× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Be careful for three days on the way to Uttara
hear-news
player
google_news print-icon

উত্তরার পথে ৩ দিন সাবধান

উত্তরার-পথে-৩-দিন-সাবধান
বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ব্যাপক দুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়কে। ফাইল ছবি
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রোববার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকবে। এজন্য যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত চলা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের কারণে এই সড়কে নিত্য দুর্ভোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ব্যাপক দুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিআরটি প্রকল্পের পক্ষ থেকে এই সময়ে এই সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বুধবার বিআরটির প্রকল্প পরিচালক এ এস এম ইলিয়াস শাহ্ সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রোববার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকবে। এজন্য যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে এই তিন দিন এই করিডোরে চলাচলরত জনসাধারণ ও পরিবহনকে সম্ভাব্য বিকল্প পথ ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে রাজধানীর উত্তর অংশের পাশাপাশি গাজীপুর, বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং উত্তরবঙ্গের একটি অংশের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগে এই সড়কটির বিকল্প নেই বললেই চলে। উত্তরাঞ্চলের গাড়িগুলো গাবতলী হয়ে চলতে পারে বটে, তবে সেদিকে রুট পারমিটের বিষয় আছে বাসের ক্ষেত্রে। তবে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও গাজীপুরগামী গাড়িগুলোর এই পথের কোনো বিকল্প নেই।

গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পের কাজ চলার কারণে এই সড়কে যানজট এক সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলে টঙ্গীর যানজট প্রায়ই ঢাকার মহাখালী পর্যন্ত ঠেকে। তখন বনানী থেকে উত্তরা যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

এর মধ্যে রাতভর কী ধরনের কাজ করা হবে, যান চলাচল কতটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে, এ বিষয়ে বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর ‍পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (উত্তরা) উপকমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকায় যারা ঢুকবে, শুধু তাদেরকেই বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বিমানবন্দর স্টেশন সংলগ্ন সড়কে একটি অংশ বন্ধ থাকবে এই তিন দিন। আরেকটি অংশে গাড়ি চলবে। যানজট যেন কম হয়, সে জন্য রাতে কাজ করা হবে এবং দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন বেছে নেয়া হয়েছে।’

এতে বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর সহানুভূতি এবং সহযোগিতা চেয়েছে বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
DMP warns BNP about Nayapaltan

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে। ডিএমপি কমিশনার।

অনুমতি ছাড়াই নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার পর পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শেষে ঢাকার পুলিশ কমিশনার দলটিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন অমান্য করার চেষ্টা করা হলে তারা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবেন। সেই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে দলটিকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

তিনি এও বলেছেন, জননিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপিকে সামাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না।

আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার বিএনপি ঘোষিত এই সমাবেশের স্থল নিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আসেন ঢাকার পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।’

‘একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে’-বলেন তিনি।

‘আইন অমান্য করলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে’- দলটির প্রতি সতর্কবার্তাও দিয়ে রাখেন রাজধানীর পুলিশ প্রধান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দা সংস্থা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিএনপি ঢাকা শহরে ১০ লাখ লোক জামাতের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কাজেই পার্টি অফিসের সামনে জনদুর্ভোগ করে এবং ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করে তাদেরকে সেখানে অনুমতি দেয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে কোনো খোলা মাঠে যেতে পারেন বা অন্য কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন। অন্য প্রস্তাব হিসেবে তাদেরকে বলা হয় ইজতেমা মাঠ আছে, সেখানে আপনারা ১০ লাখ লোক জমায়াত করতে পারবেন। পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার মাঠ আছে, সেখানে যেতে পারেন।’

ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হয়। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে আগ্রহী না। তারা পল্টন বা তার আশেপাশে কোন রাস্তায় করতে আগ্রহী।

‘এ প্রসঙ্গে আমাদের ডিএমপির সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা এর মতো কোনো খোলা মাঠে সমাবেশ করতে হবে। আমরা জনদুর্ভোগ এবং জননিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

‘সোহরাওয়ার্দী আসুন, নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার

বিএনপি সোহরাওয়ারাদীতে সমাবেশ করলে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসও দেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘উনারা এর আগেও সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করেছেন। উনারা সোহরাওয়ার্দীতে মিটিং করলে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। আমি নিরাপত্তা দেবো। উনাদের নিরাপত্তার সামান্যতম কোনো ঘাটতি হবে না। কোনো প্রকার বাধা দেয়া হবে না।’

বুধবার সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে অফিশিয়াল ডে, তারা নয়াপল্টনে রাস্তা দখল করে সমাবেশ করছে। গাড়ি চলাচলের বিঘ্ন ঘটিয়ে... কোনো সমাবেশ নাই, এটা তো আইনানুগ কাজ উনারা করেন নাই।’

ঢাকার প্রবেশমুখে চৌকি বসিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে মোবাইল ফোনে বিএনপির কোনো ছবি বা নেতাদের নম্বর পেলে তাকে আটক করার বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এসেছে, সেটিরও জবাব দেন ডিএমপি প্রধান।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট চলছে। কারণ হলো, সামনে ১ থেকে ১৫ তারিখ একটা বিশেষ অভিযান ঘোষণা করেছি। এই মাসে ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর আছে, বড় বড় ৫ টা প্রোগ্রাম আছে। কোনো নাশকতা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা ঢাকার অভিমুখে চেকপোস্ট বসিয়েছি। কোনো যাত্রীর ঢাকা আসা আমরা বন্ধ করি নাই।’

অনুমতি ছাড়াই সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
নয়াপল্টনে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়

সমাবেশ স্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। নয়াপল্টনের বিকল্প কোনো প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি গ্রহণযোগ্য পছন্দনীয় জায়গা বের না করে তাহলে পল্টনই আমাদের পছন্দের জায়গা। পল্টনেই হবে সমাবেশ।’

পুলিশ বাধা দিলে কী হবে, জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, আমাদের কাজ আমরা করব।

আব্বাসের ঘোষণার পরপরই সংঘর্ষ

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

নেতা-কর্মীরাও নয়াপল্টন ঘিরে জমায়েত হচ্ছিল আগের রাত থেকেই। সেখানে দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করে সকাল থেকে চলছিল বক্তৃতা। জনসাধারণকে শনিবারের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বানের পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছিল লিফলেট। এক পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের চাপে নয়াপল্টনের সামনের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
Caption

সকাল থেকে কার্যালয় ঘিরে ছিল শ খানেক‍ ‍পুলিশ। জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের চাপে সামনের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে দুপুরের দিকে তারা এসে হস্তক্ষেপ করে। তখন শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছুড়তে থাকে ইটপাটকেল। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়ে দেয় জবাব।

মিনিট দশেক এই সংঘর্ষ চলে। বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের শ দুয়ের রিজার্ভ ফোর্স। আসে দুটি সাঁজোয়া গাড়িও। কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি ভ্যানও আসে সেখানে।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করতে থাকলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শুরু হয় সংঘর্ষ।

বাড়তি পুলিশ আসার পর বাহিনীটির সদস্যরা ব্যাপক আকারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।

সেখানে আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে যেতে চান। পুলিশই তাকে সঙ্গে নিয়ে যায় সেখান থেকে।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ

বেলা ৩টার দিকে আসেন সোয়াট সদস্যরা। এরপর শুরু হয় তাদের টহল। ততক্ষণে নেতা-কর্মীরা আর সড়কে ছিলেন না।

বিকেল চারটার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যান নয়াপল্টনে। তিনি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে বসে যান। সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ইউনুস।

বেলা পাঁচটার দিকে পুলিশ সদস্যরা বিএনপি কার্যালয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানকারী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল গ্রেপ্তার পরোয়ানা।

রিজভী ছাড়াও আরও কয়েকজন নেতাকে আটকের কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Police arrested Rizvi in ​​BNP office by breaking the door and detained many

দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু

দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
দুপুরে ঘণ্টা দেড়েকের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিকেলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটও। বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী একপর্যায়ে অবস্থান নেন দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে। বিকেলে দরজা ভেঙে কার্যালয়ে ঢোকে পুলিশ।

সংঘর্ষের পর এবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। নেতা-কর্মীরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখলেও পুলিশ সেটি ভেঙে ভেতরে ঢোকে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।

কার্যালয়ের সামনে দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে সকাল থেকে যে বক্তব্য চলছিল, সেগুলোও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

আগামী শনিবার অনুমতি না থাকলেও নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণায় অটল বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ‍পুলিশের এই সংঘর্ষ শুরু হয় দুপুরের পরপর।

ঘণ্টা দেড়েকের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিকেলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটও।

বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী একপর্যায়ে অবস্থান নেন দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে। তাদের উদ্দেশ করে দুই দফা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। আহতদের নিয়ে আসতে অ্যাম্বুলেন্সকেও বাধা দেয়ার অভিযোগ করছে ‍বিএনপি।

বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সদস্যরা কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে পুলিশ সে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ভেতরে অবস্থান করছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যার বিরুদ্ধে ১ ডিসেম্বর নাশকতার এক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ২০১২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার মামলায় সেদিন আদালতে হাজিরা ছিল তার। কিন্তু বিএনপি নেতা হাজিরা না দেয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ আসে।

রিজভী ছাড়াও বিএনপি চেয়াপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকেও আটক করা হয়।

দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু
কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রিজভীসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

সমাবেশস্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকে।

পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, বিএনপির কাজ বিএনপি করবে- দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

আরও পড়ুন:
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি
খুলনায় বিএনপির গ্রেপ্তার নেতা-কর্মী বেড়ে ৫৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A procession of pro BNP lawyers in the capital

রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল

রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা
মিছিল শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ নয়াপল্টনেই করার জন্য আমরা অনড় আছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো জনসভা করব না।’

১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে মিছিল করেছে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনজীবীরা এই মিছিল করেন।

মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে শুরু করে হাইকোর্ট মাজারগেট দিয়ে মূল সড়কে যায়। এরপর শিক্ষা ভবন, কদম ফোয়ারা, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পাশের গেট দিয়ে আবার সমিতি ভবনে ফিরে আসে। পরে আইনজীবী সমিতির ভবনে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ নয়াপল্টনেই করার জন্য আমরা অনড় আছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো জনসভা করব না।’

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা রাজপথে নেমেছে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য। নিশিরাতের অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে বিদায় দেয়ার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।’

মিছিলের নেতৃত্ব দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি আব্দুল জাব্বার ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজল। এতে শতাধিক বিএনপিপন্থি আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The police prevented the ambulance from taking the injured

বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস

বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর অভিযান চালায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
সংঘর্ষ শুরুর পর অসংখ্য নেতা-কর্মীর সঙ্গে আহত ব্যক্তিরাও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। সে সময় পুলিশ কার্যালয়ের ভেতর কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ছোড়ে। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে চারটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয় আহতদের সরিয়ে নিতে। কিন্তু গাড়িগুলো নয়াপল্টন কার্যালয়ের সমানে এলে সেগুলোকে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। তখন আরও গ্যাস ছোড়া হয়।

নয়াপল্টনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে আসা অ্যাম্বুলেন্সকে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাদের দলের বেশ কিছু কর্মী দলীয় কার্যালয়ে আটকা পড়লে তাদের উদ্দেশ করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এতে তারা আহত হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যেতে আনা হয় অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু পুলিশ গাড়িগুলোকে আসতে দেয়নি।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় সব শহরে সমাবেশ থেকে ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে সমাবেশ ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপের মধ্যে বুধবার নয়াপল্টন ঘিরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

বিএনপি এই সমাবেশটি করতে চায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে। তবে পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু সেখানে যেতে চায় না তারা। বিকল্প হিসেবে মৌখিকভাবে আরামবাগে জমায়েতের প্রস্তাব দিলেও তা মৌখিকভাবেই নাচক করে পুলিশ।

দুপুরের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তাদের সমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে। পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, তাদের কাজ তারা করবেন।

আগের রাত থেকেই নয়াপল্টনে অবস্থান নিতে থাকেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে চলতে থাকে বক্তব্য। দুপুরের দিকে সামনের সড়কে নেতা-কর্মীরা ‍পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ দেয় বাধা। শুরু হয় সংঘর্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।

সকাল থেকে সেখানে উপস্থিত শখানেক পুলিশ সদস্য যখন পেরে উঠছিলেন না, তখন বেলা আড়াইটার দিকে ডাকা হয় অতিরিক্ত পুলিশকে। সাঁজোয়া গাড়িসহ আরও শ দুয়েক পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে তারা।

বেলা পৌনে তিনটার দিকে আসে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট। তবে তারা এসে অ্যাকশনে না গিয়ে টহল দিতে থাকে। অবশ্য তারা আসার আগেই পরিস্থিতি অনেকটা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

তবে পুলিশ যখন অ্যাকশনে ছিল তখন আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে যেতে দেখা যায়। পরে এদের একজনের মৃত্যুও হয় হাসপাতালে।

সংঘর্ষ শুরুর পর অসংখ্য নেতা-কর্মীর সঙ্গে আহতরাও বিএনপি পার্টি অফিসের ভেতরে অবস্থান নেন। সে সময় পুলিশের সদস্যরা কার্যালয়ের ভেতর কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ছোড়ে।

বিএনপি কর্মীরা দাবি করেন, ভেতরে অবস্থান নেয়া অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত ছিলেন। কাঁদানে গ্যাসের কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

তখন বিএনপির পক্ষ থেকে চারটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয় আহতদের সরিয়ে নিতে। কিন্তু গাড়িগুলো নয়াপল্টন কার্যালয়ের সমানে এলে সেগুলোকে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। তাদের বাধায় দুটি অ্যাম্বুলেন্স ফিরে যায়। এরপর পুলিশ সদস্যদের আবার দলীয় কার্যালয়ের ভেতর কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে দেখা যায়।

আহতদের নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্সকে বাধা দেয়া এবং দলীয় কার্যালয়ে আবদ্ধ পরিবেশে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি
খুলনায় বিএনপির গ্রেপ্তার নেতা-কর্মী বেড়ে ৫৫
১৫০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ বিএনপির
দ্বিধা নয়, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ হবেই: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fakhruls position in front of BNP office

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখলরুল। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
দলীয় কার্যালয়ের গেটের সামনে তিনি অবস্থান নেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে জায়গা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালেও অনড় থাকেন বিএনপির এই নেতা। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ আমি যাব না, এখানেই থাকব।’ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদেই এই অবস্থান বলে জানান তিনি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষের পর দলীয় কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় কার্যালয়ের গেটের সামনে তিনি অবস্থান নেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে জায়গা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালেও অনড় থাকেন বিএনপির এই নেতা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ আমি যাব না, এখানেই থাকব। হোম মিনিস্টার আমাকে এখানে আসতে বলেছেন। তারপরও আসার পর আমাকে ঢুকতে (দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে) দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, এটা জঘন্য অন্যায়। জনগণের ওপর নির্যাতন।

পল্টনে পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের খবর শুনে বিকেলে ঘটনাস্থলে আসেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি কার্যালয়ের ভেতর প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন; কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি। এরপরই তিনি কার্যালয়ের গেটের বাইরে ফুটপাতে বসে পড়েন।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান

বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদেই এই অবস্থান বলে জানান তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘উই আর ওয়েটিং। আমরা বলেছিলাম বিকল্প কিছু দিতে। আর আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম। আর আজকে হঠাৎ করে এসে তারা এভাবে হামলা চালায়। আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর টিয়ার শেল, গুলি, লাঠিচার্জ করল। এ দায় সরকারের।’

এ সময় বিএনপি কার্যালয় থেকে অন্তত ২০ জন কর্মীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যেতে দেখেছেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান

এর আগে বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েতের মধ্যে টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে মকবুল হোসেন নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন।

পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ দুই পাশ থেকে রাস্তা দখল করে পুলিশ সদস্যরা বাঁশি বাজিয়ে টিয়ার শেল ছুড়ে এগোতে থাকে বিএনপির কার্যালয়ের দিকে। একপর্যায়ে দলের নেতা-কর্মীরা পিছু হটেন।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টন এলাকায় একাধিক সাঁজোয়া যান, প্রিজন ভ্যান ও অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নুডলস পার্টিতে হাতাহাতি গড়াল মৃত্যুতে
খুলনায় বিএনপির গ্রেপ্তার নেতা-কর্মী বেড়ে ৫৫
পুলিশের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
All agencies must keep canal water bodies clean Mayor Atiqul

যে সংস্থার জলাশয় সে সংস্থাকেই পরিষ্কার রাখতে হবে: মেয়র আতিকুল

যে সংস্থার জলাশয় সে সংস্থাকেই পরিষ্কার রাখতে হবে: মেয়র আতিকুল আবর্জনায় ভরাট হয়ে সংকীর্ণ হয়ে গেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ার খালটি। ছবি: সংগৃহীত
মেয়র আতিকুল বলেন, ‘সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ না করলে খাল ও জলাশয় থেকে মশা নিধন খুব দুরুহ কাজ। সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে এটি সম্ভব না।’

সব সংস্থাকে নিজেদের খাল, জলাশয় ও ডোবা নিজেদেরই পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নিজেদের অধীন এলাকা পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও নিতে হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলায় সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন কাওলা খাল এলাকায় মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে ১৫ দিনব্যাপী সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘এয়ারপোর্টের পার্শ্ববর্তী খাল, জলাশয় ও ডোবাগুলোতেই মশার চাষ হচ্ছে। এগুলো সিভিল অ্যাভিয়েশন, রাজউক, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষসহ অন্য সংস্থার অধীন। সরেজমিনে এসে দেখলাম এগুলোতে প্রচুর পরিমানে কচুরিপানা।

‘এই কচুরিপানা পরিষ্কার না করলে আমরা সিটি কর্পোরেশন থেকে যতই মশার ওষুধ দেই না কেন মশা নিধন করা সম্ভব না। সব সংস্থাকে নিজেদের খাল, জলাশয় ও ডোবা পরিষ্কার করতে হবে। সংস্থাগুলোকে নিজেদের অধীন এলাকা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।’

এ সময় মেয়র আরও বলেন, ‘সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ না করলে খাল ও জলাশয় থেকে মশা নিধন খুব দুরুহ কাজ। সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে এটি সম্ভব না। আমরা বারবার বলেও ব্যর্থ হচ্ছি। বারবার বলা শর্তেও কেউ কর্ণপাত করছে না। এটি একজন আরেকজনকে দোষারোপ করার বিষয় নয়। সব সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে তাহলেই সমাধান সম্ভব।’

আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আন্তমন্ত্রণালয় মিটিং হয়েছে। তাতে সিভিল অ্যাভিয়েশন, রাজউক, রেলওয়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ড অংশ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার যার জায়গার কচুরিপানা নিজেরা পরিষ্কার করবে।

‘সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সিভিল অ্যাভিয়েশনের জায়গা আপনারা নিজেরা পরিষ্কার করে দেন। সিভিল অ্যাভিয়েশন পরিষ্কার করতে না পারলে ওই জায়গা আমাদের দিয়ে দিক। আমরা পরিষ্কার করে নেব।’

আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘খাল তো আমরা পরিষ্কার করেছি। আগে কী অবস্থা ছিল আপনারা দেখেছেন। জায়গার দায়িত্ব না নিতে পারলে কাগজে রেজিস্ট্রি করে দেন। আমরা পরিচ্ছন্ন রাখব। যে জায়গায় বা জলাশয়ে কচুরিপানা নেই, সেখানে আমরা মশার ওষুধ স্প্রে করে দেব। কিন্তু যেখানে কচুরিপানা দিয়ে ভর্তি, সেখানে স্প্রে করব কীভাবে!’

এ সময় মেয়র সিভিল অ্যাভিয়েশন ও রাজউকের প্রতিনিধিদের সাত দিনের মধ্যে জলাশয়ের সকল কচুরিপানা পরিষ্কার করার আহবান করেন। সাত দিনের মধ্যে কচুরিপানা পরিষ্কার না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেন তিনি।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম একযোগে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫দিন চলবে। এ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে ডিএনসিসি মেয়র সিভিল অ্যাভিয়েশনের অধীন জলাশয় ও এয়ারর্পোট বাউন্ডারি সংলগ্ন খাল, রাজউকের অধীন উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজ পাড়ের খাল পরিদর্শন করেন।

অভিযানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, ডিএনসিসি মেয়রের উপদেষ্টা অধ্যাপক কবিরুল বাসার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলামসহ স্থানীয় কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে বড় প্রস্তুতির বিকল্প নেই: মেয়র আতিকুল
মেয়র আতিকুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP office surrounded by police as well as SWAT

বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট

বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের একপর্যায়ে নয়াপল্টনে মোতায়েন করা হয় ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট সদস্যদের। ছবি: নিউজবাংলা
কোন পরিপ্রেক্ষিতে সোয়াট মোতায়েন করা হলো, এই প্রশ্নে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ফোর্স দরকার ছিল, কল করেছি, তখন বাড়তি ফোর্স এসেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিবি ও সোয়াট সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়।’ সোয়াটকে কেন ডাকতে হলো, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখন মনে করে, তখনই বিশেষ বাহিনীগুলোকে কল করা হয়।’

১০ ডিসেম্বর শনিবার অনুমতি না পেলেও নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার বিষয়ে বিএনপির ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শত শত পুলিশের পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে ঢাকা মহানগর ‍পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট।

পুলিশের এই ইউনিটটিকে সন্ত্রাসবিরোধী নানা অভিযানে দেখা গেলেও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে এই প্রথম এর ব্যবহার হলো।

কোন পরিপ্রেক্ষিতে সোয়াট মোতায়েন করা হলো, এই প্রশ্নে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ফোর্স দরকার ছিল, কল করেছি, তখন বাড়তি ফোর্স এসেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিবি ও সোয়াট সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়।’

সোয়াটকে কেন ডাকতে হলো, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখন মনে করে, তখনই বিশেষ বাহিনীগুলোকে কল করা হয়।’

সকাল থেকেই কার্যালয় ঘিরে ছিল ‍পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী। দুপুরের পর সেখানে সংঘর্ষ শুরু হলে সোয়াট সদস্যরা যোগ দেন বেলা পৌনে তিনটার দিকে।

তবে তারা আসার আগে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আর সোয়াট সদস্যদের কোনো অ্যাকশনে যেতে দেখা যায়নি। তারা নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় টহল দিচ্ছিল।

বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট
মোতায়েনের পর সোয়াট সদস্যরা অ্যাকশনে না গিয়ে হটল দিতে থাকে

পরে সোয়াট নামানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুনেছি ওখানে ককটেল বিষ্ফোরণ হয়েছে, তারা ডাল, লাঠি নিয়ে আসছে। আমাদের পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে শক্তি বৃদ্ধি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে অফিশিয়াল ডে (কর্মদিবস)। পূর্বানুমতি ছাড়া রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করবে, তা তো কাম্য নয়। সার্বিক নাশকতার আশঙ্কায় শক্তি বাড়িয়েছি।

সকাল থেকে যা হয়েছে

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরাকরের দবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক যে সমাবেশ করছে, তার শেষ কর্মসূচি হিসেবে রাজধানীর এই জমায়েতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

আগের সমাবেশগুলো নির্বিঘ্নে হলেও রাজধানীর সমাবেশস্থল নিয়েই তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সেদিন জমায়েত হতে চায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, যেখানে যেতে আপত্তি আছে দলটির।

নয়াপল্টন না পেলে আরামবাগে অনুমতি দিতে বিএনপির মৌখিক অনুরোধ মৌখিকভাবেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছে, গ্রহণযোগ্য বিকল্প স্থানের প্রস্তাব দেয়া না হলে সমাবেশ হবে নয়াপল্টনেই।

দুপুরের আগে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ১০ ডিসেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ চলবে ঘোষণা দেয়া আমান উল্লাহ আমান।

বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট
দুপুরের আগে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ঘোষণা দেন, তাদের সমাবেশ হবে নয়াপল্টনেই। পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, তাদের কাজ তারা করবেন

আব্বাস বলেন, বিএনপি যেখানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে, সেখানেই হবে সমাবেশ। গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব করতে চাইলে সেটা করতে করতে হবে আওয়ামী লীগ ও সরকারকেই।

আগের রাত থেকেই সেই এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিতে থাকেন। দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে নেতাদের বক্তব্য চলছিল সকাল ১০টা থেকেই। সেই সঙ্গে বিতরণ করা হচ্ছিল লিফলেট। তাতে শনিবারের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল।

সকাল থেকে কার্যালয় ঘিরে ছিল শ খানেক‍ ‍পুলিশ। জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের চাপে সামনের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে দুপুরের দিকে তারা এসে হস্তক্ষেপ করে। তখন শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছুড়তে থাকে ইটপাটকেল। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়ে দেয় জবাব।

মিনিট দশেক এই সংঘর্ষ চলে। বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের শ দুয়ের রিজার্ভ ফোর্স। আসে দুটি সাঁজোয়া গাড়িও। কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি ভ্যানও আসে সেখানে।

বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট
বিএনপি নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করতে থাকলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শুরু হয় সংঘর্ষ

বাড়তি পুলিশ আসার পর বাহিনীটির সদস্যরা ব্যাপক আকারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে যেতে চান। পুলিশই তাকে সঙ্গে নিয়ে যায় সেখান থেকে।

বেলা ৩টার দিকে আসেন সোয়াট সদস্যরা। এরপর শুরু হয় তাদের টহল। ততক্ষণে নেতা-কর্মীরা আর সড়কে ছিলেন না।

আরও পড়ুন:
সড়কে সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছে না বিএনপি
বিএনপির আট সমাবেশের সমান জমায়েত পলোগ্রাউন্ডে: কাদের
১০ ডিসেম্বর নিয়ে উত্তেজনা কমালেন গয়েশ্বরও
কানাডীয় দূতের সঙ্গে বৈঠক, কিছু জানাবে না বিএনপি
পরিবহন ধর্মঘটে জনগণকে থামানো যাবে না: বিএনপি নেতা

মন্তব্য

p
উপরে