× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The flat land of Natore has immense potential in orange cultivation
hear-news
player
google_news print-icon

নাটোরের সমতল জমিতে কমলা চাষে অপার সম্ভাবনা

নাটোরের-সমতল-জমিতে-কমলা-চাষে-অপার-সম্ভাবনা
নাটোরের সমতল জমিতে ফলছে কমলা। ছবি: নিউজবাংলা
কমলা চাষি আব্দুল মতিন ৭৫টি বেবি জাতের কমলাগাছ রোপণ করেছিলেন। আড়াই বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমলা ধরেছে। নাটোরের মাটিতে এত সুন্দর সুমিষ্ট কমলা হবে তা তিনি কল্পনাই করেননি।

সমতল ভূমিতে পাহাড়ি কমলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন নাটোরের কয়েকজন কৃষি উদ্যোক্তা। প্রথমবারের মতো তাদের সফলতায় এই অঞ্চলে কমলা চাষে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

নানা বাধা পেরিয়ে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ নিয়েই কমলাগাছ রোপণ করেছিলেন কয়েকজন কৃষি উদ্যোগক্তা। প্রায় আড়াই থেকে তিন বছরের মাথায় থোকা থোকা কমলা ধরেছে গাছে। প্রত্যাশার চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও উত্তরাঞ্চলে কমলা চাষে অপার সম্ভাবনা দেখেছেন ।

সরেজমিনে নাটোর সদর উপজেলার গাজীপুর বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় আড়াই বিঘা জমিজুড়ে শোভা পাচ্ছে ২০০টি কমলাগাছ। সেই গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে চায়না জাতের কমলা। স্থানীয়ভাবে যেগুলো চায়না মোমপালিশ কমলা নামে পরিচিত। ২০১৯ সালে পারিবারিক নানা বাধা পেরিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে গাছগুলো সংগ্রহ করেন কৃষি উদ্যোক্তা জাকির আহমেদ উজ্জল। শিক্ষকতার পাশাপাশি কমলা চাষি হিসেবেও সফল হয়েছেন তিনি।

কৃষি উদ্যোক্তা জাকির আহমেদ উজ্জল জানান, তিনি হয়বতপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার দাদা কৃষি কাজ করলেও তার বাপ-চাচারা কেউ কৃষিকাজ করেননি। হঠাৎ করেই তার ব্যতিক্রমধর্মী চাষাবাদের ইচ্ছা জাগে।

তিনি সিদ্ধান্ত নেন কমলার বাগান করার। সিদ্ধান্তের কথা পরিবারের সদস্যদের জানালে কেউই একমত হননি। কারণ নতুন এই ফল চাষে কতটুকু সফলতা আসবে তা নিয়ে সবাই দ্বিধান্বিত ছিলেন।

নাটোরের সমতল জমিতে কমলা চাষে অপার সম্ভাবনা
কমলা বাগানে এসেছে শিশুরা। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই কমলা চাষ শুরু করেন। দুই বছরের মাথায় অল্প ফল ধরলেও এ বছর পুরোপুরি সফলতা আসে। এই উত্তরাঞ্চলের সমতল মাটিতে যে পাহাড়ি ফল কমলা হবে তা নিয়ে সংশয় কেটে গেছে।

প্রতিটি গাছে প্রত্যাশার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি ফল এসেছে। একেকটি গাছ দেখলে মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়। যখন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন কমলা বাগান দেখতে আসে তখন নিজেকে সফল কৃষক মনে হয়।

কমলা চাষ সারা দেশের মাটিতে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে। কমলার স্বাদ মানুষ এ দেশ থেকেই পাবে।

কমলা চাষে খরচ অত্যন্ত কম। তাই এটা চাষে বেকারদেরও কর্মসংস্থান হবে।

একই উপজেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামের আরেক চাষিও চার বিঘা জমিতে দার্জিলিং এবং ম্যান্ডারিন জাতের কমলার চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। আড়াই বছরের মাথায় তার বাগানেও দেখা মিলছে প্রচুর চাহিদাসম্পন্ন সুমিষ্ট এই ফল।

তাদের সফলতা দেখে কমলা চাষে এগিয়ে এসেছে অন্যরাও। কমলা চাষি আব্দুল মতিন জানান, তিনি ইউটিউব দেখে কমলা চাষের কলাকৌশল সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর ভারতের দার্জিলিং গিয়ে কমলা বাগান দেখেন। সেখান থেকে দার্জিলিং জাতের ৩০০ এবং ম্যান্ডারিন জাতের ২৫টি চারা এনে রোপণ করেন।

এর আগে তিনি ৭৫টি বেবি জাতের কমলাগাছ রোপণ করেছিলেন। আড়াই বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমলা ধরেছে। নাটোরের মাটিতে এত সুন্দর সুমিষ্ট কমলা হবে তা তিনি কল্পনাই করেননি। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে প্রচুর লোকজনের আনাগোনায় মুগ্ধ তিনি।

প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৪০ কেজি কমলা এসেছে বলে জানান তিনি, যা বাগান থেকেই ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বাগান থেকেই ১৫ মণ কমলা বিক্রি করেছেন। কেউ যদি কমলা চাষে আগ্রহী হয় তাহলে তিনি পরামর্শ দিয়ে সার্বিকভাবে সহায়তা করবেন বলে জানান তিনি।

একই গ্রামের নতুন উদ্যোক্তা জুয়েল রানা জানান, প্রথমে বাধা দিলেও কমলার উৎপাদন দেখে খুশি তাদের পরিবারের সদস্যরা। উৎপাদন খরচ কম ও অনুকূল আবহাওয়া থাকায় নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলের মাটিতে কমলা চাষের অপার সম্ভাবনা দেখছেন। সেই সঙ্গে সমতল মাটিতে পাহাড়ি এই ফল চাষে খুশি তারা।

নাটোরের হালসার ড্রিম অ্যাগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নার্সারির মালিক আজিজুর রহমান জানান, তিনি ৬ জাতের ১০০টি কমলার চারা লাগিয়েছিলেন। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। কমলা চাষে খরচ অত্যন্ত কম। জৈব সার প্রয়োগ করেই ভালো ফসল পাওয়া যায়। পাতায় পোকার আক্রমণ হলে সামান্য পরিমাণ কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। চায়না জাতের কমলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করাটাই উত্তম হবে।

নাটোরের চৌরি গ্রাম থেকে সদরের গাজীপুর এলাকায় কমলা বাগান দেখতে আসা সোহেল রানা জানান, তিনি কমলা বাগান দেখতে এসে অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছেন। তার ধারণাই ছিল না একেকটি গাছে এত পরিমাণ কমলা ধরে। প্রথমবারের মতো তিনি এই ফলের বাগান দেখলেন। তিনিও কমলা বাগান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নাটোরের সমতল জমিতে কমলা চাষে অপার সম্ভাবনা
থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা কমলা। ছবি: নিউজবাংলা

পাশের উপজেলা বাগাতিপাড়ার বাসিন্দা মামুন হোসেন বলেন, ‌'নাটোরের মাটিতে কমলা ধরেছে। কমলা খেয়ে দেখলাম, অত্যন্ত সুমিষ্ট। আমাদের এই এলাকায় যে এত সুন্দর কমলা হবে তা কেউই ভাবতে পারেনি।

'সবাই এই চাষ নিয়ে চিন্তায় ছিল। আদৌ পাহাড়ি ফল সমতল ভূমিতে হবে কি না। এই উত্তরাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা পেলে অন্য কৃষকরা কমলা চাষে এগিয়ে আসবেন।'

সমতল ভূমিতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ কমলা চাষে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, পাহাড়ি ফল কমলা নাটোর জেলায় চাষাবাদ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকজন কৃষক এই ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাদের গাছে প্রচুর কমলা ধরেছে। লাভজনক হওয়ায় কমলা চাষে অন্যরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সঠিক তদারকির মাধ্যমে এই ফল চাষে সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগে চাষাবাদ করা গেলে কমলাও হতে পারে সমতলের চাষিদের অন্যতম লাভজনক একটি ফল। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কমলা চাষিদের নানা পরামর্শসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
37 Farmers Debt Debt Found Investigation Committee

৩৭ কৃষকের ঋণখেলাপ, পাবনা গেল তদন্ত কমিটি

৩৭ কৃষকের ঋণখেলাপ, পাবনা গেল তদন্ত কমিটি পাবনায় পৌঁছে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তদন্ত কমিটির তিন সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা
গত ২৮ নভেম্বর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারীতে আলোচিত ৩৭ কৃষকের ঋণ খেলাপের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এখন পাবনায়।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় কমিটির সদস্যরা পাবনা শহরের এলএমবি মার্কেটে অবস্থিত সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের কার্যালয়ে যান।

সমবায় ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (পরিদর্শন) মো. আহসানুল গণির নেতৃত্বে কমিটির অন্য দুজন হলেন উপব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) মো. আমিনুল ইসলাম রাজীব। তারা পাবনা জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী এবং পাবনায় সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সমবায় ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. বিশ্বাস রাসেল বলেন, ‘বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন। তিনি কৃষকদের সুদ মওকুফ করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছেন।’

এ সময় মো. আহসানুল গণি জেলা প্রশাসককে জানান, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার সকাল ১০টায় ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঋণ খেলাপে অভিযুক্ত কৃষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় তারা ‘পল্লী প্রকল্প ঋণ’ প্রদান, আদায় ও পরিশোধ সম্পর্কিত সব তথ্য পর্যলোচনা করবেন। পরে ঢাকায় গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাবনা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হবে।

গত ২৮ নভেম্বর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন:
খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন
বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের
ঋণখেলাপি মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে
বিদেশি ঋণেও যুদ্ধের ধাক্কা, ৪ মাসে কমল ২৫ শতাংশ
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Palm juice There are trees and there are no trees

খেজুরের রস: গাছ আছে, গাছি নেই

খেজুরের রস: গাছ আছে, গাছি নেই মাগুরায় শীত যত বাড়ছে, ততটাই খেজুর গাছ বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে গ্রামে-গ্রামে। ছবি কোলাজ:নিউজবাংলা
মাগুরা সদরের বার্লো বাজার থেকে শুরু করে ছোটফালিয়া ও ডেফুলিয়ায় মোট খেজুরগাছ রয়েছে ৫০০-এর ওপরে। গাছের মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছি সংকটে সব গাছ কাটা যাবে না। ফলে খেজুর রসের জোগান অর্ধেকে নেমে আসবে এ বছর।

শীত এবার যেন আগেভাগেই নেমে গেছে মাগুরায়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরগাছ ‘কাটার’ও ধুম পড়েছে। শীত যত বাড়ছে, ততটাই খেজুরগাছ বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে গ্রামে-গ্রামে। এখন গ্রামের মাঠে গেলে শোনা যায় খেজুরগাছ বাছাইয়ের শব্দ। তবে খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহে গাছির অভাব দেখা দিয়েছে। সংকট রয়েছে নতুন গাছি তৈরিতেও।

মাগুরা সদরের পাটকেলবাড়িয়া গ্রাম। বার্লো বাজার থেকে শুরু করে ছোটফালিয়া, ডেফুলিয়ায় মোট খেজুরগাছ রয়েছে ৫০০-এর ওপরে। এখানকার গাছিরা জানান, এই সংখ্যা আগে ছিল হাজারখানেক। বসতভিটা বাড়ায় অর্ধেকেরও বেশি গাছ কাটা পড়েছে। তবে যা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাটা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গাছ কাটতে হয় কার্তিকের শুরু থেকে।

খেজুরগাছ ‘কাটা’ বলতে বোঝায় গাছকে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা ও রস সংগ্রহ করা।

গাছের মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছি সংকটে সব গাছ কাটা যাবে না। ফলে খেজুর রসের জোগান অর্ধেকে নেমে আসবে এ বছর।

পাটকেলবাড়িয়ায় গাছি আমির আলীর খেজুরগাছ কাটছেন ৬০ বছর ধরে। বয়স ৭০-এর উপরে হলেও এ বছর তার এলাকায় গাছ কেটেছেন ৫০টির বেশি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা সময় আমাগের এলাকায় গাছ কাটতাম উৎসব করে। আমি সহ ছিল মালেক, আফসার, রমিজ মিয়াসহ আরো অনেকে।

‘তবে সময়ের সঙ্গে কেউ পেশা বদলাইছে, কেউ বা বেঁচে নেই। ফলে পুরান এই পেশা আর নতুন কাউকে ধরতে দেখিনি এ জন্য গাছ কাটার লোক নেই। রসও এ জন্য আগের মতো হবে না।’

রাঘবাদউড় ইউনিয়নের গাছি সুরুজ আলী বলেন, ‘মানুষ খেজুর রস খেতে চায়। বিশেষ করে এখনকার প্রজন্ম তো এই রস চেনেই না। তাই বাবা-মার থেকে শুনে তারা গ্রামে আসে। কিন্তু সবাইকে রস দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এলাকার বেশির ভাগ গাছ কাটা পড়ছে না গাছির অভাবে।’

হাজিপুর, হাজরাপুর, আলমখালি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, খেজুরগাছ অর্ধেকের মতো কেটে রেখেছে গাছিরা। কিছু গাছে হাঁড়ি পাতা রয়েছে। তবে এই রস খাওয়া যাবে না বলে জানান গাছি আমির আলি। তিনি বলেন, ‘শীত আরও ঘন হলেই কেবল আসল রস বের হবে। এখন যা রস পাওয়া যায়, এটা খাওয়ার উপযোগী না হলেও এটা দিয়ে পাটালি গুড় বানানো হয়। তবে তা খুব ভালো স্বাদের হয় না।’

খেজুর রস খান প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘খেজুর রস গত কয়েক বছর গ্রামে গিয়ে খাই। তবে স্বাদ আগের মতো নেই। এবারও আশা করছি গ্রামে গিয়ে রস খাব এবং বাড়ির সবার জন্য নিয়ে আসব।’

তিনি জানান, চাহিদা বেশি, কিন্তু রস কম পওয়া যায়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি এক লিটার রস কেনেন ১২০ টাকা করে। একটা সময় কিনতেন ৭০ টাকায়। তিনি মনে করেন, গাছির অভাবে ধীরে ধীরে এটা হারিয়ে যাবে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুফী মোহাম্মদ রফিকুজজামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলায় কতটি খেজুরগাছ আছে, বলা মুশকিল। এমনকি গাছিদের সংখ্যাও তেমন জানার সুয়োগ নেই। তবে যারা গাছি, তারা মৌসুমি পেশা হিসেবে এটাকে নিয়েছেন। এ জন্য সঠিক পেশার পরিমাপ করা কঠিন। তবে খেজুর রস কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ভালো স্বাদের হয়। মাগুরার প্রত্যন্ত এলাকায় এখন দেখেছি গাছ কেটে মাটির হাঁড়ি ঝোলানো রয়েছে। আশা করি, শহরবাসী এবার ভালো রস খেতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ
‘বেশি শীত হলে খড়-পাতা জ্বালায় দিন কাটামো’
হেমন্তে কলকাতায় শীতের আমেজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Demand to declare economic zone of watermelon to two upazilas

দুই উপজেলাকে তরমুজের অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার দাবি

দুই উপজেলাকে তরমুজের অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার দাবি মধ্যসত্ত্বভোগীদের জন্য খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় কৃষকরা তরমুজের ন্যায্য দাম পান না। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গত বছর প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজের চাষ করেছেন।

খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাকে তরমুজ চাষের জন্য কৃষি অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

সোমবার বিকেল ৫টায় খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাদিকুর রহমান খানের কাছে এক স্মারকলিপিতে তারা এ দাবি জানান।

লোকজ মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল প্রায় ২০ জন কৃষককে সঙ্গে নিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গত বছর প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজের চাষ করেছেন। তবে ৮০ শতাংশ কৃষকের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম না পাওয়ায় তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেরিতে বীজ রোপণ, বীজের দাম বেশি, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে সার বিক্রি, ছত্রাকনাশক ও হরমোন জাতীয় ওষুধের লাগামহীন মূল্য, মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা না থাকা, সেচের পানির অপ্রতুলতা, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় কৃষকরা এমন ক্ষতিতে পড়েন।

এতে সর্বস্বান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেক কৃষক। তরমুজের সঠিক দাম পেলে এই অঞ্চলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা যোগ হতে পারত।

এ অবস্থায় একটি উদীয়মান কৃষি অর্থনৈতিক সেক্টর এখন অপমৃত্যুর পথে। তরমুজ চাষের শুরু থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত পদে পদে কৃষকরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

তরমুজ চাষে আরও নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। বলা হয়েছে, জমির মালিকরা জমির হারি (ইজারা মূল্য) কয়েকগুণ বাড়িয়েছেন। গত বছর যে জমির হারি ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার ভেতরে ছিল, তা এবার বেড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে।

গত বছর ৩৩ শতকের ১ বিঘা জমি চাষ করতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় খরচ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। গত বছর সার, বীজ, কীটনাশকের দাম গায়ে উল্লেখিত খুচরো মূল্যের চেয়ে বেশি নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, পরিবহন সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়।

এসব সমস্যার সমাধানে কৃষকরা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি হলো খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাকে তরমুজ চাষের জন্য কৃষি অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করতে হবে। এ ছাড়া কীটনাশক কম লাগে এমন উচ্চ ফলনশীল ইনব্রিড বীজ উদ্ভাবন করে বাজারে বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। নদী-খাল লিজ/অবুমক্ত ও খনন করে চাষের জন্য সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া প্রকৃত তজমুজ চাষিদের তালিকা করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রির জন্য আড়ত স্থাপনসহ অন্যান্য বিষয়েরও তদারকি করতে হবে।

আরও পড়ুন:
প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, জানে না প্রশাসন
বেশি দামে তরমুজ ও খেজুর বিক্রির দায়ে জরিমানা
লোকে কেন আছাড় মেরে তরমুজ ভাঙছে
কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করায় জরিমানা
কেজি দরে বিক্রি, তাহলে এক বা দুই কেজি নয় কেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Women have taken up vegetable cultivation in Thakurgaon

ঠাকুরগাঁওয়ে সবজি চাষে নেমেছেন নারীরা

ঠাকুরগাঁওয়ে সবজি চাষে নেমেছেন নারীরা
নাজমা বেগম বলেন, ‘বলাবলি হচ্ছে সামনের বছর নাকি খাদ্যসংকট দেখা দিবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিত্যক্ত জায়গা ফেলে না রেখে শাকসবজি চাষাবাদ করতে বলেছেন। আমিও চিন্তা করে দেখলাম বাসার পুরুষরা চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেই এর পরিচর্যা করতে পারব।’

নেট দিয়ে ঘের দেয়া একখণ্ড জমি। জমির কিছু অংশে পেঁয়াজ, রসুন, ও কিছু শীতকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন নাজমা বেগম নামের এক গ্রামীণ নারী। সেই জমিতে শাকসবজির উৎপাদন বাড়াতে প্রতিনিয়ত পরিচর্যা করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় ৪০ বছর বয়সী নাজমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, বাড়ির পাশে জমিতে একটি লিচুর বাগান ছিল তার। কিন্তু বাগানে গত পাঁচ বছর ধরে ফলন আসছে না। তাই বাগান কেটে এবারই প্রথম শাকসবজি চাষ শুরু করেছেন।

নাজমা বেগম বলেন, ‘বলাবলি হচ্ছে সামনের বছর নাকি খাদ্যসংকট দেখা দিবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিত্যক্ত জায়গা ফেলে না রেখে শাকসবজি চাষাবাদ করতে বলেছেন। আমিও চিন্তা করে দেখলাম বাসার পুরুষরা চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেই এর পরিচর্যা করতে পারব। এতে ব্যবসা না হোক, নিজের পরিবারের শাকসবজির চাহিদা মিটবে আমার।’

গ্রামের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে এগোতেই দেখা গেল বাড়ির উঠানের পাশে পরিত্যক্ত আরেক খণ্ড জমিতে একই রকম নেটের ঘের। ভেতরে কাজ করছেন নাসিমা আক্তার নামের এক বিধবা নারী।

তিনি জানান, এটা তার স্বামীর ভিটা। স্বামী মারা গেছেন প্রায় এক যুগ। তিন বছর আগে গ্রামের আরেক জায়গায় নতুন বাড়ি করেছেন তারা। সন্তান নিয়ে সেখানেই আছেন। জায়গাটা পড়ে ছিল। বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট দেখা দেবে এমন কথা শোনার পর পুরোনো ভিটেতে প্রথমবারের মতো শাক ও সবজির কিছু চারা রোপণ করেছেন। সঙ্গে রসুন বুনেছেন। এ ছাড়া মরিচসহ আরও কিছু সবজির চারা রোপণ করার পরিকল্পনা আছে তাদের।

নাসিমা বেগম বলেন, ‘বাজারে শাকসবজির অনেক দাম বেড়েছে। আয়ের অংশ থেকে কোনো সঞ্চয় হয় না। সংসারের চাপ সামলাতে ও পরিবারের চাহিদা মেটাতে আমরা অনায়াসে শাকসবজি চাষ করতে পারি। এই একখণ্ড জমি থেকেই সারা বছর শাকসবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

গ্রামের শিক্ষার্থী এমদাদুল হক বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে। এ কথাগুলো সত্যি আতঙ্কের। তবে যাদের আশপাশে পরিত্যক্ত জমি আছে, সেগুলো ফেলে না রেখে আমরা যদি একটা দুটো সবজির গাছ রোপণ করি, তবে না খেয়ে মরব না। একে অপরের সঙ্গে সবজি বিনিময় করে হলেও চলব। আমাদের উৎপাদন করতে হবে। অনেকের জমি নেই, তাদের যেন সহযোগিতা করতে পারি এমন প্রস্তুতি নিতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহম্মদ আজিজ বলেন, ‘বাড়ির উঠানের পাশে জমি, পুকুরপাড় ইত্যাদি জায়গাগুলোতে আমরা মসলাজাতীয় ফসল, শাকসবজি ও ফলের গাছ রোপণের পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠপর্যায়ে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি, যেন তারা এক ইঞ্চি জমিও ফেলে না রাখে।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের চাপের মধ্যে আরও একটি আইপিও আবেদন শুরু
ফের ঢালাও পতন, মাথা উঁচু করে জীবনবিমা
বস্তায় আদা চাষ
নওগাঁয় বাজারে নতুন আলুর কেজি ২০০ টাকা
ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে হঠাৎ চাঙা জীবনবিমা, আগ্রহ ব্যাংকেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Self sufficiency in agriculture is the focus now on safe food

কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নজর এখন নিরাপদ খাদ্যে

কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নজর এখন নিরাপদ খাদ্যে খাদ্য নিরাপত্তায় এখন জোর দিচ্ছে সরকার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
১৯৭১ সালে দেশে যেখানে মোট দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ টন, সেখানে ২০২১ সালে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। অনেক ফসলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের একটি।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে কৃষি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলেও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, সরকারের নজর এখন খাদ্য নিরাপত্তায়। এ নিয়ে পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে।

দেশে এখন একফসলি জমিতেও আবাদ হচ্ছে গড়ে দুটি ফসল। এলাকাভেদে এ চাষাবাদ গড়িয়েছে তিন থেকে চার ফসলেও। এতে বিশ্বের গড় উৎপাদন হারকে পেছনে ফেলে জনসংখ্যার হিসেবে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ খাদ্যে হয়ে উঠেছে স্বনির্ভর।

প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনে বিশ্বে এখন তৃতীয় থেকে চতুর্থ অবস্থানে ওঠানামা করছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার আগে বেশি পরিমাণ জমি চাষাবাদে ফসল মিলত কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ধানের পাশাপাশি সবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে তৃতীয়। আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি হেক্টরে শস্যের গড় উৎপাদন হার যেখানে প্রায় তিন টন, সেখানে বাংলাদেশে তা সোয়া চার টনে উন্নীত হয়েছে। ৫০ বছরে বাংলাদেশে গমের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। সবজি উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ।

১৯৭১ সালে দেশে যেখানে মোট দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ টন, সেখানে ২০২১ সালে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। ২০২০ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টন। তবে দেশে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয় ২০১৭ সালে। সে বছর দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন হয় ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬২ হাজার টন।

একই সঙ্গে ঘটছে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ। গত ১০ বছরে সরকারি হিসেবেই প্রায় ৬৯ হাজার কৃষিযন্ত্র গ্রহণ করেছে কৃষক। এসব যন্ত্রে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

কৃষির যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকার ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প নেয়, যেটির তৃতীয় ধাপ ২০২০ সালে শুরু হয়। শেষ হবে ২০২৪ সালে।

দানাদার খাদ্যশস্যের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদেও সমৃদ্ধির স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ। সবজি ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনের ৮৬ শতাংশই হয় এ দেশে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, ২০০৮ থেকে ২০০৯ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৯ থেকে ২০২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। এ সময় উৎপাদন বেড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন বা দ্বিগুণের কাছাকাছি।

পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তবে পাট রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশই প্রথম। ছাগল উৎপাদনেও অবস্থান চতুর্থ। আর ছাগলের মাংস উৎপাদনে পঞ্চম। আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চা উৎপাদনে অবস্থান নবমে। সার্বিক ফল উৎপাদনে রয়েছে দশম অবস্থানে। গবাদি পশু পালনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপপরিচালক (গণযোগাযোগ) ড. শামীম আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। আমাদের প্রধান বার্তা হচ্ছে নিরাপদ কৃষি। সবজি, মাছ, পোলট্রি– এসবের উৎপাদন নিরাপদ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার এখন কৃষকদের ভর্তুকি দিচ্ছে, যাতে উৎপাদন ঠিক থাকে। এটা আমাদের প্রায়োরিটি প্রজেক্ট। আগে আমরা খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য কৃষির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি, তবে এখন নিরাপদ কৃষির দিকে যাচ্ছি।’

শামীম আহমেদ বলেন, ‘এখন আমরা অনাবাদি জমিগুলোকে আবাদি করে তুলছি। আমাদের ধানের উৎপাদন বেড়েছে। আগে ছিল ২৯ আর এখন সেটা ৮৯ হয়েছে। আমাদের ধান গবেষণা ইউস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা কিন্তু এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আর কৃষক সেটাকে গ্রহণ করেছে।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের সিএসও ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ধানে স্বয়ংসস্পূর্ণ বলা যাবে। অনেক প্রজাতির ধান অবমুক্ত করা হচ্ছে এখন। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য ও কৃষি।’

মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলনে, ‘আমরা কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীর জন্যেও বাজারে চাল এনেছি। এটার নাম বিআর১৬, বিআর৪৬ ও বিআর৬৯। এ ছাড়া জিংকসমৃদ্ধ চালও বাজারে অবমুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর নাম বিআর৬৪, বিআর৮৪ ও বিআর৭৪।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। প্রতি বছর ২২ থেকে ২৫ লাখ শিশু জন্ম নিচ্ছে। তাদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদাও বাড়ছে।’

তিনি পশুশিল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ গরুর খাবারের প্রয়োজন হয়। যদি এক কেজি করেও খাওয়ানো হয়, তবে বছরে সাড়ে ৩৬ মেট্রিক টন লাগবে। এ ছাড়া পোলট্রি ও মাছেও খাবার লাগছে। এর জন্য তো আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

তিনি বলনে, ‘আমরা এখন নিরাপদ খাদ্য নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এই বিষয়ে।’

আরও পড়ুন:
বিশৃঙ্খলা করলে বিএনপিকে ‘হেফাজতের মতো দমন’
বাগেরহাটের কচুয়ায় আখ বিক্রি বছরে ২৭ কোটি টাকা
২৫ চাকরি দিচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর
‘বিএনপি একটা পর্যায়ে নির্বাচনে আসবে’
চিনিকলের পতিত জমি চাষের আওতায় আনার নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ginger cultivation in bags

বস্তায় আদা চাষ

বস্তায় আদা চাষ বস্তায় হচ্ছে আদা চাষ। ছবি: নিউজবাংলা
সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় ফলানো যায় আদা। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে ফলন ভালো হচ্ছে বলে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

প্রতিবছর উপজেলার সব ইউনিয়নের ফসলি জমিতে আদা চাষ করা হতো। এতে অনেক কৃষক লাভের মুখ দেখতে পায়নি। ফলে তারা বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতিমধ্যে উপজেলাটির পুটিজানা ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে বেশকিছু কৃষক আদা চাষে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

পুটিজানা ইউনিয়নের বেড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক শংকর চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমার ৩০ শতাংশ পতিত জমিতে প্রায় ৬ হাজার বস্তা আদা চাষ করেছি। বস্তা, আদা, সার কেনা এবং পরিচর্যাসহ প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে প্রায় ৩২ টাকা।’

বস্তায় আদা চাষ

এনায়েতপুর ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করেছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম কমপক্ষে ৬০ টাকা। ৬০০ বস্তায় ১ হাজার ২০০ কেজি উৎপাদন হলে বাজারে ৭২ হাজার টাকা দাম পাওয়া যাবে। এতে খরচ বাদে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় ফলানো যায় আদা। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বাড়ির উঠান, প্রাচীরের কোল ঘেঁষে বা বাড়ির আশেপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যেখানে খুশি রাখা যায়। এর জন্যে আলাদা জমি ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।

চাষাপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে একটি বস্তায় ৩ ঝুড়ি মাটি, ১ ঝুড়ি বালি, ১ ঝুড়ি গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক ফুরাডান ৫জি ২৫ গ্রাম নিতে হবে। মাটির সঙ্গে এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

এবার একটি বালিভর্তি টবে তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। আদার কন্দ লাগানোর আগে ছত্রাকনাশক অটোস্টিন ২ গ্রাম এক লিটার পানিতে দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। অন্য ছত্রাকনাশকও ব্যবহার করা যাবে।

শোধনের পর কন্দগুলো আধাঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। ২০ থেকে ২৫ দিন পর গাছ বের হবে। তখন আদার চারা সাবধানে তুলে বস্তার মুখে ৩ জায়গায় বসিয়ে দিতে হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদা গাছ বড় হয়ে যাবে।

জেসমিন নাহার বলেন, এ উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে। এ বছর প্রথম বেশকিছু কৃষক বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তাঁদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মতিউর রহমান বলেন, বস্তায় চাষ করলে অতিবৃষ্টি বা বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। একবার ফসল তোলার পর সেখানে আলাদা করে কোনো সার ছাড়াই আরেকটি ফসল ফলানো যায়। ফলে খরচ একেবারেই কম।

আরও পড়ুন:
দামে কারসাজি: ইউনিলিভার, সিটি, প্যারাগন, কাজীর বিরুদ্ধে মামলা
৩০০ টাকা থেকে মরিচ এখন ৪০
ঝাঁজ কমল কাঁচা মরিচের, কমল সবজির দামও
কমেছে সবজির দাম, বেড়েছে মাংসের
ঈদের ছুটিতে কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি, শসার সেঞ্চুরি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Submission of returns of paddy traders every week

ধান-চাল ব্যবসায়ীদের রিটার্ন জমা প্রতি সপ্তাহে

ধান-চাল ব্যবসায়ীদের রিটার্ন জমা প্রতি সপ্তাহে
মন্ত্রী বলেন, ‘বোরো মৌসুম থেকে ধান-চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। যারা ধানের আড়তের ব্যবসা করছেন তারা প্রতি সপ্তাহে কতটুকু ধান কিনছেন, কতটুকু ধান কোন মিলে বিক্রি করছেন তার হিসাব সরকারকে দিতে হবে। চালকল মালিকদেরও এই নিয়ম মেনে চলতে বলা হচ্ছে।’

ধান-চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে খাদ্যমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বোরো মৌসুম থেকে ধান-চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। যারা ধানের আড়তের ব্যবসা করছেন তাদের প্রতি সপ্তাহে কতটুকু ধান কিনছেন, কতটুকু ধান কোন মিলে বিক্রি করছেন তার হিসাব সরকারকে দিতে হবে। চালকল মালিকদেরও এই নিয়ম মেনে চলতে বলা হচ্ছে।

‘যারা এই হিসাব দেবেন না তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এবার ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। যে সব মিলার করপোরেট গ্রুপের কোনো ব্র্যান্ডের নামে চাল বাজারজাত করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লাইসেন্স নেই এমন অনেক ব্যক্তি ধান-চাল কিনে মজুত করে রাখছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে থাকে। বিনা লাইসেন্সে কোনো ব্যক্তি ধান-চালের ব্যবসা করতে পারবে না। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খাদ্য নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে উল্লেখ করে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকট হতে পারে বলে আভাস দেয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

‘এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য আমদানি করা হচ্ছে। কৃষকদের এই পরিস্থিতিতে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। নিজেদের যেসব জমি আছে তার সবটা জুড়ে ফসল আবাদ করলে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে খাদ্য আমদানি করতে হবে না।’

কৃষকদের প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে সার ও বিদ্যুতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। কৃষকদের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের উৎপাদিত ধানের কিছু কিছু সরকারি গুদামে দেয়া।

‘২০১৮-১০১৯ সালে ধানের দাম বাজারে অতিরিক্ত পরিমাণে কমে যায়। তখন কৃষক হা-হুতাশ করতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কৃষকদের ধানের নায্য দাম নিশ্চিত করতে মৌসুমের শুরুতেই ধান-চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলেই কৃষক ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সময় কোনো কৃষক বা মিলার যেনো কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন গুদামে ধান দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

ধান-চাল সংগ্রহের সময় খাদ্যর অপচয় বা নষ্ট না করে ভালোভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

চলতি বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন ও সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী।

নওগাঁ জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৪৫৪ টন ধান এবং ২২ হাজার ১৩৬ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান ক্রয় ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সিদ্ধ চাল ক্রয় করা হবে।

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী নওগাঁ, কুষ্টিয়া, নেত্রকোণা ও দিনাজপুর জেলার সরকারি কর্মকর্তা, কৃষক, চালকল মালিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আরও পড়ুন:
সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের দেশে বড় বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি শোধনাগার নির্মাণে কুয়েতের প্রস্তাব বাস্তবায়নের নির্দেশ
হজযাত্রী পাঠানোর জাহাজকে প্রমোদতরি বানান জিয়া: শেখ হাসিনা
সুপ্রিম কোর্টে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন দিগন্ত

মন্তব্য

p
উপরে