× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Vaccine carriers disoriented by rising commodity prices
hear-news
player
google_news print-icon

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশাহারা ভ্যাকসিন বাহকরা

দ্রব্যমূল্যের-ঊর্ধ্বগতিতে-দিশাহারা-ভ্যাকসিন-বাহকরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শামিম মিয়া বলেন, ‘ভ্যাকসিন বাহকরা রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করেই দেশকে পোলিও মুক্তকরণসহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন বহন করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে আসছে। অথচ এই ইটিআই পোর্টাররা আজও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। নামমাত্র বেতন-ভাতায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে।’

নিত্যপণ্যের দামের সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সম্পর্ক নিবিড়। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার স্বল্প আয়ের মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগে রয়েছেন। এতে মানুষের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য থাকছে না, তেমনি সংসার চালানোই দায় হয়ে যাচ্ছে। তবে এতে শুধু নিম্ন আয়ের পেশাজীবী নয়, মধ্য আয়ের পেশাজীবীরা এখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে ফারুকী বাজার, আনন্দবাজার, বৌবাজার, কাউতলী বাজার, মেড্ডা বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চিনি, ডাল, আটা ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, শীত এলেও দাম কমেনি সবজির।

ডিম ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত আছে। সরকার চিনির দাম কেজিতে ১০৮ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। আর প্যাকেটজাত এক কেজি চিনি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়; প্যাকেট আটার দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। এ ছাড়া দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।

দাম বেড়েছে দেশি মসুরের ডালের। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়; যা এক সপ্তাহ আগেও ১১০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। অন্যদিকে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় মসুর ডাল।

আগে এক লিটার তেলের বোতল ছিল ১৭৮ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯২৫ টাকা।

শীতকাল এলেও বাজারে কমেনি সবজির দাম। আকারভেদে পাতাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। প্রতি কেজি শসার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ ছাড়া লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, টম্যাটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস চালকুমড়া ৫০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা ও লেবুর হালি ১৫ থেকে ২০ টাকা।

এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে ভ্যাকসিন বাহকদের। শহরের পুরাতন কাচারি এলাকায় শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস সভাকক্ষে এক সম্মেলনে এমন মন্তব্য তুলে ধরা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রদোষ কান্তি দাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শামিম মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভ্যাকসিন বাহক কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি বাবুল হোসেন তালুকদার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি রাজিব চন্দ্র দাস, সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি এম আব্দুল বাছেদ, জেলা স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরশাদুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শামিম মিয়া বলেন, ‘ভ্যাকসিন বাহকরা রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করেই দেশকে পোলিও মুক্তকরণসহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন বহন করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে আসছে। অথচ এই ইটিআই পোর্টাররা আজও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। নামমাত্র বেতন-ভাতায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

জেলা স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরশাদুল ইসলাম বলেন, ‘ইপিআই পোর্টাররা তাদের চাকরি সরকারীকরণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও ইপিআই পোর্টারদের কান্নার শব্দ কেউ শোনে না।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A unique example of harmony is the assembly of Comilla

সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ কুমিল্লার সমাবেশ

সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ কুমিল্লার সমাবেশ কোরআন তেলাওয়াতের পর পবিত্র গীতা পাঠ করছেন সনাতন পুরোহিত। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, ‘সমাবেশের শুরুতে কারা ধর্মগ্রন্থ থেকে পবিত্র বাণী পাঠ করবেন তার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। পবিত্র কোরআন, ত্রিপিটক ও গীতা পাঠ হলেও বাইবেল পাঠ করা সম্ভব হয়নি।’

অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে শনিবার কুমিল্লার সমাবেশে অনন্য এক সম্প্রীতির নজির রেখে গেল বিএনপি। এ সমাবেশে কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি পাঠ করা হয়েছে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের পবিত্র বাণীও।

তবে শুধু বিএনপি নয়, সভা সমাবেশে সম্প্রীতির এমন নজির কুমিল্লায় আরও আছে।

শনিবার বেলা ১১টায় বিএনপির সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপরই পবিত্র গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়।

তবে পরিবারের সদস্যের অসুস্থতাজণিত কারণে বাইবেল পাঠ করতে পারেননি পাস্টর ডা. লরেন্স তীমু বৈরাগী।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, ‘সমাবেশের শুরুতে কারা পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে তেলাওয়াত করবেন তার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। পবিত্র কোরআন, ত্রিপিটক ও গীতা পাঠ হলেও বাইবেল পাঠ করা সম্ভব হয়নি। কারণ যিনি বাইবেল পাঠ করবেন সেই লরেন্স তীমু বৈরাগীর মা অসুস্থ থাকায় তিনি আসতে পারেননি।’

সব ধর্মগ্রন্থ পাঠের আয়োজন বিষয়ে ওয়াসিম বলেন, ‘এটা কুমিল্লায় যে কোনো সমাসমাবেশে হয়।’

এদিকে বাইবেল পাঠ করতে না পারার বিষয়ে পাস্টর ডা. লরেন্স তীমু বৈরাগী বলেন, ‘সমাবেশের আয়োজক কমিটি আমাকে আমন্ত্রণ করেছিল। আমার মা অসুস্থ থাকায় এবং আমাদের সংগঠনের সভাপতি মারা যাওয়ার কারণে আমি বাইবেল পাঠ করতে পারিনি।’

এর আগেও কুমিল্লায় জাতীয় বা রাজনৈতিক সব অনুষ্ঠানে সব ধর্মগ্রন্থ পাঠ করার নজির আছে। নজরুল জন্মজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় গেলে সেবারও সব ধর্মগ্রন্থ থেকে পবিত্র বাণী পাঠ করা হয়।

সবশেষ গত ৩০ অক্টোবর কুমিল্লা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও চলতি ৫ নভেম্বর কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনেও প্রধান চারটি ধর্মগ্রন্থ থেকে বাণী পাঠ করা হয়।

আরও পড়ুন:
কোরআন গীতা ত্রিপিটক পাঠে শুরু কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশ
কুমিল্লায় খালেদার পাশে তারেকের সম্মানেও চেয়ার
বিএনপির সমাবেশস্থলে মোবাইল ইন্টারনেট বিঘ্নিত
খুলনার বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে হামলায় আহত নেতার মৃত্যু
কুমিল্লায় স্লোগানে মুখর বিএনপির সমাবেশস্থল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Where did the body of the verse go?

কোথায় গেল আয়াতের টুকরো দেহ

কোথায় গেল আয়াতের টুকরো দেহ শিশু আয়াত ও আসামি আবির আলী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ পেয়েছি। যার একটি নেভী গেট এলাকার। রিকশায় করে আবির পলিথিনে মোড়া টুকরো মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন, এমন দৃশ্য আছে সেখানে। আরেকটি ফুটেজ একটি দোকানের। সেখান থেকে আবির বঁটি, স্কচটেপ ও এন্টি-কাটার কিনেছেন।’

চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় ৫ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যার তদন্তে অগ্রগতি থাকলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি তার মরদেহ। শিশুর টুকরো দেহের সন্ধানে তল্লাশি চলছে সাগরপাড় ও আশপাশে। জোয়ার-ভাটায় দেহাংশগুলো হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আসামি গ্রেপ্তারের কথা জানালেও তার স্বীকারোক্তি না মেলায় কিছুটা জটিলতা রয়ে গেছে তদন্তে। গ্রেপ্তার আবির আলীর জবানবন্দি রেকর্ড করাকেই এখন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। সেক্ষেত্রে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার না হলেও তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

সন্দেহভাজন আসামি আবির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পিবিআই। শুক্রবার রাতে মামলা হলেও এজাহারে তার নাম না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোথায় গেল আয়াতের টুকরো দেহ
শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। ছবি: সংগৃহীত

তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে পিবিআই জানায়, শিশু আয়াতকে হত্যার কাজে ব্যবহার করা রক্তমাখা বঁটি ও এন্টি-কাটার উদ্ধার হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষায় অপরাধ প্রমাণ করা যাবে। প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাগরে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, ‘আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ পেয়েছি। যার একটি নেভি গেট এলাকার। রিকশায় করে আবির পলিথিনে মোড়া টুকরো মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন এমন দৃশ্য আছে সেখানে। আরেকটি ফুটেজ একটি দোকানের। সেখান থেকে আবির বঁটি, স্কচটেপ ও এন্টি-কাটার কিনেছেন।’

তথ্য বিশ্লেষণে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অপহরণ ও হত্যার পর আয়াতের মরদেহ আবির প্রথমে নিয়ে যান তার বাবার বাসায়। তার বাবা আজহারুল ইসলাম এ সময় বাসায় ছিলেন না। সেখান থেকে পলিথিনে পেঁচিয়ে কিছুক্ষণ পর মরদেহটি নেয়া হয় আকমল আলী সড়কে আবিরের মায়ের বাসায়।

মাকে কৌশলে আবির পাঠিয়ে দেন আয়াতের বাড়িতে। এরপর ফাঁকা বাসার বাথরুমে নিয়ে আয়াতের মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন সাগরপাড় এলাকা ও স্লুইসগেট নালায় ৬ টুকরো মরদেহ ফেলা হয় বলে আবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন।

আয়াতের বাবা সোহেল রানা শুক্রবার রাতে ইপিজেড থানায় মামলা করেছেন। সেখানে তিনি আসামি হিসেবে আবিরের নাম উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, ‘পিবিআই একজনকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করেছে। বাদী সোহেল রানা এজাহার লিখে এনে জমা দিয়েছেন। আমরা তা গ্রহণ করেছি। মামলা হয়েছে, এটা পিবিআই তদন্ত করছে। আসামি পরেও যোগ হতে পারে, এতে তদন্তে সমস্যা হবে না।’

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় আয়াতের বাবা সোহেল রানা মামলার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আয়াতের দাদা মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘মামলা করছে সোহেল, ক্যামনে কী করছে জানি না। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যারে (আবির) পুলিশ ধরেছে, তার আমরা ফাঁসি চাই।’

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ অলরেডি হত্যার আলামত পেয়েছে। রক্তমাখা বঁটি, এন্টি-কাটার- এগুলো তো গুরুত্বপূর্ণ আলামত। আর গ্রেপ্তার করা আসামির স্বীরোক্তিমূলক জবানবন্দি পেলে অপরাধ প্রমাণে তেমন কিছুই লাগবে না।’

গ্রেপ্তার আবিরকে শনিবার বিকেলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন সয়ারের আদালতে হাজির করা হয়। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ২ দিনের রিমান্ড দেন।

গত ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার বন্দরটিলার নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। পরদিন এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা।

নিখোঁজের ৯ দিন পর পিবিআই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে। আবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়াতকে খুন ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পিবিআই কর্মকর্তাদের।

আরও পড়ুন:
শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ বস্তায়
আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক
চাচার ট্রলির চাকার নিচে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Transport strike call from December 1 in Rajshahi

এবার রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

এবার রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক শনিবার সন্ধ্যায় নাটোরে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা
বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগে বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতেই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। তবে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে সমাবেশে জনস্রোত রুখতে পারবে না সরকার।’

রাজশাহী অঞ্চলে ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদ। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ১১ দফা দাবি সমাধান না হলে ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে যাত্রী ও পণ্যবাহী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় নাটোর শহরে এক কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদের যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনটির নেতারা। সমিতির সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন, মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ ও পুলিশের হয়রানি বন্ধ করাসহ ১১ দফা দাবি তুলে ধরেছে রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মালিক-শ্রমিকদের এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান।

এই পরিবহন ধর্মঘট ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগে বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতেই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকারকে সহযোগিতা করতে এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তবে রাজশাহী বিভাগে বিএনপির সমাবেশ দেশের সবচেয়ে সফল এবং বৃহত্তর হবে। পরিবহন চলাচল বন্ধ রেখে সমাবেশে জনগণের স্রোত রুখতে পারবে না সরকার।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gold smuggling 12 arrested including three Indians

স্বর্ণ চোরাচালান: তিন ভারতীয়সহ আটক ১২

স্বর্ণ চোরাচালান: তিন ভারতীয়সহ আটক ১২ প্রতীকী ছবি
দর্শনাগামী পূর্বাশা পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের দুটি বাসের ১২ যাত্রীকে আটক করে পাঁচজনের পায়ুপথ ও সাতজনের লাগেজের হ্যান্ডল বার, মানিব্যাগ ও কাঁধ ব্যাগের বিভিন্ন অংশে লুকানো মোট ৭ হাজার ৪৩২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

স্বর্ণ চোরাচালানের সময় রাজধানীতে তিন ভারতীয় নাগরিকসহ ১২ জনকে আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানতে পারে যে ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিরপুরে মাজার রোড থেকে বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে দর্শনাগামী পূর্বাশা পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের যাত্রীদের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান হতে পারে।

‌গোপন এই সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থার উপ-পরিচালক সানজিদা খানমের নেতৃত্বে কাস্টমস গোয়েন্দাদের দুটি দল বাস দুটিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুলকুটিয়া এলাকায় থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন কয়েক যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পরে সন্দেহভাজন যাত্রীদের শরীরে এক্স-রে পরীক্ষা করে ১২ জনের কাছে স্বর্ণ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তাদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিক।

স্বর্ণ চোরাচালান: তিন ভারতীয়সহ আটক ১২
পূর্বাশা পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের যাত্রীদের কাছে পাওয়া যায় চোরাচালানের স্বর্ণ। ছবি: নিউজবাংলা

আটকদের ৫ জনের পায়ুপথ ও ৭ জনের লাগেজের হ্যান্ডল বার, মানিব্যাগ ও কাঁধ ব্যাগের বিভিন্ন অংশে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় মোট ৭ হাজার ৪৩২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছে এসব স্বর্ণ আমদানি বা কেনার সপক্ষে বৈধ কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

আটক তিন ভারতীয় নাগরিক হলেন- নবী হুসাইন, শাহাজাদা ও মোহাম্মদ ইমরান। অন্যরা হলেন- রাহাত খান, মোহসিন আল মাহমুদ, কাজী মামুন, সৈয়দ আমীর হোসেন, শামীম, মামুন, বশির আহমেদ কামাল, মামুন সরকার এবং আতিকুর রহমান মীনা।

আরও পড়ুন:
শাহজাদপুর সীমান্তে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার
স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল, ভরি ৮৪২১৪ টাকা
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২৩৩৩ টাকা
বিমানের সিটে ৬ কেজি স্বর্ণ
বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে ৩০ স্বর্ণের বার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bloody body in the house sister in law detained

ঘরে রক্তাক্ত মরদেহ, ভগ্নিপতি আটক

ঘরে রক্তাক্ত মরদেহ, ভগ্নিপতি আটক সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের বোনজামাই মোজাফফর হোসেনকে আটক করে ডিবি। ছবি: নিউজবাংলা
মরদেহ উদ্ধার ও আটকের ঘটনায় ডিবির ইনচার্জ সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, ‘এটি নিয়ে কাজ চলছে। এখন কিছু বলা যাবে না।’

বগুড়া সদরে নিজ বাড়িতে জামাল উদ্দিন খাজা নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ মিলেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

এর আগে শনিবার সকালে শহরের বৃন্দাবনপাড়া এলাকা থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৬০ বছর বয়সী জামাল একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য পরিবহনের কাজ করতেন। এ ছাড়া বাড়ির ভেতরে থাকা একটি মাজার রক্ষণাবেক্ষণও করতেন তিনি।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক মোজাফফর রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তিনি নিহত জামালের মেজো বোনের স্বামী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল মুন্নাফ জানান, নিহতের বাড়ির ভেতরে একটি পুরোনো মাজার রয়েছে। তাই বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সিরাজগঞ্জ থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এসে সেখানে কাজ করছে।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের বড় বোন আম্বিয়ার মৃত্যু হয়। এ জন্য পরিবারের সবাই ওই রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ফুলদীঘি বোনের বাড়িতে ছিলেন। সন্ধ্যায় জামাল বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। কারণ শুক্রবার সকালে ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চাঁদমুহাতে ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াতে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী। সকালে তারা এসে অনেক ডাকাডাকি করেও জামালের কোনো সাড়া পাননি। পরে বাড়ির পেছন দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তারা জামালের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

জামালের ছোট ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ‘ভাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। তিনি কারও সঙ্গে কখনও তর্ক বা দ্বন্দ্বে জড়াতেন না। আমার মেজো বোনের স্বামী মোজ্জাফর রাজমিস্ত্রী হওয়ায় আমাদের সবার বাড়ি নির্মাণ করেছেন। জামাল ভাইয়ের বাড়ি নির্মাণের সময় কিছু ভুল ছিল। কিন্তু এটা নিয়ে দ্বন্দ্ব হতে পারে বলে মনে হয় না।’

জহিরের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ও তার ভাইয়েরা ছোট থেকেই এই মাজার দেখে আসছেন। শুনেছি মহাস্থানের শাহ সুলতান বলখীর (র.) সহযোগীর মাজার এটি। এই মাজার আমার ভাশুর জামাল উদ্দিন দেখাশোনা করতেন। কিন্তু কোনো অনুষ্ঠান বা অন্য কিছুর আয়োজন কখনও হয়নি এখানে।’

বগুড়া সদর থানা পুলিশের তদন্ত পরিদর্শক বাবু কুমার সাহা বলেন, ‘ক্রাইম সিন ইউনিট এসেছিল। তাদের কাজের পর জামালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে ক্রাইম সিন কাজ করা অবস্থায় বেলা ১টার দিকে ডিবি পুলিশ নিহতের বোনজামাই মোজাফফর হোসেনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় কাপড়ে মোড়ানো একটি লোহার শাবলও জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে এই আটকের বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ ডিবির ইনচার্জ সাইহান ওলিউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে কাজ চলছে। এখন কিছু বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
জমিতে কৃষি শ্রমিকের মরদেহ
শাজাহানপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
মসজিদের টয়লেটে যুবকের মরদেহ
বাইকের সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত
জমির পাশ থেকে নার্সারি কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Basic Bank Scam ACC Requests Malaysia For Clues

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে দুদকের অনুরোধ

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে দুদকের অনুরোধ
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন হলফনামা করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বেসিক ব্যাংকের দুই হাজার ৭৭ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির (এমএলএআর) আওতায় এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শনিবার নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন হলফনামা করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বেসিক ব্যাংক দুর্নীতির মামলায় মোহম্মদ আলীর জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা ৫৬ মামলার মধ্যে ১২ মামলার আসামি ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর জামিন শুনানিতে ৮ নভেম্বর হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিল হাইকোর্ট। সে অনুসারে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে।

মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় দুই হাজার ৭৭ কোটি ৩৪ লাখ দুই হাজার ৯৯১ টাকা, যা সুদসহ দুই হাজার ৫৯০ কোটি ৪৯ লাখ ৯১ হাজার চারশ’ ৫৩ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান করে মোট ৫৬টি মামলা করেছে।

মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন। তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো- আত্মসাৎকৃত অর্থ সম্পূর্ণরূপে নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে টাকার অবস্থান গোপন করা হয়েছে। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের শনাক্তকরণ ও তাদের জবানবন্দি গ্রহণ (১৬১ ধারায়) কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সব সাক্ষীর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ণিত মামলায় আলামত প্রচুর এবং ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ কাগজপত্র থেকে প্রকৃত সব আলামত শনাক্ত করা সময়সাধ্য। প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটিও এই মামলায় বেশ জটিল।

এছাড়া মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ায় এমএলএআর করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও আলামত এখনও পাওয়া যায়নি।

মামলাগুলোর আগের তদন্ত কর্মকর্তারা বদলি হয়ে যাওয়ায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে। আসামি ও আলামত শনাক্ত করা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা ও এমএলএআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে মামলার প্রয়োজনীয় আলামত পাওয়া সাপেক্ষে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৫৬ মামলায় আত্মসাৎকৃত অর্থের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা উদ্ধার/ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

এ মামলায় ৮২ জন ঋণগ্রহীতা ছাড়াও বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফকরুল ইসলাম, ডিএমডি ফজলুস সোবহান, সাবেক ডিএমডি শেখ মঞ্জুর মোরশেদ, জিএম এ. মোনায়েম খান, জিএম মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ ব্যাংকের ২৭ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা, প্রিন্সিপাল/প্রধান শাখা, দিলকুশা শাখা এবং শান্তিনগর শাখাসহ মোট চারটি শাখার ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে গুলশান থানায় ২৩টি, মতিঝিল থানায় ১২টি ও পল্টন থানায় ২১টিসহ মোট ৫৬টি মামলা করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা ২৭ জন, ব্যবসায়ী ৮২ জন, বেসরকারি সার্ভেয়ার ১১ জনসহ মোট ১২০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির তদন্ত ৬ বছরেও কেন শেষ হয়নি: হাইকোর্ট
বেসিক ব্যাংকের কত টাকা জব্দ, সাত দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: জি বি হোসেনকে বিদেশ যেতে মানা
বেসিক ব্যাংকে শুধুই দীর্ঘশ্বাস
বেসিক ব্যাংকের নতুন এমডি আনিসুর রহমান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Overhauling the education system Kaikaus

শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কায়কাউস

শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কায়কাউস চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস।
চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি তরুণ যাতে শোভন পেশার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি তরুণ যাতে শোভন পেশার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ।’

শনিবার চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার যাত্রা সূচনা। জ্ঞানের জন্য, স্বীকৃতির জন্য, প্রজ্ঞার জন্য ক্ষুধার্ত হওয়া আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধার্ত হতে থাকুন, তৃপ্ত হবেন না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপায় খোঁজা চালিয়ে যান এবং সেখানেই আপনি আরও কিছু অর্জন করতে পারবেন।

‘ক্রমাগত নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন জীবনে চলতে কী নতুন দক্ষতা এবং দক্ষতার প্রয়োজন হবে। আপনার শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা শুধু আপনি যা শিখছেন তা নয়, কীভাবে শিখতে হয় তা জানার মধ্যেও রয়েছে।’

নগরীর টাইগার পাসের নেভি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে ১০টি বিভাগের ১৩টি প্রোগ্রামের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাস করা মোট ৫ হাজার ৬৪৯ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি দেয়া হয়। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদের পক্ষে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রিও ঘোষণা করেন তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে সমাবর্তন অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশে তাদের কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

‘বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেশে হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করতে যাচ্ছেন আপনারা। বঙ্গবন্ধুকন্যার ডিজিটাল বাংলাদেশ আপনাদের নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হবে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষ অর্জন’ প্রতিপাদ্যে শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এই পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। মাত্র এক দশকেই বন্দর নগরীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সেরা মেধাবী শিক্ষক, ডিজিটাল ক্লাসরুম আর বিশ্বমানের কারিকুলামের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জনসম্পদে পরিণত হয়েছে।’

এবারের সমাবর্তনে ১৪ জন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল ও ১৩ জন শিক্ষার্থী ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল অর্জন করে। উপস্থিত অতিথিরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল তুলে দেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আসমা ইয়াসমিন এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রাইসুল ইসমাইল আপন। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জন ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপরই শুরু হয় আলোচনা পর্ব।

এ সময় অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর দিল আফরোজা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত চেয়ারম্যান মিসেস তাহমিনা খাতুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পিসিআইইউর বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর, চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ, গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ফোরাম এবং ব্যান্ড দল বে অব বেঙ্গল-এর পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

২০১৩ সালের ১৭ মে ছয়টি প্রোগ্রামে ৬৯ জন শিক্ষার্থী, ৬ জন শিক্ষক, ৪ জন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ১৭০ জন শিক্ষক, ৫ হাজার ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৯০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। চারটি অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগের ১৩টি প্রোগ্রাম নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড: ২১৯ পদে কর্মরত ৬৯ জন
১৬ নভেম্বর থেকে স্কুলে ভর্তির আবেদন শুরু
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জারি
ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠ্যবই সরবরাহ না দিলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
মেয়েদের আকাশ হোক মুক্ত: দীপু মনি

মন্তব্য

p
উপরে