তবে আমি মনে করি, শুধু করোনাভাইরাস বা বৈদেশিক বিনিয়োগ এসব কথা বললে হবে না। আমাদের যা সক্ষমতা আছে, সেটার যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। মানুষ যে ব্যাংকে টাকা জমা দেয় নিজের টাকা বাঁচানোর জন্য। এমনভাবে জমা দেয় যাতে টাকা মূল্যস্ফীতি থেকে বেঁচে যায়। এখন দেখা যাচ্ছে, বাইরে ইনফ্লেশন ৯ শতাংশ, ব্যাংক আমাকে দেয় ৬ শতাংশ। আমার টাকা কমে যাচ্ছে। আমি যখন দেখি যে টাকার নিরাপত্তা নাই। এই টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। তখন আমার অবস্থাটা কী হয়। এই বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধাকদের অনুধাবন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি চেয়ে জয়দেবপুর স্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে ৫৮ চাকরি
রংপুরে জাপায় একক প্রার্থী, সিদ্ধান্তহীন আ. লীগ
সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতির বিধান বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি
ভবন নির্মাণে লাগবে সিটি করপোরেশনের অনুমতিও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Has peace returned to the mountains in 25 years?

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে? পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ২৫ বছরেও হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ফাইল ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ভেঙে এখন চারটি সংগঠন। তাদের মধ্যে মারামারি লেগে আছে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে ৫৩৬ জন অপহরণ এবং ৩৭৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পার্বত্যাঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়ে থাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তির ২৫ বছরেও বন্ধ হয়নি রক্তপাত। হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। সরকার বলছে, শান্তিচুক্তির কারণে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।

পার্বত্য এলাকায় নৃগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে সহিংসতা। গড়ে ওঠে শান্তি বাহিনী নামের একটি সশস্ত্র সংগঠন। সংঘাতে অসংখ্য পাহাড়ি-বাঙালি নিহত-আহত হন। একসময় পাহাড় ছিল আতঙ্কের নাম।

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন শান্তি বাহিনীর প্রায় ২ হাজার সদস্য। শান্তি ফিরতে শুরু করে পাহাড়ে।

এ চুক্তি পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছে। চুক্তিটি চার খণ্ডে বিভক্ত, যেখানে ক খণ্ডে চারটি; খ খণ্ডে ৩৫টি; গ খণ্ডে ১৪টি এবং ঘ খণ্ডে ১৯টি অর্থাৎ মোট ৭২টি ধারা রয়েছে। অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, চুক্তির ৭২টির মধ্যে ৬৫টিরও বেশি শর্ত পূরণ করা হয়েছে।

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?

সরকার বলছে, শান্তি চুক্তির কারণে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ফাইল ছবি

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একসময় এ এলাকায় মানুষ যেতে চাইত না। সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে বদলি হলে তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক থাকত যে আমি কোথায় যাব? এখন কিন্তু সেখানে সবাই যেতে চায়। এটা এখন আর শাস্তির এলাকা নেই। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কারণে সেখানে একটি আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখানে এখন প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসছেন। এ উদ্যোগের কারণে মানুষের মধ্যে উন্নয়ন হয়েছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, কৃষি প্রতি ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে।

‘সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। তিন জেলায় প্রায় ২৬টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে কলেজ হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতাল হয়েছে। স্কুলগুলো এমপিওভুক্ত হয়েছে, অনেক স্কুল সরকারিকরণ হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলাতেই বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। একদম রিমোট যে এলাকাগুলো রয়েছে, সেগুলোতেও বিশেষ ব্যবস্থায় ৫২ হাজার সোলার সিস্টেম বিনা পয়সায় বিতরণ করেছি। এই চুক্তির ফসলই হলো এই উন্নতি। চুক্তির যে ধারাগুলো রয়েছে ৭২টি, এর মধ্যে ৬৫টিরও বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে। আশা করি, এগুলোও বাস্তবায়ন হবে।’

যে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে শান্তি বাহিনী গড়ে উঠেছিল, সেটির শক্তিও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। সংগঠনটি এখন চার থেকে পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত। বিভিন্ন সময়েই এই গ্রুপের সদস্যরা একে অন্যের ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শান্তি চুক্তির অন্যতম শর্ত অস্ত্র সমর্পণ গত ২৫ বছরেও পূরণ হয়নি। এসব অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্র দলগুলো স্থানীয় পর্যায়ে অপহরণ, হত্যা ও চাঁদাবাজিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাবে, পার্বত্যাঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে ৫৩৬ জন অপহরণ এবং ৩৭৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?

২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে ৩৭৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ফাইল ছবি

বিভিন্ন সময় পাহাড়ে রক্তপাত হয়, এটা কি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য? জানতে চাইলে বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ‘সেখানে কি যুদ্ধাবস্থা আছে? যারা এগুলো করছে তারা কি এটা বলছে যে চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এগুলো হচ্ছে? এটা তো বলছে না। এটা সিম্পলি, তাদের মধ্যে অনেক গ্রুপিং। এটা হলো চাঁদাবাজি, কিডন্যাপিং… এটা হলো অর্থ উপার্জন বা চাঁদাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে গোলাগুলি, কাটাকাটি হয়।

‘কিন্তু এগুলো হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তৎপর আছে। চুক্তি বাস্তবায়ন তো যুদ্ধের মাধ্যমে হবে না। হয়নি বলেই তো আমরা একটি জায়গায় এসেছি। হয়তো একটু দেরি হচ্ছে, কিন্তু থেমে তো নেই। চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে তো কথা বলার সুযোগ আছে। এ জন্য আমরাও দাবি করছি যে, অবৈধ অস্ত্র যেন উদ্ধার করা হয়। সেখানে সবাইকে বলব, সন্ত্রাস করে এলাকায় শান্তি ফিরবে না। সম্মিলিত প্রয়াস থাকতে হবে।’

পাহাড়ে একের পর এক সংগঠন

শান্তি চুক্তিকে কালো চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে আত্মপ্রকাশ করে ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে একটি দল। পাহাড়ে বেড়ে যায় পিসিজেএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত। এতে পাহাড়ের দলীয় কর্মীসহ সাধারণ মানুষও প্রাণ হারান।

২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি আবার ভেঙ্গে জন্মলাভ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা সংস্কারপন্থি) নামে আরেকটি আঞ্চলিক দল। ইউপিডিএফ ভেঙ্গে ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর তপন জ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে খাগড়াছড়িতে গঠিত হয় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আরেক আঞ্চলিক সংগঠন। বিশেষ করে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় এ চারটি সংগঠনের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। বান্দরবানেও পিজেএসএসের আধিপত্য।

দুর্গম এ পাহাড়ি অঞ্চলে চার সংগঠনের মধ্যে হানাহানি লেগে আছে। তবে পিজেএসএস অভিযোগ, সরকারের শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে পাহাড়ে এসব আঞ্চলিক দলের সৃষ্টি হয়েছে।

এ চার সংগঠনের বাইরেও সক্রিয় আছে বেশ কয়েকটি গ্রুপ। এর মধ্যে বান্দরবানের গহীন জঙ্গলে অবস্থান রয়েছে আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি)। পরবর্তী সময়ে এটি ভেঙে ২০১৮ সালে গঠিত হয় মগ পার্টি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, ‘এক পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শান্তি চুক্তির অনেকটা এখনও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অন্যদিকে বাস্তবায়ন কমিটি থেকে বলা হচ্ছে, আমরা অধিকাংশ বাস্তবায়ন করেছি। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে, বাকি ধারাগুলো বাস্তবায়নে দুই পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলে যাচ্ছেন, আমরা শান্তিচুক্তি করেছি, আমরাই বাস্তবায়ন করব। তিনি সবসময় বলেছেন, চুক্তির যে রূপরেখা ছিল, প্রত্যেকটি আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) নেতা এবং সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘সরকারের সাথে আমাদের বোঝাবুঝির অভাব রয়েছে। সরকারের কী ভাবনা সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। সরকার যতই সময় ক্ষেপন করবে ততই দলবাজি, নানান অস্ত্রবাজি হবে, নানা চাঁদাবাজি হবে। তখন পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। মূল কথা হচ্ছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করা ছাড়া বিকল্প নেই।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভূমি কমিশন আইন তো ঠিকমত হয়েছে। এখন বিধিমালা তো সরকার করছে না। বিধিমালাটা করে ভূমি কমিশন কার্যকর করেন। সরকারের কিছু কিছু গাড়ি আছে, গাড়ির অনুমোদন আছে, কিন্তু গাড়ি নাই। ঠিক তেমনি এখন ভূমি কমিশন চলতে পারে না। আমরা চুক্তির সব একসঙ্গে বাস্তবায়ন চাচ্ছি না। একটা একটা করেন। কোনটা কখন করবেন, কখন কোন বিষয় বাস্তবায়ন করবেন, তা লিখিতভাবে সরকার জানিয়ে দিক এবং সেভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করুক এবং সেটাই হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির রোডম্যাপ।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরকারী খাদ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, ‘আমরা রোডম্যাপ করতে চাচ্ছি না তা বলব না। কিন্তু রোডম্যাপ হলেই যে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এটার কোনো গ্যারিন্টি আছে? শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন আমরাও চাই, তারাও চায়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এ ক্ষেত্রে খুবই আন্তরিক। সে ক্ষেত্রে আমাদের উভয়ের বোঝাপোড়ায় আসতে হবে। কিন্তু এগুলো হচ্ছে না।’

দীপংকর তালুকদার এমপি আরও বলেন ‘শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করতে গেলে উভয় পক্ষকে শক্তিশালী হতে হবে এবং উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি শান্তিচুক্তির স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগ রাঙ্গামাটি-বান্দরবান-খাগড়াছড়ি এ তিন জেলার যতগুলো আওয়ামী লীগের লোক আছে, তাদের বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ করা যাবে না। আওয়ামী লীগকে যদি নিশ্চিহ্ন করে দেয় তারা, তাহলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করবে কে? যার কারণে একে অপরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাসের সংকটটা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তবেই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হবে।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গিবিরোধী অভিযান : চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পর্যটক নিষিদ্ধ
প্রকল্প শেষে কী হবে পাহাড়ের ৪ হাজার কর্মীর
পাহাড়ে শান্তির কপোত কি অধরা?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP rally in Comilla 4 scriptures in Rajshahi?

কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে ৪ ধর্মগ্রন্থ, রাজশাহীতে কী?

কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে ৪ ধর্মগ্রন্থ, রাজশাহীতে কী? কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে কোরআন তেলাওয়াতের পর পবিত্র গীতা পাঠ করছেন পুরোহিত। ফাইল ছবি
কুমিল্লায় সমাবেশের আয়োজকদের দাবি, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থেকেই তারা চার ধর্মগ্রন্থ পাঠের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। আর রাজশাহীর বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের সমাবেশেও এটি রাখা যায় কি না, তা নিয়ে হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সব ধর্মগ্রন্থ পাঠ সাধুবাদ পাওয়ার মতো ঘটনা হলেও এটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হয়নি।

বিএনপির চলমান বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যে সবশেষ গত ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখা গেছে। ওই সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা ও ত্রিপিটকের বাণীও পাঠ করা হয়। ছিল বাইবেল পাঠের পরিকল্পনাও, তবে নির্ধারিত ব্যক্তির স্বজনের অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি।

এরপরে শনিবার রাজশাহীতে হচ্ছে বিএনপির সমাবেশ, আর ঢাকায় সমাবেশ হবে ১০ ডিসেম্বর। প্রশ্ন উঠেছে এই দুটি কর্মসূচিতেও কি সব ধর্মগ্রন্থ পাঠের ব্যবস্থা থাকবে?

কুমিল্লায় সমাবেশের আয়োজকদের দাবি, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থেকেই তারা চার ধর্মগ্রন্থ পাঠের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। আর রাজশাহী বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের সমাবেশেও এটি রাখা যায় কি না, তা নিয়ে হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সব ধর্মগ্রন্থ পাঠ সাধুবাদ পাওয়ার মতো ঘটনা হলেও এটি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হয়নি। পরবর্তী সমাবেশে এটা থাকবে কি না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনারও প্রয়োজন নেই।

কুমিল্লায় ২৬ নভেম্বর বেলা ১১টায় বিএনপির সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপরই পবিত্র গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। তবে পরিবারের সদস্যের অসুস্থতাজনিত কারণে বাইবেল পাঠ করতে পারেননি পাস্টর ডা. লরেন্স তীমু বৈরাগী।

আরও পড়ুন: সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ কুমিল্লার সমাবেশ

এর আগে ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে, ২২ অক্টোবর খুলনায়, ২৯ অক্টোবর রংপুরে, ৫ নভেম্বর বরিশালে, ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে ও ১৯ নভেম্বর সিলেটে সমাবেশ করে বিএনপি। এর কোনোটিতেই পবিত্র কোরআন ছাড়া আর কোনো ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়নি।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম জানান, তাদের সমাবেশে সব ধর্মগ্রন্থ পাঠের আয়োজনের বিষয়টি ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি আসলে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আমরা আয়োজনটি করেছি।’

তবে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক দল। কুমিল্লায় এমনটা হয়েছে এটি সাধুবাদ জানানোর মতোই। আমার নিজের এলাকাতেও সব ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।

‘কুমিল্লায় যারা আয়োজক তারা নিজেরা এটা করেছেন। এর সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। আর সামনের সমাবেশগুলোতে এমনটা হবে কি না, তা দলীয়ভাবে আলোচনা করার মতো ইম্পর্ট্যান্ট বিষয় বলে আমি মনে করি না।’

দলের মহাসচিবের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত বলতে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডিরেক্ট এই নির্দেশনাগুলো আমাদের দেন। আমাদের সমাবেশের প্রস্তুতি সভাতে তিনি সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন, আমরা সেভাবেই পালন করেছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। যদিও এটি সত্য আমরা সব জায়গায় এমনটি করিনি।’

সামনের সমাবেশগুলোতে আবারও ঘটনাটি দেখা যাবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। তাই বলতে পারছি না।’

একই রকম বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত কি না, তা আমার জানা নেই। তবে এটি ভালো উদ্যোগ।’

অন্যদিকে প্রশ্ন শোনার পর বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

দুদিন বাদে শনিবার রাজশাহীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাবেশের আয়োজক কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বিষয়টি নিয়ে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের আগ্রহ জানিয়েছেন।

প্রশ্ন শুনে তিনি নিউজবাংলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি এটা বলে খুব ভালো করেছেন। কুমিল্লার বিষয়টি আমি জানতাম না। এটা চমৎকার উদ্যোগ। আমি অবশ্যই হাইকমান্ডের কাছে এই প্রস্তাব রাখব, এটি নিয়ে আলোচনা করব।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি
পরিবহন ধর্মঘটের আগেই রাজশাহীর সমাবেশে নেতা-কর্মীরা
সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট
নাশকতা মামলা: মানিকগঞ্জে বিএনপির ২ নেতা গ্রেপ্তার
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল হামলার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Green channel open in all ports in April

এপ্রিলে সব বন্দরে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু

এপ্রিলে সব বন্দরে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা সারি সারি কনটেইনার। ছবি: নিউজবাংলা
এনবিআরের কাস্টমস নিরীক্ষা মূল্যায়ন কমিশনারেটের কমিশনার এনামূল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে তাকে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা দেয়া যায় না। অতীত রেকর্ড স্বচ্ছ, কোনো ধরনের মামলা-মোকদ্দমা নেই, নিয়মিত কর দিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে, তাদের কাস্টমসে কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে না। ফলে তাদের পণ্য-আনা নেয়া সহজ হবে এবং ব্যবসার খরচ কমবে।’

আগামী বছরের এপ্রিলে সব বন্দরে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যয় ও সময় কমবে।

এনবিআর সূত্র বলেছে, সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং অতীত রেকর্ড ভালো এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ‘গ্রিন চ্যানেল’ সুবিধা পাবে। আর যোগ্য প্রতিষ্ঠান নিবার্চনের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। তার আলোকেই সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।

গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কায়িক কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন পড়বে না। বন্দরে জাহাজ ভেড়ার পর বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করলেই প্রযোজ্য শুল্ক-কর পরিশোধ করে দ্রুত পণ্য খালাস করা যাবে। একইভাবে রপ্তানিকারকরাও তাদের পণ্য দ্রুত শিপমেন্ট করতে পারবেন।

এনবিআর কর্মকর্তা বলেন, যেসব দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা পাবে, তাদের মালামাল খালাস ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হবে। সে সুবাদে বন্দরে মালামাল আটকে থাকার জন্য যে ক্ষতি হয়, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। পণ্য লোড-আনলোড বা ওঠানামার খরচ লাগবে না। লিড টাইম (ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে) কমবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হওয়ার পাশাপাশি খরচ কমবে।

তারা আরও বলেন, কাস্টমসকে আধুনিকায়ন করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। তারই অংশ হিসেবে গ্রিন চ্যানলে চালু করা হচ্ছে। অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর বা এইওর আওতায় এটি চালু করা হচ্ছে।

কাস্টমসকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর চালু করা হয় ২০১৯ সালে। এটি চালুর উদ্দেশ্য হলো আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস ও রপ্তানি পণ্য দ্রুত শিপমেন্ট করা। যেসব প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হবে, শুধু তারাই গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে।

বিশ্ব শুল্ক সংস্থা (ডব্লিউওসি) ২০০৫ সালে পণ্যের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য এইও কর্মসূচি চালু করে। কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সহজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে বিদ্যমান শুল্ক আইন সংশোধন করে।

২০১৮ সালে এনবিআর এইও সুবিধা পাওয়ার মানদণ্ড উল্লেখ করে একটি আদেশ জারি করে। পরের বছর ওষুধ খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধা দেয়া হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও গ্রিন চ্যানেলের সুবিধা পায়নি।

সূত্র বলেছে, এ পর্যন্ত ৬১টি প্রতিষ্ঠান অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর (গ্রিন চ্যানেল) সুবিধা পাওয়ার জন্য এনবিআরের কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ২৪টিকে যোগ্য বলে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর প্রক্রিয়ার সঙ্গে এনবিআরের কাস্টমস নিরীক্ষা মূল্যায়ন কমিশনারেট যুক্ত।

কমিশনার এনামূল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে তাকে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা দেয়া যায় না। অতীত রেকর্ড স্বচ্ছ, কোনো ধরনের মামলা-মোকদ্দমা নেই, নিয়মিত কর দিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

‘যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে, তাদের কাস্টমসে কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে না। ফলে তাদের পণ্য আনা-নেয়া সহজ হবে এবং ব্যবসার খরচ কমবে।’

এ পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটরের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো বেক্সিমকো, স্কয়ার ও ইনসেপটা। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, পণ্য খালাসে কোনো হেরফের হয়নি এখনও।

এনবিআর বলেছে, এইও চালুর জন্য কিছু প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে, এপ্রিলে এটি চালু করা যাবে।

কাস্টমস সূত্র বলেছে, আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের অনুমোদন দেবে এনবিআর। পাইপলাইনে আছে আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।

কাস্টমস নিরীক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, যারা গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের অনুমতি পাবে, তাদের আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য দেখভাল করার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হচ্ছে। এই সফটওয়্যার এনবিআরের এসআই কুডা সিস্টেমের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ বা কানেক্ট করা হবে। এটা করা হলে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে এনবিআরে বসে‌ই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

কমিশনার এনামূল হক বলেন, ‘ডিজিটাল সংযোগ করা হলে বন্দরে পণ্য খালাসের সময় ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের দরকার হবে না। অফিসে বসেই মনিটর করা যাবে।’

কয়েকটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এইও সুবিধা দেয়া হয়। এর মধ্যে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর আইনের আওতায় সন্তোষজনক কমপ্লায়েন্স রেকর্ড থাকতে হবে। আবেদনকারীকে আগের তিন বছর অপরাধমুক্ত থাকতে হবে। কোনো রাজস্ব বকেয়া থাকা যাবে না; যেকোনো মামলায় জরিমানার পরিমাণ মোট পণ্য বা সেবামূল্যের ১ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না।

এ ছাড়া আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন অন্তত ৫ কোটি টাকা হতে হবে। আর বার্ষিক আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা হতে হবে।

এ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক চালু হওয়ার সময় এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে টেক্সটাইল, ওষুধ ও চামড়া খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এইও সনদ দেয়ার জন্য বাছাই করা হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এইওর আওতায় আনা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এনবিআর প্রক্রিয়াটি আরও উন্নত ও জনপ্রিয় করতে না পারায় অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর উদ্যোগে ভাটা পড়ে। তা ছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের মনোভাব পরির্বতন করা দরকার।

এদিকে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে এখনও আগের মতোই তিন থেকে চার দিন সময় লাগছে। এ জন্য কাস্টমসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করেন তারা।

এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, সনদপ্রাপ্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও তারা তা করছে না। সে কারণে এইও সুবিধা পাচ্ছে না কোম্পানিগুলো।

ডব্লিউসিওর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এইও সনদ পাওয়া প্রতিষ্ঠান ১১ হাজার ২০টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ১৭ হাজার ৮৯৫টি, চীনে ৩ হাজার ২০৩টি, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮৪৫টি এবং জাপানে ৭০৬টি।

বিশ্বব্যাংকের সবশেষ ২০২০ সালের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিবেদনে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম। কাস্টমস ও বন্দরে দক্ষতার অভাব বাংলাদেশের এই পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের লজিস্টিক পারফরম্যান্স ইনডেক্স (এলপিআই) অনুযায়ী চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়াসহ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই সূচকেও বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করেছিল।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আরও বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে এইও সনদ দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এ উদ্যোগ বন্দরে জট কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায় সময় ও খরচ কমাতে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন:
শাহজালাল বিমানবন্দরে মশা নিধনে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
রিজার্ভ কেউ চিবিয়ে খায়নি: প্রধানমন্ত্রী
দ্রুত পণ্য খালাসের উদ্যোগে সাড়া নেই
৩ কেজি স্বর্ণসহ দুবাইফেরত দুই যাত্রী গ্রেপ্তার
গ্রিড বিপর্যয়েও সচল বন্দর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jamaat separation secret of BNP in two considerations

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের সাবেক দুই আমির মতিউর রহমান নিজামী ও মকবুল আহমাদ। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৬ সালে ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছেন নিজামী। আর ২০২১ সালে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মকবুলের। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আবার সম্ভাব্য জোটকে মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। আবার জামায়াত জোটে থাকলে যুগপৎ আন্দোলনে অন্য দলগুলোকে কাছে পাওয়ার বাসনাও পূরণ হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। এর অংশ হিসেবেই দলটি থেকে দূরত্ব রাখার কৌশল আছে।

বিএনপির সঙ্গে জোট নেই, দলের নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির। কিন্তু ‘রা’ নেই বিএনপির মুখে। এর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বর্জনের মুখেও জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণটাও স্পষ্ট। তবু সম্পর্ক স্পষ্ট করছে না বিএনপি। কেবল দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, এখন থেকে বিএনপি-জামায়াত আর নয়।

কেবল জামায়াত নয়, ২০-দলীয় জোটের বেশির ভাগ শরিকের সঙ্গেই বিএনপির যোগাযোগ একেবারে তলানিতে। যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনার কথা বলে গত জুলাই থেকে রাজপথে কর্মসূচি বাড়িয়ে কেবল শরিকদের নয়, যাদের সঙ্গে সংলাপ, তাদেরও ডাকছে না দলটি।

কেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বিএনপি স্পষ্ট করে না, এমন প্রশ্নে ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের পর এসব নিয়ে প্রশ্ন করেন। এখন আমরা অনেক ব্যস্ত আছি।’

বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারাও নিশ্চিত করেন, জামায়াতের সঙ্গে এখন কোনো পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই। এমনকি বিএনপি বিভিন্ন দল ও জোটের শরিকদের সঙ্গেও যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে যে সংলাপ করেছে, সেখানেও ডাকা হয়নি জামায়াতকে।

এর মধ্যে গত আগস্টের শেষে কুমিল্লা জামায়াতের একটি রুকন সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এতদিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। আপনারা শুনে হয়তো ভাবছেন কী হয়েছে এখন। হ্যাঁ, হয়ে গেছে।’

বিএনপির প্রতি দোষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি এখন আমাদের কাছে স্পষ্ট, দিবালোকের মতো পরিষ্কার এবং তারা আমাদের সঙ্গে বসে এটা স্বীকার করেছে। …বছরের পর বছর এই ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না।…একটা জোটের সঙ্গে কি কেয়ামত পর্যন্ত থাকব?... কোনো অ্যালায়েন্স আপনারা করবেন না, বাস্তবতাও নাই, পারবেনও না।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিপরীতে কোনো জবাব দেয়া হয়নি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই বলবেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ-ও বলেছেন, কিছু না বলতে চাওয়া তার গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জোট ভেঙে গেছে অনেক আগেই। নানা প্রতিকূলতা আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হচ্ছে না।’

কী সেই প্রতিকূলতা আর সিদ্ধান্তহীনতা?- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রতিকূলতা বলতে দলের সিদ্ধান্তহীনতার কথাই বলছি। সেটা বিএনপিরও হতে পারে, জামায়াতেরও হতে পারে। এটা তো খোলাসা করে বলা মুশকিল।’

তবে এই সিদ্ধান্তহীনতা দূর হবে- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেয়া হয়নি, ফলে এখনও আছে।

‘সংলাপে জোটের শরিক দলগুলো একমত হয়েছে, তারা যুগপৎ আন্দোলনটা শুরু করবে। যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন শুরু হয়ে চলতে থাকবে। যারা আন্তরিকতার সঙ্গে সেই আন্দোলনে থাকবে, তারা কোনো একপর্যায়ে গিয়ে আবার ঐক্যবদ্ধ হবে কি না সেটা এখনই বলা যাবে না। আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির ওপর সেটা নির্ভর করবে।’

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সে সময়ের চারদলীয় জোটের নেতারা এক মঞ্চে। ফাইল ছবি

বিএনপির না হয় নানা হিসেবনিকেশ। রংপুরে প্রার্থী দিয়ে বিএনপির সঙ্গে মতভিন্নতা স্পষ্ট করার পরও জামায়াতের গোপনীয়তার কী বাকি- এমন প্রশ্ন নিয়ে দলটির মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে হতাশ হতে হয়।

নারী কণ্ঠে প্রশ্ন শুনে তিনি কথা বলতেই চাননি। পরে অন্য একজনকে দিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জোট নয়, কথা বলেন যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলন চূড়ান্ত হলে আমাদের সঙ্গে (বিএনপির) সংলাপ হবে।’

বিএনপির ‘দুই ভয়’

ভোটের সমীকরণের হিসাবনিকাশের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী দলটির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে দেয়াও কঠিন। জামায়াতকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আবার সম্ভাব্য জোটকে মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত জোটের বিষয়ে ধোঁয়াশা রেখে দেয়ার একটি ভাবনা আছে।

জামায়াতের একটি ভোটব্যাংক আছে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ও চট্টগ্রাম বিভাগে। সব মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপিকে সুবিধা এনে দেয় তা।

আবার জামায়াত জোটে থাকলে যুগপৎ আন্দোলনে অন্য দলগুলোকে কাছে পাওয়ার বাসনাও পূরণ হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। এর অংশ হিসেবেই দলটি থেকে দূরত্ব রাখার কৌশল আছে।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেই বিএনপি বিষয়টি নিয়ে ভুগেছে। ভোটের আগে আগে ভারতীয় একটি প্রভাবশালী দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, জামায়াত জোটে আছে জানতে পারলে তারা বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কই গড়তেন না।

এবারও বৃহত্তর বা যুগপৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রে জামায়াত ইস্যু কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি না, এই ভাবনা থেকে দলটির সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য আলোচনায় যায়নি দলটি। যদিও গত আগস্টে এই জোট ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়ে কুমিল্লা ইউনিটের রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে আপত্তি নেই তাদের।

ভোটের হিসাবনিকাশ

পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের ফল বিবেচনা করে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর ভোট ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই থাকে। এর মধ্যে ১৯৯১ সালেই কেবল তা লাফ দিয়েছিল, তবে সে সময় বিএনপির সঙ্গে অঘোষিত সমঝোতা একটি কারণ হতে পারে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ শেষে নিষিদ্ধ হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাওয়ার পর ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে দলটি ভোট পায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আসন পায় ১০টি।

বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতায় ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব পড়ে, সেটি বোঝা গেছে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে।

এরশাদ পতনের পর প্রথমবারের ভোটে আওয়ামী লীগকে দ্বিতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে এখনও আলোচনা হয় যে, এটা কীভাবে হলো।

ওই নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের লেখা একটি বইয়ের তথ্য বলছে, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে অঘোষিতভাবে ৩৫ আসনে সমর্থন দেয় বিএনপি। আর বিএনপিকে শতাধিক আসনে ভোট দেয় দলটি।

সেই নির্বাচনে বিএনপি আসন পায় ১৪০টি, জামায়াত পায় ১৮টি। আর আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন।

ওই নির্বাচনে দুই প্রধান দলের ভোট ছিল একেবারেই কাছাকাছি। ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি পায় মোট ভোটের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ পায় ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ।

জামায়াতের বাক্সে পড়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাভাবিক হারের দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়াতেই এটা স্পষ্ট হয় যে নেপথ্যে কিছু একটা ছিল।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক জোটই করে দল দুটি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে আসা একটি অংশ, যারা এরশাদ জোট ছাড়ার পরেও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে থেকে যায়। একই সঙ্গে ছিল কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর মোর্চা ইসলামী ঐক্যজোট।

এই সম্মিলিত শক্তিতে আওয়ামী লীগকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেয় তারা। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই জোট আসন পায় দুই শতাধিক, যার মধ্যে বিএনপি একাই পায় ১৯৩টি, জামায়াত পায় ১৭টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি পায় চারটি, ইসলামী ঐক্যজোট পায় দুটি আসন।

ওই বছর আওয়ামী লীগ আসন পায় ৬২টি। এর মধ্যে উপনির্বাচনে দলটি আরও চারটি আসন হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আসন দাঁড়ায় ৫৮তে।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের পার্থক্য ছিল কম। বিএনপি পায় মোট ভোটের ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর আওয়ামী লীগ পায় ৪০ দশমিক ০২ শতাংশ।

জামায়াতের আসন ১৭টি হলেও তাদের ভোট ছিল ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

মাঝে ১৯৯৬ সালে যে দুইবার ভোট হয়, তার মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোট আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো বর্জন করে জামায়াতও। ওই বছরের ১২ জুন সব দল একক শক্তিতে যে নির্বাচন করে, তাতে জামায়াতের ভোট আবার কমে যায়।

ওই বছর মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ পড়ে আওয়ামী লীগের বাক্সে। দলটি আসন পায় ১৪৬টি। বিএনপি ১১৬টি আসন পায়। মোট ভোটের ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ পায় দলটি।

অর্থাৎ এই নির্বাচনেও যদি বিএনপি ও জামায়াতের সমঝোতা থাকত, তাহলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভোট পেতে পারত। আর এরশাদ সরকারের পতনের পর যে দুটি নির্বাচনে বিএনপি ভোট কিছুটা বেশি পেয়েছে, দুটিতেই আসন অনেক বেশি নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

২০০৮ সালের পর নতুন সমীকরণ

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। ওই বছর আওয়ামী লীগও ভোটে নামে জোটের শক্তি নিয়ে। জাতীয় পার্টির একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট যোগ হওয়ার পর বিএনপির জোট আর পাত্তা পায়নি।

এই নবম সংসদ নির্বাচনে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ আসন পায় ২৩০টি। এই ভোটের মধ্যে জাতীয় পার্টি ও অন্য শরিকদের সমর্থকদের অংশগ্রহণও ছিল।

আর বিএনপির ধানের শীষে ভোট পড়ে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আসন হয় ৩০টি।

জোটের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে জাতীয় পার্টিও পায় ২৭টি আসন। আওয়ামী লীগের ভোটাররাও লাঙ্গলে সিল দেয়ার পর দলটির ভোট দাঁড়ায় ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা ছিল আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি।

ওই নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট পড়ে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি, তবে আসন কমে হয় দুটি।

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির
২০০৬ সালে পল্টনে লগি-বৈঠা হাতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন প্রাণহানি হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পায়নি জামায়াত। ফাইল ছবি

ঘোষণা দিয়ে বিএনপির জোট ছেড়েছে যারা

বিএনপি জোট থেকে গত কয়েক বছরে বের হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়াত আবুল হাসনাত আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট, আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপি, জেবেল রহমান গানির বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, মুহম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস, প্রয়াত নূর হোসেন কাসেমীর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি ও হামদুল্লাহ আল মেহেদীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

অবশ্য এই দলগুলো ২০-দলীয় জোট ছেড়ে গেলেও জোটে দলের সংখ্যা কমেনি একটিও। কারণ, যে দল জোট ছেড়েছে, সে দলের কয়েকজন নেতা একই নামে দল করে ২০-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে থেকে গেছে।

আরও পড়ুন বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’

বিএনপি-জামায়াতের বিচ্ছেদে কতটা পাল্টাবে রাজনীতি

আরও পড়ুন:
ভালোয় ভালোয় কেটে পড়ুন: সরকারকে ফখরুল
চব্বিশে আমরা ক্ষমতায়: রুমিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In October the plane touches the sea and lands in Coxs Bazar

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণসহ কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ ৪২ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কাজ শেষ হবে জুনে। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হবে আগামী অক্টোবরে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের ৪২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল (যাত্রী প্রান্তিক ভবন) নির্মাণকাজও ৮২ শতাংশ এগিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া, আকাশপথে কক্সবাজার যেতে শুধু দিনে অপেক্ষার সময় শেষ হতে চলেছে। এখন রাতেও ফ্লাইট নামবে সাগরঘেঁষা রানওয়েতে। একইভাবে সারা দিন কাটিয়ে রাতে ফেরা যাবে উড়োজাহাজে। বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে অবকাঠামোর সংকটে এখন পর্যন্ত সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারে। তবে সংকট আর থাকছে না। রাতেও ফ্লাইট ওঠানামার সব প্রস্তুতি শেষ। যেকোনো দিন ফ্লাইট শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। একদিকে চলছে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ, অপরদিকে চলছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজ। সমুদ্র তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যস্ত শ্রমিকরা। চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে।

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার বেশি। আর আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ২৭৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার।

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনুস ভুঁইয়া বলেন, ‘সমুদ্রতীরবর্তী জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সরকার বিমানবন্দটির আরও উন্নয়ন ঘটানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থেকে রানওয়ের সুরক্ষার জন্য সমুদ্রতীরে রক্ষাপ্রদ বাঁধ নির্মাণ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রগর্ভে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট স্থাপনসহ বিদ্যমান রানওয়েতে ক্যাট-২ এজিএল সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন ১৭০০ ফুটসহ এই বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফুট, তাই দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার। তখন সমুদ্র ছুঁয়ে বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ এর মতো বড় আকারের বিমানগুলো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে।’

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজও। এ প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা-সংবলিত ১৪ হাজার বর্গমিটার আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন, একটি বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন, ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটার সুপরিসর বিমান পার্কিং অ্যাপ্রন ও ১৯০টি অভ্যন্তরীণ/ আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং ৩৫টি ভিআইপি ভেহিক্যাল পার্কিংবিশিষ্ট কারপার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ৮২ শতাংশ কাজ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজার বিমাবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০টি যাত্রীবাহী বিমান ও ৬-৮টি কার্গো বিমান ওঠানামা করছে। রাতে বিমান ওঠানামার জন্যও প্রায় প্রস্তুত। সমুদ্রগর্ভে আরও লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলছে।’

পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই বিমানবন্দর শুধু পর্যটন নয়, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা খুবই উজ্জীবিত। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ২০২৩ সালের জুন মাসে চালু হবে-এমন লক্ষ্য আছে। বিমানবন্দর এবং রেলপথের কাজ যেভাবে এগাচ্ছে, সেভাবে যদি আমরা এগোতে পারি, তাহলে কক্সবাজার সত্যিকার অর্থে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্থান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে জিডিপিতেও কক্সবাজার জেলা অবদান রাখবে।’

২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানওয়েতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ জাতীয় বিমান অবতরণের মাধ্যমে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিভিল, ন্যাভ-এইড ও এজিএল কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ২৯০ হেক্টর ভূমি বন্দোবস্ত এবং ৮ দশমিক ৩৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে এবং চওড়া ১০০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হয়। এ ছাড়া সুপরিসর বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান রানওয়ের পিসিএন ১৭ হতে ৯০ এ উন্নীতকরণসহ আইএলএস, ডিডিওআর, ক্যাট-১ এজিএল লাইট স্থাপন, নিরাপত্তা সীমানা প্রাচীর ও ড্রেনেজ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ঠিকাদারি কাজের ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এরপর ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্রগর্ভে আরও ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে বর্ধিতকরণের লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ’ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে পূর্ণ লোডে সুপরিসর বিমান তথা বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ জাতীয় বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর তথা রিজিওনাল হাব হিসেবে দিতে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ নামে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BIWTA destroyed farmers potato fields

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। ছবি: নিউজবাংলা
দিনাজপুরে পুনর্ভবা নদী খনন শুরু করছে বিআইডাব্লিউটিএ। নদীর দুই পারে ৫০০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, তাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক।

আগামী দিনে দেশে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব ধরনের জমিতে ফসল আবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পতিত জমিতেও ফসল চাষাবাদ করার নির্দেশনা দিলেও দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। এমনকি ব্যক্তিগত আলুর ক্ষেতও এস্কাভেটর মেশিন দিয়ে খুঁড়ে দিয়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান।

এভাবে কয়েক একর জমির আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। ফসল ওঠা পর্যন্ত কৃষকরা সময় চাইলেও তাদের কথা শোনা হচ্ছে না।
সম্প্রতি দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর, উলিপুর ও খাড়িপাড়ার শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। নদীটির খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বিআইডাব্লিউটিএ।

নদীর ৩৩ কিলোমিটার খনন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০ টাকা। পৃথক পাঁচটি প্যাকেজে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাশে জমিতে বিভিন্ন চাষাবাদ করে আসছি। সেই আলোকে আমরা আগাম জাতের আলু রোপণ করেছি। আর কয়েক দিন পরই আলু বাজারে ওঠানোর মতো অবস্থায় চলে আসবে। কিন্তু এরই মধ্যে জানতে পারলাম যে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক পুনর্ভবা নদী খনন শুরু হবে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকজন কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে দিয়েছে। এভাবে খুঁড়তে থাকলে ৫০০ বিঘা জমির আলু নষ্ট হবে। তাই আমাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক। নইলে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।’

উলিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পুনর্ভবা নদী। নদীটির পাশেই চরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে সারি সারি নতুন আলুর গাছ। আর কয়েক দিন পরে এই ক্ষেতে আলু বাজারে উঠতে শুরু করবে। কিন্তু কৃষকের হাসি বিষাদে রূপ নিতে শুরু করেছে বিআইডাব্লিউটিএর কারণে। আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। অনেক কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে মাটি সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। বারবার সময় চেয়েও পাচ্ছে না কৃষকরা। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে নদীর জমি হিসেবে চিহ্নিত করে খুঁড়ে দেয়া হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএ এমন কার্যক্রমের ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের বহু কৃষক। নদী খনন কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রায় ১ কোটি টাকার আলুর ফলন নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

কিষানি নুর বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমাদের। আমরা একজনকে বর্গা দিছি। কিন্তু বিআইডাব্লিউটিএ সরকারের জমি বলে খুঁড়ে দিছে। এখন তো ওই লোকের অনেক ক্ষতি হলো। আলুর গাছ খুঁড়ে নষ্ট করে দেয়া হলো।’

কৃষক আব্দুল জলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি এই জমিগুলো সরকারের হয়, তাহলে তো আমাদের মাইকিং করে জানাতে পারত। কিন্তু এখন আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। এখানে এক বিঘা জমিতে ৪০ মণ আলু পাওয়া যায়। আমরা ঋণ ও ধারদেনা করে এই আলুর চাষাবাদ করতেছি।

‘নদী খনন হলে ৫০০ থেকে ৭০০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে আমার জমির পাশেই এক একর জমির ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা তো এই জমি খেয়ে ফেলতেছি না। আমরা তো খাদ্য উৎপাদন করতেছি। তাই আমরা তাদের কাছে এক মাসের সময় চাচ্ছি।’

কৃষক আরিফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমার রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। অথচ এখন নদী খনন করতে এসে তারা সরকারের জমি বলে দাবি করতেছে। এখানে জমি বর্গা দিয়েছি। বর্গা চাষিদের ফসল নষ্ট করে দিল। পাশাপাশি আমার জমি খুঁড়ে শেষ করে দিল। জমির সব ধরনের কাগজপত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু তাদের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কাগজপত্র দেখাতে পারছে না।’

তরুণ উদ্যোক্তা মোসাদ্দেক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমিগুলোর আলু আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই উঠতে শুরু করবে। জমি খুঁড়ে ফেলার ফলে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এই এলাকার প্রায় ১ কোটি টাকার আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কৃষক ও জাতির স্বার্থে খনন কার্যক্রমটি ২০ দিন অথবা এক মাস বন্ধ রাখার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অনুরোধ রাখছি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকীকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব দেননি।

আরও পড়ুন:
বিচারক বদলি, পেছাল ঘোড়াঘাটের ইউএনও হত্যাচেষ্টা মামলার রায়
যুগ পর কাউন্সিলের তারিখে বিএনপি নেতাদের দৌড়ঝাঁপ
গৃহায়নের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ, অবরুদ্ধ কার্যালয়

মন্তব্য

p
উপরে