× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Three nights hotel free if you fly from Jessore to Coxs Bazar
google_news print-icon

যশোর থেকে কক্সবাজার উড়ে গেলে তিন রাত হোটেল ফ্রি

যশোর-থেকে-কক্সবাজার-উড়ে-গেলে-তিন-রাত-হোটেল-ফ্রি
ফাইল ছবি
কক্সবাজারে তিন রাতের হোটেল ফ্রি অফার নিতে হলে দুই জনের রিটার্ন টিকেট কিনতে হবে। তখন তিন রাত হোটেলে ফ্রি থাকার সুবিধা রয়েছে। যাত্রীরা কক্সবাজারের সিগাল হোটেল, লং বিচ হোটেল, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, উইন্ডি ট্যারেস হোটেল, গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেল এবং হোটেল সি প্যালেসে এই অফারের আওতায় থাকতে পারবেন। তবে হোটেল ভেদে প্যাকেজের মূল্য উঠানামা করবে।

যশোর থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট শুরু করছে বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ার। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে রুটটিতে ফ্লাইট শুরু হবে।

ফ্লাইটের টিকিট কিনলে কক্সবাজারে তিন রাতের হোটেল ফ্রি প্যাকেজও ঘোষণা হয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইটটি যশোর থেকে প্রতি সপ্তাহে বুধবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে কক্সবাজারে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছাবে। কক্সবাজার থেকে প্রতি সপ্তাহে শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে যশোরে সকাল ১১টায় পৌঁছাবে। এই রুটে ওয়ানওয়ে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

কক্সবাজারে তিন রাতের হোটেল ফ্রি অফার নিতে হলে দুই জনের রিটার্ন টিকেট কিনতে হবে। তখন তিন রাত হোটেলে ফ্রি থাকার সুবিধা রয়েছে।

যাত্রীরা কক্সবাজারের সিগাল হোটেল, লং বিচ হোটেল, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, উইন্ডি ট্যারেস হোটেল, গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেল এবং হোটেল সি প্যালেসে এই অফারের আওতায় থাকতে পারবেন। তবে হোটেল ভেদে প্যাকেজের মূল্য উঠানামা করবে।

নভোএয়ার বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, সিলেট, যশোর এবং আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কলকাতা ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বেসরকারি বিমান সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটেও টিকিন কিনলে বিনা মূল্যে হোটেল সুবিধা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
রাজশাহী-কক্সবাজার রুটে চালু নভোএয়ার
অন টাইম পারফরম্যান্সে সেরা নভোএয়ার
নভোএয়ারের টিকিটে কক্সবাজারের থাকা ফ্রি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Egypt is interested in importing raw leather from Bangladesh

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া আমদানিতে আগ্রহী মিসর

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া আমদানিতে আগ্রহী মিসর সচিবালয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহিম এলদিন আহমেদ ফাহমি। ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের ২৬টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। বিনিয়োগ হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আসিয়ান দেশগুলোর বাজার সুবিধা এদেশ থেকে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিসর। একই সঙ্গে এদেশের পাটশিল্পের অতীত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নিজেদের পাটশিল্প উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে চায় দেশটি। এ ছাড়াও আফ্রিকাতে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রসারে মিশর হতে পারে ‘গেটওয়ে’।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহিম এলদিন আহমেদ ফাহমি। খবর ইউএনবির

এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা উল্লেখ করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের ২৬টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। বিনিয়োগ হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আসিয়ান দেশগুলোর বাজার সুবিধা এদেশ থেকে ব্যবহার করা যাবে।

বিনিয়োগে আগ্রহী মিশরের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এদেশে আসলে বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন আহসানুল ইসলাম টিটু।

এর আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তরগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এলডিসি উত্তরণে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সেবা সহজ করতে ডিজিটাইজেশন বাড়াতে হবে। দপ্তরগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও সহজ করতে কাজ করতে হবে।

এ সময় আরও ছিলেন- বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ মুনিরুস সালেহীন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব নাভিদ শফিউল্লাহ, যুগ্ম সচিব নাহিদা আফরোজ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তরগুলোর প্রধানরা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Women workers in readymade garments sector 55 57

তৈরি পোশাক খাতে নারী শ্রমিক ৫৫.৫৭%

তৈরি পোশাক খাতে নারী শ্রমিক ৫৫.৫৭% ফাইল ছবি
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী (বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ অনুসারে) বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানায় ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৯৭ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন যার ৫২.২৮ শতাংশ নারী শ্রমিক অর্থাৎ এ খাতে নারী শ্রমিক রয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৯ জন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে তৈরি পোশাক খাতে মোট ৫০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫২ জন শ্রমিক রয়েছেন, যার ৫৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ নারী। অর্থাৎ এ খাতে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৬ জন নারী শ্রমিক (ইপিজেড ব্যতীত) রয়েছেন।

রোববার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। খবর বাসসের

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী (বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ অনুসারে) বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানায় ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৯৭ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন যার ৫২.২৮ শতাংশ নারী শ্রমিক অর্থাৎ এ খাতে নারী শ্রমিক রয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৯ জন।

‘বিকেএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিট সেক্টরে বর্তমানে মোট ১৭ লাখ ২৫৫ জন শ্রমিক রয়েছেন যার ৬২ শতাংশ নারী অর্থাৎ এ খাতে ১০ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৭ জন নারী শ্রমিক রয়েছেন। দেশে তৈরি পোশাক খাতে মোট ৫০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫২ জন শ্রমিক রয়েছেন, যার ৫৫.৫৭ শতাংশ নারী অর্থাৎ ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৬ জন নারী শ্রমিক (ইপিজেড ব্যতীত) কর্মরত রয়েছেন।’

বাংলাদেশ
Motiur the officer in question was removed from NBR

এনবিআর থেকে সরানো হলো আলোচিত কর্মকর্তা মতিউরকে

এনবিআর থেকে সরানো হলো আলোচিত কর্মকর্তা মতিউরকে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল, ঢাকার প্রেসিডেন্ট ও এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। ছবি: ট্রাইব্যুনাল
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের কর্মকর্তা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল, ঢাকার প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে আলোচিত কর্মকর্তা ড. মো. মতিউর রহমানকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের শুল্ক-১ শাখার উপসচিব মকিমা বেগম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের কর্মকর্তা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল, ঢাকার প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

এদিকে সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আফজাল করিম জানান, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও বাদ পড়তে যাচ্ছেন মতিউর রহমান। এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে বিষয়টি তাকে জানিয়েছে।

ঈদের ছুটির পর এখনও কর্মস্থলে যোগ দেননি মতিউর রহমান। সকালে ভ্যাট ও কাস্টমস আপিলাত ট্রাইবুনালে তাকে পাওয়া যায়নি।

কর্মচারীরা জানান, ঈদের ছুটির পর কর্মস্থলে যোগ দেননি মতিউর রহমান।

ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ১২ লাখ টাকায় ছাগল কেনার জেরে দেশজুড়ে আলোচিত হয় এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের নাম।

এ কর্মকর্তার বিপুল সম্পদ ও ছেলের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে দৈনিক সমকাল ২১ জুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ছাগলকাণ্ডে আলোচিত তরুণ মুশফিকুর রহমান ইফাত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মতিউর রহমানেরই ছেলে। যদিও গত বুধবার এই পরিচয় পুরোপুরি অস্বীকার করেন তিনি। আড়াল করেন ছেলের প্রকৃত পরিচয়।

‘মতিউরের দাবি ছিল, ইফাত তার ছেলে নন, এই নামে কাউকে চেনেনও না, তবে সমকালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মতিউরের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর ছেলে ইফাত। বাবার অঢেল সম্পদে বিলাসী জীবনযাপন করেন এই তরুণ।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘১৯ বছরের ইফাত মোবাইল ফোনে যে সিম কার্ড ব্যবহার করছেন, সেটি তার বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তোলা। ইফাতের স্বজনও বলছেন, মতিউর রহমান তার বাবা। মতিউর রহমান সম্পর্কে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর মামাতো বোন জামাই।’

নিজাম হাজারীকে উদ্ধৃত করে সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইফাত এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে, এটাই সত্য। কেন নিজের সন্তানকে অস্বীকার করছেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমার মামাতো বোন শাম্মী আখতার শিবলীর সঙ্গে মতিউরের বৈবাহিক বিচ্ছেদও হয়নি।’

আরও পড়ুন:
রিটার্ন জমা সাড়ে ২৮ লাখ, কর আদায় ৪ হাজার কোটি টাকা
‘১৪১ কোটির’ রাজস্ব ভবনে ব্যয় ৪১২ কোটি টাকা
বোরবারও রিটার্ন জমা দেয়া যাবে
সেরা করদাতা সম্মাননা পেল ১৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব রাজস্বেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The deposits of Bangladeshis are decreasing at an unusual rate in Swiss banks

সুইস ব্যাংকগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বাংলাদেশিদের আমানত কমছে

সুইস ব্যাংকগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বাংলাদেশিদের আমানত কমছে
এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ২৩৪ কোটি টাকা (প্রতি ফ্রাঁ ১৩২ টাকা হিসেবে)। অথচ, ওই বছরের শুরুতে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অস্বাভাবিক হারে কমছে বাংলাদেশি গ্রাহকদের আমানত। গত এক বছরের ব্যবধানে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশিদের মোট আমানতের প্রায় ৬৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

শুধু ২০২২ সালেই সুইস ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেন বাংলাদেশিরা। ২০২৩ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ২৩৪ কোটি টাকা (প্রতি ফ্রাঁ ১৩২ টাকা হিসেবে)। অথচ, ওই বছরের শুরুতে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ফ্রাঁ।

এ হিসেবে ২০২৩ সালে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তবে, এর এক বছর আগে এই আমানত হ্রাসের হার ছিল আরও বেশি। ২০২১ সালে সেখানে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ ফ্রাঁ। ২০২২ সালের শেষে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র সাড়ে ৫ কোটি ফ্রাঁতে। এরপর ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ তা পৌনে ২ কোটি ফ্রাঁতে পৌঁছেছে।

অর্থাৎ, গত দুই বছরে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছে ১১ হাজার কোটি টাকার মতো।

উল্লেখ্য, গোপন অর্থ গচ্ছিত রাখার জন্য বিশ্বজুড়ে খাতি রয়েছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোর। দেশটির ব্যাংকিং নীতির কল্যাণে কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখতে পারে ব্যাংকগুলো। যে কারণে প্রচলিত বিশ্বাস, অবৈধ আয় আর কর ফাঁকি দিয়ে জমানো টাকার একটি বড় অংশ ঢোকে ইউরোপের এই দেশটির ব্যাংকিং খাতে।

তবে, এক দশক ধরে নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও মোটা দাগে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা শুরু করেছে এসএনবি। আর তাতেই উঠে আসছে এমন সব চমকপ্রদ তথ্য।

প্রায় এক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধি পেলেও হঠাৎ করে কেন এই বিপরীতমুখী ধারা শুরু হয়েছে, তা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সুইজারল্যান্ডে গোপনীয়তা কমতে থাকায় বাংলাদেশিসহ অনেক দেশের ধনীরাই এখন অবৈধ টাকা জমা রাখতে লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও বারমুডার মতো দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশ থেকে এখনও প্রতি বছর অর্থ পাচার বাড়ছে। তবে পাচারের এই অর্থ আগে সুইস ব্যাংকে গোপনে রাখার সুযোগ পেলেও এখন আর সেই সুযোগ পাচ্ছে না পাচারকারীরা। তাই গোপনীয়তা রক্ষা হয়, এমন কোনো জায়গায়, যেমন: কানাডা, দুবাই বা অন্য কোনো দেশে সেসব অর্থ সরিয়ে নিতে পারেন তারা।

অবশ্য সেখানে শুধু বাংলাদেশিদের অর্থই কমছে না; ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের নাগরিকদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সুইস ব্যাংকে রাখা আমানতের হার ২০২৩ সালে প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Reserves increased by 318 million dollars in one week

এক সপ্তাহে রিজার্ভ বেড়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার

এক সপ্তাহে রিজার্ভ বেড়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রতীকী চিত্র। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯.২১ বিলিয়ন ডলার। ১৯ জুন রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১৮ মিলিয়ন বা ৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেড়ে ১৯.৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা বাড়তি রেমিট্যান্স পাঠানোয় মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে। খবর ইউএনবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯.২১ বিলিয়ন ডলার। ১৯ জুন রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে।

আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়তে থাকবে। কারণ জুন শেষ হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ।

জুনের শেষ সপ্তাহে আইএমএফ ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের তৃতীয় কিস্তিতে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার দিতে পারে এবং বিশ্বব্যাংক বাজেট সহায়তা হিসেবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিতে যাচ্ছে। এতে রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেট-সেটিং মেকানিজমের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়া এবং তুলনামূলক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করার এক মাস পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিতে সবশেষ উন্নতি দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:
মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২২৫ কোটি ডলার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A lot can still be revised in the budget Finance Minister

বাজেটে এখনও অনেক কিছু সংশোধন হতে পারে: অর্থমন্ত্রী

বাজেটে এখনও অনেক কিছু সংশোধন হতে পারে: অর্থমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ফার্মগেটে বিএআরসি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ছবি: সংগৃহীত
আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশের পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসছে। আমরা সব মতামত বিবেচনায় নিচ্ছি। যেগুলো বাস্তবসম্মত ও সমাধানযোগ্য সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কারণ বাজেট এখনও পাস হয়নি।’

জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পাসের আগে সরকার বাজেট নিয়ে সব ধরনের বাস্তবসম্মত সমালোচনা ও পরামর্শ বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি: প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য ও পুষ্টি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশের পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসছে। আমরা সব মতামত বিবেচনায় নিচ্ছি। বাজেটে যেগুলো বাস্তবসম্মত ও সমাধানযোগ্য সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কারণ বাজেট এখনও পাস হয়নি। এটা নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে আলোচনা করা যেতে পারে।’

আলোচনায় বিশ্বব্যাংক প্রসঙ্গে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ’’বিশ্বব্যাংক বলেছে বাংলাদেশ ভালো আছে। তারা যা বলছে আমাদের তা শুনতে হবে। কারণ তারা আমাদের টাকা দেয়। আমাদের টাকা প্রয়োজন। আপনি কি টাকা দেন? আপনি টাকা দেন, তাহলে আপনার কথাও শুনব।’

বর্তমান সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ভালাবাসে।’

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলেন যে সরকারের পতন হবে। কই সরকার তো পড়ে না। দেশ দেউলিয়াও তো হলো না। বিশ্বব্যাংক কিছু বোঝে না, আপনি সবকিছু বোঝেন?’

বাজেট নিয়ে অযথা সমালোচনা না করার অনুরোধ জানান মাহমুদ আলী। বলেন, ’বাজেট দিলাম, এটা ভালোভাবে দেখেন। না বুঝে মন্তব্য করবেন না।’

অনুষ্ঠানে সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদ ড. শামসুল আলম বলেন, ‘টাকা পাচার থেকেই মূলত ডলার সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হচ্ছে। এ কারণে ডলার সংকটও বাড়ছে। এটা রোধ করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

‘তবে পাইপলাইনে যেসব ঋণ রয়েছে তা পাওয়া গেলে ডলার সংকট কিছুটা কমে আসবে।’

ব্যাংক খাত নিয়েও কথা বলেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘২২ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ হওয়ায় ব্যাংকের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর রাশ টানতে হবে। ব্যাংক কমিশন করলে ভালো, না হলে অন্তত শক্তিশালী একটা কমিটি করা উচিত বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের নিয়ে।’

তিনি কর ন্যায়পাল নিয়োগের পাশাপাশি এনবিআর ও আইআরডির কাজ আলাদা করার তাগিদ দেন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কমাতে আমদানি নীতি সহজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভঙ্গুরতা চলছে: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস
প্রস্তাবিত বাজেট কর-ঋণনির্ভর ও লুটেরা-বান্ধব: বিএনপি
মূল্যস্ফীতি কমিয়ে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই
ব্যবসায়ীদের মূল প্রস্তাবগুলোর প্রতিফলন বাজেটে নেই: বিজিএমইএ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Seasonal leather traders suffer losses in Naogaon

নওগাঁয় লোকসানে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা

নওগাঁয় লোকসানে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়ৎ বুধবার চামড়া বেচাকেনার দৃশ্য। ছবি: নিউজবাংলা
মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ বছর লবণের দাম বেশি এবং শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় চামড়া লবণজাত করতে তাদের খরচ বেশি পড়েছে। আর বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় তাদের লোকসান করে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

ঈদ-পরবর্তী সময়ে উত্তরের জেলা নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়তে শুরু হয়েছে চামড়া বেচাকেনা। ছাগল-ভেড়ার চামড়া প্রকারভেদে ২০ থেকে ৬০ টাকা এবং গরু-মহিষের চামড়া প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ বছর লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বেশি এবং চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কম রাখায় তাদের লোকসান করে বিক্রি করতে হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যানুসারে, জেলায় এ বছর ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৯টির মতো পশু কোরবানি হয়েছে।

বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়ৎ, যেখানে সপ্তাহের প্রতি বুধবার হাট বসে। সারা বছর এ হাটে কমবেশি চামড়া বেচাকেনা হয়ে থাকে। তবে কোরবানির ঈদ-পরবর্তী সময়ে প্রচুর চামড়া বেচাকেনা হয়ে থাকে। ভোরের আলো ফোটার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এ আড়ৎ।

জেলায় দুটি চামড়া আড়ৎ রয়েছে, যার মধ্যে চাকরাইল একটি। যেখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা এবং ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনাবেচার জন্য আসেন।

তবে ঈদের পর বুধবার চামড়ার আড়তে বেচাকেনা জমে ওঠেনি। ঢাকা বা জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। আড়তে গরুর চামড়ার সরবরাহ কম হলেও ছাগলের চামড়ার সরবরাহ হয়েছে বেশি। ব্যবসায়ীরা না আসায় তাদের লোকসান করে বিক্রি করতে হয়েছে।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ বছর লবণের দাম বেশি এবং শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় চামড়া লবণজাত করতে তাদের খরচ বেশি পড়েছে। আর বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় তাদের লোকসান করে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবছর এ আড়তে ছাগল-ভেড়ার চামড়া প্রকারভেদে প্রতি পিস ২০ থেকে ৬০ টাকা এবং গরু-মহিষের চামড়া প্রতিপিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না।

গত বছরের তুলনায় বস্তায় লবণের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতে খরচ বেড়েছে। এমতাবস্থায় চামড়া শিল্পকে রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।

সাপাহার উপজেলা থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা গোলাম হোসেন বলেন, ‘মাদরাসায় এবছর ২২টি ছাগলের চামড়া পাওয়া গেছে। চামড়ায় লবণজাত করতে খরচ পড়েছে ৪৪০ টাকা। আড়তে বিক্রি করেছি ৩৪০ টাকায়। এরমধ্যে ২০ টাকা খাজনা দিয়েছি। এখন ভ্যান ভাড়া দিতে হবে ৩০০ টাকা।

‘ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে চামড়া সংগ্রহ করা মানুষের আগ্রহ হারিয়ে যাবে।’

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার বলেন, ‘১৫০ পিস ছাগলের চামড়া কিনেছিলাম, যেখানে লবণজাত করতে খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। আড়তে বিক্রি করেছি ২২ শ টাকা। আর খাজনা দিয়েছি ১৮০ টাকা। লাভ করতে এসে লোকসান করে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণ করার উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।’

মহাদেবপুর উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী সাহাদত হোসেন বলেন, ‘গত বছর প্রায় ১৩ লাখ টাকার চামড়া কিনেছিলাম, যা থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো লাভ হয়। এবছর প্রায় ৭ লাখ টাকার গরু ও ছাগলের চামড়া কিনেছি। এবার খরচ অনেক বেশি, তারপরও লাভ থাকবে ইনশাল্লাহ।’

চাকরাইল চামড়া আড়তের আহ্বায়ক ও জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঈদ-পরবর্তী আড়ত হওয়ায় অনেকেই ব্যস্ত রয়েছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের বাড়িতে চামড়া লবণ দিয়ে মজুত করে রাখায় আড়তে চামড়া সরবরাহ কম হয়েছে। ঈদের পর আড়তে ১৪ লক্ষাধিক টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়েছে। তবে আগামী বুধবার আড়তে চামড়া বেচাকেনা জমজমাট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন চামড়া ব্যবসায়ী আছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আমরা নিজেরা ইতোমধ্যে ৫০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করেছি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লবণ দিয়ে চাড়মা সংগ্রহ করে রেখেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের কাছে ওইসব চামড়া চলে আসবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গরু ও মহিষের চামড়া ৬০ থেকে ৬৫ হাজার পিস এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ১ লাখ পিস কেনা হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এসব চামড়া ট্যানারিতে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘চামড়ার দাম ঠিক আছে। তবে যেসব চামড়া ছেঁড়া ও কাটা রয়েছে সেগুলোর দাম কম। ছাগলের চামড়া বেশি কাটাছেঁড়া হয়। তবে ভালো চামড়ার দাম ভালো আছে।’

তবে চামড়ার দাম অতিরিক্ত কম হওয়ার কারণে অনীহা রয়েছে বলে তিনিও স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন:
ঈদ-পরবর্তী সাতদিন বাইরের চামড়া ঢাকায় ঢুকতে পারবে না
কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনায় সেই নৈরাজ্য
বকেয়ার আশায় দিন গুনছেন বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা
গরুর চামড়ায় বাড়ল ৩ টাকা
‘লেদারটেক বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী শুরু

মন্তব্য

p
উপরে