× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Opportunity seekers are spreading rumors that there is no money in the bank
hear-news
player
google_news print-icon

ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে সুযোগসন্ধানীরা

ব্যাংকে-টাকা-নেই-বলে-গুজব-ছড়াচ্ছে-সুযোগসন্ধানীরা
তারল্য সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দেশের বাইরে অবস্থান করে কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। দেশের ভেতরেও কিছু মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এসব ব্যক্তি আগেও বাংলাদেশ নিয়ে, সরকারকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে।

হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গুজব ছড়িয়েছে ব্যাংকে টাকা নেই। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হতে যাচ্ছে। তাই গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এমনকি ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য হুড়াহুড়ি লেগেছে বলেও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভ্রান্তিকর নানা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা স্পষ্ট বলছেন, এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকব্যবস্থায় বর্তমানে এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। ব্যাংক খাতে নগদ অর্থের সংকট বা তারল্য সংকট নেই।’

বুধবার রাজধানীর মতিঝিল ও কারওয়ান বাজারে কয়েকটি ব্যাংকের শাখায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের মতোই গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলছেন, জমা দিচ্ছেন। কারো মধ্যে কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি।

মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশেই পূবালী ব্যাংকের একটি শাখা। সেই শাখায় গিয়ে কথা হয়, রোকোনুজ্জামান নামের এক গ্রাহকের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কত কিছুই তো গুজব ছড়ায়। কয়েক মাস ধরে বলা হচ্ছে, আমাদের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হবে। কই, কিছুই তো হলো না। এসব গুজব। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে ঠিক। মানুষের কষ্ট হচ্ছে। ক্ষোভ-আতঙ্ক আছে। এই সুযোগ নিয়েই সুযোগসন্ধানীরা এসব গুজব ছড়াচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের শাখায় কথা হয় গ্রাহক মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ফেসবুক-টেসবুক এসেই বেশি বেশি গুজব ছড়াচ্ছে। এটা নাই, ওটা নাই। ওটা হবে, এটা হবে। কত কিছু। এত দিন গুজব ছড়ানো হলো, সেটাতে সুবিধা হলো না; এখন ছড়ানো হচ্ছে, ব্যাংকে টাকা নাই, ভবিষতে আরও কতে কিছু ছড়ানো হবে, কে জানে।?

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দেশের বাইরে অবস্থান করে কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। দেশের ভেতরেও কিছু মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এসব ব্যক্তি আগেও বাংলাদেশ নিয়ে, সরকারকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা খবর ছড়িয়েছেন।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে’ বলে এত দিন গুজব ছড়িয়ে যারা ব্যর্থ হয়েছে, তারাই এখন ‘ব্যাংকে টাকা নেই, আমানত তুলে নিচ্ছে মানুষ’ বলে অপপ্রচার করছে। দীর্ঘদিন থেকে ছড়ানো গুজব অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়নি।

শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশে হয়নি দেখে সুযোগসন্ধানীরা এখন ব্যাংক নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অর্থনীতি নিয়ে কল্পিত সব তথ্য ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। দেশে বসে অনেকেই সেই গুজবে আগুন ঢালছেন। আর বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা সেই সব গুজবের তথ্য বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

আমানত নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
গুজবের ডালপালা যখন বেশ জেঁকে বসার চেষ্টা করছিল, তখনই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ‘ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের ব্যাংকব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলোতে রক্ষিত আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর পরও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের আমানত তুলে নেয়ার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্যের কোনো সংকট নেই।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছরে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়নি। আশা করা যায়, আগামী দিনেও বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। ব্যাংকগুলোতে জনগণের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।’

পরের দিন ১৪ নভেম্বর একই বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদও বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে কোনো তারল্য সংকট নেই।

তিনি বলেন, তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো ও অ্যাসিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট নীতি সর্বদা চালু রয়েছে। ব্যাংকের পরিদর্শন ও সুপারভিশন বিভাগ ব্যাপকভাবে তৎপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অর্থনীতিবিদ সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংকটের সময় একটি মহল সুযোগ বুঝে নানা গুজব ছড়ায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ভুল করেছে। তারা প্রকাশ করেছে যে, ১০টি ব্যাংকের অবস্থা খারাপ। এটা প্রকাশ করার দরকার ছিল না। এটা প্রকাশ পাওয়ার পরই সাধারণ মানুষ ভয় পেয়ে গেছে। এটা সাধারণত ব্যাংকগুলোই জানে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু ব্যাংক দুর্বল থাকতেই পারে। তাদের হাতে কী পরিমাণ অর্থ আছে, ক্রেডিট রেটিং কী সেগুলো ব্যাংক জানবে, বাংলাদেশ ব্যাংক জানবে। জনসমক্ষে বলা হবে কেন? লোকজন বোঝে না তারল্য কী।’

‘কিন্তু লোকজন মনে করেছে, না জানি কী হয়ে গেছে। অলরেডি আইএমএফ আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংক নতুন ঋণ দিচ্ছে না। এমনিতেই এই কয়টি ঘটনায় আস্থায় কিছুটা চিড় ধরেছে। তার মধ্যে আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকের বিষয়ে বলা হচ্ছে, তাদের ঋণখেলাপি অনেক বেশি। লোকজন হয়তো কিছু টাকা তুলে ফেলেছে। কেউ কেউ হয়তো সঞ্চয় ভেঙেছে।’

এই সুযোগে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে গুজব ছড়াচ্ছে বলে মনে করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকার বেশি তারল্য আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে ব্যাংকে টাকা নেই। এই রকম বক্তব্য কোনো বিশেষ মহল কোনো বিশেষ কারণে ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক কিংবা ব্যাংকের শাখায় যারা টাকা উঠাতে আসছেন তারা কিন্তু এসে টাকা পাচ্ছেন। এর অর্থ দাঁড়াল ব্যাংকে যথেষ্ট পরিমাণে টাকা আছে। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে কেউ টাকা উঠাতে এসে খালি হাতে ফিরে গেছেন। আমি নিজেও বুঝতে পারছি না এই রকম গুজব কারা ছড়াচ্ছে। এই রকম গুজবের কারণে জনগণের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
১৫ নভেম্বর থেকে চেক ক্লিয়ারিংয়ের নতুন সময়সূচি
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণসীমা নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম তদারকিতে হচ্ছে সিআইবি
লাইসেন্স ছাড়া মাদকদ্রব্য আমদানির এলসি নয়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Sohail Taj suddenly came to the discussion

হঠাৎ আলোচনায় এসেই অগোচরে সোহেল তাজ

হঠাৎ আলোচনায় এসেই অগোচরে সোহেল তাজ গত ১০ এপ্রিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে গণভবনমুখী পদযাত্রায় সোহেল তাজ। ছবি: নিউজবাংলা
গত ছয়-সাত মাসে কয়েক দফায় আলোচনায় এসে আবারও অগোচরে চলে গেছেন সোহেল তাজ। আওয়ামী লীগের একসময়কার এই প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে অপরিণত আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেউ কেউ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ মাঝেমধ্যেই হঠাৎ করে আলোচনায় আসেন। কোনো রাজনৈতিক ইস্যু বা রাষ্ট্রীয় অথবা কোনো জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে নয়, বরং নিজ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি তার অস্তিত্বের জানান দেন। আবার দুই-এক দিন পরেই তার আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়, যদিও তিনি ফেসবুকে বরাবর সক্রিয়।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ সর্বশেষ আলোচনায় আসেন ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে ‘জাতীয় শোক দিবস’ ঘোষণার দাবি নিয়ে। গত ৩১ অক্টোবর জেলহত্যা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনসহ তিন দফা দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন তিনি। তার অন্য দাবি দুটি হলো ১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা এবং জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সব বেসামরিক-সামরিক সংগঠক, শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী ও অবদান পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল এসব দাবিতে গণভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিলেন সোহেল তাজ। সেদিনের কর্মসূচিতে তার বোন মাহজাবীন আহমেদ ও আইনজীবী তুরিন আফরোজসহ দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। গণভবনের ফটক পর্যন্ত হেঁটে যান তারা। সেখানে পৌঁছে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার কাছে দাবিগুলো সংবলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন তারা।

৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সোহেল তাজের জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় দিবস করার দাবি-সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় দিবস করার ব্যাপারটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।

এ ছাড়া আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সোহেল তাজের ছোট বোন মাহজাবীন আহমেদ মিমির একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনায় আসেন তোহেল তাজ। ১১ আগস্ট ফেসবুক প্রোফাইলে মাহজাবীন লেখেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিল অধিবেশনে তানজিম আহমেদ (সোহেল তাজ) দলীয় নেতৃত্বে আসছেন ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয়তু শেখ হাসিনা!! বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’

তার স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে একটি গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয় যে, আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনে বড় পদ পেতে পারেন সোহেল তাজ। কিন্তু তারপর আবার বন্ধ হয়ে যায় এই আলোচনা।

এর কয়েকদিন পর শতাধিক সমর্থক নিয়ে ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান সোহেল তাজ। সেদিন সাংবাদিকরা তার দলীয় কার্যালয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে সোহেল তাজ বলেন, ‘মাঝখানে কিছুদিন ব্যক্তিগত কাজে ছিলাম। এখন পার্টি অফিসে আসছি, নিয়মিত আসার চেষ্টা করব।’

কিন্তু এরপর তিনি আর দলীয় কার্যালয়ে যাননি। দলের কোনো কর্মসূচিতেও তাকে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখন পর্যন্ত দলীয় কোনো কার্যক্রম বা কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি।

বাবা প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি না দেয়ার তার সমালোচনা করে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন সোহেল। তার পোস্টে সাড়া দিয়ে পরে আওয়ামী লীগ ফেসবুক পেজে তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী নিয়ে একাধিক পোস্ট দেয়।

এসব বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার কাছে বক্তব্য চাইলে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এগুলো সবই সোহেল তাজের আলোচনায় থাকার জন্য স্টান্টবাজি। ভালো কোনো কাজ করে এখনও তিনি আলোচনায় আসেননি, যেসব ইস্যুতে গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে লেখা হয়েছে সবগুলোই তার নিজের তৈরি একধরনের অপরিণত আচরণ।’

আরও পড়ুন:
‘খুবই বিপদগ্রস্ত’ অর্থনীতিতে উদ্বিগ্ন দুদু
খালেদা জিয়ার কাছে মাফ চান: আ.লীগকে বিএনপি নেতা
রাজনীতি করার ইচ্ছা আগে থেকেই: মাহি
রংপুর সিটিতে সুন্দর ভোট আয়োজনে কোনো ছাড় দেবে না ইসি
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার হবে জনসমুদ্র: যুবলীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BSEC continues to try and wait for the war to end

চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি, যুদ্ধ শেষের অপেক্ষা

চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি, যুদ্ধ শেষের অপেক্ষা বিএসইসির কমিশন সভা। ছবি: নিউজবাংলা
২০২০ সালের মে মাসে বিএসইসির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা আগে নেয়া হয়নি, তবে ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে পুঁজিবাজার ক্রমেই গতিহীন হয়ে পড়েছে। অথচ যেসব পরিবর্তন গত দুই বছরে হয়েছে, তাতে পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি বেশ হতাশাজনক, তবে ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টানা উত্থান বিনিয়োগকারীদের বেশ আশাবাদী করেছিল।

এরপর নানা ইস্যুতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে মতভিন্নতার প্রভাবে টানা কয়েক মাস সংশোধন শেষে নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলে। সেটি প্রথমে ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে রুশ হামলা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আর বিশ্ব অর্থনীতিতে নামে বিপর্যয়।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাবে ভুগতে থাকে দেশের পুঁজিবাজার। ব্যক্তি-শ্রেণির যে বিনিয়োগকারীরা আছেন, তারা বিনিয়োগের মূলতত্ত্বের বাইরে গিয়ে গুজব, গুঞ্জনে কান দেন বেশি। নানা সময় দেখা যায়, তারা গুজবে শেয়ার কেনেন; আতঙ্কে বেচেন। অথচ পরিস্থিতি এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।

২০২০ সালের মে মাসে বিএসইসির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা আগে নেয়া হয়নি। বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ কিছু কোম্পানিতে প্রাণ ফিরেছে কমিশনের উদ্যোগে।

কয়েকটি কোম্পানিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিছু কোম্পানি পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। ২০০৯ সালে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসিতে পাঠিয়ে দেয়া কয়েকটি কোম্পানি ‍মুনাফায় ফেরার পর পুঁজিবাজারেও ফিরেছে।

যেসব কোম্পানি টাকা তুলে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে ডি লিস্টিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে তারা বিনিয়োগকারীদের তাদের টাকা ফিরিয়ে দেবে।

বেশ কিছু আইন-কানুন, বিধিবিধান সংস্কার করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। কোম্পানিগুলোকে বোনাস লভ্যাংশের বদলে নগদ লভ্যাংশ দিতে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে।

সংকটের মধ্যে শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেঁধে দিয়ে পুঁজির সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে, যে অস্ত্র এখন পর্যন্ত দুবার প্রয়োগ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাজারে কারসাজির কারণে নিয়মিত শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ কমিশনের চেষ্টা ও বারবার আলোচনার পর বিনিয়োগকারীদের এক যুগের একটি দাবিও পূরণ হয়েছে। ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার গণনা শেয়ারের বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে নির্ধারণের কারণে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতে কমিশনের উদ্যোগ দৃশ্যমান। ফান্ডগুলো নগদে গত দুই বছর দারুণ লভ্যাংশ দিয়েছে। ইউনিটদরের তুলনায় তাদের লভ্যাংশ যেকোনো সঞ্চয়ী আমানতের চেয়ে বেশি।

বন্ড মার্কেট উন্নয়নেও কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। ইসলামী গ্রিন সুকুকের পাশাপাশি সরকারি ট্রেজারি বন্ডেরও লেনদেন শুরু হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীকে নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ লভ্যাংশ নিশ্চিত করবে।

সবার জন্য আইপিও শেয়ার নিশ্চিত করাও কমিশনের উল্লেখযোগ্য একটি পরিবর্তন। এর আগে লটারি করে শেয়ার বণ্টন হতো। তাতে হাতে গোনা কয়েকজন পেতেন সুবিধা।

এত সব পরিবর্তন ও চেষ্টার পরও পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত গতিতে ছুটতে পারছে না। ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা অল্পতেই ভীত হন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেই।

২০২০ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কমিশনার হিসেবে যোগ দেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান ও রুমানা ইসলাম। যোগ দেন সাবেক বাণিজ্যসচিব আব্দুল হালিমও।

এই কমিশন দায়িত্ব নেয়ার সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বা ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজারের নিচে। আর লেনদেন নেমে এসেছিল ১০০ কোটি টাকার নিচে।

১৫ মাসের মধ্যে সূচক বেড়ে হয় ৭ হাজার ৩০০ পয়েন্ট, লেনদেন তিন হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এরপর ঘটে ছন্দঃপতন।

এর ওপর বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের হাত নেই, তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান মনে করেন, যুদ্ধ থামলেই মানুষের মনে আতঙ্ক কাটবে। তখন আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরবে পুঁজিবাজার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা মিসিং লিংকগুলো নিয়ে কাজ করেছি। অর্থাৎ যে জায়গাগুলোতে কাজ করা দরকার ছিল, কিন্তু করা হয়নি বা করা যাচ্ছিল না, তার সব জায়গায় হাত দিয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবে।’

তিনি বলেন, ‘রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে সাহায্য করার জন্য আরইআইটি করতে যাচ্ছি আমরা। বিশ্বব্যাংকের দেয়া ৯ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দেশের পুঁজিবাজারকে পামটপে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ডিএসই ও সিএসইকে আধুনিক করার চেষ্টা করছি।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘বর্তমান কমিশন যত কাজ করেছে, চেষ্টা করেছে, এর আগে কেউ এত করেনি।’

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কমিশন গণমাধ্যমে বিভিন্ন ইতিবাচক বক্তব্য প্রচার করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও বহু বছরের কাঙ্ক্ষিত সমন্বয়টা তারা তৈরি করতে পেরেছেন।’

স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন বা ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারে কাজ শুরু করার পরপরই রিং সাইনের মতো কিছু কোম্পানিকে তারা শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছিল। এটা বেশ ভালো কাজ করেছিল দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে।

‘এ ছাড়া কোম্পানির পরিচালকদের কমপক্ষে ২ শতাংশ ও সার্বিকভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ভালো ভূমিকা রেখেছে এই কমিশন। এটা দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে।’

এতগুলো উদ্যোগের পরও পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই কেন, এমন প্রশ্নে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএসইসি অনেক আইন করেছে, আবার অনেক কিছু দ্রুত পরিবর্তনও করছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। যেমন প্রি ওপেনিং সেশনের কথাই বলি। একবার এটি চালু হয়, একবার বন্ধ হয়। এসব বিষয়ে বিএসইসির আরও একটি সতর্ক হওয়া উচিত।’

ফ্লোর প্রাইস নিয়ে এখন গুজব চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসইসির সরাসরি ঘোষণা দেয়া উচিত যে আগামী তিন বা ছয় মাস আগে এই ফ্লোর উঠবে না। গুজব ঠেকাতে তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।’

পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বন্ধ কোম্পানিতে ফিরছে প্রাণ

এমারেল্ড অয়েলের কথাই ধরা যাক। ২০১৬ সালের ২৭ জুন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কোম্পানিটি। বন্ধ হওয়ার সময় শেয়ারদর ছিল ৭০ টাকা। আর তা একপর্যায়ে নেমে আসে ৮ টাকায়।

আর কখনও পুঁজি ফিরে পাওয়া যাবে না, এমন শঙ্কার মধ্যে থাকা কোম্পানিটির বোর্ড পুনর্গঠন করার পর বদল হয় মালিকানা। ঘুরতে শুরু করে বন্ধ চাকা। দেশের বাজারে তেল বিপণন শুরুর পাশাপাশি জাপানে রপ্তানির স্বপ্নও ডানা মেলছে। বেশ কিছু মানুষের চাকরিও হয়েছে কোম্পানিতে। সরকার পাচ্ছে কর।

মৃত কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইল, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ফ্যামিলি টেক্সটাইলেও উৎপাদন ফেরানো হয়েছে একই প্রক্রিয়ায়। এমনকি ইউনাইটেড এয়ারকেও আবার আকাশে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৮টি কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠন করেছে, যার মধ্যে ২০টি কোম্পানি বর্তমানে তাদের কাজ চালু করেছে।

এক্সপোজার লিমিটের সংজ্ঞা পরিবর্তন

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শেয়ারের বাজারমূল্য নির্ধারণের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এক যুগ ধরে দেনদরবার করেও শেয়ারের ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনা করতে রাজি করা যাচ্ছিল না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে, তবে গত আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি কৌশলী সিদ্ধান্ত নেয়।এতে বলা হয়, শেয়ারের ক্রয়মূল্যই বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফলে এখন ব্যাংকের কেনা শেয়ারের দর বেড়ে দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি বেড়ে গেলেও এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করে গেছে বলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে না। এটি পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে এই পরিবর্তনে রাজি করতে বিএসইসি সংস্থাটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বারবার দেখা করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

কমিশনের সবচেয়ে বড় একটি সাফল্য ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো। ফলে বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। একটি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা গেছে যে ব্যাংক করবে কম সময়ের জন্য আর পুঁজিবাজার করবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন।

বন্ড মার্কেটের বিকাশ শুরু

অনেক দিন ধরে বলা হচ্ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা কম। দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে খুব বাস্তবমুখী কিছু সিদ্ধান্ত নেয় এই কমিশন।

নতুন কমিশন আসার পর থেকে প্রচুর বন্ডের অনুমোদন দেয়া হয়। আর সেসব বন্ড দেশের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে লেনদেনের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই নিয়ম না হলে এ ধরনের বন্ডের নাগাল বিনিয়োগকারীরা পেতেন না।

সরকারি সিকিউরিটি লেনদেন চালু করেছে নতুন কমিশন। এর ফলে এক দিনেই বাজার মূলধন বেড়েছে আড়ই লাখ কোটি টাকা। ফলে দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বেড়েছে।

শুধু শেয়ার দিয়ে বাজার বড় করা যাবে না- এই মন্ত্র মেনে বন্ডের পাশাপাশি কমডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপানের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে বসুন্ধরাকে পার্টনার হিসেবে পেয়েছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই)। সামনে বাংলাদেশে কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ আনছে তারা।

সবার জন্য শেয়ার

আইপিও থেকে লটারিব্যবস্থা তুলে দেয়া একটি বিরাট পরিবর্তন। লটারি থাকার সময় লাখো বিও হিসাব শুধু আইপিও করার জন্য ব্যবহৃত হতো। দেখা যেত পাওয়া যায় না বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবেদন করাই ছেড়ে দেয়।

আর আইপিও শিকারিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০০টি বা তার বেশি অ্যাকাউন্ট রাখতেন। লটারিতে শেয়ার পেয়ে লাভে বিক্রি করে দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা বের করে নিয়ে যেতেন।

নতুন নিয়মে পুঁজিবাজারে আইপিতে শেয়ার পেতে হলে বিনিয়োগ থাকতে হবে সেকেন্ডারি মার্কেটে। প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ার পাচ্ছেন।

ভালো কোম্পানি বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা বিমা ও ব্যাংকগুলোকে আনতে কাজ করেছে নতুন কমিশন। এর মধ্যে বেশে কয়েকটি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বাজারে আনা হয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি রবিকে। বাংলালিংককে তালিকাভুক্তির চেষ্টাও চলছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে টাকা দেয়ার জন্য এসএমই মার্কেট চালু করেছে নতুন কমিশন। আর তালিকার বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনের জন্য অল্প কিছুদিনের মধ্যে চালু হবে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বা এটিবি।

আইপিও অনুমোদনে সাবধানতা

গত কমিশনের সময় এক বড় অভিযোগ ছিল খারাপ কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

নতুন কমিশন বেশ গুরুত্ব দিয়ে এই ফুটো বন্ধ করার কাজে হাত দেয়। প্রথম আগের কমিশনের সময় আবেদন করা প্রায় ৮ থেকে ১০টি কোম্পানির আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়।

তবে শুধু আইপিও বাতিল করেই বসে থাকেননি। যেসব ভালো কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিতে চায় তাদের রাস্তা সহজ করতে অনেকগুলো অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

ফিন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বা এফআরসিকেও সচল করা হয়েছে যাতে কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিলে নীরিক্ষককে ধরা যায়।

পর পর দুই বাজেটে বর্তমান কমিশন বড় ভূমিকা রেখেছে করপোরেট কর কমিয়ে আনার জন্য। যাতে ভালো কোম্পানি বাজারে আসে।

অদাবীকৃত লভ্যাংশ দিয়ে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড

বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগকারীর জন্য ঘোষিত যে লভ্যাংশ বিনিয়োগ না করার কারণে অলস পড়ে ছিল, সেগুলোতে একটি ছাতার তলে আনার উদ্যোগ এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। অদাবিকৃত এসব ল্যভাংশ দিয়ে কয়েক শ কোটি টাকায় গঠন করা হয়েছে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল।

এরই মধ্যে এই তহবিল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছে। বাজারে যাত্রা শুরু করেছে একটি মিউচুয়াল ফান্ড।

এটা অবশ্য ঠিক যে, শুরুতে যত টাকা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, পাওয়া গেছে তার একাংশই। এর কারণ কোম্পানিগুলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিনিয়াগকারীদেরকে লভ্যাংশ নিয়ে যেতে বলার পর অনেক লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়।

তবে তহবিলে আরও টাকা জমা পড়ছে এবং বিপুলসংখ্যক শেয়ারও জমা পড়বে যেগুলোও বাজারের স্থিতিশীলতায় কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পুঁজিবাজারে সূচক বৃদ্ধির সময় বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখে বারবার ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। জরিমানা করা হয়েছে বারবার। এর মধ্যে আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের ১৪ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজির প্রমাণ পেয়ে।

এই তদন্ত এখনও চলমান আছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারসাজি করলে সাজা পেতেই হবে।

ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। নির্দেশনা জারি করে ডিএসই, বিএসইসি, সিএসই বা দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কিত লোগো কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। পাশাপশি বিএসইসির একটি টিম সার্বক্ষণিক নজর রাখছে সামাজিক মাধ্যমগুলোর ওপরে।

ফ্লোর প্রাইস

এটির প্রথম প্রয়োগ অবশ্য করে আগের কমিশন। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হওয়ার পর শেয়ারদরে যখন ধস নামে, তখন প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর বাজারে দেখা দেয় ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। আর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় ফ্লোর প্রাইস।

এবারও একই কৌশলে শেয়ারদর ধরে রাখা হয়েছে। যদিও প্রায় তিন শ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসেও লেনদেন হচ্ছে না, তারপরও যেহেতু এগুলোর দরপতন ঘটছে না, বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’
শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relief is returning to the economy based on agriculture

কৃষিতে ভর দিয়ে স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে

কৃষিতে ভর দিয়ে স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
আমাদের সার্বিক খাদ্য উৎপাদন, আমাদের যে খাদ্য পরিস্থিতি, আমাদের যে নীতি সমর্থন, আমাদের কৃষিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে ও আগামীতে যে আরও বিনিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খাদ্যসংকট নিয়ে দুর্ভাবনা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এ কথা ঠিক, সবাই ২০২৩ সালকে মন্দার বছর বলছেন। আর সেই সময় খাদ্য পরিস্থিতি খারাপ হবে বলছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। এর বড় কারণ বাংলাদেশের কৃষির জন্য আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। শুধু সরকার নয়, আমাদের ব্যক্তি খাত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবাই কাজ করছে।

কৃষি খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আগামী দুটি মাস যদি আমরা সাবধানে পা ফেলি, তাহলে এরই মধ্যে আমাদের আইএমএফের টাকা আসতে শুরু করবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবির টাকা আসতে শুরু করবে। তখন আমরা একটি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে যেতে শুরু করব। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা এলে, বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের খুব একটি সমস্যা হবে না।’

গত বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারকে এই আশার কথা শুনিয়েছেন গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি আতিউর রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিউজবাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি এখনো মজবুত ভিত্তির ওপর আছে; খাদ্যসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমাদের সার্বিক খাদ্য উৎপাদন, আমাদের যে খাদ্য পরিস্থিতি, আমাদের যে নীতি সমর্থন, আমাদের কৃষিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে ও আগামী দিনে যে আরও বিনিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খাদ্যসংকট নিয়ে দুর্ভাবনা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এ কথা ঠিক, সবাই ২০২৩ সালকে মন্দার বছর বলছেন। আর সেই সময় খাদ্য পরিস্থিতি খারাপ হবে বলছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। এর বড় কারণ বাংলাদেশের কৃষির জন্য আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। শুধু সরকার নয়, আমাদের ব্যক্তি খাত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবাই কাজ করছে। সবাই এক দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর জোর দিচ্ছে।

যদিও আমরা এক্সপোর্ট নিয়ে অনেক কথা বলি। রেমিট্যান্স নিয়ে অনেক কথা বলি। কিন্তু আমাদের দেশীয় অর্থনীতি সেটি কিন্তু ভোগনির্ভর। সেটি আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদানির্ভর। সেখানেই আমরা অনেক বেশি জোর দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু কৃষিতে গুরুত্ব দিতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আমাদের সাবধান করে দিয়েছেন। মন্দা যদি চলে আসে। তখন হয়তো আমদানি করা খাদ্য আমাদের জন্য আনতে হবে। সেগুলোর তো দাম অনেক বেশি হবে। সেটি আনতে গিয়ে হয়তো চাপ পড়বে। নিজেরা যদি আমরা আমাদের নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করতে পারি। আমাদের ভোগটা যদি আমরা সামলাতে পারি। তাহলে আমাদের বেশি ডলার খরচ করতে হবে না। সেই অর্থে কৃষি একটি ফুড সাবস্টিটিউট ইন্ডাস্ট্রি। যদি আমাদের অনেক আমদানি করতে হতো। সেই আমদানির যে মূল্য সেটি কিন্তু বর্তমান রিজার্ভের ওপর আরও চাপ তৈরি করত।

বাংলাদেশ কৃষির উন্নয়নের জন্য যে নীতিমালা গ্রহণ করেছে সেটি যথার্থ। এ জন্যই বলছি, আমি দুই-তিন দিন আগেই উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ করে এলাম। তেঁতুলিয়ায় গিয়েছিলাম, ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখলাম যে এবার আমন উৎপাদন বাম্পার হয়েছে। কৃষকের মুখে হাসি। কারণ তারা অনেক বেশি উৎপাদন করতে পেরেছে। এখন আমাদের জন্য যেটি চ্যালেঞ্জ, সেটি হচ্ছে বোরো। আমাদের বোরো উৎপাদন ঠিকমতো করতে হবে। সে জন্য সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করছি, বিদ্যুৎ সব সময় থাকবে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো হয়েছে। ডিসেম্বরে আরও ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। সব মিলিয়ে মনে হয় কৃষকরা সেচের বিদ্যুৎ পাবেন। আমাদের জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ সেটি হচ্ছে ফার্টিলাইজার। আমরা যেন কৃষককে সময়মতো সার দিতে পারি। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের যে সার বিতরণব্যবস্থা তার ওপর নজর রাখতে হবে। যাতে আমাদের ডিলাররা কৃষকদের সার সময়মতো দিতে পারে। এটি নিয়ে যেন কোনো রকমের সমস্যা না তৈরি হয়; সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আরেকটি জিনিস করতে হবে আমন উৎপাদনের পর। আমাদের প্রকিউরমেন্ট শুরু হবে। আমরা যেন কৃষকদের যথার্থ মূল্য দিই।

আমি যদি ৫৫ টাকা করে চাল আমদানি করি। আমার কৃষককে যদি আমি ৫০ টাকাও না দিতে পারি, তাহলে কিন্তু কৃষকের প্রতি সুবিচার হচ্ছে না। এই জায়গাটিতে আমাদের খেয়াল করতে হবে। আমাদের যে মজুত সেটি বাড়িয়ে যেতে হবে। মজুত যদি আমাদের বেশি থাকে, তাহলে আমাদের বিশ্ব সংকট হলেও আমরা সামাল দিতে পারব। গ্রাম নিয়ে আমি চিন্তিত না। খাদ্য নিয়ে যদি কিছু টানাপড়েন থেকে থাকে সেটি শহরে। শহরের যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, তাদের আয়-রোজগার কিছুটা কমেছে। খাদ্য কিনতে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। গ্রামে যে রকম সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আছে, শহরে কিন্তু ততটা নেই। সুতরাং আমাদের শহরের খাদ্য নিয়ে আরও ভাবতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিরও উদ্বেগজনক সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। সরকারি হিসাবেই অক্টোবরে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগস্টে এই সূচক ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠেছিল। মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতে সরকারের কী করা উচিত?

সরকারের জন্য খুব অসুবিধা এই কারণে যে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নেই। আমাদের আছে টিসিবি। টিসিবির গলিতে গলিতে দোকানপাট নেই। সুতরাং মধ্যবিত্ত চাইলেও কিনতে পারে না। এখন ডিজিটাল যুগ। এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটালভাবে সব রকম ব্যবস্থা করা যেত। মধ্যবিত্ত যদি একটি জায়গায় অনলাইনে ঢুকতে পারে। আমার পাঁচ কেজি চাল লাগবে, সেটি সরকার সহনীয় মূল্যে সরবরাহ করবে। এটি কিন্তু করা যায়। মধ্যবিত্ত সহজেই এনআইডি ব্যবহার করবে। একজন একবারের বেশি ব্যবহার করবে না। মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকাটি দিয়ে দেবে। যাদের দরকার তাদের এভাবে দেয়া যেতে পারে। এ রকম কিছু ইনোভেটিভ মেজার নেয়া যেতে পারে।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় গরিব মানুষ নানাভাবে সহায়তা পাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি পরিবারকে কম দামে খাদ্য দেয়া হচ্ছে। এগুলো খুবই ভালো উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। অসহায় গরিব মানুষের খুব উপকার হচ্ছে। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের নিয়ে ভাবতে হবে। আড়াই বছরের করোনা মহামারি এবং যুদ্ধের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কারও বেতনই কিন্তু বাড়েনি। বরং অনেকে চাকরি হারিয়েছেন; কম বেতন পাচ্ছেন। এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমি মনে করি, সরকারকে এখন মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এতে যদি সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে যায়, সেটি মেনে নিয়েই এই কাজটি করতে হবে।

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয় অনেক কমেছে। গত মার্চে পণ্য আমদানির জন্য যেখানে সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছিল, সেটি এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে শিল্প উৎপাদন বা সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে?

এখনই এতটা অস্বস্তির কথাটা না ভাবাই ভালো। আমরা কৃষিতে যেহেতু ভালো করছি। আমাদের দেখতে হবে আমাদের আমদানি যেন বন্ধ না হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমদানিতে আছে খাদ্য, কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি- এগুলোই মোট আমদানির ৮৫ শতাংশ। আমাদের রপ্তানি বাড়বে না যদি আমদানি না বাড়ে। সুতরাং আমদানিটা কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বাঁচানোর জন্য আমদানি বন্ধ করেছে। সেটির একটি সুফল আমরা পাচ্ছি। যাতে করে ছোট ছোট আমদানি যেমন গরুর জন্য ওষুধ, মুরগির জন্য খাদ্য- এগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ব্যাংকগুলো যেন এসব ছোটখাটো আমদানিতে ডলার জোগান দিতে পারে; এলসি খুলতে পারে- সেদিকে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের জন্য এখন খুবই ক্রিটিক্যাল সময়। এই সময় যাতে আমাদের জরুরি আমদানি বন্ধ না হয়, আমাদের যাতে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমাদের এক্সপোর্ট ও রেমিট্যান্স কিন্তু আবার বাড়ছে। আরও বাড়বে আমরা আশা করি। একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল এক্সচেঞ্জ রেট। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা চেষ্টা করছে। এক্সচেঞ্জ রেট একাধিক হওয়ার কারণে কিছু সংকট দেখা দিয়েছিল, ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছিল। এর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যেমন ওয়ার ট্রান্সফার এবং রেমিট্যান্সে জন্য একটি ডলার রেট হয়েছে।

কিন্তু এক্সপোর্ট এবং রেমিট্যান্সের মধ্যে পার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। আমাদের ইন্টার ব্যাংক ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট এখন খুবই স্যালো। এটির একটি রেটেই থাকা উচিত। সেই রেট দেখে দেশের মানুষ এবং বিদেশি যারা আমাদের এখানে বিনিয়োগ করছেন তারা বুঝতে পারবেন যে টাকা এবং ডলারের রেশিওটি কত। এটি অনেক সময় বোঝা যায় না। একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম থাকায় আমাদের সমস্যা হচ্ছে।

প্রাইভেট (বেসরকারি খাত) অনেক ফরেন ঋণ যারা নিয়েছেন, তারা একটু চাপের মধ্যে পড়ছেন। সেটির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যারা এই ঋণগুলো নিয়েছে তাদের মধ্যে একটি বোঝাপড়া হওয়া উচিত। এগুলোর জন্য সময় বাড়িয়ে নেয়া যায় কি না বা এগুলোর জন্য বিদেশি অন্যান্য ব্যাংক থেকে রিফাইন্যান্স করা যায় কি না- এসব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি।

কৃষিতে ভর দিয়ে স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে

ছোট ব্যাংকগুলো যারা এক্সপোর্ট বেশি করে না, রেমিট্যান্স বেশি আনে না, তারা যাতে এসেনসিয়াল পণ্য আমদানি করতে ইন্টার ব্যাংক থেকে তাদের যেটি প্রাপ্য এক টাকা বেশি দিয়ে ডলার পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে ৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখতে পারে। এটি কিন্তু ছোট ইম্পোর্টের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাতে কী হবে? হয়তো দেড় বিলিয়ন ডলার বাড়তি ড্র-ডাউন হবে। তাতে কিচ্ছু আসে যায় না, মার্কেট যদি আমাদের সুস্থির থাকে, এর চার গুণ আমাদের ফিরে আসবে। ইম্পোর্ট যদি চালু থাকে আমাদের যেই পরিমাণ কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত একটি শক্তিশালী অবস্থানের ওপর আছে। আমার সবার কাছে অনুরোধ থাকবে অযথা গুজব ছড়াবেন না। বরং আমরা সবাই মিলে কিছু শক্তিশালী নীতিমালা গ্রহণ করে এই যে টানাপোড়েন ফরেন এক্সচেঞ্জের, সেটি হয়তো পূরণ করতে পারব। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যে সেটি তো অনেক শক্তিশালী। গ্রাম ভালো আছে। শহরে কিছু সামাজিক নিরাপত্তা দরকার। সরকার এরই মধ্যে এক কোটি কার্ড করেছে। তারা নানাভাবে চেষ্টা করছে। মধ্যবিত্তের জন্য যতটুকু পারা যায় চেষ্টা করতে হবে।

এখানে আরেকটি বিষয় আমি বলতে চাই, আমাদের কথাবার্তায় আমরা যাতে খুব সাবধানে কথা বলি। যাতে কোনো রকম গুজব না তৈরি হয়। এ বিষয়গুলোর ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আগামী দুটি মাস যদি আমরা সাবধানে পা ফেলি, তাহলে আমাদের আইএমএফের টাকা যখন আসতে শুরু করবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবির টাকা আসতে শুরু করবে। আমাদের রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে। কৃষিতে ভর করে একটি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে কিন্তু আমরা যাচ্ছি। সামনের দিনগুলো আরও ভালো হবে। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা এলে, বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের খুব একটি সমস্যা হবে না। কেননা আমাদের সরকারি গুদামগুলোতে ২০ লাখ টনের মতো খাদ্য মজুত আছে। বেসরকারি পর‌্যায়েও প্রচুর খাদ্য আছে। আমনটা ভালো হয়েছে। বেরোটা যদি আমরা ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারি, তাহলে খাদ্য নিয়ে আর আমাদের কোনো চিন্তা থাকবে না। আর পেটে ভাত থাকলে অন্য সব বাধাবিপত্তি মোবাবিলা করা খুব একটা কঠিন হবে না বলে আমি মনে করি।

আপনি বলছিলেন যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে যারা বিপদে পড়েছে। এদের কীভাবে সহায়তা করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি যে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি, সেটি হলো জরুরি আমদানি বন্ধ করা যাবে না। নতুন পদ্ধতি আমাদের তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে বেশি ডলার আনার উদ্যোগ আমাদের নিতে হবে। যারা বাইরে থেকে ডলারে ঋণ নিয়েছে। আর এখন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সংকটে পড়েছে। তাদের কিন্তু সাহায্য করার কথা সরকারকে চিন্তা করতে হবে। যারা সঠিক উদ্যোক্তা। তাদের উতরে নেয়ার জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা এরা যদি বিপদে পড়ে, উৎপাদন কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু অর্থনীতিতে আরেক ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে; যারা এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বা কাজ করছেন, তারা বেকার হয়ে যাবেন। তাই এ বিষয়টি এখন সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

হুন্ডি তখনই বাড়ে, যখনই কার্ব মার্কেটে ডলার রেটের সঙ্গে অফিশিয়াল রেটের পার্থক্য অনেক বেশি হয়। মার্কেট রেটে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেটটি হওয়া উচিত। এক্সচেঞ্জ রেট আমরা এত দিন ফ্লোটিং ম্যানেজেমেন্ট করতাম। অর্থাৎ মার্কেট রেটের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, এখনো করছি। কিন্তু রেটের অ্যাভারেজ (গড়) করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এটিকে ছেড়ে দেয়া উচিত। কার্ব মার্কেট ও অফিশিয়াল রেটের পার্থক্য যদি ১ বা ২ টাকার হয়, তাহলে কিন্তু মানুষ অফিশিয়াল চ্যানেলেই টাকা পাঠাবে।

যারা অফিশিয়ালি টাকা পাঠাবে তাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আসা যায় কি না তা ভাবা দরকার। যেমন- এনআইডি ফিক্স করে তাদের ইনভার্সাল পেনশন স্কিমে যুক্ত করা, তাদের সন্তানদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। এ রকম লং টার্ম ইনসেনটিভ প্যাকেজের সঙ্গে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের যুক্ত করে দিলে দেশের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে তারা অফিশিয়াল চ্যানেলে টাকা পাঠাবেন।

আরেকটি কাজ করতে হবে, আর সেটি হলো ক্যাম্পেইন করতে হবে। প্রবাসী ভাইবোনদের বলতে হবে, আপনারা যে আন-অফিশিয়াল চ্যানেলে (হুন্ডি) টাকা পাঠাচ্ছেন, এটি দিয়ে কী হয়? এই টাকা দিয়ে কেউ জঙ্গিপনা করে, অস্ত্র কেনে, সন্ত্রাস করে। তার চেয়ে টাকা অফিশিয়াল চ্যানেলে পাঠান, যেটি দিয়ে আমরা মেশিন কিনতে পারব রপ্তানির জন্য, শিশুখাদ্য কিনতে পারব। তখন তারা বুঝবেন, দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বৈধ পথে টাকা পাঠাবেন।

আমরা এই পারে (দেশে) যেমন ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স যেমন আমরা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি, ওই পারেও অর্থাৎ উৎসেও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এক্সচেঞ্জ বা ব্যাংকগুলোকে অ্যাপস খুলতে বলতে পারি। ধরুন, ওইখানে একটি ফেইক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আছে, যেটি তারা বলে, সেটি কিন্তু সত্যি না, ফেইক।

কিন্তু একটি রিয়েল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যদি করতে পারে এবং তারা যদি একটি অ্যাপস তৈরি করে, যেমন অগ্রণী ব্যাংক করেছে মালয়েশিয়ায়। তাহলে মরুভূমিতে বসেই আমাদের ভাইগুলো টাকা পাঠাবেন, যেটি আমাদের ব্যাংক হয়ে আবার তার বাড়িতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে যাবে। এই রকম একটি ব্যবস্থা আমরা করতেই পারি। আমাদের রেগুলেটর ও তাদের রেগুলেটররা আলাপ করতে পারেন।

আমি যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলাম, তখন আমরা এই ধরনের একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম মালয়েশিয়ায়, একটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বিকাশের সঙ্গে এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। এই ধরনের এক্সপেরিমেন্ট আরও বেশি করা উচিত। তাতে মানুষ কনফিডেন্স পাবে। আনুষ্ঠানিকভাবেই আমরা টাকাগুলো আনতে সক্রিয় আছি।

মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যাংকঋণ ও আমানতের সুদের হার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

রেট অব ইন্টারেস্ট (সুদের হার) নিয়ে উভয় দিকের কনসার্নেই সত্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়ালে দেশের জন্য ভালোই হয়, তাতে অনুৎপাদনশীল খাতে খরচটা কম হয়। আবার কোনো ক্ষেত্রে, যেমন উৎপাদনশীল খাতে রেট অব ইন্টারেস্ট কম থাকলে উৎপাদন বাড়ে, বিনিয়োগ বাড়ে। সুতরাং এটি একটি ব্যালান্সিং অ্যাক্ট, এই কাজটি করতে হবে। তবে মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হারে যদি ডিপোজিট রেট দিই, তাহলে তো একজন মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে, সে তো টাকা দিন দিন হারিয়ে ফেলবে।

ব্যাংক যদি সেই হারের বেশি হারে ডিপোজিট দেয়, কম হারে যদি লোন দেয়, তার ওপরে ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। তাহলে তো ব্যাংকের ব্যবসা হবে না। এই রকম জিনিসগুলোতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট রেট কম দেব, সে ক্ষেত্রে তাকে ফিসক্যাল সাপোর্টে দেয়া যেতে পারে। যেমন আমি গভর্নর থাকার সময় কৃষিতে ইন্টারেস্ট রেট কম রেখেছি, খুবই কম হারে পিঁয়াজের জন্য লোন দিয়েছিলাম, সেটি কেমন করে, কারণ আমরা ৬ শতাংশ ভর্তুকি ফিসক্যাল পলিসিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছিলাম।

সুতরাং কোনো কোনো জায়গায় এ রকম ইনোভেটিভ আইডিয়া করাই যেতে পারে। তবে বাকিটা বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত, ট্রাস্ট করা উচিত। বাজার যেভাবে আমাদের গাইড করবে, কিছুটা সামাজিক দায়বোধ থাকতে হবে, কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিলেও সার্বিক ক্ষেত্রে বাজারের ধর্মমতে চলতে হবে। অনুৎপাদনশীল খাত যদি খানিকটা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাতে ক্ষতি নেই।

কোরিয়ায় একসময় ২০ শতাংশ হারেও লোন দেয়া হতো। সেখানে প্রবৃদ্ধি কিন্তু কমেনি। সুতরাং আমি মনে করি, টাকাটা ঠিক জায়গামতো যাচ্ছে কি না, আমার রিয়েল ইকোনমি উপকৃত হচ্ছে কি না, এটি যদি হয় এবং সময়মতো মানুষ যাতে টাকা পায় সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। ধরা যাক, কম রেটে কৃষিঋণ দেয়া হলো। কৃষক গেলেন ব্যাংকে, টাকা নেয়ার সময় তার কাছ থেকে কিছু টাকা ব্যাংকাররা রেখে দিলেন। কৃষক কিন্তু হিসাব করবেন তার রেট অব ইন্টারেস্ট বা খরচ বেশি হিসাব করবেন। সুতরাং স্বচ্ছতার খাতিরে রেট অব ইন্টারেস্ট নিয়ে বাস্তববাদী ভাবনার সুযোগ রয়েছে।

ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে একটি মহল। আসলে বাস্তব অবস্থা কী। সাবেক গভর্নর হিসেবে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখনো পুরোপুরি নিরাপদ। কয়েক দিন আগে যে গুজব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মানুষ ছড়িয়েছিল, তা কিন্তু নেই। তাহলে তো এখনো থাকত তাই না? এটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল সেটি বোঝা যায়। আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে টাকা রাখা, বালিশের নিচে টাকা রাখার চেয়েও বেশি নিরাপদ। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে অনেক ইনস্ট্রুমেন্ট আছে। কোনো ব্যাংকের সত্যিই যদি লিকুইডিটি ক্রাইসিস থাকে, তাহলে সে তার রেপো ব্যবহার করতে পারে, সরকারের কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট বা সিকিউরিটি থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে পারে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ওই ব্যাংকটিকে লং টার্ম লিকুইডিটি সাপোর্ট দিতে পারে। এখন ফরেন এক্সচেঞ্জেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সময় এসেছে সাপোর্ট দেয়ার। দরকার হলে ওডি দেবে, সোয়াপ করবে। নানা রকম ইনস্ট্রুমেন্ট আছে, যাতে মার্কেটটিকে লিকুইড এবং স্বস্তিকর করে দেয়া যায়। এটি ফরেন এক্সচেঞ্জের জন্য ও লোকাল মার্কেটের জন্যও দরকার। আমাদের কাছে সেই ইনস্ট্রুমেন্ট আছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি কথা বলেছেন, ‘টাকার অভাবটা আসল অভাব না, আসল অভাব ভরসা।’ সুতরাং আমরা ভরসার পরিবেশ করি।

অর্থনীতিতে চাপ সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচনসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আর কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

সরকার এখন পর্যন্ত যথার্থ পথেই এগোচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিতে তারা যে গুরুত্বটা দিয়েছে, সেটা অত্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক হয়েছে। এখন যেটি করতে হবে। আমাদের দরকার হলে আগামী দুই মাসের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ থেকে ছেড়ে দেব, ছেড়ে দিয়ে হলেও এই জায়গাটায় স্টেবলাইজড করব। বিশেষ করে এসেনসিয়াল ইমপোর্টে যেন কোনো ব্যাংকই কোনো সমস্যা তৈরি না করে। সে জন্য দরকার হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হটলাইন খুলতে হবে, কোন ব্যাংক কী সমস্যা করছে, তা জানবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন দিতে হবে।

পাইপলাইনে যেসব ফরেন এক্সচেঞ্জ আসার কথা সেটি ত্বরান্বিত করতে হবে। আইএমএফ, এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে নেগোসিয়েশন করেছি, সেগুলোর প্রথম কিস্তি তাড়াতাড়ি চলে আসবে সেই কাজটি করতে হবে। আরেকটি কথা হলো, ফরেন এক্সচেঞ্জ বা রিজার্ভের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সবাই কথা বললে হবে না। কথা বলবেন সেন্ট্রাল ব্যাংক, গভর্নর বা মুখপাত্র এবং তথ্য দিয়ে ক্রেডিবল মেসেজ দেবেন, এটি সম্ভব, তাহলে সবকিছু ঠান্ডা হয়ে যাবে বলে আমার মনে হয়।

আরও পড়ুন:
প্রবৃদ্ধিতে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে
সংলাপে মতভেদও ঘুচবে, ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনা
‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বিদ্যুৎ’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The impression of World Cup madness on the walls of old Dhaka

পুরান ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে বিশ্বকাপ

পুরান ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই পুরান ঢাকা, দেয়ালচিত্রে বর্ণিল হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলি-গলি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ তারকা খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুরান ঢাকার অলি-গলির দেয়ালে। আঁকা হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার বিশাল আকৃতির প্রতিকৃতিও। মেসির পাশেই নেইমার কিংবা ব্রাজিলের পাশেই আর্জেন্টিনার পতাকা এঁকে দেয়া হয়েছে ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা।

মরুভূমির দেশ কাতারের বুকে শুরু হয়ে গেছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের ২২তম আসর। ফুটবলের এই মহা-আসর নিয়ে সারা বিশ্বেই উত্তেজনা-উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও ফুটবল উন্মাদনার যেনো কমতি নেই।

শহর থেকে গ্রাম, পাড়া থেকে মহল্লা কিংবা বাজার থেকে চায়ের দোকান, সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। আর এতে পিছিয়ে নেই পুরান ঢাকার অলি-গলিও। দেয়ালচিত্রে বর্ণিল হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার বিভিন্ন গলি। দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের নানা চিত্র।

পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে হেমেন্দ্রদাস রোড থেকে পূর্নচন্দ্র ব্যানার্জি লেনের পুরোটাই বর্ণিল হয়ে উঠেছে দেয়ালচিত্রে। ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের পতাকা, খেলোয়াড় ও বিভিন্ন ফুটবল চিত্রকর্মে রঙিন হয়ে উঠেছে দুইপাশের দেয়াল। বিভিন্ন দেশের পতাকা-স্কার্ফসহ ভক্তদের ছবি দিয়ে ছেয়ে গেছে ভবনটির দেয়াল। যা নজর এড়ায়নি স্থানীয়দের। এমন উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

পুরান ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে বিশ্বকাপ

লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ তারকা খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেয়ালে। আঁকা হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার বিশাল আকৃতির প্রতিকৃতিও। মেসির পাশেই নেইমার কিংবা ব্রাজিলের পাশেই আর্জেন্টিনার পতাকা এঁকে দেয়া হয়েছে ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা।

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা স্থান পেয়েছে দেয়ালচিত্রে। মেসির ঘাড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নেইমার। পাশেই আঁকা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। ফুটবল দ্বৈরথ ছাড়িয়ে মূল বার্তাটা যেন বিশ্বকাপ আনন্দের। বিশ্বকাপ ট্রফি, মাসকট, কাতার বিশ্বকাপের লোগো থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামও স্থান পেয়েছে দেয়ালচিত্রে। বিশেষ কোনো দল বা ফুটবলার না, বিশ্বের নানা দেশের ফুটবল ভক্তদের প্রতিকৃতি এঁকেছেন স্থানীয় তরুণরা।

অভিনব এই দেয়ালচিত্র অঙ্কনের কাজ করেছে শিংটোলা তরুণ জাগরণ সংঘ। পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের সরু গলিগুলোকে ফুটবল বিশ্বকাপের সাজে রাঙিয়ে তুলতেই তুলতেই এই উদ্যোগ তাদের। উদ্যোক্তারা জানান, পুরান ঢাকার গলিগুলো অনেক সরু। পরিকল্পিত না হওয়ায় ভালো দেখায় না। তাই ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে এলাকার তরুণদের উদ্যোগে আঁকা হয়েছে এসব দেয়ালচিত্র। মূল উদ্দেশ্য হলো সবাই মিলে ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ-উল্লাস উপভোগ করা। সেই সাথে পুরো এলাকায় বিশ্বকাপ উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়া।

পুরান ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে বিশ্বকাপ

দেয়ালচিত্র আঁকা ইউছুব ওসমান বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে সুন্দর ও ব্যতিক্রম কিছু করতে চাচ্ছিলাম। চাইলে ব্যানার ঝুলিয়ে বা অন্য কোনো পন্থায় বিশ্বকাপের আমেজ এখানে ফুটিয়ে তোলা যেত। কিন্তু আমরা ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই এই কাজ করেছি।’

স্থানীয়রা বলছেন, ‘তাদের এই ধারণাটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। এগুলো আঁকতে যে অনেক পরিশ্রম হয়েছে সেটাও বুঝতে পারছি।’

শিংটোলা তরুণ জাগরণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা প্লাবন খান নিউজবাংলাকে জানান, ‘এলাকার তরুণরা মিলে এই কাজ করেছে। একেকজন একেক দলের সমর্থক হলেও সবাই মিলে চাঁদা তুলে দেয়ালে ছবি এঁকে ফুটবল বিশ্বকাপকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এখন গলিগুলো সুন্দর দেখাচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দও সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।’

দেয়ালচিত্র ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে পুরো এলাকাজুড়ে। দেয়ালচিত্র দেখতে আর ছবি তুলতে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে। কেউ বা ছবি তুলছেন, কেউ বা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। অভিনব এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন এলাকাবাসীও।

দেয়ালচিত্র দেখতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমি পাশেই একটা মেসে থাকি। প্রতিদিনই এই গলি দিয়ে যাতায়াত করি। ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেয়ালগুলোকে চিত্রকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।’

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা একরাম মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফুটবল বিচ্ছকাপ আইছে, মহল্লার পুলাপানও দেখলাম দেয়ালে ছবি আঁকছে। মেসি, রোনালদোর ছবিও দেখা যাইতেচে, মহল্লাটা এখন সুন্দর লাগতেছে। অনেকেই ছবি তুলার লাইগা আইচে, একটা উৎচব উৎচব লাগতাচে।’

এ ছাড়াও ফুটবল বিশ্বকাপ উদযাপনের অংশ হিসেবে টিকাটুলির স্বামীবাগের কেএম দাশ লেনে আঁকা হয়েছে দেয়ালচিত্র।

আরও পড়ুন:
মেসিই সেই জাদুকর: ওচোয়া
‘সাম্বা শৈলী দেখাল ব্রাজিল’
মাঠে বসে ব্রাজিলের জয় দেখেছেন তামিম
বিশ্বকাপ আছে, ম্যারাডোনা নেই
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারের খেলা নিয়ে শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Men should be asked to build a safe world for women

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিন্নি (ছদ্মনাম)। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভালোবাসার বিয়ের দুই-তিন বছর পরই বদলে যায় স্বামীর আচরণ।

ছোটোখাটো বিষয়ে অকথ্য গালাগালি দিয়ে শুরু, দিনে দিনে তা গড়ায় মারধরে। ততদিনে তিন্নি দুই কন্যাসন্তানের জননী।

একপর্যায়ে তিন্নিকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন স্বামী। বলা হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ‘ভালো গৃহিণী’ হিসেবে সংসার করতে হবে। তবে ঘুরে দাঁড়ান তিন্নি। দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন সংসার ছেড়ে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মেয়েকে একসঙ্গে ভালো স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় বড় মেয়েকে বাবার কাছে রেখেছি। সে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে আমার কাছে আসে।’

আর ছোট মেয়ে তিন্নির স্কুলেই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে একটা জায়গায় হার মেনেছি। তবে সংসার ছাড়লেও নিজের পরিচয় ছাড়িনি।’

মিরপুরের একটি এলাকায় সাবলেট বাসায় থাকেন রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। স্বামীর আগে বিয়ের কথা না জেনেই ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর আগের স্ত্রীর সঙ্গে একই বাসায় থাকতে হচ্ছে রোজিনাকে।

স্বল্পশিক্ষিত এই নারী হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় স্বামীর মারধর। আগের স্ত্রীও নিয়মিত স্বামীর মারধরের শিকার। এসব মেনে নিয়েই সংসার করছেন রোজিনা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ মানুষ, রাগ উঠলে একটু আকটু গায়ে হাত তুলবোই। খাওন পড়োন তো দিতাছে।’

সোহানা আর মিথুনের (ছদ্মনাম) তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক বছর আগে মিথুন দেশের বাইরে চলে যান। সোহানার সঙ্গে কাটানো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও রয়েছে তার কাছে।

সোহানা এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চাইলে মিথুন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোহানার।

নারী সহিংসতা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।

এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে- এটা বলা যাবে না। সহিংসতার ধরনে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে এবং এগুলোভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক ধরনের সহিংসতা ছিল যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হতো না, বাইরে যেতে দেয়া হতো না অথবা অনেক ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। ওই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে মেয়েদের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি রয়েই গেছে। একেক সময় একেক ধরনের নির্দেশনা সমাজ বা পরিবার মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমের তো চেঞ্জ হয়নি।’

জিনাত আরা বলেন, ‘আমাদের শিকড়েই সমস্যা রেখে দেয়া হলে ডাল কেটে বা ডাল ছেঁটে কোনো লাভ নেই। কারণ শিকড় থেকে আবার সেই জিনিসটাই বের হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি কমছে না। এখন যখন মেয়েদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তারা বাইরে যাচ্ছে, চাকরি করছে। এত চাপের পরও মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। তখন আরও বেশি শারীরিকভাবে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি করেও যখন দেখছে কিছু হচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক, সামাজিকভাবে বয়কটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কোণঠাসা করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের সামনের রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনায় গত ১২ জুন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের দিনে মেয়েদের রান্নার জন্য মসলা বাটতে হতো। আধুনিকায়নের কারণে এখন গুঁড়া মসলা পাওয়া যাচ্ছে। সেটা সময় বাঁচিয়েছে, কিন্তু সেই মসলার নাম দেয়া হয়েছে রাঁধুনী। অর্থাৎ মেয়েরাই রান্না করবে- এটাই যেন নির্ধারিত। আধুনিকায়নের সঙ্গে মানসিকতার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’

পুরুষ ও নারীর মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে জিনাত আরা বলেন, ‘ছেলেরা ঘরের কাজ করলে মেয়েরা সারপ্রাইজড হয়ে যায়। মেয়েরা কিন্তু বাইরে ঠিকই যাচ্ছে, আবার সমানভাবে ঘর সামলাচ্ছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের খেয়াল রাখছে।

‘তবে পুরুষ ঘরে আসেনি। তারা শুধু বাইরেই রয়ে গেছে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়- এই মানসিকতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই মেয়েদের ঘরের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অন্যদিকে নারীকে এখনও নারী হিসেবেই দেখতে চায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা অফিসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং কাজ তাদের দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করছি, কিন্তু পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনে খুবই কম কাজ করেছি। পুরুষের পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারে- এমন মানসিকতা পুরুষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আনা গেলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার শুভ্রা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অনেক উদ্যোগ ও আইন রয়েছে; কিন্তু সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জামিন অযোগ্য মামলার আসামি কোনো না কোনো প্রভাব খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সাক্ষীর অপর্যাপ্ততা, পারিপার্শ্বিক চাপ ইত্যাদি কারণে মামলাগুলো গতি হারাচ্ছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার শুভ্রা বলেন, ‘এ জন্য সবার নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কিছুদিন প্রতিবাদ, শোভাযাত্রা করে সাময়িকভাবে থামানো গেলেও এটি তো শেষ হয়ে যায় না। কারণ সহিংসতার প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে, মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আমরা মানসিকভাবে মানবিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এসব ঘটতেই থাকবে।

‘শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা পরিবার থেকেই শিখে বড় হয় অনেক শিশু। ভালোবাসা, বন্ধন, সমতা- এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই আসতে হবে।’

সহিংসতার পেছনে আধুনিক সময়ের প্রযুক্তিও কিছুটা দায় রয়েছে বলে মনে করেন ড. তানিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার মানুষকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এতে তো বন্ধন তৈরি হয় না। পরিবার থেকেই মানুষ সামাজিকতা শেখে। আর সঠিক সামাজিকতা নিয়ে বড় হলে সহিংস মনোভাব অনেক কমে আসবে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত কোনো একটি সহিংস ঘটনা কেন হলো সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। একটা মানুষ এ রকম ঘটনা কেন ঘটাল, তার গোড়া পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিবাদ করেই থেমে যাওয়া যাবে না।

‘একেকটি ঘটনা একেকভাবে ঘটে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে মূল জায়গাটিতে পৌঁছাতে হবে। তারপর একেকটি কারণ ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি তিনজন নারীর একজন সহিংসতার শিকার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Who is Brazil and who is Argentina supporter

কে ব্রাজিল আর কে আর্জেন্টিনার সমর্থক

কে ব্রাজিল আর কে আর্জেন্টিনার সমর্থক বামে ওপর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
দেশের রাজনীতিকদের মধ্যে বিপুল দ্বন্দ্ব ও মতাদর্শিক বিরোধ থাকলেও ফুটবল দল সমর্থনের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যই বেশি। তারা প্রায় সবাই লাতিন আমেরিকার ফুটবলের ভক্ত।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দলে তার ডেপুটি ওবায়দুল কাদের, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের মধ্যে একটি বিষয়ে মিল আছে। তারা সবাই ফুটবলে ব্রাজিল দলের সমর্থক।

দেশের রাজনীতিকদের মধ্যে বিপুল দ্বন্দ্ব ও মতাদর্শিক বিরোধ থাকলেও ফুটবল দল সমর্থনের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যই বেশি। তারা প্রায় সবাই লাতিন আমেরিকার ফুটবলের ভক্ত।

ব্রাজিল সমর্থকের তালিকায় আছেন ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও।

এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের সমর্থন করেন আর্জেন্টিনাকে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানকেরও সমর্থন মেসির দলটির প্রতি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার প্রিয় দল ব্রাজিল।

আর কোনো দলই সমর্থন করেন না এমন নেতাদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফর উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে।

পছন্দের দল জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্রাজিল ফুটবল খেলাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দেশটির আপাদমস্তক মানুষ ফুটবলপ্রেমী। ব্রাজিলের খেলা আমি উপভোগ করি।’

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান, তিনি নির্দিষ্টভাবে কোনো দল সমর্থন করেন না, তবে তার ছেলে ব্রাজিল সমর্থন করে।

তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দলই ঘুরেফিরে কাপ নিয়েছে। এবার আফ্রিকা বা এশিয়ার কোনো দল বিজয়ী হলে তিনি খুশি হবেন।

বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলে তিনি কোনো দেশেরই সমর্থক নন, তবে খেলা দেখবেন তিনি এবং এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারেনি এমন একটি দেশ এবার ট্রফি নিয়ে গেলেই তিনি বেশি খুশি হবেন। অবশ্য তার স্ত্রী আর্জেন্টিনার সমর্থক।

ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান, তিনি ব্রাজিলের পুরোনো সমর্থক। আগে পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে বসতেন, তবে ছোট দলগুলোর প্রতি দুর্বলতা আছে তার। সব খেলা না দেখলেও ব্রাজিলের খেলা তিনি দেখবেনই।

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও ব্রাজিলের সমর্থক।

সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের পছন্দের দল ব্রাজিল। ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সময় বের করে ব্রাজিলের খেলাগুলো দেখার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন:
সমান লড়াইয়ে গোলশূন্য উরুগুয়ে-কোরিয়া
কাতার বিশ্বকাপে যা কিছু নিষিদ্ধ
ক্যামেরুনকে হারিয়ে শুভ সূচনা করল সুইজারল্যান্ড
জন্মভূমির বিপক্ষে গোল করে বিরস এমবোলো
মেসি-দি মারিয়াদের পাশে নাদাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The capital market cannot operate like this

‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’

‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’ ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী, ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী ও ডিবিএর বর্তমান সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
‘পুঁজিবাজারে ভাইব্রেন্সি খুব প্রয়োজন। তা ছাড়া এভাবে চলতে পারে না। বছরের ১২ মাসের মধ্যে ১০ মাস ডিপ্রেসড থাকবে, আর দুই মাস ভালো থাকবে, আমরা উচ্ছ্বসিত থাকব, এভাবে চলে না।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশে পুঁজিবাজারের যে আচরণ, তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি হতাশ হয়ে পড়েছেন খোদ স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে জড়িত বড় বিনিয়োগকারীরাও।

ফ্লোর প্রাইসের প্রভাবে শেয়ারের দরপতন ঠেকানো গেছে বটে, কিন্তু ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে কার্যত ৭০ থেকে ৮০টি কোম্পানির শেয়ারে হাতবদল হচ্ছে, তাও সংখ্যায় কম। বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো দিন ৭০টি, কোনো দিন ৮০টির ক্রেতা থাকে না। আর দুই শতাধিক কোম্পানির কিছু শেয়ার হাতবদল হয় বটে, কিন্তু তা এতটাই নগণ্য যে গুরুত্ব পাওয়ার মতো না।

মাস দুয়েক আগেও সেখানে দুই হাজার কোটি বা তার চেয়ে বেশি লেনদেন হচ্ছিল, সেটি এখন নেমে এসেছে তিন শ কোটির ঘরে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী পুঁজিবাজারের এই পরিস্থিতিতে পুরোপুরি হতাশ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ভাইব্রেন্সি খুব প্রয়োজন। তা ছাড়া এভাবে চলতে পারে না। বছরের ১২ মাসের মধ্যে ১০ মাস ডিপ্রেসড থাকবে, আর দুই মাস ভালো থাকবে, আমরা উচ্ছ্বসিত থাকব, এভাবে চলে না।’

‘বাজারের মধ্যে এখন বড় বিনিয়োগকারীরা ওয়েট অ্যান্ড সি বা সাইডলাইনে বসে গেছেন। একটা বৈশ্বিক কারণ আর দ্বিতীয় হলো যে, এই যে কোটি কোটি টাকা ফাইন হয়, সেটা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’

তিনি বলেন, কেউ দোষ যদি করে তাহলে শাস্তি হবে, কিন্তু যেভাবে মিডিয়ায়, পত্রিকায় আসে, সেভাবে আসলে বড় বিনিয়োগকারীরা শাই হয়ে যায়। তারা যদি বিনিয়োগ করতে ভয় পায়, তাদের জন্য প্যানিক সিচুয়েশন হয়, তাহলে বাজারের ভাইব্রেন্সি থাকবে না। তখন আমাদের মতো বিনিয়োগকারীরা বাজারকে ওইভাবে সাপোর্ট দিতে পারি না। সাপোর্ট দিতে হলে বড় বিনিয়োগকারীদের আনতে হবে।’

কী করার আছে?

লালী বলেন, ‘বাজারে যে জিনিসগুলো প্রয়োজন তা হলো ডিএসইর আমূল পরিবর্তন করতে হবে। বৃহত্তর রিফর্মেশন আনতে হবে। ডিএসই কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না, কোনো কাজই করছে না, অগ্রহণযোগ্য। একটা ইনএফিশিয়েন্ট এক্সচেঞ্জ যেটাকে বলা হয়, সেটা হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।’

কোনো নীতি বা বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সবার অংশ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। বলেন, ‘পলিসির কনসিসটেন্সি থাকতে হবে। ডিএসই থেকে বা বিএসইসি থেকেই হোক ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। কোনো নীতি করার আগে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসে একটা ভালো জিনিস বের করে আনতে হবে।’

ডিবিএর বর্তমান সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘রিফর্মেশন দরকার আছে, তবে ভালো লোককে বাদ দিয়ে অযোগ্য লোককে নিয়ে এলে হবে না। আইটি সেক্টরে দুর্বলতা রয়েছে, সেটা বারবারেই দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া দুইটা স্টক এক্সচেঞ্জই চলছে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘ডিএসইর রিফর্মেশন অবশ্যই দরকার আছে। এমডি পদেই একজন লোক ঠিক করা যাচ্ছে না, আসছেন আর যাচ্ছেন। এটা কেমন কথা? এটা তো প্রতিষ্ঠানের পথচলা বাধাগ্রস্ত করছে।’

‘পুঁজিবাজার এভাবে চলতে পারে না’

ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

কারসাজির সাজা এত দেরিতে কেন?

পুঁজিবাজারে কোনো শেয়ার নিয়ে কারসাজি হলে মাসের পর মাস তা দেখে আরও কয়েক মাস পর ব্যবস্থা নিয়ে তা ঠেকানো যাবে না বলেও মনে করেন লালী।

বলেন, নিউ ইয়র্কে ডেইলি বিচার হয়। জুমের মাধ্যমে তারা অভিযুক্তকে জিজ্ঞেস করেন আপনি এটা এটা করেছেন। আপনি কি দোষী? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে বলা হয়, ১০ হাজার ডলার পাঠিয়ে দিন। এভাবে কেসটা চলে।

‘এখন তো অনলাইন সার্ভেলেন্স। আপনি কেন সঙ্গে সঙ্গে বলছেন না, আপনি ভুল করছেন। এটা ঠিক করেন। তাহলেই তো আমি সাবধান হয়ে যাই। আমাকে ভুল করিয়ে কমিটি করবেন, ইনকোয়ারি করবেন, তারপর কোটি কোটি টাকা ফাইন করবেন।’

যেটা সঙ্গে সঙ্গে সারাতে পারেন সেটা তিন মাস ধরে করে করছেন, এটা কি টাকা কামাই করার মেশিন নাকি? তিন মাস ধরে বিচার করবেন, আর তিন মাস ধরে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা তো হতে পারে না।’

ডিবিএ সভাপতি রিচার্ড বলেন, ‘সার্ভেলেন্সের মাধ্যমে ম্যানুপুলেশন রোধে তড়িৎ ব্যবস্থা নিলে ব্রোকারেজ হাউজটাও রক্ষা পায়, ওই লোকটাও বাঁচে আবার পুঁজিবাজারও ক্ষতির সম্মুখীন হয় না।’

সার্ভেলেন্সের মাধ্যমে ম্যানুপুলেশন ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে মোস্তফা মাহবুব। ‍তিনি বলেন, ‘সার্ভেলেন্সে রিয়েল টাইম ট্রেড দেখা যায়। সুতরাং সময়েই ফোন করেই এটা বন্ধ করা যায় বা ব্যবস্থা নেয়া যায়।’

জরিমানার অঙ্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘যত আয় করছে, তার ২ থেকে ৩ শতাংশ জরিমানা করা হচ্ছে। এটা কি জরিমানা নাকি জাকাত? জরিমানা হতে হবে, যতখানি ম্যানুপুলেশন তার কয়েকগুণ বেশি।’

লালী বলেন, ‘ইনডেক্স, ভলিউম কন্ট্রোল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বাজারের মধ্যে ব্যাড প্লে করছে কি-না, বাজার সুস্থ রাখার জন্য সেটা দেখা দরকার। বাজারকে অযাচিতভাবে খারাপ রাখার চেষ্টা করছে কিনা তা দেখবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে কোনো অবস্থাতেই ভলিউম বা ইনডেক্স কন্ট্রোল করলে পরে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বসে তাদের কী সমস্যা, সেগুলো একটু দেখে সমস্যার সমাধানের পরামর্শও দেন তিনি। বলেন, ‘বাজারে সবসময় মার্কেট মেকার থাকতে হয়। না থাকলে সারাজীবন নড়বড়ে থাকবে।’

ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহও মনে করেন মার্কেট মেকার থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ‘মার্কেট মেকার লাইসেন্স দিয়ে মার্কেট ভালো করা যায়। সব ডুজ অ্যান্ড ডোন্ট মেনে চলতে হবে।’

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নগদ পেমেন্ট পদ্ধতির চালু থাকা দরকার বলে জানান ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী। বলেন, ‘পুঁজিবাজারে অ্যাসেট দ্রুত লিকুইডেট করা যায় বলেই তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখানে আসেন। যখন কোনো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী চেক ছাড়া নগদ টাকা নিতে পারেন না, সেটা তাকে মার্কেট বিমুখ করে। কারণ অল্প কিছু টাকার জন্য এত ঝক্কিঝামেলা পোহাতে চান না কেউই। সুতরাং এই বিষয়টা একটু দেখা দরকার।’

কী বলছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় সবই ঠিক বলেছেন। তবে সার্ভেলেন্সটা ডিএসই করে থাকে। তারা এনফোর্সমেন্টের জন্য পাঠানোর পরে আমাদের কাজ শুরু করতে হয়। যার জন্য দেরি হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আর আমরা তো মিডিয়াতে প্রেস রিলিজ হিসেবে জরিমানার খবর প্রচার করি না। আমাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা থাকে, সেখান থেকে হয়তো দেখে করে।

‘ডিএসইর বোর্ড রিফর্মেশনের দরকার আছে। সেটাও বিবেচনায় নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
শেয়ার কেনার ‘কেউ নেই’, দেড় বছরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লেনদেন
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি
ফেসবুকে পুঁজিবাজার নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে মামলার আসামি

মন্তব্য

p
উপরে