× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Township at risk of sand extraction in Singra
hear-news
player
google_news print-icon

সিংড়ায় বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে জনপদ

সিংড়ায়-বালু-উত্তোলনে-ঝুঁকিতে-জনপদ
সিংড়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা
শেরকোল ইউনিয়নের ভাগনাগরকান্দি এলাকায় আত্রাই নদী থেকে দিনরাত ধরে দুটি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন শ্রমিকরা। পরে সেই বালু পাঠানো হচ্ছে পাশের নির্মীয়মাণ হাইটেক পার্কে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার আত্রাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবীব রুবেলের যোগসাজশেই চলছে এ কর্মযজ্ঞ। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের ম্যানেজার জাহিদ হাসান বালু তোলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তারা পার্শ্ববর্তী হাইটেক পার্কের জন্য বালু তুলছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরকোল ইউনিয়নের ভাগনাগরকান্দি এলাকায় আত্রাই নদী থেকে দিনরাত ধরে দুটি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন শ্রমিকরা। পরে সেই বালু পাঠানো হচ্ছে পাশের নির্মীয়মাণ হাইটেক পার্কে। এভাবে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী মানুষের সহায়-সম্পদ, বসতভিটা, বাজার, স্থাপনা, ব্রিজ, রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পড়ছে। প্রচলিত আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এমন অবৈধ কাজ মাসের পর মাস চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

শেরকোল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রঞ্জু মিয়া জানান, প্রভাবশালী লোকেরা বালু উত্তোলন করছেন। বছর দুয়েক আগে বাধা দিতে গিয়ে তিনিসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন সন্ত্রাসী হামলায়। তাই প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভাগনাগরকান্দি গ্রামের রাজু আহমেদ বলেন, ‘বালু তোলার ফলে নদীর পাড় ভেঙে তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারীদের ভয়ে কেউই কিছু বলে না। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের নানা বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।’

নাটোরের পরিবেশ আন্দোলনকারী সাজিদ আলী ঝর্ণা বলেন, ‘নদীতে কোথায় কী পরিমাণ বালু তোলা যায়, তা খতিয়ে দেখে পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে বালুর চাহিদা যেমন পূরণ হতে পারে, তেমনি নদ-নদীর নাব্যতা ফেরাতেও এর বিকল্প নেই। বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে রাষ্ট্র মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।’

সিংড়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান জানান, এই উপজেলায় কোনো বালুমহল নেই। আত্রাই নদী থেকে যারা বালু তুলছে, তারা অবৈধভাবে এই কাজ করছে। ভাগনাগরকান্দি এলাকায় নদী থেকে বালু তোলার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। পরে ড্রেজার মালিক আতাহার আলীকে বালু উত্তোলন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেরকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তিনি চেয়ারম্যানের ম্যানেজার জাহিদ হাসানকে ফোন দিয়ে বালু তুলতে নিষেধ করেছেন।

নিষেধ করার পরও কীভাবে বালু তোলা হচ্ছে এমন প্রশ্নে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও আল ইমরান আরও জানান, এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তিনি নিজে গিয়ে বালু তোলা বন্ধ করবেন।

বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মালিক আতাহার আলী জানান, বালু তোলার সঙ্গে তিনি জড়িত নয়। চেয়ারম্যান রুবেল তার ড্রেজার ভাড়া নিয়েছেন। প্রতি ট্রলার বালুতে তারা তাকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া দেন। তবে প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি বা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তাকে ড্রেজার বন্ধে সরাসরি বা ফোনে নিষেধ করেননি বলে জানান আতাহার আলী।

বালু উত্তোলনের বিষয়ে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবীব রুবেলের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ম্যানেজার জাহিদ হাসান বলেন, হাইটেক পার্কের জন্য তারা বালু উত্তোলন করছেন। হাইটেক পার্কের বালু সরবরাহকারী হেলাল উদ্দিনকে বালু সরবরাহ করছেন।

হাইটেক পার্কের বালু সরবরাহকারী হেলাল উদ্দিন জানান, রুবেল চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠান অর্ক বালুমহলের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে। তারা হাইটেক পার্কে ১৫ লাখ ঘনফুট বালু সরবরাহ করবে। চুক্তি অনুযায়ী তাদের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। তারা কোথা থেকে বালু সরবরাহ করছে, এটা তার জানার বিষয় নয়।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৪২ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বেড়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৩ জন আটক
পদ্মা সেতুর নিচ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
In Brahmanbaria the death of a pregnant woman is accused of Rs

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকায় রফার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকায় রফার অভিযোগ চিকিৎসকের অবহেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতি মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা
প্রসূতির নাম খাদিজা বেগম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রামের সৌদি প্রবাসী নয়ন মিয়ার স্ত্রী। ৫ সন্তানের জননী খাদিজা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গ্রীন ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে মৃত্যু হয় খাদিজার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা এক লাখ টাকা রফা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের গ্রীন ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রসূতির নাম খাদিজা বেগম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রামের সৌদি প্রবাসী নয়ন মিয়ার স্ত্রী। ৫ সন্তানের জননী খাদিজা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে খাদিজার বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ১১টার দিকে তাকে জেলা শহরের কুমারশীল মোড় এলাকার অবস্থিত গ্রীন ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

সেখানে গাইনি চিকিৎসক জিনিয়া খানের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। এর কিছু পর শারীরিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে তাকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হয়।

শনিবার রাতভর সন্তান নড়াচড়া করেনি। রোববার সকাল ১১টায় পর্যন্তও খাদিজার কোনো খোঁজ না নেয়ায় স্বজনরা চিকিৎসককের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তখন চিকিৎসক তাদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে বলেন। আল্ট্রাসনোগ্রামে খাদিজার গর্ভে থাকা নবজাতক মৃত বলে জানা যায়। এরপর চিকিৎসক সাধারণ প্রক্রিয়ায় খাদিজার মৃত সন্তানটিকে প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

গাইনী চিকিৎসক জিনিয়া খান রোববার সন্ধ্যায় প্রসূতির মৃত সন্তানকে সাধারণ প্রক্রিয়ায় প্রসবের চেষ্টা করেন। এসময় খাদিজার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়; এক পর্যায়ে খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে মারা যান খাদিজা।

পরে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করে হৈহুল্লোর শুরু করেন। রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের স্বামী নয়ন মিয়া বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজারিয়ান অপারেশন) মৃত নবজাতককে অপসারণের জন্য চিকিৎসককে অনুরোধ করেছিলাম। তবে তারা শুনেননি। একপর্যায়ে খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, কিছুক্ষণর মধ্যেই খাদিজা মারা যায়।

অভিযোগের স্বরে নয়ন মিয়া বলেন, ‘খাদিজার মরদেহ হাসপাতালে থাকা অবস্থায়ই চিকিৎসক ও মালিকপক্ষের লোকজন ঘটনাটির দামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন।

‘হাসপাতাল আমার অনেক আত্মীয়-স্বজন ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের কাছে এক লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে তা আমার হাতে পৌঁছেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকায় রফার অভিযোগ

এ বিষয়ে গাইনি চিকিৎসক জিনিয়া খান বলেন, ‘তার (খাদিজা) গর্ভের সন্তান হয়তো আরও আগেই মারা গিয়েছিল। গর্ভে মৃত সন্তান থাকলে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং খিঁচুনি আসতে পারে। জরুরি অবস্থায় তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনরা অস্ত্রোপচার করার কথা বললে, আমরা তা করতাম। কিন্তু স্বজনরা এমন কিছু বলেননি।

‘এখানে চিকিৎসকের কোনো অবহেলা ছিল না।’

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও অভিযুক্ত চিকিৎসক জিনিয়া খানের স্বামী আবু হামেদ রোগীর স্বজনদের ১ লাখ টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসা, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সের খরচ আমরা মওকুফ করে দিয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মোসাদকে সহায়তা, ইরানে ৪ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
পদ্মায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার
নান্দাইলে বাসায় শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ
নবজাতকের রক্তাক্ত মরদেহ রাস্তার পাশে
সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Indebtedness Farmers expressed their anger before the inquiry committee

ঋণখেলাপ: তদন্ত কমিটির সামনে ক্ষোভ ঝাড়লেন কৃষকরা

ঋণখেলাপ: তদন্ত কমিটির সামনে ক্ষোভ ঝাড়লেন কৃষকরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে তদন্ত কমিটি। ছবি: নিউজবাংলা
ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে ব্যাংক মামলা করে। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ২৫ নভেম্বর ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। বিষয়টি নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

বকেয়া ঋণ কারও ছিল ৪০০ টাকা, কারও ৯০০ টাকা। কেউ আবার পুরো টাকাই সুদসহ পরিশোধ করেছেন। তারপরও ঋণখেলাপের দায়ে জেল খাটতে হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী গ্রামের কৃষকদের।

সোমবার ভাড়ইমারী গ্রামে অভিযুক্ত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি অনুসন্ধানে গিয়ে এসব বিষয় জানতে পেরেছেন তদন্ত কমিটির তিন সদস্য। কয়েক কৃষক তাদের সামনে ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি বিলকিস নাহারের বাড়িতে যান তদন্ত দলের সদস্যরা।

বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিএম (পরিদর্শন) আহসানুল গণির নেতৃত্বে এ কমিটিতে রয়েছেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) আমিনুল ইসলাম রাজীব।

এ সময় উপস্থিত কৃষক আব্দুস সামাদ, মজনু প্রামানিক ও আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তদন্ত দলের সদস্যরা কথা বলেন। পরে তারা ঋণখেলাপে অভিযুক্ত কৃষকদের বাড়িতে যান।

এ সময় কৃষকদের কাছে তারা জানতে চান- ঋণের টাকা তারা কেন পরিশোধ করেননি, ঋণের কিস্তি পরিশোধের রশিদ আছে কি-না এবং কার কাছে তারা কিস্তির টাকা জমা দিয়েছেন।

এ ছাড়াও মামলার আগে ব্যাংক তাদের ঋণ পরিশোধের কোনো নোটিশ দিয়েছিল কি-না।

তদন্ত দলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ঋণের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩৭ কৃষকের মধ্যে আতিয়ার রহমান ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুদসহ ৪৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তার বকেয়া রয়েছে মাত্র ৪৩৩ টাকা। এরপরও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

মোছা. রহিমা বেগম নামে এক নারী কৃষক ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তার বকেয়া রয়েছে ৯০০ টাকা।

মজনু প্রামাণিক নামে অপর একজন ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছেন ৫৫ হাজার টাকা।

তদন্ত দল কৃষকদের কাছে ঋণ পরিশোধের তথ্য জানতে চাইলে কৃষকেরা তেমন কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। তবে তারা মুখে মুখে পরিশোধের হিসাব ও তারিখ জানান। সেসব তথ্য ব্যাংকের স্টেটমেন্টের সঙ্গেও মিলে যায়।

এ সময় কয়েকজন নিজেদের সামান্য বকেয়ার কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা তদন্ত দলের কাছে প্রশ্ন তোলেন- টাকা পরিশোধ করেও কেন জেল খাটতে হলো?

কৃষকদের এমন প্রশ্নে তদন্ত দলের সদস্যরা চুপ হয়ে যান।

গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের শিকার কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘সব টাকা পরিশোধ করেছি। তারপরও কেন আমাকে তিন দিন কারাগারে থাকতে হলো। এ দায়ভার ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। আমাদের হয়রানি করা হয়েছে।’

কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুদসহ সমুদয় টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও কারাগারে যেতে হয়েছে। এজন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়ী। যদি ঋণ পরিশোধ না করে থাকি, তবে কেন আমাদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়নি। উকিল নোটিশ পাঠালেই জানতে পারতাম ঋণ পরিশোধ হয়নি। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা না করে সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।’

ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি বিলকিস নাহার বলেন, ‘ব্যাংকের মাঠকর্মীরা এসে কৃষকের কাছ থেকে কিস্তি নিয়েছেন। কিস্তির টাকা তারা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন কি-না জানি না। ব্যাংক আমার বিরুদ্ধেও চেক জালিয়াতির একটি মামলা করেছে। আমি সেই মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহির মণ্ডল জানান, এলাকার ৩৭ জন কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বিষয়ে কোনো কৃষকই আগে জানতেন না। ঋণ পরিশোধের জন্য তাদের কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যরাও কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলার আগে নোটিশ দেয়া হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

তদন্তকে লোক দেখানো বলেও মন্তব্য করেন মহির মণ্ডল।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত দলের প্রধান আহসানুল গণি বলেন, ‘মূলত গ্রুপ ঋণের কারণেই সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখানে ব্যাংকের কিছু করার ছিল না। তবে যাদের কম টাকা বকেয়া, তাদের বাদ দেয়া যেত। এটা হয়তো ভুলবশত হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি দেখা হবে।’

১০ লাখ টাকা পরিশোধের পরও এত বকেয়া কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৫ শতাংশ সুদ হারে ঋণ দেয়া হয়েছিল। কিছু কৃষক টাকা পরিশোধ না করায় চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বেড়ে গেছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী গ্রামের ৪০ জন কৃষক দলগত ঋণ হিসেবে ১৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে কেউ ২৫ হাজার, কেউ ৪০ হাজার টাকা করে ঋণ পান।

ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে ব্যাংক মামলা করে। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ২৫ নভেম্বর ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় গত ২৭ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক শামসুজ্জামান গ্রেপ্তার ১২ কৃষকসহ ৩৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন:
ঋণখেলাপি মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Father and son arrested in murder case

হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
যৌতুক না পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর তাছলিমাকে যমুনা নদীতে চুবিয়ে হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দেন আসামিরা। গ্রেপ্তারের পর আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপন করেন তারা।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গৃহবধূ তাছলিমা আক্তার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করছে র‍্যাব। আসামিরা হলেন তাছলিমার স্বামী জহুরুল ইসলাম ও শ্বশুর মো. মজনু। যৌতুক না পাওয়ায় তাছলিমাকে নদীতে ফেলে হত্যা করেছিলেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে সোমবার ভোরে জহুরুল ও তার বাবা মজনুকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

সিপিসি-৩ ক্যাম্পের টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কোম্পানি অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যৌতুক না পাওয়ায় ২০১৬ সালে ২৩ নভেম্বর তাছলিমাকে যমুনা নদীতে চুবিয়ে হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দেয় আসামিরা। গ্রেপ্তারের পর আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপন করেন তারা।

র‍্যাব জানায়, ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট এই মামলার রায় হয়। বিচারক দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

আরও পড়ুন:
২৩ বছর পর গ্রেপ্তার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নেওয়াজ শরীফ ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
থানার টয়লেট দিয়ে আসামির পলায়ন, মামলা
গুলশান থানা থেকে পালাল আসামি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 people were killed in the collision of the passenger bus

ভটভটিতে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩

ভটভটিতে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ বাসের ধাক্কায় দুই ভটভটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আমিনপুর এলাকা থেকে ধানবোঝাই একটি ভটভটি শেরপুর আসার পথে ঘোগাবটতলা ইতালি এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় ওই ভটভটির সঙ্গে উল্টো দিক থেকে আসা আরেকটি ভটভটির সংঘর্ষ হয়।

বগুড়ার শেরপুরে বাসের ধাক্কায় দুই ভটভটির চালকসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ঘোগাবটতলা ইতালিপাড়া এলাকায় সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ভটভটিচালক শাহবন্দেগি ইউনিয়নের শেরুয়া এলাকার আল আমিন ও শেরপুর পৌর এলাকার গোপাল সরকার এবং যাত্রী শাজাহানপুরের আড়িয়াবাজার এলাকার মো. নাঈম।

এ ঘটনায় নাজমুল নামে আরেক যাত্রী আহত হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস অফিসার নাজির হোসেন।

তিনি স্থানীয়দের বরাতে জানান, আমিনপুর এলাকা থেকে ধানবোঝাই একটি ভটভটি শেরপুর আসার পথে ঘোগাবটতলা ইতালি এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় ওই ভটভটির সঙ্গে উল্টো দিক থেকে আসা আরেকটি ভটভটির সংঘর্ষ হয়।

ঘটনাস্থলেই দুই ভটভটির চালক প্রাণ হারান। দুই যাত্রীকে হাসপাতালে নেয়ার সময় পথে একজনের মৃত্যু হয়।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন সরকার জানান, দুর্ঘটনার পর বাস রেখে চালক-হেলপার পালিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন:
এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Neighbor arrested on charges of child rape

শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী গ্রেপ্তার
এজাহারসূত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী শফির মোল্লা তাকে মুখরোচক খাবার দেয়ার কথা বলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

নওগাঁর রানীনগরে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি শফির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলার মান্দা উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়নের জশোপাড়া গ্রাম থেকে সোমবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক এসব নিশ্চিত করেছেন।

এজাহারসূত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী শফির মোল্লা তাকে মুখরোচক খাবার দেয়ার কথা বলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুর চিৎকার শুনে তার মা শফিরের বাড়ি গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। ঘরে ফিরে মাকে সব জানালে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ নভেম্বর তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে শিশুর বাবা রানীনগর থানায় গিয়ে প্রতিবেশীর নামে মামলা করেন।

এসআই নাজমুল জানান, ঘটনার পর থেকেই শফির পলাতক ছিলেন। মান্দা উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়নের জশোপাড়া গ্রামে মেয়ের বাড়ি থেকে তাকে সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
শিশু ধর্ষণচেষ্টা ধামাচাপার অভিযোগ, শেষে মামলা-গ্রেপ্তার
ধর্ষণ থেকে বাঁচতে স্কুলের ছাদ থেকে লাফ, আটক ৫
ভাশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা শিক্ষকের
উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
বাসে তুলে ধর্ষণচেষ্টার সেই আসামি গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Barisal Bhola speedboat closed on Mayors orders

ব‌রিশাল-ভোলা স্পিডবোট বন্ধ ‘মেয়রের নির্দেশে’

ব‌রিশাল-ভোলা স্পিডবোট বন্ধ ‘মেয়রের নির্দেশে’
স্পিডবোট মালিকরা আরও জানান, সোমবার রাতেই ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস স্পিডবোট চালুর কথা বলার জন্য মা‌লিকদের নিয়ে মেয়রের বাড়িতে যান। তবে তাতে কোনো সুরাহা হয়‌নি। পরদিন শেখর দাসকে দলীয় পদ থেকে সাম‌য়িক অব্যাহ‌তি দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ।

ব‌রিশাল ভোলা নৌপথে এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ হয়ে আছে স্পিডবোট চলাচল। জরুরি কাজে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান ক্ষুব্ধ এই রুটের যাত্রীরা। স্থানীয় লোকজন ও স্পিডবোট মালিকরা জানিয়েছেন, ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ স্পিডবোট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোলার ভেদু‌রিয়া ঘাটের যাত্রী ফাহাদ হোসেন বলেন, ‘পি‌রোজপুর যেতে হবে খুব জরুরি কাজে। এত‌দিন ধ‌রে স্পিডবোট বন্ধ তা জানতাম না। এখন কয়েক ঘণ্টা লঞ্চ জা‌র্নি ক‌রে যেতে হ‌বে ব‌রিশাল, তারপর পি‌রোজপুর।’

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে ডাক্তার দেখাতে স্বামীকে নিয়ে ঘাটে এসেছেন সু‌মিত্রা রানী।

তিনি বলেন, ‘স্বামী‌ হঠাৎ অসুস্থ হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে বু‌কে ব‌্যথা নি‌য়ে। দ্রুত শের-ই-বাংলায় নি‌তে ব‌লে‌ছে ভোলা হাসপাতাল থে‌কে। ঘা‌টে এসে দেখি সরাস‌রি না‌কি স্পিডবোট যা‌বে না। এই স্পিডবোট লাহারহাট যা‌বে, সেখান থে‌কে মে‌ডিক‌্যা‌লে। এত ভোগা‌ন্তি কেন পোহা‌ব আমরা‌।’

ব‌রিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার ফজলু রহমান জানান, ব্যবসার কাজে প্রায়ই ভোলা যাওয়ার প্রয়োজন হয় তার। সময় কম লাগে বলে স্পিডবোটই ব্যবহার করেন তিনি।

ফজুল বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন ব‌্যবসার কাজে ভোলা যেতে হয়। এখন এক সপ্তাহ ধ‌রে স্পিডবোট বন্ধ। গত বুধবার এসে‌ছিলাম, আজ (সোমবার) আবারও আসলাম। আজকেও বন্ধ। মেয়রের প্রতি আহ্বান থাকবে, জনগণের ভোগা‌ন্তি কমাতে না পারলে ভোগা‌ন্তি না বাড়ানোই ভা‌লো।

‘কিছু ভা‌লো করতে পারলে করুন, না হ‌লে কোনো কিছু কইরেন না। আপনার কাছ থে‌কে আমরা কিছু আশা ক‌রি না।’

কী কারণে এই রুটে স্পিডবোট ঘোষণা ছাড়া এতদিন ধরে বন্ধ, তা জানতে স্পিডবোট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে নিউজবাংলা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, স্পিডবোট ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখানকার লাইনম‌্যান তারেক শাহের সঙ্গে ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বন্দ্ব ছি‌ল। ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাসের বেশ নিয়ন্ত্রণ ছি‌ল ঘাটে।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্বের পর সি‌টি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহর নির্দেশে শিল্প ও বা‌ণিজ‌্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল গত সোমবার ঘাটে এসে স্পিডবোট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন, তি‌নি না বলা পর্যন্ত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখ‌তে ব‌লেন।

ব‌রিশাল-ভোলা স্পিডবোট বন্ধ ‘মেয়রের নির্দেশে’

স্পিডবোট মালিকরা আরও জানান, সোমবার রাতেই ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস স্পিডবোট চালুর কথা বলার জন‌্য মা‌লিকদের নিয়ে মেয়রের বাড়িতে যান। তবে তাতে কোনো সুরাহা হয়‌নি। পরদিন শেখর দাসকে দলীয় পদ থেকে সাম‌য়িক অব‌্যা‌হ‌তি দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ।

স্পিডবোট মালিকরা এসব জানালেও মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসব তথ্য নাকচ করেছেন।

তিনি জানান, সব স্পিডবোট ভোলায় আটকে আছে। ব‌রিশালে এলেই চ‌লবে। কেন আটকে আছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

ঘাট এলাকার স্থানীয় শাহ আলম ফ‌কির বলেন, ‘স্পিডবোট ঘাটে ভালো টাকা ইনকাম আছে। যে কারণে এই ঘাট নিয়ন্ত্রণে নিতে সবার মাথাব‌্যথা। আর এই নিয়ন্ত্রণ নিয়েই যত দ্বন্দ্ব। এবার এর নিয়ন্ত্রণ নি‌তে চাইছেন মেয়র মহোদয়। তি‌নি য‌দি নিয়ন্ত্রণে নিতে না চাইতেন, তাহলে তো ঘাট বন্ধ করাতেন না লোক পা‌ঠিয়ে। ঘাট বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে ভোগা‌ন্তিতে রাখার কোনো মানে হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাসকে কল করা হলে তিনি কোনো মন্তব‌্য করতে রাজি হননি। ব‌রিশাল স্পিডবো‌ট ঘাটের লাইনম‌্যান তারেক শাহ্ও কিছু বলতে রা‌জি হননি।

আর একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি মহানগর আওয়ামী লী‌গের শিল্প ও বা‌ণিজ‌্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল‌ এবং সি‌টি মেয়র সা‌দিক আব্দুল্লাহকে।

ব‌রিশাল-ভোলা রুটে ২০০টি স্পিডবোট চলাচল করে। প্রতি‌দিন কয়েক হাজার যাত্রী স্পিডবোটে যাতায়াত করেন। চলাচল বন্ধের নির্দেশনার পর ঘাট থেকেও বে‌শির ভাগ স্পিডবোট স‌রিয়ে অন‌্যত্র রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পদ্মায় লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিসের কী হবে
নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে সক্রিয় সরকার, দাবি প্রতিমন্ত্রীর
বন্দরে ডুবে গেল ইয়ট, পরিবেশদূষণের শঙ্কা
পদ্মায় স্পিডবোটডুবি, সবাই উদ্ধার
স্পিডবোটডুবি: মিলল নিখোঁজ সৈকতের মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One day the doctors returned to work after suffering a patient

এক দিন রোগী ভুগিয়ে কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা

এক দিন রোগী ভুগিয়ে কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা করিমগঞ্জ হাসপাতালে কাজে ফিরেছেন চিকিৎসকরা। ছবি: নিউজবাংলা
শুক্রবার সন্ধ্যায় রোগীর স্বজনরা এক চিকিৎসককে মারধর করেছেন, এমন অভিযোগ এনে রোববার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ হাসপাতালে সেবা দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ে রোগীরা।

এক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ এনে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি এক দিন পরেই প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

রোববার সকাল থেকে সোমবার দুপুরের আগপর্যন্ত কর্মবিরতির কারণে তীব্র ভোগান্তির পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের আশ্বাসে কাজে ফেরেন চিকিৎসকরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিয়াদ শাহেদ রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য এক বয়স্ক নারীকে নিয়ে জরুরি বিভাগে আসেন স্বজনরা। তবে সেখানে পৌঁছার আগেই মারা যান তিনি।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুল হাসান ওয়াসিম ওই নারীকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান তাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। তখন রোগীর স্বজনরা ওই চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে চলে যান বলে অভিযোগ চিকিৎসকদের।

এ ঘটনায় শনিবার রাতে চিকিৎসক কামরুল হাসান দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

পরে রোববার সকাল থেকে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেন চিকিৎসকরা। এই কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়ে হাসপাতালের কার্যক্রম।

কিন্তু রোগীদের সে কথা জানা ছিল না। তারা দূর থেকে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা হবে না শুনে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। এ ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে।’

আরও পড়ুন:
ঘুষি মেরে অ্যাম্বুলেন্সের গ্লাস ভাঙলেন চিকিৎসক
হাসপাতালে রোগী দেখছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক!
সিজারের পর মৃত সন্তান, পর্দা করা চিকিৎসক তথ্য দিতে নারাজ
নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
জেলে যাওয়ার সময় পিয়ন, ছাড়া পেয়ে ‘ডাক্তার’

মন্তব্য

p
উপরে