× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Low pressure in Bay of Bengal
hear-news
player
google_news print-icon

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ

বঙ্গোপসাগরে-লঘুচাপ
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মো. আব্দুল মান্নান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লঘুচাপের এখন যে অবস্থা আছে তাতে আমাদের উপকূলে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। এখনও এটি ফরমেটিভ (গঠন) স্টেজে রয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হবে।’

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে শুক্রবারের মধ্যে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লঘুচাপটি আজই (বৃহস্পতিবার) তৈরি হয়েছে। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হবে।’

অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মো. আব্দুল মান্নান সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লঘুচাপের এখন যে অবস্থা আছে তাতে আমাদের উপকূলে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও আমরা এটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। ব্যতিক্রম কিছু ঘটলে তা জানানো হবে।

‘এখনও এটি ফরমেটিভ (গঠন) স্টেজে রয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হবে। ম্যাচিউর স্টেজে না গেলে কীভাবে কোথায় মুভ করবে তা বলা যাবে না। অনুমেয় কিছু বলা ঠিক হবে না।’

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের স্বাভাবিক আচরণ থাকে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যদি আমাদের এদিকে আসে তবে আমরা জানাব। তবে এখনও যেভাবে আছে তাতে ভারতীয় উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক মাস মেয়াদি জলবায়ুর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের পর চলতি নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। তবে সেটি কবে নাগাদ তৈরি হতে পারে বা ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ কী, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন আবহাওয়াবিদরা।

নভেম্বরে ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়, যেটির অবস্থান ছিল শ্রীলঙ্কার উপকূলে। বাংলাদেশে সেটির প্রভাব ছিল না। তবে ওই সময়ই আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছিল, কিছুদিনের মধ্যে আন্দামান সাগরে আরেকটি লঘুচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এর আগেও একটা লঘুচাপ তৈরি হয়েছিল। তবে সেটি শ্রীলঙ্কা হয়ে তামিলনাড়ুর ওপর দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে এবং পরে আরব সাগরে গিয়ে পড়ে।’

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

দেশে শীতের আগমন শুরু হয়েছে। রংপুর বিভাগেই সবার আগে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।

তবে মধ্য নভেম্বরের পর দেশের সবখানেই তাপমাত্রা কমতে থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এমনটা উল্লেখ করে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। আর রাতের তাপমাত্রা গড়ে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
সিত্রাং-এ শরীয়তপুরে আক্রান্ত ৬ হাজার হেক্টর জমি
সিত্রাং: মাদারীপুরে তলিয়েছে উঠতি আমনের ক্ষেত
সুপার সাইক্লোনের আশঙ্কা ছড়ানোয় কী ক্ষতি হলো?
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: মৃত বেড়ে ২০
সাধারণ শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Zabir Prajapati Mela is vibrant with childrens colors

জাবির প্রজাপতি মেলায় একঝাঁক শিশু

জাবির প্রজাপতি মেলায় একঝাঁক শিশু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতির মেলায় প্রজাপতি দেখছে শিশুরা। ছবি: নিউজবাংলা
২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রজাপতি সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

কেউ জীবন্ত প্রজাপতি দেখছে, কেউ বা আবার শরীরে আঁকছে প্রজাপতির আল্পনা। কেউ কেউ রং-তুলিতে আঁকছে প্রজাপতির রঙিন ছবি। এভাবেই শিশুদের পদচারণায় প্রাণবন্ত ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলা।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সামনে শুরু হওয়া এ মেলা চলে বিকেল পর্যন্ত।

মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শেখ মনজুরুল হক। তিনি বলেন, ‘প্রজাপতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে এই ক্যাম্পাসে প্রজাপতির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। আমরা চিন্তা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা নির্দিষ্ট জায়গাকে শুধুমাত্র প্রজাপতির জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া যায় কি-না।’

জাবির প্রজাপতি মেলায় একঝাঁক শিশু

এবারের মেলায় ছিল জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শনী, প্রজাপতির হাট দর্শন, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি নিয়ে ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আদলে তৈরি ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা, বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

প্রকৃতি সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য এবারের প্রজাপতি মেলায় ‘তরুপল্লব’ সংগঠনকে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ দেয়া হয়। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত বিশ্বাসকে দেয়া হয় ‘বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুজিয়াস্ট’ অ্যাওয়ার্ড।

বাবার সঙ্গে রাজধানীর শ্যামলী থেকে মেলা দেখতে আসা নার্সারিতে পড়া আদিন আহমেদ। সে নিউজবাংলাকে বলে, ‘বাবার সঙ্গে মেলায় ঘুরতে এসেছি। অনেক রঙের প্রজাপতি দেখেছি, চিত্র এঁকেছি। মেলায় এসে আমার ভাল্লাগছে।’

মেলার আহ্বায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটা সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রজাপতি ছিল ১১০ প্রকার। এখন সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২টিতে। প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি গণসচেতনতা বাড়ানো এবারের প্রজাপতি মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষের প্রকৃতির প্রতি, প্রজাপতির প্রতি সচেতন হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রজাপতি মেলাকে ঘিরে প্রকৃতিপ্রেমীদের তীর্থক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা উঁচুতে তুলে ধরবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রজাপতি সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ঢুকলে জাবি অধ্যাপককে জীবন বিপন্নের হুমকি
জাবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুদকে সাবেক অধ্যাপকের অভিযোগ
জাবিতে গাড়িচালকদের প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ
জাবির সাবেক ভিসির গাড়িচালকের ঘরে মদভর্তি ট্রাংক
জাবি ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে অর্ণব-অমর্ত্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After 37 years Bangladesh is free from the dreaded DDT

৩৭ বছর পর ভয়ংকর ডিডিটি মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

৩৭ বছর পর ভয়ংকর ডিডিটি মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ডিডিটি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এর ধ্বংস প্রক্রিয়া সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল জানান, ডিডিটি পুড়িয়ে যে ছাই হবে সেটিও সাবধানে সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, পুড়ানোর সময় যে গ্যাস বের হবে সেটিও সংরক্ষণ করতে হবে।

নিষিদ্ধের তিন দশক পর ক্ষতিকর রাসায়নিক ডাইক্লোরোডিফেনাইলট্রিক্লোরোইথেন (ডিডিটি)-এর সবচেয়ে বড় মজুত ধ্বংসের জন্য চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো হচ্ছে ফ্রান্সে।

শুক্রবার ২৪টি কন্টেইনারে ৫২০ টন ডিডিটি নিয়ে ফ্রান্সের উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে বহনকারী জাহাজ।

১৯৮৫ সালে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনকারী মশা নিধনের উদ্দেশে পাকিস্তান থেকে ৫০০ টন ডিডিটি আমদানি করে সরকার। কিন্তু ওই ডিডিটি নিম্নমানের হওয়ায় সে সময় তা ব্যবহার করা যায়নি। এরপর থেকেই এ রাসায়নিক চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের গুদামে রাখা হয়।

এ অবস্থায় জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় ১৯৯১ সালে দেশে ডিডিটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০০১ সালে স্টকহোম সম্মেলনের চুক্তি অনুযায়ীও সারাবিশ্বে নিষিদ্ধ এই রাসায়নিক।

ক্ষতিকর এই রাসায়নিক অবিরাম দূষক বা প্রেসিসটেন্ট অর্গানিক পলিউটেন্ট (পপস) প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে। ক্ষতিকর এই রাসায়নিকের ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি, আয়ুষ্কাল কমে যাওয়া, বংশবৃদ্ধিতে অস্বাভাবিকতা, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, শিশুর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত, প্রজননতন্ত্রের ক্ষতিসাধন সহ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।

আমদানির ৩৭ বছর পর অবশেষে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকটি বাংলাদেশ থেকে ধ্বংসের জন্য ফ্রান্সে পাঠানো হচ্ছে।

সম্প্রতি ৩ দফায় ২৪টি কন্টেইনারে এসব রাসায়নিক শিপিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়েছে।

৩৭ বছর পর ভয়ংকর ডিডিটি মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
২৪টি কন্টেইনারে এসব রাসায়নিক শিপিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়েছে

বুধবার নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল ‘রেডিসন ব্লু’ এর মোহনা হলে এই ডিডিটি অপসারণ প্রকল্পের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে ক্যান্সার বেড়ে যাওয়া সরকারের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই এলাকায় ক্যান্সার নিয়ে যে চিকিৎসক কাজ করতেন তিনিও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমরা এও জেনেছি, মায়ের দুধেও ডিডিটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই ডিডিটি এত বছর এখানে কেন পড়েছিল এটা একটা প্রশ্ন!’

ডিডিটি ধ্বংসের দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে ‘ডিডিটি মুক্তিযুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা কাজ করেছেন আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। পরিবেশ অধিদপ্তরে যে কোনো অনুষ্ঠানে আপনাদের স্মরণ করা হবে। এটার যে ইতিহাস লেখা হবে, সেখানে যারা কাজ করেছেন তাদের নামও থাকা উচিত। কারণ তাদের ক্ষতি হতে পারে। যদি তাদের নামের তালিকা থাকে তাহলে কাজের কারণে কোনো রোগে আক্রান্ত হলে সরকার ও রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে।’

এ সময় সীমান্ত দিয়ে ডিডিটি কিংবা এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক যেন দেশে প্রবশে করতে না পারে সেজন্য বিজিবি ও জননিরাপত্তা বিভাগকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন সচিব।

এ সময় তিনি শুটকিতে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখতেও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান রাখেন মোস্তফা কামাল।

বাংলাদেশে ডিডিটি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এর ধ্বংস প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচিব জানান, ডিডিটি পুড়িয়ে যে ছাই হবে সেটিও সাবধানে সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, পুড়ানোর সময় যে গ্যাস বের হবে সেটিও সংরক্ষণ করতে হবে।

আরেকটি বিষয় হলো- বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে ডিডিটি নিয়ে যেতে বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৩টি বন্দরের অনুমতি নিতে হয়েছে। শুরুতে কয়েকটা দেশ আপত্তিও জানিয়েছে যে, এসব দূষিত জিনিস তাদের বন্দর দিয়ে যেতে দেয়া হবে না। পরে তাদেরকে রাজি করানো সম্ভব হয়েছে।

৩৭ বছর পর ভয়ংকর ডিডিটি মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
ডিডিটি অপসারণ প্রক্রিয়ায় কাজ করা ব্যক্তিরাও ঝুঁকির মধ্যে আছেন

জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অরগানাইজেশন (এফএও) এর কীটনাশক বিশেষজ্ঞ মার্ক ডেভিস বাংলাদেশে ডিডিটির এই মজুদকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ডেভিস বলেন, ‘আমার জানামতে, আর কোথাও একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে এই পরিমাণ কীটনাশক অপসারণের ঘটনা ঘটেনি। এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক যে, একটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে এত দীর্ঘ সময় ধরে এটি সংরক্ষণ করা ছিল!’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জানান, গ্লোবাল অ্যানভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) ও জলবায়ু ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ডিডিটি ধ্বংসের প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটা ফ্রান্সে পাঠিয়ে ধ্বংস করতে হচ্ছে। কারণ আমারদের সক্ষমতা নেই। আশা করছি, এফএও সঠিক সময় এটি বাস্তবায়ন করবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফএও এর জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি কর্মকর্তা সাসো মার্টিনোভ, প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, এফএও রিপ্রেজেনটেটিভ নূর আহমেদ খন্দকার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল হামিদসহ আরও অনেকেই।

আরও পড়ুন:
নিউজিল্যান্ডের ৭৫ শতাংশ মাছে প্লাস্টিক কণা
আ.লীগের কনফারেন্সে পরিবেশ রক্ষায় ১১ সুপারিশ
পাহাড় কাটার অভিযোগে কাউন্সিলর ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা
আর নিরাপদ নয় বৃষ্টির পানি
দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Butterfly Fair in Jabi is on December 2

জাবিতে ‘প্রজাপতি মেলা’ এবার ২ ডিসেম্বর

জাবিতে ‘প্রজাপতি মেলা’ এবার ২ ডিসেম্বর ২০১০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রজাপতি মেলা। ছবি: নিউজবাংলা
২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রজাপতি মেলা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রজাপতি সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’- এই স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রজাপতি মেলা-২০২২।

বুধবার মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় থাকবে প্রজাপতি প্রদর্শন, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি-বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি-বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি-বিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি ওড়ানোসহ নানা আয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় প্রকৃতি সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য ‘তরুপল্লব’ সংগঠনকে এবার ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ দেয়া হবে। আর ‘বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুজিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত বিশ্বাসকে।

২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রজাপতি সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
জাবিতে গাড়িচালকদের প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ
জাবির সাবেক ভিসির গাড়িচালকের ঘরে মদভর্তি ট্রাংক
জাবি ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে অর্ণব-অমর্ত্য
জাবির ভিসি হতে এগিয়ে আমির
জাবি ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ 

মন্তব্য

বাংলাদেশ
30 surgeries in a 4 week coma from one mosquito bite

মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি!

মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি! এশিয়ান টাইগার মশা। ছবি: সংগৃহীত
অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রটস্কে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে যাইনি। জার্মানিতেই ওই মশা আমাকে কামড়িয়েছে। এরপরই ধকল শুরু । আমি শয্যাশায়ী হলাম, বাথরুমেও যেতে পারতাম না। জ্বর ছিল। কিছুই খেতে পারতাম না। মনে হচ্ছিল, সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকরা ধারণা করে, এশিয়ান টাইগার মশা আমাকে কামড়িয়েছে। তারা বিশেষজ্ঞকে ডাকেন।’

মশার কামড় সবসময় বিরক্তিকর। অনেক সময় এটির কামড় জটিল রোগের কারণ। দেশে প্রতি বছরই বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে ডেঙ্গুতে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এটি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এডিসবাহী মশার মতোই একটি মশার কামড় ভুগিয়েছে ২৭ বছর বয়সী জার্মান যুবক সেবাস্তিয়ান রটস্কেকে। ৩০টি অস্ত্রোপচার এবং ৪ সপ্তাহ কোমায় থাকার পর বেঁচে ফিরেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবাস্তিয়ান রটস্কে জার্মানির রোডারমার্ক শহরের বাসিন্দা। গত বছরের গ্রীষ্মে ‘এশিয়ান টাইগার’ নামে এক ধরনের মশা তাকে কামড়েছিল। এরপর তার সর্দি–জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়।

তবে সেটা ছিল কেবল শুরু। এরপর ভয়াবহ সব শারীরিক জটিলতায় ভোগতে হয় রটস্কেকে।

গত দেড় বছরে রক্তদূষণ, যকৃৎ, কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস অকার্যকর হয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। এসব শারীরিক জটিলতার কারণে চার সপ্তাহ কোমায় ছিলেন রটস্কে। অস্ত্রের নিচে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন ৩০ বার।

ঊরুতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে রটস্কের। সেখানে মারাত্মক একটি ফোড়া ছিল। এ কারণে ঊরুর একটা অংশে পচন ধরেছিল। তখন রটস্কের মনে হয়েছিল, তার বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম।

মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি!
এশিয়ান টাইগার মশার কামড়ে শয্যাশায়ী সেবাস্তিয়ান রটস্কে

অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রটস্কে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে যাইনি। জার্মানিতেই ওই মশা আমাকে কামড়িয়েছে। এরপরই ধকল শুরু । আমি শয্যাশায়ী হলাম, বাথরুমেও যেতে পারতাম না। জ্বর ছিল। কিছুই খেতে পারতাম না। মনে হচ্ছিল, সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকরা ধারণা করে, এশিয়ান টাইগার মশা আমাকে কামড়িয়েছে। তারা বিশেষজ্ঞকে ডাকেন।’

‘এশিয়ান টাইগার মশা’ জংলি মশা নামেও পরিচিত। এই মশাগুলো দিনের বেলায় কামড়ায়। জিকা ভাইরাস, ওয়েস্ট নিল ভাইরাস, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক সব রোগের জীবাণু বহন করে এই মশা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Winter mood in West Bengal

পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ

পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আগামী চার-পাঁচ দিন জেলাগুলোর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি নিচে থাকবে। তবে তীব্র শীত নামতে কিছুদিন লাগবে।

পশ্চিমবঙ্গে জেঁকে বসছে শীত। গত শুক্রবার থেকে টানা তিনদিন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে কলকাতায়। সোমবার ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে তা হয়েছে ১৭।

আবহাওয়া অফিস বলছে, সামনের কয়েকদিন কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সামান্য ওঠানামা করলেও, শীতের আমেজ বজায় থাকবে। সোমবার কলকাতার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।

পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতে অবশ্য উত্তরের শুষ্ক হাওয়ার দাপটে ভালোই ঠান্ডা পড়েছে। কোথাও কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আগামী চার-পাঁচ দিন জেলাগুলোর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি নিচে থাকবে। তবে তীব্র শীত নামতে কিছুদিন লাগবে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বীরভূম শ্রীনিকেতনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রোববার ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস; পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস; মুর্শিদাবাদে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আগামী ৪-৫ দিন রাজ্যে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। বাধাহীনভাবে রাজ্যে প্রবেশ করছে শুষ্ক হওয়া। কমছে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ। ফলে জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগে, আগামী কয়েক দিন এই আমেজ বজায় থাকবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The brick kiln is still running without permission from the Department of Environment

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৫৩টি ইটভাটার ৫৩টিতে ছাড়পত্র ছাড়াই ইট তৈরি করা হচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবে। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯টি উপজেলায় ইটের ভাটা ১৫৩টি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে মাত্র ১০০টি ইটের ভাটাকে। বাকি ৫৩টি ছাড়পত্র না পেয়েও ইট তৈরি করে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দাকোপ উপজেলায় একটি, বটিয়াঘাটায় চারটি, ফুলতলায় ১৩টি, দিঘলিয়ায় চারটি, রূপসায় ৬৮টি, তেরখাদায় ৭টি, কয়রায় তিনটি, ডুমুরিয়ায় ৪১টি ও পাইকগাছায় ১২টি ইটভাটা লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী খুলনায় বৈধ ইটভাটা রূপসায় ৬৩টি, ডুমুরিয়ায় ২০টি, বটিয়াঘাটায় পাঁচটি, তেরখাদায় ৯টি ও দিঘলিয়ায় তিনটি। বাকিগুলোর ছাড়পত্র নেই।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতি এবং নির্ধারিত দরখাস্ত-ফি, দলিলাদি ও তথ্যাদি প্রদানসাপেক্ষে ইট প্রস্তুতকরণের লাইসেন্সের জন্য ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীন ইস্যুকৃত পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন না।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, ডিগ্রেডেড এয়ার শেডে ইটের ভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ও বিশেষ কোনো স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইট ভাটার ছাড়পত্র দেয়া হয় না।

খুলনার ফুলতলা উপজেলায় ইটের ভাটাগুলো লোকালয়ের ভেতরে হওয়ায় সেখানে কোনো ভাটাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়নি। তবে ওই ভাটার মালিকরা এসব আমলে না নিয়ে বছরের পর ধরে ভাটা পরিচালনা করছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবেন। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবেন।’

অন্যদিকে নদীর জায়গা, কৃষিজমি বর্গা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হওয়ায় ডুমুরিয়া উপজেলার ২১টি ইটের ভাটাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ‘নদীর জায়গা দখল করায় কয়েকটি ভাটার ছাড়পত্র নেই। আমি এখানে নতুন এসেছি। ইটের ভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। সব কিছুর কাগজপত্র দেখে অভিযান চালাতে সময় লাগবে।’

একইভাবে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে ঘনবসতি এলাকায় রয়েছে কয়রার এবিএম নামের ভাটা। পাইকগাছায় কৃষি জমির মধ্যে এআরবি ব্রিকস, যমুনা ব্রিকস, এসকেবি ব্রিকসসহ ১২টি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে, যাদের কোনো ছাড়পত্র নেই। এসব ভাটা থেকে নির্গত হচ্ছে পরিবেশগত দূষক, যা বায়ুমণ্ডলে মিশে স্বাস্থ্য, কৃষি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

খুলনা অঞ্চলের নদ-নদী ও পরিবেশ নিয়ে ২৫ বছর ধরে গবেষণা করছেন গৌরাঙ্গ নন্দী।

তিনি বলেন, ‘ইটভাটা থেকে দূষিত গ্যাস ও তাপ আশপাশের জলাভূমি, জীবজন্তু, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। অথচ নিয়ম না মেনে পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে যেখানে-সেখানে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে। কৃষিজমি নষ্ট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন প্রক্রিয়ায় ইটভাটাগুলোয় ইট তৈরি বন্ধ করতে হবে। আইনের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন ও সালফার নিঃসরণ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, টিলাসংলগ্ন সমতলে ইটভাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে যেসব উপকরণ ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, তার ব্যবহার বাড়াতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আইন মোতাবেক প্রতি তিন বছর পর পর জেলা প্রশাসন থেকে ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এ ছাড়া প্রতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। যেগুলোকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় না, তাদের এক বছর সময় দেওয়া হয় ভাটা সরিয়ে নেওয়ার জন্য। এর বাইরে যেসব ভাটা ছাড়পত্র ছাড়া চলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মধুমতিতে মিলে প্রবাহ ফিরে পেতে যাচ্ছে পাঁচুড়িয়া খাল
১৫ হাজার কি.মি. হেঁটে যে বার্তা নিয়ে এলেন যুবক
ইটভাটা বন্ধ করতেই হবে: মেয়র আতিক
বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে চাই পরিবেশবান্ধব শিল্প
চেয়ারম্যানের ইটভাটায় সিসা কারখানা, বাড়ছে রোগব্যাধি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People no longer have to leave their homes in disasters

‘দুর্যোগে মানুষকে এখন আর ঘর ছাড়তে হয় না’

‘দুর্যোগে মানুষকে এখন আর ঘর ছাড়তে হয় না’ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘সরকারের কার্যকর পদক্ষেপেই দুর্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি দুর্যোগ মোকাবেলা করছে।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দুর্যোগ মোকাবিলা ও হ্রাসের ক্ষেত্রে একজন অগ্রগামী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য তিনিই প্রথম একটি সংস্থা গঠনের আহ্বান জানান। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘে ‘ইউএনডিআরআর’ নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে রেডক্রস স্থাপন করে প্রায় বিশ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়োগ দেন।’

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রশমনে আগাম সতর্কবার্তা’ শীর্ষক সেমিনারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জাতির পিতার কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের সুবাদে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

‘দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রী ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ সহনীয় ঘর দেয়া হয়েছে। এ ঘরগুলো হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় এখন মানুষকে ঘরহারা হতে হয় না, বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে হয় না।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত এ ধরনের সভা-সেমিনার আয়োজন করা দরকার।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকার।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কিউ. এম মাহবুব।

মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহেদুর রশীদ।

স্বাগত বক্তব্য দেন সেমিনার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে