× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Helal Hafeez will stay at Old Home for now
hear-news
player
google_news print-icon

ওল্ড হোমে থাকবেন হেলাল হাফিজ

ওল্ড-হোমে-থাকবেন-হেলাল-হাফিজ
কবি হেলাল হাফিজ। ফাইল ছবি
কবির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট এরশাদুল হক টিংকু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কবি অন পেমেন্টে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে শাহবাগের সুপার হোস্টেলে থাকতেন। ওই রুমটা ফাঁকা না থাকায় তিনি অল্টারনেটিভ কিছু খুঁজছিলেন। উনি তো ফ্যামিলির কাছেও যেতে চান না। আপাতত ২০ দিনের জন্য তাকে একটা ওল্ড হোমে রাখার বিষয়টি ফাইনাল হয়েছে। শনিবার থেকে তিনি সেখানেই থাকবেন।’

চোখ ও কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন ৭৪ বছর বয়সী কবি হেলাল হাফিজ। এসব নিয়ে গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কয়েক দফা বেশকিছু দিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে তাকে। ২০ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি কোথায় থাকবেন তা নিয়ে জটিলতা শুরু হয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি উঠেছিলেন রাজধানীর শাহবাগে এক হোস্টেলে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সেটা নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। তারপর থেকে আপাতত তিনি আছেন কবি ইসমত শিল্পীর বাসায়।

এদিকে একা অসুস্থ কবির দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়েছে ইসমত শিল্পীর পক্ষে। এ নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্টও দেন তিনি। এরপরই আলোচনায় আসে তাহলে কোথায় থাকবেন হেলাল হাফিজ।

ইসমত শিল্পী বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওনার শরীর ভালো না, বসতেও পারেন। একেবারে খাওয়া আর ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় ওঠেন-বসেন। শারীরিকভাবে তিনি খুবই দুর্বল।’

কবির থাকার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন তো অনেকেই জেনে গেছেন। আসলে দায়িত্ব নেয়া এক জিনিস…। আমিও তো পেশাজীবী মানুষ। এভাবে একা তো ওনার দেখাশোনা করা কঠিন। তাকে চারবার ইনসুলিন দিতে দিয়। প্রেসার নেমে গেল কিনা চেক করতে হয়। সেসব আমিই করছি। আমার কাছে থাকলে তো আমাকে দায়-দায়িত্ব সব নিতে হয়, তা তো সম্ভবও না।’

তিনি বলেন, ‘এখন অনেকেই চেষ্টা করছেন তার থাকার ব্যবস্থা করার জন্য। তবে এখনও মনে হয় ফাইনাল হয়নি কিছু। আমাকে কেউ কিছু এখনও জানায়নি।’

কবির চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট এরশাদুল হক টিংকু এ ব্যাপারে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কবি অন পেমেন্টে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে শাহবাগের সুপার হোস্টেলে থাকতেন। ওই রুমটা যেহেতু ফাঁকা নেই তাই অল্টারনেটিভ কিছু খুঁজছিলেন।

‘উনি তো ফ্যামিলির কাছেও যেতে চান না। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে ছোট ভাই (হেলাল হাফিজের) ‌ওনাকে নিয়ে যেতে চান ময়মনসিংহে। এ নিয়ে এক ধরনের সেটেলমেন্ট হয়েছে। কিন্তু এই কয়টা দিন ঢাকায় কোথাও তার থাকার জায়গা হওয়াটা জরুরি। আমরা ২০ দিনের জন্য একটা ওল্ড হোমে রাখার প্ল্যান করেছি। সেটা ফাইনালও হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে তিনি সেখানেই থাকবেন।’

টিংকু আরও বলেন, ‘কবির আর্থিক অসঙ্গতির কোনো ঝামেলা নেই। আর এই থাকার ব্যবস্থাটা তার কনসার্ন নিয়েই করা হচ্ছে।’

হেলাল হাফিজের লেখালেখির শুরুটা ষাটের দশকে। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রচিত ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি তাকে ব্যাপক খ্যাতি এনে দেয়।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। এর ২৬ বছর পর ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তার ৩৪টি কবিতা নিয়ে ঢাকা ও কলকাতা থেকে প্রকাশ হয় তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’।

২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান হেলাল হাফিজ।

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার বড়তলী গ্রামে ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর জন্ম নেয়া এই কবির শৈশব, কৈশোর ও যৌবন কেটেছে নিজ শহর নেত্রকোণাতেই।

১৯৬৫ সালে নেত্রকোণা দত্ত হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোণা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালেই কাটছে হেলাল হাফিজের জন্মদিন
ভীষণ দুর্বল কবি হেলাল হাফিজ দোয়া চাইলেন সবার
‘ভালোবাসাই ভরসা, সবাইকে ভালোবাসা জানাই’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Childrens writer Ali Imam passed away

চলে গেলেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম

চলে গেলেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম। ছবি: সংগৃহীত
আলী ইমামের ছেলে ডা. তানভীর ইমাম অন্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন।’  

শিশুসাহিত্যিক ও মিডিয়াব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আলী ইমামের ছেলে ডা. তানভীর ইমাম অন্ত। তিনি বলেন, ‘আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন।’

তানভীর ইমাম জানান, নিউমোনিয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে ১০ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তার তাকে।

মঙ্গলবার চ্যানেল আই-এ বাদ জোহর জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

আলী ইমাম শিশুদের জন্য গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ফিচার, ভ্রমণকাহিনি, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিসহ ছয় শতাধিক বই লিখেছেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাব্যবস্থাপক ছিলেন এবং ২০০৬ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন।

বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান আলী ইমাম ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sufia Kamals example is an inspiration for women Prime Minister

সুফিয়া কামালের দৃষ্টান্ত নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

সুফিয়া কামালের দৃষ্টান্ত নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামালের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে, জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে, এমনটি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৯ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ কবি বেগম সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শনিবার রাতে দেয়া বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার, নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা কবি সুফিয়া কামালের জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান।

১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সুফিয়া কামাল ছিলেন একদিকে আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, মমতাময়ী মা, অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তার আপসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামসহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি তাকে জনগণের ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে, যখন এ দেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

তিনি আশা করেন, কবি বেগম সুফিয়া কামালের জীবনী চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। কবির ভাষায়-

‘তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর/ আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।

শস্য-শ্যামল এই মাটি মা’র অঙ্গ পুষ্ট করে / আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে।’

নারী জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে তাকে বেশির ভাগ সময় সম্বোধন করা হয়। এটা কিন্তু তার প্রতি অবিচার। কারণ নারী জাগরণের পথিকৃৎ বলতে আমরা যা বুঝি, সুফিয়া কামাল শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং যদি বলা যায় তিনি বাঙালি জাগরণের পথিকৃৎ, তবেই বরং তার প্রতি সুবিচার করা হয়। তিনি সুফিয়া কামাল। কেবল সাহিত্যচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাঙালি জাতির যেকোনো দুর্যোগের সময় তিনি হাজির হয়েছেন জননীর মতো।

১৯৬১ সাল থেকে পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রসংগীত প্রচারের ওপর নেমে আসে পাকিস্তানি শাসকদের গোপন নিষেধাজ্ঞা। সে বছর পুরো বিশ্বে যেখানে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, সেখানে রেডিও পাকিস্তান কোনো প্রচার করেনি। শুধু তা-ই নয়, কিছু ‘বাঙালি’ বুদ্ধিজীবী দিয়ে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে বিষোদগারও করানো হয় নানাভাবে।

ব্যতিক্রম ছিলেন সুফিয়া কামালসহ আরও অনেক বাঙালি সংস্কৃতিকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও লেখক। পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার থমথমে পরিবেশের মধ্যেও ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পালন করেন তারা। অনুষ্ঠান শেষে একটি দলের সদস্য হিসেবে জয়দেবপুরে বনভোজনে যান সুফিয়া কামাল। সেখানে ‘ছায়ানট’ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার কথা আলোচিত হয়। আর সেই সূত্রে ছায়ানটের সভাপতি করা হয় সুফিয়া কামালকে।

এমনটি উঠে এসেছে শিশুসাহিত্যিক ও কলাম লেখক সুলতানা লাবুর লেখায়।

১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় পাকিস্তান রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধ থাকে। এরপর ১৯৬৭ সালের জুনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ওই বাজেট অধিবেশনে রাজশাহী থেকে নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সদস্য মজিবর রহমান চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন মন্তব্য করেন, পাকিস্তানি আদর্শের সঙ্গে না মিললে রেডিও-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধ করে দেয়া হবে।

এ সংবাদ ঢাকার সংবাদপত্রে (দৈনিক পাকিস্তান ও অবজারভার, ২৩-২৮ জুন ১৯৬৭) প্রকাশিত হলে ২৫ জুন ১৯ জন বিশিষ্ট বাঙালি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন- রবীন্দ্রনাথ বাংলাভাষী পাকিস্তানির সাংস্কৃতিক সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিবাদীদের একজন ছিলেন সুফিয়া কামাল।

ছোটবেলা থেকেই সুফিয়া কামাল ছিলেন প্রতিবাদী এবং সমাজ সেবকও। সুফিয়া কামাল নিজেই জানিয়েছেন, ‘চৌদ্দ বছর বয়সে বরিশালে প্রথমে সমাজ সেবার সুযোগ পাই। বাসন্তী দেবী ছিলেন অশ্বিনীকুমার দত্তের ভাইয়ের ছেলের বৌ। তার সঙ্গে দুস্থ মেয়েদের বিশেষ করে মা ও শিশুদের জন্য মাতৃসদনে আমি কাজ শুরু করি।’

এই হলেন সুফিয়া কামাল। কবি-লেখক, সমাজসেবক-সংস্কৃতিকর্মী, বুদ্ধিজীবী। বাঙালি জাতিসত্তার এক মহিরুহ। ১৯১১ সালের ২০ জুন সোমবার বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামাবাড়িতে তার জন্ম। বাবা সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মা সৈয়দা সাবেরা খাতুন। আরব্য উপন্যাসের হাতেম তাইয়ের কাহিনি থেকে নানি তার ডাক নাম রাখেন হাসনা বানু। আর দরবেশ নানা তার নাম রেখেছিলেন সুফিয়া খাতুন।

সুফিয়া খাতুনের বাবা পেশায় ছিলেন উকিল। কিন্তু তার সাত বছর বয়সে সুফি সাধক হওয়ার প্রেরণায় ঘর ছাড়েন বাবা। বাধ্য হয়ে মাসহ নানার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাকে। ওদিকে তার নানা বাড়ির সবাই ছিলেন রক্ষণশীল মুসলিম। শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবার হওয়ায় তার নানার বাড়ির কথ্যভাষা ছিল উর্দু। এ কারণে অন্দরমহলে মেয়েদের আরবি, ফারসি শেখার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলা শেখানো ছিল হারাম পর্যায়ে। তবে সেখানে ছিল বিশাল পাঠাগার। মায়ের উৎসাহ ও প্রেরণায় লুকিয়ে সেই পাঠাগার থেকে বই পড়তেন সুফিয়া কামাল।

মায়ের কাছে বাংলা শেখেন। রক্ষণশীল পরিবারের মেয়েদের স্কুল-কলেজে পড়ার তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু সুফিয়া কামালের জেদের কাছে হার মেনে পায়জামা-আচকান আর মাথায় টুপি পরে ছেলের ছদ্মবেশে তাকে কিছুদিনের জন্য স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হলো তার পরিবার। বাকিটা শিখেছেন নিজেই। তাকে সহায়তা করেছিলেন স্থানীয় পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার প্যারীলাল বাবু ও তার বড়ভাই সৈয়দ আবদুল ওয়ালী। মাত্র সাত বছর বয়সে কলকাতায় বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। প্রথম সাক্ষাতেই সুফিয়াকে নিজের স্কুলে ভর্তি করে নিতে চেয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। কিন্তু তার পরিবারের অতি রক্ষণশীলতার কারণে আর সে সুযোগ হয়নি।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নেহাল হোসেন ছিলেন প্রগতিশীল ও নারী শিক্ষার সমর্থক। স্বামীর উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় সুফিয়া এন. হোসেন নামে (তখনও তার নাম সুফিয়া কামাল হয়নি) লেখা প্রকাশিত হতে লাগল বিভিন্ন পত্রিকায়। এজন্য পরিবার থেকে প্রচুর সমালোচনা ও গঞ্জনার শিকার হয়েছেন নেহাল।

১৯২৮ সালে পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে প্রথম বাঙালি মুসলমান নারী হিসেবে বিমানে উড্ডয়ন করেন সুফিয়া। এ জন্য বেগম রোকেয়া তাকে অভিনন্দন জানান বিশেষভাবে। ১৯২৯ সালে রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে গেলে বিশ্বকবির হাত থেকে গোরা উপন্যাস পান উপহার হিসেবে।

১৯৩০ সালে ছবিসহ মহিলা ‘সওগাত’ পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। স্বামীর অনুমতিক্রমে মহিলা সওগাত বঙ্গাব্দ ভাদ্র ১৩৩৬ সংখ্যায় ছবিসহ তার ‘বিড়ম্বিতা’ কবিতা প্রকাশিত হয়।

১৯৩২ সালে ক্ষয়রোগে স্বামীর মৃত্যুর পর চরম দুর্ভোগে পড়েন সুফিয়া। পরের বছর কলকাতা করপোরেশন স্কুলে শিক্ষকতার সুযোগ পান তৎকালীন এডুকেশন অফিসার ক্ষিতীশ প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায়। তিন মাসের মধ্যে যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে শিক্ষয়িত্রী পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পান।

১৯৩৮ সালে প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। চট্টগ্রামের চুনতীর কামালউদ্দিন খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১৯৩৯ সালে। এরপর থেকে তিনি সুফিয়া কামাল নামে পরিচিত হন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুফিয়া কামাল।

১৯৪৬ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় নিজের এক মেয়েসহ কলকাতা ব্রেবোর্ন কলেজ সেন্টারে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেন। দাঙ্গার পর কংগ্রেস একজিবিশন পার্কের মধ্যে ‘রোকেয়া মেমোরিয়াল স্কুল’ নামে একটি কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির স্কুল চালু করেন।

১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতার ‘সওগাত’ অফিস থেকে ‘সাপ্তাহিক বেগম’ নামে নারীদের জন্য নতুন একটি সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ করেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। নতুন এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল।

প্রথম মুসলমান নারী হিসেবে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তিও করেছিলেন সুফিয়া কামাল। আর এভাবেই তিনি একের পর সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে লাগলেন।

দেশ বিভাগের পর কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন সুফিয়া কামাল। নতুনভাবে শুরু করেন তার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। ১৯৫১ সালের শেষের দিকে সমাজ-সচেতন নারীদের এক সমাবেশে গঠিত হয় ‘ঢাকা শহর শিশু রক্ষা সমিতি।’ সুফিয়া কামাল এ সমিতির সভানেত্রী নির্বাচিত হন। তারপর জড়িয়ে পড়েন বাংলা ভাষা আন্দোলনে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক কবিতা ও প্রবন্ধ লেখেন।

১৯৫৬ সালে দিল্লিতে সাহিত্য সম্মেলনে অংশ নেন সুফিয়া কামাল। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ‘কচিকাঁচার মেলা’ নামে প্রগতিশীল শিশু সংগঠন প্রতিষ্ঠা হয় তার বাসভবনে। তিনি ছিলেন এর উপদেষ্টা।

বাংলার আরেক মহীয়সী বেগম রোকেয়া ছিলেন তার আদর্শ। ১৯৬০ সালে সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে ‘বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত স্মৃতি কমিটি’ গঠিত হয়। তার উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রীনিবাসের নাম ‘রোকেয়া হল’ রাখার প্রস্তাব করা হয়।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৬৫ সালে ঢাকায় আসেন। পাকিস্তানবিরোধী মনোভাবের কারণে বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় সুফিয়া কামাল আইয়ুব খানকে বলেছিলেন, ‘আপনি সব শুনুন এবং এর একটা সমাধান করে দিয়ে যান।’ তখন আইয়ুব খানের জবাব ছিল, ‘ওধার তো সব ইনসান হ্যায়, এধার তো সব হাইওয়ান’। অর্থাৎ ওদিকে তো সব মানুষ, এদিকে সব জানোয়ার। আইয়ুব খানের মুখের উপর জবাব দিয়েছিলেন সুফিয়া কামাল, ‘আপ তো উও হাইওয়ানকৌ প্রেসিডেন্ট হ্যায়’। অর্থাৎ আপনি তো সেই জানোয়ারদেরই প্রেসিডেন্ট। ১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী মহিলাদের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুফিয়া কামাল। মিছিলেরও নেতৃত্ব দেন। গঠন করেন ‘মহিলা সংগ্রম পরিষদ’।

পাকিস্তানের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ পেয়েছিলেন ১৯৬১ সালে। ১৯৬৯ সালে বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের কারণে তিনি সে পদক বর্জন করেন। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলে ত্রাণ বিতরণেও এগিয়ে আসেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই পাকিস্তানিরা তার ওপর কড়া নজর রেখেছিল। দুরবিন দিয়ে তার বাসায় গোয়েন্দাগিরি চালাত। তার বাসার সামনে কেউ এলে তল্লাশি চালাত, যানবাহনের নম্বর লিখে রাখত। এর মধ্যে মার্চে খবর রটে যায় সুফিয়া কামালকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। বিদেশে এ খবর প্রচারিত হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হলো। এ থেকে বাঁচতে পাকিস্তানি সরকারি প্রচার মাধ্যম তার সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যেতে লাগলেন। তাদের চাপাচাপিতে শেষ পর্যন্ত তিনি যে বেঁচে আছেন শুধু এটুকু জানাতে রাজি হলেন। তাতেই ওরা রাজি হয়ে গেল।

তারপর তার সঙ্গে যা কথা হলো-

প্রশ্ন: আপনি কেমন আছেন?

সুফিয়া কামাল: আমি মরিনি।

প্রশ্ন: সাহিত্যকর্ম কেমন চলছে?

সুফিয়া কামাল: এ অবস্থায় যেমন চলে।

এরপর আরও অনেক প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে। তিনি জবাব দেননি।

তার নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিল সোভিয়েত সরকার। তাকে বিশেষ বিমানে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবে তিনি জানালেন, ‘এখন আমি এ দেশ ছেড়ে বেহেশতেও যেতে রাজি নই। আমার দেশের মানুষেরা শান্তি পাক, সোয়াস্তি লাভ করুক। এ দেখে যেন আমি এ মাটিতেই শুয়ে থাকতে পারি।’

মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টায় তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। তার অনেক প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন তার কাছে রেশন কার্ড রেখে ঢাকা ছেড়েছিল। ওসব কার্ড দিয়ে চাল-ডাল তুলে নিজের বাসায় এনে রাখতেন। মুক্তিযোদ্ধারা সময় সুযোগ করে বাসার পিছনের দেয়াল ডিঙিয়ে এসে তার কাছ থেকে নিয়ে যেতেন সেগুলো।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সদা তৎপর ছিলেন এই মহীয়সী। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত সময় তাকে হত্যা করার জন্য ময়মনসিংহ থেকে আল বদরের বিশেষ ক্যাডার নিয়ে আসা হয়েছিল। মুক্তিবাহিনীর সতর্ক প্রহরার কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আর সেই ক্যাডাররা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হয়।

এটুকুতেই থেমে থাকেননি সুফিয়া কামাল। নিজের দুই মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ভারতের আগরতলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সেবার জন্য হাসাপাতাল গঠনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন তার দুই মেয়ে সুলতানা কামাল ও সাঈদা কামাল।

মুক্তিযুদ্ধের পর নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের কাজে জড়িয়ে পড়েন সুফিয়া কামাল। তিনি ছিলেন ‘নারী পুনর্বাসন সংস্থা’র সভানেত্রী। আর ‘মহিলা পরিষদ’-এর মাধ্যমে নারী সমাজের সার্বিক মুক্তির কাজ তার কখনও থেমে ছিল না।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে সুফিয়া কামালের ছিল অকৃত্রিম সম্পর্ক। চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে বঙ্গবন্ধু সেগুনবাগিচার ১১৫ নম্বর সরকারি বাড়িতে থাকার সময় ১৯৫৮ সালের ১২ অক্টোবর ওই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। তিন দিনের নোটিসে বাড়িও ছাড়তে হয় বঙ্গবন্ধু পরিবারকে। বেগম মুজিব সিদ্ধেশ্বরীতে একটি বাড়ি ভাড়া নিলেও সরকারি হুমকি ধামকিতে ওই বাড়িটাও ছাড়তে বাধ্য হন। তখন এগিয়ে এসেছিলেন সুফিয়া কামাল। তার প্রচেষ্টায় সেগুনবাগিচার ৭৬ নম্বর বাড়িতে মাসিক ৩০০ টাকার ভাড়ায় ওঠেন বেগম মুজিব।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যার পর বৈরী পরিবেশেও তিনি এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। আবার চরম বৈরী পরিবেশে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠনে অন্যতম সহায়ক ছিলেন সুফিয়া কামাল। এই ট্রাস্টই ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট বাড়িটিকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করে সেটাকে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তর করে।

১৯৯০ সালে আশি বছর বয়সেও তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশবাসীকে উজ্জীবিত করার জন্য রাজপথে মিছিলের নেতৃত্ব দেন, তা-ও কারফিউর মধ্যে।

দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন সুফিয়া কামাল। তবে তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। এটাও তিনি তার সেবা ও মহত্ত্ব দিয়ে অর্জন করেছেন। ১৯৮৪ সালে মস্কো থেকে তার ‘সাঁঝের মায়া’র রুশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মস্কোতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুফিয়া কামাল। তখনই এক রুশ তরুণ কবি তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি গোর্কির মা উপন্যাসের জননী’।

সুফিয়া কামাল ছিলেন অসম্ভব সাহসী এক দেশপ্রেমিক। তার মানসিক শক্তি ছিল অতুলনীয়। তিনি জীবনে অনেকবার ভেঙেছেন, আবার উঠে শুধু দাঁড়ানইনি, ছুটেছেন। শুধু নিজের জন্য নয়, সকলের জন্য ভাবতেন। সকলের জন্য কিছু করার থাকলে করতেন। আর এ কারণেই সকলের মা হওয়ার গুণ ছিল তার। বাংলা, বাংলাদেশ ও বাঙালিদের জন্য তার অসংখ্য অবদান।

আজীবনের সংগ্রামী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। বাঙালি মুসলমান নারী হিসেবে অনেকগুলো প্রথম কাজ করা সুফিয়া কামালও ছিলেন প্রথম বাংলাদেশি নারী, যাঁকে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

সুফিয়া কামালের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Children avoid programs because of media coverage

‘মিডিয়া ঘিরে ধরে, তাই সন্তানরা অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলে’

‘মিডিয়া ঘিরে ধরে, তাই সন্তানরা অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলে’ কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানরা। ছবি: সংগৃহীত
হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘কোথাও কোনো অনুষ্ঠানে গেলেই সন্তানদের মিডিয়া ঘিরে ধরে। এ জন্য ওরা এখন মিডিয়ার মুখোমুখি হতে চায় না। তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলে। আর নুহাশ তার বাবার নয়, নিজের পরিচয়ে নির্মাণ করছে, যা প্রশংসার দাবিদার।’

তুমুল পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে সাজবে নুহাশপল্লী, হবে হুমায়ূন মেলা।

প্রয়াত এই লেখকের প্রিয় জায়গা ছিল গাজীপুরের নন্দনকানন নুহাশপল্লী। সেখানেই সমাহিত রয়েছেন লেখক। শনিবার রাত ১২টায় সেখানে জ্বালানো হয়েছে মোমবাতি।

নুহাশপল্লীর ম্যানেজার বুলবুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যারের জন্মদিনে প্রতি বছর যেটা হয়, তেমনটা হবে এবারও। আমরা রাত ১২টা ১ মিনিটে নুহাশপল্লীতে মোমবাতি জ্বালাব।

‘রোববার বেলা ১১টায় শ্রদ্ধা জানানো হবে স্যারের সমাধিতে। আছে কেক কাটার আয়োজনও।’

এসব আয়োজনে হ‌ুমায়ূনের স্ত্রী শাওন থাকবেন বলে জানান বুলবুল। এ ছাড়া রোববার সকালে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে হ‌ুমায়ূন মেলার আয়োজন করেছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেহের আফরোজ শাওন।

সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তার দুই সন্তান এবং নুহাশ হ‌ুমায়ূনের পরিচালনায় সফলতা নিয়ে কথা বলেন।

শাওন বলেন, ‘কোথাও কোনো অনুষ্ঠানে গেলেই সন্তানদের মিডিয়া ঘিরে ধরে। এ জন্য ওরা এখন মিডিয়ার মুখোমুখি হতে চায় না। তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলে।

‘আর নুহাশ তার বাবার নয়, নিজের পরিচয়ে নির্মাণ করছে, যা প্রশংসার দাবিদার।’

এখনও হ‌ুমায়ূন আহমেদের পরিচয় বহন করে চলেছেন উল্লেখ করে শাওন বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদের লেখা চরিত্রগুলো যে এখন ছড়িয়ে বেড়ায়, দেখতে ভালো লাগে। তিনি শুধু হিমু, রুপাকে তৈরি করেননি; আরও অনেক অনেক চরিত্র রেখে গেছেন, যা আমাদের লাইফস্টাইলে জড়িয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
চলে গেছে ১০ বছর, আজও সপ্রাণ হুমায়ূন
ভোটের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি
হুমায়ূনকে নিয়ে ‘শুদ্ধচর্চার’ আহ্বান শাওনের
দখিন হাওয়ায় কেক কেটে শুরু হুমায়ূনের জন্মদিন
গ্রামীণফোনের কাছে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি শাওন-শীলার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
74 of Humayun Ahmed

হুমায়ূন আহমেদের ৭৪

হুমায়ূন আহমেদের ৭৪
বাংলাদেশের তুমুল জনপ্রিয় কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকলে আজ ৭৪ বছরে পা দিতেন। তার মৃত্যুর ১০ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু কে বলবে তিনি নেই। তার লেখাতেই আজও মাতোয়ারা পাঠক। গল্প, উপন্যাস, কবিতা ছাড়াও হুমায়ূনের পদচারণে ছিল নাটক-গান ও সিনেমা। শিল্প-সাহিত্যের সব অঙ্গনেই তরুণদের কাছে তিনি অনুকরণীয়।

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ রোববার। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্ম বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তির।

বেঁচে থাকলে আজ ৭৪ বছরে পা দিতেন তুমুল পাঠকপ্রিয় এই লেখক। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি নেই। কিন্তু কে বলবে তা? তার লেখাতেই আজও মাতোয়ারা পাঠক।

গল্প, উপন্যাস, কবিতা ছাড়াও হুমায়ূনের পদচারণে ছিল নাটক-গান ও সিনেমায়। শিল্প-সাহিত্যের সব অঙ্গনেই তরুণদের কাছে তিনি অনুকরণীয়।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের বহুমাত্রিক রচনা সহজেই পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে যায়। বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার গল্প সহজ-সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উঠে এসেছে তার লেখনীতে।

ব্যক্তি মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আবেগ-অভিমান, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা আর সমাজের প্রেক্ষাপটে মানুষের জীবনের বহুমাত্রিক অনুষঙ্গ অসাধারণ নৈপুণ্যে প্রতিভাত তার সৃষ্টিতে।

হুমায়ূনের রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য চরিত্র নির্মাণ। তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো যেন বার বার ফিরে আসে পাঠক মনে। হিমু, মিসির আলী, শুভ্ররা যেন পাঠকের অনেক কাছের।

এগুলো প্রতীকী চরিত্র হলেও এদের সবারই মিল যেন প্রগাঢ় মানবিক মূল্যবোধে। সেটা হোক চিন্তা-ভাবনায় উদ্ভট হিমু বা যুক্তিবাদী সত্যসন্ধানী মিসির আলী কিংবা বিবেকবান শুভ্র।

হুমায়ূনের গল্প, উপন্যাসের বিভিন্ন ছোট ছোট উক্তি পাঠকের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

যেমন- বাদশাহ নামদারে লিখেছেন, ‘রাজা যায়, রাজা আসে। প্রজাও যায়, নতুন প্রজা আসে। কিছুই টিকে থাকে না। ক্ষুধার্ত সময় সব কিছু গিলে ফেলে, তবে গল্প গিলতে পারে না। গল্প থেকে যায়।’

‘এই পৃথিবীতে চোখের জলের মতো পবিত্র তো আর কিছু নেই। এই পবিত্র জলের স্পর্শে সব গ্লানি-সব মালিন্য কেটে যায়।’- কুহক

রজনীতে লিখেছেন, ‘মানুষ হয়ে জন্মানোর সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে মাঝে মাঝে তার সব কিছু পেছনে ফেলে চলে যেতে ইচ্ছা করে, কিন্তু সে যেতে পারে না। তাকে অপেক্ষা করতে হয়। কিসের অপেক্ষা তাও সে ভালোমতো জানে না।’

প্রেম-বিরহ-রাজনীতি নিয়ে এমন আরও অসংখ্য উক্তি আছে, যা পাঠকমুখে বেশ জনপ্রিয়।

আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ধারাবাহিকের ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক ‘প্রথম প্রহর’। আর প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ ব্যাপকভাবে দর্শক-সমাদৃত হয়।

এ ছাড়াও রয়েছে ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘নক্ষত্রের রাত’সহ তুমুল জনপ্রিয় বহু একক ও ধারাবাহিক নাটক।

চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক ছিলেন হুমায়ূন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘শ্যামল ছায়া’র মতো চলচ্চিত্র।

নির্মাণ করেছেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘আমার আছে জল’ এবং ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো সব চলচ্চিত্র।

সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান তিনি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে পান ‘একুশে পদক’।

আর চলচ্চিত্রে ১৯৯২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলাদেশের তুমুল জনপ্রিয় এই কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আরও পড়ুন:
ভোটের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি
হুমায়ূনকে নিয়ে ‘শুদ্ধচর্চার’ আহ্বান শাওনের
দখিন হাওয়ায় কেক কেটে শুরু হুমায়ূনের জন্মদিন
গ্রামীণফোনের কাছে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি শাওন-শীলার
হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে নেত্রকোণায় নানা আয়োজন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Humayun Literary Award by Anwara Syed Haque and Maury Maryam

আনোয়ারা সৈয়দ হক ও মৌরি মরিয়মের হাতে হুমায়ূন সাহিত্য পুরস্কার

আনোয়ারা সৈয়দ হক ও মৌরি মরিয়মের হাতে হুমায়ূন সাহিত্য পুরস্কার বাংলা একাডেমিতে শনিবার আনোয়ারা সৈয়দ হক ও মৌরি মরিয়মের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হয় হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার। ছবি: নিউজবাংলা
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ জীবনের অনেক কঠিন কথা খুব সহজে বলেছেন। আমি চেষ্টা করেছি মানুষের কাছে যাওয়ার। যে স্কুলে পড়েছি, সেই স্কুলে পুরস্কারের এই টাকাটা দিয়ে দেব। শিক্ষার উন্নয়নে তা ব্যয় হবে।’

এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার উঠেছে কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক ও মৌরি মরিয়মের হাতে।

কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং নবীন সাহিত্য বিভাগে (অনূর্ধ্ব ৪০ বছর বয়স্ক লেখক) মৌরি মরিয়ম পেয়েছেন এ বছরের পুরস্কার।

বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে ‌আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুম ইসলাম।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী অভিনেত্রী-পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত আনোয়ারা সৈয়দ হক ও মৌরি মরিয়মকে ক্রেস্টসহ দেয়া হয়েছে যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১ লাখ টাকার চেক।

পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ‘আমি যে স্কুলে পড়েছি, সেই স্কুলে পুরস্কারের এই টাকাটা দিয়ে দেব। শিক্ষার উন্নয়নে এটি ব্যয় হবে।’

হুমায়ূন আহমেদ জীবনের অনেক কঠিন কথা খুব সহজে বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি মানুষের কাছে যাওয়ার।’

নবীন সাহিত্যিক মৌরি মরিয়ম বলেন, ‘এই পুরস্কারটি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুরস্কারটি হুমায়ূন আহমেদের নামে। এই পুরস্কার আমাকে লেখালেখির চর্চায় উৎসাহিত করবে।’

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

প্রসঙ্গত, এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার চালু হয়েছে ২০১৫ সালে।

আরও পড়ুন:
হুমায়ূনকে নিয়ে ‘শুদ্ধচর্চার’ আহ্বান শাওনের
দখিন হাওয়ায় কেক কেটে শুরু হুমায়ূনের জন্মদিন
গ্রামীণফোনের কাছে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি শাওন-শীলার
হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে নেত্রকোণায় নানা আয়োজন
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Uzan Book Yatra and Book Fair in Dhaka

উজান বইযাত্রা ও বইমেলা ঢাকায়

উজান বইযাত্রা ও বইমেলা ঢাকায়
উজান বইযাত্রা ও বইমেলার আয়োজনে আলোচক হিসেবে থাকবেন কবি ফারুক মাহমুদ, কথাসাহিত্যিক আহমদ বশীর, কবি ও প্রাবন্ধিক কুমার চক্রবর্তী, কবি ও অনুবাদক গৌরাঙ্গ মোহান্ত, কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল এবং কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার।

চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের পর এবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘উজান বইযাত্রা ও বইমেলা’। পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শুরু হবে এই আয়োজন।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘উজান’-এর এই আয়োজনে থাকবে আলোচনা, কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও বইমেলা।

উজান বইযাত্রা ও বইমেলার আয়োজনে আলোচক হিসেবে থাকবেন কবি ফারুক মাহমুদ, কথাসাহিত্যিক আহমদ বশীর, কবি ও প্রাবন্ধিক কুমার চক্রবর্তী, কবি ও অনুবাদক গৌরাঙ্গ মোহান্ত, কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল এবং কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার।

উজান প্রকাশনের অনুবাদ বই ‘কোরিয়ার গল্প’ ও কোরিয়ার কবিতা’ নিয়ে তারা আলোচনা করবেন।

অনুষ্ঠানে ‘কোরিয়ার কবিতা’ থেকে আবৃত্তি করবেন স্বরশ্রুতির আবৃত্তিশিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পড়বেন এ সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণতম পাঁচ নারী কবি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন ‘এবং বই’ সম্পাদক লেখক ফয়সাল আহমেদ। থাকবে উজান প্রকাশনের বই নিয়ে বিশেষ মেলা।

বাংলা ভাষায় অনূদিত কোরিয়ার গল্প ও কোরিয়ার কবিতা বই দুটিকে ঘিরে উজান বইযাত্রা ও বইমেলার আয়োজন এর আগে অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহে। চট্টগ্রামেও হয়েছে একই ধরনের অনুষ্ঠান।

এরপর একই ধরনের আয়োজন থাকবে রাজশাহী ও রংপুরে।

আরও পড়ুন:
সাহিত্য মেলার খবর জানেন না সাহিত্যিকরাই!
নবীরুলের বই কিনছে না সরকার
নবীরুলের ২৯টি বইয়ের বিষয়ে তদন্ত হবে: প্রতিমন্ত্রী
তালিকায় নবীরুলের বই রাখা ঠিক হয়নি: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
‘বৃহত্তর খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

মন্তব্য

p
উপরে