× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
World Diabetes Day celebrated in Comilla
hear-news
player
google_news print-icon

কুমিল্লায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উদযাপিত

কুমিল্লায়-বিশ্ব-ডায়াবেটিস-দিবস-উদযাপিত
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে আজ সকাল ৮টায় নগরীর টাউন হল থেকে একটি শোভাযাত্রা সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডায়াবেটিক হাসপাতালে এসে শেষ হয়।

‘ভবিষ্যতে নিজেকে সুরক্ষায় ডায়াবেটিসকে জানুন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কুমিল্লায় উদযাপিত হলো বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস।

এ উপলক্ষে কুমিল্লা ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে আজ সকাল ৮টায় নগরীর টাউন হল থেকে একটি শোভাযাত্রা সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডায়াবেটিক হাসপাতালে এসে শেষ হয়।

ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন কুমিল্লা ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মো. কোরেশী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার ফটিক, প্রফেসর ডা. অজিত কুমার পাল, ডা. শাহ আলম প্রমূখ।

অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার ফটিক বলেন, ‘আমার ১৭ বছর ধরে ডায়াবেটিস। এখনো সুস্থ আছি। কারণ আমি নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করি।’

ডা. অজিত কুমার পাল বলেন, ‘ডায়াবেটিস দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে সবাইকে সচেতন করা। এ বছর ডায়াবেটিস দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে শিক্ষা। ডায়াবেটিস শিক্ষার ওপর এবার আমরা গুরত্ব দিচ্ছি। যদি সবাইকে সচেতন করতে পারি তাহলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
করোনায় বেড়েছে ডায়াবেটিস রোগীদের বিষণ্নতা
করোনায় বাড়ছে শিশুর ডায়াবেটিস
ইনসুলিনের বিকল্প পেলেন বিজ্ঞানীরা
‘উঁচু ভবন করলে বাড়বে ডায়াবেটিস’
চার বছরে ডায়াবেটিস রোগী বেড়ে দ্বিগুণের শঙ্কা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
3 deaths in dengue 523 people

ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৫২৩ জন

ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৫২৩ জন
নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ২৭৭ ও ঢাকার বাইরে ২৪৬ জন রোগী রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৯৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫২৩ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার এই হিসাব জানানো হয়।

নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ২৭৭ ও ঢাকার বাইরে ২৪৬ জন রোগী রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৯৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ১ হাজার ১২৯ ও ঢাকার বাইরে ৮০০ জন।

বছরের শুরু থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৬ হাজার ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৫ হাজার ৮০৫ ও ঢাকার বাইরে সারা দেশের হাসপাতালে ২০ হাজার ৩২৫ জন রোগী ভর্তি হন।

অক্টোবর মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, যা চলতি বছরে মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। এ মাসে মোট মৃত্যু ছিল ৮৬, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ। আর নভেম্বরের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৫৮৩ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৩৭৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৪ হাজার ২০৮ ও ঢাকার বাইরে ১৯ হাজার ১৬৭ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’
ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২
ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে, নভেম্বরে মৃত্যু ছাড়াল ১০০
নভেম্বরে ডেঙ্গুতে এক শ মৃত্যু
ডেঙ্গুতে ২৩ দিনে ৯৭ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 more deaths detected in dengue 462

ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২

ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২ প্রতীকী ছবি
নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ২৪১ ও ঢাকার বাইরে ২৪৯ জন রোগী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ১ হাজার ১৭১ ও ঢাকার বাইরে ৮১৭ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬২ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার এই হিসাব জানানো হয়েছে।

নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ২৪১ ও ঢাকার বাইরে ২৪৯ জন রোগী রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৯৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ১ হাজার ১৭১ ও ঢাকার বাইরে ৮১৭ জন।

বছরের শুরু থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৫ হাজার ৬০৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৫ হাজার ৫২৮ ও ঢাকার বাইরে সারা দেশের হাসপাতালে ২০ হাজার ৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

অক্টোবর মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, যা চলতি বছরে মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। এ মাসে মোট মৃত্যু ছিল ৮৬, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ। আর নভেম্বরের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৫৮৩ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৩৭৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৪ হাজার ২০৮ ও ঢাকার বাইরে ১৯ হাজার ১৬৭ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে, নভেম্বরে মৃত্যু ছাড়াল ১০০
নভেম্বরে ডেঙ্গুতে এক শ মৃত্যু
ডেঙ্গুতে ২৩ দিনে ৯৭ মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৫১৫
ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Due to lack of radiologists in Lakshnipur hospitals patients suffer from X rays

লক্ষ্ণীপুরের হাসপাতালে এক্স-রে করাতে ভোগান্তি

লক্ষ্ণীপুরের হাসপাতালে এক্স-রে করাতে ভোগান্তি লক্ষ্ণীপুরের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে টেকনিশিয়ান নেই। ছবি: নিউজবাংলা
রায়পুর, রামগতি, কমলনগর ও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের এক্স-রে মেশিন রয়েছে। তবে রেডিওলজিস্ট নেই। আউটসোসিং টেকনিশিয়ান নিয়ে কোনোমতে এক্স-রে করানো হচ্ছে।

লক্ষ্ণীপুর ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে এক্স-রে মেশিন থাকলেও রেডিওলজিস্ট না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। সদর হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট থাকলেও এক্স-রে রির্পোট নিয়ে রয়েছে নানান প্রশ্ন।

শনিবার সকালে সদর হাসপাতালে ভাঙ্গা হাত নিয়ে এক্স-রে করাতে আসেন মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, সকাল ৯টা ১২ টা পর্যন্ত এক্স-রে রুমের সামনে বসে ছিলাম। রেডিওলজিস্ট না থাকায় এক্স-রে করাতে পারিনি। পরে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে করাতে বাধ্য হয়েছি।

রায়পুর, রামগতি, কমলনগর ও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের এক্স-রে মেশিন রয়েছে। তবে রেডিওলজিস্ট নেই। আউটসোসিং টেকনিশিয়ান নিয়ে কোনোমতে এক্স-রে করানো হচ্ছে। এতে করে সঠিক রিপোর্ট না পাওয়ার কথা বলছেন রোগীরা।

এ কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। এসব বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোসিংয়ে কাজ করা টেকনিশিয়ানের সাথে রয়েছে সখ্যতা। এ কারনে কমিশন নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে না করিয়ে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ফলে খরচ বাড়ে কয়েকগুন।

জেলা বেসরকারি প্যাথলজি মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম বাসার জানান, প্রতিদিন হাসপাতালগুলোর বর্হিবিভাগে দেড় থেকে দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রোগীর এক্স-রে করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট না থাকায় রোগীরা এক্স-রে করাতে আমাদের কাছে চলে আসেন।

সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবির বলেন, প্রতিমাসেই জনবল চেয়ে তালিকা পাঠানো হয়। টেকনিশিয়ান না থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো অসুবিধা নাই।

আরও পড়ুন:
৭ মাস কোমায় থাকা সাফিয়ার সন্তান প্রসব
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে কিশোরের মৃত্যু
গর্ভে শিশুর হৃদযন্ত্রে ত্রুটি সারানো কতটা সম্ভব?
লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য আর ছুটতে হবে না বিদেশ
চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ ও ঘরোয়া চিকিৎসা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Special discount in Bangkok Hospital for Bangladeshis

বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড়

বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড় শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের মাহমুদ সেমিনার হলে আয়োজিত ‘মর্ডান মেডিক্যাল টেকনলোজি অফ ব্যাংকক হসপিটালবিষয়ক প্রেস ব্রিফিং। ছবি: নিউজবাংলা
ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল বলেন, ‘আমাদের হসপিটালে রেডিয়েশনের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করা হয়, যেখানে অপারেশন লাগে না। তিন দিন পর রোগী বাড়ি যেতে পারেন। তাছাড়া উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে যেকোনো রোগ চিহ্নিত করা হয়।’

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অস্ত্রোপচার ছাড়াই টিউমারের চিকিৎসা, ক্যানসার ও হৃদরোগ সারানোর কথাও বলা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের মাহমুদ সেমিনার হলে আয়োজিত ‘মর্ডান মেডিক্যাল টেকনলোজি অফ ব্যাংকক হসপিটালবিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হসপিটালে রেডিয়েশনের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করা হয়, যেখানে অপারেশন লাগে না। তিন দিন পর রোগী বাড়ি যেতে পারেন। তাছাড়া উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে যেকোনো রোগ চিহ্নিত করা হয়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে থাই অ্যাম্বাসেডর মাখওয়াদি সুমিতমোর বলেন, ‘ব্যাংকক হসপিটাল কোভিড মহামারির মধ্যেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ সব দেশের জন্য, যারা ব্যাংকক হসপিটালে চিকিৎসা নিতে আসবেন সবাইকে আমরা উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে তাদের সেবাদান করব। এর প্রসার আরও বাড়াতে চাই। মেডিক্যাল সার্ভিসসংক্রান্ত যেকোনো সহযোগিতা করতে ব্যাংকক হসপিটাল প্রস্তুত।’

বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল আরও বলেন, ‘ব্যাংকক হসপিটাল ৫০ বছর ধরে সেবাদান করে আসছে। থাইল্যান্ডের বাইরেও আমাদের হসপিটাল আছে। মেডিক্যাল সংক্রান্ত যেকোনো চেকআপ এবং চিকিৎসায় অত্যাধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় যেগুলো অনেক ব্যবয়বহুল। তবে ব্যাংকক হসপিটাল উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে এই সেবাগুলো কম খরচে দিচ্ছে।’

‘এখন খাবারের অনিয়ম, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য হার্টের রোগ, ক্যানসার এই রোগগুলো বাড়ছে। টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা খুব সহজেই এগুলো চিহ্নিত করতে পারি। ডাক্তার এবং স্পেশালিষ্ট অ্যাডভান্স হচ্ছে। একটা সময় বলা হতো ‘ক্যানসার হ্যাজ নো অ্যান্সার। কিন্তু এখন আমরা বলি, ক্যানসার হ্যাজ সাম অ্যান্সার।

তিনি বলেন, ‘আমরা হার্ট ডিজিস এবং ক্যানসারের জন্য উন্নত টেকনলোজি ব্যবহার করছি।

‘করোনারি হার্ট ডিজিজ যেটা পুরুষদের বেশি হলেও এখন নারীদেরও হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকও সম্পর্কিত বিষয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়া। ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার এগুলোর কারণে হার্ট ডিজিজ বাড়ে। আমরা এগুলোর জন্য তিনটি মাধ্যমে – টেকনলোজি, দক্ষ টেকনেশিয়ান ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমওয়ার্ক- কাজ করছি।

প্রতিটি রোগের জন্যই এই তিনটার প্রয়োগ সঠিকভাবে করে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। এছাড়া থাইল্যান্ডে নার্সিং কেয়ার খুবই উন্নত এবং আন্তরিক। তারা তাদের টিমওয়ার্কের মাধ্যমে উন্নত সেবা দিয়ে আসছে।

গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে শক্তিরঞ্জন বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট রয়েছে। সেটা কোন ধরনের কেস সেটার ওপর ভিত্তি করে ছাড় দেয়া হয়। আমাদের স্পেশাল এক্সরে রয়েছে। এবং সব কিছুই উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. নীলাঞ্জন সেন, ব্যাংকক হার্ট হসপিটালের ক্রিয়াংকাই হেংগুসামি, ডিরেক্টর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর রাফ ক্রিউয়ার এবং আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ২২ কোটি টাকার চিকিৎসা পেল রাইয়ান
‘নার্সের ভুলে’ রোগীর মৃত্যু
ভুল অপারেশনে বিউটির দুঃসহ এক বছর
ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর-সংঘর্ষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
12 people are sick after drinking tea at the wedding house

চা পাতার বদলে কীটনাশক, ১২ জন হাসপাতালে

চা পাতার বদলে কীটনাশক, ১২ জন হাসপাতালে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যায় চা পান করে অসুস্থদের মধ্যে সাতজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, চা বানানোর সময় ভুলে পাতার বদলে এর মতো দেখতে কীটনাশক দেয়া হয়। সেই চা পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভুলে কীটনাশক মেশানো চা পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ১২ জন।

উপজেলার শ্রীরামপুরে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিয়েবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ওই ১২ জনের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পাঁচজন। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, চা বানানোর সময় ভুলে পাতার বদলে এর মতো দেখতে কীটনাশক দেয়া হয়। সেই চা পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিয়েবাড়ির কনেপক্ষের কয়েকজন জানান, শ্রীরামপুরের রফিকুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই উপজেলার পানবাড়ি এলাকার আবদুস ছালামের ছেলে মো. রিপন আলীর বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার দিনভর চলে রান্নার কাজ। রান্নার ফাঁকে চায়ের আয়োজন করা হয়। সেই চা পান করে মেয়েপক্ষের ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন:
রাসায়নিক কারখানার নির্গত গ্যাসে ৭ জন অসুস্থ
ইফতারি খেয়ে বিচারকসহ অসুস্থ ৩০, কারাগারে ৩
খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি, বাস্তবতা ও বিএনপির আন্দোলন
ঠান্ডা পানিতে গোসল অসুস্থতা ‘কমায়’
সুস্থ হয়ে বনে ফিরে গেল বন্য হাতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Betel nut lovers are suffering from complicated diseases by drinking betel nut in rotten water

পচা পানিতে সুপারি মজিয়ে বিক্রি, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা

পচা পানিতে সুপারি মজিয়ে বিক্রি, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা ডোবায় মজানো হচ্ছে কাঁচা সুপারি। ছবি: নিউজবাংলা
এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ডোবা-নালার পচা পানিতে প্লাস্টিকের বস্তায় করে কাঁচা সুপারি পচিয়ে নিচ্ছেন। সেই সুপারিকে আকর্ষণীয় করতে মেশাচ্ছেন বিষাক্ত হাইড্রোস কেমিক্যাল।

ডোবা-নালার বদ্ধ পচা পানিতে কাঁচা সুপারি মজিয়ে তাতে বিষাক্ত রাসায়নিক হাইড্রোস মিশিয়ে বাজারজাত করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এই সুপারি খেয়ে নানা ধরনের পেটের অসুখসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির শঙ্কা দেখছেন চিকিৎসকরা।

দেশের সীমান্ত অঞ্চল পঞ্চগড় জেলা। এ জেলায় প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন জাতের সুপারি উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হয়ে থাকে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

সারা বছর সুপারি বেচাকেনার ধুম লেগে থাকে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। ঐতিহ্যগত কারণে এ জেলার ৮০ শতাংশ মানুষ মজা সুপারিতে আসক্ত।

অনেক আগ থেকে স্থানীয় লোকজন কাঁচা সুপারি মাটির নিচে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ৬ মাস পর্যন্ত পুঁতে রাখতেন। এ-গুলোই মজা সুপারি হিসেবে পরিচিত। কাঁচা সুপারির চেয়ে এর বাজারমূল্য বেশি। যুগ যুগ ধরে এই সুপারি খাওয়ার চল এই জেলায়।

কিন্তু কয়েক বছর ধরে এসেছে সুপারি মজানোর নতুন পদ্ধতি। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ডোবা নালার পানিতে প্লাস্টিকের বস্তায় করে কাঁচা সুপারি পচিয়ে নিচ্ছেন। সেই সুপারিকে আকর্ষণীয় করতে মেশাচ্ছেন বিষাক্ত হাইড্রোস কেমিক্যাল।

৪ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত এই সুপারি নোংরা পানিতে পচতে থাকার ফলে বিষাক্ত পানির নির্জাস ধারণ করছে। সুপারির রং হচ্ছে কালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত। তবে হাইড্রোস মেশানোর ফলে সেই কালো সুপারি হয়ে যাচ্ছে সুন্দর এবং দুর্গন্ধমুক্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাইড্রোসসহ বিষাক্ত পানির নির্জাসযুক্ত এই সুপারি মানবদেহের জন্যে ক্ষতিকর। এই সুপারি খেলে নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সিরাজউদৌল্লাহ জানান, এই পদ্ধতিতে সুপারি মজিয়ে খাওয়া মানবদেহের জন্যে ক্ষতিকর। বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো সুপারি খেলে মুখে ক্ষতসহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে।

পচা পানিতে সুপারি মজিয়ে বিক্রি, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা
ডোবায় মজানো সুপারি বিক্রির জন্য হাটে আনা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

একই উপজেলার সুপারি ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ বলেন, কাঁচা সুপারির চেয়ে মজা সুপারির দাম দ্বিগুণ। ব্যবসায় লাভের আশায় তিনি ১ যুগ ধরে এই পদ্ধতিতে সুপারির ব্যবসা করে আসছেন।

পঞ্চগড় পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মুনাফার লোভে মানুষ নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছে। আইন প্রয়োগ করে এদের প্রতিরোধ করা কঠিন। দরকার জনসচেতনতা তৈরি করা। নিরাপদ খাদ্য বিপণন নিয়ে আমরা বিভিন্ন মহলে কাজ করছি। তার পরও মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে না।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Unreasonably and unjustly hiked prices of medicines CAB

অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে: ক্যাব

অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে: ক্যাব
ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘এক সময় দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। এখন ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরের ওষুধগুলোর মূল্য নির্ধারণ অনেকটাই নির্ভর করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর। এতে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।’

ভোক্তাদের অধিকার উপেক্ষা করে অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার ‘ওষুধের অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ কথা বলেছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া, সেটি যুক্তি ও ন্যায়সঙ্গত কী না সন্দেহ আছে। এক সময় দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। এখন ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

‘এর বাইরের ওষুধগুলোর মূল্য নির্ধারণ অনেকটাই নির্ভর করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর। এতে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। আমরা চাই জেনেরিক নামের যে দু’শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসনের ছিল, তা পুনর্বহাল করা হোক।’

গোলাম রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে দেশে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ ওষুধ তৈরি হতো। এখন আমরা ৯৮ শতাংশ ওষুধই দেশে উৎপাদন করি। দেশে উৎপাদিত ১২৪টি ওষুধ রপ্তানিও হচ্ছে।

‘ওষুধ কোম্পানিগুলোকে কোনোরকম জবাবদিহিতা ছাড়া মূল্য বৃদ্ধির যে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে বর্তমানে ঔষধ প্রশাসনের দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি স্যালাইনের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি খুবই বাজে একটি নজির। ভোক্তাদের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বলে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা শুধু অনৈতিক নয়, বেআইনিও।’

লিখিত বক্তব্যে ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ ড. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার বলেন, ‘দেশে ওষুধ শিল্প বিস্তার লাভ করলেও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ৯৭ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এগুলোর অধিকাংশই আসে ভারত ও চীন থেকে। উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকেও কিছু কাঁচামাল আসছে। ‘নিম্ন আয়ের দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা পেয়ে আসছে, যা ২০৩২ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে এই সুবিধা বহাল থাকবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ওষুধ শিল্প সম্প্রসারণ করলেও সামাজ্যবাদের আগ্রাসন থেমে নেই। শুরুতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতো। এখনও তাদের ভূমিকা অদৃশ্যভাবে বহাল রয়েছে।

‘১৯৯৪ সালে তৎকালীন সরকার ওষুধ শিল্পের ওপর কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ চালু করে। এক আদেশে দেশে উৎপাদিত মাত্র ১১৭টি জেনেরিক ওষুধ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি ওষুধ কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে নেয়। যদিও দেশে ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ওষুধ আইন ১৯৪০, ১৯৪৫ সালের ড্রাগ রুলস, ১৯৪৬ সালের দ্য বেঙ্গল ড্রাগস রুলস, ১৯৮২ সালের ড্রাগ অর্ডিন্যান্স এবং ২০১৬ সালের জাতীয় ওষুধ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এরপরও ১৯৯৪ সালের সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। ওই আদেশের বলে পুরো ওষুধ শিল্পের নিয়ন্ত্রণ মূলত কোম্পানিগুলোর হাতে চলে যায়।

ড. মঞ্জুর-ই-খোদা আরও বলেন, ‘ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সম্প্রতি আইভি ফ্লুইড জাতীয় ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভা সভায় তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের জন্য গঠিত টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২১টি জেনেরিক ৫৮টি পদের কস্টিং শিট পর্যালোচনা করা হয়।

‘এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে কলেরা স্যালাইন, হার্টম্যান সলিউশন, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ডেক্সট্রোজ, ডেক্সট্রোজ প্লাস সোডিয়াম ক্লোরাইড, মেট্রোভিজানল ও হিউম্যান ইনসুলিন। দেশে যখন প্রায় সব নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী তখন ওষুধের মতো এতো প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়ানো কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওষুধের মার্কআপ কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত।’

৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনঃনির্ধারণ

২০ জুলাই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সরেজমিনে ফার্মেসিতে খুচরা ওষুধের তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্যাব জানায়, এসব ওষুধের মূল্য ছয় মাসের ব্যবধানে ১০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। এছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

শুধু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের মূল্য গত জুলাই মাস থেকে বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। ২০ মিলিগ্রামের একটি ওমিপ্রাজল ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬ টাকা। আর ২০ মিলিগ্রামের রেবিপ্রাজল মূল্য ছিল ৫ টাকা। তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭ টাকা।

এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের মূল্য বেড়েছে ১৭ থেকে ২০ শতাংশ। প্রতিটি ৫০০ মিলিগ্রামের সিডিউরিক জিম ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে তা ৬০ টাকা। ২৫০ মিলিগ্রামের প্রতিটি ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৩০ টাকা, যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৫ টাকা।

উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। লুসার্টন পটাশিয়াম পাঁচ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেটের মূল্য ৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা। পাঁচ মিলিগ্রামের এমভোলোপিনের মূল্য ছিল ১০ টাকা। সেটি ১২ টাকা করা হয়েছে। দুই মিলিগ্রামের একটি প্রাজোসিন ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ১০ টাকা, হয়েছে ১২ টাকা। আর ৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা করা হয়েছে।

ক্যাবের সুপারিশ

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে অনতিবিলম্বে বৃদ্ধি করা ওষুধের মূল্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা রিভিউ করার দাবি জানায় ক্যাব। ওই রিভিউ না হওয়া পর্যন্ত আইভি ফ্লুইড জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধের কাঁচামাল ও অন্যান্য ওষুধ আমদানিতে মার্ক-আপ কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আইভি ফ্লুইড জাতীয় ওষুধের মার্ক-আপ ছিল ৩ দশমিক ৪। মার্ক-আপ কমানো গেলে ওষুধের দাম কমে আসবে। আমদানিকৃত ওষুধে মার্ক-আপও কমাতে হবে। সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

স্যালাইন তৈরি ও বাজারজাতকরণ সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা আইপিএইচ-এর মাধ্যমে করতে হবে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা থেকে সরকারি ওষুধ ঢাকায়, গ্রেপ্তার ১
বিনা মূল্যে ২২ কোটি টাকার চিকিৎসা পেল রাইয়ান
ভুয়া প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ তুলে পাচার
হাটে ছালা বিছিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি
ওষুধ রপ্তানিতে ধাক্কা

মন্তব্য

p
উপরে