× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Khaleda apologizes to Zia A League to BNP leader
hear-news
player
google_news print-icon

খালেদা জিয়ার কাছে মাফ চান: আ.লীগকে বিএনপি নেতা

খালেদা-জিয়ার-কাছে-মাফ-চান-আলীগকে-বিএনপি-নেতা
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ছবি: নিউজবাংলা
‘এত কেন ভয়? চালাতেই যদি না পারেন তাহলে রাতের অন্ধকারে খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে মাফ চান। তাকে বলুন, অনেক অন্যায় করেছি মাফ করে দেন এবং দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য আসুন একসঙ্গে কাজ করি।’

আওয়ামী লীগকে ‘ভালো হয়ে যাওয়ার’ পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমা পাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দলটির নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ভালো না হলে কীভাবে ভালো করতে হয়, সেটিও জানা আছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বিরোধী দলটির এই যুগ্ম মহাসচিব।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে আলাল বলেন, ‘ভালো হয়ে যান। এখনও সময় আছে। ভালো না হলে ভালো কীভাবে করতে হয় বাংলাদেশের মানুষ তা জানে।’

সরকার বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভয়ে কাঁপছে বলেও মনে করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘এত কেন ভয়? চালাতেই যদি না পারেন তাহলে রাতের অন্ধকারে খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে মাফ চান। তাকে বলুন, অনেক অন্যায় করেছি মাফ করে দেন এবং দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য আসুন একসঙ্গে কাজ করি।’

বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেয়ার অভিযোগও করেন আলাল। বলেন, ‘আট হাজার মাইল দূরে রয়েছে তারেক রহমান। তাকে নিয়েও এত ভয়। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতারা তারেক তারেক বলতে বেহুঁশ হয়ে যায়।

‘আতঙ্ক এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে কোথায় বসে তারেক রহমান একটি শব্দ করলেন বা হাঁচি দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে এখানে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়। গণভবনের ফ্লোর কাঁপে, বঙ্গভবনের চেয়ার কাঁপে।’

বিএনপির কর্মসূচিতে ব্যাপক লোকসমাগমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় যেতে নয়, মানুষের কষ্ট কমাতে আন্দোলনে নেমেছে। দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় ঊর্ধগতি, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য কমানোর দাবিতে আমাদের এই কর্মসূচি চলছে। আমরা তো বলিনি বিএনপি এই মুহূর্তে ক্ষমতায় যাবে। আমরা তো বলিনি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে কিংবা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।

‘আমরা তো মানুষের কষ্টের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। সেই কষ্ট মানুষ অনুভব করতে পেরেছে বলেই বিএনপির সমাবেশগুলোতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

‘আপনাদের তিন দফার ক্ষমতার দুঃশাসনের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়। আর প্রকৃত প্রমাণ হচ্ছে সমাবেশগুলো। মানুষের বেঁচে থাকার যে আকুতি সেই জায়গায় কোনো বিভেদ নাই সমাবেশগুলোতে।’

এক বছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কীভাবে হয়?

এই প্রশ্ন রেখে পরে আলাল নিজেই কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ব্যাংক মালিক ও পোশাক কারখানা মালিকদের যোগসাজশে এই টাকা লোপাট হয়েছে। আর তারা আওয়ামী লীগের তহবিলে সবচেয়ে বড় জোগানদাতা।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘গার্মেন্টস যারা মালিক তারা আবার একই সঙ্গে ব্যাংকের মালিক, ইন্ডাস্ট্রিজের যারা মালিক তারা আবার একই সঙ্গে ব্যাংকের মালিক। তারাই আবার আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় নেতা, আওয়ামী লীগের তহবিলের তারাই সবচেয়ে বেশি টাকা দেয়। তারপরেও এই অর্থবছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কেন?’

তিনি বলেন, ‘যারা ব্যাংকের টাকা মেরে খেয়েছেন, মানুষের গচ্ছিত সঞ্চয়ের টাকা মেরে খেয়েছেন; সাধারণ মানুষের রক্ত শোষণ করেছেন আপনারা। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম খালেদা জিয়া।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আনিস আহমেদ, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ূন আহমেদ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির সমাবেশ শেষ হতেই ফরিদপুরে বিভেদ ঘুচল বাস-নছিমনের
বিএনপি আন্দোলন করছে জনগণের হয়ে: নোমান
সরকার পতন না করে আর ঘরে ফিরব না: ফখরুল
তারেক রহমানের নেতৃত্বে হবে জাতীয় সরকার: ফখরুল
ফরিদপুরে বিএনপির সমাবেশে বাধার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে বিক্ষোভ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
21 injured including gunshots in Nayapaltan clash

ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন সংঘর্ষে আহত ২১ জন

ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন সংঘর্ষে আহত ২১ জন বুধবার নয়াপল্টনে সংঘর্ষে পুলিশসহ বিএনপির বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হন। ছবি: নিউজবাংলা
পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, পল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২১ জন ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে পুলিশসহ তিন জন ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অন্তত ২১ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারের ভয়ে তাদের অধিকাংশই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া বুধবার রাতে এসব তথ্য জানান।

ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদেরকে ভর্তি করে নিয়েছেন তাদের একজন শামীম আহমেদ। তার বাম পা, পিঠ এবং মুখমণ্ডলে শটগানের অসংখ্য গুলির আঘাত রয়েছে। তিনি রূপনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব।

চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ মনির হোসেন রূপনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী। তার হাত, বাম পা ও পিঠে অসংখ্য গুলির চিহ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ সদস্য কনস্টেবল মাহফুজ ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপি কর্মীদের ছোড়া ইটে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘পল্টনে বিএনপি কর্মীদের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা ২১ জনের মধ্যে পুলিশসহ তিন জন ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।’

এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষের পর ঢাকা মেডিক্যালে ১৮ জনের মতো আহত ব্যক্তি আসেন; যাদের প্রায় সবাই গুলিবিদ্ধ।

বুধবার বিকেলের দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে নিহত হন মকবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

নিহত মকবুল হোসেনের বড় ভাই আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তার ভাই বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে মকবুল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন তার স্ত্রী হালিমা বেগম।

এদিকে সংঘর্ষের পর দলীয় কার্যালয় থেকে পরোয়ানা থাকায় বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ১০ ডিসেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ জানান, বিএনপি কার্যালয় থেকে ৩০০ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১৫টি ককটেল উদ্ধারের দাবি করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পাশের রাস্তা ধরে পুলিশ হঠাৎ বাঁশি বাজিয়ে টিয়ার শেল ছুড়ে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করা নেতা-কর্মীদের দিকে এগিয়ে আসে। এ পর্যায়ে দলটির নেতা-কর্মীরা পিছু হটেন। মূল সড়কের পাশের অলি-গলিতেও লাঠিপেটা করে পুলিশ।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টন এলাকায় একাধিক সাঁজোয়া যান, প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০ তারিখের সমাবেশের এখনও চার-পাঁচ দিন বাকি আছে। কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা আজকে নয়াপল্টনে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-মিটিং শুরু করেছিল।

‘আমরা তাদের এসব বন্ধ করতে বলায় তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এরপর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিএনপি কর্মীদের চারপাশ থেকে হামলার কারণে বাড়তি ফোর্স আনাই। বাড়তি সতর্কতার জন্য সোয়াট সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করেন।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির কার্যালয় থেকে খিচুড়ি জব্দ
পল্টনে হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি আইনজীবীদের
সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নয়াপল্টন ছাড়লেন ফখরুল
ভাইয়ের দাবি নিহত মকবুল বিএনপি সমর্থক, স্ত্রীর ‘না’
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP called for protest

বিক্ষোভের ডাক দিল বিএনপি

বিক্ষোভের ডাক দিল বিএনপি   কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভে ডেকেছে বিএনপি। ছবি: নিউজবাংলা
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান এবং দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মহানগর ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ ডেকেছে বিএনপি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান এবং দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মহানগর ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ ডেকেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে এ তথ্য জানানো হয় গণমাধ্যমে।

এতে বলা হয়, বিনা উসকানিতে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণ-সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের অহেতুক, অযাচিত ও কাপুরুষোচিত গুলিবর্ষণ, হামলা এবং পুলিশের গুলিতে পল্লবী থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মকবুল হোসেনের মৃত্যু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, দলের প্রচার সম্পাদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং আহত করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে।

বিক্ষোভের ডাক দিল বিএনপি

রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। গ্রেপ্তার হন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আটক করা হয় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ অন্তত ৩০০ নেতা-কর্মী।

এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার রাত ৮টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন দলের স্থায়ী কমিটির ১০ সদস্য।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম আলমগীর, সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর অংশগ্রহণে সভায় বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়।

আরও পড়ুন:
সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নয়াপল্টন ছাড়লেন ফখরুল
ভাইয়ের দাবি নিহত মকবুল বিএনপি সমর্থক, স্ত্রীর ‘না’
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই: ফখরুল
নয়াপল্টনে পুলিশি হামলার নিন্দা বাম জোটের
১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Discussion in DU on the occasion of the founding anniversary of Revolutionary Student Alliance

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাবিতে আলোচনা

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাবিতে আলোচনা বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার লেকচার হলে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আনু মুহাম্মদ। ছবি: নিউজবাংলা
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের খাদ্য উৎপাদন ১৯৭৪ সালের তুলনায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। সে হিসাবে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হওয়ার কথা না। অথচ প্রধানমন্ত্রী নিজেই দুর্ভিক্ষের কথা বলেছেন। মুদ্রাস্ফীতি এবং জিনিসের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। সে কারণে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।’

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘উন্নয়ন ও দুর্ভিক্ষের রাজনীতি: কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার লেকচার হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

সভায় আলোচক ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, লেখক-গবেষক ড. মাহা মির্জা ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জাবির আহমেদ জুবেলের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন ঢাবি শাখার সদস্য সাইফ আল রিদওয়ান।

আলোচনায় আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘১৯৪৩ ও ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষে খাদ্য উৎপাদনে কোনো ঘাটতি ছিল না। সে সময় সাপ্লাই চেইন ভেঙে গিয়েছিল এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। কৃত্রিম সংকট তথা গুদামজাতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী ছিল।

‘বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন ১৯৭৪ সালের তুলনায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। সে হিসাবে দেশে খাদ্য সংকট তথা দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হওয়ার কথা না। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই দুর্ভিক্ষের কথা বলেছেন। মুদ্রাস্ফীতি এবং জিনিসের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। সে কারণে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে ৬৫ ভাগ মানুষ কখনো না কখনো অনাহারে থাকছে। দেশে একটা নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। বাংলাদেশের ক্যাপিটালিস্ট শ্রেণী গত কয়েক দশকে সংঘবদ্ধ হয়েছে। তারা এদেশকে মুনাফা ও সম্পদ সংগ্রহের স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের কাছে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বলে কিছু নেই।’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার এতো বছর পরও এদেশে পাবলিক ইন্টারেস্টের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কিছুরই উন্নতি হয়নি। সরকার মেট্রোরেল, ছয় লেন, আট লেনে বেশি আগ্রহী। কেননা এগুলোতে লুটপাট চালানো যায়। কিন্তু রেলওয়ের উন্নতিতে তাদের কোনো মনোযোগ নেই। গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল মার্কেট তথা আইএমএফ, ডব্লিউএইচও-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটা আশীর্বাদ। এদের এমন একটা ব্যবস্থা দরকার যেখানে কোনো ট্রান্সপারেন্সি থাকবে না।’

ড. মাহা মির্জা বলেন, ‘দুর্ভিক্ষ একদিনে হয় না। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় আজকের এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতিবিদরা এগুলো নিয়ে কখনও কথা বলেননি। যা কিছু ঘটছে এগুলোর পেছনে আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট সংগঠনের ম্যানিপুলেটেড ইনফরমেশন ও মিডিয়া ট্রায়াল সবচেয়ে বেশি দায়ী।’

সাদিকুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের দাম লাগামহীন। তবু তারা ক্ষমতা থেকে নামবে না। ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকায় যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাবি শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
ঢাকা মহানগরে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fakhrul left Nayapaltan after 3 and a half hours

সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নয়াপল্টন ছাড়লেন ফখরুল

সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নয়াপল্টন ছাড়লেন ফখরুল রাত ৮টার পর দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ফিরে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার ডিএমপি কমিশনারকে কথা দিয়েছি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। আশা করেছিলাম, আজকে আমরা ডিএমপির কাছ থেকে সমাবেশের অনুমতি পাব। সেই আশায় আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলাম।’

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবস্থান করে রাত ৮টার পর নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয় ছেড়ে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নয়াপল্টন ছাড়ার আগে আগামী ১০ ডিসেম্বর কোথায় সমবেশ হবে, সে বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘ব্যাগে করে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি পুলিশ (বিএনপির) কার্যালয়ের ভিতরে নিয়ে গেছে।’

বুধবার বিকেলে পল্টনে পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের খবর শুনে কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি কার্যালয়ের ভেতর প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন; কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি। এরপরই তিনি কার্যালয়ের গেটের বাইরে ফুটপাতে বসে পড়েন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আজ আমি যাব না, এখানেই থাকব। হোম মিনিস্টার আমাকে এখানে আসতে বলেছেন। তারপর আসার পরও আমাকে ঢুকতে (দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে) দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এটা জঘন্য অন্যায়। জনগণের ওপর নির্যাতন।’

সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে অবস্থানের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

এ সময় ফখরুল দাবি করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার ডিএমপি কমিশনারকে কথা দিয়েছি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। আশা করেছিলাম, আজকে আমরা ডিএমপির কাছ থেকে সমাবেশের অনুমতি পাব। সেই আশায় আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলাম।

‘কিন্তু সরকার আমাদের সঙ্গে বিট্রে করেছে। তারা সশস্ত্রভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি দলের কার্যালয়ে প্রবেশ করার জন্য সবার সঙ্গে কথা বলেছি। কমিশনার, হোম মিনিস্টার.. কিন্তু কথা বলে লাভ নেই। ইনফ্যাক্ট এখানে কোনো সরকারই নেই।’

আরও পড়ুন:
দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু
রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prince will handle the responsibility of Rizvi

রিজভীর দায়িত্ব সামলাবেন প্রিন্স

রিজভীর দায়িত্ব সামলাবেন প্রিন্স বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ফাইল ছবি
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি (রিজভী) মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে (প্রিন্স) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ায় দলটির দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার বিকেলে দলীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি (রিজভী) মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে (প্রিন্স) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

আশা করি আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

সমাবেশস্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকে।

পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, বিএনপির কাজ বিএনপি করবে- দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করে। আটক করা হয় আরও কয়েকজনকে।

আরও পড়ুন:
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই: ফখরুল
নয়াপল্টনে পুলিশি হামলার নিন্দা বাম জোটের
১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
15 cocktails recovered from BNP office DB

বিএনপির ৩০০ নেতা-কর্মী আটক, ককটেল নিষ্ক্রিয়

বিএনপির ৩০০ নেতা-কর্মী আটক, ককটেল নিষ্ক্রিয় বিএনপি কার্যালয় থেকে উদ্ধার করা ককটেল নিষ্ক্রিয় করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ সঙ্গে করে ককটেল নিয়ে গেছে- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ককটেল কোথা থেকে এসেছে তা সাংবাদিকরা নিজ চোখেই দেখেছেন। এখন ওনারা তো কত কিছুই বলবেন।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশ এলাকা থেকে দলটির ৩০০ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। একই সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১৫টি ককটেল উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ বুধবার রাতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাজা ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে নয়াপল্টন সড়কের ওপর দুই দফায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

‘এর আগে দুপুরে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালায় বিএনপির সমর্থকরা। এতে অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

তিনি বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল ডিএমপি। ১০ তারিখ আসতে এখনও ৩-৪ দিন বাকি। তারা আজ সকালেই নয়াপল্টনে লোক জড়ো করে রান্নার আয়োজন করে মিটিং শুরু করেছে। এতে রাস্তা বন্ধ হয়ে সাধারণের চলাচলে সমস্যা হয়েছে।

‘পুলিশ রাস্তা ছেড়ে দিতে বললে তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর আমরা তাদের দমন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা তাদের কার্যালয়ে অভিযান চালাতে গিয়ে ১৫টি ককটেল উদ্ধার করেছি। সে সঙ্গে নগদ দুই লাখ টাকা, ১৬০ বস্তা চাল, খিচুড়িসহ রান্নার অনেক সরঞ্জাম জব্দ করেছি। এর পাশাপাশি তাদের কার্যালয় ও আশপাশ থেকে ৩০০ জন বিএনপি সমর্থককে আমরা আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিএনপির ৩০০ নেতা-কর্মী আটক, ককটেল নিষ্ক্রিয়
নয়াপল্টনে অভিযানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা

ডিবিপ্রধান বলেন, ‘তাদের এই আয়োজন দেখে আমার বুঝলাম যে তারা এখানে বিপুলসংখ্যক লোক সমাগম করে অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। এজন্য শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হলেও নয়াপল্টনের রাস্তায় এমন জমায়েত করতে চাচ্ছিল। পাশাপাশি তাদের কাছে মজুদ ককটেল পাওয়ায় প্রমাণ হল তারা সমাবেশের নামে নাশকতার পাঁয়তারা করছিল।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন যে এসব ককটেল পুলিশই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ককটেল কোথা থেকে এসেছে তা আপনারা সাংবাদিকরা নিজ চোখেই দেখেছেন; এখন ওনারা তো কত কিছুই বলবেন।’

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে পুলিশি হামলার নিন্দা বাম জোটের
১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু
রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Khichuri seized from BNP office

বিএনপির কার্যালয় থেকে খিচুড়ি জব্দ

বিএনপির কার্যালয় থেকে খিচুড়ি জব্দ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর জব্দ করা হয় কয়েক ডেকচি খিচুড়ি। ছবি: নিউজবাংলা
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সংঘর্ষ শেষে পুলিশ নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালানোর সময় রান্নার চাল-ডাল, তেল, মশলা, পানি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় রান্না করা খিচুড়িও। সেগুলো গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায় বাহিনীটি। এগুলো দিয়ে কী করা হবে, সে প্রশ্নের জবাব আপাতত মেলেনি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে সংঘর্ষের পর বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বেশ কয়েকজনকে আটকের পাশাপাশি ককটেল উদ্ধার, এক ট্রাক চালসহ খাদ্য উপকরণ এমনকি কয়েক ডেকচি খিচুড়ি জব্দ করেছে পুলিশ।

জব্দ করা এসব খাদ্য ও খাদ্যপণ্য নিয়ে কী করা, হবে, সে প্রশ্নের জবাব অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আগামী শনিবার ঢাকায় দলটির বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে গত কয়েক দিন ধরে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান করছিলেন। সময় যত গড়াচ্ছিল, নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও বাড়ছিল তত। ঢাকার বাইরে থেকে আসতে থাকা নেতা-কর্মীদের খাওয়াদাওয়া নিশ্চিতের ব্যবস্থাও করেছিল বিএনপি। সেজন্য আয়োজন করা হয় রান্নারও।

বিএনপির কার্যালয় থেকে খিচুড়ি জব্দ
নয়াপল্টন থেকে পুলিশ জব্দ করে ট্রাকভর্তি চাল-ডাল ও পানিসহ বিভিন্ন মালামাল। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ অভিযান চালানোর সময় রান্নার চাল-ডাল, তেল, মশলা, পানি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় রান্না করা খিচুড়িও। সেগুলো গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, তাদের অনুমতি ছাড়াই নয়াপল্টনে সমাবেশ করার চেষ্টা করছিল বিএনপি। এ জন্যই এগুলো মজুদ করা হচ্ছিল।

বাহিনীটি জানায়, পার্টি অফিসের সামনে থেকে এক ট্রাক চালের বস্তা ও পার্টি অফিসের নিচতলার অস্থায়ী রান্নাঘর থেকে খিচুড়ি জব্দ করা হয়।

জানতে চাইলে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার হায়াতুল ইসলাম বলেন, ‘তারা গত কয়েকদিন ধরেই এখানে কর্মী জমায়েত করে রান্নার আয়োজন করে খাওয়াচ্ছিল। কিন্তু আজকে যে আয়োজন দেখলাম তাতে স্পষ্ট তারা আমাদের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও নয়াপল্টনেই সমাবেশের প্রস্ততি নিচ্ছিল।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ থেখে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীকে জমায়েতের ঘোষণা দেয়।

তবে এই সমাবেশ কোথায় হবে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সেদিন জমায়েত হতে চায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, যেখানে যেতে আপত্তি আছে দলটির।

নয়াপল্টন না পেলে আরামবাগে অনুমতি দিতে বিএনপির মৌখিক অনুরোধ মৌখিকভাবেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছে, গ্রহণযোগ্য বিকল্প স্থানের প্রস্তাব দেয়া না হলে সমাবেশ হবে নয়াপল্টনেই।

দুপুরের আগে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ঘোষণা দেন, তাদের সমাবেশ হবে নয়াপল্টনেই। পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, তাদের কাজ তারা করবেন।

আগের রাত থেকেই সেই এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিতে থাকেন। দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে নেতাদের বক্তব্য চলছিল সকাল ১০টা থেকেই। সেই সঙ্গে বিতরণ করা হচ্ছিল লিফলেট। তাতে শনিবারের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল।

দুপুরের পর থেকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, আইন অমান্য করলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করলে নিরাপত্তার দায়িত্বও নেন তিনি।

এরপর বিএনপি মহাসচি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ করতে চান। এর ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকেই।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে পুলিশি হামলার নিন্দা বাম জোটের
১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস

মন্তব্য

p
উপরে