× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Even if the pace of development is slow due to the war the country will move forward Prime Minister
hear-news
player
google_news print-icon

উন্নয়নের গতি শ্লথ করেছে যুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের-গতি-শ্লথ-করেছে-যুদ্ধ-প্রধানমন্ত্রী
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমাদের উন্নয়নের গতিটা কিছুটা হলেও শ্লথ হয়ে গেছে। কারণ, একদিকে করোনাভাইরাসের অভিঘাত, অপরদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশন। যার ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এই মন্দা মোকাবিলার জন্য এখন থেকে আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে।’

করোনাভাইরাসের অভিঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের ‘উন্নয়নের গতি কিছুটা হলেও শ্লথ’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখতে এখন থেকে সবাইকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তাই যার যেখানে সম্ভব অল্প পরিমাণে হলেও খাদ্য উৎপাদনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

ঢাকার মিরপুরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘দুর্ঘটনা ও দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে মঙ্গলবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমাদের উন্নয়নের গতিটা কিছুটা হলেও শ্লথ হয়ে গেছে। কারণ, একদিকে করোনাভাইরাসের অভিঘাত, অপরদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশন। যার ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এই মন্দা মোকাবিলার জন্য এখন থেকে আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে।

‘এ জন্য আমি আহ্বান করেছি, যার যেখানে কর্মস্থান, সারা বাংলাদেশে এত আমরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করে দিয়েছি, প্রত্যেকে যার যার যেখানে জমি আছে, যা পারেন তরকারি, ফলমূল যা পারেন, আপনারা বৃক্ষরোপণ করবেন, প্রতিটি জায়গায় কিছু না কিছু উৎপাদন করবেন। নিজেদের যে চাহিদা পূরণ করবার, নিজেরাই চেষ্টা করবেন। বিশ্বের এই মন্দার ধাক্কাটা যেন আমাদের দেশে না পড়ে। তার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য গতির এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে, উন্নত জীবন পাবে, শিক্ষায়-দীক্ষায় উন্নত হবে, সেই লক্ষ্য ইনশা আল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।’

উন্নয়নকে একটি ‘ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার একটানা ক্ষমতায় আছে বলে উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে, দেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই মর্যাদাটাকে বাস্তবায়ন করা, ধরে রাখা এবং এ মর্যাদা নিয়ে আমরা ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটাই আমাদের প্রত্যয় এবং লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘এ ধারাবাহিকতায় আমি মনে করি যেকোনো ঝুঁকি হ্রাস করা, মানুষের নিরাপত্তা দেয়া, সেই সঙ্গে উন্নয়নের কাজগুলো দ্রুত, ত্বরান্বিত করা, মানসম্মত করা। এটাই হচ্ছে আমাদের সবার প্রচেষ্টা। কাজেই আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাক। দেশ যত এগিয়ে যাবে, এ দেশের মানুষ তত ভালো থাকবে।’

আজীবন রেশন পাবেন ফায়ার ফাইটাররা
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের আজীবন রেশন সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, সারা জীবন আগুন-ধোঁয়ায় কাজ করতে হয় বিধায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসর বয়সে নানা রকম ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আজীবন রেশন প্রদানের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। আমরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এই প্রতিষ্ঠানের জনবল ৩০ হাজারে উন্নীত করার কাজও হাতে নেয়া হয়েছে।’

যেকোনো দুর্যোগ দুর্বিপাকে সব সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছুটে যান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই তাদের আরও যুগোপযোগী করা এটা একান্তভাবে প্রয়োজন। আর সেই পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি। এর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এবং সেবার ক্ষেত্রটা আরও সম্প্রসারণ করার বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। ফায়ার সার্ভিস সম্পূর্ণ সক্ষমতার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতে রূপান্তরিত হয়, সেই ব্যবস্থাই আমরা গ্রহণ করেছি।’

প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের যে ঘোষণা সরকার দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, যারা এ কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন তারা যেন উন্নত মানের প্রশিক্ষণ পান। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি প্রতিষ্ঠা করবার উদ্যোগ নিয়েছি।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১ হাজার ১৮৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে পাঠিয়ে পেশাগত বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের জনবল ৬ হাজার ১৭৫ জন থেকে বৃদ্ধি করে ১৪ হাজার ৪৪৩ জনে উন্নীত করেছি। ফায়ার স্টেশন এখন ৪৯১টি। আরও ৫২টি নতুন স্টেশন চালু হবে।’

সেবার সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিসের বহরে বিভিন্ন উচ্চতার মই-সংবলিত ২৬টি গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতা ৬৮ মিটারের ল্যাডার-সংবলিত টিটিএল গাড়ি ফায়ার সার্ভিসের বহরে যোগ হয়েছে। ৬৮ মিটারের ৫টি গাড়ি কেনা হয়েছে।’

এই অর্থবছরে আরও কিছু আধুনিক যন্ত্র কেনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান। লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করে ট্রান্স জেন্ডারদেরও যাতে নিয়োগ দেয়া যায় সে জন্য ‘ফায়ারম্যান’ পদের নাম পরিবর্তন করে ‘ফায়ার ফাইটার’ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফায়ার ফাইটাররা দুঃসময়ের বন্ধু
সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কারণে ফায়ার ফাইটারদের মনোবল ও সক্ষমতা বেড়েছে বলে মনে করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের কল্যাণ করা, মানুষকে উদ্ধার করা-একটা মহৎ কাজে তারা নিয়োজিত রয়েছেন। কাজেই ফায়ার সার্ভিসের প্রতি সদস্য দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবেই মানুষের কাছে প্রতীয়মান।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে আমরা ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছি। আমি মনে করি যেহেতু সংখ্যা বেড়ে গেছে এখানে আরও ২০ কোটি টাকা আমি অনুদান দেব।’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৭টি অগ্নি-দুর্ঘটনায় অংশ নিয়ে ১৬ হাজার ৩০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। এই সময়ের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৯টি অ্যাম্বুলেন্স কলের মাধ্যমে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৯ জন রোগী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহে কয়েকটি বিষয়ের গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো:

১. জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা।
২. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাজে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৩. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা।

উন্নয়নের গতি শ্লথ করেছে যুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

স্বীকৃতি পেলেন ৪৫ ফায়ার ফাইটার
অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের দেয়া হয় বিশেষ সম্মাননা পদক।

এবার চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫ জন কর্মী পেয়েছেন এই পদক। এদের মধ্যে ১০ জনকে দেয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পদক। এদের প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে এককালীন ৭৫ হাজার টাকা। আজীবন এক হাজার টাকা করে মাসিক ভাতাও পাবেন তারা।

প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেবা পদক দেয়া হয়েছে ১০ জনকে। এদের প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে এককালীন ৫০ হাজার টাকা। আজীবন এক হাজার টাকা করে মাসিক ভাতাও পাবেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পদক দেয়া হয়েছে ১০ জনকে। এদের প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে এককালীন এক লাখ টাকা। আজীবন ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেবা পদক পেয়েছেন ১৫ জন। এদের প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে এককালীন ৭৫ হাজার টাকা। তারা আজীবন ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন ।

৪৫ জনের মধ্যে ৩ কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের বিএম কন্টেইনার ডিপোর অগ্নিকাণ্ডে জীবন বিসর্জন দেয়া ‘অগ্নিবীর’ খেতাব পাওয়া ১৩ শহীদ ফায়ার ফাইটারদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নি নির্বাপণে নানা কসরত দেখান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতার ৬৮ মিটারে টিটিএল গাড়ি দিয়ে ২৪ তলা ভবনে অগ্নি নির্বাপণ কৌশলও উপস্থাপন করা হয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে। রিমোট কন্ট্রোল পরিচালিত লুপ-সিক্সটি দিয়ে কীভাবে আগুন নেভাতে হয়, সেটিও উঠে আসে ফায়ার সার্ভিসের প্রদর্শনীতে।

আরও পড়ুন:
প্রতিশ্রুতি রাখছে না ধনী দেশগুলো: প্রধানমন্ত্রী
সমাজের কেউ অবহেলিত থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
ক্রীড়ায় ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা: প্রধানমন্ত্রী
আয়েশি প্রকল্প রেখে কল্যাণমুখী প্রকল্পে জোর প্রধানমন্ত্রীর
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করুন: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
DNCC is making birth registration easier

জন্মনিবন্ধন সহজ করছে ডিএনসিসি

জন্মনিবন্ধন সহজ করছে ডিএনসিসি নগরভবনে ডিএনসিসির ১৮তম করপোরেশন সভা। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র আতিকুল জানান, প্রস্তাবের অনুমোদন পাওয়া গেলে জন্মনিবন্ধন দিতে স্থানীয় কাউন্সিলর হবেন নিবন্ধক, আর সহকারী নিবন্ধক হবেন কাউন্সিলর দপ্তরের সচিব। ফলে কাউকে আর কষ্ট করে আঞ্চলিক কার্যালয়ে যেতে হবে না।

জনদুর্ভোগ কমাতে জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করতে চায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কাউন্সিলর অফিস থেকেই নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ।

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন এ তথ্য।

রোববার ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয় নগরভবনে ১৮তম করপোরেশন সভা হয়।

সভায় মেয়র আতিকুল জানান, প্রস্তাবের অনুমোদন পাওয়া গেলে জন্মনিবন্ধন দিতে স্থানীয় কাউন্সিলর হবেন নিবন্ধক, আর সহকারী নিবন্ধক হবেন কাউন্সিলর দপ্তরের সচিব। ফলে কাউকে আর কষ্ট করে আঞ্চলিক কার্যালয়ে যেতে হবে না। মানুষের দুর্দশা আর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এটি ওয়ার্ড পর্যায়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।

সভায় মশা নিধন ও জলাশয় পরিষ্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া গোরস্থানের জন্য জমি কেনা, বৃক্ষরোপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। মিরপুর ১৩ ও ১৪ নম্বরের তিনটি সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।

ডিএনসিসির সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, ডিএনসিসির কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করল ডিএনসিসি
এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৯ লাখ টাকা জরিমানা ডিএনসিসির
দ্বিতীয়বার লার্ভা, দুটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ
৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক করবে ডিএনসিসি
নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স দিন, সুবিধা বাড়বে: মেয়র আতিক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Driver dies in Tejgaon accident

তেজগাঁওয়ে দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু

তেজগাঁওয়ে দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু প্রতীকী ছবি
‘দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ১৪৯৩ ক্যান বিয়ার পাওয়া যায়। ৪১৮টি খালি বিয়ারের ক্যান ছিল সেখানে। কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক আছে।’

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় জখম প্রাইভেটকার চালক কামাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। গাড়িটি মাদক পাচারে ব্যবহার হচ্ছিল বলে পুলিশের দাবি।

রোববার সকাল ১০ টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৪৫ বছর বয়সী কামাল হোসেন।

গত ১৫ নভেম্বর সকালে গুলশান লিংক রোডের নিপ্পন বটতলা নামক স্থানে দুর্ঘটনার শিকার হন কামাল হোসেন। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি আইল্যান্ডে ধাক্কা খায়।

শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা খেলে চালক বুকে আঘাত পান। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‘দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ১৪৯৩ ক্যান বিয়ার পাওয়া যায়। ৪১৮টি খালি বিয়ারের ক্যান ছিল সেখানে। কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক আছে।’

২৫ নভেম্বর কামাল হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তিনি মারা যান।

ময়নাতদন্তের জন্য কামালের মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, কামাল হোসেনের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার চর গজারিয়ায়। ঢাকায় তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকতেন।

ছেলে রাকিব হাসান পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যান। তবে পিতার মৃত্যু ও মাদক মামলা নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
মেয়েকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে বাসচাপায় মা-বাবাও নিহত
বাইকে ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল তিনজনের
সড়ক দুর্ঘটনায় এসআই ও এক নারীর মৃত্যু
পিকআপ-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
কুকুরকে বাঁচাতে অটোর সঙ্গে সংঘর্ষ, বাইকআরোহী ২ তরুণ নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
World Cup graffiti at Jagannath University

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে রং-তুলির ছোঁয়ায় তুলে এনেছেন মেসি, ম্যারাডোনা, পেলেদের। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ভবনের দুপাশে, বজলুর রহমান মিলনায়তনে আর ভিসি ভবনের পেছনে গ্রাফিতিগুলো আঁকা হয়েছে। গ্রাফিতিতে মেসি-ম্যারাডোনাদের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছেন রোনালডো, নেইমার, লুকা মডরিচ, কিলিয়ান এমবাপে, মানুয়েল নয়্যাররা।

ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যোগ দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিতি আঁকিয়েরা। চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে রং-তুলির ছোঁয়ায় তুলে এনেছেন মেসি, ম্যারাডোনা, পেলেদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসাইন ও ১২তম ব্যাচের উচ্ছ্বাস দাসের আগ্রহেই মূলত গ্রাফিতিগুলো আঁকা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ভবনের দুপাশে, বজলুর রহমান মিলনায়তনে আর ভিসি ভবনের পেছনে গ্রাফিতিগুলো আঁকা হয়েছে। গ্রাফিতিতে মেসি-ম্যারাডোনাদের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছেন রোনালডো, নেইমার, লুকা মডরিচ, কিলিয়ান এমবাপে, মানুয়েল নয়্যাররা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি

গ্রাফিতি শিল্পী সাব্বির হোসাইন জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে সারা দেশে উন্মাদনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিতেই তাদের এই প্রয়াস।

তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের কাজগুলো তৈরি করতে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা এবং দেয়ালে বসাতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। সব মিলে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায় ৪টি জায়গায় করতে পেরেছি।’

গ্রাফিতিগুলো অল্প সময়েই নজর কেড়েছে সবার। ফুটবলারদের গ্রাফিতি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
জবি ক্যাম্পাসে বদ্ধ নর্দমা, মশার রাজত্ব
মিডিয়া কাপ প্রীতি ম্যাচে জিতল নগদ
অ্যাকাউন্টিং দিবসে আয়োজিত হলো ফুটবল ফেস্ট
বিজিএমইএ কাপ: চতুর্থবারের মতো শিরোপা বান্দো ডিজাইনের
পেনাল্টি মিসে শিরোপা মিস বাংলাদেশের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Akkelgurum passengers arrive at the stalled Sadarghat

সদরঘাটে এসে আক্কেলগুড়ুম যাত্রীদের

সদরঘাটে এসে আক্কেলগুড়ুম যাত্রীদের রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। ছবি: নিউজবাংলা
'চাঁদপুর যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। বাসে আসতে ২ ঘণ্টা লেগেছে। এসে দেখি লঞ্চ নেই। ঢাকায় এসেছি ডাক্তার দেখাতে। বাসে চড়তে পারি না। সঙ্গে ২ বছরের ছেলে রয়েছে, বাসে অস্থির হয়ে যায়। এখন কিছু করার নেই। যাত্রাবাড়ী গিয়ে বাস পাই কিনা দেখতে হবে।’

ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বেতনসহ ১০ দফা দাবিতে নৌ শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে স্থবির হয়ে আছে ঢাকার প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট। বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী নৌযানগুলোও। সকাল থেকে লঞ্চ ছেড়ে না যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ফাঁকা পড়ে আছে পনটুন, শ্যামবাজার ঘাটে জড়ো করে রাখা হয়েছে লঞ্চ। অনেকটায় ফাঁকা পড়ে আছে টার্মিনাল এলাকা, নেই নৌশ্রমিকদের উপস্থিতিও।

ধর্মঘটের কথা জানা না থাকায় ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সদরঘাট থেকেই অনেকে বিকল্প বাহন হিসেবে পিকআপ ভ্যান ও মাইক্রোবাসে করে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যে। চাঁদপুরে মাইক্রোবাসে খরচ পড়ছে ৭০০টাকা ও পিকআপভ্যানে ৪০০ টাকা।

রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আসা ইসমত আরা বলেন, 'চাঁদপুর যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। বাসে আসতে ২ ঘণ্টা লেগেছে। এসে দেখি লঞ্চ নেই। ঢাকায় এসেছি ডাক্তার দেখাতে। বাসে চড়তে পারি না। সঙ্গে ২ বছরের ছেলে রয়েছে, বাসে অস্থির হয়ে যায়। এখন কিছু করার নেই। যাত্রাবাড়ী গিয়ে বাস পাই কিনা দেখতে হবে।’

মুগদা এলাকা থেকে আসা মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাঁদপুর যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। এখন বাসে যাব ভাবছি। আগেভাগে জানা থাকলে ভোগান্তি হতো না।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবহন পরিদর্শক হুমায়ূন আহমেদ জানান, রাতে থেকে বিভিন্ন রুটের ৩৫টি লঞ্চ সদরঘাটের পনটুনে ভিড়েছে। সকাল থেকে ১০ টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল চাঁদপুর ও ইলিশায়, একটাও ছেড়ে যায়নি। শুধু সকালে একটি লঞ্চ ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

দাবি আদায়ে কর্মসূচি চালু থাকবে বলে জানান নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব আতিকুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, ‘কর্মবিরতীতে সারাদেশের নৌযান শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন, শতভাগ শ্রমিক অংশ নিয়েছেন। আমাদের যৌক্তিকতা দাবি, দাবিগুলো মেনে নেয়া হলে আমরা কর্মসূচি তুলে নেব।’

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘লঞ্চ না চললে তাদেরও লস, আমাদেরও ক্ষতি। এখনও আমাদের মধ্যে আলাপ আলোচনা হয়নি। আমরা চাচ্ছি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।’

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘হঠাৎ করেই নৌযান শ্রমিকরা এই কর্মবিরতিতে নেমেছেন। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। লঞ্চ না চলাচল করার বিষয়টি না জানার কারণে অনেক যাত্রী বন্দরে এসে আবার ফিরে যাচ্ছেন।’

সমাধানের পথে না হাঁটলে পরিস্থিতির দায় সরকার এবং মালিককে নিতে হবে বলে জানিয়ে নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতারা দুপুর ১২ টায় বাংলাবাজারে বিক্ষোভ করে।

এতে সংগঠনের সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ন্যায়সঙ্গত দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। ২০১৬ সালের মজুরি দিয়ে বর্তমান বাজার দরে চলা সম্ভব নয়। শ্রমিকের দাবি যৌক্তিক। সরকার মালিকদের ভাষায় কথা বললে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হবে।’

শনিবার নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে অভিযোগ করে এরও নিন্দা জানানো হয় কর্মসূচিতে। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তারা।

যেসব দাবি

সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ ছাড়া নৌ শ্রমিকদের অন্য দাবিগুলো আছে, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিংপাস দেয়া, বাল্কহেডের রাত্রীকালীন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বন্দর থেকে পণ্যপরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করা, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রোতাশ্রয় নির্মাণ ও চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল করা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহের চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা।

কর্মস্থলে ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া। কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন, বন্দরগুলো থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা ১০০ ভাগ কার্যকর করার দাবিও আছে শ্রমিকদের।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-ব‌রিশালে চলবে ৩টি করে লঞ্চ
বাসের তুলনায় বেশি হারে কমল লঞ্চের ভাড়া
বরিশালে লঞ্চ শ্রমিকদের ১০ দাবি
মধ্যরাতে লঞ্চে বিভীষিকা, উদ্ধার ৭০ যাত্রী
মাঝনদীতে সন্তান প্রসব, লঞ্চে আজীবন ভাড়া ফ্রি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Negative attitudes are the cause of violence against women

‘নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের কারণ’

‘নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের কারণ’ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আলোচকরা। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে আলোচকরা বলেন, নারী নির্যাতন কোনো একক সমস্যা নয়। এটা বৈশ্বিক সমস্যা। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে। নারীর প্রতি এই সহিংসতা রোধে নতুন আইন প্রণয়ন এবং পুরোনো আইনগুলো সংস্কার ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

নারীদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। আর এটি নারীর প্রতি সহিংসতা-নারীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বাধা।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নারী অধিকার সংগঠন জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচকরা এসব কথা বলেন৷

সংবাদ সম্মেলনে আলোচকরা বলেন, নারী নির্যাতন কোনো একক সমস্যা নয়। এটা বৈশ্বিক সমস্যা। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে। নারীর প্রতি এই সহিংসতা রোধে নতুন আইন প্রণয়ন এবং পুরোনো আইনগুলো সংস্কার এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) পরিচালক নাজমা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী শুধু অক্টোবর মাসেই ৩৭১ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ জন শিশুসহ ৯১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ১২ জন শিশু ও ১০ জন নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর দুজন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ শিশুসহ ১০ জনকে ধর্ষণের পর চেষ্টা করা হয়েছে। তা ছাড়া নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটেছে ৬৩টি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বরাত দিয়ে নাজমা ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই দশ মাসে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৩০ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। আর ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। এ ছাড়া আরও ১৪১ নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় সর্বাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরপর নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নোয়াখালী জেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে হয়রানি ও নির্যাতন রোধে জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম থেকে ৭ দফা দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হলো যৌন হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করতে হবে; আইএলও কনভেনশন ১৯০ অণুসমর্থন করতে হবে; যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে; আদালতের নির্দেশনা যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সরকারি উদ্যোগে একটি তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে।

এ ছাড়াও প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও দাবি করা হয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার নিষ্পত্তি করা ও বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
নারী-শিশু নির্যাতন মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির দাবি
আদালতে যৌতুকের মামলা করেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ
কিশোরীকে প্রকাশ্যে পেটানোর আসামিরা ১ দিনেই মুক্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Suicide of a housewife suffering from dengue fever

ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’

ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’ প্রতীকী ছবি
সে বেশ কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। গায়ে প্রচণ্ড জ্বর ছিল। আমি তার জন্য দুপুরে ডাব আনতে যাই। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করি, কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি আমার স্ত্রী লোহার অ্যাঙ্গেলে ঝুলে আছে: স্বামীর বর্ণনা।

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত এক তরুণী গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। তার স্বামী দাবি করেছেন, জ্বরের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দেন ২০ বছর বয়সী কবিতা আক্তার।

রোববার দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কবিতাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বামী সোহাগ মিয়া। জানান, ছয় মাস আগে বিয়ে করেন তারা। তিন দিন হলো বাবার বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন কবিতা।

‘সে বেশ কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। গায়ে প্রচণ্ড জ্বর ছিল। আমি তার জন্য দুপুরে ডাব আনতে যাই। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করি, কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি আমার স্ত্রী লোহার অ্যাঙ্গেলে ঝুলে আছে’- ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন সোহাগ।

পরে জানালার ভেতর দিয়ে রড ঢুকিয়ে দরজা খোলা হয়। সরাসরি নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে।

সোহাগের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার কুক্রাই নয়াদি গ্রাম। তিনি খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজারের একটি বাসায় বসবাস করেন। এই বাড়িতেই নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘খিলগাঁও থেকে এক গৃহবধূর ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল মর্গে রাখা হয়েছে বিষয়টি খিলগাঁও থানাকে অবগত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২
ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে, নভেম্বরে মৃত্যু ছাড়াল ১০০
নভেম্বরে ডেঙ্গুতে এক শ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relief at Messis awakening in DU

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে মাঠে উদযাপনে টিম আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি
আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে উঠে আসতে বিকল্প ছিল না জয়ের।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, ফার্নান্দেসরা, কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতের ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বুক চিনচিন করছিল দর্শকদের। তীর্থের কাকের মতো গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

সে অপেক্ষার অবসান হয় দ্বিতীয়ার্ধে। দলপতি লিওনেল মেসির নীরবতা ভাঙানো গোলে প্রাণ ফেরে দর্শকদের। এরপর এনজো ফার্নান্দেসের দ্বিতীয় গোলে আসে স্বস্তি, যা বহাল ছিল রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের মতো প্রাণ ফেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, মুহসীন হলের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের। গভীর রাতে তাদের মুখ থেকে বের হয় চাপা অভিমান আর আনন্দের কথা।

বাঁশি বাজিয়ে, মোটরসাইকেলে শোডাউন করে, আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে প্যাঁচিয়ে, নেচে-গেয়ে মেসিদের জয় উদযাপন হয় ঢাবি ক্যাম্পাসে। অনেকে স্লোগান দিতে দিতে ফেরেন হল আর বাসায়।

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

এমন মুহূর্তে কথা হয় কিছু আর্জেন্টিনাপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের একজন ঢাবি ছাত্র নাসিমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। তারপরও জয় পেয়েছি দেখে ভালো লাগছে।

‘প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। যখন খেলা দেখছিলাম, তখন প্রচণ্ড রাগ উঠছিল। কারণ আর্জেন্টিনা এত বাজে খেলবে, সেটা মানতে পারছিলাম না। তাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’

আরেক ছাত্র সিদ্দিক ফারুক বলেন, ‘প্রথমার্ধে মন খারাপ থাকলেও মেক্সিকোর এত ডিফেন্সের ভেতর মেসির গোল এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা অসাধারণ ছিল, তবে আমাদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করা দরকার। এই খেলা দিয়ে আমরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারি না।’

আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।

‘আশা করছি পোল্যান্ডের ম্যাচে আমরা জিতব। আমি অনেক বেশি করে চাইছি, কাতার বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হোক।’

এসইএস শাহিনের কাছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। এতে জয়ের পর তার ভাষ্য, ‘আর্জেন্টিনার সামনে দুইটা ফাইনাল ছিল। একটাতে আজ জিতেছে; আরেকটা আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সেটাতেও জিতবে বলে আশা আছে, তবে দলের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কেউই ফর্মে নাই। তারপরও আমি আশা ছাড়তে চাই না।’

আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত এ জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা গেছে ছাত্রীদের হলে। হল গেটের ভেতর থেকে ‘মেসি মেসি’ স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রীদের।

প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় দেখবে বলে অনেক ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢোকেননি। খেলা শেষে তারা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়েছেন।

এমনই একজন তাসনুভা জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টায় হল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেই। সবার সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাটাই অন্যরকম। আর সেটা যদি হয় প্রিয় দলের, তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়।

‘তাই আজকে খেলা শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই গল্প, আড্ডা করতে করতে রাত কাটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেসি জিতেছে; অনেক খুশি। এবার অন্তত বিশ্বকাপটা মেসির হোক।’

আরও পড়ুন:
চাপ সামলে জয় অস্ট্রেলিয়ার
আর্জেন্টিনার সামনে যেসব সমীকরণ
সৌদি ফুটবলারদের রোলস রয়েস পাওয়ার খবরটি ভুয়া
মুহিন-ঝিলিকের ‘ছুটছে মেসি ছুটছে নেইমার’
সেই মাঠে আবার নামছে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

p
উপরে