× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The rivers of Panchagarh are now dead
hear-news
player
google_news print-icon

পঞ্চগড়ের নদ-নদী এখন মরাখাল

পঞ্চগড়ের-নদ-নদী-এখন-মরাখাল
একসময় নদীকে ঘিরেই প্রাণচাঞ্চল্য ছিল পঞ্চগড়ে। ছবি: নিউজবাংলা
নদ-নদীকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ছিল পঞ্চগড়ে। এগুলোকে ঘিরেই ঘুরপাক খেত পঞ্চগড়ের অর্থনীতি। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসব নদীর এখন মরণদশা। শুধু বর্ষাকালে এগুলোর প্রবাহ থাকে। শীত শুরুর আগেই হয়ে পড়ে শীর্ণকায় মরাখাল।

সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ছোট-বড় ৪৬টি নদী। এগুলোর অধিকাংশের উৎস প্রতিবেশী ভারত। এককালে এসব নদী ছিল প্রমত্তা। পাহাড় থেকে নেমে আসায় খরস্রোতা এসব নদীতে নিয়মিতভাবে চলত নৌকা।

জেলার সবচেয়ে বড় নদী করতোয়া। একে ঘিরেই গড়ে উঠেছে পঞ্চগড় শহর। ১০০ বছর আগেও এই নদীতে চলত বড় বড় নৌকা। ব্যাপারীরা নৌকায় করে তাদের সওদা নিয়ে ভিড়ত পঞ্চগড়ের ঘাটে।

নদীকে ঘিরেই প্রাণচাঞ্চল্য ছিল পঞ্চগড়ে। একে ঘিরেই ঘুরপাক খেত পঞ্চগড়ের অর্থনীতি। কিন্তু কালের বিবর্তনে করতোয়ার এখন মরণদশা। শুধু বর্ষাকালে এটির প্রবাহ থাকে। শীত শুরুর আগেই এটি হয়ে পড়ে শীর্ণকায় মরাখাল।

এখন বাইরে থেকে আসা লোকজন সেতুর নিচে তাকালে ভাবতে পারেন না এটা এককালের খরস্রোতা করতোয়া নদী। নদীতে এখন পানির দেখা পাওয়াই ভার। যেদিকে চোখ যায়, বালুর চর।

বোরো মৌসুমে নদীর বুকে সবুজের সমারোহ। নদীতে পানি না থাকায় কৃষকরা ধানের আবাদ করে নদীর বুকজুড়ে।

শুধু করতোয়া নয়, পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সব নদীই এখন শীর্ণকায়। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দুই তীরে বালুচর। করতোয়া ছাড়াও এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে চাওয়াই, তালমা, পাঙ্গা, কুরুম, পাম, মহানন্দা, ভেরসা, ডাহুক, তীরনই, রণচণ্ডি, বেরং, জোড়াপানি, সাও, ঘোড়ামারা, পাথরাজ, নাগর, সিঙ্গিয়া, বহু, রসেয়া, ঘাগরা ও মরাতিস্তা। সব নদীর একই দৈন্যদশা।

প্রতিবেশী ভারত এসব নদীর উৎসমুখে এক তরফা বাঁধ বা ড্যাম নির্মাণ করায় বর্ষার পর এসব নদী পরিণত হয় মরাখালে। ভারত কর্তৃপক্ষ নদীশাসন আইন অমান্য করে নদীগুলোর উৎস এবং প্রবেশমুখে বাঁধ, স্লুইস গেট, জলাধার, ফিডার ক্যানেল ও রেগুলেটর নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করেছে। জেলার ২২১ কিলোমিটার সীমান্তব্যাপী নির্মাণ করেছে বেড়িবাঁধ। ফলে নদীগুলো ধীরে ধীরে মরাখালে পরিণত হচ্ছে।

আবার নদীতে পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। অথচ শুস্ক মৌসুমে ভূগর্ভের পানি পঞ্চগড় জেলার সেচের একমাত্র অবলম্বন। এই পানি নিচে নেমে যাওয়ার কারণে ইরি-বোরো চাষে স্থানীয় চাষিরা সেচ দেয়ার পরও সেচের পানি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এদিকে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় মাছসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এরই মধ্যে দেশীয় অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বিলুপ্তির পথে।

ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি নদী ও একটি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন’ প্রকল্পে পঞ্চগড়ের করতোয়া, ভেরসা, চাওয়াই, পাথরাজ ও বুড়িতিস্তা নদী এবং আটোয়ারী উপজেলার বড় সিংগীয়া খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে।

পঞ্চগড়ের নদ-নদী এখন মরাখাল

এ প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর ৭৮ কিলোমিটার, তেঁতুলিয়ার ভেরসা নদীর ১০ কিলোমিটার, সদরের চাওয়াই নদীর ২০ কিলোমিটার, বোদার পাথরাজ নদীর ৩০ কিলোমিটার, দেবীগঞ্জের বুড়িতিস্তা নদীর ২০ কিলোমিটার এবং আটোয়ারীর বড় সিংগীয়া খালের ছয় কিলোমিটার খনন করা হয়েছে।

দলীয় প্রভাবে নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্পের কোনো সুফল আসেনি বলে জানিয়েছেন নদীপারের মানুষ।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, ইতোমধ্যে এ ১৬টি প্যাকেজের কাজ শেষের পথে। নতুন প্রকল্পের জন্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে বাকি নদী খননের কাজ শুরু করা হবে।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া জানান, নদ-নদীগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাবে। এতে এলাকায় মরুকরণসহ কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

পরিবেশ প্রকৃতি এবং নদী গবেষণায় কাজ করছেন ভজনপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে নদী পুনঃখননের কাজ করতে না পারলে এর কোনো সুফল আসবে না। পঞ্চগড়ের ৩৪টি নদ-নদীর অধিকাংশই হুমকির মুখে। ক্রমাগত দখল-দূষণে এগুলো মৃতপ্রায়। নদী-নদী বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে একসময়ের খরস্রোতা নদী আজ প্রাণহীন। পঞ্চগড়ের নদ-নদীগুলোকে দলখমুক্ত ও দূষণমুক্ত করে পঞ্চগড়ের পরিবেশ প্রকৃতি বাঁচিয়ে রাখতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
যমুনার ভাঙনে মুছে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম
ধরলার ভাঙনে বিলীনের পথে চর ফলিমারী গ্রাম
‘আমাগো সব কিছু গিল্লা খাইয়া হালাইছে পদ্মায়’
অসময়ের নদীভাঙনে দিশেহারা মানুষ
শুকিয়ে যাওয়া নদীতে মিলছে জাহাজ, বসতি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Rape case against SI by former wife

এসআইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা সাবেক স্ত্রীর

এসআইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা সাবেক স্ত্রীর
বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্বামী লন্ডন ফিরে যাওয়ার পর এসআই আলা উদ্দিন তার সঙ্গে ফের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। গত ২৩ নভেম্বর বিকেলে আলা উদ্দিন তার বাসায় গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন ও বিভিন্ন হুমকি দেন।

ফেনীতে পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক স্ত্রী। ফেনী মডেল থানায় তিনি শনিবার রাতে মামলা করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহফুজুর রহমান রোববার এসব নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত আলা উদ্দিন ফেনী ডিএসবির উপপরিদর্শক। ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে প্রশিক্ষণে আছেন।

অভিযোগকারী নারী জানান, প্রেমের পর মাহফুজুরের সঙ্গে ২০২০ সালে তার বিয়ে হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই হয় বিচ্ছেদ। এরপর তিনি লন্ডন প্রবাসী যুবককে বিয়ে করেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্বামী লন্ডন ফিরে যাওয়ার পর এসআই আলা উদ্দিন তার সঙ্গে ফের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। গত ২৩ নভেম্বর বিকেলে আলা উদ্দিন তার বাসায় গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন ও বিভিন্ন হুমকি দেন। আলা উদ্দিন ঢাকায় প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ার খবর জানার পর শনিবার রাতে থানায় গিয়ে মামলা করেন ওই নারী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
‘ধর্ষণের কথা গোপন রাখতেই বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে হত্যা’
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা: একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার
ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় সংগীত শিক্ষকের কারাদণ্ড
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
37 Farmers Debt Debt Found Investigation Committee

৩৭ কৃষকের ঋণখেলাপ, পাবনা গেল তদন্ত কমিটি

৩৭ কৃষকের ঋণখেলাপ, পাবনা গেল তদন্ত কমিটি পাবনায় পৌঁছে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তদন্ত কমিটির তিন সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা
গত ২৮ নভেম্বর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারীতে আলোচিত ৩৭ কৃষকের ঋণ খেলাপের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এখন পাবনায়।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় কমিটির সদস্যরা পাবনা শহরের এলএমবি মার্কেটে অবস্থিত সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের কার্যালয়ে যান।

সমবায় ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (পরিদর্শন) মো. আহসানুল গণির নেতৃত্বে কমিটির অন্য দুজন হলেন উপব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) মো. আমিনুল ইসলাম রাজীব। তারা পাবনা জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী এবং পাবনায় সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সমবায় ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. বিশ্বাস রাসেল বলেন, ‘বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন। তিনি কৃষকদের সুদ মওকুফ করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছেন।’

এ সময় মো. আহসানুল গণি জেলা প্রশাসককে জানান, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার সকাল ১০টায় ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঋণ খেলাপে অভিযুক্ত কৃষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় তারা ‘পল্লী প্রকল্প ঋণ’ প্রদান, আদায় ও পরিশোধ সম্পর্কিত সব তথ্য পর্যলোচনা করবেন। পরে ঢাকায় গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাবনা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হবে।

গত ২৮ নভেম্বর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন:
খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন
বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের
ঋণখেলাপি মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে
বিদেশি ঋণেও যুদ্ধের ধাক্কা, ৪ মাসে কমল ২৫ শতাংশ
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Totally rebellious

শতকণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’

শতকণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’ কুমিল্লা নজরুল ইনস্টিটিউটে রোববার সন্ধ্যায় শতকণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতার অডিও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
নির্দেশক সুমন বলেন, ‘১২৩ শিশু-কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক আবৃত্তিশিল্পী এতে অংশ নেন। বিদ্রোহী কবিতা নিয়ে শতকণ্ঠে এ ধরনের ভিজ্যুয়াল নির্মাণ এটাই প্রথম। বিভিন্ন মঞ্চ ও ইনডোর-আউটডোর লোকেশনে শুটিং হয়েছে।’

কুমিল্লার ধর্মসাগর পাড়ে নজরুল ইনস্টিটিউটে শতকণ্ঠে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ‌'বিদ্রোহী' কবিতার অডিও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় এমন বর্ণিল আয়োজন করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। কুয়াশাচ্ছন্ন অগ্রহায়ণের এই সন্ধ্যায় শতকণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতার অডিও ভিজ্যুয়াল উপভোগ করতে সমবেত হন বিশিষ্টজনরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন।

শতকণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহতাব সমুন।

আবৃত্তি শেষে সুমন বলেন, ‘১২৩ শিশু-কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক আবৃত্তিশিল্পী এতে অংশ নেন। বিদ্রোহী কবিতা নিয়ে শতকণ্ঠে এ ধরনের ভিজ্যুয়াল নির্মাণ এটাই প্রথম। বিভিন্ন মঞ্চ ও ইনডোর-আউটডোর লোকেশনে শুটিং হয়। বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্টের সদস্যদের অংশগ্রহণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মহড়ার স্টক ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘নজরুলের সঙ্গে কুমিল্লার নিবিড় সম্পর্ক। নজরুল কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার হন। এখানে তিনি বিয়ে করেন। সাম্যর কবি, দ্রোহের কবি নজরুল আমাদের পথ দেখিয়েছেন। ভারত যখন নজরুলকে নিয়ে যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে এনে জাতীয় কবির সম্মান দেন। বাঙালি জাতির জীবনের নজরুলের গুরুত্ব অসীম।’

জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ আয়াজ মাবুদ ও নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আল আমিনের ব্যবস্থাপনায় এই প্রযোজনার সহ-নির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবৃত্তিশিল্পী রুবেল কুদ্দুস ও জীৎনাথ। কোরিওগ্রাফি নির্দেশনা দেন ফারহানা আহম্মেদ। কস্টিউম ডিজাইনে ছিলেন চৌধুরী মরিয়ম হাশমি, সাজেদা হক ও সাহিদা আক্তার পপি আর ভিডিওগ্রাফিতে আশিক পায়েল, অডিও পুলক সিনহা, সম্পাদনায় নিওন।

আরও পড়ুন:
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে ‘শতবর্ষে শতদৃষ্টি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP dislikes Suhrawardy because he calls for independence Information Minister

স্বাধীনতার ডাক আসে বলে সোহরাওয়ার্দী বিএনপির অপছন্দ: তথ্যমন্ত্রী

স্বাধীনতার ডাক আসে বলে সোহরাওয়ার্দী বিএনপির অপছন্দ: তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেই জন্য এই ময়দান তাদের পছন্দ না। তারা ঢাকা শহরে গন্ডগোল করতে চায়।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ মনে করেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বলে বিএনপি এই ময়দানে ডিসেম্বরে সমাবেশ করতে চাইছে না। তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মতো বিএনপিও ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় আত্মসমর্পণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের জনসভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ৮ অক্টোবর এই মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপির ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশের শুরু। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় জমায়েতের মধ্য দিয়ে আপাতত শেষ হচ্ছে বিরোধী দলটির কর্মসূচি।

রাজধানীর এই সমাবেশকে ঘিরে রাজনীতিতে এখন উত্তাপ। বিএনপির ঘোষণা ছিল, ১০ ডিসেম্বর থেকেই বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে দেশ চলবে। এরপর আওয়ামী লীগ হয় কঠোর। বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চাইলেও সরকার তাদেরকে জায়গা দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু বিএনপি এখন পর্যন্ত সেখানে যেতে নারাজ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেই জন্য এই ময়দান তাদের পছন্দ না। তারা ঢাকা শহরে গন্ডগোল করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর বিজয়ের মাস, ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ ঢাকায় পাকিস্তানিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স) আত্মসমর্পণ করেছিল। বিএনপি ১০ ডিসেম্বর নাকি ঢাকা দখল করবে। ১০ তারিখে বিএনপি ও অগ্নি সন্ত্রাসীরা ঢাকার বুকে আত্মসমর্পণ করবে ইনশাআল্লাহ, যেইভাবে পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করেছিল।’

বিএনপির ৮ অক্টোবরের জমায়েতের চেয়ে বড় সমাবেশের ঘোষণা ছিল আওয়ামী লীগের। ব্যাপক জনসমাগমও হয়েছে সেখানে। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে সমগ্র চট্টগ্রাম শহরে মানুষের ঢেউ জেগেছে। সমুদ্রপাড়ের চট্টগ্রামের সাথে যেন জনতার ঢেউ একাকার হয়ে গেছে। আর পলোগ্রাউন্ডে রঙবেরংয়ের বর্ণিল ছটা যেন আজকে রংধনুর ছটায় পরিণত হয়েছে। এই জনসভায় যত না মানুষ, তার চেয়ে আট-দশ গুণ মানুষ এই জনসভার বাইরে অবস্থান করছে।’

গত ১৪ বছরে শেখ হাসিনার যাদুকরি নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বদলে গেছে দাবি করে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বলেন, ‘কদিন পরেই আমাদের নেত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশে প্রথম রোড টানেল উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ভৌত কাজের তিনি সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন।

‘বে টার্মিনাল করে চট্টগ্রাম বন্দরের দ্বিগুণ আরেকটি বন্দর নির্মিত হতে যাচ্ছে। কুতুবদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রামে মেট্টোরেল হবে। চট্টগ্রামের পাতাল দিয়ে রেল চলবে। গত ১৪ বছরে লক্ষ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এই চট্টগ্রামে হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আরও লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন এই চট্টগ্রামে হবে। সীতাকুণ্ড-মিরসরাই নিয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হতে যাচ্ছে। সেটি আরেকটি চট্টগ্রাম শহর হতে যাচ্ছে।’

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সমাবেশ শেষের আগেই রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু
সরকার ভয় পেয়ে গেছে: ফখরুল
কোরআন তেলাওয়াতে শুরু রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ
সমাবেশের মাঠে বিএনপি নেতা-কর্মীরা
রাতেই মাঠ উপচে রাস্তায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
We are doing well in the global situation

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি’ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রংপুর সার্কিট হাউসে রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমলেও মন্ত্রণালয় দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশের অসচ্ছল এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছি।’

তিনি বলেন, ‘রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ আমদানির ব্যবস্থা করছেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন, পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্যাস বন্ধের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী
বিনিয়োগে পর্যাপ্ত সুযোগ ও নিরাপত্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী
‘শ্রমিকের ঘামের মূল্য রক্তের চেয়ে কম নয়’
সেপা চুক্তি হলে দু’দেশই লাভবান হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eight gatherings of BNP are held at Pologround Quader

বিএনপির আট সমাবেশের সমান জমায়েত পলোগ্রাউন্ডে: কাদের

বিএনপির আট সমাবেশের সমান জমায়েত পলোগ্রাউন্ডে: কাদের চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
‘দেখে যান ফখরুল সাহেব, আমীর খসরু সাহেব, এখানে দাঁড়িয়ে বড় বড় কথা বলেছিলেন। আটটা সমাবেশের (বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ) সমান সমান লোক হয়েছে। আজকে পলোগ্রাউন্ডে শেখ হাসিনার জনসভায় এখানে যা লোক, তার ৮ গুণ বেশি লোক বাইরে। গোটা চট্টগ্রাম আজকে মিছিলের নগরী। মহাসমাবেশ নয়, মহাসমুদ্র।’

বিএনপির আটটি বিভাগীয় সমাবেশে যত মানুষ উপস্থিত হয়েছে, চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশেই তত মানুষ এসেছে বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রীর এই সমাবেশকে মহাসমুদ্র বলেও উল্লেখ করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

রোববার চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গত ৮ অক্টোবর এই ময়দানে জমায়েত দিয়েই বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের শুরু। এরপর আরও আটটি সমাবেশ শেষ করে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে জমায়েতের ডাক দেয়া হয়েছে।

বিএনপির প্রতিটি সমাবেশেই নেতা-কর্মীদের বিপুল উপস্থিতি দলটিকে উজ্জীবিত করছে। নেতারা বলছেন, জনগণ যে তাদের পক্ষে, সেটি জনসভায় উপস্থিতি দেখেই প্রমাণ মিলছে। এর জবাবে আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ দিয়ে নিজেরাও বড় বড় সমাবেশ করতে থাকে। ২৪ নভেম্বর যশোরের পর চট্টগ্রামের এই সমাবেশেও ব্যাপক উপস্থিতির চ্যালেঞ্জ দেয়।

সেই চ্যালেঞ্জে দৃশ্যত তারা সফল। বিশাল ময়দান ছাড়িয়ে নেতা-কর্মীদের ভিড় ছড়ায় আশপাশের এলাকায়।

বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা গায়ে নানা রঙের রঙিন জামা, মাথায় ক্যাপ পরে জনসভায় যোগ দিতে আসেন। বিভিন্ন ইউনিটের রঙিন পোশাকের বর্ণিল রঙে সাজে পুরো মাঠ ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেখে যান ফখরুল সাহেব, আমীর খসরু সাহেব, এখানে দাঁড়িয়ে বড় বড় কথা বলেছিলেন। আটটা সমাবেশের (বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ) সমান সমান লোক হয়েছে। আজকে পলোগ্রাউন্ডে শেখ হাসিনার জনসভায় এখানে যা লোক, তার ৮ গুণ বেশি লোক বাইরে। গোটা চট্টগ্রাম আজকে মিছিলের নগরী। মহাসমাবেশ নয়, মহাসমুদ্র।’

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলীর সব ঢেউ আজ পলোগ্রাউন্ডে। বঙ্গোপসাগরের সব ঢেউ আজ চট্টগ্রাম শহরে। দেখে যান জনপ্রিয়তা কাকে বলে। ফখরুলকে বলছি কান পেতে শুনুন মহাসাগরের গর্জন। শুনতে পাচ্ছেন? আপনি না শুনতে পেলে আমীর খসরু, নোমান সাহেব, মীর নাছির সাহেব, আপনারা একটু দেখেন চট্টগ্রাম শহরের আজ কী অবস্থা।’

বিএনপির সমাবেশে যত লোক হয়, দলটি তার কয়েক গুণ দাবি করে বলেও মন্তব্য করেন কাদের। বলেন, ‘রাজশাহীতে গেছে, কত লোক হয়েছে? তরঙ্গ না ঢেউ? যা লোক হয়, ১০ হাজার হলেও কয় লাখ লাখ। এই হলো বিএনপি।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শেখ হাসিনাই সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বলেও দাবি করেন কাদের। বলেন, ‘বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে সৎ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরে সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে গত ৪৭ বছরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর সবচেয়ে সাহসী নেতার নাম শেখ হাসিনা। সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা।

‘মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে যিনি জীবনের জয়গান গেয়ে যাচ্ছেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি সৃষ্টির পতাকা ওড়ান, তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।’

উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে, অর্জনকে বাঁচাতে হলে ক্ষমতার মঞ্চে শেখ হাসিনা ছাড়া বিকল্প নেই বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা।

প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ ও ‘ট্রাবলশুটার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ আর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় আমরা কিছুটা বিপদে আছি। এই বিপদ থেকে শেখ হাসিনাই উদ্ধার করবেন। তিনি সারা রাত ঘুমান না, জেগে থাকেন।

‘ফখরুল বলেন, সরকারের ঘুম নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের ঘুম নষ্ট হয়নি, ঘুম নষ্ট শেখ হাসিনার। দেশের মানুষের জন্য, দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য। গরিব ও দুখি মানুষকে বাঁচানোর জন্য শেখ হাসিনাকে রাত জাগতে হয়।’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে কাদের বলেন, ‘খেলা হবে, হবে খেলা! বীর চট্টলা তৈরি। খেলা হবে।’

বিএনপিকে সংবিধান সংশোধনের স্বপ্ন ভুলে যাওয়া ও তত্ত্বাবধায়কের ‘ভূত’ মাথা থেকে নামিয়ে ফেলার পরামর্শও দেন কাদের। জানান, অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা। সভা সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

অতিথিদের মধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এবং মহানগরে বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরাও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ভয় পায় বিএনপি: ওবায়দুল কাদের
সম্মেলনে বিশৃঙ্খলায় ছাত্রলীগ, ক্ষোভ কাদেরের
বিএনপির খবর আছে: কাদের
সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের
বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে নজর রাখবে আ.লীগ: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rice mills are destroying paddy fields

চালের কল নষ্ট করছে ধানের ক্ষেত

চালের কল নষ্ট করছে ধানের ক্ষেত মিল থেকে উড়ে আসা ছাইয়ে এভাবেই নষ্ট হচ্ছে ধান। ছবি: নিউজবাংলা
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমীর উদ্দিন জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে পরিবেশদূষণের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘এখন আমরা কী খামু, সব তো গায়েব হয়ে গেছে! কোম্পানির পচা পানি, ছাই আমাগো ধানক্ষেত ও গমক্ষেত শেষ কইরা দিল! কিছু কইতে গেলে ম্যানেজার কয় জমি বেইচা এলাকা ছাড়তে। আমরা গরিব মানুষ তাই আমাগো কথা কেউ শুনেই না!’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই আক্ষেপ করছিলেন কৃষক ইউনুস আলী। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের ইছারচালা গ্রামে তার দুই বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। চালের মিল থেকে উড়ে আসা ছাইয়ে পুড়ে গেছে ধানের শিষ।

এ ছাড়াও আবেদ আলী, মফেজ উদ্দিন, শামসুল হক, মনসুর ও বুদ্ধি বর্মণসহ আরও বেশ কয়েকজন কৃষক এমন বিপদে পড়েছেন।

এ অবস্থায় বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ইউএনও ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর স্থানীয় ১১৩ জনের স্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটাইলের সাগরদীঘি ইউনিয়নের ইছারচালা গ্রামে ডেইলি রাইস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামে একটি চালকল স্থাপন করা হয়েছে আবাসিক এলাকার ফসলি জমি ঘেঁষে। ওই কলের বিষাক্ত বর্জ্য, দুর্গন্ধ, ছাই, কুঁড়া ও বায়ুদূষণের প্রভাব পড়েছে স্থানীয়দের ওপর। চোখের রোগ, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে গ্রামটির শত শত পরিবার।

চালের কল নষ্ট করছে ধানের ক্ষেত
ফসলি জমির পাশে এভাবেই গড়ে ওঠেছে চালের কল

লিখিত অভিযোগে দিশেহারা কৃষকরা জানিয়েছেন, দূষিত বর্জ্যের কারণে ফসলি জমির আবাদি ধানক্ষেত পঁচে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় পাঁচ একর জমির ফসল।

তা ছাড়া কারখানায় উচ্চ শব্দের জেনারেটর ব্যবহার করায় শব্দদূষণে স্থানীয় বিদ্যালয় ও আশপাশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। কাছাকাছি একটি হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয়ের পূজা-অর্চনায়ও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে।

অভিযোগকারী বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইছারচালা গ্রামের বাসিন্দা বিবেক চন্দ্র বর্মণ জানান, অতীতে তারা একত্র হয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। প্রতিবাদ করার কারণে বরং স্থানীয়রা নানাভাবে ওই মিল কর্তৃপক্ষের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এসব বিষয়ে ডেইলি রাইস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ বলেন, ‘কোম্পানির পুকুরটি নিচু হওয়ায় পানি চুইয়ে যেতে পারে, তবে পাড় উপচে কখনোই পানি বাইরে যাচ্ছে না। আর ছাই ওড়ারও কোনো সম্ভাবনা নাই। বেশি বাতাস হলে কিছুটা উড়তে পারে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমীর উদ্দিন জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে পরিবেশদূষণের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ঢলের পানিতে ডুবেছে বাদাম-তিল-ধান, দিশেহারা কৃষক
৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা
তিড়িং পোকা কাটছে পাতা-ডগা
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
বেড়েছে সুতাং-ধলেশ্বরীর পানি, ডুবল ৫০ হেক্টর জমি

মন্তব্য

p
উপরে