× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Salt farmers in the field ahead of the market
hear-news
player
google_news print-icon

বাজার চড়া, তাই আগাম মাঠে লবণ চাষিরা

বাজার-চড়া-তাই-আগাম-মাঠে-লবণ-চাষিরা
মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নেমে গেছেন লবণ চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটের চক্রান্তে পা না দিয়ে আমদানি বন্ধ রাখলে চাষিরা দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। অন্যদিকে বিসিক বলছে, চাষিরা আগাম মাঠে নামায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে উৎপাদন।

সর্বোচ্চ দামে এখন বিক্রি হচ্ছে লবণ। ফলে মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নেমে গেছেন লবণ চাষিরা। প্রস্তুতি চলছে, কোথাও আবার উৎপাদনও হচ্ছে। আমদানী বন্ধ থাকলেই ন্যায্য পাবেন চাষিরা, লবণ শিল্পের সুদিন ফিরবে– সে আশায় বুক বেঁধেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটের চক্রান্তে পা না দিয়ে আমদানি বন্ধ রাখলে চাষিরা দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। অন্যদিকে বিসিক বলছে, চাষিরা আগাম মাঠে নামায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে উৎপাদন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিকের) তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের লবণের চাহিদার ৮০ ভাগই কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মেটানো হয়ে থাকে। এ মৌসুমে কক্সবাজার সদর, ঈদগাও, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও বাঁশখালীর ৩৮ হাজার চাষি মাঠে নেমে গেছেন পুরো দমে। করছেন মাঠ প্রস্তুত।

এবার প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টন।

লবণ চাষ যেসব জায়গায় হয়, সেখানে অন্য কোনো ফসল হয় না। ফলে টার্গেট পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বিসিক। বর্তমানে ১ লাখ ৮০ হাজার টন লবণ মাঠে মজুদ রয়েছে। এর ফলে লবণ আমদানি করেনি সরকার। ইতোমধ্যে চলতি মৌসুমে কুতুবদিয়ায় ১০০ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।

চাষিরা বলছেন, মণ প্রতি লবণ উৎপাদনে খরচ হয় ২৫০ টাকা, অথচ বাজারমূল্য এখন ৫০০ থেকে ৫৫০টাকা। তাই আগেই চাষে নেমেছেন তারা।

বাজার চড়া, তাই আগাম মাঠে লবণ চাষিরা

সদর উপজেলার চৌফলদন্ডীর চাষি মোহাম্মদ তৈয়ব। লবণ চাষে তার অভিজ্ঞতা দুই যুগের বেশি। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লবণ চাষের ভরা মৌসুম হচ্ছে ফাল্গুন-চৈত্র মাস। আরও চার মাস লবণ উৎপাদন হয় ভালো। রোদ থাকলে চৈত্র মাসে এক কানিতে ১২০ মণ পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়। কিন্তু লবণের ন্যায্য মূল্য নিয়ে সংশয় কাটে না। এ কারণে অনেকে লবণ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন চাষ করার কারণে আমরা ছেড়ে যেতে পারছি না। আশা রাখছি এবার ভালো উৎপাদন ও ন্যায্য মূল্য পাব।’

জমির মালিকদের উপর ক্ষোভ জানিয়ে কুতুবদিয়ার চাষী আজিম উদ্দিন বলেন, ‘তাদের কাছে জিম্মি লবণচাষিরা। বছর বছর লবণ চাষের জমির ইজারা মূল্য বাড়ানো হচ্ছে, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অন্যান্য খরচ। এতে লবণের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

মহেশখালীর লবণ চাষী আব্দু মোনাফ বলেন, ‘গেল কয়েক বছর ধরে বিদেশি লবণ আমদানির অজুহাতে ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত আমরা। তাই অনেকে এ মৌসুমে লবণ চাষে আসেনি। যারা এসেছে, তারাও ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন। আবাহাওয়ার সমস্যা তো থাকবেই।’

এ ছাড়া লবণ চাষকে কেন্দ্র করে ইসলামপুরে গড়ে উঠেছে ৪০টি রিফাইনারি কারখানা। এর মধ্যে ৩০-৩৫টি কারখানা এখন সচল আছে। একটি রিফাইনারি কারখানা চালু করতে হলে সপ্তাহে কমপক্ষে ৭০ টন লবণ প্রয়োজন। লবণ রিফাইনারিতে প্রতিটি কারখানায় ৩০-৪০ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের কাজ দিতে হলে সপ্তাহে ৭০ টন ‘র’ লবণ প্রয়োজন বলে জানান মালিকরা।

বাজার চড়া, তাই আগাম মাঠে লবণ চাষিরা

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মৌসুমের ১ লাখ ৮০ হাজার টন লবণ মাঠে মজুদ আছে। আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে এবার চাষীরা বেশি উপকৃত হবেন, আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ লবণ চাষি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘লবণ আমদানি চক্র সুকৌশলে সোডিয়াম সালফেট (মিল-কারখানায় ব্যবহৃত লবণ) নাম দিয়ে দেশে অহরহ নিয়ে আসছে সোডিয়াম ক্লোরাইড তথা খাদ্যলবণ। এসব লবণ তারা চীন থেকে আমদানি করে সরাসরি বাজারজাত করছেন। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আমদানিনির্ভর কিছু লবণ মিল মালিক সবসময়ই লবণ আমদানির জন্য অনুমতি পেয়ে থাকেন। তারা চান দেশীয় লবণ শিল্প চিরতরে বন্ধ হয়ে যাক। বিপরীতে সুফল হিসেবে তারা দেশের টাকা লুটেপুটে খাক।’

তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমের ১ লাখ ৮০ হাজার টন লবণ মাঠে মজুদ আছে। লবণ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে এ মৌসুমে ভাল দাম পাব। যার ফলে বাড়বে চাষির সংখ্যা। বেড়ে যাবে লবণ উৎপাদনও।’

কক্সবাজার বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে জানান, প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কক্সবাজারের লবণ দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে আশা করছেন তিনি। এবারের লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্টিক টন, যা পূরণে মাঠ পর্যায়ের চাষিদের নানা সহযোগিতা দিতে জবে বলে জানান বিসিকের এই কর্মকর্তা।

মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ‘একটি চক্র লবণ শিল্পকে ধ্বংস করে ফায়দা লুটতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, লবণ চাষিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করবেন। তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন। লবণ চাষিরা প্রধানমন্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে বিধায় এখন সুফল পাচ্ছে।’

বাজার চড়া, তাই আগাম মাঠে লবণ চাষিরা

লবণ শিল্পের ইতিহাস বলছে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে কক্সবাজার জেলায় লবণ চাষ শুরু হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সহায়তায় এখানে বাণিজ্যিকভাবে লবণ ব্যবসা বিকাশ লাভ করলেও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংরেজ সরকার এ দেশে লবণ উৎপাদন নিষিদ্ধ করে ইংল্যান্ড থেকে লবণ আমদানি শুরু করে। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে উপকূলীয় জমি পরিষ্কার করে সাগরের পানি সূর্যে ও তাপে বাষ্পীভূত করার মাধ্যমে এক ব্যক্তি লবণ চাষ শুরু করেন।

১৯৪৭ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলার গোমাতলী মৌজাতে এক ব্যক্তি ১২০ একর জমি দীর্ঘ মেয়াদি বন্দোবস্ত নিয়ে লবণ চাষ শুরু করেন। সে থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লবণ উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
কৃষি বিভাগের সহায়তা চান পঞ্চগড়ের পান চাষিরা
লবণ চাষিদের ঋণসীমা বাড়ল
কৈখালীর কিশোরীদের নিরাপদ পিরিয়ডে পাশে দাঁড়াল সেনোরা
‘বড় বিপদে আছি বাপু’
সার সংকটে চা চাষিরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The chairmen returned the blanket

কম্বল ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা

কম্বল ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা শাহজাদপুরে বৃহস্পতিবার বরাদ্দের কম্বল ফেরত দেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। ছবি: নিউজবাংলা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্যানযোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেরত দেন চেয়ারম্যানরা। সেগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়েছে।

শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১০টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া কম্বল ফেরত দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মেরিনা জাহান বরাদ্দের কম্বলের বেশিরভাগ অংশ চেয়েছেন। এতে দরিদ্রদের দেয়ার মতো পর্যাপ্ত কম্বল থাকবে না।

তবে এমপি মেরিনা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানদের সঙ্গে তার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

কম্বল ফেরত দেয়ার বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে জন্য বরাদ্দ কম্বলগুলো ভ্যানে করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়েছে।

অভিযোগকারী ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, শীতে অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য শাহজাদপুরের ১৩ ইউনিয়নে ৩৫০ পিস করে কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন চেয়ারম্যানদের জানান, এমপি প্রতিটি ইউনিয়নের বরাদ্দ থেকে ২০০ পিস করে কম্বল নিজে বিতরণের জন্য চেয়েছেন।

গালা ইউপির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এত কমসংখ্যক কম্বল বিতরণ করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হবে। তাই সরকারি বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো আমরা ফেরত দিয়েছি।’

শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দিয়েছেন কিনা এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইউএনও সাদিয়াকে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘স্ব-স্ব উপজেলায় সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিতরণ করতে পারেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই।’

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, ‘আমি বলেছি প্রতিটা ইউনিয়নে গিয়ে কম্বল বিতরণ করব। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসেই সমাধান করা হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
College student killed by gang of teenagers in Comilla

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মো. পাবেল। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলেজ ছাত্র পাবেল সঙ্গীদের নিয়ে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান। এ সময় একদল কিশোর তাদেরকে মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো. পাবেল নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী খুন হয়েছেন।

চৌদ্দগ্রামের আলকরায় রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভরঞ্জন চাকমা।

নিহত পাবেল উপজেলার গুণবতী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ফেনী মহিপাল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পাবেল নিজ বাড়ি গুণবতী থেকে পাশের আলকরা ইউনিয়নে নানা বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে স্থানীয় কিশোরদের সঙ্গে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান তিনি। এ সময় একদল কিশোর নিজেরা খেলবে বলে পাবেল ও তার সঙ্গীদের মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। ওইসময় কিশোরদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি পাবেলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন আহত হন। তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

ওসি শুভরঞ্জন চাকমা জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে বলে স্থানীয়রা জা‌নি‌য়ে‌ছে। জড়িত সবাই স্থানীয় কিশোর। ঘটনার পর থে‌কে তারা পলাতক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কু‌মিল্লা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বীমার টাকার জন্য স্ত্রীকে খুন
বড় ভাই খুন, অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে
আফতাবকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তরবারি হামলা
সন্তানকে নিয়ে স্বামীকে ১০ টুকরা করে ফ্রিজে
শ্রদ্ধার মরদেহ ফ্রিজে রেখেই ডেটিংয়ে আফতাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If Khaleda Zia comes to the rally the information given in the release application will be false

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা
খালেদা জিয়ার মুক্তির দুই শর্তের মধ্যে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল তার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি যদি সমাবেশে আসেন, তাহলে তার মুক্তির আবেদনে দেয়া অসুস্থতার তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, 'বিএনপি নেতারা এখনও দাবি করেন খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে হবে। কিন্তু মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়? দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাকে আবার জামিন কীভাবে দেবে?

‘বিএনপি নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবেন। তার মুক্তির দুই শর্তে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তাকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া যদি ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে যান তাহলে তার মুক্তির আবেদনে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৭ ও ২০০৮ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, তখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটির বেশি দুর্নীতির মামলা হয়। তদন্ত করা হয়, এফআইআর হয়, চার্জশিটও হয়। প্রতিটি সময়ই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তারা শুধু নিম্ন আদালতে না, যেতে যেতে আপিল বিভাগেও গিয়েছেন। সেখান থেকে বলে দিয়েছে, বিচারিক আদালত হয়ে মামলা শেষ করতে হবে।

’বিচারিক আদালতে বিচার হয়েছে, সাজাও হয়েছে। একটি মামলায় পুনরায় আপিল করেছেন, সেটাতে আবার হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়েছে। আরেকটিতে বিচারিক আদালত সাজা দিয়েছে। তারপরে তিনি জেলে গেছেন। জেলে থাকাকালে তার পরিবার থেকে আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়- তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার তাকে জেল থেকে ছাড়ার প্রার্থনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মহানুভবতায়, ৪০৮ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করেছেন। দুই শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, একেএম শামীম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির ষড়যন্ত্র সফল হলে দেশ বিরান ভূমি হবে: আইনমন্ত্রী
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকবে কি না চিন্তাভাবনা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
খালেদার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
City residents are angry at the A League rally blocking the road

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর
ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

বরিশাল নগরীতে নগর ভবনের সামনের রাস্তা আটকে পার্বত্য শান্তি চুক্তি দিবস উদযাপনের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশ হবে শুক্রবার বিকেলে। এ জন্য রাস্তার উপর মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয় বুধবার রাত থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে এই আয়োজনের কারণে বিকল্প পথ ব্যবহারে ভোগান্তি হচ্ছে জানিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

ঘটনাস্থলে বৃহস্পতিবার সন্ধ‌্যায় গিয়ে দেখা গেছে, পার্বত‌্য শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রশস্ত সড়কটি আটকে মঞ্চ তৈরি করায় যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

অটোরিকশাচালক মাইনুল হোসেন বলেন, ‘মানুষের তো কমন সেন্স থাকে ভাই। পুরো রাস্তা আটকে মঞ্চ করছে। যাত্রীরা তো অনেক ঝামেলায় পড়ে গেছে। পুলিশ অন‌্য পথ দিয়ে যেতে বলে। অনেক ঘোরা লাগে।

‘যেখানে মঞ্চ করেছে, সেখান থেকে লঞ্চ ঘাট ৩ মিনিটের পথ। কিন্তু ঘুরে অন‌্য পথ দিয়ে যেতে অনেক সময় লাগে। যাত্রীরা ঘুরতে চায় না।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ওষুধ বিক্রেতা ইমদাদুল হক মাসুম বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে বিআরটিএ অফিস যাচ্ছিলাম। সিটি করপোরেশনের সামনে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। স্টেজ করছে। তারপর ঘুরে বরিশাল ক্লাবের সামনে দিয়ে বিআরটিএ অফিসে গেছি।

‘এমনভাবে স্টেজ করেছে যে একটা মোটরসাইকেলও যেতে পারে না। আওয়ামী লীগের নেতাদের এ কেমন চিন্তা ভাবনা বুঝি না।’

কলেজ শিক্ষক মোশাররেফ হোসেন বলেন, ‘এই সড়কটাতে ফায়ার সার্ভিস আছে। কোনো ধরণের দুর্ঘটনা যদি ঘটে তাহলে তো এই সড়ক হয়েই বের হতে হবে। এখন কি তারা বাইপাস সড়ক দিয়ে ঘুরে বের হবে?

‘এই সড়ক হয়ে লঞ্চঘাট, পোস্ট অফিস, সিটি করপোরেশন, ডিসি অফিস, বিআরটিএ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সপ্তাহের শেষ দিনে যেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। যেমন আমারই ডিসি অফিসে কাজ ছিল। রিকশা নিয়ে প্রথমে নগর ভবনের সামনের সড়কে গেলেও, পরে ঘুরে যেতে হয়েছে।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন‌্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম‌্যান একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের নাম যে পাল্টেছে তা চোখে পড়ে না। আর রাস্তাটা যে একটু আটকেছে তা চোখে পড়েছে?’

সড়ক আটকে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে বরিশাল মহানগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ কমিশনার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, তিনি অনুমতির বিষয়ে অবগত নন।

তবে পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনুমতির জন‌্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। অনুমতি দেয়া হয়েছে নগর ভবনের সামনের সড়কে সমাবেশ করার জন‌্য।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি
পরিবহন ধর্মঘটের আগেই রাজশাহীর সমাবেশে নেতা-কর্মীরা
সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট
ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যবদ্ধের ডাক শেখ সেলিমের
শিক্ষককে লাঞ্ছনার মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cocktail injured police from BNP procession

বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল, আহত পুলিশ

বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল, আহত পুলিশ
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। এ ঘটনা মিথ্যা ও গুজব।’

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-দোহার বাইপাস সড়কে দুর্বৃত্তদের মারধরে আহত হয়েছেন থানার এসআই মো. সাইফুল। এসময় রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, আগুন দেয়া হয়েছে একটি মোটরসাইকেলে।

পুলিশ বলছে, বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।

শ্রীনগরের কুশরীপাড়া গ্রামের বাইপাস সড়ক মোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত এসআই সাইফুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কারাবন্দি দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপি। মিছিলটি ঢাকা-দোহার বাইপাস সড়কের মোড়ে পৌঁছলে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলে থাকা লোকজন একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়, দুটি অটো ভাঙচুর করা হয়।

ওসি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে এসআই সাইফুলকে মারধর করে হামলাকারীরা।

এসব সত্য নয় জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। এ ঘটনা মিথ্যা ও গুজব।’

আরও পড়ুন:
সমাবেশ ঘিরে অপরাজনীতি হলে রাজপথেই জবাব: মেয়র লিটন
জামিন পেলেন বিএনপি নেতা সাবেক এমপি নাদিম
‘ধর্মঘটে মিডিয়ায় বাড়তি প্রচার পাচ্ছে বিএনপি’
কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে ৪ ধর্মগ্রন্থ, রাজশাহীতে কী?
সমাবেশ কোথায় হবে তা সময়ই বলে দেবে: আব্বাস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Suffering in Sirajganj due to transport strike

পরিবহন ধর্মঘটে সিরাজগঞ্জে দুর্ভোগ

পরিবহন ধর্মঘটে সিরাজগঞ্জে দুর্ভোগ সিরাজগঞ্জের এম এ মতিন বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান তালুকদার বলেন, ১০ দফা দাবি আদায়ে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। দাবি মানা না হলে এ আন্দোলন চলমান থাকবে।

রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ১০ দফা দাবিতে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পড়েছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সিরাজগঞ্জের সব রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকালে সিরাজগঞ্জ এম এ মতিন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী রুটের বাস বন্ধ। জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের বাসও চলছে না। শুধু ঢাকাগামী বাস চলাচল করছে। সকাল থেকে শ্রমিকরা দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান তালুকদার বলেন, ১০ দফা দাবি আদায়ে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। দাবি মানা না হলে এ আন্দোলন চলমান থাকবে।

বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এম এ মতিন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীরা বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

আনোয়ার হোসেন নামের যাত্রী বলেন, ‘আমি পরিবার নিয়ে পাবনা যাবার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছি। এসে দেখছি গাড়ি চলছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’

আরেক যাত্রী জমসের জানান, ‘চিকিৎসা নিতে এনায়েতপুরে এসেছিলাম, এখন রংপুরে যাব, কিন্তু গাড়ি নেই। বাধ্য হয়ে আবার হোটেলে ফিরে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণের দাবি
পরিবহনসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবায় ধর্মঘট ডাকলে সাজা
সিলেটে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু আজ
বাস মালিকরা স্বাধীন, আমাদের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরিবহন শ্রমিক আছেই বলেই দেশের চাক্কা ঘুরছে: শাহাজান খান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no use calling for the fall of the government Obaidul Quader

সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের

সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বিএনপিকে আবারও বলতে চাই, নির্বাচনে আসুন। ফখরুল সরকারকে বলেছেন- নিরাপদ প্রস্থান নিতে। আমি বলতে চাই, নিরাপদ প্রস্থানের একমাত্র পথ নির্বাচন। নির্বাচনেই প্রমাণ হবে, কারা বিজয়ী আর কাদের পতন হবে। সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে কোনো লাভ নেই।’

বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে কোনো লাভ নেই। নির্বাচনেই প্রমাণ হবে, কারা জয়ী আর কাদের পতন হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বিএনপিকে আবারও বলতে চাই, নির্বাচনে আসুন। ফখরুল সরকারকে বলেছেন- নিরাপদ প্রস্থান নিতে। আমি বলতে চাই, নিরাপদ প্রস্থানের একমাত্র পথ নির্বাচন। নির্বাচনেই প্রমাণ হবে, কারা বিজয়ী আর কাদের পতন হবে। সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে কোনো লাভ নেই।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, নির্বাচনে খেলা হবে। ডিসেম্বরেই খেলা হবে। বিএনপির আগুন আর লাঠির বিরুদ্ধে খেলা হবে। আগুন আর লাঠি নিয়ে এলে খেলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, ভোট চুরির বিরুদ্ধে, ভুয়া ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে খেলা হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল এখন নাটক শুরু করছেন। নাটক কি? কোথাও সমাবেশ দিলে ৭ দিন আগে থেকে মিথ্যাচার করেন,বাধা দেয়া হচ্ছে। সরকার বাধা দিচ্ছে। আর কাঁথা-বালিশ, হাঁড়ি-পাতিলের পর চালের বস্তা সঙ্গে টাকার বস্তা আর মশার কয়েল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসে। কুমিল্লাতে তো কেউ বাধা দেয়নি।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। উনারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন না। মুখে মধু আর অন্তরে বিষ- এরই নাম ফখরুল। ফখরুল সাহেব, অনুমতি দেয়া হয়েছে, আপনাদের মিটিংয়ে কেউ বাধা দেবে না। আমরা রাজশাহীতেও বলে দিয়েছি, সেখানে যেন পরিবহন ধর্মঘট না করে। ঢাকায়ও পরিবহন ধর্মঘট হবে না, নেত্রী বলে দিয়েছেন।’

সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি দেয়ার পরও যদি বাড়াবাড়ি করেন, লাফালাফি করেন, আগুন নিয়ে নামেন, লাঠির সঙ্গে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে মাঠে নামেন তাহলে খবর আছে। আমরা পাল্টাপাল্টি করবো না। আমরা শান্তি চাই। ক্ষমতায় থেকে আমরা অশান্তি কেন করবো। আমরা মানুষকে শান্তিতে রাখতে চাই। আমরা ক্ষমতায় আছি অশান্তি হলে তো সেখানে মাথা ঘামাতে হবে।’

কাদের আরও বলেন, ‘তারেক লন্ডনে বসে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাই তারেকের হাওয়া ভবনের অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে খেলা হবে। সারা বাংলাদেশ থেকে কত টাকা পাচার করা হয়েছে শেখ হাসিনা তা খতিয়ে দেখছেন। সব টাকা উদ্ধার করা হবে। টাকা পাচারকারী তারেকসহ প্রত্যেকের টাকা উদ্ধার করা হবে।’

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি কোন রাজনৈতিক দল নয়। এ দলের সৃষ্টি ক্যান্টনমেন্টে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সংবিধানকে হত্যা করেছেন। জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে মুক্তি দিয়ে হত্যার রাজনীতি শুরু করেছিলেন।

‘বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। বেশি পাগলামী করলে পাবনায় পাগলা গারদে অথবা পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস.এম কামাল হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, নার্গিস রহমান।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে মাহাবুব আলী খানকে সভাপতি ও জিএম সাহাব উদ্দিন আজমকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করেন শেখ সেলিম।

এ সময় তিনি কাজী লিয়াকত আলী লেকুকে সভাপতি ও আবু সিদ্দিক সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর উপজেলা কমিটি এবং গোলাম কবিরকে সভাপতি ও আলীমুজ্জামান বিটুকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌর আওয়ামী লীগের কমিটিও ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন:
ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অপশক্তি মাঠে নেমেছে: ওবায়দুল কাদের
খেলার নিয়ম ভঙ্গ করলে বিএনপির খবর আছে: কাদের
১০ ডিসেম্বর নিয়ে এখন ডিফেন্সিভ কেন: বিএনপিকে কাদের
বিএনপি সন্ত্রাসের পথে ফিরে যাবে: কাদের
টাকার বস্তা খালি, গলার জোর কমে ডিফেন্সিভ মুডে ফখরুল: কাদের

মন্তব্য

p
উপরে