খুব সুন্দর একটা দৃশ্য এঁকেছে আমাদের ছোট্ট বন্ধু রিফাহ তাসনিম তাসফিয়া।
সাপুড়ে ভাই সাপের খেলা দেখাচ্ছে।
পাশে দাঁড়িয়ে সেটাই দেখছে তোমাদের মতো ছোট ছোট শিশুরা।
চমৎকার ছবিটি আঁকার জন্য তাসফিয়াকে ধন্যবাদ।
সে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
আমরা জানি, তোমরাও তাসফিয়ার মতো সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকতে পারো।
তাহলে দেরি কেন?
তোমাদের আঁকা ছবিগুলো পাঠিয়ে দাও আমাদের কাছে। সেগুলো প্রকাশ করবে কিডজোন। ছবির সঙ্গে তোমার নাম, ক্লাস, স্কুলের নাম এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দিতে কিন্তু ভুলবে না।
ই-মেইলে তোমার আঁকা ছবি পাঠাবে [email protected] ঠিকানায়।
সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সবার কাছে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও কমিটিকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
গণমাধ্যমকে একটি বহুপক্ষীয় ক্ষেত্র উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে। কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায়।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক চিন্তার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।’
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির নবগঠিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকের নাম মাহমুদুল হক (৪০)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মাহমুদুল পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের গোরনখাইন এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে।
এর আগে ১৬ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট কোম্পানির কারখানায় আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হন, তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়। আর তিনজনকে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চমেকে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের সবারই মৃত্যু হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার দিন রাতে গুরুতর দগ্ধ মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫) ও দিদারুল আলম (৩২) মারা যান। ১৯ জুলাই মারা যান রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উজ্জ্বল দাশ (৫৩) এবং বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী এলাকার নুর নবী (২৫)। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মারা যান মাহমুদুল হক।
চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদ উল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা থাকার পর তিনি মারা যান।
ছবি: সংগৃহীত
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ‘শুধু দলের বহিষ্কারের ভিত্তিতেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়। সংসদের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার পর বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করলে এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই।’ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ইসি মাছউদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে এমপি পদ না থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে সংবিধান অনুযায়ী এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ থেকে রেফারেন্স করলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের মাধ্যমে সংসদের চিঠি পেলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে কমিশন।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়ায়। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। এরপর মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
গত বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় মজলিসে শূরার এই সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াত বলছে, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফাইল ছবি
দেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি স্মরণকালের সর্বোচ্চ। বর্তমানে ৬৪ জেলার ২০টিতে নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ৪৯৯ উপজেলার ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি প্রশাসনে নারীর সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রতিফলন।
আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে নারী ডিসির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে নয়টিতেই নারী ডিসি রয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে একজন করে নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিসিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদেও নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
দেশের ৪৯৯ উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে প্রশাসন ক্যাডারের নারী কর্মকর্তারা ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ মোট ইউএনও পদের প্রায় ৩৯ শতাংশই নারীদের দখলে।
একইভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দায়িত্বে থাকা ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের মধ্যে ১১৬ জন নারী। এটি মোট কর্মকর্তার ২৪ শতাংশের বেশি।
মাঠ প্রশাসন তদারককারী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নারীদের এই অগ্রগতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পালিত হলো জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, ‘১০ বছর আগেও রাঙামাটির বাঘাইছড়ির মতো উপজেলায় কোনো নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করবেন—এটি কল্পনাও করা যেত না। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে আমাদের আগে দুবার ভাবতে হতো। অনেক নারী কর্মকর্তাও দুর্গম এলাকায় যেতে অনীহা প্রকাশ করতেন। এখন দুই দিক থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারী কর্মকর্তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাই তাদের মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে এখন আর দ্বিধা থাকে না। মাঠপর্যায় থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘মাঠ প্রশাসনে নারী ডিসি ও ইউএনওর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া শুধু সংখ্যাগত পরিবর্তন নয়। এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন। প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য আসে, সেবার মান উন্নত হয় এবং জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।’
এর একটি উদাহরণ শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আজাফার আলী জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সহযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক।
তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের নামে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা পেয়েছি। শুনেছিলাম, সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক ভোগান্তি হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। এতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ১ হাজার ৮৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৩২ জন নারী। অর্থাৎ মোট কর্মকর্তার ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর বিভাগীয় পর্যায়ে বর্তমানে ১৮ জন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যে পাঁচজন নারী। এটি মোট পদের প্রায় ২৮ শতাংশ।
তবে বিভাগীয় কমিশনারের পদে বর্তমানে কোনো নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন না।
সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৩০ শতাংশ পদে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮৮টি সচিব বা সচিব-সমমর্যাদার পদের মধ্যে ১৫টিতে নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া প্রশাসনে ৩৬১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৭৩ জন, ১ হাজার ৫১ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ২৪৯ জন নারী।
অন্যদিকে ১ হাজার ৬৪৩ জন উপসচিবের মধ্যে ৪০৪ জন এবং ৩ হাজার ৩৫০ জন সহকারী ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৮৬ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু প্রতিবেদন না আসায় বিচারক এই আদেশ দেন।
পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।’
নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।
অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে, গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন ও কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ ও মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ ও সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।
ছবি: সংগৃহীত
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীজুড়ে দেখা দিয়েছে সিএনজি সংকট। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস মিলছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক, গণপরিবহন খাতের কর্মী ও যাত্রীরা। সংকটের প্রভাব পড়েছে চালকদের আয়-রোজগারেও।
রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাস সংগ্রহের জন্য দিন-রাত দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছেন চালকেরা। অনেক পাম্পে রাত থেকেই গাড়ির লাইন শুরু হচ্ছে।
একাধিক সিএনজিচালিত গাড়ির চালক জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনের বড় একটি সময় পাম্পেই কাটছে, যা তাদের স্বাভাবিক আয় ব্যাহত করছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকেরা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত অনেক চালক বলছেন, সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় তারা যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। এতে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কিছু চালক অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, অতীতেও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে সংকট দেখিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।
অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরাও। তারা দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার চর মানিকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের ব্যবস্থাপনায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাধীন কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট চর মানিকায় মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৬৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
মন্তব্য