× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
New Chairman of Jagannath University in three departments
hear-news
player
google_news print-icon

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বিভাগে নতুন চেয়ারম্যান

জগন্নাথ-বিশ্ববিদ্যালয়ের-তিন-বিভাগে-নতুন-চেয়ারম্যান
নতুন চেয়ারম্যান ড. মিল্টন বিশ্বাস, ড. সাবিনা শরমীন এবং অধ্যাপক আবদুল্লাহ্ আল মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
কলা অনুষদভুক্ত বাংলা বিভাগে, সামাজিক অনুষদভুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ অনুষদভুক্ত প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) তিন অনুষদের তিনটি বিভাগে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানরা পরবর্তী তিন বছর উক্ত পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

তিন বিভাগে চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে তিনটি পৃথক অফিস আদেশও প্রকাশিত হয়েছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কলা অনুষদভুক্ত বাংলা বিভাগে, সামাজিক অনুষদভুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ অনুষদভুক্ত প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমীর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান চাকরি থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় এবং বর্তমানে ওই বিভাগে চেয়ারম্যান না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনকে তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে।

তৃতীয় অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের চেয়ারম্যান নিযুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ্ আল মাসুদকে তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে।

বাংলা বিভাগের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

এ ছাড়া প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ্ আল মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পরিবহন প্রশাসক ছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের একাংশের সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
নারী ভলিবলে রানার্সআপ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বাসযোগ্য পৃথিবীর অন্যতম পূর্বশর্ত টেকসই উন্নয়ন: জবি উপাচার্য
শিক্ষক নিচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে চুরি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের ছুরি দেখিয়ে পালিয়েছে ‘চোর’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Blocking the victory the committee demanded a blockade of Dhaka College Chhatra League

জয়কে আটকে কমিটি দাবি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের

জয়কে আটকে কমিটি দাবি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির দাবিতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রোববার রাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন। ছবি: নিউজবাংলা
রোববার রাতে নীলক্ষেত এলাকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের পথ রোধ করে কমিটির দাবি জানান ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে তারা নীলক্ষেত থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত সব সড়ক অবরোধ করেন। রাত সাড়ে ১২টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

নতুন কমিটির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সায়েন্স ল্যাব মোড়, নিউমার্কেট, নীলক্ষেতসহ ঢাকা কলেজের আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। কমিটি না দেয়া পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। অবশ্য রাত সাড়ে ১২টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

রোববার রাতে এ ঘটনার আগে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবরোধের মুখে পড়েন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। নীলক্ষেত এলাকার বাসায় ফেরার পথে তারা জয়কে থামিয়ে কমিটির দাবি জানান। এ সময় জয় তাদেরকে কমিটি দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে উপস্থিত সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে জয় বাসায় ফিরে যান।

জয়কে আটকে কমিটি দাবি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের
রাত সাড়ে ১২টায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সড়ক থেকে সরে গেলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা

জয় চলে যাওয়ার পর ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত সব সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পুরো এলাকার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ প্রশাসন ও ছাত্রলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে রাত সাড় ১২টায় নেতাকর্মীরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল শুরু হয়।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ছাত্রলীগ সভাপতি নীলক্ষেত হয়ে নিউ মার্কেটের পাশে তার বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় নীলক্ষেতে অবস্থানরত ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী তাকে থামান। অন্যান্য কলেজে কমিটি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তারা ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার দাবি জানান। জয় তাদের কমিটি দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে জয় নিজ বাসায় চলে যান। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্ররা সবদিকের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তারা বলছেন, দাবি মেনে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া না হলে অবরোধ প্রত্যাহার হবে না।’

অবশ্য পরে নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সম্মেলন। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই অন্যান্য শাখার সম্মেলন এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে ঢাকার বিভিন্ন কলেজে এরই মধ্যে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দেয়া হয়েছে। কিন্তু গত ৬ বছর ধরে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নেই।

আরও পড়ুন:
‘শাসন করতে’ ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা
ছাত্রলীগের বয়সসীমা ‘উনত্রিশ’ই থাকছে
সম্মেলনে বিশৃঙ্খলায় ছাত্রলীগ, ক্ষোভ কাদেরের
ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ
‘বিএনপিকে সুযোগ দিতে এগোনো হয়েছে ছাত্রলীগের সম্মেলন’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The debut of a new group of pro Awami teachers in Jabi

জবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ

জবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন শিক্ষক সংগঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ’ নামে আত্মপ্রকাশ করা এই সংগঠনের সভাপতি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. নাসির উদ্দীন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নতুন দল ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ’ আত্মপ্রকাশ করেছে। এই বিদ্যায়তনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের এটি চতুর্থ সংগঠন।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে এই নতুন দল আত্মপ্রকাশের কথা জানানো হয়।

স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. নাসির উদ্দীন রয়েছেন।

এছাড়াও সহ-সভাপতি মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক সেলিম, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন- ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপিকা রানী সরকার, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহমদ নিসা, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আছমা বিনতে ইকবাল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল কবির, একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. নীলোৎপল সরকার, ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খ্রীস্টিন রিচার্ডসন, আইএমএল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরিচালক খন্দকার মোন্তাসির হাসান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কিশোর রায় এবং সংগীত বিভাগের প্রভাষক জেরিনা আহমেদ।

আরও পড়ুন:
জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল
জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবিতে ভর্তির তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি
গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পেলেন জবির ৩০ শিক্ষক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU Vice Chancellor asked for time to fulfill the demand of safe campus

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি পূরণে সময় নিলেন ঢাবি উপাচার্য

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি পূরণে সময় নিলেন ঢাবি উপাচার্য শুক্রবার এক নারীকে রিকশা থেকে ফেলে দিয়ে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় প্রাইভেট কার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের এমন চিন্তা-চেতনা ভালো এবং সৎ। ওদের চিন্তার সঙ্গে আমি একমত। কীভাবে সুন্দর ম্যানেজমেন্ট করা যায়, বহিরাগত এবং ভারি যানবাহন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে কীভাবে এসব বাস্তবায়ন করা যায় সেই প্রয়াস নেব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়িচাপায় এক নারীর প্রাণহানির ঘটনার পর নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ১১ দফা দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। এসব দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তা পূরণে সময় চেয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

আটজনের একটি প্রতিনিধি দল রোববার বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা; রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা; ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

১১ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধু নিবন্ধিত রিকশা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা; ভ্রাম্যমাণ দোকানের জন্য স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে ন্যূনতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।

অন্য দাবিগুলো হলো- প্রথম বর্ষ থেকে সব শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা; সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা; প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা; নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রক্টরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

সাক্ষাতের আগে দুপুরে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন।

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আল মেহরাজ শাহরিয়ার মিথুন বলেন, ‘স্যার আমাদের দাবিগুলো শোনেন। এরপর প্রতিটি দাবির সঙ্গে স্যারের কী চিন্তা-ভাবনা আছে তা আমাদের জানান।

‘স্যার আমাদের বলেছেন, ক্যাম্পাস শুধু আমাদের ওপর নির্ভরশীল নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেকের সঙ্গে সমন্বয় করার ব্যাপার। তাই এটি একটি লং প্রসেস। তোমরা আমাকে কিছু সময় দাও।’

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের এমন চিন্তা-চেতনা ভালো এবং সৎ। যারা বেশি দরদ দেখায় তাদের অসৎ উদ্দেশ্য। এদের কোনো খারাপ চিন্তা নেই। ওদের চিন্তার সঙ্গে একমত হয়ে কীভাবে সুন্দর ম্যানেজমেন্ট করা যায়, বহিরাগত এবং ভারি যানবাহন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে কীভাবে এসব বাস্তবায়ন করা যায় সেই প্রয়াস আমরা নেব।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির হলে শিক্ষার্থীকে রড দিয়ে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মী
বহিরাগত নারীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, ঢাবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ঢাবি প্রক্টরের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ অভিযোগ
‘লিটু স্যার আমার সঙ্গে যেটা করলেন তা মাস্তানি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
11 points in the protest demanding a safe campus in DU

ঢাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভে ১১ দফা

ঢাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভে ১১ দফা রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য-এর পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকতে দিচ্ছে না। হ্যান্ড মাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করছে, টিএসসিতে কোন বহিরাগত থাকতে পারবে না। আজকের টিএসসি হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।

গাড়িচাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক নারীর নিহতের ঘটনার পর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য-এর পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বিভিন্ন বিভাগ ইনিস্টিটিউটের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

রাজু ভাস্কর্যে এ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আরও কিছুক্ষণ অবস্থান নেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

এই সম্পূর্ণ সময় শিক্ষার্থীরা ‘দাবি মোদের একটাই নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘অনিয়মের ঠাঁই নাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে?’, ‘বিবেকের প্রশ্ন করি, এবার যদি আমরা মরি’, ‘নীলক্ষেতে রক্ত কেন প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ঢাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভে ১১ দফা

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকতে দিচ্ছে না। হ্যান্ড মাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করছে, টিএসসিতে কোন বহিরাগত থাকতে পারবে না। আজকের টিএসসি হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।

এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিনা ১১-দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবি হলো-

বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।

রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা।

ক্যাম্পাসে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র নিবন্ধিত রিকশা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা।

ভ্রাম্যমান দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নূন্যতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।

প্রথম বর্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান করা এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী উচ্ছেদ করা।

সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা।

প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করা।

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষে প্রক্টোরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

দাবি উত্থাপন শেষে আনিকা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করেছে, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে শত শত সমস্যাও। এই সমস্যাগুলোর সংমিশ্রণে আজ ক্যাম্পাসে আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে জীবনের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গণ নিরাপদ করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১১ দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে জানিয়ে আানিকা বলেন, ‘যদি আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের স্বপক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি নিয়ে দিতে বাধ্য হব।’

এর আগে গত শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছাকাছি পর্যন্ত রুবিনাকে এভাবেই টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালকক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করেন পথচারীরা। শাহাবাগ থানার পুলিশ পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। আহত অবস্থায় বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ওই ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মশাল হাতে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এসব কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি চাপায় ওই নারীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা চৌকি বসানোসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারে টেনেহিঁচড়ে নেয়া নারী নিহতের ঘটনায় মামলা
ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে
এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jabir NSCC Club Bajimat at Jabir Prajapati Mela

জাবির প্রজাপতি মেলায় জবির এনএসসিসি ক্লাবের বাজিমাৎ

জাবির প্রজাপতি মেলায় জবির এনএসসিসি ক্লাবের বাজিমাৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসসিসির সদস্য ও অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের চারজন প্রজাপতি দৌড়ে, ছয়জন বারোয়ারি বিতর্কে, ছয়জন ছবি প্রদর্শনীতে ও ১৩ জন স্টল ডেকোরেশনে পুরস্কার পেয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনুষ্ঠিত প্রজাপতি মেলায় প্রজাপতির ছবি প্রদর্শনে প্রথম এবং বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাব’ (এনএসসিসি)।

‘প্রজাপতি প্রজাপতি... কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?’ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার দিনব্যাপী ১২তম প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মেলায় ছিল নানা আয়োজন।

মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রজাপতির ছবি প্রদর্শনে ক্লাবটি প্রথম স্থান অর্জন করে। এছাড়াও বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ক্লাবটি।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ক্লাবের সদস্যরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তার মধ্যে প্রজাপতি দৌড়ে চারজন, বারোয়ারি বিতর্কে ছয়জন, ছবি প্রদর্শনীতে ছয়জন এবং স্টল ডেকোরেশনে ১৩ জন পুরস্কার পেয়েছেন।

নেচার স্টাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তানজিলুর রহমান খান বলেন, ‘বাগান সুরক্ষিত রাখা, বাস্তুতন্ত্ৰ রক্ষা, জলবায়ু বুঝতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে প্রজাপতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রজাপতি আমাদের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রজাপতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের ক্লাব এই উদ্দেশ্যে নিরলস কাজ করে আসছে।’

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU Chhatra League conference Those in the race for leadership

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
ক্যাম্পাসে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিকেল ৩টায় শুরু হয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। তবে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়নি। ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন থেকে এই কমিটির ঘোষণা দেয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার। তবে সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়নি। ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিকেল ৩টায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এর প্রায় দুই মাসের মাথায় ৩১ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাদ্দাম হোসেন নেতৃত্বে আসেন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবন-বৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। সম্মেলনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি রায়হান কাউসারকে।

আগ্রহী প্রার্থীরা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গোলঘর থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দেন।

রায়হান কাউসার বলেন, ‘২৩৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।’

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

জানা যায়, ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য বিভিন্ন হল, অনুষদ, ইনস্টিটিউট, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পদপ্রাপ্তরা প্রার্থী হয়েছেন।

সম্মেলন উপলক্ষে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘সম্মেলন হলে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাসমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সংগঠনেও গতিশীলতা আসে। সংগঠনে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাত্রলীগকে আরও বেগবান করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন-২০২২ গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগে আগামীতে এমন নেতৃত্ব আসুক যারা শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন। তারা যেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে।’

নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

সম্মেলন ঘিরে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একইসঙ্গে মধুর ক্যান্টিনসহ দৃশ্যমান স্থানে নিজেদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার টানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিগত কয়েক কমিটির তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখায় নেতৃত্ব দেয়াদের মধ্যে যেকোনো একজন ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে এসেছেন।

বর্তমান ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস আগে জগন্নাথ হল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে সাধারণ সম্পাদক হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে ছিলেন না। তিনি হল রাজনীতিতে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে ২০১৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

২০১১ সালে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা আগে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এসব কিছু বিবেচনায় এবারও হল ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্য থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব চান পদপ্রত্যাশী অনেকে। আর সে লক্ষ সামনে রেখে হল ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এরকম প্রত্যেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসার দৌড়ে এগিয়ে আছেন- হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সভাপতি শহিদুল হক শিশির ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি মেহেদি হাসান শান্ত, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজিবুর রহমান সজিব ও সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুস, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সভাপতি তানভীর শিকদার, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি কামাল উদ্দীন রানা, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম এবং ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন নাইম।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক উপ-সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, সাহিত্য বিষয়ক উপ-সম্পাদক জয়দ্বীপ দত্ত (জয়জিৎ), নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, সহ-সম্পাদক দিদারুল আলম, এস এম রাকিব সিরাজী, ঢাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।

এদিকে বেশ কয়েকজন নারী নেতাও আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক রওনক জাহান রাইন।

কেমন নেতৃত্ব চান- এমন প্রশ্নে শহিদুল্লাহ হলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বাংলাদেশ গঠন করতে চাচ্ছেন। এজন্য কিন্তু বিজ্ঞানমনষ্ক কিছু ছেলের দরকার আছে। আর আমাদের সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে।

‘সেই নির্বাচনে রক্ত বিসর্জন দিয়েও যে রাজপথে থাকতে পারবে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য কাজ করতে পারবে এবং সততা দেশপ্রেম ও ত্রিশ লাক শহীদের রক্তের ঋণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে রাজনীতি করবে- এমন নেতৃত্ব আসবে এমন প্রত্যাশা আমার।’

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সভাপতি তানভীর শিকদার বলেন, ‘হল ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে যারা সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল তাদেরকে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আনলে তারা নিজেদের আরও মেলে ধরার সুযোগ পাবেন।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, নিয়মিত শিক্ষার্থী, বিতর্কমুক্ত, সৎ ও যোগ্যদেরই কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের কমিটিতে রাখা হবে না। আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব নির্বাচনে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতার প্রাধান্যও থাকবে। সে ক্ষেত্রে বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের প্রাধান্য থাকবে।

বিগত কয়েকটি কমিটির তথ্য-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের প্রার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছেন। এর বাইরে উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-ঢাকা অঞ্চলের প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও বিতর্কমুক্তদের প্রাধান্য দেয়া হবে।

এছাড়া করোনাকালে যেসব নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভুক্তভোগীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দিয়েছেন তাদেরও বিবেচনায় রাখা হবে।

আরও পড়ুন:
‘শাসন করতে’ ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা
ছাত্রলীগের বয়সসীমা ‘উনত্রিশ’ই থাকছে
সম্মেলনে বিশৃঙ্খলায় ছাত্রলীগ, ক্ষোভ কাদেরের
ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ
‘বিএনপিকে সুযোগ দিতে এগোনো হয়েছে ছাত্রলীগের সম্মেলন’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How are visually impaired students studying?

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষালাভ ও পরীক্ষা দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ব্রেইল ব্যবস্থা উন্নত করতে কিছু কাজ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফাইল ছবি
শনিবার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। দেশে এটি পালিত হচ্ছে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষা লাভ ও পরীক্ষা দেয়া এখনও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীল। ব্রেইল ব্যবস্থাকে উন্নত করতে কিছু কাজ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

দেশের ২ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী। এদের মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ১৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী।

দেশে সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী অন্তত একটি প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলা হয়। শনিবার সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। একই সঙ্গে দেশেও এই দিনে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয়। এ বছর এই দিবসটি হবে আন্তর্জাতিকভাবে ৩১তম ও জাতীয়ভাবে ২৪তম।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ, প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভূমিকা।’

পূর্ণ পরিসংখ্যান না থাকলেও বেসরকারি হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি বলে ধারণা করা হয়। দেশটিতে এই বিপুল পরিমাণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই শিক্ষার সুযোগ পায় না। আর উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা খুবই নগণ্য।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তির সংখ্যা ২১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৩ লাখ ৬৪৯ জন। বিবিএসের জরিপের তথ্য মতে, দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা মোট প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যার শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ।

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি

বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পড়াশোনার একমাত্র সহায়ক হচ্ছে ব্রেইল পদ্ধতি। মূলত কাগজের ওপর ছয়টি বিন্দুকে ফুটিয়ে তুলে লিখবার একটি পদ্ধতি। দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরা এই উন্নীত বা উত্তল বিন্দুগুলোর ওপর আঙুল বুলিয়ে ছয়টি বিন্দুর নকশা অনুযায়ী কোনটি কোন অক্ষর তা অনুধাবন করতে সক্ষম হন এবং লেখার অর্থ বুঝতে পারেন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল সুবিধা অনেক বাড়লেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। ব্রেইল পদ্ধতির নানা উপকরণ আরও সহজলভ্য হলে তাদের জন্য শিক্ষাগ্রহণ আরও সুবিধার হবে।

কীভাবে চলছে পড়াশোনা ও পরীক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭১ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ জন রয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ভলান্টিয়ার শিক্ষার্থীরা এখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিখন কাজে সাহায্য করে থাকেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন বা পিডিএফের সভাপতি তানভীর আহমেদ তন্ময় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্রেইল পদ্ধতিতে কিছু সমস্যা আছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল পদ্ধতির কথা ভাবছে। আমরা কয়েকবার এই বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথাও বলেছি। আমাদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব শিক্ষাবর্ষে সব মিলিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫ জন। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৪ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা পিডিএফ জানাচ্ছে, আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য এখনও কোনো কারিকুলাম তৈরি হয়নি। এমনকি তাদের শিক্ষার জন্য অপরিহার্য ব্রেইল পদ্ধতিও নেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শিক্ষার্থীরা শ্রুতি লেখকের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

সংগঠনের সভাপতি ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আব্দুল গাফফার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে আমাদের সংগঠন থেকেই এই ৩৪ জনকে পড়াশোনা করার জন্য সাহায্য করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনও তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা চালু হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ক্লাসের সব লেকচার রেকর্ড করে দেওয়া হয় তাদের। এরপর যখন পরীক্ষা শুরু হয়, তখন আমাদের একজন ভলান্টিয়ার তাদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রেডি থাকেন। তবে এটা খুবই উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে যখন আমাদের কোনো ভলান্টিয়ারের নিজের পরীক্ষা থাকে। তখন তিনি হয়তো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সাহায্য করতে পারেন না।’

গাফফার বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই তাদের পরিপূর্ণ কারিকুলামের জন্য আন্দোলন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে একটা ডিজ্যাবিলিটি কর্নার করা হবে। দুই মাস আগেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটা সভায় আমরা কারিকুলামের কথা বলেছি। ইউজিসি জানত না এত শিক্ষার্থী (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী) পড়াশোনা করছে। তারা কারিকুলামের জন্য উদ্যোগ নিবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন।’

শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা করে কোনো সুযোগ চালু হয়নি।

সারা দেশে কী অবস্থা

মৌলভীবাজারের সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের রিসোর্স শিক্ষক স্বপন চন্দ্র কর্মকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজেও দৃষ্টিহীন। আর আমাদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’

তিনি বলনে, ‘একজন শিশু যদি জন্মগতভাবেই দৃষ্টিহীন হয়ে থাকে, তবে তার শিক্ষার একমাত্র উপায় ব্রেইল। আগে আমাদের বইপত্র নিয়ে সমস্যা হলেও এখন চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে ব্রেইল বইপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।’

তবে ব্রেইল লেখার সামগ্রী পাচ্ছেন না বলে জানান স্বপন চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘লেখার জন্য রাইটিং ফ্রেইম, বোর্ড এইগুলো পাচ্ছি না ঠিকমতো।’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা হাতের সাহায্য ছাড়া পড়তে পারবে না। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের ব্রেইল পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একটা সময় পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষাগ্রহণ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সঠিক কারিকুলাম বা ব্রেইল সরঞ্জাম পান না তারা। এ ক্ষেত্রে নিতে হয় শ্রুতি লেখকের সাহায্য।

দৃষ্টিহীন এই শিক্ষক বলেন, ‘ব্রেইল পদ্ধতি থাকলে উচ্চশিক্ষার জন্য অবশ্যই ভালো হবে। তবে শ্রতিলেখকও লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘স্কুলে টেস্ট বা নির্বাচনি পরীক্ষা পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতি থাকছে। কিন্তু যখন পাবলিক পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন তো খাতা আমার এখানে থাকবে না। বোর্ডে তো ব্রেইলের প্রতিকার নেই। তার জন্য শ্রুতি লেখকের সাহায্য লাগবেই।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রাথমিকের শিক্ষা সহজতর হলেও উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অধিকাংশ স্কুলই শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে। মাধ্যমিকে এই শিক্ষার্থীদের জন্য মূলধারার প্রতিষ্ঠান ছাড়া বিকল্প নেই। আবার থাকলেও নেই উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণ।

২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির ৯ হাজার ১৯৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য সরকার ব্রেইল পদ্ধতির বই ছেপেছে।

সফটওয়্যার ও শ্রুতি লেখক প্যানেল

গত আগস্টে দৃষ্টিহীনদের হাতে লেখা ব্রেইল লিপি বাংলায় রূপান্তর করার একটি সফটওয়্যারের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। প্রাথমিকভাবে এ সফটওয়্যারে ৯৭ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণায় যুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আহমেদুল কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আছেন, তাদের কথা ভেবেই আমরা এই সফটওয়্যার তৈরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়াশোনায় ব্রেইল থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটি নেই। তারা ব্রেইলে যদি লিখেও থাকেন, সেটি পড়ার সক্ষমতা নেই। আমরা যে সফটওয়্যার বানিয়েছি, সেটি ব্রেইল লেখাকে বাংলায় রূপান্তর করতে পারবে। এটার মোবাইল স্ক্যান পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।’

আহমেদুল কবীর বলেন, ‘ব্রেইলে লেখা কাগজ স্ক্যান করে সেটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে দিলে ৯৭ ভাগ নির্ভুল এডিট করা যাবে এমন ওয়ার্ড ফাইল বা পিডিএফ লেখা আসবে। নেক্সট সেমিস্টারে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাহায্যে একটা পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেখানে আমরা আরও কিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিক আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যখন বুঝব আমার এখানে এই ধরনের শিক্ষার্থী আছেন, তখন আমি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারি। শুধু লিখে পরীক্ষা দেওয়ার বাইরেও অন্য কিছু পদ্ধতি যোগ করলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধা হবে।’

এই অধ্যাপক শ্রুতি লেখকের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘যদি এমন কোনো উপায় থাকে যে লিখতেই হবে, সে ক্ষেত্রে শ্রুতি লেখকের জন্য একটা প্যানেল করা উচিত। এই প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৈরি করবে। এটা অবশ্যই একটা রি-এনফোর্সমেন্ট ভিত্তিতে হতে হবে। যারা এখানে কাজ করবে, তাদের একটা সার্টিফিকেট দিতে হবে। অথবা সময় দেওয়ার জন্য সম্মানী দিতে হবে। যখন কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরীক্ষার সময় জানাবে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সেই সহযোগিতা দেবে।’

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই অধ্যাপক ব্রেইল পদ্ধতিরও উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের গ্রন্থাগারে ব্রেইল প্রিন্টার আছে, কিন্তু সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কারণ অনেকেই জানেন না এটা কীভাবে কাজ করে। সেখানে অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিতে হবে। তাতে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রধান শিক্ষককে ছোড়া বল্লমে ছাত্রের মৃত্যুতে দুই মামলা
প্রধান শিক্ষককে ছোড়া বল্লমে প্রাণ গেল ছাত্রের
লেখাপড়ার চাপে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা
যৌন হয়রানির অভিযোগে শাবির ৭ ছাত্রকে বহিষ্কার

মন্তব্য

p
উপরে