× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Ginger cultivation in bags
hear-news
player
google_news print-icon

বস্তায় আদা চাষ

বস্তায়-আদা-চাষ
বস্তায় হচ্ছে আদা চাষ। ছবি: নিউজবাংলা
সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় ফলানো যায় আদা। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে ফলন ভালো হচ্ছে বলে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

প্রতিবছর উপজেলার সব ইউনিয়নের ফসলি জমিতে আদা চাষ করা হতো। এতে অনেক কৃষক লাভের মুখ দেখতে পায়নি। ফলে তারা বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতিমধ্যে উপজেলাটির পুটিজানা ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে বেশকিছু কৃষক আদা চাষে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

পুটিজানা ইউনিয়নের বেড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক শংকর চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমার ৩০ শতাংশ পতিত জমিতে প্রায় ৬ হাজার বস্তা আদা চাষ করেছি। বস্তা, আদা, সার কেনা এবং পরিচর্যাসহ প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে প্রায় ৩২ টাকা।’

বস্তায় আদা চাষ

এনায়েতপুর ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করেছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম কমপক্ষে ৬০ টাকা। ৬০০ বস্তায় ১ হাজার ২০০ কেজি উৎপাদন হলে বাজারে ৭২ হাজার টাকা দাম পাওয়া যাবে। এতে খরচ বাদে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় ফলানো যায় আদা। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বাড়ির উঠান, প্রাচীরের কোল ঘেঁষে বা বাড়ির আশেপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যেখানে খুশি রাখা যায়। এর জন্যে আলাদা জমি ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।

চাষাপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে একটি বস্তায় ৩ ঝুড়ি মাটি, ১ ঝুড়ি বালি, ১ ঝুড়ি গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক ফুরাডান ৫জি ২৫ গ্রাম নিতে হবে। মাটির সঙ্গে এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

এবার একটি বালিভর্তি টবে তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। আদার কন্দ লাগানোর আগে ছত্রাকনাশক অটোস্টিন ২ গ্রাম এক লিটার পানিতে দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। অন্য ছত্রাকনাশকও ব্যবহার করা যাবে।

শোধনের পর কন্দগুলো আধাঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। ২০ থেকে ২৫ দিন পর গাছ বের হবে। তখন আদার চারা সাবধানে তুলে বস্তার মুখে ৩ জায়গায় বসিয়ে দিতে হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদা গাছ বড় হয়ে যাবে।

জেসমিন নাহার বলেন, এ উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে। এ বছর প্রথম বেশকিছু কৃষক বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তাঁদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মতিউর রহমান বলেন, বস্তায় চাষ করলে অতিবৃষ্টি বা বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। একবার ফসল তোলার পর সেখানে আলাদা করে কোনো সার ছাড়াই আরেকটি ফসল ফলানো যায়। ফলে খরচ একেবারেই কম।

আরও পড়ুন:
দামে কারসাজি: ইউনিলিভার, সিটি, প্যারাগন, কাজীর বিরুদ্ধে মামলা
৩০০ টাকা থেকে মরিচ এখন ৪০
ঝাঁজ কমল কাঁচা মরিচের, কমল সবজির দামও
কমেছে সবজির দাম, বেড়েছে মাংসের
ঈদের ছুটিতে কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি, শসার সেঞ্চুরি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
I will die if I give rice to the government

‘সরকারকে ধান দিতে গেলে মরে যাব’

‘সরকারকে ধান দিতে গেলে মরে যাব’ ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষক আরফান আলী বলেন, ‘সরকার যে ধানের দাম ঠিক করেছে, তাতে সরকারকে ধান দিলে লাভের পরিবর্তে লোকসান বেশি হবে। অথচ বাজারে ধানের দাম বেশি। সরকারকে ধান দিতে গেলে তো আমরা মরে যাব।’

দিনাজপুরের কৃষক আরফান আলী। আমন মৌসুমে বাজারে আগাম ধান বিক্রি করছেন বেশি দামে। এতে বেশ খুশি তিনি। ভালো দাম পেয়ে তার মতো খুশি জেলার অন্যান্য কৃষকরাও। বেশি দাম পাওয়ায় সরকারের নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে অনীহা জেলাটির কৃষকদের। কারণ হিসেবে আরফান বলেন, ‘আমন মৌসুমে ঠিকমত বৃষ্টি হয়নি। পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হয়েছে। তার উপর সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। আবার সরকার যে ধানের দাম ঠিক করেছে, তাতে সরকারকে ধান দিলে লাভের পরিবর্তে লোকসান বেশি হবে। সরকারকে ধান দিতে গেলে তো আমরা মরে যাব।’

এদিকে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় জেলাটিতে খাদ্য বিভাগের চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

দেশের শীর্ষ ধান ও চাল উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত জেলাটির বাজারগুলোতে আমন ধান উঠতে শুরু করেছে। আগাম হওয়ায় বাজারে ধানের দাম বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় জেলাটিতে খাদ্য বিভাগের চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

মিল মালিকরা বলছেন, বর্তমান বাজার অনুযায়ী সরকারকে চাল সরবরাহ করতে গেলে তাদের গুনতে হবে বিশাল লোকসান। আর খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হলে ধানের বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে ১৪ হাজার ৪১৭ টন ধান এবং মিল মালিকদের কাছ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে ৪৭ হাজার ৬৮৮ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জেলাটিতে আমন সংগ্রহ অভিযান চলছে। গত ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলবে আগামি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

দিনাজপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে ৭৭ কেজির গুটিস্বর্ণ ধান বিক্রি করা হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিনা-৭ জাতের ধান বিক্রি করা হচ্ছে ২ হাজার ৬৫০ টাকা। এই হিসাবে প্রতি কেজি মোটা ধানের দাম পড়ছে ৩১ থেকে ৩৪ টাকা। সরকারের খাদ্য অভিযানে ধান ও চালের দাম যে দর দেয়া হয়েছে তার চেয়ে বাজারে ৩ থেকে ৫ টাকা কেজি দরে বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা।

‘সরকারকে ধান দিতে গেলে মরে যাব’

কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দেড় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। ধান আবাদ করতে গিয়ে অনেক খরচ হয়েছে। সরকারকে ধান দিলে আমার কিছুই থাকবে না। বাজারে দাম বেশি। তাই বাজারে ধান বিক্রি করছি।’

বাংলাদেশ অটো-মেজর-হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, ‘দেশের স্বার্থে বাজার থেকে বেশি দামে ধান কিনে সরকারকে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু বেশি দামে ধান কিনে লোকসান দিয়ে আর কত দিন সরকারকে চাল সরবরাহ করব। বাজারে ধানের দাম অনেক বেশি। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারলেও মিল মালিকরা কিনতে পারবে না। খাদ্য বিভাগকে ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তাহলেই আমন সংগ্রহ অভিযান সফল হবে। নইলে সফল হবে না।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার টন চাল কেনার জন্য মিলারদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। বাজারে এখনও পুরো দমে ধান উঠতে শুরু করেনি। পুরোদমে ধান উঠতে শুরু করলে বাজারে ধানের দাম অনেক কমে আসবে। তাই এবছর ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান সফল হবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
কাউয়াদিঘী হাওরে জলাবদ্ধতা, আমন আবাদ ব্যাহত
বর্ষায় নেই বৃষ্টি, সেচযন্ত্রেই ভরসা
বন্যার পর খরায় আমন চাষির হাত মাথায়
চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম
প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Standard farmers affected by the effects of chemicals in the cultivation of poison free dragons

রাসায়নিকের প্রভাবে বিষমুক্ত ড্রাগন চাষে ক্ষতি

রাসায়নিকের প্রভাবে বিষমুক্ত ড্রাগন চাষে ক্ষতি ফুলবাড়িয়ায় চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল । ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফুলবাড়িয়া উপজেলা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ উপজেলায় ২৬ একর জমিতে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। ড্রাগনে রাসায়নিক স্প্রে না করতে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি। তবুও গোপনে কেউ এটি করছে কিনা আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে এর প্রমাণ মিললে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ড্রাগন ফল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক চাষি।

কিছু অসাধু চাষি রাসায়নিক ব্যবহার করায় তাদের চাষ করা ফল আকারে বড় হচ্ছে, অথচ জৈব সার দিয়ে চাষ ফল হচ্ছে তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের।

এ অবস্থায় ছোট ফলগুলো বিক্রিতে লাভ হচ্ছে না। তাই ওই চাষিরা ড্রাগন চাষ বন্ধ করে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার ড্রাগন চাষি অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিক প্রিন্স ‘কিষাণ সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ’ নামে ৮ একর জায়গায় কৃষি খামার করেছেন।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দেশি-বিদেশি গাছের বাগানগুলো থাকলেও ড্রাগন ফলের বাগানের অসংখ্য গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ সময় শ্রমিকরা অন্য জাতের গাছগুলোতে পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকলেও ড্রাগন গাছ পরিচর্যায় কাউকে দেখা যায়নি।

আবু বক্কর সিদ্দিক প্রিন্স বলেন, ‘অসাধু ড্রাগন চাষিরা ফুলে ড্রাগন টনিক নামের একটি রাসায়নিক স্প্রে করে। এ কারণে ফল বেশ বড় হয় এবং এক পাশে লাল থাকলেও আরেক পাশে থাকে সবুজ। আর জৈব সার দিয়ে পরিচর্যা করা বিষমুক্ত ড্রাগন ফল তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। বাজারে দামও পাওয়া যায় খুব কম।

‘এতে প্রতিবছর লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই ৬ হাজার গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছি। অন্য গাছগুলোও ধীরে ধীরে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছে। অথচ প্রশাসনের নজরদারি নেই। ফলে আমাদের মতো বিষমুক্ত ফল চাষ করা ব্যক্তিরা লোকসানের মুখে পড়ছে। অনেক আদর্শ খামারি বিষমুক্ত ফল চাষ করে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আবার অনেকে বেশি লাভের আশায় ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করছেন।’

উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছে ফল আসে। বছরে ছয় থেকে সাত বার পাকা ড্রাগন সংগ্রহ করা যায়। ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ড্রাগন ফল হজমে সহায়তা করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়াও হার্টের জন্য উপকারী ড্রাগন ফল। বর্তমানে বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের চাহিদা বাড়ার কারণে উৎপাদনও বাড়ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফুলবাড়িয়া উপজেলা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ উপজেলায় ২৬ একর জমিতে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। ড্রাগনে রাসায়নিক স্প্রে না করতে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি। তবুও গোপনে কেউ এটি করছে কিনা আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে এর প্রমাণ মিললে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভয়কে জয় করে নাছিমার ড্রাগন বাগান
ইউটিউব দেখে ফয়েজের ড্রাগন ফল চাষ
ড্রাগন ফল চাষে আকরাম গাজীর সাফল্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Annual income of 30 lakhs in hundred varieties of fruit garden

শত প্রজাতির ফল বাগানে বছরে আয় ৩০ লাখ

শত প্রজাতির ফল বাগানে বছরে আয় ৩০ লাখ প্রায় সাত একর জমিতে শাওন সরদার গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধোপাখালি ইউনিয়নে প্রায় সাত একর জমিতে শাওন সরদার গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান। শুরু করেছিলেন শখের বশে। এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও ফলের বাগান করতে শুরু করেছেন।

সিডলেস লেবু, ভিয়েতনামি মাল্টা, বারোমাসি আম, পেঁপে, আঙুর, পেয়ারা, ড্রাগন, কুলসহ শতাধিক প্রজাতির ফলের বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা কৃষি উদ্যোক্তা শাওন সরদার। সব খরচ মিটিয়ে এখান থেকেই বছরে আয় করছেন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠি গ্রামের প্রায় সাত একর জমিতে শাওন সরদার গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান।

২০১৩ সালে প্রথমে শখের বসে বাগান করা শুরু করলেও এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন বাগান। বাগানের একটি অংশে রয়েছে চায়না-থ্রি সিডলেস জাতের লেবু। প্রতিটি গাছে লেবু ঝুলছে থোকায় থোকায়। অনেক গাছ নুয়ে পড়েছে লেবুর ভারে।

শত প্রজাতির ফল বাগানে বছরে আয় ৩০ লাখ

বাগানের একটি অংশে চায়না-থ্রি সিডলেস জাতের লেবুগাছ রয়েছে ৫ শতাধিক। বাজারে স্বাদ ও ঘ্রাণে অতুলনীয় এ লেবুর চাহিদাও রয়েছে অনেক। শুধু লেবু নয়, এ বাগানে রয়েছে বারোমাসি আম, ভিয়েতনামি মাল্টা, থাই পেয়ারা, ড্রাগন, আঙুর, কমলা, বেল, সরিফা আতা, চেরি, পেঁপে, কুলসহ শতাধিক প্রজাতির ফলের গাছ।

উদ্যোক্তা শাওন সরদার বলেন, ‘২০১৩ সালে শখ থেকেই ফলের বাগান শুরু করি। পরে কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে গাছের পরিচর্যা করতে থাকি। একটা সময় আমার প্রায় প্রতিটি গাছে ফল আসতে শুরু করে। শুরু করি ফল বিক্রি। পরে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় গাছের প্রজাতি ও জায়গার পরিমাণ বাড়াতে থাকি।

‘এখন আমার জমির পরিমাণ সাত একর। আগামী দিনে জমির পরিমাণ আরও বাড়ানোর ইচ্ছা আছে। আমার বাগানে নিয়মিত কাজ করছেন পাঁচজন শ্রমিক। এখন আমার বাগানে শত প্রজাতির গাছ রয়েছে। এই সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়বে। বর্তমানে অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, পার্সিমনসহ বেশ কিছু বিদেশি ফলের গাছ পরীক্ষামূলক চাষের পর্যায়ে রয়েছে। ফলাফল ভালো পেলে এসব বিদেশি গাছও বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব।’

শাওনের বাগান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় তিন বছর ধরে এ বাগানে কাজ করছি। এখানে গাছে পানি, সার ও কীটনাশক স্প্রে করাসহ প্রায় সব কাজ আমিসহ আমরা পাঁচজন করে থাকি। এ ছাড়া নতুন চারা তৈরির জন্য মাটি প্রস্তুত ও বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি পর্যন্ত যাবতীয় কাজ আমরাই করে থাকি। বর্তমানে আমাদের বাগান থেকে খুলনা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ফল ব্যবসায়ীরা ফল পাইকারি হিসাবে কেনেন।’

শত প্রজাতির ফল বাগানে বছরে আয় ৩০ লাখ

অপর শ্রমিক মতি মাঝি বলেন, ‘আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করি। ফলনও ভালো হচ্ছে। এ বাগানের ইনকাম দিয়ে আমার সংসার চলে।’

শাওন সরদারের প্রতিবেশী কামরুল হাসান বলেন, ‘শাওন একজন শিক্ষিত ছেলে। পড়ালেখা শিখে সে যখন ফল বাগান তৈরি করছিল, তখন আমরা তাকে পাগল বলেছিলাম। কিন্তু বছর ঘুরতে দেখি শাওনের প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। যখন সে ফল বিক্রি শুরু করে, তখন আমি তার দেখাদেখি ফল বাগান শুরু করি। এখন আমি প্রায় দুই একর জমিতে ড্রাগন চাষ করছি। এ বছর আমি ড্রাগন ফল বিক্রি করেছি প্রায় ২ লাখ টাকার।’

একই এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শাওন আমাদের গৌরব। সে আমাদের অনুপ্রেরণা। একটা সময় ছিল আমাদের এলাকায় ধান ও কিছু সবজি ছাড়া কিছুই হতো না। এখন আমরা শাওনের দেখাদেখি গ্রামের প্রায় প্রতিটি কৃষক ড্রাগান, কুল, কমলা, পেঁপেসহ নানা ধরনের ফল চাষ করছি। লাভবানও হচ্ছি।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজিজুল রহমান বলেন, ‘শাওন সরদার আমাদের কৃষি অফিস থেকে মিশ্র ফল বাগান তৈরির বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আমরা তাকে ফল গাছ ও বিভিন্ন সময় নানা উপকরণ দিয়ে সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করেছি। এ ছাড়া তিনি নিজেও বিভিন্ন বিদেশি ফল চাষ করেছেন, যেগুলো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তার দেখাদেখি ওই গ্রামের অন্যান্য কৃষকও মিশ্র ফল বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছে। তাদেরও কৃষি বিভাগ প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
‘বিশেষ সুবিধা নয়, বাজেটে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই’
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রিপেইড কার্ড চালু
চাকরি ছেড়ে নার্সারি, মাসে আয় ২ লাখ
নারী উদ্যোক্তা ফোরামের আয়োজনে জুসি ফেস্ট অনুষ্ঠিত
নারী উদ্যোক্তাদের জুসি ফেস্ট শনিবার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
37 Farmers Debt Debt Found Investigation Committee

৩৭ কৃষকের ঋণখেলাপ, পাবনা গেল তদন্ত কমিটি

৩৭ কৃষকের ঋণখেলাপ, পাবনা গেল তদন্ত কমিটি পাবনায় পৌঁছে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তদন্ত কমিটির তিন সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা
গত ২৮ নভেম্বর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারীতে আলোচিত ৩৭ কৃষকের ঋণ খেলাপের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এখন পাবনায়।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় কমিটির সদস্যরা পাবনা শহরের এলএমবি মার্কেটে অবস্থিত সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের কার্যালয়ে যান।

সমবায় ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (পরিদর্শন) মো. আহসানুল গণির নেতৃত্বে কমিটির অন্য দুজন হলেন উপব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) মো. আমিনুল ইসলাম রাজীব। তারা পাবনা জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী এবং পাবনায় সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সমবায় ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. বিশ্বাস রাসেল বলেন, ‘বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন। তিনি কৃষকদের সুদ মওকুফ করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছেন।’

এ সময় মো. আহসানুল গণি জেলা প্রশাসককে জানান, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার সকাল ১০টায় ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঋণ খেলাপে অভিযুক্ত কৃষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় তারা ‘পল্লী প্রকল্প ঋণ’ প্রদান, আদায় ও পরিশোধ সম্পর্কিত সব তথ্য পর্যলোচনা করবেন। পরে ঢাকায় গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাবনা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হবে।

গত ২৮ নভেম্বর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন:
খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন
বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের
ঋণখেলাপি মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে
বিদেশি ঋণেও যুদ্ধের ধাক্কা, ৪ মাসে কমল ২৫ শতাংশ
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Palm juice There are trees and there are no trees

খেজুরের রস: গাছ আছে, গাছি নেই

খেজুরের রস: গাছ আছে, গাছি নেই মাগুরায় শীত যত বাড়ছে, ততটাই খেজুর গাছ বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে গ্রামে-গ্রামে। ছবি কোলাজ:নিউজবাংলা
মাগুরা সদরের বার্লো বাজার থেকে শুরু করে ছোটফালিয়া ও ডেফুলিয়ায় মোট খেজুরগাছ রয়েছে ৫০০-এর ওপরে। গাছের মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছি সংকটে সব গাছ কাটা যাবে না। ফলে খেজুর রসের জোগান অর্ধেকে নেমে আসবে এ বছর।

শীত এবার যেন আগেভাগেই নেমে গেছে মাগুরায়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরগাছ ‘কাটার’ও ধুম পড়েছে। শীত যত বাড়ছে, ততটাই খেজুরগাছ বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে গ্রামে-গ্রামে। এখন গ্রামের মাঠে গেলে শোনা যায় খেজুরগাছ বাছাইয়ের শব্দ। তবে খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহে গাছির অভাব দেখা দিয়েছে। সংকট রয়েছে নতুন গাছি তৈরিতেও।

মাগুরা সদরের পাটকেলবাড়িয়া গ্রাম। বার্লো বাজার থেকে শুরু করে ছোটফালিয়া, ডেফুলিয়ায় মোট খেজুরগাছ রয়েছে ৫০০-এর ওপরে। এখানকার গাছিরা জানান, এই সংখ্যা আগে ছিল হাজারখানেক। বসতভিটা বাড়ায় অর্ধেকেরও বেশি গাছ কাটা পড়েছে। তবে যা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাটা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গাছ কাটতে হয় কার্তিকের শুরু থেকে।

খেজুরগাছ ‘কাটা’ বলতে বোঝায় গাছকে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা ও রস সংগ্রহ করা।

গাছের মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছি সংকটে সব গাছ কাটা যাবে না। ফলে খেজুর রসের জোগান অর্ধেকে নেমে আসবে এ বছর।

পাটকেলবাড়িয়ায় গাছি আমির আলীর খেজুরগাছ কাটছেন ৬০ বছর ধরে। বয়স ৭০-এর উপরে হলেও এ বছর তার এলাকায় গাছ কেটেছেন ৫০টির বেশি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা সময় আমাগের এলাকায় গাছ কাটতাম উৎসব করে। আমি সহ ছিল মালেক, আফসার, রমিজ মিয়াসহ আরো অনেকে।

‘তবে সময়ের সঙ্গে কেউ পেশা বদলাইছে, কেউ বা বেঁচে নেই। ফলে পুরান এই পেশা আর নতুন কাউকে ধরতে দেখিনি এ জন্য গাছ কাটার লোক নেই। রসও এ জন্য আগের মতো হবে না।’

রাঘবাদউড় ইউনিয়নের গাছি সুরুজ আলী বলেন, ‘মানুষ খেজুর রস খেতে চায়। বিশেষ করে এখনকার প্রজন্ম তো এই রস চেনেই না। তাই বাবা-মার থেকে শুনে তারা গ্রামে আসে। কিন্তু সবাইকে রস দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এলাকার বেশির ভাগ গাছ কাটা পড়ছে না গাছির অভাবে।’

হাজিপুর, হাজরাপুর, আলমখালি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, খেজুরগাছ অর্ধেকের মতো কেটে রেখেছে গাছিরা। কিছু গাছে হাঁড়ি পাতা রয়েছে। তবে এই রস খাওয়া যাবে না বলে জানান গাছি আমির আলি। তিনি বলেন, ‘শীত আরও ঘন হলেই কেবল আসল রস বের হবে। এখন যা রস পাওয়া যায়, এটা খাওয়ার উপযোগী না হলেও এটা দিয়ে পাটালি গুড় বানানো হয়। তবে তা খুব ভালো স্বাদের হয় না।’

খেজুর রস খান প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘খেজুর রস গত কয়েক বছর গ্রামে গিয়ে খাই। তবে স্বাদ আগের মতো নেই। এবারও আশা করছি গ্রামে গিয়ে রস খাব এবং বাড়ির সবার জন্য নিয়ে আসব।’

তিনি জানান, চাহিদা বেশি, কিন্তু রস কম পওয়া যায়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি এক লিটার রস কেনেন ১২০ টাকা করে। একটা সময় কিনতেন ৭০ টাকায়। তিনি মনে করেন, গাছির অভাবে ধীরে ধীরে এটা হারিয়ে যাবে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুফী মোহাম্মদ রফিকুজজামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলায় কতটি খেজুরগাছ আছে, বলা মুশকিল। এমনকি গাছিদের সংখ্যাও তেমন জানার সুয়োগ নেই। তবে যারা গাছি, তারা মৌসুমি পেশা হিসেবে এটাকে নিয়েছেন। এ জন্য সঠিক পেশার পরিমাপ করা কঠিন। তবে খেজুর রস কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ভালো স্বাদের হয়। মাগুরার প্রত্যন্ত এলাকায় এখন দেখেছি গাছ কেটে মাটির হাঁড়ি ঝোলানো রয়েছে। আশা করি, শহরবাসী এবার ভালো রস খেতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ
‘বেশি শীত হলে খড়-পাতা জ্বালায় দিন কাটামো’
হেমন্তে কলকাতায় শীতের আমেজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Demand to declare economic zone of watermelon to two upazilas

দুই উপজেলাকে তরমুজের অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার দাবি

দুই উপজেলাকে তরমুজের অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার দাবি মধ্যসত্ত্বভোগীদের জন্য খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় কৃষকরা তরমুজের ন্যায্য দাম পান না। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গত বছর প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজের চাষ করেছেন।

খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাকে তরমুজ চাষের জন্য কৃষি অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

সোমবার বিকেল ৫টায় খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাদিকুর রহমান খানের কাছে এক স্মারকলিপিতে তারা এ দাবি জানান।

লোকজ মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল প্রায় ২০ জন কৃষককে সঙ্গে নিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গত বছর প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজের চাষ করেছেন। তবে ৮০ শতাংশ কৃষকের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম না পাওয়ায় তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেরিতে বীজ রোপণ, বীজের দাম বেশি, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে সার বিক্রি, ছত্রাকনাশক ও হরমোন জাতীয় ওষুধের লাগামহীন মূল্য, মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা না থাকা, সেচের পানির অপ্রতুলতা, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় কৃষকরা এমন ক্ষতিতে পড়েন।

এতে সর্বস্বান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেক কৃষক। তরমুজের সঠিক দাম পেলে এই অঞ্চলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা যোগ হতে পারত।

এ অবস্থায় একটি উদীয়মান কৃষি অর্থনৈতিক সেক্টর এখন অপমৃত্যুর পথে। তরমুজ চাষের শুরু থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত পদে পদে কৃষকরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

তরমুজ চাষে আরও নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। বলা হয়েছে, জমির মালিকরা জমির হারি (ইজারা মূল্য) কয়েকগুণ বাড়িয়েছেন। গত বছর যে জমির হারি ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার ভেতরে ছিল, তা এবার বেড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে।

গত বছর ৩৩ শতকের ১ বিঘা জমি চাষ করতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় খরচ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। গত বছর সার, বীজ, কীটনাশকের দাম গায়ে উল্লেখিত খুচরো মূল্যের চেয়ে বেশি নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, পরিবহন সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়।

এসব সমস্যার সমাধানে কৃষকরা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি হলো খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাকে তরমুজ চাষের জন্য কৃষি অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করতে হবে। এ ছাড়া কীটনাশক কম লাগে এমন উচ্চ ফলনশীল ইনব্রিড বীজ উদ্ভাবন করে বাজারে বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। নদী-খাল লিজ/অবুমক্ত ও খনন করে চাষের জন্য সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া প্রকৃত তজমুজ চাষিদের তালিকা করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রির জন্য আড়ত স্থাপনসহ অন্যান্য বিষয়েরও তদারকি করতে হবে।

আরও পড়ুন:
প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, জানে না প্রশাসন
বেশি দামে তরমুজ ও খেজুর বিক্রির দায়ে জরিমানা
লোকে কেন আছাড় মেরে তরমুজ ভাঙছে
কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করায় জরিমানা
কেজি দরে বিক্রি, তাহলে এক বা দুই কেজি নয় কেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Women have taken up vegetable cultivation in Thakurgaon

ঠাকুরগাঁওয়ে সবজি চাষে নেমেছেন নারীরা

ঠাকুরগাঁওয়ে সবজি চাষে নেমেছেন নারীরা
নাজমা বেগম বলেন, ‘বলাবলি হচ্ছে সামনের বছর নাকি খাদ্যসংকট দেখা দিবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিত্যক্ত জায়গা ফেলে না রেখে শাকসবজি চাষাবাদ করতে বলেছেন। আমিও চিন্তা করে দেখলাম বাসার পুরুষরা চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেই এর পরিচর্যা করতে পারব।’

নেট দিয়ে ঘের দেয়া একখণ্ড জমি। জমির কিছু অংশে পেঁয়াজ, রসুন, ও কিছু শীতকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন নাজমা বেগম নামের এক গ্রামীণ নারী। সেই জমিতে শাকসবজির উৎপাদন বাড়াতে প্রতিনিয়ত পরিচর্যা করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় ৪০ বছর বয়সী নাজমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, বাড়ির পাশে জমিতে একটি লিচুর বাগান ছিল তার। কিন্তু বাগানে গত পাঁচ বছর ধরে ফলন আসছে না। তাই বাগান কেটে এবারই প্রথম শাকসবজি চাষ শুরু করেছেন।

নাজমা বেগম বলেন, ‘বলাবলি হচ্ছে সামনের বছর নাকি খাদ্যসংকট দেখা দিবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিত্যক্ত জায়গা ফেলে না রেখে শাকসবজি চাষাবাদ করতে বলেছেন। আমিও চিন্তা করে দেখলাম বাসার পুরুষরা চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেই এর পরিচর্যা করতে পারব। এতে ব্যবসা না হোক, নিজের পরিবারের শাকসবজির চাহিদা মিটবে আমার।’

গ্রামের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে এগোতেই দেখা গেল বাড়ির উঠানের পাশে পরিত্যক্ত আরেক খণ্ড জমিতে একই রকম নেটের ঘের। ভেতরে কাজ করছেন নাসিমা আক্তার নামের এক বিধবা নারী।

তিনি জানান, এটা তার স্বামীর ভিটা। স্বামী মারা গেছেন প্রায় এক যুগ। তিন বছর আগে গ্রামের আরেক জায়গায় নতুন বাড়ি করেছেন তারা। সন্তান নিয়ে সেখানেই আছেন। জায়গাটা পড়ে ছিল। বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট দেখা দেবে এমন কথা শোনার পর পুরোনো ভিটেতে প্রথমবারের মতো শাক ও সবজির কিছু চারা রোপণ করেছেন। সঙ্গে রসুন বুনেছেন। এ ছাড়া মরিচসহ আরও কিছু সবজির চারা রোপণ করার পরিকল্পনা আছে তাদের।

নাসিমা বেগম বলেন, ‘বাজারে শাকসবজির অনেক দাম বেড়েছে। আয়ের অংশ থেকে কোনো সঞ্চয় হয় না। সংসারের চাপ সামলাতে ও পরিবারের চাহিদা মেটাতে আমরা অনায়াসে শাকসবজি চাষ করতে পারি। এই একখণ্ড জমি থেকেই সারা বছর শাকসবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

গ্রামের শিক্ষার্থী এমদাদুল হক বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে। এ কথাগুলো সত্যি আতঙ্কের। তবে যাদের আশপাশে পরিত্যক্ত জমি আছে, সেগুলো ফেলে না রেখে আমরা যদি একটা দুটো সবজির গাছ রোপণ করি, তবে না খেয়ে মরব না। একে অপরের সঙ্গে সবজি বিনিময় করে হলেও চলব। আমাদের উৎপাদন করতে হবে। অনেকের জমি নেই, তাদের যেন সহযোগিতা করতে পারি এমন প্রস্তুতি নিতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহম্মদ আজিজ বলেন, ‘বাড়ির উঠানের পাশে জমি, পুকুরপাড় ইত্যাদি জায়গাগুলোতে আমরা মসলাজাতীয় ফসল, শাকসবজি ও ফলের গাছ রোপণের পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠপর্যায়ে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি, যেন তারা এক ইঞ্চি জমিও ফেলে না রাখে।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের চাপের মধ্যে আরও একটি আইপিও আবেদন শুরু
ফের ঢালাও পতন, মাথা উঁচু করে জীবনবিমা
বস্তায় আদা চাষ
নওগাঁয় বাজারে নতুন আলুর কেজি ২০০ টাকা
ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে হঠাৎ চাঙা জীবনবিমা, আগ্রহ ব্যাংকেও

মন্তব্য

p
উপরে